Tuesday, 2 July 2019

হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের দিক থেকে সম্পর্ক

       হযরত উসমান (রা:) এর বংশলতিকা এই:
আবু আব্দুল্লাহ  উসমান যুন্নুরাইন, পিতা আফফান -পিতা, আবদুল আস -পিতা উমাইয়া -পিতা আবদে শামস -পিতা আবদে মানাফ। তাঁর মাতার নাম আরওয়া বিনত কুরাইয এবং নানীর নাম উম্মে হাকীম বিনত আবদুল মুক্তালিব বিন হাশেম বিন আবদে মানাফ।
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও বংশধারা বিশারদগণ এভাবেই হযরত উসমান (রা:) এর বংশলতিকা উল্লেখ করেছেন।  যেমন --
সারকথা হল, হযরত উসমান (রা:) এর মাতা আরওয়া বিনতে কুরাইয এর মাতার নাম উম্মে হাকীম, যিনি হুযূর (সা:) এর ফুফু ছিলেন।
আফফান ইবন আবুল আস আরওয়াকে বিয়ে করেন। তার সংসারে দু'টি সন্তান জন্মলাভ করে,
একজন হযরত উসমান অন্যজন হযরত আমেনা
(রা:)। আরওয়া ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর (অন্য ঘরের) কন্যা উম্মে কুলসূম এরপরে মদীনায় হিজরত করেন এবং রাসূল (সা:) এর নিকট বাইয়াত হন। এরপর থেকে মদীনায় বসবাস করেন এবং হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে ইন্তিকাল করেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, হযরত উসমান (রা:) এর নানী উম্মে হাকীম যিনি নবী করিম (সা:) এর ফুফু ছিলেন, ইনি হুজুর (সা:) এর পিতা আব্দুল্লাহ এর যমজ সহোদর বোন ছিলেন।
এটিই ঐতিহাসিক বাস্তবতা যা শীয়া -সুন্নী নির্বেশেষে সকল আলিম সমর্থন করেন। শীয়া কিতাব এর ব্যাখ্যায় ইবন আবীল হাদীদ (একজন শীয়া  ও মু'তাযিলা মতাবলম্বী লেখক)  একাধিক স্হানে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত উসমান (রা:) হযরত আলী (রা:) কে (মামাতো ভাই)  বলে ডাকতেন। হিজরী চতুর্দশ শতকের শীয়া মুজতাহিদ ও বরেণ্য আলিম শায়েখ আব্বাস কুমী ও নামক কিতাবে (১ম খন্ডে) এ আত্মীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। মোটকথা, হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর এই আত্মীয়তার সম্পর্ককে শীআ -সুন্নী নির্বিশেষে সকল আলিম স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই আত্মীয়তার ভিত্তিতে হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর বহুমূখী সম্পর্ক স্হাপিত হয়েছে। যেমন --
১। উম্মে হাকীম আল বাইযা, (যিনি হুযুর (সা:) এর সহোদরা ছিলেন অর্থাৎ নবী করিম (সা:) এবং হযরত আলী (রা:) এর ফুফু ছিলেন) হযরত উসমান (রা:) এর আপন নানী ছিলেন।
২। অর্থাৎ হযরত উসমান (রা:) উম্মে হাকীম (রা:) এর দৌহিত্র (নাতি)  এবং রাসূল (সা:) এর ফুফু হযরত সাফিয়্যাহ (রা:) এর ভাগ্নীর ছেলে ছিলেন। হযরত সাফিয়্যাহ (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের আপন খালা ছিলেন।
৩। হযরত আলী (রা:) এর পিতা  আবু তালেব হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের মামা ছিলেন।
৪। হযরত আলী (রা:) হযরত উসমান (রা:) এন
মায়ের মামাতো ভাই ছিলেন। তদ্রুপ হযরত জাফর (রা:) ও হযরত আকীল (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের সামাতো ভাই ছিলেন।
৫। হযরত আলী,জাফর ও আকীল (রা:) এর ফুফাতো বোনের ছেলে হযরত উসমান (রা:)।
৬। হযরত হামযা ও আব্বাস (রা:) এর ভাগ্নীর ছেলে হযরত উসমান (রা:)।
৭। আবু তালেবের মতো হযরত হামযা ও আব্বাস (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের মামা ছিলেন।
উপরিউক্ত বিবরণ দ্বারা বুঝে গেল হযরত উসমান
(রা:) এর মাতার মাতুলকুল হল বনী হাশেম। সেই সুবাদে হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর একটি সুগভীর ও চিরস্হায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এছাড়া ও তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক ও আন্তরিকতার আরো হহু দিক রয়েছে,  যা যথাস্হানে উল্লেখ করা হবে ইনশাল্লাহ। যেমনটি কুরআন শরীফে এসেছে -- --
নবী কারীম (সা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর জামাই -শশুর সম্পর্ক
হুযূর (সা:) এর দুই কন্যা হযরত রুকাইয়া ও উম্মে
কুলসুম (রা:) ( যাদের মাতা হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা:) কে পর্যায়ক্রমে হযরত উসমান (রা:)
এর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। এ কারণে ইসলামের ইতিহাসে তাঁকে 'যুন্নুরাইন' (দুই নুরের অধিকারী)
বলে স্মরণ করা হয়। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ:)
এ লিখেছেন, সমগ্র মানব জাতির মধ্যে হযরত উসমান (রা:) ছাড়া আর কেউই নবীর দু'কন্যাকে বিয়ে করার সৌভাগ্য লাভ করে নি। ইবন হাজার মক্কী (রহ:) ও তার এ এই তথ্য উল্লেখ করেছেন।
মহানবী (সা:) তথা নবী হাশাম এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর বরকতময় আত্মীয়তার বিষয়ে কোন  দলিল -প্রমাণ বা উদ্ধৃতির প্রয়োজন হয় না। শীয়া -সুন্নী নির্বিশেষে সকলের কাছেই এটি সুস্পষ্ট। তারপরও বিষয়টি আরও গভীর ও পরিস্কারভাবে বুঝার জন্য কিছুটা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল।

No comments:

Post a Comment