Thursday, 31 October 2019

চুক্তিতে শর্তারোপ করা

বিষয় -১৩০ : বিনিয়োগ প্রদানের সময় ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তিতে বিভিন্ন ধারা সংযোজিত থাকে। এর মধ্যে একটি হলো, "In case of any dispute arises out of this agreement or the terms and conditions thereof the decision of the Bank Management shall be final and binding upon the parties.' অর্থাৎ, 'চুক্তির কোনো বিষয় বা শর্তের ব্যাপারে কোনো আপত্তি
উত্থাপিত হলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে -চুক্তিপত্রে এ ধরনেন ধারা উল্লেখ করা শরী'আহসম্মত হবে  কি ?
সিদ্ধান্ত  : চুক্তিপত্রে উক্ত ধারার অন্তর্ভুক্তিতে শরী'আহর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে ধারাটি প্রয়োগকালে শরী'আহর কোনো মূলনীতি লঙ্গঘন করা যাবে  না।
(সূত্র : ১৯ আগষ্ট ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
           পারিভাষিক শব্দ
ইবরা     আরবি ইবরা শব্দটি বারিউন থেকে উদ্ভূত। অর্থ -দায়মুক্ত করা, অব্যাহতি, মাফকরণ, মুক্তকরণ ইত্যাদি। পাওনার সম্পপূর্ণ বা আংশিক মাফ করে দেয়াকে ইবরা বলা হয়।
ওয়াদ         ব্যাংকের কাছ থেকে গ্রাহকের পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকারকে ওয়াদ বিশ -
বিশ -শিরা   শিরা বা ক্রয়ের অঙ্গীকারনামা বলা হয়। এটি পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের চুক্তি নয়, বরং পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের অঙ্গীকার। অর্থাৎ, গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী ব্যাংক পণ্য ক্রয় করার পর গ্রাহক তা ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেয়ার অঙ্গীকার (ওয়াদা)  করবে। কারণ পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও দখল অর্জিত হওয়ার আগে তা কারো কাছে বিক্রয় করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ওয়াদি'আহ  ওয়াদি'আহ আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ করা, ছেড়ে দেয়া, আমানত রাখা, গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি। নিজের সম্পদ অপরের হিফাজতে অর্পণ করাকে আল -ওয়াদি'আহ বলে। এ পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তার অর্থ জমা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে তার জমাকৃত অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে তবে তার জমাকৃত অর্থের বিনিময়ে কোনো লাভ সে পায় না আবার প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকসানও  তাকে বহন করতে হয় না।
কুরআন    কুরআন আরবি শব্দ। এর অর্থ -পাঠ্য বা পঠন। কুরআন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা পঠিত ও পঠিতব্য গ্রন্থ বিধায় একে কুরআন বলা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা:) এর নবুওয়াতের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনকালে অবস্হা ও চাহিদার প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণের জন্য যে আল্লাহ প্রদত্ত বাণী অবতীর্ণ করা হয়েছে তার সামষ্টিক ও সম্কলিত রূপই হলো আল কুরআন। এ মহাগ্রন্হ যে ভাষায় ( language) পাঠ (text) ও পঠন পদ্ধতিতে (method of reciation) অবতীর্ণ হয়েছিল তার সবটুকুই যথাযথভাবে বিদ্যমান আছে।
ক্ববদ       ক্রয়ের পর পণ্যের ওপর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে দখল অর্জন করাকে ক্ববদ বলা হয়। পণ্যের বিভিন্নতায় ক্ববদের ধরনও বিভিন্ন হতে পারে। ক্ববদ করার অর্থ হলো ব্যয় -ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং যেভাবে সেই ক্ষমতা অর্জিত হবে সেটাই ক্ববদ বলে গণ্য হবে।
ক্ববদে     ক্ববদে হাসানা মূলত এমন একধরনের ঋণ যা কারো উপকারের
হাসানা       জন্য বিনা  শর্তে প্রদান করা হয়। এই  ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করার অবকাশ থাকে ।
ক্বালবুদ      ক্বালবুদ দাইন অর্থ দায়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা। এটা রিবার
দাইন    অন্তর্ভূক্ত।
ক্বিয়াস    ক্বিয়াস শব্দের অর্থ হলো অনুমান করা, সামঞ্জস্যপূর্ণ করা,সমন্বিত করা, যুক্ত করা ইত্যাদি। যে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে কিছু বলা হয়নি সে বিষয়কে কুরআন -সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো বিষয়ের হুকুমের সঙ্গে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো বিধান নির্গত করার নাম ক্বিয়াস। ক্বিয়াস ইসলামী আইনের একটি উৎস ।
সাহিবুল    মুদারাবা কারবারে মূলধন সরবরাহকারীকে সাহিবুল মাল বলা হয়।
মাল
জামানত   ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের নিরাপ্তার জন্য ঋণদাতার কাছে কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখা ।
ফতওয়া    রায়, মত,সিদ্ধান্ত ইত্যাদি :ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃত প্রদত্ত মতামতকে ফতওয়া বলা হয়। যিনি এ ফতওয়া প্রদান করেন তাকে মুফতি বলা হয়। বিচারক অথবা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃত উপস্হাপিত প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞগণ কুরআন, সুন্নাহ,ইজমা, ক্বিয়াস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের আলোকে এ মতামত দিয়ে থাকেন।
বাই '    আরবি  বাই'   শব্দের অর্থ ক্রয় -বিক্রয়। বাই' বা ক্রয় -বিক্রয় হচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোনো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদের পরিবর্তন অথবা বিক্রয়যোগ্য কোনো সম্পদের বিনিময়ে কোনো বস্তুর মালিকানা হস্তান্তর করা।
বাই' -এর সংজ্ঞায় আল্লামা বুরহানুদ্দীন মুরগিনানী তার 'হিদায়া' নামক গ্রন্হে বলেছেন,  'ক্রয় -বিক্রয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে একটি
দ্রব্যের বিপরীতে অপর একটি দ্রব্যের বিনিময় করাকে বাই'  বলা হয় '। এ ধরনের কেনাবেচাকে বাই ' মুতলাক বা সাধারণ ক্রয় -বিক্রয়ও বলা হয়। বাই' ইসতিসন : ক্রেতার নির্দেশ বা অর্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য প্রস্তুত করে ক্রয় -বিক্রয়কে বাই' ইসতিসনা বলা হয়। সাধারণত কোনো জিনিস তৈরি বা নির্মাণ করে দেয়ার জন্য অপর পক্ষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বা অর্ডার দানকে বাই'ইসতিসনা বলে।
বাই'মুরাবাহা  : আভিধানিক অর্থে বাই'মুরাবাহা বলতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে লাভে বিক্রয়কে বুঝায়। পারিভাষিক অর্থে ক্রয়মূল্যের
ওপর নির্দিষ্ট লাভ যোগ করে কোনো পণ্য বিক্রয় করাকে বাই'মুরাবাহা বলা হয়।
বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট :  বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি পরিভাষা। আমদানি পণ্যে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যাংক মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিটি অনুশীলন করে থাকে। বিনিয়োগ গ্রাহক বিদেশ থেকে যে ধরনের পণ্য আমদানি করতে চান তার বিবরণসহ ইসলামী ব্যাংকের কাছে তা আমদানি করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন। তার কাঙ্খিত পণ্য বিদেশ থেকে ক্রয় করে ব্যাংক তার কাছে মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিতে বিক্রয় করে।
