পূর্বোক্ত বিবরণসমূহের দ্বারা এটা জানা গেছে যে, উসমানী খেলাফতে হযরত আলী (রা:) উসমান (রা:) এর দক্ষিণহস্তরূপে খেলাফতের দায়িত্ব নির্বাহ করেছেন। এখন আমরা আলোচনা করছি,
অন্যান্য হাশেমী ব্যক্তির সম্বন্ধে। তাদেরকে বিচারকরূপে নিযুক্ত করা হত। এবং তারাও স্বেচ্ছায় উক্ত পদ গ্রহণ করে প্রশাসনিক কাজে
অংশগ্রহণ করতেন। কখনো হাশেমী যুুবকদের
গুরুত্বপূর্ণ স্হানের প্রশাসক ও গভর্ণররূপেও নিয়োগ দেওয়া হত। তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব উত্তমরূপে সমাধান করতেন। গোত্রীয় বিভেদ, জাতিগত শত্রুতা, বংশীয় দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব এসব তাদের মাঝে অনুপস্হিত ছিল। এগুলো পরবর্তীতে উদ্ভব ঘটেছে। নিম্নবর্ণিত ঘটনাসমূহ এ
বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তুলবে বলে আশা রাখি।
বিচারকের পদ
মহানবী (সা:) এর চাচা আবু তালিবের ভাই হারেস বিন আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র মুগীরা বিন নওফেল বিন হারেস হিজরতের পূর্বে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অতিশয় বিচক্ষণ, দৃঢ়চিত্ত ও চিন্তাশীল অনন্য যুবক। তিনি হযরত আলী (রা:) এর পরে মহানবী (সা:) এর নাতনী -উমামা বিনতে আবিল আসকে বিবাহ করেন। মুগীরা বিন নওফেল সম্বন্ধে জীবনীগ্রন্হসমূহের
মন্তব্য নিম্নরূপ --
হযরত উসমান (রা:) খেলাফতকালে মুগীরা বিন
নওফেলএকজন বিচারক ছিলেন।।
প্রশাসকের পদ
আবদুল্লাহ বিন হারেস বিন নওফেল বিন হারেস বিন আবদুল মুক্তালিব। তিনি হারেস বিন আবদুল
মুত্তালিবের প্রপৌত্র। তার মা হিন্দ বিনতে আবি সুফিয়ান। জন্মের পর তার মা তাকে আপন ভগ্নী উম্মে হাবীবা বিনতে আবী সুফিয়ানের গৃহে নিয়ে যান। মহানবী (সা:) গৃহে প্রবেশ করে উম্মে হাবীবা
(রা:) কে জিজ্ঞাসা করলেন, উম্মে হাবীবা! শিশুটি কার? প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, আপনার চাচাতো ভাই। আমার ভাগ্নে। তখন মহানবী (সা:) তাঁর মুখের বরকতপূর্ণ লালা আবদুল্লাহর মুখে লাগিয়ে
দেন এবং তার জন্য দুআ করেন।
হযরত আবদুল্লাহ বিন হারেস সম্বন্ধে উল্লেখ রয়েছে --
উসমান (রা:) এর খেলাফত আমলে তিনি মক্কার গভর্ণর ছিলেন।।
গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ
সাহাবা (রা:) গণের জীবনীকারগণ লেখেন, আবদুল্লাহ বিন হারেস -এর পিতা হারেস মহানবী (সা:) এর একজন সম্মানিত সাহাবী ছিলেন। মহানবী (সা:) তাঁকে মক্কা নগরীর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করেছিলেন। প্রথম দুই খলিফার শাসনামলে তিনি উক্ত পদে বহাল থাকেন। হযরত উসমান (রা:) এর আমলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে বসরায় গমন করেন এবং উসমান (রা:) এর খেলাফতের শেষভাগ ।।
No comments:
Post a Comment