ইবন সা'দ তার 'তাবাকাত' গ্রন্হের মধ্যে মহানবী
(সা:) এর কন্যা হযরত রুকাইয়া (রা:) এর আআলোচনায় লিখেছেন --
অর্থাৎ নবী করীম (সা:) এর কন্যা রুকাইয়া এর মাতা হলেন হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ। মহানবীর নবুওয়াত লাভের পূর্বে আবু লাহাবের পূত্র উৎবা এর সাথে হযরত রুকাইয়া (রা:) এর বিয়ে হয়েছিল। পরে যখন নবীজী (সা:) নবুওয়াত লাভ করলেন এবং সূরা লাহাব নাযিল হল, তখন আবু লাহাব ক্ষিপ্ত হয়ে তার পুত্র উৎবাকে বাধ্য করে হযরত রুকাইয়াকে তালাক দিতে। ফলে 'স্বামীর সংসর্গ লাভের পূর্বেই তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে। হযরত খাদীজা (রা:) এর ইসলাম গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই হযরত রুকাইয়া ও তাঁর বোনের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃ পর অন্য মহিলাদের সঙ্গে তার ও নবীজি (সা:) এর হাতে বাইয়াত হন। পরবর্তীতে হযরত উসমান (রা:) এর সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং উভয়ে একত্রে হাবাশায় হিজরত করেন। মহানবী (সা:) বলেন, হযরত লূত (আ:) এর পরে এরাই সর্বপ্রথম আল্লাহর পথে হিজরতকারী দম্পতি।
হযরত রুকাইয়া (রা:) এর গর্ভে হযরত উসমান (রা:) এর আব্দুল্লাহ নামক একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। যার কারণে হযরত উসমান (রা:) মুসলিম সমাজে আবু আব্দুল্লাহ নামে খ্যাত হন। অবশ্য ছেলেটি ছয় বছর বয়সে মারা যায়। এরপর হযরত রুকাইয়া (রা:) এর গর্ভে আর কোন সন্তান হয়নি।
নবীজী যখন বদর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হযরত রুকাইয়া অসুস্হ ছিলেন। তাঁর সেবা -যত্নের জন্য হযরত উসমান মদীনায় থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর নবীজী (সা:) বদরে
থাকাকালেই হযরত রুকাইয়া (রা:) ইন্তিকাল করেন (১৭ রমযান, ও ২য় হিজরী) হযরত যায়েদ বিন হারেসা যখন বদর যুদ্ধ জয়ের সুসংবাদ নিয়ে মদীনায় পৌঁছেন তখনও লোকজন হযরত রুকাইয়া (রা:) এর দাফন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।।
No comments:
Post a Comment