বাই'মুয়াজ্জাল : বাই'মুয়াজ্জাল ইসলামী ব্যাংকের একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। মুয়াজ্জাল আরবি আজল থেকে উদ্ভূত। আজল শব্দের আভিধানিক অর্থ বিলম্ব, বাকি আর মুয়াজ্জাল শব্দের অর্ধ বিলম্বিত, বিলম্বে পরিশোধযোগ্য, বাকি, নগদের বিপরীত ইত্যাদি। পরিভাষায় বাই'মুয়াজ্জাল হলো এমন এক ধরনের ক্রয় -বিক্রয় যেখানে পণ্যটি নগদে হস্তান্তর এবং মূল্য বাকিতে অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে/মেয়াদে পরিশোধ করা হয়।
বাই'সালাম : আভিধানিক অর্থে বাই'সালাম হচ্ছে অগ্রিম ক্রয় -বিক্রয়। অগ্রিম মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ান্তে হস্তান্তরযোগ্য কোনো নির্ধারিত বস্তু ক্রয় -বিক্রয় করাকে বাই'সালাম বলে।
বাই'সরফ  : সরফ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে রূপান্তর করা, স্হানান্তর করা, বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয়কে অথবা স্বর্ণ,রৌপ্য বা মুদ্রার পরস্পর বিনিময় করাকে বাই'সরফ বলা হয়। একই বৈঠকে দু'জন তাদের মালিকানাধীন জিনিসকে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর মাস করে বিধায় একে বাই'সরফ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মাসালিহ মুরসালা  : কল্যাণকে ভিত্তি করে বিধান  রচনা করার নাম মাসলাহা বা মাসালিহ মুরসালা। সার্বিক জনস্বার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ 'নস' বিদ্যমান না থাকা অবস্হায় গৃহীত সিদ্ধান্তকে এমন কোনো মৌলিক নীতির সঙ্গে সংল্শিষ্ট করে দেয়ার নাম মাসালিহ মুরসালা। যে সব বিষয়ে শরী'আহর সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান আছে সেই বিষয়টি মাসালিহ মুরসালার অন্তর্ভূক্ত হবে না । কোনো বৃহত্তর স্বার্থ  সংরক্ষণ করা, শরী'আহর উদ্দেশ্য পূরণ করা ও ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করাই মাসালিহ মুরসালার উদ্দেশ্য।
মু'আমালাহ   : সাধারণভাবে মু'আমালাহ অর্থ লেনদেন। ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় কেবল আর্থিক লেনদেনকে মু'আমালাহ বলে।
মুশারাকা  :  মুশারাকা মূলত একটি অংশীদারি কারবার। ব্যাংক এবং গ্রাহক পুঁজি ও ব্যবস্হাপনা উভয় ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে যে ব্যবসা পরিচালনা করে তাকে মুশারাকা বলা হয়। মুশারাকাকে সরাসরি অর্থায়ন (direct financing) পদ্ধতিও বলা হয়। ব্যবসায়ে লাভ হলে চুক্তি মোতাবেক ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে তা বন্টন করে নেয় এবং লোকসান হলে তা মূলধন মোতাবেক
উভয়ে বহন করে থাকে।
মুশারাকা মুতানাকিসা  : ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা  পদ্ধতিকে মুশারাকা মুতানাকিসা বলা হয়।
মুরাবাহা লিল আমিরিবিশ শিরা : ক্রেতার অনুরোধে তার চাহিদা মোতাবেক বিক্রেতা কর্তৃত পণ্য ক্রয় করে মালিকানা ও দখল লাভের পর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সম্মত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক বিক্রয় করাকে
'মুরাবাহা লিল আমিরি বিশ -শিরা' বা ক্রেতার আদেশ ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মুরাবাহা ' বলা হয়। ইসলামী ব্যাংকসমূহ এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে বলে একে ব্যাংকিং মুরাবাহাও বলা হয়ে থাকে।
মুদারাবা       মুদারাবা শব্দটি 'দারবুন' শব্দমূল হতে উদ্ভূত হয়েছে। আরবি ভাষায় শব্দটি  বিভিন্ন অর্থে ব্যবহ্নত হয়ে থাকে। যেমন -প্রহার করা, অন্বেষণ করা, দৃষ্টান্ত দেয়া,পরিভ্রমণ করা ইত্যাদি।
ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা এমন ধরনের ব্যবসা যেখানে দুটি পক্ষ থাকে। মুনাফার উদ্দেশ্যে একপক্ষ মূলধন সরবরাহ করে আর অপরপক্ষ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে  উক্ত মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। ব্যবসায়ে লাভ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বশর্ত অনুসারে বন্টিত হয়। আর লোকসান হলে মূলধন সরবরাহকারী (সাহিবুল মাল) কে তা বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে
মুদারিবের শ্রম ও সময় লোকসান হয়। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে মুদারিবের অবহেলা প্রমাণিত হলে কিংবা চুক্তির শর্ত লঙ্গনের কারণে লোকসান হলে তা মুদারিবকে বহন করতে হবে।
মুদারাবা মুতলাক্বাহ : শর্তহীনভাবে পরিচালিত সাধারণ মুদারাবাকে ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা মুতলাক্বাহ বলা হয়।
মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ : মুদারাবা কারবারে সাহিবুল মাল মুদারিবের ওপর কোনো শর্ত আরোপ করলে তাকে মুদারাবা মুক্বাইয়্যাদাহ বলা হয়।
মিলকিয়াত       কোনো সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব। কোনো সম্পত্তি ব্যবহার,  ভোগ ও স্হানান্তরের অধিকার।
যাকাত      যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের
একটি। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রকরণ, প্রবৃদ্ধি, প্রশংসা ইত্যাদি। পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি
নির্দিষ্ট (নিসাব) পরিমাণ মালের মালিক হলে,  তার নির্ধারিত অংশ (শতকরা ২.৫০ ভাগ) নির্ধারিত
খাতে (মাসারিফে যাকাত)  ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
রিবা          সুদের আরবি প্রতিশব্দ হলো রিবা। রিবা শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সংযোজন, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। তবে ইসলামে সব ধরনের বৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধিকে রিবা বলে গণ্য করা হয়নি। শরী'আহতে
সেই বৃদ্ধিকে রিবা বলা হয়েছে যা প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে শর্ত হিসেবে আদায় করা হয়।
শরী'আহ      শরী'আহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পানি পান করার ঘাট, চলার পথ ইত্যাদি। শরী'আহ বলতে সে সব পথনির্দেশকে বুঝায়, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি জারি করেছেন। আল -কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করার পথনির্দেশকেই শরী'আহ বলা হয়।
সুন্নাহ      রীতি,  নিয়ম, পথ ইত্যাদি। পরিভাষায় রাসূল স. -এর যেসব কথা ও কাজকর্মের বিবরণ এবং কার্যকলাপের অনুমোদন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ বলা হয়। এটি ইসলামী আইনের উৎস।
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক  :
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলককে আরবিতে ইজারা বিল বাই  তাহতা শিরকাতিল মিলক বলা হয়। এ পদ্ধতি মুলত তিনটি বিনিয়োগ পদ্ধতির সমন্বিত রূপ। একটি হচ্ছে 'ইজারা' (ভাড়া) , আরেকটি 'বাই' (ক্রয় -বিক্রয়)  এবং অন্যটি  'শিরকাতুল মিলক ' (মালিকানায় অংশীদারিত্ব) । এ পদ্ধতির আয়কে বলা হয় ভাড়া (rent) ।
এ পদ্ধতিতে পক্ষগুলো প্রথমে যৌথভাবে কোনো সম্পদের মালিকানা অর্জন করে। সংল্শিষ্ট সম্পদে প্রত্যেক পক্ষ তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের অনুপাতে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। একপক্ষ অপর পক্ষের কাছে তার অংশ ভাড়া দেয় এবং ক্রমান্নয়ে বিক্রয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে ।।।

