হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে একবার
কুফার গভর্ণর সাঈদ বিন আস মদীনায় এসে
নেতৃস্হানীয় মুহাজির -আনসার ব্যক্তিবর্গের নামে
নানাবিধ উপহার ও পোষাকসামগ্রী প্রেরণ করেন। হযরত আলী (রা:) এর জন্যও তিনি অনুরূপ পাঠিয়েছিলেন। আলী (রা:) প্রেরিত উপহারসামগ্রী সানন্দে গ্রহণ করেন। ত্রিশ হিজরীতে সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন আমের -এর নেতৃত্বে খোরাসান, আমেল, মরভ প্রভৃতি অঞ্চল বিজিত হয়। বিজয়োত্তরকালে তিনি মদীনায় এসে হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্হিত হন। পরে তিনি
মদীনায় উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়। একথা হযরত উসমান (রা:) এর গোচরিভূত হলে তিনি
আবদুল্লাহ ইবনে আমেরকে ডেকে বললেন, তোমার অকল্যাণ হোক। আলী (রা:) এর জন্য এত সামান্য পরিমাণ অর্থ পাঠালে কেন? আবদুল্লাহ ইবনে আমের বললেন, এক ব্যক্তিকে
অধিক পরিমাণ অর্থ প্রদান করা আমার ইচ্ছাবিরুদ্ধ এবং এ ব্যাপারে আপনার অভিমতও
আমার জানা নেই ।
উসমান (রা:) তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দিলেন, আলী (রা:) এর জন্য আরো অধিক অর্থ প্রেরণ করা হোক। পরে আবদুল্লাহ ইবনে আমের আলী (রা:) এর জন্য বিশ হাজার দিরহাম ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী পাঠিয়ে দেন। মসজিদে নববীতে লোকেরা সমবেত ছিল। হযরত আলী (রা:) সেখানে উপস্তিত হলেন। লোকেরা কুরাইশ বংশোদ্ভূত আবদুল্লাহ ইবনে আমের (রা:) এর উপহার -উপঢৌকনের কথা আলোচনা করছিল।
হযরত আলী (রা:) লোকদের লক্ষ্য করে বললেন,
আবদুল্লাহ ইবনে আমের কুরাইশী তরুণদের নেতা। তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য।
# মুত্তালিবী হাশেমীগণের প্রতি বিশেষ বিবেচনা
তারীখে তবারীতে লেখা আছে, জাহেলী যুগে রবীআ বিন হারেস বিন আবদুল মুত্তালিব হযরত
উসমান (রা:) এর বাণিজ্য অংশীদার ছিলেন। হযরত উসমান রা -এর খেলাফত লাভের পরে রবীআ বিন হারেসের পুত্র আব্বাস বিন রবীআ
হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্তিত হয়ে আবেদন করলেন, আপনি বসরার গভর্ণর আবদুল্লাহ ইবনে আমেরকে লিখে দেন, তিনি যেন
আমাকে এক লক্ষ দিরহাম ঋণ দেন। আমার
বসবাসের জন্য একটি বাড়িও দরকার। হযরত উসমান (রা:) আব্বাস বিন রবীআর অনুরোধকল্পে বসরার গভর্ণরকে নির্দেশ দেন। সেমতে ইবনে আমের তাকে এক লক্ষ দিরহাম প্রদান করেন এবং বসবাসের নিমিত্তে বাসভবন নির্ধারণ করে দেন। এখনো সেটি 'আব্বাস বিন রবীআ'র বাড়ি'
নামে সমধিক প্রসিদ্ধ।
# অর্থনৈতিক প্রাপ্যাধিকার প্রদান প্রসঙ্গ
(শীয়াগ্রন্হ হতে উৎকলিত) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমেরের নেতৃত্বে খোরাসান অভিযান পরিচালিত হয়। খোরাসান পদানত হল। যুদ্ধলদ্ধ
সম্পদের সাথে খোরাসান নৃপতির দুই কন্যাও বন্দীরূপে মুসলমানদের হস্তগত হল। হযরত উসমান (রা:) তাদেরকে হুসাইন (রা:) এর দায়িত্বে
অর্পণ করেন। নিম্নে নির্ভরযোগ্য গ্রন্হ 'তানকীহুল
মাকাল' হতে উদ্ধৃত হচ্ছে --
সাহাল বিন কাসিম বুশিনজানী বলেন, খোরাসানে
অবস্হানরত অবস্হায় হযরত আলী রেযা আমাকে বললেন, আমাদের ও তোমাদের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে। আমি বললাম, কীভাবে? আলী রেযা বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে
আমের যখন খোরাসান বিজয় করেন তখন খোরাসান অধিপতি য়াযদজর্দ বিন শাহরিয়ার -এর দুটি কন্যা তার কাছে পাঠিয়ে দেন। খলীফা তাদের একজনকে হযরত হাসান (রা:) এর হাতে, অপরজনকে হযরত হুসাইন (রা:) এর হাতে অর্পণ করেন। তারা তাঁদের বিবাহাধীনে সন্তানবতী হন,
পরবর্তীকালে মারা যান। যিনি হযরত হুসাইন (রা:)
এর সহধর্মিণী ছিলেন তার গর্ভে হযরত আলী বিন
হুসাইন (যাইনুল আবিদীন) জন্মগ্রহণ করেন।
# ফাদাকে উত্তারাধিকার
ফাদাকের ব্যাপারে হযরত আবু বকর ও ফাতেমা
(রা:) এর মাঝে যে কথাবার্তা হয়েছিল ইবনে মায়সাম বাহরাণী তা 'শরহে নাহজুল বালাগাহ'
গ্রন্হে উল্লেখ করেছেন --
আবু বকর (রা:) ফাতেমা (রা:) কে লক্ষ্য করে বললেন,রাসূলুল্লাহ (সা:) আপনাদের খাদ্যসামগ্রী
ফাদাকের জমিন থেকে গ্রহণ করতেন। অবশিষ্ট ফসলাদি বন্টন করে দিতেন এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির স্বার্থে আমি আপনার জন্য সে পন্হা অবলম্বন করব, যেটি আপনার পিতা (সা:) গ্রহণ করেছিলেন। হযরত ফাতেমা (রা:) এ কথায় সম্মত হন ও হযরত আবু
বকর (রা:) থেকে এ ব্যাপারে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা:) ফাদাকের আয় থেকে
তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ শস্যাদি প্রদান করতেন।
পরিবর্তী খলীফাগণও তাঁর রীতি/পদ্ধতি অনুসরণ
করেছেন। এখানে আমরা আরো একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরছি -এখানে শীয়া গ্রন্হকার ইবনে আবিল
হাদীদ প্রত্যেক খলিফার নামোল্লেখপূর্বক স্পষ্টতঃঃ
বিষয়টি উল্লেখ করেছেন --
চতুর্দশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ শীয়া আলিম ও গবেষক
সায়্যিদ আলী নকী ফাইযুল ইসলাম নাহজুল বালাগাহর ভাষ্যগ্রন্হ (ফার্সী) এ পূর্ববৎ মন্তব্য করেছেন।।
No comments:
Post a Comment