বিষয় - ৭৭ : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ ডিপোজিট এবং পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ ইত্যাদি তহবিল দিয়ে নিজের ব্যবহারের জন্য ইসলামী ব্যাংক কোনো সম্পদ ক্রয় করতে পারবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ জমার
অর্থ দিয়ে ব্যাংকের সম্পত্তি ক্রয় করা যাবে না। তবে পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ -এর অর্থ ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ/সম্পত্তি ক্রয় করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# রফতানি বিলের বিপরীতে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ
বিষয় -৭৮ :পণ্য জাহাজিকরণের পরে সংশ্লিষ্ট ডিলের সাথে সম্পৃক্ত পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া,
শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ নগদ অর্থের
চাহিদা পূরণে শরী'আহ কাউন্সল বাই' -আস -সরফ পদ্ধতিতে রফতানিমূল্যের বিপরীতে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের
অনুমোদন দান করে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে হার প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। মাঝে মধ্যে মুদ্রার দাম এত কমে যায় যে, বিলের বিপরীতে ক্রয় করা মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দিনে বিক্রয় করতে গিয়ে ব্যাংক ব্যাপক লোকসানের
সম্মুখীন হয়। ফলে ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ আয় অনেক কমে যায়। এমতাবস্হায় রফতানির পরে
গ্রাহকের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে 'বাই আস -সরফ' -এর বিকল্প হিসেবে নিয়ন্ত্রিত ( resticted) মুদারাবা বা মুদারাবাহ আল -মুক্বাইয়্যাদাহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণভাবে পোস্ট শিপমেন্ট -পর্যায়ে
মুদারাবা পদ্ধতির বিনিয়োগ মুদারাবার মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং এ ক্ষেত্রে মুশারাকা পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পারে। কেননা, রফতানিকারী গ্রাহক পণ্য তৈরি করে জাহাজিকরণ সম্পন্ন করার পর রফতানি বিলের অর্থ পাওয়ার জন্য বিল ব্যাংকে জমা দেন এবং এ অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলের পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া, ফ্যাক্টরি ভাড়া ও শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক দেনা মিটিয়ে থাকেন,
তাই তিনি তার ব্যবসার শেষ প্রান্তে এসে ব্যাংককে তাতে শরিক হওয়ার প্র'স্তাব করলে ব্যাংক তাতে শরিক হতে পারে। এটি কারো চলমান ব্যবসায়ে
কাউকে শরিক/অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার
সাথে তুলনীয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পালন করতে হবে।।
ক . বিল আদায়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার যে ঝুঁকি
রয়েছে অংশীদার হিসেবে ব্যাংক উক্ত ঝুঁকি বহন করতে সম্মত হবে।
খ . ব্যাংকের ইকুইটি রফতানিকৃত পণ্য তৈরি ও
রফতানি করতে যেসব খরচ হয়েছে সংশ্লিষ্ট
ব্যবসা সেসব খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
গ . মুশারাকার অন্যান সাধারণ নীতিমালা মেনে
চলতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে মুশারাকা
চুক্তি করে নেয়া সর্বোত্তম পন্হা এবং মুশারাকার শর'ঈ নীতির সাথে অধিকতর সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ। অতএব ব্যাংক প্রথম থেকেই গ্রাহকের সাথে
মুশারাকা চুক্তি করে রাখবে এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন তা কার্যকর করবে। যদি সম্ভব না হয়
তাহলে ব্যবসায়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে ব্যাংক যখন
তহবিল ( ইকুইটি) দেবে তখন চুক্তি করলেও চলবে। তবে ব্যাংক প্রথম থেকে চুক্তি করার বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োগ করার
চেষ্টা করবে।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
No comments:
Post a Comment