গ্রীক পুরাণশাস্ত্র মতে হেলেন (Helen,গ্রীক ভাষায় Helene) ছিলেন Zeus ও Leda -র কন্যা। Sparta 'র হেলেন এবং পরবর্তীকালে Helen of Troy হিসেবেও তিনি সমধিক পরিচিতি পেয়েছেন। অপরূপ সুন্দরী হিসেবে হেলেনর ছিল জগৎজোড়া খ্যাতি। অকেন রাজা, রাজপুত্র এই রূপলাবণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার পাণিপ্রার্থী হয়েছিলেন। অবশেষে হেলেন পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন Sparta 'র রাজা Menelaus এর সঙ্গে। একদা হেলেন ট্রয়ের রাজপুত্র paris কর্তৃত অপহৃত হন। ফলে Trojan যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।
জীবনের অনেক চড়াই -উৎরাই পেরিয়ে আসা হেলেন সম্পর্কে প্রখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার Christopher Marlowe -র মন্তব্য : the face
that launched a thousand ships. এখন জ্যামিতিতে হেলেনের আগমনী প্রসঙ্গ টানা যাক। চক্রিমা (cycloid) আকর্ষনীয় ও চমকপ্রদ জ্যামিতিক চিত্র। একটি সরলরেখায় চলমান কোন বৃত্তাকার চাকার পরিধিস্হ বিন্দুর দ্বারা সৃষ্ট বক্ররেখা হচ্ছে চক্রিমা যা
simple/common cycloid. চাকার বহিস্হ বিন্দুর সঞ্চারপপত্র curtate cy -cloid. আর অন্তস্হ বিন্দুর সঞ্চারপথ prolate cycloid রূপে আখ্যাত হয়ে থাকে। জ্যামিতি ও ক্যালকুলাসের এ এক অপরিহার্য পাঠ। চক্রিমার সমীকরণ x = a(t-sint) , y = a (l- cost)। রেখাটির নাম দেন গ্যালিলিও (১৫৯৯)। এর সমীকরণের রূপপ্রকৃতি
থেকে ক্যালকুলাসের বহু বিভিন্ন তথ্য আবিষ্কৃৃত হয়েছে। এ আবিষ্কারের ফরাসী গণিতবিদ ফার্মা
(Fermat) ও পাসক্যালের (Pascal) অবদান উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের Fort Worth -এর Kimbell Art Museum -এর নকশায় চক্রিমা সদৃশ arch ব্যবহার করেন স্হপতি Louis Khan. নিউ হ্যাম্পশায়ারের হানোভারে অবস্হিত Hopkins Center - এও এ ধরনের নকশা শুভা পাচ্ছে। চক্রিমার অনুপম নির্মাণশৈলী একে তুলনীয় করেছে ইতিহাসখ্যাত অনিন্দ্যসুন্দরী রমণী 'হেলেন' -এর সাথে। বলা হয়েছে 'জ্যামিতিররহেলেন।
দি নিউ এনসাইক্লোপিডিয়া বৃটানিকা পঞ্চদশ খণ্ডে (১৯৮৮) চক্রিমা সম্পর্কে বর্ণিত বিশেষ মন্তব্য : lts beautiful properties led many disputes over priority and it has been called the Helen of Geometry অন্যভাবে চক্রিমাকে বলা হয়েছে, The Helen of Geometers'as it provokes quarrels among 17th century mathematicians.
Tuesday, 5 November 2019
Monday, 4 November 2019
চীনের মহাপ্রাচীর
ইংরেজিতে একে বলে দ্য গ্রেট ওয়াল অব চায়না। পাথর ও মাটি দিয়ে তৈরি দীর্ঘ প্রাচীর সারি। খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতক থেকে খ্রিষ্টীয় ১৬শ শতক পর্যন্ত চীনের উত্তর সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এটি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। অনেকগুলো প্রাচীরই তৈরি করা হয়েছিল, তবে চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াঙের অধীনে নির্মিত প্রাচীরটিই সবচেয়ে বিখ্যাত। এটি বর্তমান প্রাচীরের অনেক
উত্তরে অবস্হিত এবং এর খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে। বার্তমানে প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়। এর মূল অংশের নির্মাণ শুরু হয়েছিল প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ২০৮ সালের দিকে। তিনটি রাজবংশ : যেমন কিউইন , হান এবং মিং -এর সময় বিভিন্ন জীবিকার মানুষজন এই বিশাল
প্রাচীরটির নির্মাণে যুক্ত ছিল। এই স্হানটির সবচেয়ে সু -সংরক্ষণ ও সংস্করণ প্রাচীন মিং রাজবংশের সময়েই হয়েছিল।
১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্হান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ।
উত্তরে অবস্হিত এবং এর খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে। বার্তমানে প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়। এর মূল অংশের নির্মাণ শুরু হয়েছিল প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ২০৮ সালের দিকে। তিনটি রাজবংশ : যেমন কিউইন , হান এবং মিং -এর সময় বিভিন্ন জীবিকার মানুষজন এই বিশাল
প্রাচীরটির নির্মাণে যুক্ত ছিল। এই স্হানটির সবচেয়ে সু -সংরক্ষণ ও সংস্করণ প্রাচীন মিং রাজবংশের সময়েই হয়েছিল।
১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্হান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ।
Thursday, 31 October 2019
চুক্তিতে শর্তারোপ করা
বিষয় -১৩০ : বিনিয়োগ প্রদানের সময় ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তিতে বিভিন্ন ধারা সংযোজিত থাকে। এর মধ্যে একটি হলো, "In case of any dispute arises out of this agreement or the terms and conditions thereof the decision of the Bank Management shall be final and binding upon the parties.' অর্থাৎ, 'চুক্তির কোনো বিষয় বা শর্তের ব্যাপারে কোনো আপত্তি
উত্থাপিত হলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে -চুক্তিপত্রে এ ধরনেন ধারা উল্লেখ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : চুক্তিপত্রে উক্ত ধারার অন্তর্ভুক্তিতে শরী'আহর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে ধারাটি প্রয়োগকালে শরী'আহর কোনো মূলনীতি লঙ্গঘন করা যাবে না।
(সূত্র : ১৯ আগষ্ট ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পারিভাষিক শব্দ
ইবরা আরবি ইবরা শব্দটি বারিউন থেকে উদ্ভূত। অর্থ -দায়মুক্ত করা, অব্যাহতি, মাফকরণ, মুক্তকরণ ইত্যাদি। পাওনার সম্পপূর্ণ বা আংশিক মাফ করে দেয়াকে ইবরা বলা হয়।
ওয়াদ ব্যাংকের কাছ থেকে গ্রাহকের পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকারকে ওয়াদ বিশ -
বিশ -শিরা শিরা বা ক্রয়ের অঙ্গীকারনামা বলা হয়। এটি পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের চুক্তি নয়, বরং পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের অঙ্গীকার। অর্থাৎ, গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী ব্যাংক পণ্য ক্রয় করার পর গ্রাহক তা ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেয়ার অঙ্গীকার (ওয়াদা) করবে। কারণ পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও দখল অর্জিত হওয়ার আগে তা কারো কাছে বিক্রয় করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ওয়াদি'আহ ওয়াদি'আহ আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ করা, ছেড়ে দেয়া, আমানত রাখা, গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি। নিজের সম্পদ অপরের হিফাজতে অর্পণ করাকে আল -ওয়াদি'আহ বলে। এ পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তার অর্থ জমা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে তার জমাকৃত অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে তবে তার জমাকৃত অর্থের বিনিময়ে কোনো লাভ সে পায় না আবার প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকসানও তাকে বহন করতে হয় না।
কুরআন কুরআন আরবি শব্দ। এর অর্থ -পাঠ্য বা পঠন। কুরআন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা পঠিত ও পঠিতব্য গ্রন্থ বিধায় একে কুরআন বলা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা:) এর নবুওয়াতের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনকালে অবস্হা ও চাহিদার প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণের জন্য যে আল্লাহ প্রদত্ত বাণী অবতীর্ণ করা হয়েছে তার সামষ্টিক ও সম্কলিত রূপই হলো আল কুরআন। এ মহাগ্রন্হ যে ভাষায় ( language) পাঠ (text) ও পঠন পদ্ধতিতে (method of reciation) অবতীর্ণ হয়েছিল তার সবটুকুই যথাযথভাবে বিদ্যমান আছে।
ক্ববদ ক্রয়ের পর পণ্যের ওপর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে দখল অর্জন করাকে ক্ববদ বলা হয়। পণ্যের বিভিন্নতায় ক্ববদের ধরনও বিভিন্ন হতে পারে। ক্ববদ করার অর্থ হলো ব্যয় -ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং যেভাবে সেই ক্ষমতা অর্জিত হবে সেটাই ক্ববদ বলে গণ্য হবে।
ক্ববদে ক্ববদে হাসানা মূলত এমন একধরনের ঋণ যা কারো উপকারের
হাসানা জন্য বিনা শর্তে প্রদান করা হয়। এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করার অবকাশ থাকে ।
ক্বালবুদ ক্বালবুদ দাইন অর্থ দায়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা। এটা রিবার
দাইন অন্তর্ভূক্ত।
ক্বিয়াস ক্বিয়াস শব্দের অর্থ হলো অনুমান করা, সামঞ্জস্যপূর্ণ করা,সমন্বিত করা, যুক্ত করা ইত্যাদি। যে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে কিছু বলা হয়নি সে বিষয়কে কুরআন -সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো বিষয়ের হুকুমের সঙ্গে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো বিধান নির্গত করার নাম ক্বিয়াস। ক্বিয়াস ইসলামী আইনের একটি উৎস ।
সাহিবুল মুদারাবা কারবারে মূলধন সরবরাহকারীকে সাহিবুল মাল বলা হয়।
মাল
জামানত ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের নিরাপ্তার জন্য ঋণদাতার কাছে কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখা ।
ফতওয়া রায়, মত,সিদ্ধান্ত ইত্যাদি :ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃত প্রদত্ত মতামতকে ফতওয়া বলা হয়। যিনি এ ফতওয়া প্রদান করেন তাকে মুফতি বলা হয়। বিচারক অথবা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃত উপস্হাপিত প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞগণ কুরআন, সুন্নাহ,ইজমা, ক্বিয়াস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের আলোকে এ মতামত দিয়ে থাকেন।
বাই ' আরবি বাই' শব্দের অর্থ ক্রয় -বিক্রয়। বাই' বা ক্রয় -বিক্রয় হচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোনো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদের পরিবর্তন অথবা বিক্রয়যোগ্য কোনো সম্পদের বিনিময়ে কোনো বস্তুর মালিকানা হস্তান্তর করা।
বাই' -এর সংজ্ঞায় আল্লামা বুরহানুদ্দীন মুরগিনানী তার 'হিদায়া' নামক গ্রন্হে বলেছেন, 'ক্রয় -বিক্রয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে একটি
দ্রব্যের বিপরীতে অপর একটি দ্রব্যের বিনিময় করাকে বাই' বলা হয় '। এ ধরনের কেনাবেচাকে বাই ' মুতলাক বা সাধারণ ক্রয় -বিক্রয়ও বলা হয়। বাই' ইসতিসন : ক্রেতার নির্দেশ বা অর্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য প্রস্তুত করে ক্রয় -বিক্রয়কে বাই' ইসতিসনা বলা হয়। সাধারণত কোনো জিনিস তৈরি বা নির্মাণ করে দেয়ার জন্য অপর পক্ষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বা অর্ডার দানকে বাই'ইসতিসনা বলে।
বাই'মুরাবাহা : আভিধানিক অর্থে বাই'মুরাবাহা বলতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে লাভে বিক্রয়কে বুঝায়। পারিভাষিক অর্থে ক্রয়মূল্যের
ওপর নির্দিষ্ট লাভ যোগ করে কোনো পণ্য বিক্রয় করাকে বাই'মুরাবাহা বলা হয়।
বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট : বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি পরিভাষা। আমদানি পণ্যে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যাংক মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিটি অনুশীলন করে থাকে। বিনিয়োগ গ্রাহক বিদেশ থেকে যে ধরনের পণ্য আমদানি করতে চান তার বিবরণসহ ইসলামী ব্যাংকের কাছে তা আমদানি করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন। তার কাঙ্খিত পণ্য বিদেশ থেকে ক্রয় করে ব্যাংক তার কাছে মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিতে বিক্রয় করে।
বাই'মুয়াজ্জাল : বাই'মুয়াজ্জাল ইসলামী ব্যাংকের একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। মুয়াজ্জাল আরবি আজল থেকে উদ্ভূত। আজল শব্দের আভিধানিক অর্থ বিলম্ব, বাকি আর মুয়াজ্জাল শব্দের অর্ধ বিলম্বিত, বিলম্বে পরিশোধযোগ্য, বাকি, নগদের বিপরীত ইত্যাদি। পরিভাষায় বাই'মুয়াজ্জাল হলো এমন এক ধরনের ক্রয় -বিক্রয় যেখানে পণ্যটি নগদে হস্তান্তর এবং মূল্য বাকিতে অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে/মেয়াদে পরিশোধ করা হয়।
বাই'সালাম : আভিধানিক অর্থে বাই'সালাম হচ্ছে অগ্রিম ক্রয় -বিক্রয়। অগ্রিম মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ান্তে হস্তান্তরযোগ্য কোনো নির্ধারিত বস্তু ক্রয় -বিক্রয় করাকে বাই'সালাম বলে।
বাই'সরফ : সরফ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে রূপান্তর করা, স্হানান্তর করা, বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয়কে অথবা স্বর্ণ,রৌপ্য বা মুদ্রার পরস্পর বিনিময় করাকে বাই'সরফ বলা হয়। একই বৈঠকে দু'জন তাদের মালিকানাধীন জিনিসকে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর মাস করে বিধায় একে বাই'সরফ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মাসালিহ মুরসালা : কল্যাণকে ভিত্তি করে বিধান রচনা করার নাম মাসলাহা বা মাসালিহ মুরসালা। সার্বিক জনস্বার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ 'নস' বিদ্যমান না থাকা অবস্হায় গৃহীত সিদ্ধান্তকে এমন কোনো মৌলিক নীতির সঙ্গে সংল্শিষ্ট করে দেয়ার নাম মাসালিহ মুরসালা। যে সব বিষয়ে শরী'আহর সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান আছে সেই বিষয়টি মাসালিহ মুরসালার অন্তর্ভূক্ত হবে না । কোনো বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ করা, শরী'আহর উদ্দেশ্য পূরণ করা ও ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করাই মাসালিহ মুরসালার উদ্দেশ্য।
মু'আমালাহ : সাধারণভাবে মু'আমালাহ অর্থ লেনদেন। ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় কেবল আর্থিক লেনদেনকে মু'আমালাহ বলে।
মুশারাকা : মুশারাকা মূলত একটি অংশীদারি কারবার। ব্যাংক এবং গ্রাহক পুঁজি ও ব্যবস্হাপনা উভয় ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে যে ব্যবসা পরিচালনা করে তাকে মুশারাকা বলা হয়। মুশারাকাকে সরাসরি অর্থায়ন (direct financing) পদ্ধতিও বলা হয়। ব্যবসায়ে লাভ হলে চুক্তি মোতাবেক ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে তা বন্টন করে নেয় এবং লোকসান হলে তা মূলধন মোতাবেক
উভয়ে বহন করে থাকে।
মুশারাকা মুতানাকিসা : ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা পদ্ধতিকে মুশারাকা মুতানাকিসা বলা হয়।
মুরাবাহা লিল আমিরিবিশ শিরা : ক্রেতার অনুরোধে তার চাহিদা মোতাবেক বিক্রেতা কর্তৃত পণ্য ক্রয় করে মালিকানা ও দখল লাভের পর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সম্মত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক বিক্রয় করাকে
'মুরাবাহা লিল আমিরি বিশ -শিরা' বা ক্রেতার আদেশ ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মুরাবাহা ' বলা হয়। ইসলামী ব্যাংকসমূহ এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে বলে একে ব্যাংকিং মুরাবাহাও বলা হয়ে থাকে।
মুদারাবা মুদারাবা শব্দটি 'দারবুন' শব্দমূল হতে উদ্ভূত হয়েছে। আরবি ভাষায় শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহ্নত হয়ে থাকে। যেমন -প্রহার করা, অন্বেষণ করা, দৃষ্টান্ত দেয়া,পরিভ্রমণ করা ইত্যাদি।
ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা এমন ধরনের ব্যবসা যেখানে দুটি পক্ষ থাকে। মুনাফার উদ্দেশ্যে একপক্ষ মূলধন সরবরাহ করে আর অপরপক্ষ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে উক্ত মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। ব্যবসায়ে লাভ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বশর্ত অনুসারে বন্টিত হয়। আর লোকসান হলে মূলধন সরবরাহকারী (সাহিবুল মাল) কে তা বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে
মুদারিবের শ্রম ও সময় লোকসান হয়। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে মুদারিবের অবহেলা প্রমাণিত হলে কিংবা চুক্তির শর্ত লঙ্গনের কারণে লোকসান হলে তা মুদারিবকে বহন করতে হবে।
মুদারাবা মুতলাক্বাহ : শর্তহীনভাবে পরিচালিত সাধারণ মুদারাবাকে ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা মুতলাক্বাহ বলা হয়।
মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ : মুদারাবা কারবারে সাহিবুল মাল মুদারিবের ওপর কোনো শর্ত আরোপ করলে তাকে মুদারাবা মুক্বাইয়্যাদাহ বলা হয়।
মিলকিয়াত কোনো সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব। কোনো সম্পত্তি ব্যবহার, ভোগ ও স্হানান্তরের অধিকার।
যাকাত যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের
একটি। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রকরণ, প্রবৃদ্ধি, প্রশংসা ইত্যাদি। পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি
নির্দিষ্ট (নিসাব) পরিমাণ মালের মালিক হলে, তার নির্ধারিত অংশ (শতকরা ২.৫০ ভাগ) নির্ধারিত
খাতে (মাসারিফে যাকাত) ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
রিবা সুদের আরবি প্রতিশব্দ হলো রিবা। রিবা শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সংযোজন, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। তবে ইসলামে সব ধরনের বৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধিকে রিবা বলে গণ্য করা হয়নি। শরী'আহতে
সেই বৃদ্ধিকে রিবা বলা হয়েছে যা প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে শর্ত হিসেবে আদায় করা হয়।
শরী'আহ শরী'আহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পানি পান করার ঘাট, চলার পথ ইত্যাদি। শরী'আহ বলতে সে সব পথনির্দেশকে বুঝায়, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি জারি করেছেন। আল -কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করার পথনির্দেশকেই শরী'আহ বলা হয়।
সুন্নাহ রীতি, নিয়ম, পথ ইত্যাদি। পরিভাষায় রাসূল স. -এর যেসব কথা ও কাজকর্মের বিবরণ এবং কার্যকলাপের অনুমোদন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ বলা হয়। এটি ইসলামী আইনের উৎস।
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক :
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলককে আরবিতে ইজারা বিল বাই তাহতা শিরকাতিল মিলক বলা হয়। এ পদ্ধতি মুলত তিনটি বিনিয়োগ পদ্ধতির সমন্বিত রূপ। একটি হচ্ছে 'ইজারা' (ভাড়া) , আরেকটি 'বাই' (ক্রয় -বিক্রয়) এবং অন্যটি 'শিরকাতুল মিলক ' (মালিকানায় অংশীদারিত্ব) । এ পদ্ধতির আয়কে বলা হয় ভাড়া (rent) ।
এ পদ্ধতিতে পক্ষগুলো প্রথমে যৌথভাবে কোনো সম্পদের মালিকানা অর্জন করে। সংল্শিষ্ট সম্পদে প্রত্যেক পক্ষ তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের অনুপাতে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। একপক্ষ অপর পক্ষের কাছে তার অংশ ভাড়া দেয় এবং ক্রমান্নয়ে বিক্রয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে ।।।
উত্থাপিত হলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে -চুক্তিপত্রে এ ধরনেন ধারা উল্লেখ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : চুক্তিপত্রে উক্ত ধারার অন্তর্ভুক্তিতে শরী'আহর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে ধারাটি প্রয়োগকালে শরী'আহর কোনো মূলনীতি লঙ্গঘন করা যাবে না।
(সূত্র : ১৯ আগষ্ট ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পারিভাষিক শব্দ
ইবরা আরবি ইবরা শব্দটি বারিউন থেকে উদ্ভূত। অর্থ -দায়মুক্ত করা, অব্যাহতি, মাফকরণ, মুক্তকরণ ইত্যাদি। পাওনার সম্পপূর্ণ বা আংশিক মাফ করে দেয়াকে ইবরা বলা হয়।
ওয়াদ ব্যাংকের কাছ থেকে গ্রাহকের পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকারকে ওয়াদ বিশ -
বিশ -শিরা শিরা বা ক্রয়ের অঙ্গীকারনামা বলা হয়। এটি পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের চুক্তি নয়, বরং পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের অঙ্গীকার। অর্থাৎ, গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী ব্যাংক পণ্য ক্রয় করার পর গ্রাহক তা ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেয়ার অঙ্গীকার (ওয়াদা) করবে। কারণ পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও দখল অর্জিত হওয়ার আগে তা কারো কাছে বিক্রয় করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ওয়াদি'আহ ওয়াদি'আহ আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ করা, ছেড়ে দেয়া, আমানত রাখা, গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি। নিজের সম্পদ অপরের হিফাজতে অর্পণ করাকে আল -ওয়াদি'আহ বলে। এ পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তার অর্থ জমা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে তার জমাকৃত অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে তবে তার জমাকৃত অর্থের বিনিময়ে কোনো লাভ সে পায় না আবার প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকসানও তাকে বহন করতে হয় না।
কুরআন কুরআন আরবি শব্দ। এর অর্থ -পাঠ্য বা পঠন। কুরআন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা পঠিত ও পঠিতব্য গ্রন্থ বিধায় একে কুরআন বলা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা:) এর নবুওয়াতের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনকালে অবস্হা ও চাহিদার প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণের জন্য যে আল্লাহ প্রদত্ত বাণী অবতীর্ণ করা হয়েছে তার সামষ্টিক ও সম্কলিত রূপই হলো আল কুরআন। এ মহাগ্রন্হ যে ভাষায় ( language) পাঠ (text) ও পঠন পদ্ধতিতে (method of reciation) অবতীর্ণ হয়েছিল তার সবটুকুই যথাযথভাবে বিদ্যমান আছে।
ক্ববদ ক্রয়ের পর পণ্যের ওপর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে দখল অর্জন করাকে ক্ববদ বলা হয়। পণ্যের বিভিন্নতায় ক্ববদের ধরনও বিভিন্ন হতে পারে। ক্ববদ করার অর্থ হলো ব্যয় -ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং যেভাবে সেই ক্ষমতা অর্জিত হবে সেটাই ক্ববদ বলে গণ্য হবে।
ক্ববদে ক্ববদে হাসানা মূলত এমন একধরনের ঋণ যা কারো উপকারের
হাসানা জন্য বিনা শর্তে প্রদান করা হয়। এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করার অবকাশ থাকে ।
ক্বালবুদ ক্বালবুদ দাইন অর্থ দায়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা। এটা রিবার
দাইন অন্তর্ভূক্ত।
ক্বিয়াস ক্বিয়াস শব্দের অর্থ হলো অনুমান করা, সামঞ্জস্যপূর্ণ করা,সমন্বিত করা, যুক্ত করা ইত্যাদি। যে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে কিছু বলা হয়নি সে বিষয়কে কুরআন -সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো বিষয়ের হুকুমের সঙ্গে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো বিধান নির্গত করার নাম ক্বিয়াস। ক্বিয়াস ইসলামী আইনের একটি উৎস ।
সাহিবুল মুদারাবা কারবারে মূলধন সরবরাহকারীকে সাহিবুল মাল বলা হয়।
মাল
জামানত ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের নিরাপ্তার জন্য ঋণদাতার কাছে কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখা ।
ফতওয়া রায়, মত,সিদ্ধান্ত ইত্যাদি :ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃত প্রদত্ত মতামতকে ফতওয়া বলা হয়। যিনি এ ফতওয়া প্রদান করেন তাকে মুফতি বলা হয়। বিচারক অথবা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃত উপস্হাপিত প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞগণ কুরআন, সুন্নাহ,ইজমা, ক্বিয়াস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের আলোকে এ মতামত দিয়ে থাকেন।
বাই ' আরবি বাই' শব্দের অর্থ ক্রয় -বিক্রয়। বাই' বা ক্রয় -বিক্রয় হচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোনো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদের পরিবর্তন অথবা বিক্রয়যোগ্য কোনো সম্পদের বিনিময়ে কোনো বস্তুর মালিকানা হস্তান্তর করা।
বাই' -এর সংজ্ঞায় আল্লামা বুরহানুদ্দীন মুরগিনানী তার 'হিদায়া' নামক গ্রন্হে বলেছেন, 'ক্রয় -বিক্রয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে একটি
দ্রব্যের বিপরীতে অপর একটি দ্রব্যের বিনিময় করাকে বাই' বলা হয় '। এ ধরনের কেনাবেচাকে বাই ' মুতলাক বা সাধারণ ক্রয় -বিক্রয়ও বলা হয়। বাই' ইসতিসন : ক্রেতার নির্দেশ বা অর্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য প্রস্তুত করে ক্রয় -বিক্রয়কে বাই' ইসতিসনা বলা হয়। সাধারণত কোনো জিনিস তৈরি বা নির্মাণ করে দেয়ার জন্য অপর পক্ষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বা অর্ডার দানকে বাই'ইসতিসনা বলে।
বাই'মুরাবাহা : আভিধানিক অর্থে বাই'মুরাবাহা বলতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে লাভে বিক্রয়কে বুঝায়। পারিভাষিক অর্থে ক্রয়মূল্যের
ওপর নির্দিষ্ট লাভ যোগ করে কোনো পণ্য বিক্রয় করাকে বাই'মুরাবাহা বলা হয়।
বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট : বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি পরিভাষা। আমদানি পণ্যে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যাংক মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিটি অনুশীলন করে থাকে। বিনিয়োগ গ্রাহক বিদেশ থেকে যে ধরনের পণ্য আমদানি করতে চান তার বিবরণসহ ইসলামী ব্যাংকের কাছে তা আমদানি করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন। তার কাঙ্খিত পণ্য বিদেশ থেকে ক্রয় করে ব্যাংক তার কাছে মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিতে বিক্রয় করে।
বাই'মুয়াজ্জাল : বাই'মুয়াজ্জাল ইসলামী ব্যাংকের একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। মুয়াজ্জাল আরবি আজল থেকে উদ্ভূত। আজল শব্দের আভিধানিক অর্থ বিলম্ব, বাকি আর মুয়াজ্জাল শব্দের অর্ধ বিলম্বিত, বিলম্বে পরিশোধযোগ্য, বাকি, নগদের বিপরীত ইত্যাদি। পরিভাষায় বাই'মুয়াজ্জাল হলো এমন এক ধরনের ক্রয় -বিক্রয় যেখানে পণ্যটি নগদে হস্তান্তর এবং মূল্য বাকিতে অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে/মেয়াদে পরিশোধ করা হয়।
বাই'সালাম : আভিধানিক অর্থে বাই'সালাম হচ্ছে অগ্রিম ক্রয় -বিক্রয়। অগ্রিম মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ান্তে হস্তান্তরযোগ্য কোনো নির্ধারিত বস্তু ক্রয় -বিক্রয় করাকে বাই'সালাম বলে।
বাই'সরফ : সরফ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে রূপান্তর করা, স্হানান্তর করা, বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয়কে অথবা স্বর্ণ,রৌপ্য বা মুদ্রার পরস্পর বিনিময় করাকে বাই'সরফ বলা হয়। একই বৈঠকে দু'জন তাদের মালিকানাধীন জিনিসকে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর মাস করে বিধায় একে বাই'সরফ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মাসালিহ মুরসালা : কল্যাণকে ভিত্তি করে বিধান রচনা করার নাম মাসলাহা বা মাসালিহ মুরসালা। সার্বিক জনস্বার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ 'নস' বিদ্যমান না থাকা অবস্হায় গৃহীত সিদ্ধান্তকে এমন কোনো মৌলিক নীতির সঙ্গে সংল্শিষ্ট করে দেয়ার নাম মাসালিহ মুরসালা। যে সব বিষয়ে শরী'আহর সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান আছে সেই বিষয়টি মাসালিহ মুরসালার অন্তর্ভূক্ত হবে না । কোনো বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ করা, শরী'আহর উদ্দেশ্য পূরণ করা ও ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করাই মাসালিহ মুরসালার উদ্দেশ্য।
মু'আমালাহ : সাধারণভাবে মু'আমালাহ অর্থ লেনদেন। ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় কেবল আর্থিক লেনদেনকে মু'আমালাহ বলে।
মুশারাকা : মুশারাকা মূলত একটি অংশীদারি কারবার। ব্যাংক এবং গ্রাহক পুঁজি ও ব্যবস্হাপনা উভয় ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে যে ব্যবসা পরিচালনা করে তাকে মুশারাকা বলা হয়। মুশারাকাকে সরাসরি অর্থায়ন (direct financing) পদ্ধতিও বলা হয়। ব্যবসায়ে লাভ হলে চুক্তি মোতাবেক ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে তা বন্টন করে নেয় এবং লোকসান হলে তা মূলধন মোতাবেক
উভয়ে বহন করে থাকে।
মুশারাকা মুতানাকিসা : ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা পদ্ধতিকে মুশারাকা মুতানাকিসা বলা হয়।
মুরাবাহা লিল আমিরিবিশ শিরা : ক্রেতার অনুরোধে তার চাহিদা মোতাবেক বিক্রেতা কর্তৃত পণ্য ক্রয় করে মালিকানা ও দখল লাভের পর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সম্মত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক বিক্রয় করাকে
'মুরাবাহা লিল আমিরি বিশ -শিরা' বা ক্রেতার আদেশ ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মুরাবাহা ' বলা হয়। ইসলামী ব্যাংকসমূহ এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে বলে একে ব্যাংকিং মুরাবাহাও বলা হয়ে থাকে।
মুদারাবা মুদারাবা শব্দটি 'দারবুন' শব্দমূল হতে উদ্ভূত হয়েছে। আরবি ভাষায় শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহ্নত হয়ে থাকে। যেমন -প্রহার করা, অন্বেষণ করা, দৃষ্টান্ত দেয়া,পরিভ্রমণ করা ইত্যাদি।
ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা এমন ধরনের ব্যবসা যেখানে দুটি পক্ষ থাকে। মুনাফার উদ্দেশ্যে একপক্ষ মূলধন সরবরাহ করে আর অপরপক্ষ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে উক্ত মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। ব্যবসায়ে লাভ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বশর্ত অনুসারে বন্টিত হয়। আর লোকসান হলে মূলধন সরবরাহকারী (সাহিবুল মাল) কে তা বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে
মুদারিবের শ্রম ও সময় লোকসান হয়। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে মুদারিবের অবহেলা প্রমাণিত হলে কিংবা চুক্তির শর্ত লঙ্গনের কারণে লোকসান হলে তা মুদারিবকে বহন করতে হবে।
মুদারাবা মুতলাক্বাহ : শর্তহীনভাবে পরিচালিত সাধারণ মুদারাবাকে ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা মুতলাক্বাহ বলা হয়।
মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ : মুদারাবা কারবারে সাহিবুল মাল মুদারিবের ওপর কোনো শর্ত আরোপ করলে তাকে মুদারাবা মুক্বাইয়্যাদাহ বলা হয়।
মিলকিয়াত কোনো সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব। কোনো সম্পত্তি ব্যবহার, ভোগ ও স্হানান্তরের অধিকার।
যাকাত যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের
একটি। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রকরণ, প্রবৃদ্ধি, প্রশংসা ইত্যাদি। পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি
নির্দিষ্ট (নিসাব) পরিমাণ মালের মালিক হলে, তার নির্ধারিত অংশ (শতকরা ২.৫০ ভাগ) নির্ধারিত
খাতে (মাসারিফে যাকাত) ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
রিবা সুদের আরবি প্রতিশব্দ হলো রিবা। রিবা শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সংযোজন, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। তবে ইসলামে সব ধরনের বৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধিকে রিবা বলে গণ্য করা হয়নি। শরী'আহতে
সেই বৃদ্ধিকে রিবা বলা হয়েছে যা প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে শর্ত হিসেবে আদায় করা হয়।
শরী'আহ শরী'আহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পানি পান করার ঘাট, চলার পথ ইত্যাদি। শরী'আহ বলতে সে সব পথনির্দেশকে বুঝায়, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি জারি করেছেন। আল -কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করার পথনির্দেশকেই শরী'আহ বলা হয়।
সুন্নাহ রীতি, নিয়ম, পথ ইত্যাদি। পরিভাষায় রাসূল স. -এর যেসব কথা ও কাজকর্মের বিবরণ এবং কার্যকলাপের অনুমোদন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ বলা হয়। এটি ইসলামী আইনের উৎস।
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক :
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলককে আরবিতে ইজারা বিল বাই তাহতা শিরকাতিল মিলক বলা হয়। এ পদ্ধতি মুলত তিনটি বিনিয়োগ পদ্ধতির সমন্বিত রূপ। একটি হচ্ছে 'ইজারা' (ভাড়া) , আরেকটি 'বাই' (ক্রয় -বিক্রয়) এবং অন্যটি 'শিরকাতুল মিলক ' (মালিকানায় অংশীদারিত্ব) । এ পদ্ধতির আয়কে বলা হয় ভাড়া (rent) ।
এ পদ্ধতিতে পক্ষগুলো প্রথমে যৌথভাবে কোনো সম্পদের মালিকানা অর্জন করে। সংল্শিষ্ট সম্পদে প্রত্যেক পক্ষ তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের অনুপাতে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। একপক্ষ অপর পক্ষের কাছে তার অংশ ভাড়া দেয় এবং ক্রমান্নয়ে বিক্রয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে ।।।
Sunday, 27 October 2019
সুকুক
বিষয় -১২৮ : সম্প্রতি একজন গবেষক প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk) ও গর্ভনমেন্ট সৃরাবাহি সুকুক (Government Murabaha Sukuk) শীর্ষক দুটি প্রোডাক্ট শরী'আহসম্মত কি না সে সম্পর্কে শরী'আহ সুপারবাইজারি কমিটির অভিমত জানতে চান। প্রোডাক্ট দুটির সারসংক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো :
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk -CBMS)
ক. সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) শরী'আহ অনুমোদিত মুদারাবা পদ্ধতিতে সম্পন্না হবে।
খ . ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে প্রয়োজন মত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সিবিএমএস (CBMS) ক্রয় করবে। ব্যাংক হবে সাহিবুল মাল আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে মুদারিব। সুকুক ক্রয় -বিক্রয়ের সময় মুনাফার অনুপাত (অর্থাৎ, সুকুক ক্রয়কারী ব্যাংক মুনাফার কতভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতভাগ পাবে তা) নির্ধারিত থাকবে। নিলামের মাধ্যমে মুনাফায় অংশ নেয়ার অনুপাত (PSR) নির্ধারিত হবে।
গ . সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল ব্যবস্হাপনার জন্য একটি এসপিভি (Special Purpose Vehicle -SPV) বা 'বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্হা যেমন 'ইসলামী মাইক্রো ফাইন্যান্স ফাউন্ডেশন' গঠিত হবে। এসপিভি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত তহবিল দেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইসলাসী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহকে পুনরায় বিনিয়োগ প্রদান করবে।
ঘ . বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সুকুকধারী ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর অনুযায়ী বণ্টিত হবে।
গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (Government Murabaha Sukuk - GMS)
ক . এ প্রোডাক্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সুকুক ইস্যু করবে। নিলামে বিজয়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের ক্রয় প্রতিনিধি বানাবে। সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে গঠিত তহবিল দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রয়প্রতিনিধি হিসেবে সুকুক -ধারকের পক্ষে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তার ওপর মুনাফা ধার্য করে সুকুক -ধারক ব্যাংকের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের কাছে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি কবরে।
খ . প্রস্তাবনায় জিএমএস (GNS) প্রোডাক্টটিকে শরী'আহসম্মত মুদ্রা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
গ . জিএমএস -এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এবং
ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত তারল্য সরকারি আমদানিতে বিনিয়োগের সুযোগ হবে।
ঘ . এ প্রোডাক্টের মাধ্যমে সরকার খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্য যেমন : পেট্রোলিয়াম, পাম অয়েল ইত্যাদি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য সহজ তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।
সিদ্ধান্ত : 'সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) ' ও 'গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) ' প্রোডাক্ট
দুটি প্রচলিত রিপো (Repurchase Order -REPO) ও রিভার্স রিপো ( Reverse REPO) এর ইসলামী বিকল্প হিসেবে নিঃসন্দেহে একটি