Sunday, 27 October 2019

সুকুক

বিষয় -১২৮ : সম্প্রতি একজন গবেষক প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk)  ও গর্ভনমেন্ট সৃরাবাহি সুকুক (Government Murabaha Sukuk)  শীর্ষক দুটি প্রোডাক্ট শরী'আহসম্মত কি না সে সম্পর্কে শরী'আহ সুপারবাইজারি কমিটির অভিমত জানতে চান। প্রোডাক্ট দুটির সারসংক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো  :
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk -CBMS)
 ক. সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS)  শরী'আহ অনুমোদিত মুদারাবা পদ্ধতিতে সম্পন্না হবে।
খ . ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে প্রয়োজন মত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সিবিএমএস (CBMS)  ক্রয় করবে। ব্যাংক হবে সাহিবুল মাল আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে মুদারিব। সুকুক ক্রয় -বিক্রয়ের সময় মুনাফার অনুপাত (অর্থাৎ, সুকুক ক্রয়কারী ব্যাংক মুনাফার কতভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতভাগ পাবে তা) নির্ধারিত থাকবে। নিলামের মাধ্যমে মুনাফায় অংশ নেয়ার অনুপাত (PSR)  নির্ধারিত হবে।
গ . সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল ব্যবস্হাপনার জন্য একটি এসপিভি (Special Purpose Vehicle -SPV) বা 'বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্হা যেমন 'ইসলামী মাইক্রো ফাইন্যান্স ফাউন্ডেশন' গঠিত হবে। এসপিভি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত তহবিল দেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইসলাসী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহকে পুনরায় বিনিয়োগ প্রদান করবে।
ঘ . বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সুকুকধারী ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর অনুযায়ী বণ্টিত হবে।
  গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (Government Murabaha Sukuk - GMS)
ক . এ প্রোডাক্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সুকুক ইস্যু করবে। নিলামে বিজয়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের ক্রয় প্রতিনিধি বানাবে। সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে গঠিত তহবিল দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রয়প্রতিনিধি হিসেবে সুকুক -ধারকের পক্ষে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তার ওপর মুনাফা ধার্য করে সুকুক -ধারক ব্যাংকের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের কাছে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি কবরে।
খ . প্রস্তাবনায় জিএমএস (GNS) প্রোডাক্টটিকে শরী'আহসম্মত মুদ্রা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করার কথা বলা  হয়েছে।
গ . জিএমএস -এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এবং
ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত তারল্য সরকারি আমদানিতে বিনিয়োগের সুযোগ হবে।
ঘ . এ প্রোডাক্টের মাধ্যমে সরকার খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্য যেমন : পেট্রোলিয়াম, পাম অয়েল ইত্যাদি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য সহজ তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।
সিদ্ধান্ত : 'সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) ' ও 'গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) ' প্রোডাক্ট
দুটি প্রচলিত রিপো (Repurchase Order -REPO)  ও রিভার্স রিপো ( Reverse REPO)  এর ইসলামী বিকল্প হিসেবে নিঃসন্দেহে একটি
প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ, সিবিএমএস পদ্ধতিতে সংগৃহীত অর্থ ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার সুবাদে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হবে এবং অর্থনীতিক ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে সম্পদের প্রবাহ ধাবিত হবে।
অন্যদিকে সরকারি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির একটি শরী'আহসম্মত উপকরণ হিসেবেও আলোচ্য জিএমএস ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী ব্যাংকসমূহের লাভজনক খাতে অতিরিক্ত তারল্য
বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
    সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBNS) সম্পর্কে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত/পরামর্শ/সুপারিশ :
১। প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক প্রোডাক্টটি মুদারাবা পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নীতিগতভাবে এটি শরী'আহসম্মত।
২ । প্রোডাক্টটির লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা / যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . সুকুক থেকে সংগৃহীত মুদারাবা তহবিল ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার কথা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে : তবে তা কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটি মনে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে সংগৃহীত তহবিল এসপিভি -এর মাধ্যমে পুনরায় মুদারাবা পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ের ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হা বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রদান করতে পারে যা তারা শরী'আহসম্মত (বাই'মুয়াজ্জাল, বাই'সালাম, এইচপিএসএম, মুশারাকা, মুদারাবা ইত্যাদি) পদ্ধতিতে তাদের সদস্যদের মধ্যে ( গ্রাহক পর্যায়ে)  বিনিয়োগ করতে পারবে। উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় এসপিভি -এর মাধ্যমে প্রথমে সাহিবুল মাল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মুদারিব হিসেবে ইসলামিক মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট (Ialamic Micro Finance Institute) এর মধ্যে পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বন্টিত হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্জিত অংশ ( আয়) পুনরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর (PSR) অনুযায়ী বন্টিত হবে। অর্থাৎ, এটি দুইস্তর বিশিষ্ট মুদারাবা কারবারে পরিণত হবে।
খ . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (সাহিবুল মাল) তার মুদারাবা তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . প্রস্তাবনায় সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) এর বৈশিষ্ট্য/ পদ্ধতির মধ্যে শুধু লাভের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। লোকসান হলে তা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী বহন করার বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।
ঘ . সুকুকের মেয়েদ শেষে সুকুকধারী ও সুকুক ইস্যুকারী এবং সংল্শিষ্ট অন্যান্য পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফা বন্টনের সময় লাভ -ক্ষতির হিসাব কিভাবে সম্পন্ন/চূড়ান্ত করা হবে সে ব্যাপারে প্রস্তাবনায় স্পষ্ট ধারণা দেয়া প্রয়োজন।
ঙ . মুদারাবা ভিত্তিতে গৃহীত সুকুক তহবিল সকল পর্যায়ের ব্যবহারকারী বিশেষ করে ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রদানের সময় শরী'আহ পরিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্হা রাখা প্রয়োজন।
চ . প্রস্তাবিত সিবিএমএস -এর চুক্তিপত্রে মুদাোবার শর'ঈ মৌলিক শর্তাবলি সন্নিবেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও শরী'আহসম্মত বিভিন্ন  সুকুক চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে অধিকতর চিন্তা -গবেষণা করা প্রয়োজন।
    গর্ভনমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) এর ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত /পরামর্শ/ সুপারিশ :
১. মুরাবাহা পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় নীতিগতভাবে প্রস্তাবিত গভর্নমেন্ট মুদারাবাহা সুকুক শরী'আহসম্মত।
২. সুকুক তহবিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত /আমদানিকৃত পণ্য ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে অবশ্যই হালাল/বৈধ হতে হবে।
৩ . প্রোডাক্টটির প্রস্তাবিত লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নেবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা/যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (বিনিয়োগকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান) তার তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
খ . আলোচ্য জিএমএস -এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুকধারকদের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কি ধরনের সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . যেহেতু আলোচ্য সুকুক শরী'আহসম্মত বাই'মুরাবাহা নীতিমালার ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে তাই বাই'মুরাবাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর'ঈ শর্তাবলি জিএমএস -এর চুক্তিপত্রে সন্নিবেশন এবং তা পরিপালন নিশ্চিয়ত করা প্রয়োজন।
(সূত্র: ২০ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৮৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৯ : কমার্শিয়াল পেপার (Commercial Paper -CP) বা বাণিজ্যিক পত্র স্বল্পমেয়াদী পুঁজি সংগ্রহের জন্য সুদের ভিত্তিতে ইস্যুকৃত একটি আর্থিক উপকরণ, যা কুপন রেট (coupon rate) বা ডিসকাউন্ট (discount) এর ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়। কুপন হচ্ছে দলিলে উউল্লেখিত টাকার পরিমাণের ওপর মেয়াদান্তে নির্ধারিত হারে সুদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি, আর ডিসকাউন্ট হচ্ছে ফেসভ্যালুর চেয়ে কম দামে বিক্রয় করে মেয়াদান্তে ফেস ভ্যালুতে কিনে নেয়ার শর্তে কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু করা।  এ ধরনের বাণিজ্যিক পত্র শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ কিনা?
সিদ্ধান্ত  : ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কুপন বা ডিসকাউন্টিং কোনোটিই বৈধ নয়। কাজেই ইসলামী ব্যাংক এ ধরনের কমার্শিয়াল পেপারে বিনিয়োগ কিংবা কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু এজেন্ট এবং পেয়িং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
( সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )

Saturday, 26 October 2019

অদাবিকৃত আমানত কেন্দ্রীয় ব্যাংকেে প্রেরণ

বিষয় -১২৬ : ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ নীতিমালার আলোকে জনগণ থেকে ডিপোজিট সংগ্রহ করে থাকে। কোনো গ্রাহক কোনো নির্দিষ্ট হিসাবে দশ বছর লেনদেন না করলে তার প্রাপ্য অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রেরণ করা যাবে কি না? 
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত জমা হিসাবের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রদান করা যাবে। তবে এরূপ বাধ্যবাধকতার বিষয়টি হিসাব খোলার আবেদনপত্র উল্লেখ করতে হবে।
(সূত্র : ২৪ জুন ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
    সিকিউরিটি গার্ডদের জুমু'আর সালাত আদায়
বিষয় -১২৭ : ইসলামী শরী'আহতে জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব অত্যধিক। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডগণ একসঙ্গে জুমু'আর সালাতে গেলে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশম্কা  থেকে যায়। অতএব এমন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডদের শুক্রবারের জুমু'আর সালাত আদায়ের বিধান  কী ?
সিদ্ধাস্ত : কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডগণ পালাক্রমে শুক্রবার জুমু'আর সালাত আদায় করবেন। যারা জুমু'আর সালাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না তারা যথারীতি জোহরের সালাত আদায় করবেন।
(সূত্র : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )

Wednesday, 23 October 2019

ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ

বিষয় -১২৫ : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ বৈধ হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া মহিলা গ্রাহকগণ মহিলা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন। সেহেতু একান্ত প্রয়োজনে বাস্তবজীবনে ইসলামের অনুসারী মহিলাদের কর্মসংস্হানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের দ্বার উন্মুক্ত থাকা উচিত। 
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন -মহিলা কর্মকর্তা ও মহিলা গ্রাহকদের জন্য শরী'আহসম্মতভাবে বসার জন্য ব্যবস্হা, বাথরুম/টয়লেট ইত্যাদি ব্যবস্হাকরণ সাপেক্ষে পর্দা তথা ইসলামী পরিবেশের ব্যবস্হা নিশ্চিত করে যেসব শাখায় মহিলা গ্রাহকের সংখ্যা বেশি এমন শাখাগুলোতে একাধিক মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দিয়ে মহিলা  কাউন্টার বা মহিলা গ্রাহকদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। তবে পুরুষ সহকর্মী ও পুরুষ গ্রাহকদের মাঝে দু -একজন মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দেয়া সমীচীন হবে না।
(সূত্র : ৮ এপ্রিল ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) 

কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রামের ব্যবহার

বিষয় -১২৪ - : ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন কাগজপত্র, ফরম ও প্রকাশনায় আল কুরআনের আয়াত  সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণত যেসব প্রকাশনা ও প্রচারপত্র মাত্র একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দেয়া হয় তাতে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে লিফলেট ও ইনভেলাপে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার না করা উচিত।
(সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।

Tuesday, 22 October 2019

বিবিধ

ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে সুদভিত্তিক বন্ড ক্রয় -বিক্রয়
বিষয় -১২২ : ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে সুদভিত্তিক ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস  ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ক্রয় -বিক্রয় করা শরী'আহসম্মত কি  না ?
সিদ্ধান্ত : ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড যেহেতু সুদের সাথে সরাসরি জড়িত তাই বাধ্যবাধকতা না থাকলে ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে বিক্রয় করা বৈধ হবে না। তবে বাধ্যবাধকতার (obligatory) ক্ষেত্রে বিক্রয়লব্ধ আয় সন্দেহজনক আয়ের মধ্যে গণ্য হবে।
(সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৩ : ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে প্রাইজ বন্ড ক্রয় -বিক্রয় করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংক শরী'আহ মোতাবেক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাংপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া ও সুদি লেনদেনে সহযোগিতা করা হবে -এ আশম্কা থাকার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃত ইস্যুকৃত প্রাইজ বন্ড ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টারে ক্রয় -বিক্রয় করা বৈধ হবে না।
কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, 
'আর সৎকর্ম ও তাক্বওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যের সহযোগিতা করো । পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরস্পরে সহায়তা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা'।
( আল মায়িদাহ : আয়াত -২)
'হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ,জুয়া,প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ শয়তানের কাজ। অতএব তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও'।
(সূরা আল মায়িদাহ : আয়াত -৯০)
(সূত্র : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।

