বিষয় -৪৮ : এইচপিএসএম বিনিয়োগে মূলধনে ব্যাংক ও গ্রাহকের মালিকানার অনুপাত নির্ধারণ করা শরী'আহর দৃষ্টিতে অপরিহার্য কি না ?
সিদ্ধান্ত : শিরকাতুল মিলক পদ্ধতির মূলনীতি অনুযায়ী এইচপিএসএম বিনিয়োগের চুক্তিপত্র ব্যাংক ও গ্রাহকের মূলধনের মালিকানার স্বীকৃতি থাকা আবশ্যক। কেননা, চুক্তিপত্রের কোথাও গ্রাহকের আনুপাতিক মালিকানার স্বীকৃতি না থাকলে পরবর্তীকালে তার নিজের কিংবা তার ওয়ারিশদের প্রতারিত অথবা বঞিত হওয়ার আশম্কা থাকে। তা ছাড়া গ্রাহক সংশ্লিষ্ট সম্পদের মালিকানা এককভাবে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে যে
কোনো দুর্ঘটনার শিকার হলে বা ক্ষতির সম্মুখীন হলে তা একতরফাভাবে গ্রাহকের ওপর বর্তানোর আশম্কা থেকে যায়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও
গ্রাহকের মূলধনের আনুপাতিক মালিকানার স্বীকৃতি অপরিহার্য।
(সূত্র: ২১ জুন ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩৭শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় - ৪৯ : এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগের বিপরীতে ক্রয়কৃত যানবাহন, মেশিনারিজ,যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা বৈধ হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতির নীতিমালা অনুয়ায়ী বিনিয়োগকৃত সম্পদে গ্রাহকের মালিকানাধীন অংশ ব্যাংকের কাছে রেহেন বা বন্ধক রাখতে কোনো আপত্তি নেই।
(সূূত্র: ১৬ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৭শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
এইচপিএসএম বিনিয়োগের অর্থ গ্রাহকের হিসাবে স্হানান্তর
বিষয় -৫০ :বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল ইত্যাদি ক্রয় -বিক্রয় পদ্ধতিতে ব্যাংক সাধারণত সরবরাহকারীর কাছে পণ্যের মূল্য বা বিনিয়োগের অর্থ প্রদান করে। কিন্তু এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিশেষ করে গৃহনির্মাণ, প্রকল্প প্রস্তুতকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তা ছাড়া এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের বিনিয়োগের
পাশাপাশি গ্রাহকেরও ইকুইটি থাকে। এমতাবস্হায় বিনিয়োগের অর্থ সরবরাহকারীর পরিবর্তে গ্রাহকের হিসাবে প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : শরী'আহ অনুযায়ী হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতিতে বিনিয়োগের
অর্থ গ্রাহকের হিসাবে দেয়া যাবে। কাজেই ব্যাংক কর্তৃক মঞ্জুরিকৃত এইচপিএসএম বিনিয়োগের অর্থ গ্রাহকের হিসাবে প্রদান করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৬ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৭শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
Saturday, 31 August 2019
Thursday, 29 August 2019
এইচপিএসএম পদ্ধতিতে ক্রয়কৃত সম্পদে ক্ষতির দায়ভার বহন
বিষয় -৪৬ :হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতিতে বিনিয়োগকৃত কোনো সম্পদ প্রাকৃতিক দুর্যোগ,গ্রাহকের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, দুর্নীতি, অব্যবস্হাপনা বা অন্য কোনো বাস্তব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায়ভার কে বহন করবে ?