প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ, সিবিএমএস পদ্ধতিতে সংগৃহীত অর্থ ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার সুবাদে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হবে এবং অর্থনীতিক ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে সম্পদের প্রবাহ ধাবিত হবে।
অন্যদিকে সরকারি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির একটি শরী'আহসম্মত উপকরণ হিসেবেও আলোচ্য জিএমএস ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী ব্যাংকসমূহের লাভজনক খাতে অতিরিক্ত তারল্য
বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBNS) সম্পর্কে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত/পরামর্শ/সুপারিশ :
১। প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক প্রোডাক্টটি মুদারাবা পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নীতিগতভাবে এটি শরী'আহসম্মত।
২ । প্রোডাক্টটির লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা / যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . সুকুক থেকে সংগৃহীত মুদারাবা তহবিল ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার কথা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে : তবে তা কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটি মনে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে সংগৃহীত তহবিল এসপিভি -এর মাধ্যমে পুনরায় মুদারাবা পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ের ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হা বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রদান করতে পারে যা তারা শরী'আহসম্মত (বাই'মুয়াজ্জাল, বাই'সালাম, এইচপিএসএম, মুশারাকা, মুদারাবা ইত্যাদি) পদ্ধতিতে তাদের সদস্যদের মধ্যে ( গ্রাহক পর্যায়ে) বিনিয়োগ করতে পারবে। উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় এসপিভি -এর মাধ্যমে প্রথমে সাহিবুল মাল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মুদারিব হিসেবে ইসলামিক মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট (Ialamic Micro Finance Institute) এর মধ্যে পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বন্টিত হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্জিত অংশ ( আয়) পুনরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর (PSR) অনুযায়ী বন্টিত হবে। অর্থাৎ, এটি দুইস্তর বিশিষ্ট মুদারাবা কারবারে পরিণত হবে।
খ . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (সাহিবুল মাল) তার মুদারাবা তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . প্রস্তাবনায় সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) এর বৈশিষ্ট্য/ পদ্ধতির মধ্যে শুধু লাভের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। লোকসান হলে তা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী বহন করার বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।
ঘ . সুকুকের মেয়েদ শেষে সুকুকধারী ও সুকুক ইস্যুকারী এবং সংল্শিষ্ট অন্যান্য পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফা বন্টনের সময় লাভ -ক্ষতির হিসাব কিভাবে সম্পন্ন/চূড়ান্ত করা হবে সে ব্যাপারে প্রস্তাবনায় স্পষ্ট ধারণা দেয়া প্রয়োজন।
ঙ . মুদারাবা ভিত্তিতে গৃহীত সুকুক তহবিল সকল পর্যায়ের ব্যবহারকারী বিশেষ করে ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রদানের সময় শরী'আহ পরিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্হা রাখা প্রয়োজন।
চ . প্রস্তাবিত সিবিএমএস -এর চুক্তিপত্রে মুদাোবার শর'ঈ মৌলিক শর্তাবলি সন্নিবেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও শরী'আহসম্মত বিভিন্ন সুকুক চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে অধিকতর চিন্তা -গবেষণা করা প্রয়োজন।
গর্ভনমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) এর ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত /পরামর্শ/ সুপারিশ :
১. মুরাবাহা পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় নীতিগতভাবে প্রস্তাবিত গভর্নমেন্ট মুদারাবাহা সুকুক শরী'আহসম্মত।
২. সুকুক তহবিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত /আমদানিকৃত পণ্য ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে অবশ্যই হালাল/বৈধ হতে হবে।
৩ . প্রোডাক্টটির প্রস্তাবিত লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নেবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা/যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (বিনিয়োগকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান) তার তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
খ . আলোচ্য জিএমএস -এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুকধারকদের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কি ধরনের সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . যেহেতু আলোচ্য সুকুক শরী'আহসম্মত বাই'মুরাবাহা নীতিমালার ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে তাই বাই'মুরাবাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর'ঈ শর্তাবলি জিএমএস -এর চুক্তিপত্রে সন্নিবেশন এবং তা পরিপালন নিশ্চিয়ত করা প্রয়োজন।
(সূত্র: ২০ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৮৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৯ : কমার্শিয়াল পেপার (Commercial Paper -CP) বা বাণিজ্যিক পত্র স্বল্পমেয়াদী পুঁজি সংগ্রহের জন্য সুদের ভিত্তিতে ইস্যুকৃত একটি আর্থিক উপকরণ, যা কুপন রেট (coupon rate) বা ডিসকাউন্ট (discount) এর ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়। কুপন হচ্ছে দলিলে উউল্লেখিত টাকার পরিমাণের ওপর মেয়াদান্তে নির্ধারিত হারে সুদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি, আর ডিসকাউন্ট হচ্ছে ফেসভ্যালুর চেয়ে কম দামে বিক্রয় করে মেয়াদান্তে ফেস ভ্যালুতে কিনে নেয়ার শর্তে কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু করা। এ ধরনের বাণিজ্যিক পত্র শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ কিনা?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কুপন বা ডিসকাউন্টিং কোনোটিই বৈধ নয়। কাজেই ইসলামী ব্যাংক এ ধরনের কমার্শিয়াল পেপারে বিনিয়োগ কিংবা কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু এজেন্ট এবং পেয়িং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
( সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk -CBMS)
ক. সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) শরী'আহ অনুমোদিত মুদারাবা পদ্ধতিতে সম্পন্না হবে।
খ . ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে প্রয়োজন মত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সিবিএমএস (CBMS) ক্রয় করবে। ব্যাংক হবে সাহিবুল মাল আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে মুদারিব। সুকুক ক্রয় -বিক্রয়ের সময় মুনাফার অনুপাত (অর্থাৎ, সুকুক ক্রয়কারী ব্যাংক মুনাফার কতভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতভাগ পাবে তা) নির্ধারিত থাকবে। নিলামের মাধ্যমে মুনাফায় অংশ নেয়ার অনুপাত (PSR) নির্ধারিত হবে।
গ . সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল ব্যবস্হাপনার জন্য একটি এসপিভি (Special Purpose Vehicle -SPV) বা 'বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্হা যেমন 'ইসলামী মাইক্রো ফাইন্যান্স ফাউন্ডেশন' গঠিত হবে। এসপিভি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত তহবিল দেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইসলাসী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহকে পুনরায় বিনিয়োগ প্রদান করবে।
ঘ . বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সুকুকধারী ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর অনুযায়ী বণ্টিত হবে।
গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (Government Murabaha Sukuk - GMS)
ক . এ প্রোডাক্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সুকুক ইস্যু করবে। নিলামে বিজয়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের ক্রয় প্রতিনিধি বানাবে। সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে গঠিত তহবিল দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রয়প্রতিনিধি হিসেবে সুকুক -ধারকের পক্ষে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তার ওপর মুনাফা ধার্য করে সুকুক -ধারক ব্যাংকের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের কাছে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি কবরে।
খ . প্রস্তাবনায় জিএমএস (GNS) প্রোডাক্টটিকে শরী'আহসম্মত মুদ্রা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
গ . জিএমএস -এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এবং
ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত তারল্য সরকারি আমদানিতে বিনিয়োগের সুযোগ হবে।
ঘ . এ প্রোডাক্টের মাধ্যমে সরকার খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্য যেমন : পেট্রোলিয়াম, পাম অয়েল ইত্যাদি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য সহজ তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।
সিদ্ধান্ত : 'সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) ' ও 'গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) ' প্রোডাক্ট
দুটি প্রচলিত রিপো (Repurchase Order -REPO) ও রিভার্স রিপো ( Reverse REPO) এর ইসলামী বিকল্প হিসেবে নিঃসন্দেহে একটি
প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ, সিবিএমএস পদ্ধতিতে সংগৃহীত অর্থ ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার সুবাদে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হবে এবং অর্থনীতিক ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে সম্পদের প্রবাহ ধাবিত হবে।
অন্যদিকে সরকারি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির একটি শরী'আহসম্মত উপকরণ হিসেবেও আলোচ্য জিএমএস ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী ব্যাংকসমূহের লাভজনক খাতে অতিরিক্ত তারল্য
বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBNS) সম্পর্কে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত/পরামর্শ/সুপারিশ :
১। প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক প্রোডাক্টটি মুদারাবা পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নীতিগতভাবে এটি শরী'আহসম্মত।
২ । প্রোডাক্টটির লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা / যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . সুকুক থেকে সংগৃহীত মুদারাবা তহবিল ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার কথা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে : তবে তা কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটি মনে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে সংগৃহীত তহবিল এসপিভি -এর মাধ্যমে পুনরায় মুদারাবা পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ের ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হা বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রদান করতে পারে যা তারা শরী'আহসম্মত (বাই'মুয়াজ্জাল, বাই'সালাম, এইচপিএসএম, মুশারাকা, মুদারাবা ইত্যাদি) পদ্ধতিতে তাদের সদস্যদের মধ্যে ( গ্রাহক পর্যায়ে) বিনিয়োগ করতে পারবে। উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় এসপিভি -এর মাধ্যমে প্রথমে সাহিবুল মাল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মুদারিব হিসেবে ইসলামিক মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট (Ialamic Micro Finance Institute) এর মধ্যে পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বন্টিত হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্জিত অংশ ( আয়) পুনরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর (PSR) অনুযায়ী বন্টিত হবে। অর্থাৎ, এটি দুইস্তর বিশিষ্ট মুদারাবা কারবারে পরিণত হবে।
খ . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (সাহিবুল মাল) তার মুদারাবা তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . প্রস্তাবনায় সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) এর বৈশিষ্ট্য/ পদ্ধতির মধ্যে শুধু লাভের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। লোকসান হলে তা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী বহন করার বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।
ঘ . সুকুকের মেয়েদ শেষে সুকুকধারী ও সুকুক ইস্যুকারী এবং সংল্শিষ্ট অন্যান্য পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফা বন্টনের সময় লাভ -ক্ষতির হিসাব কিভাবে সম্পন্ন/চূড়ান্ত করা হবে সে ব্যাপারে প্রস্তাবনায় স্পষ্ট ধারণা দেয়া প্রয়োজন।
ঙ . মুদারাবা ভিত্তিতে গৃহীত সুকুক তহবিল সকল পর্যায়ের ব্যবহারকারী বিশেষ করে ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রদানের সময় শরী'আহ পরিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্হা রাখা প্রয়োজন।
চ . প্রস্তাবিত সিবিএমএস -এর চুক্তিপত্রে মুদাোবার শর'ঈ মৌলিক শর্তাবলি সন্নিবেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও শরী'আহসম্মত বিভিন্ন সুকুক চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে অধিকতর চিন্তা -গবেষণা করা প্রয়োজন।
গর্ভনমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) এর ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত /পরামর্শ/ সুপারিশ :
১. মুরাবাহা পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় নীতিগতভাবে প্রস্তাবিত গভর্নমেন্ট মুদারাবাহা সুকুক শরী'আহসম্মত।
২. সুকুক তহবিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত /আমদানিকৃত পণ্য ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে অবশ্যই হালাল/বৈধ হতে হবে।
৩ . প্রোডাক্টটির প্রস্তাবিত লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নেবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা/যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (বিনিয়োগকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান) তার তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
খ . আলোচ্য জিএমএস -এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুকধারকদের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কি ধরনের সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . যেহেতু আলোচ্য সুকুক শরী'আহসম্মত বাই'মুরাবাহা নীতিমালার ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে তাই বাই'মুরাবাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর'ঈ শর্তাবলি জিএমএস -এর চুক্তিপত্রে সন্নিবেশন এবং তা পরিপালন নিশ্চিয়ত করা প্রয়োজন।
(সূত্র: ২০ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৮৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৯ : কমার্শিয়াল পেপার (Commercial Paper -CP) বা বাণিজ্যিক পত্র স্বল্পমেয়াদী পুঁজি সংগ্রহের জন্য সুদের ভিত্তিতে ইস্যুকৃত একটি আর্থিক উপকরণ, যা কুপন রেট (coupon rate) বা ডিসকাউন্ট (discount) এর ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়। কুপন হচ্ছে দলিলে উউল্লেখিত টাকার পরিমাণের ওপর মেয়াদান্তে নির্ধারিত হারে সুদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি, আর ডিসকাউন্ট হচ্ছে ফেসভ্যালুর চেয়ে কম দামে বিক্রয় করে মেয়াদান্তে ফেস ভ্যালুতে কিনে নেয়ার শর্তে কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু করা। এ ধরনের বাণিজ্যিক পত্র শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ কিনা?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কুপন বা ডিসকাউন্টিং কোনোটিই বৈধ নয়। কাজেই ইসলামী ব্যাংক এ ধরনের কমার্শিয়াল পেপারে বিনিয়োগ কিংবা কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু এজেন্ট এবং পেয়িং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
( সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Saturday, 26 October 2019
অদাবিকৃত আমানত কেন্দ্রীয় ব্যাংকেে প্রেরণ
বিষয় -১২৬ : ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ নীতিমালার আলোকে জনগণ থেকে ডিপোজিট সংগ্রহ করে থাকে। কোনো গ্রাহক কোনো নির্দিষ্ট হিসাবে দশ বছর লেনদেন না করলে তার প্রাপ্য অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রেরণ করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত জমা হিসাবের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রদান করা যাবে। তবে এরূপ বাধ্যবাধকতার বিষয়টি হিসাব খোলার আবেদনপত্র উল্লেখ করতে হবে।
(সূত্র : ২৪ জুন ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিকিউরিটি গার্ডদের জুমু'আর সালাত আদায়
বিষয় -১২৭ : ইসলামী শরী'আহতে জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব অত্যধিক। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডগণ একসঙ্গে জুমু'আর সালাতে গেলে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশম্কা থেকে যায়। অতএব এমন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডদের শুক্রবারের জুমু'আর সালাত আদায়ের বিধান কী ?
সিদ্ধাস্ত : কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডগণ পালাক্রমে শুক্রবার জুমু'আর সালাত আদায় করবেন। যারা জুমু'আর সালাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না তারা যথারীতি জোহরের সালাত আদায় করবেন।
(সূত্র : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত জমা হিসাবের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রদান করা যাবে। তবে এরূপ বাধ্যবাধকতার বিষয়টি হিসাব খোলার আবেদনপত্র উল্লেখ করতে হবে।
(সূত্র : ২৪ জুন ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিকিউরিটি গার্ডদের জুমু'আর সালাত আদায়
বিষয় -১২৭ : ইসলামী শরী'আহতে জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব অত্যধিক। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডগণ একসঙ্গে জুমু'আর সালাতে গেলে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশম্কা থেকে যায়। অতএব এমন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডদের শুক্রবারের জুমু'আর সালাত আদায়ের বিধান কী ?
সিদ্ধাস্ত : কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডগণ পালাক্রমে শুক্রবার জুমু'আর সালাত আদায় করবেন। যারা জুমু'আর সালাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না তারা যথারীতি জোহরের সালাত আদায় করবেন।
(সূত্র : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Wednesday, 23 October 2019
ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ
বিষয় -১২৫ : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ বৈধ হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া মহিলা গ্রাহকগণ মহিলা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন। সেহেতু একান্ত প্রয়োজনে বাস্তবজীবনে ইসলামের অনুসারী মহিলাদের কর্মসংস্হানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের দ্বার উন্মুক্ত থাকা উচিত।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন -মহিলা কর্মকর্তা ও মহিলা গ্রাহকদের জন্য শরী'আহসম্মতভাবে বসার জন্য ব্যবস্হা, বাথরুম/টয়লেট ইত্যাদি ব্যবস্হাকরণ সাপেক্ষে পর্দা তথা ইসলামী পরিবেশের ব্যবস্হা নিশ্চিত করে যেসব শাখায় মহিলা গ্রাহকের সংখ্যা বেশি এমন শাখাগুলোতে একাধিক মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দিয়ে মহিলা কাউন্টার বা মহিলা গ্রাহকদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। তবে পুরুষ সহকর্মী ও পুরুষ গ্রাহকদের মাঝে দু -একজন মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দেয়া সমীচীন হবে না।
(সূত্র : ৮ এপ্রিল ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া মহিলা গ্রাহকগণ মহিলা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন। সেহেতু একান্ত প্রয়োজনে বাস্তবজীবনে ইসলামের অনুসারী মহিলাদের কর্মসংস্হানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের দ্বার উন্মুক্ত থাকা উচিত।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন -মহিলা কর্মকর্তা ও মহিলা গ্রাহকদের জন্য শরী'আহসম্মতভাবে বসার জন্য ব্যবস্হা, বাথরুম/টয়লেট ইত্যাদি ব্যবস্হাকরণ সাপেক্ষে পর্দা তথা ইসলামী পরিবেশের ব্যবস্হা নিশ্চিত করে যেসব শাখায় মহিলা গ্রাহকের সংখ্যা বেশি এমন শাখাগুলোতে একাধিক মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দিয়ে মহিলা কাউন্টার বা মহিলা গ্রাহকদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। তবে পুরুষ সহকর্মী ও পুরুষ গ্রাহকদের মাঝে দু -একজন মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দেয়া সমীচীন হবে না।
(সূত্র : ৮ এপ্রিল ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রামের ব্যবহার
বিষয় -১২৪ - : ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন কাগজপত্র, ফরম ও প্রকাশনায় আল কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণত যেসব প্রকাশনা ও প্রচারপত্র মাত্র একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দেয়া হয় তাতে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে লিফলেট ও ইনভেলাপে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার না করা উচিত।
(সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
সিদ্ধান্ত : সাধারণত যেসব প্রকাশনা ও প্রচারপত্র মাত্র একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দেয়া হয় তাতে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে লিফলেট ও ইনভেলাপে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার না করা উচিত।
(সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
Tuesday, 22 October 2019
বিবিধ
ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে সুদভিত্তিক বন্ড ক্রয় -বিক্রয়
বিষয় -১২২ : ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে সুদভিত্তিক ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ক্রয় -বিক্রয় করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড যেহেতু সুদের সাথে সরাসরি জড়িত তাই বাধ্যবাধকতা না থাকলে ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে বিক্রয় করা বৈধ হবে না। তবে বাধ্যবাধকতার (obligatory) ক্ষেত্রে বিক্রয়লব্ধ আয় সন্দেহজনক আয়ের মধ্যে গণ্য হবে।
(সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৩ : ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে প্রাইজ বন্ড ক্রয় -বিক্রয় করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংক শরী'আহ মোতাবেক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাংপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া ও সুদি লেনদেনে সহযোগিতা করা হবে -এ আশম্কা থাকার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃত ইস্যুকৃত প্রাইজ বন্ড ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে ক্রয় -বিক্রয় করা বৈধ হবে না।
কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
'আর সৎকর্ম ও তাক্বওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যের সহযোগিতা করো । পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরস্পরে সহায়তা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা'।
( আল মায়িদাহ : আয়াত -২)
'হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ,জুয়া,প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ শয়তানের কাজ। অতএব তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও'।
(সূরা আল মায়িদাহ : আয়াত -৯০)
(সূত্র : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -১২২ : ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে সুদভিত্তিক ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ক্রয় -বিক্রয় করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড যেহেতু সুদের সাথে সরাসরি জড়িত তাই বাধ্যবাধকতা না থাকলে ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে বিক্রয় করা বৈধ হবে না। তবে বাধ্যবাধকতার (obligatory) ক্ষেত্রে বিক্রয়লব্ধ আয় সন্দেহজনক আয়ের মধ্যে গণ্য হবে।
(সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৩ : ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে প্রাইজ বন্ড ক্রয় -বিক্রয় করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংক শরী'আহ মোতাবেক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাংপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া ও সুদি লেনদেনে সহযোগিতা করা হবে -এ আশম্কা থাকার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃত ইস্যুকৃত প্রাইজ বন্ড ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে ক্রয় -বিক্রয় করা বৈধ হবে না।
কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
'আর সৎকর্ম ও তাক্বওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যের সহযোগিতা করো । পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরস্পরে সহায়তা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা'।
( আল মায়িদাহ : আয়াত -২)
'হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ,জুয়া,প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ শয়তানের কাজ। অতএব তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও'।
(সূরা আল মায়িদাহ : আয়াত -৯০)
(সূত্র : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Monday, 21 October 2019
বৈদেশিক বাণিজ্যে এফএক্স ফরোয়ার্ড
বিষয় -১২১ : বৈদেশিক বাণিজ্যে এফএক্স ফরোয়ার্ড বা ভবিষ্যতে লেনদেনের উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রিম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক শরী'আহসম্মত কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে ?
সিদ্ধান্ত : বৈদেশিক বাণিজ্যে এফএক্স ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো শরী'আহসম্মত নিম্নোক্ত দুটি বিকল্পের যেকোনো একটি অনুশীলন করতে পারে :
প্রথম বিকল্প : এফএক্স ফরোয়ার্ড বা ভবিষ্যতে লেনদেনের উদ্দেশ্যে প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রার আনুমানিক হার (anticipated rate) নির্ধারণপূর্বক ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পাদিত হবে এবং পরবর্তীকালে মুদ্রা লেনদেনের দিন পূর্বোক্ত আনুমানিক হারের সাথে লেনদেনের দিনের হারকে গড় করে চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে :
ক . শুরুতে মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে একটি 'ওয়াদ বিল বাই' সম্পাদিত হবে, যা পরিপালন করা উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হবে ।
খ . 'ওয়াদ' পর্যায়ে মুদ্রা লেনদেনের একটি আনুমানিক (anticipated) বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে এবং লেনদেনের দিন উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে।
গ . আনুমানিক হার (anticipated rate) এবং লেনদেন দিবসে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর (spot rate) গড় করে ঐ দিনের মুদ্রা লেনদেনের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে এবং এ সময় ইয়াদান বি ইয়াদিন -এর শর্ত পূরণ করে উভয় মুদ্রা নগদে হস্তান্তর সস্পন্ন করতে হবে।
ঘ . মূল লেনদেনের সময় কোনো রকমের অজ্ঞতা, অনিশ্চয়তা ফটকাবাজারি এরং শরী'আহ নিষিদ্ধ কোনো উপাদান থাকতে পারবে না।
দ্বিতীয় বিকল্প : এ ক্ষেত্রে প্রথম বিকল্প প্রস্তাবনার গ নং শর্তটি অর্থাৎ 'লেনদেন দিবসে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর (spot rate) ও আনুমানিক হার গড় করে ঐ দিনের মুদ্রা লেনদেনের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে' এর স্হলে 'লেনদেন দিবসের স্পট রেট যার অনুকূলে যাবে সে পক্ষ অপর পক্ষকে তার লাভ হতে শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত প্রদান করবে বা ছাড় দেবে ' সর্তটি প্রতিস্হাপিত হবে এবং নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে :
ক . গ্রাহক তার বৈদেশিক মুদ্রার ওঠা -নামায় উদ্ভূত প্রকৃত ঝুঁকি মোকাবেলায় 'ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করবে।
খ . গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংক আনুমানিক হারে 'ফরওয়ার্ড বুকিং করবে এবং নির্দিষ্ট তারিখে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের চুক্তি করবে।
গ . চুক্তি অনুযায়ী ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মুদ্রা সরবরাহের তারিখে ( forward maturity date) সংল্শিষ্ট মুদ্রার বাজারদরের (spot rate) সাথে আনুমানিক 'ফরওয়ার্ড বুকিং হারের তারতম্য হলে, যেকোনো একপক্ষ (ব্যাংক বা গ্রাহক) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশম্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে অপর পক্ষ তার লাভ থেকে চুক্তি অনুযায়ী শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ শেয়ার করবে।
ঘ . লাভ -লোকসান ভাগ করার ফলে,লেনদেন তারিখে উভয়পক্ষ তাদের চুক্তিভুক্ত লেনদেন সম্পাদনের জন্য একটি নতুন হার (adjusted rate) এ উপনীত হবে এবং হাতে হাতে লেনদেন সম্পন্ন হয়ে ফরওয়ার্ড হিসাব (forward deal) বন্ধ হবে।
ঙ . ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে ফরওয়ার্ড লেনদেনের নির্দিষ্ট অংশ অন্যত্র ফরওয়ার্ডের ভিত্তিতে কভারেজ রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার রফতানিকারক, রেমিটার অথবা অন্য কোনো ব্যাংকের সাথে ক,খ,গ ও ঘ নং দফায় বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী একইভাবে লেনদেন সম্পাদন করবে।
চ. বাস্তব প্রয়োজন ছাড়া ফটকা ব্যবসার জন্য কোনো ফরোয়ার্ড সরফ করা যাবে না।
ছ . চুক্তির মেয়াদের মধ্যে কোনো পক্ষই চুক্তি বাতিল করতে পারবে না।
(সূত্র : ৭ এপ্রিল ২০১১ ও ২৫ জুন, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৬২তম ও ১৭৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
সিদ্ধান্ত : বৈদেশিক বাণিজ্যে এফএক্স ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো শরী'আহসম্মত নিম্নোক্ত দুটি বিকল্পের যেকোনো একটি অনুশীলন করতে পারে :
প্রথম বিকল্প : এফএক্স ফরোয়ার্ড বা ভবিষ্যতে লেনদেনের উদ্দেশ্যে প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রার আনুমানিক হার (anticipated rate) নির্ধারণপূর্বক ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পাদিত হবে এবং পরবর্তীকালে মুদ্রা লেনদেনের দিন পূর্বোক্ত আনুমানিক হারের সাথে লেনদেনের দিনের হারকে গড় করে চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে :
ক . শুরুতে মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে একটি 'ওয়াদ বিল বাই' সম্পাদিত হবে, যা পরিপালন করা উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হবে ।
খ . 'ওয়াদ' পর্যায়ে মুদ্রা লেনদেনের একটি আনুমানিক (anticipated) বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে এবং লেনদেনের দিন উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে।
গ . আনুমানিক হার (anticipated rate) এবং লেনদেন দিবসে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর (spot rate) গড় করে ঐ দিনের মুদ্রা লেনদেনের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে এবং এ সময় ইয়াদান বি ইয়াদিন -এর শর্ত পূরণ করে উভয় মুদ্রা নগদে হস্তান্তর সস্পন্ন করতে হবে।
ঘ . মূল লেনদেনের সময় কোনো রকমের অজ্ঞতা, অনিশ্চয়তা ফটকাবাজারি এরং শরী'আহ নিষিদ্ধ কোনো উপাদান থাকতে পারবে না।
দ্বিতীয় বিকল্প : এ ক্ষেত্রে প্রথম বিকল্প প্রস্তাবনার গ নং শর্তটি অর্থাৎ 'লেনদেন দিবসে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর (spot rate) ও আনুমানিক হার গড় করে ঐ দিনের মুদ্রা লেনদেনের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে' এর স্হলে 'লেনদেন দিবসের স্পট রেট যার অনুকূলে যাবে সে পক্ষ অপর পক্ষকে তার লাভ হতে শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত প্রদান করবে বা ছাড় দেবে ' সর্তটি প্রতিস্হাপিত হবে এবং নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে :
ক . গ্রাহক তার বৈদেশিক মুদ্রার ওঠা -নামায় উদ্ভূত প্রকৃত ঝুঁকি মোকাবেলায় 'ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করবে।
খ . গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংক আনুমানিক হারে 'ফরওয়ার্ড বুকিং করবে এবং নির্দিষ্ট তারিখে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের চুক্তি করবে।
গ . চুক্তি অনুযায়ী ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মুদ্রা সরবরাহের তারিখে ( forward maturity date) সংল্শিষ্ট মুদ্রার বাজারদরের (spot rate) সাথে আনুমানিক 'ফরওয়ার্ড বুকিং হারের তারতম্য হলে, যেকোনো একপক্ষ (ব্যাংক বা গ্রাহক) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশম্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে অপর পক্ষ তার লাভ থেকে চুক্তি অনুযায়ী শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ শেয়ার করবে।
ঘ . লাভ -লোকসান ভাগ করার ফলে,লেনদেন তারিখে উভয়পক্ষ তাদের চুক্তিভুক্ত লেনদেন সম্পাদনের জন্য একটি নতুন হার (adjusted rate) এ উপনীত হবে এবং হাতে হাতে লেনদেন সম্পন্ন হয়ে ফরওয়ার্ড হিসাব (forward deal) বন্ধ হবে।
ঙ . ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে ফরওয়ার্ড লেনদেনের নির্দিষ্ট অংশ অন্যত্র ফরওয়ার্ডের ভিত্তিতে কভারেজ রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার রফতানিকারক, রেমিটার অথবা অন্য কোনো ব্যাংকের সাথে ক,খ,গ ও ঘ নং দফায় বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী একইভাবে লেনদেন সম্পাদন করবে।
চ. বাস্তব প্রয়োজন ছাড়া ফটকা ব্যবসার জন্য কোনো ফরোয়ার্ড সরফ করা যাবে না।
ছ . চুক্তির মেয়াদের মধ্যে কোনো পক্ষই চুক্তি বাতিল করতে পারবে না।
(সূত্র : ৭ এপ্রিল ২০১১ ও ২৫ জুন, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৬২তম ও ১৭৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
বৈদেশিক -বাণিজ্য
আমদানি বাণিজ্য বাই'মুরাবাহা
বিষয় -১১৯ :বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা বৈধ কি না এবং ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলনের নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা জায়েয, তবে শর্ত হলো লেনদেন নগদ এবং হাতে হাতে সম্পন্ন হতে হবে। কোনোমতেই বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রিম কেনাবেচা করা যাবে না। সময়ের পার্থক্য এ ক্ষেত্রে জায়েয নেই। অপর পক্ষে , একই দেশের মুদ্রার বিনিময়ে মূল্য কমবেশি হওয়া শরী'আহ পরিপন্হী । ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহার সাধারণ নীতিসমূহ প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রোফরমা ইনভয়েসের ভিত্তিতে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। গ্রাহকের সাথে চুক্তির সময় এ সকল বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
( সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২০ : বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক কীভাবে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে? এ ক্ষেত্রে পণ্য হস্তগত হওয়ার পর ব্যাংক তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে পারে কি না ?