Monday, 21 October 2019

বৈদেশিক বাণিজ্যে এফএক্স ফরোয়ার্ড

বিষয় -১২১ : বৈদেশিক বাণিজ্যে এফএক্স ফরোয়ার্ড বা ভবিষ্যতে লেনদেনের উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রিম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক শরী'আহসম্মত কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে ?
সিদ্ধান্ত : বৈদেশিক বাণিজ্যে এফএক্স ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো শরী'আহসম্মত নিম্নোক্ত দুটি বিকল্পের যেকোনো একটি অনুশীলন করতে পারে :
প্রথম বিকল্প : এফএক্স ফরোয়ার্ড বা ভবিষ্যতে লেনদেনের উদ্দেশ্যে প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রার আনুমানিক হার (anticipated rate) নির্ধারণপূর্বক ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পাদিত হবে এবং পরবর্তীকালে মুদ্রা লেনদেনের দিন পূর্বোক্ত আনুমানিক হারের সাথে লেনদেনের দিনের হারকে গড় করে চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে :
ক . শুরুতে মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে একটি 'ওয়াদ বিল বাই' সম্পাদিত হবে,  যা পরিপালন করা উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হবে ।
খ . 'ওয়াদ' পর্যায়ে মুদ্রা লেনদেনের একটি আনুমানিক (anticipated)  বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে এবং লেনদেনের দিন উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে।
গ . আনুমানিক হার (anticipated rate) এবং লেনদেন দিবসে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর (spot rate) গড় করে ঐ দিনের মুদ্রা লেনদেনের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে এবং এ সময় ইয়াদান বি ইয়াদিন -এর শর্ত পূরণ করে উভয় মুদ্রা নগদে হস্তান্তর সস্পন্ন করতে হবে।
ঘ . মূল লেনদেনের সময় কোনো রকমের অজ্ঞতা, অনিশ্চয়তা ফটকাবাজারি এরং শরী'আহ নিষিদ্ধ কোনো উপাদান থাকতে পারবে না।
দ্বিতীয় বিকল্প : এ ক্ষেত্রে প্রথম বিকল্প প্রস্তাবনার গ নং শর্তটি অর্থাৎ 'লেনদেন দিবসে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর (spot rate) ও আনুমানিক হার গড় করে ঐ দিনের মুদ্রা লেনদেনের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হবে' এর স্হলে 'লেনদেন দিবসের স্পট রেট যার অনুকূলে যাবে সে পক্ষ অপর পক্ষকে তার লাভ হতে শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত প্রদান করবে বা ছাড় দেবে ' সর্তটি প্রতিস্হাপিত হবে এবং নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে :
ক . গ্রাহক তার বৈদেশিক মুদ্রার ওঠা -নামায় উদ্ভূত প্রকৃত ঝুঁকি মোকাবেলায় 'ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করবে।
খ . গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংক আনুমানিক হারে 'ফরওয়ার্ড বুকিং করবে এবং নির্দিষ্ট তারিখে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের চুক্তি করবে।
গ . চুক্তি অনুযায়ী ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মুদ্রা সরবরাহের তারিখে ( forward maturity date)  সংল্শিষ্ট মুদ্রার বাজারদরের (spot rate)  সাথে আনুমানিক 'ফরওয়ার্ড বুকিং হারের তারতম্য হলে, যেকোনো একপক্ষ (ব্যাংক বা গ্রাহক) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশম্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে অপর পক্ষ তার লাভ থেকে চুক্তি অনুযায়ী শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ শেয়ার করবে।
ঘ . লাভ -লোকসান ভাগ করার ফলে,লেনদেন তারিখে উভয়পক্ষ তাদের চুক্তিভুক্ত লেনদেন সম্পাদনের জন্য একটি নতুন হার (adjusted rate) এ উপনীত হবে এবং হাতে হাতে লেনদেন সম্পন্ন হয়ে ফরওয়ার্ড হিসাব (forward deal)  বন্ধ হবে।
ঙ . ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে ফরওয়ার্ড লেনদেনের নির্দিষ্ট অংশ অন্যত্র ফরওয়ার্ডের ভিত্তিতে কভারেজ রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার রফতানিকারক, রেমিটার অথবা অন্য কোনো ব্যাংকের সাথে ক,খ,গ ও ঘ নং দফায় বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী একইভাবে লেনদেন সম্পাদন করবে।
চ. বাস্তব প্রয়োজন ছাড়া ফটকা ব্যবসার জন্য কোনো ফরোয়ার্ড সরফ করা যাবে না।
ছ . চুক্তির মেয়াদের মধ্যে কোনো পক্ষই চুক্তি বাতিল করতে পারবে না।
(সূত্র : ৭ এপ্রিল ২০১১ ও ২৫ জুন, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৬২তম ও ১৭৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।

বৈদেশিক -বাণিজ্য

আমদানি বাণিজ্য বাই'মুরাবাহা
বিষয় -১১৯ :বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা বৈধ কি না এবং ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলনের নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা জায়েয, তবে শর্ত হলো লেনদেন নগদ এবং হাতে হাতে সম্পন্ন হতে হবে। কোনোমতেই বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রিম কেনাবেচা করা যাবে না। সময়ের পার্থক্য এ ক্ষেত্রে জায়েয নেই। অপর পক্ষে , একই দেশের মুদ্রার বিনিময়ে মূল্য কমবেশি হওয়া শরী'আহ পরিপন্হী । ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহার সাধারণ নীতিসমূহ প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রোফরমা ইনভয়েসের ভিত্তিতে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। গ্রাহকের সাথে চুক্তির সময় এ সকল বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
( সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২০ : বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক কীভাবে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে? এ ক্ষেত্রে পণ্য হস্তগত হওয়ার পর ব্যাংক তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে পারে কি না ?
সিদ্ধান্ত :মুরাবাহা চুক্তির অধীনে পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী গ্রাহকের কাছে সর্বপ্রথম মুরাবাহা পদ্ধতির যাবতীয় নিয়মাবলি তুলে ধরতে হবে। গ্রাহক ব্যাংকের নীতিমালা মানতে রাজি হলে তার কাছ থেকে এ মর্মে ওয়াদা নিতে হবে যে, তার পক্ষ হয়ে ব্যাংক যে পণ্য আমদানি করবে তিনি (গ্রাহক) তা ব্যাংকের কাছ থেকে চুক্তিকৃত মূল্যে ক্রয় করবেন। এলসির অধীনে মুরাবাহা চুক্তিতে পণ্য আমদানি করা হলে প্রকৃত আমদানিকারক কত সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নেবেন বা পণ্যের মূল্য প্রদান করবেন তার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে মুনাফা আদায় করা যেতে পারে। তবে একবার এই হার নির্ধারিত হয়ে গেলে তা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। আমদানিকারক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নিতে বা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে চুক্তি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে এবং সে ক্ষেত্রে ব্যাংক জামানত বাজেয়াপ্ত ও আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয়সহ আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করতে পারে। জামানত ও পণ্যের বিক্রয়মূল্য যদি ব্যাংকের পাওনা মেটানোর জন্য যথেষ্ট না হয় তবে চুক্তিতে থাকলে পাওনার অবশিষ্টাংশ আদায়ের জন্য ব্যাংক আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
আমদানিকৃত পণ্য শিপমেন্ট হলে এবং সংল্শিষ্ট কাগজপত্র ব্যাংকে এসে পৌঁছলে আমদানিকারক কর্তৃক উক্ত পণ্য বিক্রয় করা জায়েয। কিন্তু পণ্যের ক্ববদ সম্পন্ন হওয়ার আগে পরবর্তী ক্রেতা কর্তৃক কারো কাছে উক্ত পণ্য বিক্রয় করতে পারবে না।
(সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী' আহ কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।

Sunday, 20 October 2019

বীমা

বিষয় -১১৮  : ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বর্তমান থাকা অবস্হায় ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রচলিত (conventional) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পলিসি গ্রহণ করা জায়েয কি ?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী বর্তমান থাকা অবস্হায় ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রচলিত  (conventional) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পলিসি গ্রহণ করা জায়েয নয়। সুতরাং ব্যাংকের পরিপূর্ণ ইসলামীকরণের লক্ষ্যে প্রচলিত ইন্স্যুরেন্সের পরিবর্তে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পলিসি গ্রহণ করা উচিত।
( সূত্র : ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠত শরী' আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )

Tuesday, 15 October 2019

যাকাত

বিষয় -১০৯ : ইসলামী ব্যাংকের কোন কোন সম্পদ বা তহবিলের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে ?
সিদ্ধান্ত : জর্দান ইসলামী ব্যাংক,বাহরাইন ইসলামী ব্যাংক ও কুয়েত ফিন্যান্স হাউজসহ দেশি -বিদেশি বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক অনুসৃত কর্মপন্হা পর্যালোচনা করে ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল নিম্নোক্ত তহবিল ও মুনাফার ওপর যাকাত প্রদানের সিদ্ধান্ত দেয়:
ক . বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি (statutory Reserve)
খ . বিনিয়োগ ক্ষতি সমন্বয় তহবিল (Investment Loss Off -setting Reserve)
গ . শেয়ার প্রিমিয়াম (Share Premium)।
ঘ . সাধারণ সঞ্চিতি ( General Reserve)।
ঙ . বিনিময় সমতাকরণ হিসাব (Exchange Equalization A/C)।
শেয়ারহোল্ডারগণকে তাদের শেয়ারের মূল্য ও
লভ্যাংশের ওপর যাকাত দিতে হবে। উক্ত যাকাতের টাকা ব্যাংকের সাদাকাহ তহবিল দান করার জন্য শেয়ারহোল্ডারগণের কাছে আবেদন করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে জমাকারীগণের কাছেও আবেদন করা যেতে পারে।
(সূত্র : ১০ এপ্রিল ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯ম  অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১০ : আইনগত সত্তা (Iegal entity)  হিসেবে ইসলামী ব্যাংক,কোনো কোম্পানি,সংস্হা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ওপরও যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক কি না ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের কাছে রক্ষিত বিভিন্ন প্রকার রিজার্ভ ও প্রভিশন যদি 'নিসাব' পরিমাণ হয়,  তাহলে প্রতি চান্দ্রবর্ষের ওপর ২.৫০%  হারে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তবে শর্ত হলো
'মুছাহিমুন' বা শেয়ারহোল্ডারগণ, যারা প্রকৃতপক্ষে এসব সম্পদের মালিক, তাদের কাছ থেকে ব্যাংক বা সংল্শিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পদের যাকাত প্রদানের অনুমতি নিয়ে রাখবে।
১৯৮৪ সালের ৩০ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত 'যাকাত' -বিষয়ক প্রথম কনফারেন্স সকল পাবলিক, প্রাইভেট লিমিটেড ও যৌথ মূলধনী বৃহদায়তন কারবার প্রতিষ্ঠান বা তোম্পানিকে সর্বসম্মতিক্রমে আইনগত সত্তা ( Isgal entity) -রূপে চিহ্নিত করা হয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রিজার্ভ ও প্রভিশনের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে বলে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। সাধারণত 'মুকাল্লাফ বিয -যাকাত' বা যাকাতের হুকুম যার ওপর প্রযোজ্য এমন ব্যক্তির সম্পদের 'যাকাত দেয়া ওয়াজিব'। অনুরূপভাবে ক্ষেত্রবিশেষে 'গায়রে 'মুকাল্লাফ বিয -যাকাত বা যাকাতের হুকুম যার ওপর প্রযোজ্য নয় এমন প্রতিশ্ঠান, সংস্হা বা কোম্পানির নিজস্ব তহবিলের ওপর আইনগত সত্তা হিসেবে শরী'আহ মোতাবেক অলি বা অভিভাবকরূপ প্রতিষ্ঠানের মালিকগণের পক্ষ থেকে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
নিম্নে বর্ণিত অবস্হা পাওয়া গেলে লিমিটেড কোম্পানিগুলো কৃত্রিম ব্যক্তিরূপে গণ্য হবে এবং
যথানিয়মে যাকাত প্রদান করতে হবে :
 ক . যাকাত প্রদানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বিধান থাকলে।
খ . প্রতিষ্ঠানের মূল গঠনতন্ত্রে ( মেমোরেন্ডাম ও আর্টিক্যালস অব অ্যাসোসিয়েশন)  যাকাত প্রদানের আইনগত কোনো ধারার উল্লেখ থাকলে।
গ .  বার্ষিক সাধারণ সভায় এ মর্মে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে।
ঘ . মুছাহিমুন বা শেয়ারহোল্ডারগণ ব্যক্তিগতভাবে এ ব্যাপারে সম্মতি দিলে।
সুতর্ং কোনো ইসলামী ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনে যাকাত প্রদান সংক্রান্ত কোনো ধারা বিদ্যমান থকলে  সে ইসলামী ব্যাংককে আইনগত সত্তা হিসেবে অবশ্যই যাকাত
প্রদান করতে হবে।
(সূত্র : ২৬ জুন ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১১ : যাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে সম্পদের প্রারম্ভিক স্হিতি (opening balance) ,সমাপনী স্হিতি (closing balance)  ও গড় স্হিতি (average balance) -এর মধ্যে কোনটি ধর্তব্য হবে?
সিদ্ধান্ত : যাকাত সমাপনী স্হিতির (closing balance)  ওপরই নির্ধারণ করতে হবে।
( সূত্র: ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১২ : ইসলামী ব্যাংকের যাকাত বাবদ আদায়কৃত অর্থ এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সংশয়পূর্ণ আয় কোন কোন খাতে ব্যয় -ব্যবহার করা যাবে?
সিদ্ধান্ত : আল্লাহ তা'আলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি খাত সুনির্দিষ্টভাবে মহাগ্রন্হ আল কুরআনে বর্ণনা করেছেন। এগুলো হচ্ছে : ১. ফকির ২
 মিসকিন ৩. যাকাতবিষয়ক কাজে নিয়োজিত কর্মচারী ৪ .যাদের মন সন্তুষ্ট করা প্রয়োজন ৫ . ফির -রিকাব (দাস মুক্তি) ৬ . আল গারিমিন  (ঋণগ্রস্ত লোকজন) ৭ . ফি সাবিলিল্লাহ ( আল্লাহর পথে)  ৮ . ইবনুস সাবিল (নিঃস্ব পথিক)।
পক্ষান্তরে সংশয়পূর্ণ অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে শরী'আহর নীতিগত দৃষ্ঠিভঙ্গি হচ্ছে আলোচ্য
সন্দেহজনক অর্থ যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক/সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়া যায় এবং কোনো বাধ্যতামূলক উপায়ে সংল্শিষ্ট উৎসকে তা ফেরত দেয়া সম্ভব হয়, তবে তা সংল্শিষ্ট আয়ের বিপরীতে ইনকাম ট্যাক্স কিংবা সিভিল ট্যাক্স ইত্যাদি বাবদ পুনরায় উক্ত তহবিলে পৌঁছে দেয়াই বাঞ্ছনীয়। যাতে যেখানকার অর্থ সেখানে আবার চলে যেথে পারে। ট্যাক্স পরিশোধের পরও যদি কিছু অর্থ অবশিষ্ট থেকে যায় তবে তা চক্ষুশিবির খোলা, দাতব্য চিকিৎসালয় স্হাপন, বন্যাদুর্গতদের সাহায্য প্রদান, সড়ক  কিংবা পুল নির্মাণ,  সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা অথবা এমন দালান নির্মাণের কাজে লাগানো যা সর্বসাধারণের ব্যবহারোপযোগী করে দেয়া হয় ইত্যাদি কাজে লাগানো যেতে পারে।
সংশয়পূর্ণ অর্থ ব্যাংকের হাতে পড়লে কেবল দায়িত্ব মুক্তির প্রত্যাশায় সাধারণ জনকল্যাণমূলক কাজে যেমন গণশৌচাগার নির্মাণ, ফকির, মিসকিন,ইয়াতিম ও অসাহায় -অনাথদের বিবাহ ও চিকিৎসার খরচ, নদীভাঙা, বাস্তুহারা,  অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসন ইত্যাদি কাজে ব্যয় ও ব্যবহার করা যেতে পারে।
(সূত্র : ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩৫শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ১১৩ : নিম্নোক্ত খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরী'আহসম্মত কি না?
ক . আয়বর্ধনমূলক কার্যক্ররমের আওতায় দরিদ্র লোকদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা, গাভী পালন, হাঁস -মুরগী পালন, সেলাই মেশিন প্রদান, রিকশা প্রদান ইত্যাদি ।
খ . শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় আদর্শ ফোরকানিয়া মক্তব, মডেল মাদরাসা, দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র -ছাত্রীদের জস্য শিক্ষাবৃত্তি ও এককালীন আর্থিক সহায়তা দান ইত্যাদি।
গ . মহিলাদেরকে শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে মহিলা মাদরাসা কার্যক্রম পরিচালনা।
ঘ . গরিব ছাত্র -ছাত্রীদেরকে যাকাতের অর্থ দিয়ে
শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা।
ঙ . আর্দশ ফোরকানিয়া মক্তব পরিচালনা।
চ . কুরআনিক ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট  -এর মাধ্যমে  মানুষকে সহিহভাবে অর্থসহ কুরআন বুঝতে সহায়তা করা।
ছ . নার্সিং ইনস্টিটিউট  -এর মাধ্যমে  অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কে নার্সিং পেশার মতো একটি মানব সেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা।
জ . মহিলা পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, এতিম ও অসহায় মহিলাদের পুনর্বাসন  , সেলাই প্রশিক্ষণ, ফাস্টফুড তৈরি প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা।
ঝ . বস্তিবাসী শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষা ও স্বাস্হ্যেন্নয়নে বস্তির উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করা।
ঞ . দাতব্য চিকিৎসালয়ের মাধ্যমে গরিব ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা।
ট . হোমিওপ্যাথি ক্লিনিক পরিচালনার মাধ্যমে গরিব ও অসহায় রোগীদের স্বল্পখরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
ঠ . কম খরচে চক্ষু চিকিৎসা প্রকল্পের মাধ্যমে
দরিদ্র রোগীদের স্বল্পখরচে/বিনাখরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
ড . দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের কে খরচে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে খাতনা করানো।
ঢ . গ্রামের দরিদ্র মহিলাদেরকে ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা এবং প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা।
ণ . দাওয়াহ কাজের সহায়ক জাতীয় ও ইসলামী সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা ।
সিদ্ধান্ত : উক্ত কার্যক্রমসমূহ পবিত্র কুরআনের
সূরা আত তাওবার ৬০ নং আয়াতে বর্ণিত ৮টি খাত (যথা : ১। ফকির, ২। মিসকিন,৩। যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী, ৪। মুয়াল্লাফাতুল কুলুব, ৫। দাসমুক্তি,৬। ঋণগ্রস্ত, ৭। ফি সাবিলিল্লাহ ও ৮। মুসাফির) এর মধ্য হতে নিম্নোক্ত তিনটি খাতের আওতাভুক্ত :
