প্রশ্ন -৯৫ : ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে ইসলামী ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ও কমিশন গ্রহণ করতে পারবে কি ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক যদি নগদ বা সহায়ক জামানত (কোলেটারাল সিকিউরিটি) রেখে গ্রাহকের অনুকূলে গ্যারান্টিপত্র ইস্যু করে তবে তা শরী'আহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কভারেজ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উকিল হিসেবে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ছাড়াও কমিশন আদায় করতে পারবে। আর যদি গ্রাহক আংশিক জামানত প্রদান করে তবে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক উকিল ও কফিল হিসেবে প্রকৃত সার্ভিস চার্জ ও কমিশন দুটোই আদায় করতে পারবে।
অধিকন্তু, ১৯৭৯ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকসমূহের প্রথম সম্মেলনের ফতওয়া, আল -আজহার -বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান (শায়খুল আজহার) মর্হুম ড. আবদুল হালিম মাহমুদের ফতওয়া, ১৯৮৫ সালে মক্কা মুকাররামায় অনুষ্ঠিত ফিকহ অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় অঅধিবেশনে প্রদত্ত ফতওয়াসসসূহ এবং দুবাই ইসলামী ব্যাংকের ফতওয়া ও শরী'আহ সুপারভাইজরি বোর্ডের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা
পূর্বক কাউন্সল অভিমত ব্যক্ত করে যে, কালের ব্যবধানে ও সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান যুগে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্যারান্টির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির সম্পদ ও ব্যবসায়িক সুনাম ( goodwill) -এর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তার গ্যারান্টি বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয় না। ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনামের কারণে সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এর গ্যারান্টি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। অতএব ব্যাংক গ্যারান্টি
ইস্যুর বিপরীতে সাভিস চার্জ ও কমিশন আদায় করা শরী'আহ পরিপন্হী নয়।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৬ : ব্যাংক কখনো কখনো নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক তৃতীয় পক্ষের দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। এমতাবস্হায় ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের সময় গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকে জমাদানে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের নামে ক্বরদে হাসানা হিসাব খুলে দাবি পরিশোধ করা যেতে পারে।
খ . উক্ত ক্বরদে হাসানা হিসাবটি যেহেতু গ্রাহকের লিখিত আবেদনের ভিক্তিতে কাউন্টার গ্যারান্টির বিপরীতে খোলা হয়, তাই তা সমন্বয়ের জন্য তাকে সুযোগ দেয়া হবে এবং তিনি ব্যর্থ হলে সহায়ক জামানত বিক্রয় করে বা আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ
করে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে।
গ . চুক্তি পরিপালনে ব্যর্থতা তথা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের
কারণে ব্যাংক কর্তৃক দাবি পরিশোধের তারিখ থেকে আদায় পর্যন্ত সময়ের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ/জরিসানা আদায় করা যাবে।
ঘ . প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ/ জরিমানা সন্দেহযুক্ত আয়ের
অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, ক্বরদে হাসানার বিপরীতে এরূপ অতিরিক্ত গ্রহণ করা শর'আহ অনুযায়ী বৈধ নয়। সুতরাং এ খাত থেকে প্রাপ্ত সন্দেহযুক্ত আয়ের ট্যাক্স (যদি হয়) প্রদানের পর অবশিষ্ট অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করতে হবে এবং উক্ত অর্থ দিয়ে শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে
প্রভিশন করা যাবে না।
(সূত্র: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
No comments:
Post a Comment