সিদ্ধান্ত :মুরাবাহা চুক্তির অধীনে পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী গ্রাহকের কাছে সর্বপ্রথম মুরাবাহা পদ্ধতির যাবতীয় নিয়মাবলি তুলে ধরতে হবে। গ্রাহক ব্যাংকের নীতিমালা মানতে রাজি হলে তার কাছ থেকে এ মর্মে ওয়াদা নিতে হবে যে, তার পক্ষ হয়ে ব্যাংক যে পণ্য আমদানি করবে তিনি (গ্রাহক) তা ব্যাংকের কাছ থেকে চুক্তিকৃত মূল্যে ক্রয় করবেন। এলসির অধীনে মুরাবাহা চুক্তিতে পণ্য আমদানি করা হলে প্রকৃত আমদানিকারক কত সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নেবেন বা পণ্যের মূল্য প্রদান করবেন তার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে মুনাফা আদায় করা যেতে পারে। তবে একবার এই হার নির্ধারিত হয়ে গেলে তা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। আমদানিকারক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নিতে বা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে চুক্তি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে এবং সে ক্ষেত্রে ব্যাংক জামানত বাজেয়াপ্ত ও আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয়সহ আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করতে পারে। জামানত ও পণ্যের বিক্রয়মূল্য যদি ব্যাংকের পাওনা মেটানোর জন্য যথেষ্ট না হয় তবে চুক্তিতে থাকলে পাওনার অবশিষ্টাংশ আদায়ের জন্য ব্যাংক আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
আমদানিকৃত পণ্য শিপমেন্ট হলে এবং সংল্শিষ্ট কাগজপত্র ব্যাংকে এসে পৌঁছলে আমদানিকারক কর্তৃক উক্ত পণ্য বিক্রয় করা জায়েয। কিন্তু পণ্যের ক্ববদ সম্পন্ন হওয়ার আগে পরবর্তী ক্রেতা কর্তৃক কারো কাছে উক্ত পণ্য বিক্রয় করতে পারবে না।
(সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী' আহ কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
বিষয় -১১৯ :বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা বৈধ কি না এবং ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলনের নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা জায়েয, তবে শর্ত হলো লেনদেন নগদ এবং হাতে হাতে সম্পন্ন হতে হবে। কোনোমতেই বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রিম কেনাবেচা করা যাবে না। সময়ের পার্থক্য এ ক্ষেত্রে জায়েয নেই। অপর পক্ষে , একই দেশের মুদ্রার বিনিময়ে মূল্য কমবেশি হওয়া শরী'আহ পরিপন্হী । ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহার সাধারণ নীতিসমূহ প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রোফরমা ইনভয়েসের ভিত্তিতে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। গ্রাহকের সাথে চুক্তির সময় এ সকল বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
( সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২০ : বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক কীভাবে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে? এ ক্ষেত্রে পণ্য হস্তগত হওয়ার পর ব্যাংক তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে পারে কি না ?
সিদ্ধান্ত :মুরাবাহা চুক্তির অধীনে পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী গ্রাহকের কাছে সর্বপ্রথম মুরাবাহা পদ্ধতির যাবতীয় নিয়মাবলি তুলে ধরতে হবে। গ্রাহক ব্যাংকের নীতিমালা মানতে রাজি হলে তার কাছ থেকে এ মর্মে ওয়াদা নিতে হবে যে, তার পক্ষ হয়ে ব্যাংক যে পণ্য আমদানি করবে তিনি (গ্রাহক) তা ব্যাংকের কাছ থেকে চুক্তিকৃত মূল্যে ক্রয় করবেন। এলসির অধীনে মুরাবাহা চুক্তিতে পণ্য আমদানি করা হলে প্রকৃত আমদানিকারক কত সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নেবেন বা পণ্যের মূল্য প্রদান করবেন তার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে মুনাফা আদায় করা যেতে পারে। তবে একবার এই হার নির্ধারিত হয়ে গেলে তা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। আমদানিকারক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নিতে বা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে চুক্তি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে এবং সে ক্ষেত্রে ব্যাংক জামানত বাজেয়াপ্ত ও আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয়সহ আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করতে পারে। জামানত ও পণ্যের বিক্রয়মূল্য যদি ব্যাংকের পাওনা মেটানোর জন্য যথেষ্ট না হয় তবে চুক্তিতে থাকলে পাওনার অবশিষ্টাংশ আদায়ের জন্য ব্যাংক আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
আমদানিকৃত পণ্য শিপমেন্ট হলে এবং সংল্শিষ্ট কাগজপত্র ব্যাংকে এসে পৌঁছলে আমদানিকারক কর্তৃক উক্ত পণ্য বিক্রয় করা জায়েয। কিন্তু পণ্যের ক্ববদ সম্পন্ন হওয়ার আগে পরবর্তী ক্রেতা কর্তৃক কারো কাছে উক্ত পণ্য বিক্রয় করতে পারবে না।
(সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী' আহ কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
Sunday, 20 October 2019
বীমা
বিষয় -১১৮ : ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বর্তমান থাকা অবস্হায় ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রচলিত (conventional) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পলিসি গ্রহণ করা জায়েয কি ?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী বর্তমান থাকা অবস্হায় ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রচলিত (conventional) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পলিসি গ্রহণ করা জায়েয নয়। সুতরাং ব্যাংকের পরিপূর্ণ ইসলামীকরণের লক্ষ্যে প্রচলিত ইন্স্যুরেন্সের পরিবর্তে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পলিসি গ্রহণ করা উচিত।
( সূত্র : ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠত শরী' আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী বর্তমান থাকা অবস্হায় ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রচলিত (conventional) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পলিসি গ্রহণ করা জায়েয নয়। সুতরাং ব্যাংকের পরিপূর্ণ ইসলামীকরণের লক্ষ্যে প্রচলিত ইন্স্যুরেন্সের পরিবর্তে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পলিসি গ্রহণ করা উচিত।
( সূত্র : ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠত শরী' আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Tuesday, 15 October 2019
যাকাত
বিষয় -১০৯ : ইসলামী ব্যাংকের কোন কোন সম্পদ বা তহবিলের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে ?
সিদ্ধান্ত : জর্দান ইসলামী ব্যাংক,বাহরাইন ইসলামী ব্যাংক ও কুয়েত ফিন্যান্স হাউজসহ দেশি -বিদেশি বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক অনুসৃত কর্মপন্হা পর্যালোচনা করে ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল নিম্নোক্ত তহবিল ও মুনাফার ওপর যাকাত প্রদানের সিদ্ধান্ত দেয়:
ক . বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি (statutory Reserve)
খ . বিনিয়োগ ক্ষতি সমন্বয় তহবিল (Investment Loss Off -setting Reserve)
গ . শেয়ার প্রিমিয়াম (Share Premium)।
ঘ . সাধারণ সঞ্চিতি ( General Reserve)।
ঙ . বিনিময় সমতাকরণ হিসাব (Exchange Equalization A/C)।
শেয়ারহোল্ডারগণকে তাদের শেয়ারের মূল্য ও
লভ্যাংশের ওপর যাকাত দিতে হবে। উক্ত যাকাতের টাকা ব্যাংকের সাদাকাহ তহবিল দান করার জন্য শেয়ারহোল্ডারগণের কাছে আবেদন করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে জমাকারীগণের কাছেও আবেদন করা যেতে পারে।
(সূত্র : ১০ এপ্রিল ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯ম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১০ : আইনগত সত্তা (Iegal entity) হিসেবে ইসলামী ব্যাংক,কোনো কোম্পানি,সংস্হা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ওপরও যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক কি না ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের কাছে রক্ষিত বিভিন্ন প্রকার রিজার্ভ ও প্রভিশন যদি 'নিসাব' পরিমাণ হয়, তাহলে প্রতি চান্দ্রবর্ষের ওপর ২.৫০% হারে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তবে শর্ত হলো
'মুছাহিমুন' বা শেয়ারহোল্ডারগণ, যারা প্রকৃতপক্ষে এসব সম্পদের মালিক, তাদের কাছ থেকে ব্যাংক বা সংল্শিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পদের যাকাত প্রদানের অনুমতি নিয়ে রাখবে।
১৯৮৪ সালের ৩০ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত 'যাকাত' -বিষয়ক প্রথম কনফারেন্স সকল পাবলিক, প্রাইভেট লিমিটেড ও যৌথ মূলধনী বৃহদায়তন কারবার প্রতিষ্ঠান বা তোম্পানিকে সর্বসম্মতিক্রমে আইনগত সত্তা ( Isgal entity) -রূপে চিহ্নিত করা হয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রিজার্ভ ও প্রভিশনের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে বলে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। সাধারণত 'মুকাল্লাফ বিয -যাকাত' বা যাকাতের হুকুম যার ওপর প্রযোজ্য এমন ব্যক্তির সম্পদের 'যাকাত দেয়া ওয়াজিব'। অনুরূপভাবে ক্ষেত্রবিশেষে 'গায়রে 'মুকাল্লাফ বিয -যাকাত বা যাকাতের হুকুম যার ওপর প্রযোজ্য নয় এমন প্রতিশ্ঠান, সংস্হা বা কোম্পানির নিজস্ব তহবিলের ওপর আইনগত সত্তা হিসেবে শরী'আহ মোতাবেক অলি বা অভিভাবকরূপ প্রতিষ্ঠানের মালিকগণের পক্ষ থেকে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
নিম্নে বর্ণিত অবস্হা পাওয়া গেলে লিমিটেড কোম্পানিগুলো কৃত্রিম ব্যক্তিরূপে গণ্য হবে এবং
যথানিয়মে যাকাত প্রদান করতে হবে :
ক . যাকাত প্রদানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বিধান থাকলে।
খ . প্রতিষ্ঠানের মূল গঠনতন্ত্রে ( মেমোরেন্ডাম ও আর্টিক্যালস অব অ্যাসোসিয়েশন) যাকাত প্রদানের আইনগত কোনো ধারার উল্লেখ থাকলে।
গ . বার্ষিক সাধারণ সভায় এ মর্মে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে।
ঘ . মুছাহিমুন বা শেয়ারহোল্ডারগণ ব্যক্তিগতভাবে এ ব্যাপারে সম্মতি দিলে।
সুতর্ং কোনো ইসলামী ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনে যাকাত প্রদান সংক্রান্ত কোনো ধারা বিদ্যমান থকলে সে ইসলামী ব্যাংককে আইনগত সত্তা হিসেবে অবশ্যই যাকাত
প্রদান করতে হবে।
(সূত্র : ২৬ জুন ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১১ : যাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে সম্পদের প্রারম্ভিক স্হিতি (opening balance) ,সমাপনী স্হিতি (closing balance) ও গড় স্হিতি (average balance) -এর মধ্যে কোনটি ধর্তব্য হবে?
সিদ্ধান্ত : যাকাত সমাপনী স্হিতির (closing balance) ওপরই নির্ধারণ করতে হবে।
( সূত্র: ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১২ : ইসলামী ব্যাংকের যাকাত বাবদ আদায়কৃত অর্থ এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সংশয়পূর্ণ আয় কোন কোন খাতে ব্যয় -ব্যবহার করা যাবে?
সিদ্ধান্ত : আল্লাহ তা'আলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি খাত সুনির্দিষ্টভাবে মহাগ্রন্হ আল কুরআনে বর্ণনা করেছেন। এগুলো হচ্ছে : ১. ফকির ২
মিসকিন ৩. যাকাতবিষয়ক কাজে নিয়োজিত কর্মচারী ৪ .যাদের মন সন্তুষ্ট করা প্রয়োজন ৫ . ফির -রিকাব (দাস মুক্তি) ৬ . আল গারিমিন (ঋণগ্রস্ত লোকজন) ৭ . ফি সাবিলিল্লাহ ( আল্লাহর পথে) ৮ . ইবনুস সাবিল (নিঃস্ব পথিক)।
পক্ষান্তরে সংশয়পূর্ণ অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে শরী'আহর নীতিগত দৃষ্ঠিভঙ্গি হচ্ছে আলোচ্য
সন্দেহজনক অর্থ যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক/সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়া যায় এবং কোনো বাধ্যতামূলক উপায়ে সংল্শিষ্ট উৎসকে তা ফেরত দেয়া সম্ভব হয়, তবে তা সংল্শিষ্ট আয়ের বিপরীতে ইনকাম ট্যাক্স কিংবা সিভিল ট্যাক্স ইত্যাদি বাবদ পুনরায় উক্ত তহবিলে পৌঁছে দেয়াই বাঞ্ছনীয়। যাতে যেখানকার অর্থ সেখানে আবার চলে যেথে পারে। ট্যাক্স পরিশোধের পরও যদি কিছু অর্থ অবশিষ্ট থেকে যায় তবে তা চক্ষুশিবির খোলা, দাতব্য চিকিৎসালয় স্হাপন, বন্যাদুর্গতদের সাহায্য প্রদান, সড়ক কিংবা পুল নির্মাণ, সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা অথবা এমন দালান নির্মাণের কাজে লাগানো যা সর্বসাধারণের ব্যবহারোপযোগী করে দেয়া হয় ইত্যাদি কাজে লাগানো যেতে পারে।
সংশয়পূর্ণ অর্থ ব্যাংকের হাতে পড়লে কেবল দায়িত্ব মুক্তির প্রত্যাশায় সাধারণ জনকল্যাণমূলক কাজে যেমন গণশৌচাগার নির্মাণ, ফকির, মিসকিন,ইয়াতিম ও অসাহায় -অনাথদের বিবাহ ও চিকিৎসার খরচ, নদীভাঙা, বাস্তুহারা, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসন ইত্যাদি কাজে ব্যয় ও ব্যবহার করা যেতে পারে।
(সূত্র : ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩৫শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ১১৩ : নিম্নোক্ত খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরী'আহসম্মত কি না?
ক . আয়বর্ধনমূলক কার্যক্ররমের আওতায় দরিদ্র লোকদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা, গাভী পালন, হাঁস -মুরগী পালন, সেলাই মেশিন প্রদান, রিকশা প্রদান ইত্যাদি ।
খ . শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় আদর্শ ফোরকানিয়া মক্তব, মডেল মাদরাসা, দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র -ছাত্রীদের জস্য শিক্ষাবৃত্তি ও এককালীন আর্থিক সহায়তা দান ইত্যাদি।
গ . মহিলাদেরকে শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে মহিলা মাদরাসা কার্যক্রম পরিচালনা।
ঘ . গরিব ছাত্র -ছাত্রীদেরকে যাকাতের অর্থ দিয়ে
শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা।
ঙ . আর্দশ ফোরকানিয়া মক্তব পরিচালনা।
চ . কুরআনিক ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট -এর মাধ্যমে মানুষকে সহিহভাবে অর্থসহ কুরআন বুঝতে সহায়তা করা।
ছ . নার্সিং ইনস্টিটিউট -এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কে নার্সিং পেশার মতো একটি মানব সেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা।
জ . মহিলা পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, এতিম ও অসহায় মহিলাদের পুনর্বাসন , সেলাই প্রশিক্ষণ, ফাস্টফুড তৈরি প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা।
ঝ . বস্তিবাসী শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষা ও স্বাস্হ্যেন্নয়নে বস্তির উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করা।
ঞ . দাতব্য চিকিৎসালয়ের মাধ্যমে গরিব ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা।
ট . হোমিওপ্যাথি ক্লিনিক পরিচালনার মাধ্যমে গরিব ও অসহায় রোগীদের স্বল্পখরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
ঠ . কম খরচে চক্ষু চিকিৎসা প্রকল্পের মাধ্যমে
দরিদ্র রোগীদের স্বল্পখরচে/বিনাখরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
ড . দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের কে খরচে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে খাতনা করানো।
ঢ . গ্রামের দরিদ্র মহিলাদেরকে ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা এবং প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা।
ণ . দাওয়াহ কাজের সহায়ক জাতীয় ও ইসলামী সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা ।
সিদ্ধান্ত : উক্ত কার্যক্রমসমূহ পবিত্র কুরআনের
সূরা আত তাওবার ৬০ নং আয়াতে বর্ণিত ৮টি খাত (যথা : ১। ফকির, ২। মিসকিন,৩। যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী, ৪। মুয়াল্লাফাতুল কুলুব, ৫। দাসমুক্তি,৬। ঋণগ্রস্ত, ৭। ফি সাবিলিল্লাহ ও ৮। মুসাফির) এর মধ্য হতে নিম্নোক্ত তিনটি খাতের আওতাভুক্ত :
ক . ফকির
খ. মিসকিন এবং
গ . ফি সাবিলিল্লাহ ( আল্লাহর পথে) ।
উপরিউক্ত কার্যক্রমসসমূহ পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত ৩টি খাত ( ফকির, মিসকিন ও ফি সাবিলিল্লাহ) এর আওতাভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে
বিশ্বের বরেণ্য উলামায়ে কেরাম, ফকিহ, আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ ও গবেষণা সংস্হার
মতামত রয়েছে।
(সূত্র : ২৭ জানুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬০তম
অঅধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৪ : যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্হাপনায়
নিয়োজিত কোনো প্রতিষ্ঠান সংগৃহীত যাকাত তহবিল থেকে কাউকে ধার বা বিনিয়োগ দিতে পারবে কি?
সিদ্ধান্ত : যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্হাপনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি দেয়ার শর্তে
যাকাতের অর্থ শুধু ( যাকাতের হকদারদেরকেই
ক্বরদ বা বিনিয়োগ সুবিধা হিসেবে প্রদান করা যাবে। তবে এক বৎসরের বেশি সময়ের জন্য যাকাতের অর্থ ক্বরদ প্রদান বা বিনিয়োগ করা বাঞ্ছনীয় নয়। কিন্তু গ্যারান্টি প্রদান না করলে যাকাতের অর্থের ক্বরদ প্রদান বা বিনিয়োগ করা
যাবে না।
( সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৫ : কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের শরী'আহ অনুমোদিত শেয়ার থেকে অর্জিত লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড বাবদ প্রাপ্ত আয়ের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের ডিভিডেন্ড আয় ওয়াকফ সম্পদের অন্তর্ভূক্ত যা ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকানার আওতাবহির্ভূত,
সেহেতু উক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর কোনো যাকাত দিতেহবে না। কেননা শরী'আহর দৃষ্টিতে ওয়াকফকৃত সম্পদ যাকাতযোগ্য নয়।
(সূত্র : ৩১ জুলাই ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১১৬ : চান্দ্রবর্ষের চেয়ে সৌরবর্ষ ১১ -১২ দিন বেশি হয়ে থাকে। ইসলামী শরী'আহর নিয়মানুযায়ী যাকাত চান্দ্রবর্ষ অনুযায়ী আদায় করার বিধান থাকলেও কোথাও কোথাও ব্যাংকিং
কার্যক্রম সৌরবর্ষ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে থাকে। এমতাবস্হায় ইসলামী ব্যাংক সৌরবর্ষ নাকি চান্দ্রবর্ষের ভিক্তিতে যাকাত হিসাব করবে ?
সিদ্ধান্ত : আল -কুরআনের সূরা আল -বাক্বারার ১৮৯,সূরা ইয়াসিন এর ৩৯ ও সূরা ইউনুস এর ৫ নং আয়াত বিশ্লেষণপূর্বক এবং আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার 'রিসালাতুল হিলাল' গ্রন্হে প্রদত্ত শর'ঈ বিধান ও আধুনিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত ফাতাওয়া গ্রন্হ যেমন -আল -ফাতওয়া আশ -শারী'আহ, 'ফাতহুয যাকাত' এবং 'আল -ইকতিসাদুল ইসলামীতে '
যাকাতবর্ষ সম্পর্কিত প্রদত্ত ফতওয়া ও দেশ -বিদেশের বিভিন্ন ফকিহ ও শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের মতামত বিস্তারিত আলোচনান্তে উক্ত বিষয়ে নিম্নেরূপ মতামত ব্যক্ত করা হয় :
ক . সকল প্রকার দলিল -প্রমাণের ভিত্তিতে যাকাতের হিসাব বর্ণরূপে চান্দ্রবর্ষই ধর্তব্য হবে।
খ . ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকাল হতে চান্দ্রবছর হিসেবে যাকাত প্রদেয় হবে।
গ . ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেহেতু সৌরবর্ষ অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে, সেহেতু অতিরিক্ত ১১/১২ দিন চান্দ্রবর্ষের সাথে যোগ করে ২.৫৮% (প্রায়) হারে যাতাত প্রদান করতে হবে।
ঘ . যাকাতযোগ্য বিভিন্ন রিজার্ভ খাতসমূহের অর্থ যদি বিনিয়োগ হিসাবে দেখানো হয় এবং বিনিয়োগলব্ধ আয়সমূহ সংল্শিষ্ট রিজার্ভ ফান্ডের আয় হিসাবে প্রদর্শিত হয়, তাহলে উক্ত আয়কে যাকাতযোগ্য খাতসমূহের আনুষঙ্গিক আয় হিসেবে বিবেচনায় এনে রিজার্ভের অর্থের সাথে উক্ত আয়সমূহেরও যাকাত প্রদান করতে হবে।
ঙ . লভ্যাংশ সমতাকরণ রিজার্ভ যেহেতু স্হায়ী পদ্ধতির ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অন্তর্ভূক্ত রিজার্ভ, সেহেতু উক্ত রিজার্ভের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের জমাকারীগণ যারা বিভিন্ন হিসেবে টাকা জমা রাখেন তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, ইসলামী ব্যাংক নিজ দায়িত্বে তাদের হিসাবে জমাকৃত অর্থের ওপর তাদের পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করে থাকে। অথচ প্রকৃতপক্ষে জমাকারীদের পক্ষ থেকে ব্যাংক কোনো প্রকার যাকাত আদায় করে না। এরূপ সন্দেহ নিরসনকল্পে হিসাব খোলার ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে জমাকারীগণ কর্তৃক জমাকৃত অর্থ যাকাতের নিসাব পরিমান হলেও ব্যাংক তার যাকাত পরিশোধ করে না, বরং জমাকারীকেই উক্ত অর্থের যাকাত পরিশোধ করতে হবে।
(সূত্র : ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৭ : ইসলামী ব্যাংকের জনৈক শেয়ারহোল্ডার ব্যাংক বরাবর প্রেরিত এক পত্রে
ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ডিপোজিটরদের কাছ থেকে তাদের যাকাতের প্রদেয় অর্থ কেটে রেখে একটি তহবিল গড়ে তুলে তা থেকে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করার প্রস্তাব করেন। পত্রে তিনি ঋণগ্রস্ত বিনিয়োগ গ্রহীতাদের
ঋণ পরিশোধের স্বার্থে নিম্নোক্ত প্রস্তাব পেশ করেন :
ক . শেয়ারের লভ্যাংশ ১৫%-২০%-২৫% হারে ঘোষণা না করে ১৭.৫%-২২.৫%-২৭.৫% হারে ঘোষণা করা এরং প্রতি বছর প্রতি শেয়ারের বিপরীতে যাকাত বাবদ ২.৫% হারে লভ্যাংশ থেকে কেটে রাখা।
খ . ডিপোজিটরগণের জন্য পৃথক 'মুদারাবা যাকাত জমা হিসাব' খোলা। অন্যান্য হিসাব থেকে ২.৫% লাভ অতিরিক্ত প্রদান করে লভ্যাংশ থেকে ২.৫% যাকাত আদায় পূর্বক উক্ত হিসাবে স্হানান্তর করা।
গ . ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের জন্য নীতিমালা প্রনয়ন করা।
উল্লিখিত প্রস্তাবিত বিষয়গুলো শরী'আহসম্মত কিি না?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত শেয়ারহোল্ডারের প্রস্তাবগুলো নিম্নলিখিত কারণে গ্রহণযোগ্য নয় :
ক . শেয়ারহোল্ডারগণের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে সেখান থেকেে যাকাতের টাকা কেটে রাখা বৈধ হবে না। কারণ, যাকাত প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারের নিজস্ব সম্পদের হিসাবের ওপর নির্ভর করে। যে শেয়ারহোল্ডার থেকে যাকাত কেটে রাখা হবে তার অন্যান্য সম্পদ ও ঋণ হিসাব
করলে হতে পারে তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ হবে না। এমতাবস্হায়, যাকাত ফরয না হওয়া সত্ত্বেও তার থেকে যাকাত কেটে নিলে তার ওপর জুলুম হবে। অধিকন্তু তার থেকে যাকাত কেটে তা দিয়ে
খেলাপি গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করা হলে অনেক ক্ষেত্রে যাকাতের মূলনীতির পরিপন্হী কাজ সংঘটিত হবে। অর্থাৎ কারো ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে, যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই তার শেয়ার থেকে যাকাত কেটে নিয়ে তা কোনো নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ধনী খেলাপি গ্রাহককে দেয়া হবে। এটা হবে বড় ধরনের জুলুম। আবার একজন গরিব বক্তি থেকে যাকাতের নামে তার অর্থ দিয়ে অন্য ঋণগ্রস্ত গরিবকে প্রদান করা হলেও তা সঠিক হবে না ।
খ . মুদারাবা ডিপোজিটরদের ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি ব্যতিরেকে যাকাত কেটে রাখা ঠিক হবে না। অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই যে সংল্শিষ্ট ডিপোজিটরের ওপর যাকাত ফরয হবে তা বলা যায় না ।
গ . তবে কোনো শেয়ারহোল্ডার বা ডিপোজিটর যদি ব্যাংককে তার পক্ষে যাকাত প্রদানের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাহলে ব্যাংক তা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংল্শিষ্ট শেয়ারহোল্ডার বা ডিপোজিটর তার যাকাত হিসাব করার সময় ব্যাংকের শেয়ার ও ডিপোজিট স্বভাবতই তার হিসাবের বাইরে রাখবেন। শেয়ারহোল্ডার ও ডিপোজিটরদের অনুমতিসাপেক্ষে তাদের থেকে আদায়কৃত যাকাতের মাধ্যমে আলাদা তহবিল গঠন করা যেতে পারে তবে তা যাকাতের সকল খাতে ব্যয় করার সুযোগ থাকতে হবে।
ঘ . উক্ত তহবিল গঠন করে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করলে সমাজের অনেক নিঃস্ব ও অসহায় ব্যক্তি যারা যাকাত প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পান তাদের পরিবর্তে তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিরাও ক্ষেত্রবিশেষে যাকাতের সুবিধা পাবেন।
ঙ . এ ধরনের তহবিল গঠন করে খেলাপি ঋণ পরিশোধের ধারা চালু করা হলে ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে যা ব্যাংকের জন্য কল্যাণকর নয়।
চ . অধিকন্তু, শেয়ারহোল্ডার ও ডিপোজিটরদের কাছ থেকে যাকাত বাবদ টাকা কেটে নিয়ে তা দিয়ে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ মুক্ত করা ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব ও ইখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
সর্বোপরি, ব্যবসায়ে প্রকৃতই ক্ষতি হওয়ার কারণে খেলাপি হয়েছে এমন গ্রাহকদের সময় বাড়িয়ে দেয়া ও ক্ষেত্রবিশেষে ঋণ মওকুফ করার নীতি ব্যাংকে কার্যকর থাকে বিধায় এ উদ্দেশ্যে আলাদা যাকাত তহবিল গঠন করার প্রয়োজন নেই।
(সূত্র: ১৪ মার্চ ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : জর্দান ইসলামী ব্যাংক,বাহরাইন ইসলামী ব্যাংক ও কুয়েত ফিন্যান্স হাউজসহ দেশি -বিদেশি বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক অনুসৃত কর্মপন্হা পর্যালোচনা করে ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল নিম্নোক্ত তহবিল ও মুনাফার ওপর যাকাত প্রদানের সিদ্ধান্ত দেয়:
ক . বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি (statutory Reserve)
খ . বিনিয়োগ ক্ষতি সমন্বয় তহবিল (Investment Loss Off -setting Reserve)
গ . শেয়ার প্রিমিয়াম (Share Premium)।
ঘ . সাধারণ সঞ্চিতি ( General Reserve)।
ঙ . বিনিময় সমতাকরণ হিসাব (Exchange Equalization A/C)।
শেয়ারহোল্ডারগণকে তাদের শেয়ারের মূল্য ও
লভ্যাংশের ওপর যাকাত দিতে হবে। উক্ত যাকাতের টাকা ব্যাংকের সাদাকাহ তহবিল দান করার জন্য শেয়ারহোল্ডারগণের কাছে আবেদন করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে জমাকারীগণের কাছেও আবেদন করা যেতে পারে।
(সূত্র : ১০ এপ্রিল ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯ম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১০ : আইনগত সত্তা (Iegal entity) হিসেবে ইসলামী ব্যাংক,কোনো কোম্পানি,সংস্হা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ওপরও যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক কি না ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের কাছে রক্ষিত বিভিন্ন প্রকার রিজার্ভ ও প্রভিশন যদি 'নিসাব' পরিমাণ হয়, তাহলে প্রতি চান্দ্রবর্ষের ওপর ২.৫০% হারে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তবে শর্ত হলো
'মুছাহিমুন' বা শেয়ারহোল্ডারগণ, যারা প্রকৃতপক্ষে এসব সম্পদের মালিক, তাদের কাছ থেকে ব্যাংক বা সংল্শিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পদের যাকাত প্রদানের অনুমতি নিয়ে রাখবে।
১৯৮৪ সালের ৩০ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত 'যাকাত' -বিষয়ক প্রথম কনফারেন্স সকল পাবলিক, প্রাইভেট লিমিটেড ও যৌথ মূলধনী বৃহদায়তন কারবার প্রতিষ্ঠান বা তোম্পানিকে সর্বসম্মতিক্রমে আইনগত সত্তা ( Isgal entity) -রূপে চিহ্নিত করা হয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রিজার্ভ ও প্রভিশনের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে বলে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। সাধারণত 'মুকাল্লাফ বিয -যাকাত' বা যাকাতের হুকুম যার ওপর প্রযোজ্য এমন ব্যক্তির সম্পদের 'যাকাত দেয়া ওয়াজিব'। অনুরূপভাবে ক্ষেত্রবিশেষে 'গায়রে 'মুকাল্লাফ বিয -যাকাত বা যাকাতের হুকুম যার ওপর প্রযোজ্য নয় এমন প্রতিশ্ঠান, সংস্হা বা কোম্পানির নিজস্ব তহবিলের ওপর আইনগত সত্তা হিসেবে শরী'আহ মোতাবেক অলি বা অভিভাবকরূপ প্রতিষ্ঠানের মালিকগণের পক্ষ থেকে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
নিম্নে বর্ণিত অবস্হা পাওয়া গেলে লিমিটেড কোম্পানিগুলো কৃত্রিম ব্যক্তিরূপে গণ্য হবে এবং
যথানিয়মে যাকাত প্রদান করতে হবে :
ক . যাকাত প্রদানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বিধান থাকলে।
খ . প্রতিষ্ঠানের মূল গঠনতন্ত্রে ( মেমোরেন্ডাম ও আর্টিক্যালস অব অ্যাসোসিয়েশন) যাকাত প্রদানের আইনগত কোনো ধারার উল্লেখ থাকলে।
গ . বার্ষিক সাধারণ সভায় এ মর্মে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে।
ঘ . মুছাহিমুন বা শেয়ারহোল্ডারগণ ব্যক্তিগতভাবে এ ব্যাপারে সম্মতি দিলে।
সুতর্ং কোনো ইসলামী ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনে যাকাত প্রদান সংক্রান্ত কোনো ধারা বিদ্যমান থকলে সে ইসলামী ব্যাংককে আইনগত সত্তা হিসেবে অবশ্যই যাকাত
প্রদান করতে হবে।
(সূত্র : ২৬ জুন ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১১ : যাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে সম্পদের প্রারম্ভিক স্হিতি (opening balance) ,সমাপনী স্হিতি (closing balance) ও গড় স্হিতি (average balance) -এর মধ্যে কোনটি ধর্তব্য হবে?
