Tuesday, 24 September 2019

মুদারাবা কারবারে মুদারিবের নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ

বিষয় -৭৯ : ইসলামী ব্যাংক কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহকের সাথে মুদারাবি কারবারে অংশগ্রহণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সাহিবুল মাল হিসেবে পুঁজি সরবরাহ করে এবং গ্রাহক মুদারিব হিসেবে কারবার পরিচালনা করে। এখন ব্যবসার কোনো পর্যায়ে মুদারিব নিজের কিছু পুঁজি খাটালে উক্ত মুদারাবা কারবারটি মুশারাকা হয়ে যাবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা কারবার আরম্ভ করার পর
সাহিবুল মাল প্রদত্ত মূলধনের অতিরিক্ত কোনো
অর্থ যদি মুদারিব কারবারে বিনিয়োগ করে,  তা হলে উক্ত কারবার কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং তা মুশারাকাও হয়ে যাবে না। বরং পূর্ববৎ মুদারাবাই থেকে যাবে। তবে মুদারিব কর্তৃক বিনিয়োগকৃত টাকার লাভ -লোকসানের দায়িত্ব মুদারিবের। অবশ্য সাহিবুল মাল -এর মুদারাবা তহবিল বিনিয়োগ করার পরই কেবল মুদারিব তার নিজের টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে, মুদারাবা কারবারে ব্যবহৃত মুদারিবের নিজ অর্থের  যাবতীয় হিসাব -নিকাশ সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮০ : কোনো মুদারাবা মেয়াদি জমা হিসাব নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বন্ধ করা হলে তা থেকে আংশিক মুনাফা কর্তন করা বৈধ হবে কি?
সিদ্ধান্ত : টিডিআর ও অন্যান্য মেয়াদি জমা হিসাবের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নকালে
মুনাফা কর্তন না করে ন্যূনতম মুনাফা প্রদান করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৮১ : মুদারাবা পদ্ধতিতে প্রকল্পে লাভ হলে
চুক্তি অনুযায়ী মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে তা বন্টন হয় আর ক্ষতি হলে সাহিবুল মাল হিসেবে
ব্যাংককেই তা বহন করতে হয়। এ অবস্হায় কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড বৈধ হবে কি ?

