Friday, 19 July 2019

বাই' মুরাবাহা ও বাই' মুয়াজ্জাল পণ্যের মালিকানা

বিষয় - ১:  ইসলামী ব্যাংকে অনুশীলিত মুরাবাহা
পদ্ধতিতে ব্যাংক গ্রাহকের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করে থাকে। এমতাবস্হায় বিক্রয়ের জন্য ক্রয়কৃত পণ্যের মালিক ব্যাংক না গ্রাহক?
সিদ্ধন্ত :  শরী'আহর নীতি অনুযায়ী মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংক কর্তৃক ক্রয়কৃত পণ্যের মালিকানা বিনিয়োগ গ্রাহককে বুঝিয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত তা ব্যাংকেরই থাকবে।
( সূত্র:১৫ জানুয়ারী, ১৯৯৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬ তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
 পণ্যের মালিকানা অর্জনের আগে মুনাফা নির্ধারণ
বিষয় -২ :  প্রকাশনা শিল্পের সাথে জড়িত কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য কাগজ ক্রয়ের ইনডেন্ট পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে টেন্ডারের সময় কাঙ্খিত কাগজের ১০০% মূল্য সরবরাহকারীর অনুকূলে অগ্রিম জমা দিতে হয়।  কিন্তু সরবরাহকারী ১৫ -২০ দিন পর অগ্রিম পরিশোধিত অর্থের ৪০% - ৫০% কম কাগজ সরবরাহ করে এবং বাকি অর্থ ফেরত দেয়। গ্রাহক তার প্রত্যাশিত কাগজ সরবরাহকারী থেকে ক্রয় করে দেয়ার জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করেন। এমতাবস্হায় কিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি সমস্যা দেখা যায় :
  ক. বিনিয়োগের ১৫ -২০ দিন পর কাগজ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কাগজ না পেয়ে মুনাফা ধার্য ও মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন করা যায় না।
খ. অগ্রিম প্রদত্ত অর্থের ১০০% কাগজ পাওয়া যায় না। সাধারণত ৪০% -৫০% কম পাওয়া যায়।
এ বিশেষ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহকারীকে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে
মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন ও মুনাফা নির্ধারণের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
 সিদ্ধান্ত:  শাখা শুরুতে কাগজ ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের সাথে 'ওয়াদ বিশ -শির' (ক্রয়ের অঙ্গীকার)  চুক্তি সম্পাদন করবে। অতঃপর গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাব বিকলন করে প্রত্যাশিত কাগজের অগ্রিম মূল্য সরবরাহকারীকে পরিশোধ করবে। এ সময় কোনো মুনাফা ধার্য করা যাবে না। তবে ১৫ -২০ দিন পর পণ্য হাতে এলে সরবরাহকারী থেকে ফেরত অর্থ সমন্বয়ের পর মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন করে সম্মত মুনাফা
(agreed upon profit)  - সহ শাখা প্রাপ্ত পণ্য গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে পারে।
( সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী। )
বিষয় -৩ :  বাই মুরাবাহা বিনিয়োগের বিপরীতে
পণ্যের অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক। কিন্তু মোটরসাইকেল ব্যবসার ক্ষেত্রে আমদানিকারক/প্রস্তুতকারকদের কাছে গাড়ির মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করে বুকিং দিতে হয়। সাধারণত বুকিং
দেয়ার ৩/৪ মাস পর তারা মোটরসাইকেল সরবরাহ করে। ফলে বুকিং প্রদানের তারিখ থেকে সরবরাহের তারিখ পর্যন্ত মোটরসাইকেলের কোনো স্টক ব্যাংকের কাছে থাকে না। এমতাবস্হায়, পণ্য বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের আগে মুনাফা ধার্য করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত   : শরী'আহর বিধান অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক কোনো বস্তুর মালিকানা অর্জন ও ক্ববদ করার পূর্বে তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। অতএব, ব্যাংক কর্তৃক মোটরসাইকেলের মূল্য অগ্রিম পরিষোধ/ডিসবার্সমেন্টের সময় গ্রাহকের সাথে
উক্ত মোটরসাইকেল বাই ' মুরাবাহা/ বাই' মুয়াজ্জাল ভিত্তিতে বিক্রয় চুক্তি (sale agreement)   করা এবং ক্রয়মূল্যের ওপর মুনাফা আরোপ করা বৈধ হবে না। এ ক্ষেত্রে উক্ত
প্রক্রিয়াকে শরী' আহ অনুযায়ী সম্পন্ন করতে নিম্নেরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক বিনিয়োগ মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করার সময়
গ্রাহকের সাথে একটি'ওয়াদা বিশ -শিরা'
(ক্রয়ের অঙ্গীকার চুক্তি)  সম্পাদন করবে।
খ.  ব্যাংক মোটরসাইকেল সরবরাহের সময় গ্রাহকের সাথে বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল চুক্তি সম্পাদন করবে।
গ. মোটর সাইকেলের অর্ডার প্রদান থেকে বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে সরবরাহ পর্যন্ত সময়ে
কোনো মুনাফা আরোপ করা হবে না। তবে সরবরাহকালে ব্যাংক পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর মুনাফা আরোপ করতে পারবে।
ঘ. গ্রাগকের অবহেলা কিংবা ত্রুটি ছাড়া অন্য কোনো কারণে ব্যাংক পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্ত হলে কিংবা সরবরাহের আগে পণ্যের ক্ষতি হলে
গ্রাহকের কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে না।
( সূত্র: ৬ জানুয়ারী, ২০০৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৩৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।

No comments:

Post a Comment