সিদ্ধান্ত : যাকাত সমাপনী স্হিতির (closing balance) ওপরই নির্ধারণ করতে হবে।
( সূত্র: ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১২ : ইসলামী ব্যাংকের যাকাত বাবদ আদায়কৃত অর্থ এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সংশয়পূর্ণ আয় কোন কোন খাতে ব্যয় -ব্যবহার করা যাবে?
সিদ্ধান্ত : আল্লাহ তা'আলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি খাত সুনির্দিষ্টভাবে মহাগ্রন্হ আল কুরআনে বর্ণনা করেছেন। এগুলো হচ্ছে : ১. ফকির ২
মিসকিন ৩. যাকাতবিষয়ক কাজে নিয়োজিত কর্মচারী ৪ .যাদের মন সন্তুষ্ট করা প্রয়োজন ৫ . ফির -রিকাব (দাস মুক্তি) ৬ . আল গারিমিন (ঋণগ্রস্ত লোকজন) ৭ . ফি সাবিলিল্লাহ ( আল্লাহর পথে) ৮ . ইবনুস সাবিল (নিঃস্ব পথিক)।
পক্ষান্তরে সংশয়পূর্ণ অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে শরী'আহর নীতিগত দৃষ্ঠিভঙ্গি হচ্ছে আলোচ্য
সন্দেহজনক অর্থ যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক/সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়া যায় এবং কোনো বাধ্যতামূলক উপায়ে সংল্শিষ্ট উৎসকে তা ফেরত দেয়া সম্ভব হয়, তবে তা সংল্শিষ্ট আয়ের বিপরীতে ইনকাম ট্যাক্স কিংবা সিভিল ট্যাক্স ইত্যাদি বাবদ পুনরায় উক্ত তহবিলে পৌঁছে দেয়াই বাঞ্ছনীয়। যাতে যেখানকার অর্থ সেখানে আবার চলে যেথে পারে। ট্যাক্স পরিশোধের পরও যদি কিছু অর্থ অবশিষ্ট থেকে যায় তবে তা চক্ষুশিবির খোলা, দাতব্য চিকিৎসালয় স্হাপন, বন্যাদুর্গতদের সাহায্য প্রদান, সড়ক কিংবা পুল নির্মাণ, সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা অথবা এমন দালান নির্মাণের কাজে লাগানো যা সর্বসাধারণের ব্যবহারোপযোগী করে দেয়া হয় ইত্যাদি কাজে লাগানো যেতে পারে।
সংশয়পূর্ণ অর্থ ব্যাংকের হাতে পড়লে কেবল দায়িত্ব মুক্তির প্রত্যাশায় সাধারণ জনকল্যাণমূলক কাজে যেমন গণশৌচাগার নির্মাণ, ফকির, মিসকিন,ইয়াতিম ও অসাহায় -অনাথদের বিবাহ ও চিকিৎসার খরচ, নদীভাঙা, বাস্তুহারা, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসন ইত্যাদি কাজে ব্যয় ও ব্যবহার করা যেতে পারে।
(সূত্র : ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩৫শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ১১৩ : নিম্নোক্ত খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরী'আহসম্মত কি না?
ক . আয়বর্ধনমূলক কার্যক্ররমের আওতায় দরিদ্র লোকদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা, গাভী পালন, হাঁস -মুরগী পালন, সেলাই মেশিন প্রদান, রিকশা প্রদান ইত্যাদি ।
খ . শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় আদর্শ ফোরকানিয়া মক্তব, মডেল মাদরাসা, দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র -ছাত্রীদের জস্য শিক্ষাবৃত্তি ও এককালীন আর্থিক সহায়তা দান ইত্যাদি।
গ . মহিলাদেরকে শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে মহিলা মাদরাসা কার্যক্রম পরিচালনা।
ঘ . গরিব ছাত্র -ছাত্রীদেরকে যাকাতের অর্থ দিয়ে
শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা।
ঙ . আর্দশ ফোরকানিয়া মক্তব পরিচালনা।
চ . কুরআনিক ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট -এর মাধ্যমে মানুষকে সহিহভাবে অর্থসহ কুরআন বুঝতে সহায়তা করা।
ছ . নার্সিং ইনস্টিটিউট -এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কে নার্সিং পেশার মতো একটি মানব সেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা।
জ . মহিলা পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, এতিম ও অসহায় মহিলাদের পুনর্বাসন , সেলাই প্রশিক্ষণ, ফাস্টফুড তৈরি প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা।
ঝ . বস্তিবাসী শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষা ও স্বাস্হ্যেন্নয়নে বস্তির উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করা।
ঞ . দাতব্য চিকিৎসালয়ের মাধ্যমে গরিব ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা।
ট . হোমিওপ্যাথি ক্লিনিক পরিচালনার মাধ্যমে গরিব ও অসহায় রোগীদের স্বল্পখরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
ঠ . কম খরচে চক্ষু চিকিৎসা প্রকল্পের মাধ্যমে
দরিদ্র রোগীদের স্বল্পখরচে/বিনাখরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
ড . দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের কে খরচে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে খাতনা করানো।
ঢ . গ্রামের দরিদ্র মহিলাদেরকে ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা এবং প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা।
ণ . দাওয়াহ কাজের সহায়ক জাতীয় ও ইসলামী সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা ।
সিদ্ধান্ত : উক্ত কার্যক্রমসমূহ পবিত্র কুরআনের
সূরা আত তাওবার ৬০ নং আয়াতে বর্ণিত ৮টি খাত (যথা : ১। ফকির, ২। মিসকিন,৩। যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী, ৪। মুয়াল্লাফাতুল কুলুব, ৫। দাসমুক্তি,৬। ঋণগ্রস্ত, ৭। ফি সাবিলিল্লাহ ও ৮। মুসাফির) এর মধ্য হতে নিম্নোক্ত তিনটি খাতের আওতাভুক্ত :
ক . ফকির
খ. মিসকিন এবং
গ . ফি সাবিলিল্লাহ ( আল্লাহর পথে) ।
উপরিউক্ত কার্যক্রমসসমূহ পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত ৩টি খাত ( ফকির, মিসকিন ও ফি সাবিলিল্লাহ) এর আওতাভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে
বিশ্বের বরেণ্য উলামায়ে কেরাম, ফকিহ, আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ ও গবেষণা সংস্হার
মতামত রয়েছে।
(সূত্র : ২৭ জানুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬০তম
অঅধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৪ : যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্হাপনায়
নিয়োজিত কোনো প্রতিষ্ঠান সংগৃহীত যাকাত তহবিল থেকে কাউকে ধার বা বিনিয়োগ দিতে পারবে কি?
সিদ্ধান্ত : যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্হাপনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি দেয়ার শর্তে
যাকাতের অর্থ শুধু ( যাকাতের হকদারদেরকেই
ক্বরদ বা বিনিয়োগ সুবিধা হিসেবে প্রদান করা যাবে। তবে এক বৎসরের বেশি সময়ের জন্য যাকাতের অর্থ ক্বরদ প্রদান বা বিনিয়োগ করা বাঞ্ছনীয় নয়। কিন্তু গ্যারান্টি প্রদান না করলে যাকাতের অর্থের ক্বরদ প্রদান বা বিনিয়োগ করা
যাবে না।
( সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৫ : কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের শরী'আহ অনুমোদিত শেয়ার থেকে অর্জিত লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড বাবদ প্রাপ্ত আয়ের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের ডিভিডেন্ড আয় ওয়াকফ সম্পদের অন্তর্ভূক্ত যা ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকানার আওতাবহির্ভূত,
সেহেতু উক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর কোনো যাকাত দিতেহবে না। কেননা শরী'আহর দৃষ্টিতে ওয়াকফকৃত সম্পদ যাকাতযোগ্য নয়।
(সূত্র : ৩১ জুলাই ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১১৬ : চান্দ্রবর্ষের চেয়ে সৌরবর্ষ ১১ -১২ দিন বেশি হয়ে থাকে। ইসলামী শরী'আহর নিয়মানুযায়ী যাকাত চান্দ্রবর্ষ অনুযায়ী আদায় করার বিধান থাকলেও কোথাও কোথাও ব্যাংকিং
কার্যক্রম সৌরবর্ষ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে থাকে। এমতাবস্হায় ইসলামী ব্যাংক সৌরবর্ষ নাকি চান্দ্রবর্ষের ভিক্তিতে যাকাত হিসাব করবে ?
সিদ্ধান্ত : আল -কুরআনের সূরা আল -বাক্বারার ১৮৯,সূরা ইয়াসিন এর ৩৯ ও সূরা ইউনুস এর ৫ নং আয়াত বিশ্লেষণপূর্বক এবং আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার 'রিসালাতুল হিলাল' গ্রন্হে প্রদত্ত শর'ঈ বিধান ও আধুনিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত ফাতাওয়া গ্রন্হ যেমন -আল -ফাতওয়া আশ -শারী'আহ, 'ফাতহুয যাকাত' এবং 'আল -ইকতিসাদুল ইসলামীতে '
যাকাতবর্ষ সম্পর্কিত প্রদত্ত ফতওয়া ও দেশ -বিদেশের বিভিন্ন ফকিহ ও শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের মতামত বিস্তারিত আলোচনান্তে উক্ত বিষয়ে নিম্নেরূপ মতামত ব্যক্ত করা হয় :
ক . সকল প্রকার দলিল -প্রমাণের ভিত্তিতে যাকাতের হিসাব বর্ণরূপে চান্দ্রবর্ষই ধর্তব্য হবে।
খ . ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকাল হতে চান্দ্রবছর হিসেবে যাকাত প্রদেয় হবে।
গ . ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেহেতু সৌরবর্ষ অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে, সেহেতু অতিরিক্ত ১১/১২ দিন চান্দ্রবর্ষের সাথে যোগ করে ২.৫৮% (প্রায়) হারে যাতাত প্রদান করতে হবে।
ঘ . যাকাতযোগ্য বিভিন্ন রিজার্ভ খাতসমূহের অর্থ যদি বিনিয়োগ হিসাবে দেখানো হয় এবং বিনিয়োগলব্ধ আয়সমূহ সংল্শিষ্ট রিজার্ভ ফান্ডের আয় হিসাবে প্রদর্শিত হয়, তাহলে উক্ত আয়কে যাকাতযোগ্য খাতসমূহের আনুষঙ্গিক আয় হিসেবে বিবেচনায় এনে রিজার্ভের অর্থের সাথে উক্ত আয়সমূহেরও যাকাত প্রদান করতে হবে।
ঙ . লভ্যাংশ সমতাকরণ রিজার্ভ যেহেতু স্হায়ী পদ্ধতির ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অন্তর্ভূক্ত রিজার্ভ, সেহেতু উক্ত রিজার্ভের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের জমাকারীগণ যারা বিভিন্ন হিসেবে টাকা জমা রাখেন তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, ইসলামী ব্যাংক নিজ দায়িত্বে তাদের হিসাবে জমাকৃত অর্থের ওপর তাদের পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করে থাকে। অথচ প্রকৃতপক্ষে জমাকারীদের পক্ষ থেকে ব্যাংক কোনো প্রকার যাকাত আদায় করে না। এরূপ সন্দেহ নিরসনকল্পে হিসাব খোলার ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে জমাকারীগণ কর্তৃক জমাকৃত অর্থ যাকাতের নিসাব পরিমান হলেও ব্যাংক তার যাকাত পরিশোধ করে না, বরং জমাকারীকেই উক্ত অর্থের যাকাত পরিশোধ করতে হবে।
(সূত্র : ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৭ : ইসলামী ব্যাংকের জনৈক শেয়ারহোল্ডার ব্যাংক বরাবর প্রেরিত এক পত্রে
ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ডিপোজিটরদের কাছ থেকে তাদের যাকাতের প্রদেয় অর্থ কেটে রেখে একটি তহবিল গড়ে তুলে তা থেকে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করার প্রস্তাব করেন। পত্রে তিনি ঋণগ্রস্ত বিনিয়োগ গ্রহীতাদের
ঋণ পরিশোধের স্বার্থে নিম্নোক্ত প্রস্তাব পেশ করেন :
ক . শেয়ারের লভ্যাংশ ১৫%-২০%-২৫% হারে ঘোষণা না করে ১৭.৫%-২২.৫%-২৭.৫% হারে ঘোষণা করা এরং প্রতি বছর প্রতি শেয়ারের বিপরীতে যাকাত বাবদ ২.৫% হারে লভ্যাংশ থেকে কেটে রাখা।
খ . ডিপোজিটরগণের জন্য পৃথক 'মুদারাবা যাকাত জমা হিসাব' খোলা। অন্যান্য হিসাব থেকে ২.৫% লাভ অতিরিক্ত প্রদান করে লভ্যাংশ থেকে ২.৫% যাকাত আদায় পূর্বক উক্ত হিসাবে স্হানান্তর করা।
গ . ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের জন্য নীতিমালা প্রনয়ন করা।
উল্লিখিত প্রস্তাবিত বিষয়গুলো শরী'আহসম্মত কিি না?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত শেয়ারহোল্ডারের প্রস্তাবগুলো নিম্নলিখিত কারণে গ্রহণযোগ্য নয় :
ক . শেয়ারহোল্ডারগণের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে সেখান থেকেে যাকাতের টাকা কেটে রাখা বৈধ হবে না। কারণ, যাকাত প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারের নিজস্ব সম্পদের হিসাবের ওপর নির্ভর করে। যে শেয়ারহোল্ডার থেকে যাকাত কেটে রাখা হবে তার অন্যান্য সম্পদ ও ঋণ হিসাব
করলে হতে পারে তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ হবে না। এমতাবস্হায়, যাকাত ফরয না হওয়া সত্ত্বেও তার থেকে যাকাত কেটে নিলে তার ওপর জুলুম হবে। অধিকন্তু তার থেকে যাকাত কেটে তা দিয়ে
খেলাপি গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করা হলে অনেক ক্ষেত্রে যাকাতের মূলনীতির পরিপন্হী কাজ সংঘটিত হবে। অর্থাৎ কারো ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে, যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই তার শেয়ার থেকে যাকাত কেটে নিয়ে তা কোনো নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ধনী খেলাপি গ্রাহককে দেয়া হবে। এটা হবে বড় ধরনের জুলুম। আবার একজন গরিব বক্তি থেকে যাকাতের নামে তার অর্থ দিয়ে অন্য ঋণগ্রস্ত গরিবকে প্রদান করা হলেও তা সঠিক হবে না ।
খ . মুদারাবা ডিপোজিটরদের ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি ব্যতিরেকে যাকাত কেটে রাখা ঠিক হবে না। অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই যে সংল্শিষ্ট ডিপোজিটরের ওপর যাকাত ফরয হবে তা বলা যায় না ।
গ . তবে কোনো শেয়ারহোল্ডার বা ডিপোজিটর যদি ব্যাংককে তার পক্ষে যাকাত প্রদানের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাহলে ব্যাংক তা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংল্শিষ্ট শেয়ারহোল্ডার বা ডিপোজিটর তার যাকাত হিসাব করার সময় ব্যাংকের শেয়ার ও ডিপোজিট স্বভাবতই তার হিসাবের বাইরে রাখবেন। শেয়ারহোল্ডার ও ডিপোজিটরদের অনুমতিসাপেক্ষে তাদের থেকে আদায়কৃত যাকাতের মাধ্যমে আলাদা তহবিল গঠন করা যেতে পারে তবে তা যাকাতের সকল খাতে ব্যয় করার সুযোগ থাকতে হবে।
ঘ . উক্ত তহবিল গঠন করে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করলে সমাজের অনেক নিঃস্ব ও অসহায় ব্যক্তি যারা যাকাত প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পান তাদের পরিবর্তে তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিরাও ক্ষেত্রবিশেষে যাকাতের সুবিধা পাবেন।
ঙ . এ ধরনের তহবিল গঠন করে খেলাপি ঋণ পরিশোধের ধারা চালু করা হলে ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে যা ব্যাংকের জন্য কল্যাণকর নয়।
চ . অধিকন্তু, শেয়ারহোল্ডার ও ডিপোজিটরদের কাছ থেকে যাকাত বাবদ টাকা কেটে নিয়ে তা দিয়ে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ মুক্ত করা ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব ও ইখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
সর্বোপরি, ব্যবসায়ে প্রকৃতই ক্ষতি হওয়ার কারণে খেলাপি হয়েছে এমন গ্রাহকদের সময় বাড়িয়ে দেয়া ও ক্ষেত্রবিশেষে ঋণ মওকুফ করার নীতি ব্যাংকে কার্যকর থাকে বিধায় এ উদ্দেশ্যে আলাদা যাকাত তহবিল গঠন করার প্রয়োজন নেই।
(সূত্র: ১৪ মার্চ ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
কক্সবাজারে পাঁচ তারাকা মানের হোটেল মালিক
কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা দুনিয়ার একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। পৃথিবীর দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতে একাধিকবার যারা বেড়াতে গেছেন, তারাও বার বার যেতে চান। এর কারন হচ্ছে চমৎকার এই স্হানটির আকর্ষন দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত আত্নীয় -স্বজন, বন্ধ -বান্ধবদের অনেকেই আছে নতুন। তারা সাহায্য চায়, পরিচিত কেউ আছে কিনা, হোটেল ভাড়া কেমন, ভালো হোটেল ঠিক করে দিন ইত্যাদি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অপটিমাম ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ এবার ভিন্ন কিছু আয়োজন করেছে। প্রথমত এর হেল্পলাইনে এসে আপনি সব ধরনের সাপোর্ট পাবেন। দ্বিতীয়ত এই বানিজ্যিক
গ্রুপটি কক্সবাজারে সর্ব সাধারনের জন্য একটি পাঁচ তারাকা মানের হোটেল নির্মানে এগিয়ে এসেছে। আপনি চাইলে যে কোন একটি সুইট বা রুম ন্যূনতম মূল্যে ক্রয় করে নিতে পারবেন। একক নামে অথবা পরিবারের সকল সদস্যের নামে। অথবা আত্নীয় -স্বজন,বন্ধু -বান্ধব মিলে সর্বোচ্চ ১০ জনের নামে দেয়া যাবে একটি কামরায়। এতে গড়ে প্রতিজনের খরচ পড়বে আনুমানিক দুই লাখ টাকা। সুবিধা হল আপনার
সার্কেলের যারাই যখন যাবে তারা সম্পূর্ন ফ্রী অথবা নাম মাত্র মূল্যে এখানে থাকতে পারবে । এর বাইরে অন্য সময়গুলোতে স্যুইট ভাড়া হতে আপনার আয়ও হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুণ ১৮০ বিজয় নগর এই ঠিকানায়।
ফেসবুক পেইজ -
- ইমেইল এড্রেস ।
গ্রুপটি কক্সবাজারে সর্ব সাধারনের জন্য একটি পাঁচ তারাকা মানের হোটেল নির্মানে এগিয়ে এসেছে। আপনি চাইলে যে কোন একটি সুইট বা রুম ন্যূনতম মূল্যে ক্রয় করে নিতে পারবেন। একক নামে অথবা পরিবারের সকল সদস্যের নামে। অথবা আত্নীয় -স্বজন,বন্ধু -বান্ধব মিলে সর্বোচ্চ ১০ জনের নামে দেয়া যাবে একটি কামরায়। এতে গড়ে প্রতিজনের খরচ পড়বে আনুমানিক দুই লাখ টাকা। সুবিধা হল আপনার
সার্কেলের যারাই যখন যাবে তারা সম্পূর্ন ফ্রী অথবা নাম মাত্র মূল্যে এখানে থাকতে পারবে । এর বাইরে অন্য সময়গুলোতে স্যুইট ভাড়া হতে আপনার আয়ও হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুণ ১৮০ বিজয় নগর এই ঠিকানায়।
ফেসবুক পেইজ -
- ইমেইল এড্রেস ।
Monday, 30 September 2019
ক্ষতিপূরণ
বিষয় -৯৭ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে এবং তা দিয়ে এর ওপর ধার্যকৃত আয়কর প্রদান করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত দেশি -বিদেশি বিভিন্ন
ইসলামী ব্যাংক ও ব্যক্তিবর্গের মতামতের নিরিখে এবং এ বিষয়ে বিরাজমান পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ গৃহীত অর্থ সুদের সংশয় থেকে মুক্ত নয় বলে তা ব্যাংকের হালাল আয়ের অন্তর্ভূক্ত না করে অসাহায় -দুস্হদের কল্যাণে ব্যয়
করতে হবে। ক্ষতিপূরণের অর্থের ওপর ধার্যকৃত আয়কর এ অর্থ থেকে দেয়া যেতে পারে।
(সূত্র: ২৪ অক্টোবর ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৫শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৯৮ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য উৎস হতে অর্জিত সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে আয়কর প্রদান করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া প্রাপ্ত সুদ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে আয়কর প্রদান শরী'আহসম্মত নয়, তবে এসব অর্থের ওপর সরবার যে আয়কর ধার্য করে সে আয়কর উক্ত খাত থেকে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৯ : ব্যাংকের কোনো গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগের পাওনা পরিশোধ না করলে তার কাছ থেকে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যয়ের খাতগুলো কী?
সিদ্ধান্ত: মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য সুদি আয় ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত বৈধ আয় নয়। এগুলো ব্যয়ের খাতসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
ক . ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ট্যাক্স প্রদান
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তা কেবল সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় হতে দেয়া যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় দিয়ে ব্যাংকের অন্যান্য আয়কর প্রদান করা যাবে না। কেননা, হালাল আয়ের কর হারাম উপাদান দিয়ে পরিশোধ করা শরী'আহসম্মত নয়।
খ . সুদভিত্তিক বীমা কোম্পানিসমূহক বাধ্যতামূলক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম প্রদান
ইসলামী বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত
অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সুদি আয় হতে বর্তমান সুদি
বীমার প্রিমিয়াম দেয়া যেতে পারে।
গ . বৈদেশিক লেনদেনের বিপরীতে বিদেশি ব্যাংকসমূহকে প্রদেয় সুদ
ইসলামী ব্যাংক বৈদেশিক করেসপনডেন্ট (correspondent) - এর সাথে সুদের লেনদেন করবে না মর্মে বৈদেশিক লেনদেন করার জন্য
পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা
চালাবে। অনন্যোপায় হলে এ ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
ঘ . গরিব মুসলমানদের আত্নাকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করা
গরিব মুসলমানদেরকে সুদি আয় দিয়ে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করার ব্যাপারে শরী'আহর
কোনো আপক্তি নেই।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান
এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে যদি চাঁদা দেয়া বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে এবং ব্যাংককে বাধ্য হয়েই এটা প্রদান করতে হয় সে ক্ষেত্রে এ জাতীয়
আয় থেকে চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংস্হায় চাঁদা প্রদান
শুধু বাধ্যতামূলক ক্ষেত্রেই আপাতত সুদি খাত হতে এ চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে। একান্ত বাধ্য না হলে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ চাঁদা প্রদান করাও
জায়েয নয়।
(সূত্র : ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -১০০ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য (realisable) ও আদায়কৃত (realised) ক্ষতিপূরণ এবং শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে প্রভিশন করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ (compenstion) দিয়ে প্রভিশন করা শরী'আহ অনুমোদন করে না। আল -ওয়াদি'আহ চলতি হিসাব হতে যে বিনিয়োগ করা হয় তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অর্থের সাহায্যে প্রভিশন করা যাবে না। কেননা, ব্যাংক জমাকারীকে চাহিবামাত্র তার চলতি হিসাবের টাকা প্রদান করতে গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। মুদারাবা নীতিতে গৃহীত মূলধনের গ্যারান্টি দেয়া শরী'আহতে জায়েয নেই। সে জন্য সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে এ অবৈধ কাজের প্রভিশন করা যেতে পারে। ক্ষতিপূরণের অর্থ গরিব -মিসকিনদের কোনো নির্ধারিত হক বা অধিকার নয়, বরং দায়িত্ব মুক্তির একটি উপায় মাত্র। পক্ষান্তরে যাকাত, ফিৎরা, কাফফারা, ফিদিয়া ইত্যাদি হচ্ছে শরী'আহ কর্তৃক নির্ধারিত গরিবদের হক।
(সূত্র : ৯ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার গাফিলতি, ত্রুটি বা অব্যবস্হাপনা না থাকা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও যেসব বিনিয়োগ শ্রেণিকৃত
হয় শুধু ক্ষতিপূরণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সেসব
বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা বৈধ।
(সূত্র: ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা নীতিগতভাবে অনুমোদিত নয়। তাই ব্যাংকের বৈধ
আয় দিয়েই শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করতে হবে।
(সূত্র : ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত
শরী'আহ কাউন্সলের ১২৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে গুরুতর সন্দেহযুক্ত আয় ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ দিয়ে
প্রভিশন করা যাবে না। তবে ব্যাংকের বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িকভাবে এ অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা যেতে পারে। প্রয়োজন শেষে যথাশীঘ্র সম্ভব তা জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র : ১১ মে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০১ :মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে মূলধনের পর্যাপ্তত মেটানো যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে কোনো অবস্হাতেই মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো জায়েয হবে না।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০২ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে এসএলআর (SLR) রাখা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুসারে ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রিজার্ভ (SLR) মেটানো যাবে না ।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৩ : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসো যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় কোন কোন খাতে ব্যবহার করা যাবে ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় নিম্নবর্ণিত খাতসমূহে ব্যয়/ব্যবহার করতে শরী'আহর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই :
ক . বৈদেশিক লেনদেনের কারণে বিদেশি ব্যাংককে বাধ্যতামূলক সুদ প্রদান।
খ . জনকল্যাণমূলক কাজ।
গ . দাওয়াতী কাজ।
ঘ . দরিদ্র মুসলিমদের আত্মকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে (ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে) বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি/ বেসরকারি সংস্হায় বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
ছ . ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি প্রচারকল্পে বই পুস্তক/জার্নাল প্রকাশনার জন্য অনুদান প্রদান।
জ . সেমিনার/কনফারেন্স অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান।
ঝ . এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ, সুদ বা এ ধরনের সংশয়পূর্ণ অর্থের সাহায্যে ক. মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো খ. মন্দ বা সন্দেহজনক বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা গ. এসএলআর সংরক্ষণ করা শরী'আহসম্মত নয়। তবে ক্ষতিপূরণ বা সংশয়পূর্ণ আয়ের ওপর সরকার যে আয়কর ধার্য করে তা উক্ত খাত হতে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র : ২৩ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী /
১৬ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সাবকমিটির ১৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৪ : ইসলামী ব্যাংক মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ আরোপ করে থাকে। উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমতাবস্হায় ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে ব্যাংকের প্রকৃত সার্ভিস চার্জ আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণের ওপর কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র : ৩১ মে ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৫ : ব্যাংকের প্রচারকাজে শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ব্যবহার করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত :ইসলামী ব্যাংকের প্রচারকাজে হালাল ও পবিত্র অর্থই ব্যয় করা বাঞ্ছনীয়। শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত অর্থ দিয়ে বিজ্ঞাপন দান ও একটি ইসলামী আদর্শভিত্তিক
প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালানো শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৬: ইসলামী ব্যাংকের জন্য ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত সন্দেহযুক্ত আয় দিয়েে ব্যাংকে সংঘটিত কোনো ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে ব্যাংকের ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০৭: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ (Compensation Realizable) - এর ওপর সঞ্চিতি ( provision) রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষতিপূরণের অর্থ
এখনও আদায় হয়নি এবং আদায় হবে কিনা তা -ও অনিশ্চত :
এমনকি আদায় হলেও তা ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এখন যদি আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত বিপুল পরিমান সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে রাখা হয়
তাহলে মুদারাবা জমাকারীদের মুনাফার হার ও শেয়ারহোল্ডারগণের ডিভিডেন্ড -এর পরিসাণ কমে যাবে। এমতাবস্হায় আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে না রেখে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে রাখা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের পরিবর্তে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে সাময়িকভাবে রাখা যেথে পারে।
(সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৮ : ব্যাংকের সংশয়পূর্ণ আয়, আদায়কৃত ও আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ক্বরদ প্রোগ্রাম চালুকরণের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের ব্যাপারে ফকীহদের অভিমত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ইমাম জুহুরী, ইমাম কুরতুবি, সাইয়্যেদ ইবনে আব্দুল্লাহ আলফানিসান, হুসাইন ইবন মুহাম্মদ শাওয়াতসহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের মতে,সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় যত
দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করে দিতে হবে। এ
ধরনের তহবিল থেকে কোনো ক্বরদ প্রদান করা
যাবে না। এমনকি ইমাম জুহুরীর মতে এ ধরনের তহবিল নিজের কাছে ধরে রাখা বা সংরক্ষণও
করা যাবে না। অপরদিকে ইমাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমত হলো, এ ধরনের নিষিদ্ধ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যভিচারী ও মদ্যব্যবসায়ীরা
তাদের পেশা ছেড়ে দিয়ে তওবা করলে ও হতদরিদ্র হলে এরূপ উপার্জিত হারাম অর্থ থেকে
তাদের পুনর্বাসনে মূলধন হিসেবে ক্বরদ প্রদান করা যাবে। সাধারণ ক্ষেত্রে ক্বরদ হিসেবে প্রদান করা যাবে না। উক্ত বর্ণনার আলোকে সিদ্ধান্ত হলো, সুদসহ ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সংশয়পূণ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করাই হলো শরী'আহর মূলনীতি। এ ধরনের সন্দেহজনক আয় দীর্ঘদিন ধরে রাখা শরী'আহর মূলনীতির খেলাপ।
তবে দেশের হতদরিদ্রদের জন্য ক্বরদ প্রোগ্রামের ব্যাপক কল্যাণের দিক বিবেচনায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে :
ক . নিয়ন্ত্রক সংস্হার অনুমোদনসাপেক্ষে ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে এ ধরনের তহবিল
গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
খ . প্রস্তাবিত ক্বরদ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াক্বফ একাউন্টের আদলে নতুন ডিপোজিট প্রোডাক্ট প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
গ . ক্বরদ প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য ব্যাংকের
সামর্থ্যবান ও আগ্রহী চলতি হিসাবধারীদের চলতি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রাখার জন্য উৎসাহিত করা।
ঘ . ব্যাংকের চলতি হিসাবসহ অন্যান্য কস্ট ফ্রি ডিপোজিট ( cost free deposit) বিনিয়োগের আয় থেকে এ ধরনের ক্বরদ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
(সূত্র: ২২ জুন ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত দেশি -বিদেশি বিভিন্ন
ইসলামী ব্যাংক ও ব্যক্তিবর্গের মতামতের নিরিখে এবং এ বিষয়ে বিরাজমান পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ গৃহীত অর্থ সুদের সংশয় থেকে মুক্ত নয় বলে তা ব্যাংকের হালাল আয়ের অন্তর্ভূক্ত না করে অসাহায় -দুস্হদের কল্যাণে ব্যয়
করতে হবে। ক্ষতিপূরণের অর্থের ওপর ধার্যকৃত আয়কর এ অর্থ থেকে দেয়া যেতে পারে।
(সূত্র: ২৪ অক্টোবর ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৫শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৯৮ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য উৎস হতে অর্জিত সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে আয়কর প্রদান করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া প্রাপ্ত সুদ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে আয়কর প্রদান শরী'আহসম্মত নয়, তবে এসব অর্থের ওপর সরবার যে আয়কর ধার্য করে সে আয়কর উক্ত খাত থেকে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৯ : ব্যাংকের কোনো গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগের পাওনা পরিশোধ না করলে তার কাছ থেকে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যয়ের খাতগুলো কী?
