হযরত আলী (রা:) এর দৃষ্টিতে হযরত উসমান (রা:) এর ঈমান ও দ্বীনদারী অত্যন্ত উঁচু মানের ছিল। তিনি তাঁর দ্বীনদারী ও ঈমানী দৃঢ়তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির নজরে দেখতেন। আল্লামা ইবন আব্দুল বার এ প্রসঙ্গে হযরত আলী (রা:) এর একটি উক্তি বর্ণনা করেছেন --
অর্থাৎ, "হযরত আলী (রা:) বলেন, যে লোক হযরত উসমান (রা:) এর ঈমান ও দ্বীনদারীকে অস্বীকার করে (বা তার দ্বীনদারী নিয়ে প্রশ্ন তোলে) সে নিজের ঈমানকে নষ্ট করল।
কেননা, একজন সাধারণ মুসলমাকেও যদি কেউ
কাফের মনে করে তাহলে নিজে কাফের হয়ে যায়। তাহলে হযরত উসমান (রা:) এর মত একজন মহান সাহাবী সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ করলে তার নিজের ঈমান যে নষ্ট হয়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
হযরত উসমান (রা:) কল্যাণে অগ্রগামী, জান্নাতবাসী ও জাহান্নম থেকে মুক্ত হওয়ার পক্ষে হযরত আলী (রা:) এর সাক্ষ্য
এই প্রসঙ্গে এখানে কয়েকটি রেওয়ায়াত পেশ করা হবে।
আল্লামা বালাযুরী "আনসাবুল আশরাফ" এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: আল্লাহ পাকের শপথ, আমি সে পথেই অনুসরণ করে চলব, যে পথে হযরত উসমান (রা:) চলেছেন। দ্বীনদারী ও সৎকর্মের ব্যাপারে তিনি এত এগিয়ে গিয়েছেন যে, তারপর আর আল্লাহ পাক তাকে শাস্তি দিবেন না (বলে আমার বিশ্বাস)।
আলী মুত্তাকী হিন্দী (রহ:)(কানযুল উম্মাল) এর মধ্যে বিভিন্ন সনদের বরাতে হযরত আলী (রা:) এর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন:
"হযরত আলী (রা:) একদা হযরত উসমান (রা:) এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন: আল্লাহ পাকের শপথ, তিনি (হযরত উসমান (রা:) কল্যাণ ও সৎকর্মে এতখানি এগিয়ে ছিলেন যে, তারপরে আর আল্লাহ পাক তাঁকে কোন শাস্তি দিতে পারেন না ( বলে আমি মনে করি)।
'আনসাবুল আশরাফ' এর মধ্যে আরেক জায়গায় এসেছে--
"হযরত আলী (রা:) একদা হযরত উসমান (রা:) এর আলোচনা করছিলেন এবং তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল যা দিয়ে মাটি খুঁটছিলেন। তখন এই আয়াতখানা তেলাওয়াত করলেন: "নি:সন্ধেহে যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে তাদের কে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ দুরত্বে রাখা হবে"। তারপর বললেন, এরা হযরত উসমান (রা:) এবং তাঁর সঙ্গীরা।
No comments:
Post a Comment