ক . ফকির
 খ. মিসকিন এবং
 গ . ফি সাবিলিল্লাহ  ( আল্লাহর পথে) ।
উপরিউক্ত কার্যক্রমসসমূহ পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত ৩টি খাত ( ফকির, মিসকিন ও ফি সাবিলিল্লাহ)  এর আওতাভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে
বিশ্বের বরেণ্য উলামায়ে কেরাম, ফকিহ, আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ ও গবেষণা সংস্হার
মতামত রয়েছে।
(সূত্র : ২৭ জানুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬০তম
অঅধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৪ : যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্হাপনায়
নিয়োজিত কোনো প্রতিষ্ঠান সংগৃহীত যাকাত তহবিল থেকে কাউকে ধার বা বিনিয়োগ দিতে পারবে কি?
সিদ্ধান্ত : যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্হাপনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি দেয়ার শর্তে
যাকাতের অর্থ শুধু ( যাকাতের হকদারদেরকেই
ক্বরদ বা বিনিয়োগ সুবিধা হিসেবে প্রদান করা যাবে। তবে এক বৎসরের বেশি সময়ের জন্য যাকাতের অর্থ ক্বরদ প্রদান বা বিনিয়োগ করা বাঞ্ছনীয় নয়। কিন্তু গ্যারান্টি প্রদান না করলে যাকাতের অর্থের ক্বরদ প্রদান বা বিনিয়োগ করা
যাবে না।
( সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৫ : কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের শরী'আহ অনুমোদিত শেয়ার থেকে অর্জিত লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড বাবদ প্রাপ্ত আয়ের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের ডিভিডেন্ড আয় ওয়াকফ সম্পদের অন্তর্ভূক্ত যা ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকানার আওতাবহির্ভূত,
সেহেতু উক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর কোনো যাকাত দিতেহবে না। কেননা শরী'আহর দৃষ্টিতে ওয়াকফকৃত সম্পদ যাকাতযোগ্য নয়।
(সূত্র : ৩১ জুলাই ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১১৬ : চান্দ্রবর্ষের চেয়ে সৌরবর্ষ ১১ -১২ দিন বেশি হয়ে থাকে। ইসলামী শরী'আহর নিয়মানুযায়ী যাকাত চান্দ্রবর্ষ অনুযায়ী আদায় করার বিধান থাকলেও কোথাও কোথাও ব্যাংকিং
কার্যক্রম সৌরবর্ষ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে থাকে। এমতাবস্হায় ইসলামী ব্যাংক সৌরবর্ষ নাকি চান্দ্রবর্ষের ভিক্তিতে যাকাত হিসাব করবে ?
সিদ্ধান্ত  : আল -কুরআনের সূরা আল -বাক্বারার ১৮৯,সূরা ইয়াসিন এর ৩৯ ও সূরা ইউনুস এর ৫ নং আয়াত বিশ্লেষণপূর্বক এবং আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার 'রিসালাতুল হিলাল' গ্রন্হে প্রদত্ত শর'ঈ বিধান ও আধুনিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত ফাতাওয়া গ্রন্হ যেমন -আল -ফাতওয়া আশ -শারী'আহ, 'ফাতহুয যাকাত' এবং 'আল -ইকতিসাদুল ইসলামীতে '
যাকাতবর্ষ সম্পর্কিত প্রদত্ত ফতওয়া ও দেশ -বিদেশের বিভিন্ন ফকিহ ও শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের মতামত বিস্তারিত আলোচনান্তে উক্ত বিষয়ে নিম্নেরূপ মতামত ব্যক্ত করা হয় :
 ক . সকল প্রকার দলিল -প্রমাণের ভিত্তিতে যাকাতের হিসাব বর্ণরূপে চান্দ্রবর্ষই ধর্তব্য হবে।
 খ . ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকাল হতে চান্দ্রবছর হিসেবে যাকাত প্রদেয় হবে।
গ . ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেহেতু সৌরবর্ষ অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে, সেহেতু অতিরিক্ত ১১/১২ দিন চান্দ্রবর্ষের সাথে যোগ করে ২.৫৮% (প্রায়)  হারে যাতাত প্রদান করতে হবে।
 ঘ . যাকাতযোগ্য বিভিন্ন রিজার্ভ খাতসমূহের অর্থ যদি বিনিয়োগ হিসাবে দেখানো হয় এবং বিনিয়োগলব্ধ আয়সমূহ সংল্শিষ্ট রিজার্ভ ফান্ডের আয় হিসাবে প্রদর্শিত হয়, তাহলে  উক্ত আয়কে যাকাতযোগ্য খাতসমূহের আনুষঙ্গিক আয় হিসেবে বিবেচনায় এনে রিজার্ভের অর্থের সাথে  উক্ত আয়সমূহেরও যাকাত প্রদান করতে হবে।
ঙ . লভ্যাংশ সমতাকরণ রিজার্ভ যেহেতু স্হায়ী পদ্ধতির ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অন্তর্ভূক্ত রিজার্ভ, সেহেতু উক্ত রিজার্ভের ওপর যাকাত প্রদান করতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের জমাকারীগণ যারা বিভিন্ন হিসেবে টাকা জমা রাখেন তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, ইসলামী ব্যাংক নিজ দায়িত্বে তাদের হিসাবে জমাকৃত অর্থের ওপর তাদের পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করে থাকে। অথচ প্রকৃতপক্ষে জমাকারীদের পক্ষ থেকে ব্যাংক কোনো প্রকার যাকাত আদায় করে না। এরূপ সন্দেহ নিরসনকল্পে হিসাব খোলার ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে জমাকারীগণ কর্তৃক জমাকৃত অর্থ যাকাতের নিসাব পরিমান হলেও ব্যাংক তার যাকাত পরিশোধ করে না,  বরং জমাকারীকেই উক্ত অর্থের যাকাত পরিশোধ করতে হবে।
(সূত্র : ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১১৭ : ইসলামী ব্যাংকের জনৈক শেয়ারহোল্ডার ব্যাংক বরাবর প্রেরিত এক পত্রে
ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ডিপোজিটরদের কাছ থেকে তাদের যাকাতের প্রদেয় অর্থ কেটে রেখে একটি তহবিল গড়ে তুলে তা থেকে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করার প্রস্তাব করেন। পত্রে তিনি ঋণগ্রস্ত বিনিয়োগ গ্রহীতাদের
ঋণ পরিশোধের স্বার্থে নিম্নোক্ত প্রস্তাব পেশ করেন  :
ক . শেয়ারের লভ্যাংশ ১৫%-২০%-২৫% হারে ঘোষণা না করে ১৭.৫%-২২.৫%-২৭.৫% হারে ঘোষণা করা এরং প্রতি বছর প্রতি শেয়ারের বিপরীতে যাকাত বাবদ ২.৫% হারে লভ্যাংশ থেকে কেটে রাখা।
খ . ডিপোজিটরগণের জন্য পৃথক 'মুদারাবা যাকাত জমা হিসাব' খোলা। অন্যান্য হিসাব থেকে ২.৫% লাভ অতিরিক্ত প্রদান করে লভ্যাংশ থেকে ২.৫% যাকাত আদায় পূর্বক উক্ত হিসাবে স্হানান্তর করা।
গ . ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের জন্য নীতিমালা প্রনয়ন করা।
উল্লিখিত প্রস্তাবিত বিষয়গুলো শরী'আহসম্মত কিি না?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত শেয়ারহোল্ডারের প্রস্তাবগুলো নিম্নলিখিত কারণে গ্রহণযোগ্য নয়  :
ক . শেয়ারহোল্ডারগণের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে সেখান থেকেে যাকাতের টাকা কেটে রাখা বৈধ হবে না। কারণ, যাকাত প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারের নিজস্ব সম্পদের হিসাবের ওপর নির্ভর করে। যে শেয়ারহোল্ডার থেকে যাকাত কেটে রাখা হবে তার অন্যান্য সম্পদ ও ঋণ হিসাব
করলে হতে পারে তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ হবে না। এমতাবস্হায়,  যাকাত ফরয না হওয়া সত্ত্বেও তার থেকে যাকাত কেটে নিলে তার ওপর জুলুম হবে। অধিকন্তু তার থেকে যাকাত কেটে তা দিয়ে
খেলাপি গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করা হলে অনেক ক্ষেত্রে যাকাতের মূলনীতির পরিপন্হী কাজ সংঘটিত হবে। অর্থাৎ কারো ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে, যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই তার শেয়ার থেকে যাকাত কেটে নিয়ে তা কোনো নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ধনী খেলাপি গ্রাহককে দেয়া হবে। এটা হবে বড় ধরনের জুলুম। আবার একজন গরিব বক্তি থেকে যাকাতের নামে তার অর্থ দিয়ে অন্য ঋণগ্রস্ত গরিবকে প্রদান করা হলেও তা সঠিক হবে  না ।
খ . মুদারাবা ডিপোজিটরদের ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি ব্যতিরেকে যাকাত কেটে রাখা ঠিক হবে না। অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই যে সংল্শিষ্ট ডিপোজিটরের ওপর যাকাত ফরয হবে তা বলা যায়  না ।
গ . তবে কোনো শেয়ারহোল্ডার বা ডিপোজিটর যদি ব্যাংককে তার পক্ষে যাকাত প্রদানের  জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাহলে ব্যাংক তা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংল্শিষ্ট শেয়ারহোল্ডার বা ডিপোজিটর তার যাকাত হিসাব করার সময় ব্যাংকের শেয়ার ও ডিপোজিট স্বভাবতই তার হিসাবের বাইরে রাখবেন। শেয়ারহোল্ডার ও ডিপোজিটরদের অনুমতিসাপেক্ষে তাদের থেকে আদায়কৃত যাকাতের মাধ্যমে আলাদা তহবিল গঠন করা যেতে পারে তবে তা যাকাতের  সকল খাতে ব্যয় করার সুযোগ থাকতে হবে।
ঘ . উক্ত তহবিল গঠন করে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করলে সমাজের অনেক নিঃস্ব ও অসহায় ব্যক্তি যারা যাকাত প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পান তাদের পরিবর্তে তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিরাও ক্ষেত্রবিশেষে যাকাতের সুবিধা পাবেন।
ঙ . এ ধরনের তহবিল গঠন করে খেলাপি ঋণ পরিশোধের ধারা চালু করা হলে ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে যা ব্যাংকের জন্য কল্যাণকর নয়।
চ . অধিকন্তু, শেয়ারহোল্ডার ও ডিপোজিটরদের কাছ থেকে যাকাত বাবদ টাকা কেটে নিয়ে তা দিয়ে খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ মুক্ত করা ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব ও ইখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
সর্বোপরি, ব্যবসায়ে প্রকৃতই ক্ষতি হওয়ার কারণে খেলাপি হয়েছে এমন গ্রাহকদের সময় বাড়িয়ে দেয়া ও ক্ষেত্রবিশেষে ঋণ মওকুফ করার নীতি ব্যাংকে কার্যকর থাকে বিধায় এ উদ্দেশ্যে আলাদা যাকাত তহবিল গঠন করার প্রয়োজন নেই।
(সূত্র: ১৪ মার্চ ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।