সিদ্ধান্ত: মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য সুদি আয় ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত বৈধ আয় নয়। এগুলো ব্যয়ের খাতসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
ক . ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ট্যাক্স প্রদান
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তা কেবল সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় হতে দেয়া যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় দিয়ে ব্যাংকের অন্যান্য আয়কর প্রদান করা যাবে না। কেননা, হালাল আয়ের কর হারাম উপাদান দিয়ে পরিশোধ করা শরী'আহসম্মত নয়।
খ . সুদভিত্তিক বীমা কোম্পানিসমূহক বাধ্যতামূলক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম প্রদান
ইসলামী বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত
অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সুদি আয় হতে বর্তমান সুদি
বীমার প্রিমিয়াম দেয়া যেতে পারে।
গ . বৈদেশিক লেনদেনের বিপরীতে বিদেশি ব্যাংকসমূহকে প্রদেয় সুদ
ইসলামী ব্যাংক বৈদেশিক করেসপনডেন্ট (correspondent) - এর সাথে সুদের লেনদেন করবে না মর্মে বৈদেশিক লেনদেন করার জন্য
পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা
চালাবে। অনন্যোপায় হলে এ ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
ঘ . গরিব মুসলমানদের আত্নাকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করা
গরিব মুসলমানদেরকে সুদি আয় দিয়ে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করার ব্যাপারে শরী'আহর
কোনো আপক্তি নেই।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান
এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে যদি চাঁদা দেয়া বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে এবং ব্যাংককে বাধ্য হয়েই এটা প্রদান করতে হয় সে ক্ষেত্রে এ জাতীয়
আয় থেকে চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংস্হায় চাঁদা প্রদান
শুধু বাধ্যতামূলক ক্ষেত্রেই আপাতত সুদি খাত হতে এ চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে। একান্ত বাধ্য না হলে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ চাঁদা প্রদান করাও
জায়েয নয়।
(সূত্র : ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -১০০ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য (realisable) ও আদায়কৃত (realised) ক্ষতিপূরণ এবং শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে প্রভিশন করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ (compenstion) দিয়ে প্রভিশন করা শরী'আহ অনুমোদন করে না। আল -ওয়াদি'আহ চলতি হিসাব হতে যে বিনিয়োগ করা হয় তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অর্থের সাহায্যে প্রভিশন করা যাবে না। কেননা, ব্যাংক জমাকারীকে চাহিবামাত্র তার চলতি হিসাবের টাকা প্রদান করতে গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। মুদারাবা নীতিতে গৃহীত মূলধনের গ্যারান্টি দেয়া শরী'আহতে জায়েয নেই। সে জন্য সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে এ অবৈধ কাজের প্রভিশন করা যেতে পারে। ক্ষতিপূরণের অর্থ গরিব -মিসকিনদের কোনো নির্ধারিত হক বা অধিকার নয়, বরং দায়িত্ব মুক্তির একটি উপায় মাত্র। পক্ষান্তরে যাকাত, ফিৎরা, কাফফারা, ফিদিয়া ইত্যাদি হচ্ছে শরী'আহ কর্তৃক নির্ধারিত গরিবদের হক।
(সূত্র : ৯ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার গাফিলতি, ত্রুটি বা অব্যবস্হাপনা না থাকা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও যেসব বিনিয়োগ শ্রেণিকৃত
হয় শুধু ক্ষতিপূরণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সেসব
বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা বৈধ।
(সূত্র: ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা নীতিগতভাবে অনুমোদিত নয়। তাই ব্যাংকের বৈধ
আয় দিয়েই শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করতে হবে।
(সূত্র : ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত
শরী'আহ কাউন্সলের ১২৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে গুরুতর সন্দেহযুক্ত আয় ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ দিয়ে
প্রভিশন করা যাবে না। তবে ব্যাংকের বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িকভাবে এ অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা যেতে পারে। প্রয়োজন শেষে যথাশীঘ্র সম্ভব তা জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র : ১১ মে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০১ :মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে মূলধনের পর্যাপ্তত মেটানো যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে কোনো অবস্হাতেই মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো জায়েয হবে না।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০২ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে এসএলআর (SLR) রাখা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুসারে ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রিজার্ভ (SLR) মেটানো যাবে না ।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৩ : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসো যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় কোন কোন খাতে ব্যবহার করা যাবে ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় নিম্নবর্ণিত খাতসমূহে ব্যয়/ব্যবহার করতে শরী'আহর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই :
ক . বৈদেশিক লেনদেনের কারণে বিদেশি ব্যাংককে বাধ্যতামূলক সুদ প্রদান।
খ . জনকল্যাণমূলক কাজ।
গ . দাওয়াতী কাজ।
ঘ . দরিদ্র মুসলিমদের আত্মকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে (ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে) বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি/ বেসরকারি সংস্হায় বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
ছ . ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি প্রচারকল্পে বই পুস্তক/জার্নাল প্রকাশনার জন্য অনুদান প্রদান।
জ . সেমিনার/কনফারেন্স অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান।
ঝ . এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ, সুদ বা এ ধরনের সংশয়পূর্ণ অর্থের সাহায্যে ক. মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো খ. মন্দ বা সন্দেহজনক বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা গ. এসএলআর সংরক্ষণ করা শরী'আহসম্মত নয়। তবে ক্ষতিপূরণ বা সংশয়পূর্ণ আয়ের ওপর সরকার যে আয়কর ধার্য করে তা উক্ত খাত হতে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র : ২৩ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী /
১৬ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সাবকমিটির ১৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৪ : ইসলামী ব্যাংক মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ আরোপ করে থাকে। উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমতাবস্হায় ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে ব্যাংকের প্রকৃত সার্ভিস চার্জ আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণের ওপর কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র : ৩১ মে ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৫ : ব্যাংকের প্রচারকাজে শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ব্যবহার করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত :ইসলামী ব্যাংকের প্রচারকাজে হালাল ও পবিত্র অর্থই ব্যয় করা বাঞ্ছনীয়। শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত অর্থ দিয়ে বিজ্ঞাপন দান ও একটি ইসলামী আদর্শভিত্তিক
প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালানো শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৬: ইসলামী ব্যাংকের জন্য ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত সন্দেহযুক্ত আয় দিয়েে ব্যাংকে সংঘটিত কোনো ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে ব্যাংকের ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০৭: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ (Compensation Realizable) - এর ওপর সঞ্চিতি ( provision) রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষতিপূরণের অর্থ
এখনও আদায় হয়নি এবং আদায় হবে কিনা তা -ও অনিশ্চত :
এমনকি আদায় হলেও তা ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এখন যদি আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত বিপুল পরিমান সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে রাখা হয়
তাহলে মুদারাবা জমাকারীদের মুনাফার হার ও শেয়ারহোল্ডারগণের ডিভিডেন্ড -এর পরিসাণ কমে যাবে। এমতাবস্হায় আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে না রেখে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে রাখা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের পরিবর্তে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে সাময়িকভাবে রাখা যেথে পারে।
(সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৮ : ব্যাংকের সংশয়পূর্ণ আয়, আদায়কৃত ও আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ক্বরদ প্রোগ্রাম চালুকরণের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের ব্যাপারে ফকীহদের অভিমত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ইমাম জুহুরী, ইমাম কুরতুবি, সাইয়্যেদ ইবনে আব্দুল্লাহ আলফানিসান, হুসাইন ইবন মুহাম্মদ শাওয়াতসহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের মতে,সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় যত
দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করে দিতে হবে। এ
ধরনের তহবিল থেকে কোনো ক্বরদ প্রদান করা
যাবে না। এমনকি ইমাম জুহুরীর মতে এ ধরনের তহবিল নিজের কাছে ধরে রাখা বা সংরক্ষণও
করা যাবে না। অপরদিকে ইমাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমত হলো, এ ধরনের নিষিদ্ধ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যভিচারী ও মদ্যব্যবসায়ীরা
তাদের পেশা ছেড়ে দিয়ে তওবা করলে ও হতদরিদ্র হলে এরূপ উপার্জিত হারাম অর্থ থেকে
তাদের পুনর্বাসনে মূলধন হিসেবে ক্বরদ প্রদান করা যাবে। সাধারণ ক্ষেত্রে ক্বরদ হিসেবে প্রদান করা যাবে না। উক্ত বর্ণনার আলোকে সিদ্ধান্ত হলো, সুদসহ ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সংশয়পূণ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করাই হলো শরী'আহর মূলনীতি। এ ধরনের সন্দেহজনক আয় দীর্ঘদিন ধরে রাখা শরী'আহর মূলনীতির খেলাপ।
তবে দেশের হতদরিদ্রদের জন্য ক্বরদ প্রোগ্রামের ব্যাপক কল্যাণের দিক বিবেচনায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে :
ক . নিয়ন্ত্রক সংস্হার অনুমোদনসাপেক্ষে ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে এ ধরনের তহবিল
গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
খ . প্রস্তাবিত ক্বরদ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াক্বফ একাউন্টের আদলে নতুন ডিপোজিট প্রোডাক্ট প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
গ . ক্বরদ প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য ব্যাংকের
সামর্থ্যবান ও আগ্রহী চলতি হিসাবধারীদের চলতি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রাখার জন্য উৎসাহিত করা।
ঘ . ব্যাংকের চলতি হিসাবসহ অন্যান্য কস্ট ফ্রি ডিপোজিট ( cost free deposit) বিনিয়োগের আয় থেকে এ ধরনের ক্বরদ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
(সূত্র: ২২ জুন ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
ব্যাংক গ্যারান্টি
প্রশ্ন -৯৫ : ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে ইসলামী ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ও কমিশন গ্রহণ করতে পারবে কি ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক যদি নগদ বা সহায়ক জামানত (কোলেটারাল সিকিউরিটি) রেখে গ্রাহকের অনুকূলে গ্যারান্টিপত্র ইস্যু করে তবে তা শরী'আহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কভারেজ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উকিল হিসেবে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ছাড়াও কমিশন আদায় করতে পারবে। আর যদি গ্রাহক আংশিক জামানত প্রদান করে তবে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক উকিল ও কফিল হিসেবে প্রকৃত সার্ভিস চার্জ ও কমিশন দুটোই আদায় করতে পারবে।
অধিকন্তু, ১৯৭৯ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকসমূহের প্রথম সম্মেলনের ফতওয়া, আল -আজহার -বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান (শায়খুল আজহার) মর্হুম ড. আবদুল হালিম মাহমুদের ফতওয়া, ১৯৮৫ সালে মক্কা মুকাররামায় অনুষ্ঠিত ফিকহ অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় অঅধিবেশনে প্রদত্ত ফতওয়াসসসূহ এবং দুবাই ইসলামী ব্যাংকের ফতওয়া ও শরী'আহ সুপারভাইজরি বোর্ডের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা
পূর্বক কাউন্সল অভিমত ব্যক্ত করে যে, কালের ব্যবধানে ও সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান যুগে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্যারান্টির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির সম্পদ ও ব্যবসায়িক সুনাম ( goodwill) -এর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তার গ্যারান্টি বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয় না। ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনামের কারণে সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এর গ্যারান্টি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। অতএব ব্যাংক গ্যারান্টি
ইস্যুর বিপরীতে সাভিস চার্জ ও কমিশন আদায় করা শরী'আহ পরিপন্হী নয়।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৬ : ব্যাংক কখনো কখনো নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক তৃতীয় পক্ষের দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। এমতাবস্হায় ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের সময় গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকে জমাদানে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের নামে ক্বরদে হাসানা হিসাব খুলে দাবি পরিশোধ করা যেতে পারে।
খ . উক্ত ক্বরদে হাসানা হিসাবটি যেহেতু গ্রাহকের লিখিত আবেদনের ভিক্তিতে কাউন্টার গ্যারান্টির বিপরীতে খোলা হয়, তাই তা সমন্বয়ের জন্য তাকে সুযোগ দেয়া হবে এবং তিনি ব্যর্থ হলে সহায়ক জামানত বিক্রয় করে বা আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ
করে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে।
গ . চুক্তি পরিপালনে ব্যর্থতা তথা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের
কারণে ব্যাংক কর্তৃক দাবি পরিশোধের তারিখ থেকে আদায় পর্যন্ত সময়ের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ/জরিসানা আদায় করা যাবে।
ঘ . প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ/ জরিমানা সন্দেহযুক্ত আয়ের
অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, ক্বরদে হাসানার বিপরীতে এরূপ অতিরিক্ত গ্রহণ করা শর'আহ অনুযায়ী বৈধ নয়। সুতরাং এ খাত থেকে প্রাপ্ত সন্দেহযুক্ত আয়ের ট্যাক্স (যদি হয়) প্রদানের পর অবশিষ্ট অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করতে হবে এবং উক্ত অর্থ দিয়ে শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে
প্রভিশন করা যাবে না।
(সূত্র: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক যদি নগদ বা সহায়ক জামানত (কোলেটারাল সিকিউরিটি) রেখে গ্রাহকের অনুকূলে গ্যারান্টিপত্র ইস্যু করে তবে তা শরী'আহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কভারেজ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উকিল হিসেবে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ছাড়াও কমিশন আদায় করতে পারবে। আর যদি গ্রাহক আংশিক জামানত প্রদান করে তবে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক উকিল ও কফিল হিসেবে প্রকৃত সার্ভিস চার্জ ও কমিশন দুটোই আদায় করতে পারবে।
অধিকন্তু, ১৯৭৯ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকসমূহের প্রথম সম্মেলনের ফতওয়া, আল -আজহার -বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান (শায়খুল আজহার) মর্হুম ড. আবদুল হালিম মাহমুদের ফতওয়া, ১৯৮৫ সালে মক্কা মুকাররামায় অনুষ্ঠিত ফিকহ অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় অঅধিবেশনে প্রদত্ত ফতওয়াসসসূহ এবং দুবাই ইসলামী ব্যাংকের ফতওয়া ও শরী'আহ সুপারভাইজরি বোর্ডের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা
পূর্বক কাউন্সল অভিমত ব্যক্ত করে যে, কালের ব্যবধানে ও সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান যুগে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্যারান্টির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির সম্পদ ও ব্যবসায়িক সুনাম ( goodwill) -এর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তার গ্যারান্টি বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয় না। ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনামের কারণে সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এর গ্যারান্টি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। অতএব ব্যাংক গ্যারান্টি
ইস্যুর বিপরীতে সাভিস চার্জ ও কমিশন আদায় করা শরী'আহ পরিপন্হী নয়।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৬ : ব্যাংক কখনো কখনো নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক তৃতীয় পক্ষের দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। এমতাবস্হায় ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের সময় গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকে জমাদানে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের নামে ক্বরদে হাসানা হিসাব খুলে দাবি পরিশোধ করা যেতে পারে।
খ . উক্ত ক্বরদে হাসানা হিসাবটি যেহেতু গ্রাহকের লিখিত আবেদনের ভিক্তিতে কাউন্টার গ্যারান্টির বিপরীতে খোলা হয়, তাই তা সমন্বয়ের জন্য তাকে সুযোগ দেয়া হবে এবং তিনি ব্যর্থ হলে সহায়ক জামানত বিক্রয় করে বা আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ
করে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে।
গ . চুক্তি পরিপালনে ব্যর্থতা তথা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের
কারণে ব্যাংক কর্তৃক দাবি পরিশোধের তারিখ থেকে আদায় পর্যন্ত সময়ের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ/জরিসানা আদায় করা যাবে।
ঘ . প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ/ জরিমানা সন্দেহযুক্ত আয়ের
অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, ক্বরদে হাসানার বিপরীতে এরূপ অতিরিক্ত গ্রহণ করা শর'আহ অনুযায়ী বৈধ নয়। সুতরাং এ খাত থেকে প্রাপ্ত সন্দেহযুক্ত আয়ের ট্যাক্স (যদি হয়) প্রদানের পর অবশিষ্ট অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করতে হবে এবং উক্ত অর্থ দিয়ে শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে
প্রভিশন করা যাবে না।
(সূত্র: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
Sunday, 29 September 2019
বাই'আস -সরফ ( মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়)
বিষয় -৯৪ : রফতানিমূল্যের বিপরীতে প্রাপ্ত বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী?
সিদ্ধন্ত : রফতানিমূল্যের বিপরীতে প্রাপ্ত বিল অব
এক্সচেঞ্জ ক্রয়ের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে বাই'আস -সরফ বা সুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের সাথে সামন্জ্ঞস্যশীল নয়। এখানে একটি বৈধ (valid)
লেনদেনের বিপরীতে বৈদেশিক সুদ্রায় বিল অব এক্সচেঞ্জ ড্র করা হয়, যা ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় হওয়া নিশ্চিত। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স
(ICC) কর্তৃক প্রণীত ইউনিফর্ম কাস্টম অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিট (UCPDC) ,
ইউনিফর্ম রুলস ফর রি -ইম্বার্সমেন্ট (URR) ও
ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন ( URC) - এর
অনুসরণে লেটার অব ক্রেডিট (L/C) -এর শর্ত পূরণসাপেক্ষে বিল অব এক্সচেঞ্জের মূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত। অতএব, এখানে মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ে
'ইয়াদান বি ইয়াদিনের ' যে শর্ত আছে তা লঙ্ঘিত
হচ্ছে না এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের হার পরিবর্তনের ফলে বা কিছু দিন বিলম্ব হলেও লাভ -লোকসানের ঝুঁকি থাকে, তবে গারারের আশম্কা নেই। তা ছাড়া এখানে এক জাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে অন্য জাতীয় মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত হচ্ছে যা 'ইখতিলাফুল জিনস' হওয়ার
কারণে ইমাম আবু হানিফা র. ও ইমাম আবু ইউসুফ র. -সহ অনেক ফকিহর কাছে বৈধ। সর্বোপরি, রফতানি বিল ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত বিষয় - 'উরফে 'আম' হিসেবে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও এরুপ ক্রয় -বিক্রয় সম্পাদন করে
আসছে। আর 'উরফে 'আম' কুরআন -সুন্নাহর
পরিপন্হী না হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য
বিবেচিত হয়। উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে বলা যায়, যেসব বিলের মূল্য আদায় হওয়া
নিশ্চিত, তা হুকমান 'ইয়াদান বি ইয়াদিন' গণ্য
করে সেসব বিলে উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রার কনস্ট্রাকটিভ ডেলিভারির ভিক্তিতে গ্রাহকের কাছ থেকে দু' পক্ষের সম্মত মূল্যে ব্যাংক ক্রয় করে নিতে পারে। তবে পরবর্তীকালে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কমবেশি যা -ই হোক, ব্যাংক গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত কিছু দাবি করতে পারবে না এবং গ্রাহকও ব্যাংকের কাছে কিছু
দাবি করতে পারবে না। ব্যাংকের যে হিসাব শিরোসাম বিকলন করে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করা হয়, একই হিসাব শিরোনাম বিকলন করে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এ উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রা
ক্রয় করতে হবে। তবে গ্রাহক কোনো ত্রুটিপূর্ণ বিল
বিক্রয় করলে এবং এ কারণে যথাসময়ে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসিত না হলে তার দায়দায়িত্ব গ্রাহকের ওপর বর্তাবে। এ জাতীয়
বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য মুদারাবা ফান্ড হতে প্রদান
করা হলে এ খাত হতে অর্জিত আয় মুদারাবা আমানতকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ মতামত শুধু রফতানিমূল্যের বিপরীতে
বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাই'আস -সরফের অন্য কোনো ক্ষেত্রে এ মতামত প্রযোজ্য হবে না।
(সূত্র: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধন্ত : রফতানিমূল্যের বিপরীতে প্রাপ্ত বিল অব
এক্সচেঞ্জ ক্রয়ের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে বাই'আস -সরফ বা সুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের সাথে সামন্জ্ঞস্যশীল নয়। এখানে একটি বৈধ (valid)
লেনদেনের বিপরীতে বৈদেশিক সুদ্রায় বিল অব এক্সচেঞ্জ ড্র করা হয়, যা ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় হওয়া নিশ্চিত। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স
(ICC) কর্তৃক প্রণীত ইউনিফর্ম কাস্টম অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিট (UCPDC) ,
ইউনিফর্ম রুলস ফর রি -ইম্বার্সমেন্ট (URR) ও
ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন ( URC) - এর
অনুসরণে লেটার অব ক্রেডিট (L/C) -এর শর্ত পূরণসাপেক্ষে বিল অব এক্সচেঞ্জের মূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত। অতএব, এখানে মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ে
'ইয়াদান বি ইয়াদিনের ' যে শর্ত আছে তা লঙ্ঘিত
হচ্ছে না এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের হার পরিবর্তনের ফলে বা কিছু দিন বিলম্ব হলেও লাভ -লোকসানের ঝুঁকি থাকে, তবে গারারের আশম্কা নেই। তা ছাড়া এখানে এক জাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে অন্য জাতীয় মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত হচ্ছে যা 'ইখতিলাফুল জিনস' হওয়ার
কারণে ইমাম আবু হানিফা র. ও ইমাম আবু ইউসুফ র. -সহ অনেক ফকিহর কাছে বৈধ। সর্বোপরি, রফতানি বিল ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত বিষয় - 'উরফে 'আম' হিসেবে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও এরুপ ক্রয় -বিক্রয় সম্পাদন করে
আসছে। আর 'উরফে 'আম' কুরআন -সুন্নাহর
পরিপন্হী না হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য
বিবেচিত হয়। উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে বলা যায়, যেসব বিলের মূল্য আদায় হওয়া
নিশ্চিত, তা হুকমান 'ইয়াদান বি ইয়াদিন' গণ্য
করে সেসব বিলে উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রার কনস্ট্রাকটিভ ডেলিভারির ভিক্তিতে গ্রাহকের কাছ থেকে দু' পক্ষের সম্মত মূল্যে ব্যাংক ক্রয় করে নিতে পারে। তবে পরবর্তীকালে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কমবেশি যা -ই হোক, ব্যাংক গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত কিছু দাবি করতে পারবে না এবং গ্রাহকও ব্যাংকের কাছে কিছু
দাবি করতে পারবে না। ব্যাংকের যে হিসাব শিরোসাম বিকলন করে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করা হয়, একই হিসাব শিরোনাম বিকলন করে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এ উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রা
ক্রয় করতে হবে। তবে গ্রাহক কোনো ত্রুটিপূর্ণ বিল
বিক্রয় করলে এবং এ কারণে যথাসময়ে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসিত না হলে তার দায়দায়িত্ব গ্রাহকের ওপর বর্তাবে। এ জাতীয়
বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য মুদারাবা ফান্ড হতে প্রদান
করা হলে এ খাত হতে অর্জিত আয় মুদারাবা আমানতকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ মতামত শুধু রফতানিমূল্যের বিপরীতে
বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাই'আস -সরফের অন্য কোনো ক্ষেত্রে এ মতামত প্রযোজ্য হবে না।
(সূত্র: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
Saturday, 28 September 2019
বাই'সালাম ( অগ্রিম ক্রয়) ও ইসতিসনা (পণ্য তৈরির ফরমায়েশ)
বিষয় -৮৯ : গ্রাহকের চলতি মূলধন (working capital) এর চাহিদা পূরণের জন্য ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দিতে পারে কি না?
সিদ্ধান্ত : কোনো উৎপাদনকারীর চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে মূলধন সরবরাহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক নগদ অর্থ পরিশোধের মাধমে গ্রাহকের কাছ থেকে তার উৎপাদিত পণ্য অগ্রিম ক্রয় করে নেবে।
( সূত্র: ২ অক্টোবর ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২১শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় - ৯০ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। ব্যাংক উক্ত পণ্য বিক্রয়ের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করে থাকে।
কোনো কোনো সময় বিক্রয় প্রতিনিধি ব্যাংকের পণ্য নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা ও অদক্ষতার জন্য তাকে দায়ি করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : রফতানি এলসির শর্ত মোতাবেক যদি আলোচ্য গ্রাহক ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে উক্ত পণ্য নির্ধারিত দামে রফতানি বা বিক্রয় করতে
ব্যর্থ হয় তাহলে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা, অদক্ষতা ও অনুবিধার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন।
(সূত্র: ৬ আগস্ট ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯১ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাংককে পণ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। অনেক সময় রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের কাছে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে তার ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক যেদিন পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছে সেদিন থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রাহক চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ
হলে যে দিন তিনি পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছেন, সে দিন থেকে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সঠিক হবে না। তবে নির্ধারিত পণ্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত স্হানে
সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত পরিস্হিতির কারণে সৃষ্ট প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ণয়পূর্বক ক্ষতিপূরণ তার কাছে থেকে আদায় করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯২ : ইসতিসনা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাথে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নির্ধারিত পণ্য নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত সময়ে তা সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত বিনিয়োগ গ্রাহকের ওপর
জরিমানা আরোপ করা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসতিসনা চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালন
না করার কারণে চুক্তি অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ যেকোনো পক্ষের ওপর জরিমানা (penalty)
আরোপ করা যাবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা
অপরিহার্য কোনো পরিস্হিতির কারণে বিলম্ব ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৩ : ফসল চাষের মোট খরচের একটি বড় অংশ শ্রমের মজুরি বাবদ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু
মজুরি বাবদ খরচ পরিশোধের জন্য বাই'মুয়াজ্জাল/বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে নগদ অর্থ প্রদার করা যায় না। এ ক্ষেত্রে বাই'সালামই উপযুক্ত পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মজুরি ও পণ্য উৎপাদন বাবদ খরচ নির্বাহের জন্য গ্রাহকের চাহিদা মতো নগদ অর্থ প্রদান করা যায়। তাই কৃষি
বিনিয়োগের আওতায় ফনল উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে বাই'সালাম পদ্ধতির প্রয়োগ কিভাবে সহজতর করা যায়?
সিদ্ধান্ত : ফসল চাষের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালন করে বাই'সালাম পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পাবে :
ক . ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি বাই'সালাম চুক্তি সম্পাদিত হবে, যাতে পণ্যের দাম, পরিমাণ, মান এবং সরবরাহের সময় ও স্হানসহ বাই'সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তাবলি সন্নিবেশিত হবে।
খ . শাখা পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রাহকের হিসাবে প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের
হিসাবেপ প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিনিয়োগ গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ
ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনমাফিক
বিনিয়োগের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্হাপনা -সংক্রান্ত সহযোগিতা (managerial support)
প্রদান করবে।
গ . সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে (পণ্যের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক) বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। উক্ত ন্যূনতম বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে তা ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের (কৃষকের) জন্য উৎসাহমূলক ছাড় হিসেবে ব্যাংক গ্রাহককে প্রদান করতে পারবে।
ঘ . প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল উৎপাদন হ্রাস বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ার আশম্কা রয়েছে বিধায় ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে একটি ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা রাখা যেতে পারে।
ঙ . শাখা উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত জমিতে সম্ভাব্য উৎপাদিত ফসলের সর্বোচ্চ ৬৫% (সময়ে সময়ে পরিবর্তিত) ক্রয়ে বিনিয়োগ করতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)।
সিদ্ধান্ত : কোনো উৎপাদনকারীর চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে মূলধন সরবরাহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক নগদ অর্থ পরিশোধের মাধমে গ্রাহকের কাছ থেকে তার উৎপাদিত পণ্য অগ্রিম ক্রয় করে নেবে।
( সূত্র: ২ অক্টোবর ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২১শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় - ৯০ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। ব্যাংক উক্ত পণ্য বিক্রয়ের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করে থাকে।
কোনো কোনো সময় বিক্রয় প্রতিনিধি ব্যাংকের পণ্য নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা ও অদক্ষতার জন্য তাকে দায়ি করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : রফতানি এলসির শর্ত মোতাবেক যদি আলোচ্য গ্রাহক ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে উক্ত পণ্য নির্ধারিত দামে রফতানি বা বিক্রয় করতে
ব্যর্থ হয় তাহলে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা, অদক্ষতা ও অনুবিধার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন।
(সূত্র: ৬ আগস্ট ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯১ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাংককে পণ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। অনেক সময় রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের কাছে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে তার ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক যেদিন পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছে সেদিন থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রাহক চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ
হলে যে দিন তিনি পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছেন, সে দিন থেকে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সঠিক হবে না। তবে নির্ধারিত পণ্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত স্হানে
সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত পরিস্হিতির কারণে সৃষ্ট প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ণয়পূর্বক ক্ষতিপূরণ তার কাছে থেকে আদায় করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯২ : ইসতিসনা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাথে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নির্ধারিত পণ্য নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত সময়ে তা সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত বিনিয়োগ গ্রাহকের ওপর
জরিমানা আরোপ করা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসতিসনা চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালন
না করার কারণে চুক্তি অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ যেকোনো পক্ষের ওপর জরিমানা (penalty)
আরোপ করা যাবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা
অপরিহার্য কোনো পরিস্হিতির কারণে বিলম্ব ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৩ : ফসল চাষের মোট খরচের একটি বড় অংশ শ্রমের মজুরি বাবদ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু
মজুরি বাবদ খরচ পরিশোধের জন্য বাই'মুয়াজ্জাল/বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে নগদ অর্থ প্রদার করা যায় না। এ ক্ষেত্রে বাই'সালামই উপযুক্ত পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মজুরি ও পণ্য উৎপাদন বাবদ খরচ নির্বাহের জন্য গ্রাহকের চাহিদা মতো নগদ অর্থ প্রদান করা যায়। তাই কৃষি
বিনিয়োগের আওতায় ফনল উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে বাই'সালাম পদ্ধতির প্রয়োগ কিভাবে সহজতর করা যায়?
সিদ্ধান্ত : ফসল চাষের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালন করে বাই'সালাম পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পাবে :
ক . ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি বাই'সালাম চুক্তি সম্পাদিত হবে, যাতে পণ্যের দাম, পরিমাণ, মান এবং সরবরাহের সময় ও স্হানসহ বাই'সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তাবলি সন্নিবেশিত হবে।
খ . শাখা পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রাহকের হিসাবে প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের
হিসাবেপ প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিনিয়োগ গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ
ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনমাফিক
বিনিয়োগের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্হাপনা -সংক্রান্ত সহযোগিতা (managerial support)
প্রদান করবে।
গ . সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে (পণ্যের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক) বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। উক্ত ন্যূনতম বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে তা ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের (কৃষকের) জন্য উৎসাহমূলক ছাড় হিসেবে ব্যাংক গ্রাহককে প্রদান করতে পারবে।
ঘ . প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল উৎপাদন হ্রাস বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ার আশম্কা রয়েছে বিধায় ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে একটি ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা রাখা যেতে পারে।
ঙ . শাখা উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত জমিতে সম্ভাব্য উৎপাদিত ফসলের সর্বোচ্চ ৬৫% (সময়ে সময়ে পরিবর্তিত) ক্রয়ে বিনিয়োগ করতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)।
Friday, 27 September 2019
কমিশন শেয়ারিং মুদারাবা
বিষয় -৮৮ : মোবাইল ব্যাংকিং সেবার (এমক্যাশ,বিকাশ ইত্যাদি) ক্ষেত্রে কর্পোরেট এজেন্টদেরকে বিনিয়োগ প্রদানের জন্য শরী'আহসম্মত কোন বিনিয়োগ পদ্ধতি রয়েছে কি?
