আমীরুল মুমিনীন উসমান যুননূরাইন (রা:) এর শাহাদতের পূর্বে সমগ্র মুসলিম জাতি ছিল ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত। তাদের মাঝে কোনোরূপ
বিভেদ ছিল না। তারা কুফরী শক্তির মোকাবিলায়
অবিচল ও দৃঢ়পদ ছিলেন। এ ঘটনার পরে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ মতভিন্নতা ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানদের যে সংঘবদ্ধ শক্তি ইসলামের
শক্রদের দমন ও নির্মূল কার্যে ব্যয়িত হচ্ছিল তা
পরস্পরের মাঝে বিবাদ -বিসম্বাদে নিঃশেষ হতে লাগল। নিজেদের ভেতরে যুদ্ধবিগ্রহের দ্বার উন্মুক্ত হল এবং যে নববী মাহাত্ম্য তাদের মাঝে বিদ্যমান
ছিল তা পূর্ববৎ অব্যাহত রইল না, ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে লাগল।
হযরত উসমান (রা:) খেলাফতকালের শেষ দিকে হযরত উসমান (রা:) এর কতিপয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়। দুষ্কৃতিকারীরা (তাদের নেতা ছিল সাবা নামক জনৈক ইহুদী) এগুলোতে রং চড়িয়ে অভিযোগ
সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এ ফিতনা বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয। এসব দুষ্কৃতিকারীর উদ্দেশ্য ছিল
ইসলামী কেন্দ্রের উপরে আঘাত হেনে ইসলামপন্হীদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করা। খলীফা হত্যার মাধ্যমে তারা সেটি বাস্তবায়ন করেছে। এজন্য তারা রাজধানী মদীনা আক্রমণ করল। কিছু দিন খলিফার বাসভবন অবরোধ করে রাখল। এই অবরোধের ভেতরে ৮ যিলহজ্জ ৩৫ হিজরীতে তারা ইসলামের তৃতীয় খলীফাকে জুলুম করে শহীদ করে ফেলল।
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগে বিদ্রোহ
সৃষ্টি হওয়ার কারণ কি ছিল? ফিতনা -ফাসাদ সৃষ্টির নেপথ্যে কারা সক্রিয় ছিল? অবরোধকালে
মদীনাবাসী খলিফাকে সাহায্য করেছিল? নাকি তার বিরোধিতা করেছিল? এসব ব্যাপারে বিস্তারিত জানা দরকার। আমাদের আগের বিষয়বস্তু এবং গ্রন্হের প্রতিপাদ্য বিষয় থেকে এটি
সম্পূর্ণ আলাদা। তাই আমরা এখানে স্বেচ্ছায় উল্লেখ করা থেকে বিরত রইলাম।
অবরোধকালে হাশেমীগণ হযরত উসমান (রা:) এর প্রতি বন্ধুত্বের প্রমাণ দিয়েছিল এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেছিল। আমরা এ বিষয়টিকে পঞ্চম অধ্যায়ে কতিপয় শিরোনামের অধীনে উল্লেখ
করছি, যাতে পাঠকবৃন্দ উসমানী শাসনামলের শেষ দিন পর্যন্ত হাশেমীগণের অবিচল সমর্থন ও
বন্ধুত্বের নিদর্শনগুলিকে একনজরে দেখে নিতে পারেন। হযরত আলী (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) এর মাঝে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে অটুট বন্ধুত্ব ও
সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল সেটিও তারা জানতে পারবেন। বংশীয় বিভেদ তাদের মাঝে একেবারেই
ছিল না, গোত্রীয় বিদ্বেষও তাদের ভেতরে পূর্ণরূপে অনুপস্হিত ছিল। এগুলি পরবর্তীকালে সৃষ্টি হয়েছে।
No comments:
Post a Comment