কক্সবাজারে পাঁচ তারাকা মানের হোটেল মালিক

কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা দুনিয়ার একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। পৃথিবীর দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতে একাধিকবার যারা বেড়াতে গেছেন, তারাও বার বার যেতে চান। এর কারন হচ্ছে চমৎকার এই স্হানটির আকর্ষন দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত আত্নীয় -স্বজন, বন্ধ -বান্ধবদের অনেকেই আছে নতুন। তারা সাহায্য চায়, পরিচিত কেউ আছে কিনা, হোটেল ভাড়া কেমন, ভালো হোটেল ঠিক করে দিন ইত্যাদি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অপটিমাম ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ এবার ভিন্ন কিছু আয়োজন করেছে। প্রথমত এর হেল্পলাইনে এসে আপনি সব ধরনের সাপোর্ট পাবেন। দ্বিতীয়ত এই বানিজ্যিক
গ্রুপটি কক্সবাজারে সর্ব সাধারনের জন্য একটি পাঁচ তারাকা মানের হোটেল নির্মানে এগিয়ে এসেছে। আপনি চাইলে যে কোন একটি সুইট বা রুম ন্যূনতম মূল্যে ক্রয় করে নিতে পারবেন। একক নামে অথবা পরিবারের সকল সদস্যের নামে। অথবা আত্নীয় -স্বজন,বন্ধু -বান্ধব মিলে সর্বোচ্চ ১০ জনের নামে দেয়া যাবে একটি কামরায়। এতে গড়ে প্রতিজনের খরচ পড়বে আনুমানিক দুই লাখ টাকা। সুবিধা হল আপনার
সার্কেলের যারাই যখন যাবে তারা সম্পূর্ন ফ্রী অথবা নাম মাত্র মূল্যে এখানে থাকতে পারবে । এর বাইরে অন্য সময়গুলোতে স্যুইট ভাড়া হতে আপনার আয়ও হবে।  এ  বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুণ ১৮০ বিজয় নগর এই ঠিকানায়।
ফেসবুক পেইজ -
       -  ইমেইল এড্রেস   ।