সিদ্ধান্ত : মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কমিশন নির্ধারিত ও সুস্পষ্ট এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ তাই উক্ত সেবার (এমক্যাশ, বিকাশ ইত্যাদি) ক্ষেত্রে কর্পোরেট এজেন্টদেরকে ব্যাংক 'কমিশন শেয়ারিং মুদারাবা ' ( Commission Sharing Mudarabah) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করতে
পারে। এ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর কমিশন হিসাব করে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্মতির ভিত্তিতে/পূর্ব নির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে তা ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। এখানে ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে ২৫ঃ ৭৫ অনুপাতে অথবা উভয়ের সম্মতিক্রমে অন্য যে
কোনো হারে কমিশন বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতি সাহিবুল মাল (ব্যাংক) কে বহন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা ডিপোজিটে মুনাফা বন্টনের জন্য ব্যাংক কর্তৃক অনুশীলিত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
# কমিশন শেয়ারিং মুদারাবার নীতিমালা ও শর্তাবলি
ক. বিনিয়োগের অর্থ কেবল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স লোড করার জন ব্যবহৃত হবে।
খ . ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত মোট কমিশনকে মুদারাবা কারবারের বন্টনযোগ্য মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হবে।
গ . কারবার পরিচালনা ব্যয় যেমন - দোকান/শো -রুম ভাড়া, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিনিয়োগ গ্রাহক নির্বাহ করবেন।
ঘ . দিন শেষে বিনিয়োগের সমপরিমাণ অর্থ হয় ব্যালেন্স আকারে থাকবে কিংবা গ্রাহকের ব্যাংক
হিসাবে সংরক্ষিত হবে। কোনোভাবে এ অর্থ অন্য বিনিয়োগে সরানো (divert করা) যাবে না।
ঙ . প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ঝুঁকি থেকে
পুঁজি সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা করা যেতে পারে।
চ . নগদ অর্থ সংরক্ষণ ও স্হানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায়
এ সংক্রান্ত ঝুঁকি গ্রাহককেই বহন করতে হবে।
ছ . দৈনিক অর্জিত মোট আয় (Gross Income) মুদারাবা কারবারের আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং
কারবারে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুদারাবা তহবিল প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ মুদারাবা তহবিল অলস রেখে গ্রাহক (মুদারিব) তার নিজের অর্থ
ব্যবহার করতে পারবেন না। দৈনিক মোট লেনদেন যদি ব্যাংকের মুদারাবা তহবিলের চেয়ে কম হয় তাহলে যতটুকু তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে তার পুরোটাই মুদারাবা তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে বলে গণ্য হবে ।
জ . ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সুনাফা বন্টনের অনুপাত মুদারাবা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে।
ঝ . মুদারাবা কারবারের অন্যান্য শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ট . কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক একাধিক কোম্পানির
এজেন্ট হলে সকল কোম্পানিকে বিনিয়োগের
আওতায় আনতে হবে।
ঠ . বিনিয়োগ গ্রাহকগণ তাদের চ্যানেল ব্যবহার করে যেন দেশীয় আইন বিরোধী (মানি লন্ডারিং,সন্ত্রাসীকাজে অর্থায়ন) ও শরী'আহর
দৃষ্টিতে অবৈধ কোনো লেনদেন না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ জাতীয় কোনো
ঘটনা ঘটলে তার দায় -দায়িত্ব ব্যাংক কোনোভাবেই বহন করবে না।
ড . ব্যাংক তার বিনিয়োগকে নিরাপদ করার জন্য
প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি/মর্টগেজ নিতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৬ সালে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কমিশন নির্ধারিত ও সুস্পষ্ট এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ তাই উক্ত সেবার (এমক্যাশ, বিকাশ ইত্যাদি) ক্ষেত্রে কর্পোরেট এজেন্টদেরকে ব্যাংক 'কমিশন শেয়ারিং মুদারাবা ' ( Commission Sharing Mudarabah) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করতে
পারে। এ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর কমিশন হিসাব করে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্মতির ভিত্তিতে/পূর্ব নির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে তা ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। এখানে ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে ২৫ঃ ৭৫ অনুপাতে অথবা উভয়ের সম্মতিক্রমে অন্য যে
কোনো হারে কমিশন বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতি সাহিবুল মাল (ব্যাংক) কে বহন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা ডিপোজিটে মুনাফা বন্টনের জন্য ব্যাংক কর্তৃক অনুশীলিত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
# কমিশন শেয়ারিং মুদারাবার নীতিমালা ও শর্তাবলি
ক. বিনিয়োগের অর্থ কেবল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স লোড করার জন ব্যবহৃত হবে।
খ . ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত মোট কমিশনকে মুদারাবা কারবারের বন্টনযোগ্য মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হবে।
গ . কারবার পরিচালনা ব্যয় যেমন - দোকান/শো -রুম ভাড়া, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিনিয়োগ গ্রাহক নির্বাহ করবেন।
ঘ . দিন শেষে বিনিয়োগের সমপরিমাণ অর্থ হয় ব্যালেন্স আকারে থাকবে কিংবা গ্রাহকের ব্যাংক
হিসাবে সংরক্ষিত হবে। কোনোভাবে এ অর্থ অন্য বিনিয়োগে সরানো (divert করা) যাবে না।
ঙ . প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ঝুঁকি থেকে
পুঁজি সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা করা যেতে পারে।
চ . নগদ অর্থ সংরক্ষণ ও স্হানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায়
এ সংক্রান্ত ঝুঁকি গ্রাহককেই বহন করতে হবে।
ছ . দৈনিক অর্জিত মোট আয় (Gross Income) মুদারাবা কারবারের আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং
কারবারে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুদারাবা তহবিল প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ মুদারাবা তহবিল অলস রেখে গ্রাহক (মুদারিব) তার নিজের অর্থ
ব্যবহার করতে পারবেন না। দৈনিক মোট লেনদেন যদি ব্যাংকের মুদারাবা তহবিলের চেয়ে কম হয় তাহলে যতটুকু তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে তার পুরোটাই মুদারাবা তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে বলে গণ্য হবে ।
জ . ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সুনাফা বন্টনের অনুপাত মুদারাবা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে।
ঝ . মুদারাবা কারবারের অন্যান্য শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ট . কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক একাধিক কোম্পানির
এজেন্ট হলে সকল কোম্পানিকে বিনিয়োগের
আওতায় আনতে হবে।
ঠ . বিনিয়োগ গ্রাহকগণ তাদের চ্যানেল ব্যবহার করে যেন দেশীয় আইন বিরোধী (মানি লন্ডারিং,সন্ত্রাসীকাজে অর্থায়ন) ও শরী'আহর
দৃষ্টিতে অবৈধ কোনো লেনদেন না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ জাতীয় কোনো
ঘটনা ঘটলে তার দায় -দায়িত্ব ব্যাংক কোনোভাবেই বহন করবে না।
ড . ব্যাংক তার বিনিয়োগকে নিরাপদ করার জন্য
প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি/মর্টগেজ নিতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৬ সালে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
Wednesday, 25 September 2019
ইসলামী ইন্টার ব্যাংক ফান্ড মার্কেটে লেনদেনের শর'ঈ নীতিমালা
বিষয় -৮৭ : বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ইসলামী আন্তঃব্যাংক ফান্ড মার্কেটে (Islamic Inter -Bank Fund Market -IIFM) লেনদেনের শর'ঈ নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহভিক্তিক তফসিলি ব্যাংক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার তফসিলি ব্যাংক কোম্পানির ইসলামী ব্যাংকিং শাখাসমূহের তারল্য ব্যবস্হাপনাকে অধিকতর সুসংহত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ইসলামী আন্তঃব্যাক ফান্ড মার্কেটে লেনদেনের নীতিমালা
নিম্নরূপ :
ক . ইসলামী শরী'আহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলো তাদের উদ্বৃত্ত তহবিল ইসলামী
বন্ড ফান্ডের (IBF) কাছে দৈনিক ভিত্তিতে হস্তান্তর
করতে পারে।
খ . জিম্মাদার হিসেবে 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' এই তহবিল গ্রহণ করবে। দৈনিক প্রোডাক্টের ভিক্তিতে মোট প্রাপ্ত তহবিলের বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর অর্জিত মুনাফা তহবিল সরবরাহকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে সাময়িকভাবে বন্টিত হবে।
সাময়িকভাবে বন্টিত মুনাফা বছর শেষে (জানুয়ারী - ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক
ঘোষিত চূড়ান্ত মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে। 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করায় প্রদত্ত তহবিল বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে তহবিলদাতাগণ কোনো মুনাফা প্রাপ্য হবে না।
গ . সব লেনদেন মুদারাবা ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। ঘ . 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কর্তৃক নির্ধারিত প্রফিট লস শেয়ারিং রেশিও (PLSR) অনুসারে আবেদনকারীকে (ইসলামী শরী'আহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার
ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা) ফান্ডের পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে আবেদনকৃত তহবিল সরবরাহ
করা হবে।
ঙ . তহবিলগ্রহীতা কর্তৃত ঘোষিত বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের সাময়িক মুনাফার হার অনুসারে মুনাফার হার নির্ধারিত হবে। ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদি আমানত কোনো তহবিল গ্রহীতার না থাকলে পরবর্তী মেয়াদের সাময়িক
মুনাফার হার ব্যবহৃত হবে।
চ . মেয়াদান্তে তহবিলগ্রহীতাকে নির্ধারিত পিএলএসআর অনুসারে মুনাফাসহ (যদি হয়) মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে। সাময়িকভাবে পরিশোধিত মুনাফা বছর শেষে ( জানুয়ারী -ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক ঘোষিত চূড়ান্ত
মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে।
ছ . গৃহীত তহবিলের মেয়াদ ১ দিন (ওভারনাইট)
হবে, তবে ছুটি থাকলে তা পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত বর্ধিত হবে।
জ . তহবিল লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নীতিমালা পরিপালন করতে হবে । এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকসমূহ তার
অতিরিক্ত তারল্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী বন্ড ফান্ড হিসাবে স্হানান্তর করতে পারবে। তবে
মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত ফান্ড বিনিয়োগ করার পর কোনো লোক সানের সম্মুখীন হলে সাহিবুল মাল হিসেবে ইসলামী ব্যাংকসমূহকে বহন করতে হবে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহভিক্তিক তফসিলি ব্যাংক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার তফসিলি ব্যাংক কোম্পানির ইসলামী ব্যাংকিং শাখাসমূহের তারল্য ব্যবস্হাপনাকে অধিকতর সুসংহত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ইসলামী আন্তঃব্যাক ফান্ড মার্কেটে লেনদেনের নীতিমালা
নিম্নরূপ :
ক . ইসলামী শরী'আহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলো তাদের উদ্বৃত্ত তহবিল ইসলামী
বন্ড ফান্ডের (IBF) কাছে দৈনিক ভিত্তিতে হস্তান্তর
করতে পারে।
খ . জিম্মাদার হিসেবে 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' এই তহবিল গ্রহণ করবে। দৈনিক প্রোডাক্টের ভিক্তিতে মোট প্রাপ্ত তহবিলের বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর অর্জিত মুনাফা তহবিল সরবরাহকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে সাময়িকভাবে বন্টিত হবে।
সাময়িকভাবে বন্টিত মুনাফা বছর শেষে (জানুয়ারী - ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক
ঘোষিত চূড়ান্ত মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে। 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করায় প্রদত্ত তহবিল বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে তহবিলদাতাগণ কোনো মুনাফা প্রাপ্য হবে না।
গ . সব লেনদেন মুদারাবা ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। ঘ . 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কর্তৃক নির্ধারিত প্রফিট লস শেয়ারিং রেশিও (PLSR) অনুসারে আবেদনকারীকে (ইসলামী শরী'আহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার
ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা) ফান্ডের পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে আবেদনকৃত তহবিল সরবরাহ
করা হবে।
ঙ . তহবিলগ্রহীতা কর্তৃত ঘোষিত বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের সাময়িক মুনাফার হার অনুসারে মুনাফার হার নির্ধারিত হবে। ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদি আমানত কোনো তহবিল গ্রহীতার না থাকলে পরবর্তী মেয়াদের সাময়িক
মুনাফার হার ব্যবহৃত হবে।
চ . মেয়াদান্তে তহবিলগ্রহীতাকে নির্ধারিত পিএলএসআর অনুসারে মুনাফাসহ (যদি হয়) মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে। সাময়িকভাবে পরিশোধিত মুনাফা বছর শেষে ( জানুয়ারী -ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক ঘোষিত চূড়ান্ত
মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে।
ছ . গৃহীত তহবিলের মেয়াদ ১ দিন (ওভারনাইট)
হবে, তবে ছুটি থাকলে তা পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত বর্ধিত হবে।
জ . তহবিল লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নীতিমালা পরিপালন করতে হবে । এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকসমূহ তার
অতিরিক্ত তারল্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী বন্ড ফান্ড হিসাবে স্হানান্তর করতে পারবে। তবে
মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত ফান্ড বিনিয়োগ করার পর কোনো লোক সানের সম্মুখীন হলে সাহিবুল মাল হিসেবে ইসলামী ব্যাংকসমূহকে বহন করতে হবে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
মুদারাবার ভিক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহব
বিষয় -৮৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক, আইডিবি ও এডিবিসহ অন্যান্য বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক সংস্হা বিভিন্ন ব্যাংককে তহবিল প্রদান করে যা
তাদের নির্দেশিত -এসএমই পুনর্বিনিয়োগ, হোম লোন, নারী উদ্যোক্তা পুনর্বিনিয়োগ, কৃষিভিত্তিক পুনর্বিনিয়োগ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করতে হয়।
সাধারণত এ ধরনের তহবিলের বিপরীতে তহবিল
বা ফান্ডগ্রহীতার কাছ থেকে খুব কম মুনাফা গ্রহণ
করা হয়। সুদি নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত উক্ত ফান্ড ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ফান্ডদাতা প্রতিষ্ঠান যদি 'মুনাফায় অংশীদারিত্ব, সাহিবুল মাল কর্তৃক 'লোকসান বহন ' ইত্যাদি শর্তসহ মুদারাবার সকল নীতি মেনে নিয়ে ফান্ড প্রদানে সম্মত হয়, তাহলে ইসলামী ব্যাংক তা গ্রহণ করতে পারে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম
অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
তাদের নির্দেশিত -এসএমই পুনর্বিনিয়োগ, হোম লোন, নারী উদ্যোক্তা পুনর্বিনিয়োগ, কৃষিভিত্তিক পুনর্বিনিয়োগ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করতে হয়।
সাধারণত এ ধরনের তহবিলের বিপরীতে তহবিল
বা ফান্ডগ্রহীতার কাছ থেকে খুব কম মুনাফা গ্রহণ
করা হয়। সুদি নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত উক্ত ফান্ড ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ফান্ডদাতা প্রতিষ্ঠান যদি 'মুনাফায় অংশীদারিত্ব, সাহিবুল মাল কর্তৃক 'লোকসান বহন ' ইত্যাদি শর্তসহ মুদারাবার সকল নীতি মেনে নিয়ে ফান্ড প্রদানে সম্মত হয়, তাহলে ইসলামী ব্যাংক তা গ্রহণ করতে পারে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম
অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Tuesday, 24 September 2019
মুদারাবা কারবারে মুদারিবের নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ
বিষয় -৭৯ : ইসলামী ব্যাংক কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহকের সাথে মুদারাবি কারবারে অংশগ্রহণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সাহিবুল মাল হিসেবে পুঁজি সরবরাহ করে এবং গ্রাহক মুদারিব হিসেবে কারবার পরিচালনা করে। এখন ব্যবসার কোনো পর্যায়ে মুদারিব নিজের কিছু পুঁজি খাটালে উক্ত মুদারাবা কারবারটি মুশারাকা হয়ে যাবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা কারবার আরম্ভ করার পর
সাহিবুল মাল প্রদত্ত মূলধনের অতিরিক্ত কোনো
অর্থ যদি মুদারিব কারবারে বিনিয়োগ করে, তা হলে উক্ত কারবার কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং তা মুশারাকাও হয়ে যাবে না। বরং পূর্ববৎ মুদারাবাই থেকে যাবে। তবে মুদারিব কর্তৃক বিনিয়োগকৃত টাকার লাভ -লোকসানের দায়িত্ব মুদারিবের। অবশ্য সাহিবুল মাল -এর মুদারাবা তহবিল বিনিয়োগ করার পরই কেবল মুদারিব তার নিজের টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে, মুদারাবা কারবারে ব্যবহৃত মুদারিবের নিজ অর্থের যাবতীয় হিসাব -নিকাশ সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮০ : কোনো মুদারাবা মেয়াদি জমা হিসাব নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বন্ধ করা হলে তা থেকে আংশিক মুনাফা কর্তন করা বৈধ হবে কি?
সিদ্ধান্ত : টিডিআর ও অন্যান্য মেয়াদি জমা হিসাবের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নকালে
মুনাফা কর্তন না করে ন্যূনতম মুনাফা প্রদান করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৮১ : মুদারাবা পদ্ধতিতে প্রকল্পে লাভ হলে
চুক্তি অনুযায়ী মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে তা বন্টন হয় আর ক্ষতি হলে সাহিবুল মাল হিসেবে
ব্যাংককেই তা বহন করতে হয়। এ অবস্হায় কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : একই চুক্তির অধীনে চলমান মুদারাবার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী
লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ। তবে মুদারাবা বিনিয়োগটি চলমান মুদারাবা না হলে এবং উক্ত মুদারাবার লোকসান হলে উক্ত লোকসান একই গ্রাহকের অনুকূলে আলাদা বা পরবর্তী মুদারাবায় ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ নয়।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮২ : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে ব্যাংকের পাওনা
আদায় করা হয়। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হলেও গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে
ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে কনসাইনমেন্ট
(consignment) ভিত্তিতে মুদারাবা বিনিয়োগ করা হলে এবং সংশ্লিষ্ট মুদারাবা বিনিয়োগে লাভ হলে উক্ত লাভের অংশ দিয়ে বিনিয়োগের কিস্তি
পরিশোধে শরী'আহর কোনো বাধা নেই। কিন্তু মুদারাবা বিনিয়োগের মূলধন অপরিবর্তিত (intact) থাকলে এবং তা হতে কোনো লাভ/উৎপাদন না হলে উক্ত মুদারাবা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রিম কিস্তি আদায় বৈধ হবে না।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৩ : ইসলাসী ব্যাংকে অনুশীলিত মুদারাবা
পদ্ধতিতে বিনিয়োগলব্ধ মুনাফা মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বন্টিত হয়।
কিন্তু ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ অংশ কেবল সাহিবুল মালকে বহন করতে হয়। এমতাবস্হায় মুদারিব
কর্তৃক সাহিবুল মালের মূলধন অক্ষত থাকার গ্যারান্টি দেয়া বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ব্যবসায়ে লাভ -লোকসান যা -ই হোক না কেন সর্বাবস্হায় মুদারিব সাহিবুল মালের মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে -মুদারাবা বিনিয়োগে এরূপ শর্তরোপ করা বৈধ নয়। তবে মূলধনের নিরাপত্তার জন্য মুদারিবের কাছ থেকে
জামানত (mortgage/personal guarantee)
নেয়া যাবে এবং মুদারাবা ব্যবসায়ে সাহিবুল মালের তদারকি করার অধিকার থাকবে। তদুপরি
মুদারিবের অবহেলা বা অসততার কারণে মূলধনের লোকসান হলে উক্ত জামানতের মাধ্যমে
সাহিবুল মালের পাওনা আদায় করার ব্যাপারে
শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫২কম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ৮৪ : ইসলামী ব্যাংকের কোনো মুদারাবা জমাকারী মৃত্যুবরণ করলে তার মুদারাবা হিসাবে জমাকৃত অর্থ ব্যবহারের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কি?
সিদ্ধান্ত : মৃত ব্যক্তির মুদারাবা হিসাব তার ওয়ারিশ বা নমিনি কর্তৃক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে
এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত হিসাবে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৫ : ইসলামী ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (AD) শাখা কর্তৃক খোলা ইউজেন্স/ ডিফার্ড এলসির বিপরীতে গৃহীত (accepted) আমদানি
বিল সাইট ভিক্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং
ইউনিটের (OBU) মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS) সুবিধা ভোগ করার জন্য গ্রাহকগণ আবেদন করে থাকেন। উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অফশোর
ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে সাইট ভিত্তিতে বৈদেশিক দেনা পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের মার্জিন সাশ্রয় হয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে স্হানীয় মুদ্রায় আমদানি বিল পরিশোধ করা হলে তাকে আমদানি মূল্য বেশি পরিশোধ
করতে হয়। এমতাবস্হায় এ ধরনের বড় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ, আমদানি বাণিজ্যে ব্যাংকের অবস্হান আরো সুসংহতকরণ, সর্বোপরি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)
এর সাথে এবং রফতানি উন্নয়ন তহবিল (EDF)
এর ক্ষেত্রে অনুশীলিত নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা (মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ) পদ্ধতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমদানিকারকদের ইউজেন্স /ডিফার্ড এলসির বিপরীতে অথরাইজড ডিলার শাখা কর্তৃক গৃহীত (accepted) আমদানি বিল সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের
মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা পদ্ধতিতে তহবিল/বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইউজেন্স/ডিফার্ড এলসির বিপরীতে
গৃহীত (accepted) আমদানি বিল অ্যাট সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS)
সুবিধা প্রদানে মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
ক. আমদানিকারক মুরাবাহা চুক্তির ভিত্তিতে ওই শাখার মাধ্যমে দ্রব্য আমদানি করবেন।
খ. অথরাইড ডিলার শাখা ক) আমদানিকৃত দ্রব্য
গ্রাহকের কাছে মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয়
করবে। এ ধরনের আমদানির ক্ষেত্রে ইমপোর্ট এলসি হবে ইউজেন্স/ডিফার্ড পেমেন্টের ভিত্তিতে।
তবে সংশ্লিষ্ট এলসি -এর বিপরীতে আমদানি বিলের সূল্য অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে
অ্যাট সাইট ভিত্তিতে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ
থাকবে, খ) উক্ত সাইট পেমেন্ট রিফান্ডের জন্য ওমএডি শাখা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের সাথে
মুদারিব হিসেবে মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।
গ. অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সাহিবুল মাল হিসেবে অথরাইজড ডিলার (AD) এর সাথে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে এবং উক্ত
নির্দেশনা অনুযায়ী ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইটের ব্যবস্হা করবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা কারবার আরম্ভ করার পর
সাহিবুল মাল প্রদত্ত মূলধনের অতিরিক্ত কোনো
অর্থ যদি মুদারিব কারবারে বিনিয়োগ করে, তা হলে উক্ত কারবার কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং তা মুশারাকাও হয়ে যাবে না। বরং পূর্ববৎ মুদারাবাই থেকে যাবে। তবে মুদারিব কর্তৃক বিনিয়োগকৃত টাকার লাভ -লোকসানের দায়িত্ব মুদারিবের। অবশ্য সাহিবুল মাল -এর মুদারাবা তহবিল বিনিয়োগ করার পরই কেবল মুদারিব তার নিজের টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে, মুদারাবা কারবারে ব্যবহৃত মুদারিবের নিজ অর্থের যাবতীয় হিসাব -নিকাশ সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮০ : কোনো মুদারাবা মেয়াদি জমা হিসাব নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বন্ধ করা হলে তা থেকে আংশিক মুনাফা কর্তন করা বৈধ হবে কি?
সিদ্ধান্ত : টিডিআর ও অন্যান্য মেয়াদি জমা হিসাবের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নকালে
মুনাফা কর্তন না করে ন্যূনতম মুনাফা প্রদান করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৮১ : মুদারাবা পদ্ধতিতে প্রকল্পে লাভ হলে
চুক্তি অনুযায়ী মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে তা বন্টন হয় আর ক্ষতি হলে সাহিবুল মাল হিসেবে
ব্যাংককেই তা বহন করতে হয়। এ অবস্হায় কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : একই চুক্তির অধীনে চলমান মুদারাবার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী
লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ। তবে মুদারাবা বিনিয়োগটি চলমান মুদারাবা না হলে এবং উক্ত মুদারাবার লোকসান হলে উক্ত লোকসান একই গ্রাহকের অনুকূলে আলাদা বা পরবর্তী মুদারাবায় ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ নয়।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮২ : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে ব্যাংকের পাওনা
আদায় করা হয়। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হলেও গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে
ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে কনসাইনমেন্ট
(consignment) ভিত্তিতে মুদারাবা বিনিয়োগ করা হলে এবং সংশ্লিষ্ট মুদারাবা বিনিয়োগে লাভ হলে উক্ত লাভের অংশ দিয়ে বিনিয়োগের কিস্তি
পরিশোধে শরী'আহর কোনো বাধা নেই। কিন্তু মুদারাবা বিনিয়োগের মূলধন অপরিবর্তিত (intact) থাকলে এবং তা হতে কোনো লাভ/উৎপাদন না হলে উক্ত মুদারাবা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রিম কিস্তি আদায় বৈধ হবে না।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৩ : ইসলাসী ব্যাংকে অনুশীলিত মুদারাবা
পদ্ধতিতে বিনিয়োগলব্ধ মুনাফা মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বন্টিত হয়।
কিন্তু ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ অংশ কেবল সাহিবুল মালকে বহন করতে হয়। এমতাবস্হায় মুদারিব
কর্তৃক সাহিবুল মালের মূলধন অক্ষত থাকার গ্যারান্টি দেয়া বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ব্যবসায়ে লাভ -লোকসান যা -ই হোক না কেন সর্বাবস্হায় মুদারিব সাহিবুল মালের মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে -মুদারাবা বিনিয়োগে এরূপ শর্তরোপ করা বৈধ নয়। তবে মূলধনের নিরাপত্তার জন্য মুদারিবের কাছ থেকে
জামানত (mortgage/personal guarantee)
নেয়া যাবে এবং মুদারাবা ব্যবসায়ে সাহিবুল মালের তদারকি করার অধিকার থাকবে। তদুপরি
মুদারিবের অবহেলা বা অসততার কারণে মূলধনের লোকসান হলে উক্ত জামানতের মাধ্যমে
সাহিবুল মালের পাওনা আদায় করার ব্যাপারে
শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫২কম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ৮৪ : ইসলামী ব্যাংকের কোনো মুদারাবা জমাকারী মৃত্যুবরণ করলে তার মুদারাবা হিসাবে জমাকৃত অর্থ ব্যবহারের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কি?
