Saturday, 28 September 2019

বাই'সালাম ( অগ্রিম ক্রয়) ও ইসতিসনা (পণ্য তৈরির ফরমায়েশ)

বিষয় -৮৯ : গ্রাহকের চলতি মূলধন (working capital)  এর চাহিদা পূরণের জন্য ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দিতে পারে কি না?
সিদ্ধান্ত : কোনো উৎপাদনকারীর চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে মূলধন সরবরাহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক নগদ অর্থ পরিশোধের মাধমে গ্রাহকের কাছ থেকে তার উৎপাদিত পণ্য অগ্রিম ক্রয় করে নেবে।
( সূত্র: ২ অক্টোবর ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২১শ  অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় - ৯০ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। ব্যাংক উক্ত পণ্য বিক্রয়ের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করে থাকে।
কোনো কোনো সময় বিক্রয় প্রতিনিধি ব্যাংকের পণ্য নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা ও অদক্ষতার জন্য তাকে দায়ি করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : রফতানি এলসির শর্ত মোতাবেক যদি আলোচ্য গ্রাহক ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে উক্ত পণ্য নির্ধারিত দামে রফতানি বা বিক্রয় করতে
ব্যর্থ হয় তাহলে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা, অদক্ষতা ও অনুবিধার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন।
(সূত্র: ৬ আগস্ট ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯১ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে  থাকে। এ ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাংককে পণ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। অনেক সময় রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের কাছে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে তার ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক যেদিন পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছে সেদিন থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রাহক চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ
হলে যে দিন তিনি পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছেন,  সে দিন থেকে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সঠিক হবে না।  তবে নির্ধারিত পণ্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত স্হানে
সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত পরিস্হিতির কারণে সৃষ্ট প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ণয়পূর্বক ক্ষতিপূরণ তার কাছে থেকে আদায় করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯২ : ইসতিসনা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাথে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নির্ধারিত পণ্য নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত সময়ে তা সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত বিনিয়োগ গ্রাহকের ওপর
জরিমানা আরোপ করা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসতিসনা চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালন
না করার কারণে চুক্তি অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ যেকোনো পক্ষের ওপর জরিমানা (penalty)
আরোপ করা যাবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা
অপরিহার্য কোনো পরিস্হিতির কারণে বিলম্ব ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৩ : ফসল চাষের মোট খরচের একটি বড় অংশ শ্রমের মজুরি বাবদ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু
মজুরি বাবদ খরচ পরিশোধের জন্য বাই'মুয়াজ্জাল/বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে নগদ অর্থ প্রদার করা যায় না। এ ক্ষেত্রে বাই'সালামই উপযুক্ত পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মজুরি ও পণ্য উৎপাদন বাবদ খরচ নির্বাহের জন্য গ্রাহকের চাহিদা মতো নগদ অর্থ প্রদান করা যায়। তাই কৃষি
বিনিয়োগের আওতায় ফনল উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে বাই'সালাম পদ্ধতির প্রয়োগ কিভাবে সহজতর করা যায়?
সিদ্ধান্ত : ফসল চাষের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালন করে বাই'সালাম পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পাবে :
          ক . ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি বাই'সালাম চুক্তি সম্পাদিত হবে,  যাতে পণ্যের দাম, পরিমাণ, মান এবং সরবরাহের সময় ও স্হানসহ বাই'সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তাবলি সন্নিবেশিত হবে।
খ . শাখা পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রাহকের হিসাবে প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের
হিসাবেপ প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিনিয়োগ গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ
ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনমাফিক
বিনিয়োগের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্হাপনা -সংক্রান্ত সহযোগিতা (managerial support)
প্রদান করবে।
গ . সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে (পণ্যের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক)  বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। উক্ত ন্যূনতম বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে তা ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের (কৃষকের) জন্য উৎসাহমূলক ছাড় হিসেবে ব্যাংক গ্রাহককে প্রদান করতে পারবে।
ঘ . প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল উৎপাদন হ্রাস বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ার আশম্কা রয়েছে বিধায় ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে একটি ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা রাখা যেতে পারে।
ঙ . শাখা উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত জমিতে সম্ভাব্য উৎপাদিত ফসলের সর্বোচ্চ ৬৫% (সময়ে  সময়ে পরিবর্তিত)  ক্রয়ে বিনিয়োগ করতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)। 

No comments:

Post a Comment