সিদ্ধান্ত : একই চুক্তির অধীনে চলমান মুদারাবার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী
লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ। তবে মুদারাবা বিনিয়োগটি চলমান মুদারাবা না হলে এবং উক্ত মুদারাবার লোকসান হলে উক্ত লোকসান একই গ্রাহকের অনুকূলে আলাদা বা পরবর্তী মুদারাবায় ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ নয়।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮২ : পল্লী  উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে ব্যাংকের পাওনা
আদায় করা হয়। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হলেও গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে
ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে কি  না ?
সিদ্ধান্ত : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে কনসাইনমেন্ট
(consignment)  ভিত্তিতে মুদারাবা বিনিয়োগ করা হলে এবং সংশ্লিষ্ট মুদারাবা বিনিয়োগে লাভ হলে উক্ত লাভের অংশ দিয়ে বিনিয়োগের কিস্তি
পরিশোধে শরী'আহর কোনো বাধা নেই। কিন্তু মুদারাবা বিনিয়োগের মূলধন অপরিবর্তিত (intact)  থাকলে এবং তা হতে কোনো লাভ/উৎপাদন না হলে উক্ত মুদারাবা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রিম কিস্তি আদায় বৈধ হবে না।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৩ : ইসলাসী ব্যাংকে অনুশীলিত মুদারাবা
পদ্ধতিতে বিনিয়োগলব্ধ মুনাফা মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বন্টিত হয়।
কিন্তু ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ অংশ কেবল সাহিবুল মালকে বহন করতে হয়। এমতাবস্হায় মুদারিব
কর্তৃক সাহিবুল মালের মূলধন অক্ষত থাকার গ্যারান্টি দেয়া বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ব্যবসায়ে লাভ -লোকসান যা -ই হোক না কেন সর্বাবস্হায় মুদারিব সাহিবুল মালের মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে -মুদারাবা বিনিয়োগে এরূপ শর্তরোপ করা বৈধ নয়। তবে মূলধনের নিরাপত্তার জন্য মুদারিবের কাছ থেকে
জামানত (mortgage/personal guarantee)
নেয়া যাবে এবং মুদারাবা ব্যবসায়ে সাহিবুল মালের তদারকি করার অধিকার থাকবে। তদুপরি
মুদারিবের অবহেলা বা অসততার কারণে মূলধনের লোকসান হলে উক্ত জামানতের মাধ্যমে
সাহিবুল মালের পাওনা আদায় করার ব্যাপারে
শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫২কম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ৮৪ : ইসলামী ব্যাংকের কোনো মুদারাবা জমাকারী মৃত্যুবরণ করলে তার মুদারাবা হিসাবে জমাকৃত অর্থ ব্যবহারের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কি?
সিদ্ধান্ত : মৃত ব্যক্তির মুদারাবা হিসাব তার ওয়ারিশ বা নমিনি কর্তৃক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে
এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত হিসাবে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৫ : ইসলামী ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (AD) শাখা কর্তৃক খোলা ইউজেন্স/ ডিফার্ড এলসির বিপরীতে গৃহীত (accepted) আমদানি
বিল সাইট ভিক্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং
ইউনিটের (OBU) মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS) সুবিধা  ভোগ করার জন্য গ্রাহকগণ আবেদন করে থাকেন। উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অফশোর
ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে সাইট ভিত্তিতে বৈদেশিক দেনা পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের মার্জিন সাশ্রয় হয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে স্হানীয় মুদ্রায় আমদানি বিল পরিশোধ করা হলে তাকে আমদানি মূল্য বেশি পরিশোধ
করতে হয়। এমতাবস্হায় এ ধরনের বড় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ, আমদানি বাণিজ্যে ব্যাংকের অবস্হান আরো সুসংহতকরণ, সর্বোপরি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)
এর সাথে এবং রফতানি উন্নয়ন তহবিল (EDF)
এর ক্ষেত্রে অনুশীলিত নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা (মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ)  পদ্ধতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমদানিকারকদের ইউজেন্স /ডিফার্ড এলসির বিপরীতে অথরাইজড ডিলার শাখা কর্তৃক গৃহীত (accepted) আমদানি বিল সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের
মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা পদ্ধতিতে তহবিল/বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি  না ?
সিদ্ধান্ত : ইউজেন্স/ডিফার্ড এলসির বিপরীতে
গৃহীত (accepted)  আমদানি বিল অ্যাট সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS)
সুবিধা প্রদানে মুদারাবা  -মুক্বাইয়্যাদাহ অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
ক. আমদানিকারক মুরাবাহা চুক্তির ভিত্তিতে ওই শাখার মাধ্যমে দ্রব্য আমদানি করবেন।
খ. অথরাইড ডিলার শাখা ক)  আমদানিকৃত দ্রব্য
গ্রাহকের কাছে মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয়
করবে। এ ধরনের আমদানির ক্ষেত্রে ইমপোর্ট এলসি হবে ইউজেন্স/ডিফার্ড পেমেন্টের ভিত্তিতে।
তবে সংশ্লিষ্ট এলসি -এর বিপরীতে আমদানি বিলের সূল্য অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে
অ্যাট সাইট ভিত্তিতে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ
থাকবে, খ) উক্ত সাইট পেমেন্ট রিফান্ডের জন্য ওমএডি শাখা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের সাথে
মুদারিব হিসেবে মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।
গ. অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সাহিবুল মাল হিসেবে অথরাইজড ডিলার (AD) এর সাথে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে এবং উক্ত
নির্দেশনা অনুযায়ী ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইটের ব্যবস্হা করবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) 

No comments:

Post a Comment