সিদ্ধান্ত : মৃত ব্যক্তির মুদারাবা হিসাব তার ওয়ারিশ বা নমিনি কর্তৃক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে
এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত হিসাবে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৫ : ইসলামী ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (AD) শাখা কর্তৃক খোলা ইউজেন্স/ ডিফার্ড এলসির বিপরীতে গৃহীত (accepted) আমদানি
বিল সাইট ভিক্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং
ইউনিটের (OBU) মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS) সুবিধা ভোগ করার জন্য গ্রাহকগণ আবেদন করে থাকেন। উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অফশোর
ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে সাইট ভিত্তিতে বৈদেশিক দেনা পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের মার্জিন সাশ্রয় হয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে স্হানীয় মুদ্রায় আমদানি বিল পরিশোধ করা হলে তাকে আমদানি মূল্য বেশি পরিশোধ
করতে হয়। এমতাবস্হায় এ ধরনের বড় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ, আমদানি বাণিজ্যে ব্যাংকের অবস্হান আরো সুসংহতকরণ, সর্বোপরি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)
এর সাথে এবং রফতানি উন্নয়ন তহবিল (EDF)
এর ক্ষেত্রে অনুশীলিত নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা (মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ) পদ্ধতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমদানিকারকদের ইউজেন্স /ডিফার্ড এলসির বিপরীতে অথরাইজড ডিলার শাখা কর্তৃক গৃহীত (accepted) আমদানি বিল সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের
মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা পদ্ধতিতে তহবিল/বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইউজেন্স/ডিফার্ড এলসির বিপরীতে
গৃহীত (accepted) আমদানি বিল অ্যাট সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS)
সুবিধা প্রদানে মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
ক. আমদানিকারক মুরাবাহা চুক্তির ভিত্তিতে ওই শাখার মাধ্যমে দ্রব্য আমদানি করবেন।
খ. অথরাইড ডিলার শাখা ক) আমদানিকৃত দ্রব্য
গ্রাহকের কাছে মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয়
করবে। এ ধরনের আমদানির ক্ষেত্রে ইমপোর্ট এলসি হবে ইউজেন্স/ডিফার্ড পেমেন্টের ভিত্তিতে।
তবে সংশ্লিষ্ট এলসি -এর বিপরীতে আমদানি বিলের সূল্য অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে
অ্যাট সাইট ভিত্তিতে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ
থাকবে, খ) উক্ত সাইট পেমেন্ট রিফান্ডের জন্য ওমএডি শাখা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের সাথে
মুদারিব হিসেবে মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।
গ. অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সাহিবুল মাল হিসেবে অথরাইজড ডিলার (AD) এর সাথে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে এবং উক্ত
নির্দেশনা অনুযায়ী ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইটের ব্যবস্হা করবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
ডিপোজিট ও রিজার্ভ ফান্ড দিয়ে ব্যাংকের সম্পদ ক্রয়
বিষয় - ৭৭ : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ ডিপোজিট এবং পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ ইত্যাদি তহবিল দিয়ে নিজের ব্যবহারের জন্য ইসলামী ব্যাংক কোনো সম্পদ ক্রয় করতে পারবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ জমার
অর্থ দিয়ে ব্যাংকের সম্পত্তি ক্রয় করা যাবে না। তবে পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ -এর অর্থ ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ/সম্পত্তি ক্রয় করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# রফতানি বিলের বিপরীতে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ
বিষয় -৭৮ :পণ্য জাহাজিকরণের পরে সংশ্লিষ্ট ডিলের সাথে সম্পৃক্ত পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া,
শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ নগদ অর্থের
চাহিদা পূরণে শরী'আহ কাউন্সল বাই' -আস -সরফ পদ্ধতিতে রফতানিমূল্যের বিপরীতে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের
অনুমোদন দান করে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে হার প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। মাঝে মধ্যে মুদ্রার দাম এত কমে যায় যে, বিলের বিপরীতে ক্রয় করা মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দিনে বিক্রয় করতে গিয়ে ব্যাংক ব্যাপক লোকসানের
সম্মুখীন হয়। ফলে ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ আয় অনেক কমে যায়। এমতাবস্হায় রফতানির পরে
গ্রাহকের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে 'বাই আস -সরফ' -এর বিকল্প হিসেবে নিয়ন্ত্রিত ( resticted) মুদারাবা বা মুদারাবাহ আল -মুক্বাইয়্যাদাহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণভাবে পোস্ট শিপমেন্ট -পর্যায়ে
মুদারাবা পদ্ধতির বিনিয়োগ মুদারাবার মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং এ ক্ষেত্রে মুশারাকা পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পারে। কেননা, রফতানিকারী গ্রাহক পণ্য তৈরি করে জাহাজিকরণ সম্পন্ন করার পর রফতানি বিলের অর্থ পাওয়ার জন্য বিল ব্যাংকে জমা দেন এবং এ অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলের পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া, ফ্যাক্টরি ভাড়া ও শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক দেনা মিটিয়ে থাকেন,
তাই তিনি তার ব্যবসার শেষ প্রান্তে এসে ব্যাংককে তাতে শরিক হওয়ার প্র'স্তাব করলে ব্যাংক তাতে শরিক হতে পারে। এটি কারো চলমান ব্যবসায়ে
কাউকে শরিক/অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার
সাথে তুলনীয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পালন করতে হবে।।
ক . বিল আদায়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার যে ঝুঁকি
রয়েছে অংশীদার হিসেবে ব্যাংক উক্ত ঝুঁকি বহন করতে সম্মত হবে।
খ . ব্যাংকের ইকুইটি রফতানিকৃত পণ্য তৈরি ও
রফতানি করতে যেসব খরচ হয়েছে সংশ্লিষ্ট
ব্যবসা সেসব খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
গ . মুশারাকার অন্যান সাধারণ নীতিমালা মেনে
চলতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে মুশারাকা
চুক্তি করে নেয়া সর্বোত্তম পন্হা এবং মুশারাকার শর'ঈ নীতির সাথে অধিকতর সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ। অতএব ব্যাংক প্রথম থেকেই গ্রাহকের সাথে
মুশারাকা চুক্তি করে রাখবে এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন তা কার্যকর করবে। যদি সম্ভব না হয়
তাহলে ব্যবসায়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে ব্যাংক যখন
তহবিল ( ইকুইটি) দেবে তখন চুক্তি করলেও চলবে। তবে ব্যাংক প্রথম থেকে চুক্তি করার বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োগ করার
চেষ্টা করবে।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ জমার
অর্থ দিয়ে ব্যাংকের সম্পত্তি ক্রয় করা যাবে না। তবে পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ -এর অর্থ ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ/সম্পত্তি ক্রয় করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# রফতানি বিলের বিপরীতে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ
বিষয় -৭৮ :পণ্য জাহাজিকরণের পরে সংশ্লিষ্ট ডিলের সাথে সম্পৃক্ত পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া,
শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ নগদ অর্থের
চাহিদা পূরণে শরী'আহ কাউন্সল বাই' -আস -সরফ পদ্ধতিতে রফতানিমূল্যের বিপরীতে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের
অনুমোদন দান করে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে হার প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। মাঝে মধ্যে মুদ্রার দাম এত কমে যায় যে, বিলের বিপরীতে ক্রয় করা মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দিনে বিক্রয় করতে গিয়ে ব্যাংক ব্যাপক লোকসানের
সম্মুখীন হয়। ফলে ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ আয় অনেক কমে যায়। এমতাবস্হায় রফতানির পরে
গ্রাহকের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে 'বাই আস -সরফ' -এর বিকল্প হিসেবে নিয়ন্ত্রিত ( resticted) মুদারাবা বা মুদারাবাহ আল -মুক্বাইয়্যাদাহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণভাবে পোস্ট শিপমেন্ট -পর্যায়ে
মুদারাবা পদ্ধতির বিনিয়োগ মুদারাবার মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং এ ক্ষেত্রে মুশারাকা পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পারে। কেননা, রফতানিকারী গ্রাহক পণ্য তৈরি করে জাহাজিকরণ সম্পন্ন করার পর রফতানি বিলের অর্থ পাওয়ার জন্য বিল ব্যাংকে জমা দেন এবং এ অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলের পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া, ফ্যাক্টরি ভাড়া ও শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক দেনা মিটিয়ে থাকেন,
তাই তিনি তার ব্যবসার শেষ প্রান্তে এসে ব্যাংককে তাতে শরিক হওয়ার প্র'স্তাব করলে ব্যাংক তাতে শরিক হতে পারে। এটি কারো চলমান ব্যবসায়ে
কাউকে শরিক/অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার
সাথে তুলনীয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পালন করতে হবে।।
ক . বিল আদায়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার যে ঝুঁকি
রয়েছে অংশীদার হিসেবে ব্যাংক উক্ত ঝুঁকি বহন করতে সম্মত হবে।
খ . ব্যাংকের ইকুইটি রফতানিকৃত পণ্য তৈরি ও
রফতানি করতে যেসব খরচ হয়েছে সংশ্লিষ্ট
ব্যবসা সেসব খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
গ . মুশারাকার অন্যান সাধারণ নীতিমালা মেনে
চলতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে মুশারাকা
চুক্তি করে নেয়া সর্বোত্তম পন্হা এবং মুশারাকার শর'ঈ নীতির সাথে অধিকতর সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ। অতএব ব্যাংক প্রথম থেকেই গ্রাহকের সাথে
মুশারাকা চুক্তি করে রাখবে এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন তা কার্যকর করবে। যদি সম্ভব না হয়
তাহলে ব্যবসায়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে ব্যাংক যখন
তহবিল ( ইকুইটি) দেবে তখন চুক্তি করলেও চলবে। তবে ব্যাংক প্রথম থেকে চুক্তি করার বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োগ করার
চেষ্টা করবে।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Tuesday, 17 September 2019
মুদারাবা হিসাবে মুনাফার ওয়েটেজ পরিবর্তন
বিষয় -৭৪ : ব্যাংকের বিভিন্ন মুদারাবা জমা হিসাবে মুনাফা বন্টনের ওয়েটেজ পরিবর্তন করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালনসাপেক্ষে ব্যাংক যেকোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে পারবে :
ক. কোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে হলে শাখার নোটিশ বোর্ড বা ডিসপ্লের মাধ্যমে গ্রাহকদের অবহিত করার ব্যবস্হা করতে হবে।
খ. সাহিব আল -সিল -এর ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে।
গ. সাহিব আল -মাল যেন মুদারাবা চুক্তি মোতাবেক তার প্রাপ্য লভ্যাংশ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট হিসাব
বিষয় -৭৫ : নগদ অর্থ ওয়াকফ করা ও ইসলামী ব্যাংকের 'মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট' হিসাব পরিচালনার শর'ঈ নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : সব স্হাবর, অস্হাবর সম্পত্তি ও নগদ অর্থ ওয়াকফ করা যেতে পারে। তবে প্রস্তাবিত ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিম্নোরূপ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে :
ক. মুদারাবা 'ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট' খোলাসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাশ ওয়াকফ' তহবিল যেহেতু মুদারাবা নীতির ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয় সেহেতু লাভ -লোকসানের হিসাবও এ নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়াকফ তহবিল বা মূলধন অক্ষত (intact) না -ও থাকতে পারে। কারণ লোকসান হলে তা মূলধন থেকেই কর্তন করা হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে মূলধন অক্ষত থাকা শরী'আহসম্মত নয়।
খ. প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী ওয়াকফ -এর পক্ষ থেকে ব্যাংক ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার অভিযোগ উত্থাপিত হলে কিংবা অন্য যেকোনো যৌক্তিক কারণে ওয়াকফ তহবিল অন্যত্র স্হানান্তর করতে হলে ওয়াকিফ অথবা তার উত্তারাধিকারের জন্য সে সুযোগ থাকবে। তবে ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার দাবি যৌক্তিক কি না তা নির্ধারণের জন্য শরী'আহ কাউন্সলে প্রেরণ করা যেতে পারে।
গ. ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন
কমিটি ( independent committee) গঠন করা যেতে পারে, যে কমিটি ব্যাংকের ওয়াকফ ক্যাশ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামী শরী'আহ এবং দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী সর্বজন শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তি হবেন এ কমিটির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ইসলামী শরী'আহ
ও দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী আরো দুজন,
ওয়াকিফদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন ও ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সলের প্রতিনিধি হিসেবে একজনসহ কমপক্ষে চারজন সদস্য এ কমিটির অন্তর্ভূক্ত হবেন।
# কমিটির দায়িত্ব
@ ওয়াকফ হিসাব খোলা, পরিচালনা,
হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয়, ব্যয়, হিসাব বন্ধ,স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত প্রদান।
@ ওয়াকিফের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অনুপস্হিতিতে ওয়াকফ হিসাবের যেকোনো
সমস্যা বা প্রশ্নের সমাধান প্রদান।
@ ওয়াকিফ ও ব্যাংকের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান। :
@ ওয়াকফ ক্যাশ হিসাবের বিষয়ে এ
কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ঘ . সাধারণভাবে ক্যাশ ওয়াকফের মূল জমা একটি শাশ্বত ও চিরন্তন দানরূপে গ্রহণ করা হবে। তবে ঐ হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয় বা লাভ ব্যবহার বা ব্যয়ের ক্ষেত্র পরিবর্তন/স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে উল্লিখিত কমিটি ঐ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ঙ. যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে ব্যাংক যেকোনো ওয়াকফ ক্যাশ হিসাব খুলতে অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারে। এরূপ শর্ত আইনের দৃষ্টিতে বৈধ,কারণ, কাউকে কোনো চুক্তিতে তার অসম্মতিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা যায় না। তবে
আগেই খোলা হিসাব কোনো কারণে বন্ধ করা জরুরি হলে সংশ্লিষ্ট হিসাব বন্ধ করার পর ওয়াকফ তহবিলের ব্যবহার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা হিসাব খোলার আবেদনপত্রে থাকতে হবে। এর পরও কোনো প্রশ্ন দেখা দিলে উক্ত বিষয়ে প্রস্তাবিত কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে ।।
চ. যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা হবে তা সম্পন্ন বা
বাস্তবায়নের পর ওয়াকফের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে সে সম্বন্ধে 'ওয়াকফ হিসাব' খোলার সময় বিশেষ নির্দেশনা হিসাব খোলার পত্রে উল্লেখ থাকবে। এতদসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা হিসাব
খোলার আবেদনপত্রে উল্লেখ না থাকলে বা বিতর্ক দেখা দিলে কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। (সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৭৬ : ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট (MWCDA) বন্ধ বা স্হানান্তর করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রবর্তিত মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ( MWCDA) বন্ধ অথবা স্হানান্তরের
ক্ষেত্রে ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই। খুলাফায়ে রাশেদার যুগে ওয়াকফ সম্পদ
স্হানান্তরের নজির রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া তার
'মাজমু আতুল ফাতাওয়া' গ্রন্হের কিতাবুল ওয়াকফ -এ উল্লেখ করেছেন :
হযরত উমর রা. ইবনে মাসউদ রা. -কে কুফার জামে মসজিদকে খেজুর ব্যবসায়ীদের বাজারের স্হানে এবং বাজারকে উক্ত জামে মসজিদের স্হানে স্হানান্তরের জন্য নির্দেশ দেন এবং ইবনে মাসউদ রা. তা কার্যকর করেন।
(মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া, কিতাবুল ওয়াকফ, খ. ৩১,পৃ. ১২৭)
এ ছাড়া ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় তা মু'আমালাহর অন্তর্ভূক্ত। আর মু'আমালাহ বিষয়ে ইসলামী শরী'আহর মূলনীতি হচ্ছে, 'লেনদেনটি অবৈধ হওয়ার পক্ষে কোনো শর'ঈ
দলিল বা নস না পাওয়া গেলে তা বৈধ'। সুতরাং ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর করা যাবে না - মর্মে যেহেতু বিশুদ্ধ ও দ্ব্যর্থহীন কোনো দলিল নেই তাই ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর বৈধ। এ ব্যাপারে ব্যাংকের
মুদারাবা মোহর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে তার টাকা নিয়ে তার স্ত্রীর মোহর আদায় করল কি না কিংবা
হজ্বের টাকা নিয়ে হজ্ব করল কি না তা দেখা যেমন ব্যাংকের দায়িত্ব নয়, তেমনি ওয়াকফ (সাহিব আল -মাল) লাভজনক মনে করে তার ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা স্হানান্তর করে অন্য
কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে ওয়াকফ সম্পদের
পরবর্তী পরিণতি চিন্তা করে উক্ত ফান্ড আটকে রাখা মুদারিব হিসেবে ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে না।
(সূত্র: ১৩ জুন ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালনসাপেক্ষে ব্যাংক যেকোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে পারবে :
ক. কোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে হলে শাখার নোটিশ বোর্ড বা ডিসপ্লের মাধ্যমে গ্রাহকদের অবহিত করার ব্যবস্হা করতে হবে।
খ. সাহিব আল -সিল -এর ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে।
গ. সাহিব আল -মাল যেন মুদারাবা চুক্তি মোতাবেক তার প্রাপ্য লভ্যাংশ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট হিসাব
বিষয় -৭৫ : নগদ অর্থ ওয়াকফ করা ও ইসলামী ব্যাংকের 'মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট' হিসাব পরিচালনার শর'ঈ নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : সব স্হাবর, অস্হাবর সম্পত্তি ও নগদ অর্থ ওয়াকফ করা যেতে পারে। তবে প্রস্তাবিত ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিম্নোরূপ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে :
ক. মুদারাবা 'ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট' খোলাসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাশ ওয়াকফ' তহবিল যেহেতু মুদারাবা নীতির ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয় সেহেতু লাভ -লোকসানের হিসাবও এ নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়াকফ তহবিল বা মূলধন অক্ষত (intact) না -ও থাকতে পারে। কারণ লোকসান হলে তা মূলধন থেকেই কর্তন করা হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে মূলধন অক্ষত থাকা শরী'আহসম্মত নয়।
খ. প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী ওয়াকফ -এর পক্ষ থেকে ব্যাংক ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার অভিযোগ উত্থাপিত হলে কিংবা অন্য যেকোনো যৌক্তিক কারণে ওয়াকফ তহবিল অন্যত্র স্হানান্তর করতে হলে ওয়াকিফ অথবা তার উত্তারাধিকারের জন্য সে সুযোগ থাকবে। তবে ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার দাবি যৌক্তিক কি না তা নির্ধারণের জন্য শরী'আহ কাউন্সলে প্রেরণ করা যেতে পারে।
গ. ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন
কমিটি ( independent committee) গঠন করা যেতে পারে, যে কমিটি ব্যাংকের ওয়াকফ ক্যাশ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামী শরী'আহ এবং দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী সর্বজন শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তি হবেন এ কমিটির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ইসলামী শরী'আহ
ও দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী আরো দুজন,
ওয়াকিফদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন ও ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সলের প্রতিনিধি হিসেবে একজনসহ কমপক্ষে চারজন সদস্য এ কমিটির অন্তর্ভূক্ত হবেন।
# কমিটির দায়িত্ব
@ ওয়াকফ হিসাব খোলা, পরিচালনা,
হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয়, ব্যয়, হিসাব বন্ধ,স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত প্রদান।
@ ওয়াকিফের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অনুপস্হিতিতে ওয়াকফ হিসাবের যেকোনো
সমস্যা বা প্রশ্নের সমাধান প্রদান।
@ ওয়াকিফ ও ব্যাংকের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান। :
@ ওয়াকফ ক্যাশ হিসাবের বিষয়ে এ
কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ঘ . সাধারণভাবে ক্যাশ ওয়াকফের মূল জমা একটি শাশ্বত ও চিরন্তন দানরূপে গ্রহণ করা হবে। তবে ঐ হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয় বা লাভ ব্যবহার বা ব্যয়ের ক্ষেত্র পরিবর্তন/স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে উল্লিখিত কমিটি ঐ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ঙ. যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে ব্যাংক যেকোনো ওয়াকফ ক্যাশ হিসাব খুলতে অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারে। এরূপ শর্ত আইনের দৃষ্টিতে বৈধ,কারণ, কাউকে কোনো চুক্তিতে তার অসম্মতিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা যায় না। তবে
আগেই খোলা হিসাব কোনো কারণে বন্ধ করা জরুরি হলে সংশ্লিষ্ট হিসাব বন্ধ করার পর ওয়াকফ তহবিলের ব্যবহার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা হিসাব খোলার আবেদনপত্রে থাকতে হবে। এর পরও কোনো প্রশ্ন দেখা দিলে উক্ত বিষয়ে প্রস্তাবিত কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে ।।
চ. যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা হবে তা সম্পন্ন বা
বাস্তবায়নের পর ওয়াকফের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে সে সম্বন্ধে 'ওয়াকফ হিসাব' খোলার সময় বিশেষ নির্দেশনা হিসাব খোলার পত্রে উল্লেখ থাকবে। এতদসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা হিসাব
খোলার আবেদনপত্রে উল্লেখ না থাকলে বা বিতর্ক দেখা দিলে কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। (সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৭৬ : ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট (MWCDA) বন্ধ বা স্হানান্তর করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রবর্তিত মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ( MWCDA) বন্ধ অথবা স্হানান্তরের
ক্ষেত্রে ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই। খুলাফায়ে রাশেদার যুগে ওয়াকফ সম্পদ
স্হানান্তরের নজির রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া তার
'মাজমু আতুল ফাতাওয়া' গ্রন্হের কিতাবুল ওয়াকফ -এ উল্লেখ করেছেন :
হযরত উমর রা. ইবনে মাসউদ রা. -কে কুফার জামে মসজিদকে খেজুর ব্যবসায়ীদের বাজারের স্হানে এবং বাজারকে উক্ত জামে মসজিদের স্হানে স্হানান্তরের জন্য নির্দেশ দেন এবং ইবনে মাসউদ রা. তা কার্যকর করেন।
(মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া, কিতাবুল ওয়াকফ, খ. ৩১,পৃ. ১২৭)
এ ছাড়া ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় তা মু'আমালাহর অন্তর্ভূক্ত। আর মু'আমালাহ বিষয়ে ইসলামী শরী'আহর মূলনীতি হচ্ছে, 'লেনদেনটি অবৈধ হওয়ার পক্ষে কোনো শর'ঈ
দলিল বা নস না পাওয়া গেলে তা বৈধ'। সুতরাং ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর করা যাবে না - মর্মে যেহেতু বিশুদ্ধ ও দ্ব্যর্থহীন কোনো দলিল নেই তাই ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর বৈধ। এ ব্যাপারে ব্যাংকের
মুদারাবা মোহর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে তার টাকা নিয়ে তার স্ত্রীর মোহর আদায় করল কি না কিংবা
হজ্বের টাকা নিয়ে হজ্ব করল কি না তা দেখা যেমন ব্যাংকের দায়িত্ব নয়, তেমনি ওয়াকফ (সাহিব আল -মাল) লাভজনক মনে করে তার ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা স্হানান্তর করে অন্য
কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে ওয়াকফ সম্পদের
পরবর্তী পরিণতি চিন্তা করে উক্ত ফান্ড আটকে রাখা মুদারিব হিসেবে ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে না।
(সূত্র: ১৩ জুন ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
মুদারাবা Bond মুদারাবা জমা হিসাবের সাময়িক মুনাফা ও চুড়ান্ত মুনাফার সমন্বয়
বর্তমানে ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের আগ পর্যন্ত মুদারাবা জমা হিসাবে সাময়িক হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। অতঃপর বছর শেষে লাভ -লোকসান হিসাব চুড়ান্তকরণের পর চূড়ান্ত মুনাফা ও সাময়িক হারেরপ্রদত্ত মুনাফার সমন্বয় করা হয়। অর্থাৎ মুনাফার সাময়িক হারের চেয়ে চূড়ান্ত হার বেশি হলে উক্ত অতিরিক্ত মুনাফা গ্রাহকের জমা হিসাবে স্হানান্তর এবং কম হলে তা উক্ত হিসাব থেকে কর্তন করা হয়। কিন্তু যেসব মুদারাবা জমা হিসাব
ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের আগেই বন্ধ হয়ে যায় সেসব হিসাব মুনাফা প্রদানের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের পর সাময়িক হারে প্রদত্ত মুনাফা থেকে চূড়ান্ত মুনাফা কম বা বেশি হলে তা চালু হিসিবসমূহে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কেউ
হিসাব বন্ধ করে চলে গেলে বেশি মুনাফার ক্ষেত্রে তার পাওনা টাকা তাকে প্রদান করা কিংবা কম মুনাফার ক্ষেত্রে তার কাছ থেকে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা কঠিন। এমতাবস্হায় মুদারাবা গ্রাহকদের বন্ধ হিসাবসমূহে প্রদেয় মুনাফা বন্টনে
যেন সমস্যা না হয় সেজন্য গ্রাহক যখনই কোনো মুদারাবা হিসাব বন্ধ করতে আসবেন তখনই তার সাথে অথবা তার পরিচিত অন্য কারো সাথে ভবিষ্যতে যোগাযোগের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই -মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি লিখে রাখতে হবে এবং
ব্যাংকের eIBS এ পোস্টিং দিতে হবে।
(সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের আগেই বন্ধ হয়ে যায় সেসব হিসাব মুনাফা প্রদানের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের পর সাময়িক হারে প্রদত্ত মুনাফা থেকে চূড়ান্ত মুনাফা কম বা বেশি হলে তা চালু হিসিবসমূহে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কেউ
হিসাব বন্ধ করে চলে গেলে বেশি মুনাফার ক্ষেত্রে তার পাওনা টাকা তাকে প্রদান করা কিংবা কম মুনাফার ক্ষেত্রে তার কাছ থেকে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা কঠিন। এমতাবস্হায় মুদারাবা গ্রাহকদের বন্ধ হিসাবসমূহে প্রদেয় মুনাফা বন্টনে
যেন সমস্যা না হয় সেজন্য গ্রাহক যখনই কোনো মুদারাবা হিসাব বন্ধ করতে আসবেন তখনই তার সাথে অথবা তার পরিচিত অন্য কারো সাথে ভবিষ্যতে যোগাযোগের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই -মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি লিখে রাখতে হবে এবং
ব্যাংকের eIBS এ পোস্টিং দিতে হবে।
(সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -৬৭ : এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে
শরী'আহসম্মত কোন পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়?
সিদ্ধান্ত : এয়ার টিকেটের মাধ্যমে সেবার ক্রয় -বিক্রয় হয়ে থাকে। যেহেতু এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতির পরিবর্তে মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দেয়াই সমীচীন।
(১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
মুশারাকা বিনিয়োগের মোট মুনাফা/নিট মুনাফা বন্টন
বিষয় -৬৮ : মুশারাকা প্রকল্পের বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করা বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সম্পাদিত মুশারাকা চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করায় শরী'আহতে কোনো বাধা নেই। যেমন - ১ . বীমা খরচ ২. পরিবহণ খরচ ৩. পণ্যের সরবরাহকারীকে মূল্য
পরিশোধের জন্য অর্থ প্রেরণ বাবদ ব্যাংকের খরচ ৪ . পণ্য ক্রয়ের জন্য ব্যাংক ও গ্রাহকের প্রতিনিধির যাতায়াত ও থাকা -খাওয়া বাবদ খরচ৫. গুদামজাতকরণ খরচ, ৬. বাজারজাতকরণ খরচ ইত্যাদি।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
মুশারাকা বিনিয়োগকে এইচপিএসএম -এ রূপান্তর
বিষয় -৬৯ : মুশারাকা পদ্ধতিতে গৃহীত বিনিয়োগ প্রকল্প লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃক মূলধন অনুপাতে লোকসান বহনের পরও গ্রাহক একসাথে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এ অবস্হায় উক্ত মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম পদ্ধতিতে রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত ক্ষেত্রে মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম বিনিয়োগে রূপান্তর করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কারণ, ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা ( retrospective effect) দিয়ে এইচপিএসএম চুক্তি করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ২৮ মার্চ ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সানড্রি হিসাবে সংরক্ষিত গ্রাহকের ইকুইটির ওপর মুনাফা প্রদান
বিষয় -৭০ : মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রদত্ত ইকুইটি মুশারাকা হিসাবে জমা না করে ব্যাংকের সানড্রি হিসাব
( sundry A/C -এ জমা করা শরী'আহসম্মত হবে কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা পদ্ধতিতে গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত ইকুইটি/মূলধনের অংশ ব্যাংকের বিবিধ হিসাবে জমা রাখার অনুশীলন একেবারেই অযৌক্তিক ও
অপ্রাসঙ্গিক। গ্রাহকের ও ব্যাংকের ইকুইটি সংশ্লিষ্ট
মুশারাকা বিনিয়োগ হিসাবে জমা হতে হবে এবং মুশারাকা কারবারের যাবতীয় লেনদেন হবে এই
হিসাবেই। এটি মুশারাকার অন্যতম শর্ত।
(সূত্র : ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
অংশীদার যথাসময়ে পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জরিমানা আদায়
বিষয় ৭১ : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা,
অব্যবস্হাপনা ও ক্রটির কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করা না গেলে অথবা হিসাব চূড়ান্ত করার পরও গ্রাহক ব্যাংকের পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা, অব্যবস্হাপনা ইত্যাদি কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হলে অথবা চূড়ান্ত হিসাবান্তে ব্যাংকের পাওনা প্রতিশ্রুত সময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের ওপর ক্ষতিপূরণ (compensation) আরোপ করা যাবে। তবে উক্ত ক্ষতিপূরণ বৈধ আয় হিসেবে গণ্য হবে না। উল্লেখ্য যে, উক্ত ক্ষতিপূরণ সুদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র: ৯ জুন ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় হিসেবে অন্তর্ভূূ্ক্ততীকরন
বিষয় -৭২ : মুশারাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত
করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়গের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
(সূত্র: ১০ জুন ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
শরী'আহসম্মত কোন পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়?
সিদ্ধান্ত : এয়ার টিকেটের মাধ্যমে সেবার ক্রয় -বিক্রয় হয়ে থাকে। যেহেতু এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতির পরিবর্তে মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দেয়াই সমীচীন।
(১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
মুশারাকা বিনিয়োগের মোট মুনাফা/নিট মুনাফা বন্টন
বিষয় -৬৮ : মুশারাকা প্রকল্পের বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করা বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সম্পাদিত মুশারাকা চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করায় শরী'আহতে কোনো বাধা নেই। যেমন - ১ . বীমা খরচ ২. পরিবহণ খরচ ৩. পণ্যের সরবরাহকারীকে মূল্য
পরিশোধের জন্য অর্থ প্রেরণ বাবদ ব্যাংকের খরচ ৪ . পণ্য ক্রয়ের জন্য ব্যাংক ও গ্রাহকের প্রতিনিধির যাতায়াত ও থাকা -খাওয়া বাবদ খরচ৫. গুদামজাতকরণ খরচ, ৬. বাজারজাতকরণ খরচ ইত্যাদি।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
মুশারাকা বিনিয়োগকে এইচপিএসএম -এ রূপান্তর
বিষয় -৬৯ : মুশারাকা পদ্ধতিতে গৃহীত বিনিয়োগ প্রকল্প লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃক মূলধন অনুপাতে লোকসান বহনের পরও গ্রাহক একসাথে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এ অবস্হায় উক্ত মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম পদ্ধতিতে রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত ক্ষেত্রে মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম বিনিয়োগে রূপান্তর করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কারণ, ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা ( retrospective effect) দিয়ে এইচপিএসএম চুক্তি করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ২৮ মার্চ ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সানড্রি হিসাবে সংরক্ষিত গ্রাহকের ইকুইটির ওপর মুনাফা প্রদান
বিষয় -৭০ : মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রদত্ত ইকুইটি মুশারাকা হিসাবে জমা না করে ব্যাংকের সানড্রি হিসাব
( sundry A/C -এ জমা করা শরী'আহসম্মত হবে কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা পদ্ধতিতে গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত ইকুইটি/মূলধনের অংশ ব্যাংকের বিবিধ হিসাবে জমা রাখার অনুশীলন একেবারেই অযৌক্তিক ও
অপ্রাসঙ্গিক। গ্রাহকের ও ব্যাংকের ইকুইটি সংশ্লিষ্ট
মুশারাকা বিনিয়োগ হিসাবে জমা হতে হবে এবং মুশারাকা কারবারের যাবতীয় লেনদেন হবে এই
হিসাবেই। এটি মুশারাকার অন্যতম শর্ত।
(সূত্র : ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
অংশীদার যথাসময়ে পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জরিমানা আদায়
বিষয় ৭১ : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা,
অব্যবস্হাপনা ও ক্রটির কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করা না গেলে অথবা হিসাব চূড়ান্ত করার পরও গ্রাহক ব্যাংকের পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা, অব্যবস্হাপনা ইত্যাদি কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হলে অথবা চূড়ান্ত হিসাবান্তে ব্যাংকের পাওনা প্রতিশ্রুত সময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের ওপর ক্ষতিপূরণ (compensation) আরোপ করা যাবে। তবে উক্ত ক্ষতিপূরণ বৈধ আয় হিসেবে গণ্য হবে না। উল্লেখ্য যে, উক্ত ক্ষতিপূরণ সুদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র: ৯ জুন ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় হিসেবে অন্তর্ভূূ্ক্ততীকরন
বিষয় -৭২ : মুশারাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত
করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়গের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
(সূত্র: ১০ জুন ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Monday, 16 September 2019
কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষনে মুশারাকা পদ্ধতি
বিষয় -৬৬: কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষনের ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত কোন বিনিয়োগপদ্ধতি অনুশীলন করা যায়?
সিদ্ধান্ত : কোল্ড স্টোরেজে আলুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পরিপালনসাপেক্ষে গ্রাহকের সাথে ( কোল্ড স্টোরেজের সালিকের সাথে) মুনাফায় অংশগ্রহণ (income sharing) এর ভিত্তিতে 'মুশারাকা মুকাইয়্যাদাহ' অনুশীলন করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পালন করতে হবে :
ক. কোল্ড স্টোরেজের উল্লেখযোগ্য প্রধান প্রধান খরচকে হিসাবের অন্তর্ভূক্ত করা হবে (অন্যান্য খুচরা খরচ গ্রাহক বহন করবে)।
খ. আলু উৎপাদনকারী /সরবরাহকারী/এজেন্ট/পার্টিদেরকে অগ্রিম প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের /শাখার কর্মকর্তা/কর্মচারী সেখানে উপস্হিত থাকবেন এবং ব্যাংক -প্রদত্ত তহবিল গ্রাগক সুদমুক্তভাবে আলু ক্রয় -বিক্রয়ে ব্যবহার করবেন মর্মে চুক্তিপত্রে একটি ধারা সংযোজন করতে হবে। গ. আলু জমা রেখে কোল্ড স্টোরেজ থেকে উৎপাদনকারীকে যে রিসিট প্রদান করা হয় তার বিপরীতে কোনো ঋণ দেয়া যাবে না।
ঘ. সাধারণ মুশারাকার অন্যান্য শর্তাবলিও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
(সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৬ তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
সিদ্ধান্ত : কোল্ড স্টোরেজে আলুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পরিপালনসাপেক্ষে গ্রাহকের সাথে ( কোল্ড স্টোরেজের সালিকের সাথে) মুনাফায় অংশগ্রহণ (income sharing) এর ভিত্তিতে 'মুশারাকা মুকাইয়্যাদাহ' অনুশীলন করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পালন করতে হবে :
ক. কোল্ড স্টোরেজের উল্লেখযোগ্য প্রধান প্রধান খরচকে হিসাবের অন্তর্ভূক্ত করা হবে (অন্যান্য খুচরা খরচ গ্রাহক বহন করবে)।
খ. আলু উৎপাদনকারী /সরবরাহকারী/এজেন্ট/পার্টিদেরকে অগ্রিম প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের /শাখার কর্মকর্তা/কর্মচারী সেখানে উপস্হিত থাকবেন এবং ব্যাংক -প্রদত্ত তহবিল গ্রাগক সুদমুক্তভাবে আলু ক্রয় -বিক্রয়ে ব্যবহার করবেন মর্মে চুক্তিপত্রে একটি ধারা সংযোজন করতে হবে। গ. আলু জমা রেখে কোল্ড স্টোরেজ থেকে উৎপাদনকারীকে যে রিসিট প্রদান করা হয় তার বিপরীতে কোনো ঋণ দেয়া যাবে না।
ঘ. সাধারণ মুশারাকার অন্যান্য শর্তাবলিও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
(সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৬ তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
কনসাইনমেন্ট -ভিত্তিক মুশারাকার বৈধতা
বিষয় -৬৫ : মুশারাকা পদ্ধতিতে পুরো প্রকল্পে অংশগ্রহণের পরিবর্তে গ্রাহকের কোনো ডিলে কনসাইনমেন্ট বিনিয়োগ প্রদান করলে তা শরী'আহসম্মত হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : শরী'আহর নীতিমালা পরিপালন সাপেক্ষে কনসাইনমেন্টভিত্তিক মুশারাকা করায় শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : শরী'আহর নীতিমালা পরিপালন সাপেক্ষে কনসাইনমেন্টভিত্তিক মুশারাকা করায় শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Sunday, 15 September 2019
মুশারাকা মুতানাকিসা বা ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা
বিষয় -৬৪: মুশারাকা মুতানাকিসা বা ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে সাধারণ মুশারাকার অতিরিক্ত আর কী শর্ত পালন করতে হবে?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা মুতানাকিসা বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে মুশারাকার সাধারণ নিয়মাবলির পাশাপাশি নিম্নোক্ত শর্তাবলিও পরিপালন করতে হবে :
ক. প্রকল্প শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের অংশ অনুুুুরূপ মূল্যে ক্রয় করার অঙ্গীকার করবে না। কারণ, এতে এক অংশীদার কর্তৃক অপর অংশীদারের অংশের জামানত হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে ক্রয় -বিক্রয়ের দিনে বাজারমূল্যে কিংবা ক্রয় -বিক্রয়ককালে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিক্রিতব্য
অংশের মূল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত।
খ. মুশারাকার পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফার হার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। লাভের কোনো নির্দিষ্ট অম্ক নির্ধারণ করা যাবে না, তবে মূলধনের (শেয়ারের) হারে আনুপাতিক লাভ বন্টনের শর্ত করা বৈধ ।
গ. চুক্তিপত্রে মুশারাকার অন্যান্য দায়িত্ব -কর্তব্য
সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
(১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৫৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা মুতানাকিসা বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে মুশারাকার সাধারণ নিয়মাবলির পাশাপাশি নিম্নোক্ত শর্তাবলিও পরিপালন করতে হবে :
ক. প্রকল্প শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের অংশ অনুুুুরূপ মূল্যে ক্রয় করার অঙ্গীকার করবে না। কারণ, এতে এক অংশীদার কর্তৃক অপর অংশীদারের অংশের জামানত হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে ক্রয় -বিক্রয়ের দিনে বাজারমূল্যে কিংবা ক্রয় -বিক্রয়ককালে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিক্রিতব্য
অংশের মূল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত।
খ. মুশারাকার পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফার হার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। লাভের কোনো নির্দিষ্ট অম্ক নির্ধারণ করা যাবে না, তবে মূলধনের (শেয়ারের) হারে আনুপাতিক লাভ বন্টনের শর্ত করা বৈধ ।
গ. চুক্তিপত্রে মুশারাকার অন্যান্য দায়িত্ব -কর্তব্য
সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
(১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৫৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
এক অংশীদারের অনুমতি ছাড়াই অপর অংশীদার কর্তৃক কারবার পরিদর্শন
বিষয় -৬৩ : মুশারাকা কারবারে এক অংশীদারের অনুমতি ছাড়াই অপর অংশীদার কর্তৃক কারবার পরিদর্শন করা বৈধ কি?
সিদ্ধান্ত : কারবারস্হলে যাওয়ার জন্য মুশারাকা
কারবারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পূর্ব অনুমতি ছাড়াই আকস্নিক পরিদর্শনে (surprise
visit) যাওয়া শুধু জায়েযই নয়, বরং প্রয়োজনে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ করা অবশ্যকর্তব্য। এতে ব্যাংক ও জনগণের আমানতের সুষ্ঠু সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
(সূত্র: ৩০ নভেম্বর ১৯৮৫সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : কারবারস্হলে যাওয়ার জন্য মুশারাকা
কারবারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পূর্ব অনুমতি ছাড়াই আকস্নিক পরিদর্শনে (surprise
visit) যাওয়া শুধু জায়েযই নয়, বরং প্রয়োজনে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ করা অবশ্যকর্তব্য। এতে ব্যাংক ও জনগণের আমানতের সুষ্ঠু সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
(সূত্র: ৩০ নভেম্বর ১৯৮৫সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
মুশারাকা কারবারে সম্পদকে মূলধন হিসেবে গণ্য করা
বিষয় -৬২ : মুশারাকা পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য কারবারে অংশগ্রহণকালে অংশীদারগণকে তাদের মাঝে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মূলধন জোগান দিতে হয়। সাধারণত উক্ত মূলধন নগদ আকারে হয়ে থাকে। কিন্তু যদি কোনো অংশীদার নগদ অর্থের পরিবর্তে কোনো ব্যবসায়িক পণ্যসামগ্রী, স্হাবর সম্পত্তি কিংবা অন্য কোনো অস্হাবর মেশিনারিজের মাধ্যমে মুশারাকা কারবারে অংশগ্রহণ করতে চায় সে ক্ষেত্রে শরী'আহর বিধান কি ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণত কোনো মুশারাকা কারবারের অংশীদারগণ চুক্তি অনুযায়ী নগদ অর্থে মূলধনের
জোগান দিয়ে থাকেন। তবে কেউ যদি নগদ অর্থের পরিবর্তে ব্যবসায়িক পণ্য, স্হাবর সম্পত্তি,সেশিনারিজ -ইকুইপমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে তাতেও কতিপয় শর্তসাপেক্ষে শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই। শর্তগুলো নিম্নোরূপ :
ক. পণ্যের মাধ্যমে প্রদত্ত ইকুইটির যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করে নিতে হবে।
খ. উক্ত পণ্য সব ধরনের দায়মুক্ত হতে হবে।
গ. সংশ্লিষ্ট পণ্য আলোচ্য মুশারাকা কারবারে সরাসরি ব্যবহ্নত হতে হবে।
ঘ. পূর্ববর্তী অনাদায়ী /খেলাপি গ্রাহকের দেনা বর্তমান মুশারাকার ইকুইটি হতে পারবে না।
ঙ. সিকিউরিটি/মর্টগেজ করা সম্পত্তি ইকুইটি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : সাধারণত কোনো মুশারাকা কারবারের অংশীদারগণ চুক্তি অনুযায়ী নগদ অর্থে মূলধনের
জোগান দিয়ে থাকেন। তবে কেউ যদি নগদ অর্থের পরিবর্তে ব্যবসায়িক পণ্য, স্হাবর সম্পত্তি,সেশিনারিজ -ইকুইপমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে তাতেও কতিপয় শর্তসাপেক্ষে শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই। শর্তগুলো নিম্নোরূপ :
ক. পণ্যের মাধ্যমে প্রদত্ত ইকুইটির যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করে নিতে হবে।
খ. উক্ত পণ্য সব ধরনের দায়মুক্ত হতে হবে।
গ. সংশ্লিষ্ট পণ্য আলোচ্য মুশারাকা কারবারে সরাসরি ব্যবহ্নত হতে হবে।
ঘ. পূর্ববর্তী অনাদায়ী /খেলাপি গ্রাহকের দেনা বর্তমান মুশারাকার ইকুইটি হতে পারবে না।
ঙ. সিকিউরিটি/মর্টগেজ করা সম্পত্তি ইকুইটি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
মুশারাকা মুশারাকা প্রকল্পে লোকসান হলে প্রাক্কলিত মুনাফা/ক্ষতিপূরণ আরোপ
বিষয় -৬০: মুশারাকা প্রকল্পে লোকসান হলে প্রদত্ত বিনিয়োগের ওপর প্রাক্কলিত মুনাফা আদায় এবং
ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষকে মুদূলধন অনুপাতে লোকসান বহন করতে হবে। সুতরাং মুশারাকা পদ্ধতির প্রকল্পে লোকসান হলে এ বিনিয়োগের ওপর প্রাক্কালিত মুনাফা আদায় ও ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র: ৩০ ডিসেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
মুশারাকা চুক্তি সম্পাদনের পর মূলধনের অংশ হ্রাস -বৃদ্ধি
বিষয় - ৬১ : মুশারাকা বিনিয়োগে অংশীদারগণের মূলধন ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণপূর্বক চুক্তিপত্র সম্পাদনের পর সব অংশীদারের সম্মতিক্রমে চলমান কারবারে মূলধনের পরিমাণ হ্রাস -বৃদ্ধি করা শশরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়োগ পদ্ধতিতে অংশীদারগণের মূলধনের অনুপাত ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ শেষে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কারবার শুরু করার পর অংশীদারগণের সম্মতিক্রমে যদি কোনো অংশীদারের মূলধনের পরিমান বৃদ্ধি করতে হয় তাহলে চুক্তিপত্রেও এ মর্মে একটা শর্ত যোগ করে নিতে হবে যে, 'প্রয়োজনবোধে কোনো অংশীদারের মূলধন বৃদ্ধি করা হলে তার মুনাফার হারও বৃদ্ধি করা যেতে পারে, এরূপ করা হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষকে মুদূলধন অনুপাতে লোকসান বহন করতে হবে। সুতরাং মুশারাকা পদ্ধতির প্রকল্পে লোকসান হলে এ বিনিয়োগের ওপর প্রাক্কালিত মুনাফা আদায় ও ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র: ৩০ ডিসেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
মুশারাকা চুক্তি সম্পাদনের পর মূলধনের অংশ হ্রাস -বৃদ্ধি
বিষয় - ৬১ : মুশারাকা বিনিয়োগে অংশীদারগণের মূলধন ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণপূর্বক চুক্তিপত্র সম্পাদনের পর সব অংশীদারের সম্মতিক্রমে চলমান কারবারে মূলধনের পরিমাণ হ্রাস -বৃদ্ধি করা শশরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়োগ পদ্ধতিতে অংশীদারগণের মূলধনের অনুপাত ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ শেষে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কারবার শুরু করার পর অংশীদারগণের সম্মতিক্রমে যদি কোনো অংশীদারের মূলধনের পরিমান বৃদ্ধি করতে হয় তাহলে চুক্তিপত্রেও এ মর্মে একটা শর্ত যোগ করে নিতে হবে যে, 'প্রয়োজনবোধে কোনো অংশীদারের মূলধন বৃদ্ধি করা হলে তার মুনাফার হারও বৃদ্ধি করা যেতে পারে, এরূপ করা হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Monday, 9 September 2019
ফলের বাগান লিজ
বিষয় -৫৯ : ফলের বাগান লিজ দেয়া -নেয়ার ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি কি ??
সিদ্ধান্ত : ফলের বাগান লিজ দেয়া/নেয়ার বিষয়টি উমর রাঃ কর্তৃক অনুসৃত এবং সালাফে সালেহীনের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ, হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিলের মতে বৈধ। তা ছাড়া ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কাইয়্যিম ও সৌদি আরবের শীর্ষ উলামা বোর্ডের সাবেক সদস্য শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল -উছাইমিন র. এর মতেও ফলের গাছ লিজ নেয়া বা দেয়া জায়েয। কোনো কোনো বর্ণনা মতে এটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল র. এরও একটি মত (আহকাম আহলিযযিম্মাহ, খ. ১, পৃ. ১০৯) । যদিও হানাফি, শাফেঈ,মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহর মতে ফলের গাছ লিজ দেয়া জায়েয নেই।
জায়েয হওয়ার পক্ষে দলিল ও যুক্তি
ক. সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, উসাইদ বিন হুদাইর রা. যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তার ছয় হাজার দিনার ঋণ অনাদায়ী ছিল। এমতাবস্হায় উমর রা. পাওনাদারদের ডাকেন এবং তিনি তাদেরকে উসাইদ রা. -এর একটি জমি কয়েক বছরের জন্য
দিয়ে দেন যে জমিতে খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছপালা বিদ্যমান ছিল। এখানে উমর রা. কার্যত দিরহামের বিনিময়ে জমি ও বাগান কয়েক বছরের জন্য পাওনাদারদের কাছে লিজ দিয়ে উক্ত সাহাবিকে মৃত্যুর পর ঋণমুক্ত করার ব্যবস্হা করেছিলেন। এ ব্যাপারে কোনো সাহাবি উমর রা. এর এ সিদ্ধান্তেন বিরোধিতা করেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায় না (যাদুল মা'আদ, খ. ৫, পৃ.৮২৫) ।
খ. বাগান ইজারা দেয়ার বিষয়টি জমি ইজারা দেয়ার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, জমি তাকেই
ইজারা দেয়া হয়, যিনি তা চাষাবাদ করবেন, একইভাবে বাগানও ইজারা দেয়া যেতে পারে। জমি লিজগ্রহীতা চাষাবাদ করেন শস্য/ফসল লাভের উদ্দেশ্যে আর বাগান লিজগ্রহীতা পরিচর্যা
করেন ফল/ ফসল লাভ করার উদ্দেশ্যে।
গ. জমি ইজারা নেয়া এবং ফল বাগান ইজারা নেয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ প্রসঙ্গে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন বলেন, বাগানে উৎপন্ন ফলের একাংশ প্রদানের বিনিময়ে পরিচর্যাকারীর সাথে মুসাক্বাত চুক্তি জায়েয হলেও এক্ষেত্রে উৎপন্ন ফল ভাগ করার সময় উভয়ের মধ্যে কখনো কখনো বিবাদদেখা দিতে পারে। পক্ষান্তরে, ইজারার ক্ষেত্রে ভাড়া পূর্বনির্ধারিত। বাগানের মালিক তার
নির্ধারিত ভাড়া পেয়ে যাবেন এবং লিজগ্রহীতা জেনে যাবেন, উৎপন্ন সব ফল/ফসলই হবে তার, এর মধ্যে কেউ তার সাথে বিবাদ করতে আসবে না, সব ফল সেই ভোগ -ব্যবহার করবে। (আশ শরহুমুমতি আলা যাদিল মুসতানকি,মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৪)
এ ছাড়া শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতির অভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের বাগান লিজ গ্রহীতাগণ
বিভিন্ন মহাজন ও সুদী প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে
দাদন বা ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এমতাবস্হায় শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি চালু করা গেলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা সুদের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন অন্যদিকে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রও হবে সম্প্রসারিত।
জায়েয না হওয়ার পক্ষে দলিল
ক. রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছের ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন।। ( সহিহ মুসলিম) ।
খ. রাসূলুল্লাহ (সা: ) কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংঘটিত ক্ষয় -ক্ষতিকে ছাড় দিয়েছেস। (আবু দাউদ )।
গ. রাসূলুল্লাহ (সা:) বাই'মু'আওয়ামাহ বা কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)।
উল্লেখ্য, বাই' আস -সিনীন ও বাই' আল -মু' আওয়ামাহ বলতে লাগাতার দুই,তিন বা ততোধিক বছরের ফল বা ফসল অগ্রিম বিক্রি করাকে বুঝায়।
ঘ.'গারার আছে এমন কেনাবেচা করতে রাসূলুল্লাহ ( সা:) নিষেধ করেছেন '। (তিরমিযী) ।
যারা বাগান ইজারাকে নাজায়েজ মনে করেন
তাদের বক্তব্য হলো, উক্ত হাদীসগুলোতে গাছের
ফল/ফসল পরিপক্ক হওয়ার আগে ও ভবিষ্যতে কয়েক বছরের সম্ভাব্য উৎপন্ন ফল/ফসল অগ্রিম বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর বাগান ইজারা দেয়ার অর্থ হচ্ছে উপকারিতা বিক্রি করা যা উল্লিখিত হাদীসসমূহের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। তাছাড়া হাদীসে গারার (অস্পষ্টতা/অনিশ্চয়তা) আছে এমন কেনাবেচা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, গাছ/বাগান ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে গারারও রয়েছে। কেননা বাগানের
গাছ অনেক বেশি ফল/ফসল দিতে পারে আবার সামান্য ফল/ফসলও দিতে পারে। এমনকি কখনো বিপর্যয় / দুর্যোগের কারণে উৎপন্ন ফল/ফসল নষ্টও হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ যদি কোনো কারণে ফল/ফসল না হয় বা নষ্ট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং লিজদাতা একতরফাভাবে লাভবান হবেন, এটা ঠিক নয়।
নিষেধাজ্ঞা -সংক্রান্ত উক্ত হাদীসসমূহে বাগান লিজ দেয়াকে নিষেধ করা হয়নি। কারণ -
ক. হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে গাছে ফল আসার পর অপরিপক্ব সেে ফল ক্রয় -বিক্রয় করার বিষয়ে, আর প্রস্তাবিত ইজারা হচ্ছে গাছে ফল /ফসল আসার পূর্বের বিষয়। অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞার
হাদীসটি কেনাবেচার সাথে সংশ্লিষ্ট, ইজারা দেয়ার
সাথে নয়। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছে ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন , কিন্তু শুরু থেকে গাছ ইজারা দেয়াকে নিষেধ করেননি। আর দ্বিতীয়
সংশয়ের ব্যাপারে শাইখ উসাইমিন র. বলেছেন,
বাগানের গাছ ইজারা নেয়ার বিষয়টি বাগানের জমি ইজারা নেয়ার অনুরূপ। যেমন আপনি যদি এই জমিটি তার মালিক থেকে ইজারা নেন এবং
তাতে ফসল বপন করেন,এক্ষেত্রে আপনার উৎপন্ন ফসল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি হতে পারে আবার তা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কমও হতে পারে। খেজুর গাছের বিষয়টিও একই রকম। এক্ষেত্রে খেজুর গাছ 'আসল' (ইজারায় প্রদত্ত মূল সস্পদ) হিসাবে গণ্য হবে। যেমন ফসল বপনের ক্ষেত্রে জমি আসল (ইজারায় প্রদত্ত মূল) সম্পদ বলে গণ্য হবে। (আশ -শরহুল মুমতি ' আলা যাদিল মুসতানকি, মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৩) ।
আর প্রস্তাবিত বাগান লিজ গ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশম্কা কম। কেননা, চাষীরা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হয় সেজন্য বাগান সাধারণত এক বছরের জন্য লিজ
নেয় না। বরং ৩/৪ বা তার চেয়ে অধিক বছরের জন্য লিজ নেয়। ফলে গাছ/বাগান লিজগ্রহীতা চাষীরা কোনো এক বছরে কিছু কম লাভ করলে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হলেও গড়ে তারা লাভবান হবেন ।
খ. বিক্রি ও ইজারা/ভাড়া স্বতন্ত্র বিষয়। ফল অপরিপক্ব অবস্হায় বিক্রির ক্ষেত্রে বাগানের পরিচর্যার দায়িত্ব থেকে বাগান মালিকের ওপর। পক্ষান্তরে ইজারার ক্ষেত্রে বাগান পরিচর্যার দায়িত্ব থাকে ইজারাগ্রাহীতার ওপর।
গ. ফসল চাষের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে জমি কেরায়া (লিজ) গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফসল ভাগাভাগির শর্তে মুযারা'আ চুক্তি করা যেমন বৈধ তেমনি বাগানের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে বাগান লিজ গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফল/ফসল ভাগাভাগি করার শর্তে মুসাক্বাত চুক্তি করাও বৈধ।
ঘ. উপরন্তু লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জমি লিজ নেয়ার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। অর্থাৎ জমি লিজ নেয়ার পর ফসল চাষ করার পরে কোনো কারণে ফসল উৎপন্ন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তখন লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও লিজ -দাতা একতরফাভাবে লাভবান হবে। আমরা জানি যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) নগদ অর্থের বিনিময়ে জমি লিজ দেয়া বৈধ করেছেন। নিম্নোক্ত হাদীসটি এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য :
রাফে' ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা আনসাররা অধিকাংশই কৃষিকাজ করতাম। আমরা জমি লিজ দিতাম এ শর্তে যে, লিজ -দাতা জমির একটি নির্দিষ্ট অংশের ফসল নেবে ও লিজগ্রহীতা অপর অংশের ফসল নেবে।
এরূপ চুক্তির পর বাস্তবে কখনো এক অংশে ফসল উৎপাদিত হতো ও অপর অংশে কিছুই উৎপাদিত হতো না (এরূপ হলে একজন লাভবান হতো ও অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত হতো) । এরূপ করতে রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। অথচ নগদ অর্থের বিনিময়ে লিজ দিতে তিনি আমাদের নিষেধ করেননি (সহীহ মুসলিম)। অর্থাৎ, ফসল উৎপাদনের জন্য জমি ইজারা নেয়ার ক্ষেত্রেও ফসল কম -বেশি হাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতদসত্বেও নগদ অর্থের
বিনিময়ে ইজারা নেয়া বা দেয়াকে রাসূলুল্লাহ (সা:)
অনুমতি দিয়েছেন। পরিশেষে সভায় উপস্হিত
দলিলসমূহের সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে উমর রা. - এর আমল (কাজ) ও তার প্রতি সাহাবীদের মৌন সমর্থন, সালাফে সালেহীনদের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ,হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিল -এর অভিমত, ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ,
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম র. -এর অভিমত এবং মুতাআখখিরীন ফকিহগণের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন র. -এর মতো ফকিহগণের অভিমতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে আম বাগানসহ বিভিন্ন বাগানে অর্থায়নের ক্ষেত্রে লিজ অ্যান্ড সাব - লিজ (Lease and Sub Lease) বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। তবে,
ক. গ্রাহকের অবহেলা, চুক্তিভঙ্গ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও বাগান পরিচর্যায় শিথিলতা বা ত্রুটিজনিত কারণ ছাড়া অর্থাৎ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংশ্লিষ্ট বাগানের অধিকাংশ / উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস/ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংক পরবর্তী সময়ের জন্য আনুপাতিক হারে কম ভাড়া গ্রহণ করবে।
খ. সাধারণ ইজারার ক্ষেত্রে পালনীয় শর'ঈ শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
উল্লিখিত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক প্রথমে বাগানের মালিকের কাছ থেকে সমুদয় বাগান বা আংশিক (গ্রাহকের ইক্যুইটি/নিজস্ব তহবিল থেকে লিজ নেয়া অংশটুকু বাদ দিয়ে যতটুকু অবশিষ্ট থাকে সেটুকু) লিজ নেবে এবং গ্রাহকের কাছে অপেক্ষাকৃত বেশি ভাড়ায় লিজ দেবে। মূল মালিককে ভাড়া প্রদানের পরিমাণ ও গ্রাহক থেকে কিস্তিতে ভাড়া আদায়ের পরিমাণের মধ্যে ব্যবধানটুকু ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আয় বলে বিবেচিত হবে।
(সূত্র: ২৬ জানুয়ারী ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
সিদ্ধান্ত : ফলের বাগান লিজ দেয়া/নেয়ার বিষয়টি উমর রাঃ কর্তৃক অনুসৃত এবং সালাফে সালেহীনের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ, হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিলের মতে বৈধ। তা ছাড়া ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কাইয়্যিম ও সৌদি আরবের শীর্ষ উলামা বোর্ডের সাবেক সদস্য শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল -উছাইমিন র. এর মতেও ফলের গাছ লিজ নেয়া বা দেয়া জায়েয। কোনো কোনো বর্ণনা মতে এটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল র. এরও একটি মত (আহকাম আহলিযযিম্মাহ, খ. ১, পৃ. ১০৯) । যদিও হানাফি, শাফেঈ,মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহর মতে ফলের গাছ লিজ দেয়া জায়েয নেই।
জায়েয হওয়ার পক্ষে দলিল ও যুক্তি
ক. সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, উসাইদ বিন হুদাইর রা. যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তার ছয় হাজার দিনার ঋণ অনাদায়ী ছিল। এমতাবস্হায় উমর রা. পাওনাদারদের ডাকেন এবং তিনি তাদেরকে উসাইদ রা. -এর একটি জমি কয়েক বছরের জন্য
দিয়ে দেন যে জমিতে খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছপালা বিদ্যমান ছিল। এখানে উমর রা. কার্যত দিরহামের বিনিময়ে জমি ও বাগান কয়েক বছরের জন্য পাওনাদারদের কাছে লিজ দিয়ে উক্ত সাহাবিকে মৃত্যুর পর ঋণমুক্ত করার ব্যবস্হা করেছিলেন। এ ব্যাপারে কোনো সাহাবি উমর রা. এর এ সিদ্ধান্তেন বিরোধিতা করেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায় না (যাদুল মা'আদ, খ. ৫, পৃ.৮২৫) ।
খ. বাগান ইজারা দেয়ার বিষয়টি জমি ইজারা দেয়ার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, জমি তাকেই
ইজারা দেয়া হয়, যিনি তা চাষাবাদ করবেন, একইভাবে বাগানও ইজারা দেয়া যেতে পারে। জমি লিজগ্রহীতা চাষাবাদ করেন শস্য/ফসল লাভের উদ্দেশ্যে আর বাগান লিজগ্রহীতা পরিচর্যা
করেন ফল/ ফসল লাভ করার উদ্দেশ্যে।
গ. জমি ইজারা নেয়া এবং ফল বাগান ইজারা নেয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ প্রসঙ্গে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন বলেন, বাগানে উৎপন্ন ফলের একাংশ প্রদানের বিনিময়ে পরিচর্যাকারীর সাথে মুসাক্বাত চুক্তি জায়েয হলেও এক্ষেত্রে উৎপন্ন ফল ভাগ করার সময় উভয়ের মধ্যে কখনো কখনো বিবাদদেখা দিতে পারে। পক্ষান্তরে, ইজারার ক্ষেত্রে ভাড়া পূর্বনির্ধারিত। বাগানের মালিক তার
নির্ধারিত ভাড়া পেয়ে যাবেন এবং লিজগ্রহীতা জেনে যাবেন, উৎপন্ন সব ফল/ফসলই হবে তার, এর মধ্যে কেউ তার সাথে বিবাদ করতে আসবে না, সব ফল সেই ভোগ -ব্যবহার করবে। (আশ শরহুমুমতি আলা যাদিল মুসতানকি,মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৪)
এ ছাড়া শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতির অভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের বাগান লিজ গ্রহীতাগণ
বিভিন্ন মহাজন ও সুদী প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে
দাদন বা ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এমতাবস্হায় শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি চালু করা গেলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা সুদের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন অন্যদিকে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রও হবে সম্প্রসারিত।
জায়েয না হওয়ার পক্ষে দলিল
ক. রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছের ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন।। ( সহিহ মুসলিম) ।
খ. রাসূলুল্লাহ (সা: ) কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংঘটিত ক্ষয় -ক্ষতিকে ছাড় দিয়েছেস। (আবু দাউদ )।
গ. রাসূলুল্লাহ (সা:) বাই'মু'আওয়ামাহ বা কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)।
উল্লেখ্য, বাই' আস -সিনীন ও বাই' আল -মু' আওয়ামাহ বলতে লাগাতার দুই,তিন বা ততোধিক বছরের ফল বা ফসল অগ্রিম বিক্রি করাকে বুঝায়।
ঘ.'গারার আছে এমন কেনাবেচা করতে রাসূলুল্লাহ ( সা:) নিষেধ করেছেন '। (তিরমিযী) ।
যারা বাগান ইজারাকে নাজায়েজ মনে করেন
তাদের বক্তব্য হলো, উক্ত হাদীসগুলোতে গাছের
ফল/ফসল পরিপক্ক হওয়ার আগে ও ভবিষ্যতে কয়েক বছরের সম্ভাব্য উৎপন্ন ফল/ফসল অগ্রিম বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর বাগান ইজারা দেয়ার অর্থ হচ্ছে উপকারিতা বিক্রি করা যা উল্লিখিত হাদীসসমূহের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। তাছাড়া হাদীসে গারার (অস্পষ্টতা/অনিশ্চয়তা) আছে এমন কেনাবেচা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, গাছ/বাগান ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে গারারও রয়েছে। কেননা বাগানের
গাছ অনেক বেশি ফল/ফসল দিতে পারে আবার সামান্য ফল/ফসলও দিতে পারে। এমনকি কখনো বিপর্যয় / দুর্যোগের কারণে উৎপন্ন ফল/ফসল নষ্টও হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ যদি কোনো কারণে ফল/ফসল না হয় বা নষ্ট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং লিজদাতা একতরফাভাবে লাভবান হবেন, এটা ঠিক নয়।
নিষেধাজ্ঞা -সংক্রান্ত উক্ত হাদীসসমূহে বাগান লিজ দেয়াকে নিষেধ করা হয়নি। কারণ -
ক. হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে গাছে ফল আসার পর অপরিপক্ব সেে ফল ক্রয় -বিক্রয় করার বিষয়ে, আর প্রস্তাবিত ইজারা হচ্ছে গাছে ফল /ফসল আসার পূর্বের বিষয়। অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞার
হাদীসটি কেনাবেচার সাথে সংশ্লিষ্ট, ইজারা দেয়ার
সাথে নয়। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছে ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন , কিন্তু শুরু থেকে গাছ ইজারা দেয়াকে নিষেধ করেননি। আর দ্বিতীয়
সংশয়ের ব্যাপারে শাইখ উসাইমিন র. বলেছেন,
বাগানের গাছ ইজারা নেয়ার বিষয়টি বাগানের জমি ইজারা নেয়ার অনুরূপ। যেমন আপনি যদি এই জমিটি তার মালিক থেকে ইজারা নেন এবং
তাতে ফসল বপন করেন,এক্ষেত্রে আপনার উৎপন্ন ফসল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি হতে পারে আবার তা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কমও হতে পারে। খেজুর গাছের বিষয়টিও একই রকম। এক্ষেত্রে খেজুর গাছ 'আসল' (ইজারায় প্রদত্ত মূল সস্পদ) হিসাবে গণ্য হবে। যেমন ফসল বপনের ক্ষেত্রে জমি আসল (ইজারায় প্রদত্ত মূল) সম্পদ বলে গণ্য হবে। (আশ -শরহুল মুমতি ' আলা যাদিল মুসতানকি, মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৩) ।
আর প্রস্তাবিত বাগান লিজ গ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশম্কা কম। কেননা, চাষীরা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হয় সেজন্য বাগান সাধারণত এক বছরের জন্য লিজ
নেয় না। বরং ৩/৪ বা তার চেয়ে অধিক বছরের জন্য লিজ নেয়। ফলে গাছ/বাগান লিজগ্রহীতা চাষীরা কোনো এক বছরে কিছু কম লাভ করলে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হলেও গড়ে তারা লাভবান হবেন ।
খ. বিক্রি ও ইজারা/ভাড়া স্বতন্ত্র বিষয়। ফল অপরিপক্ব অবস্হায় বিক্রির ক্ষেত্রে বাগানের পরিচর্যার দায়িত্ব থেকে বাগান মালিকের ওপর। পক্ষান্তরে ইজারার ক্ষেত্রে বাগান পরিচর্যার দায়িত্ব থাকে ইজারাগ্রাহীতার ওপর।
গ. ফসল চাষের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে জমি কেরায়া (লিজ) গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফসল ভাগাভাগির শর্তে মুযারা'আ চুক্তি করা যেমন বৈধ তেমনি বাগানের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে বাগান লিজ গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফল/ফসল ভাগাভাগি করার শর্তে মুসাক্বাত চুক্তি করাও বৈধ।
ঘ. উপরন্তু লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জমি লিজ নেয়ার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। অর্থাৎ জমি লিজ নেয়ার পর ফসল চাষ করার পরে কোনো কারণে ফসল উৎপন্ন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তখন লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও লিজ -দাতা একতরফাভাবে লাভবান হবে। আমরা জানি যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) নগদ অর্থের বিনিময়ে জমি লিজ দেয়া বৈধ করেছেন। নিম্নোক্ত হাদীসটি এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য :
রাফে' ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা আনসাররা অধিকাংশই কৃষিকাজ করতাম। আমরা জমি লিজ দিতাম এ শর্তে যে, লিজ -দাতা জমির একটি নির্দিষ্ট অংশের ফসল নেবে ও লিজগ্রহীতা অপর অংশের ফসল নেবে।
এরূপ চুক্তির পর বাস্তবে কখনো এক অংশে ফসল উৎপাদিত হতো ও অপর অংশে কিছুই উৎপাদিত হতো না (এরূপ হলে একজন লাভবান হতো ও অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত হতো) । এরূপ করতে রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। অথচ নগদ অর্থের বিনিময়ে লিজ দিতে তিনি আমাদের নিষেধ করেননি (সহীহ মুসলিম)। অর্থাৎ, ফসল উৎপাদনের জন্য জমি ইজারা নেয়ার ক্ষেত্রেও ফসল কম -বেশি হাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতদসত্বেও নগদ অর্থের
বিনিময়ে ইজারা নেয়া বা দেয়াকে রাসূলুল্লাহ (সা:)
অনুমতি দিয়েছেন। পরিশেষে সভায় উপস্হিত
দলিলসমূহের সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে উমর রা. - এর আমল (কাজ) ও তার প্রতি সাহাবীদের মৌন সমর্থন, সালাফে সালেহীনদের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ,হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিল -এর অভিমত, ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ,
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম র. -এর অভিমত এবং মুতাআখখিরীন ফকিহগণের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন র. -এর মতো ফকিহগণের অভিমতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে আম বাগানসহ বিভিন্ন বাগানে অর্থায়নের ক্ষেত্রে লিজ অ্যান্ড সাব - লিজ (Lease and Sub Lease) বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। তবে,
ক. গ্রাহকের অবহেলা, চুক্তিভঙ্গ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও বাগান পরিচর্যায় শিথিলতা বা ত্রুটিজনিত কারণ ছাড়া অর্থাৎ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংশ্লিষ্ট বাগানের অধিকাংশ / উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস/ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংক পরবর্তী সময়ের জন্য আনুপাতিক হারে কম ভাড়া গ্রহণ করবে।
খ. সাধারণ ইজারার ক্ষেত্রে পালনীয় শর'ঈ শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
উল্লিখিত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক প্রথমে বাগানের মালিকের কাছ থেকে সমুদয় বাগান বা আংশিক (গ্রাহকের ইক্যুইটি/নিজস্ব তহবিল থেকে লিজ নেয়া অংশটুকু বাদ দিয়ে যতটুকু অবশিষ্ট থাকে সেটুকু) লিজ নেবে এবং গ্রাহকের কাছে অপেক্ষাকৃত বেশি ভাড়ায় লিজ দেবে। মূল মালিককে ভাড়া প্রদানের পরিমাণ ও গ্রাহক থেকে কিস্তিতে ভাড়া আদায়ের পরিমাণের মধ্যে ব্যবধানটুকু ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আয় বলে বিবেচিত হবে।
(সূত্র: ২৬ জানুয়ারী ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
Subscribe to:
Posts (Atom)