সিদ্ধান্ত : হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতিতে বিনিয়োগকৃত কোনো সম্পদ প্রাকৃতিক দুর্যোগ -দুর্বিপাকে ক্ষতির সম্মুখীন হলে
অথবা গ্রাহকের ইখতিয়ারবহির্ভূত কোনো কিছু ঘটলে ব্যাংক ও গ্রাহক ইকুইটি অনুসারে ক্ষতির
দায়ভার বহন করবে। তবে গ্রাহকের অব্যবস্হাপনা, দুর্নীতি,অবহেলা ইত্যাদি কারণে উক্ত বিনিয়োগকৃত সম্পদের ক্ষতি হলে কেবল গ্রাহকই ক্ষতির দায়ভার বহন করবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতির কানণ নির্ণয়ে শরী'আহর আদল ও ইনসাফের নীতি অবলম্বনের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।
সূত্র: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
এইচপিএসএম প্রকল্পে মালিকানাপুনর্নিধারণ
বিষয় -৪৭ : ব্যাকের জনৈক গ্রাহক কোনো প্রকল্পে
এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে প্রাক্কলিত
ব্যয়ের (estimated cost) চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন। এমতাবস্থায় গ্রাহক বিভিন্ন উৎস
থেকে উক্ত অতিরিক্ত অর্থের সংস্হান করেছেন। এখন গ্রাহক উক্ত প্রকল্পে ইসলামী ব্যাংক থেকে
অতিরিক্ত বিনিয়োগ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকের মালিকানা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন। এমতাবস্হায়
উক্ত প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ এবং ব্যাংক
ও গ্রাহকের মালিকানার অংশ পুনর্নির্ধারণ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ এবং ব্যাংক গ্রাহকের মালিকানার অংশ
পুনর্নির্ধারণে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই।
( সূত্র: ৩০ ডিসেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
সিদ্ধান্ত : হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতিতে বিনিয়োগকৃত কোনো সম্পদ প্রাকৃতিক দুর্যোগ -দুর্বিপাকে ক্ষতির সম্মুখীন হলে
অথবা গ্রাহকের ইখতিয়ারবহির্ভূত কোনো কিছু ঘটলে ব্যাংক ও গ্রাহক ইকুইটি অনুসারে ক্ষতির
দায়ভার বহন করবে। তবে গ্রাহকের অব্যবস্হাপনা, দুর্নীতি,অবহেলা ইত্যাদি কারণে উক্ত বিনিয়োগকৃত সম্পদের ক্ষতি হলে কেবল গ্রাহকই ক্ষতির দায়ভার বহন করবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতির কানণ নির্ণয়ে শরী'আহর আদল ও ইনসাফের নীতি অবলম্বনের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।
সূত্র: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
এইচপিএসএম প্রকল্পে মালিকানাপুনর্নিধারণ
বিষয় -৪৭ : ব্যাকের জনৈক গ্রাহক কোনো প্রকল্পে
এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে প্রাক্কলিত
ব্যয়ের (estimated cost) চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন। এমতাবস্থায় গ্রাহক বিভিন্ন উৎস
থেকে উক্ত অতিরিক্ত অর্থের সংস্হান করেছেন। এখন গ্রাহক উক্ত প্রকল্পে ইসলামী ব্যাংক থেকে
অতিরিক্ত বিনিয়োগ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকের মালিকানা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন। এমতাবস্হায়
উক্ত প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ এবং ব্যাংক
ও গ্রাহকের মালিকানার অংশ পুনর্নির্ধারণ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ এবং ব্যাংক গ্রাহকের মালিকানার অংশ
পুনর্নির্ধারণে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই।
( সূত্র: ৩০ ডিসেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
Wednesday, 28 August 2019
এইচপিএসএম হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক বা এইচপিএসএম বিনিয়োগ পদ্ধতির বৈধতা
বিষয় -৪৪ : কোনো ভাড়াযোগ্য সম্পদ যেমন বাড়ি, গাড়ি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যাংক ও গ্রাহক যৌথভাবে ক্রয়ের পর ব্যাংকের অংশটি উক্ত গ্রাহকের কাছে কিস্তিতে বিক্রয় করা ও মালিকানা অনুপাতে ভাড়া দেয়া
অর্থাৎ হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক
(HPSM) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতি অনুযায়ী বাড়ি,বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের বিষয়টি ইসলামী শরী'আহতে নীতিগতভাবে অনুমোদিত ও গৃহীত। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রাহক ও ব্যাংক
সংশ্লিষ্ট পণ্য যৌথভাবে ক্রয় করবে। গ্রাহক নিজ অংশের মূল্য এককালীন অগ্রিম প্রদান করবে এবং ব্যাংকের অংশ নির্ধারিত ভাড়া প্রদানের শর্তে গ্রহণ করতে পারবে। ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত অংশ গ্রাহক পর্যায়ক্রমে কিনে নিতে থাকবে। ফলে যতই ব্যাংকের মালিকানা হ্রাস পেতে থাকবে ততই গ্রাহকের মালিকানা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ক্রমশ ভাড়ার পরিমাণও কমে যেতে থাকবে।
(সূত্র: ১১ আগস্ট ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ২৮শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৪৫ : বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রচলিত এইচপিএসএম -কে বৈদেশিক মুদ্রায় এইচপিএসএম -এ রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত
কি না?
সিদ্ধান্ত : উপর্যুক্ত বিষয়ে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটি নিম্নোক্ত অভিমত ব্যক্ত করে :
# এইচপিএসএম পদ্ধতিতে উভয় অংশীদারের
(ব্যাংক ও গ্রাহক) সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তিতে শরী'আহসম্মত যেকোনো ধারা সংযোজন/বিয়োজন /পরিবর্তন / পরিমার্জন করা যেতে পারে।
# বর্তমান বিনিয়োগ দায়কে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যেদিন বিনিয়োগকে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা হবে সেই দিনের বিনিময় হার প্রযোজ্য হবে।
# উল্লিখিত অনুমোদন কেবল উক্ত গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
( সূত্র: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৮০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
অর্থাৎ হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক
(HPSM) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতি অনুযায়ী বাড়ি,বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের বিষয়টি ইসলামী শরী'আহতে নীতিগতভাবে অনুমোদিত ও গৃহীত। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রাহক ও ব্যাংক
সংশ্লিষ্ট পণ্য যৌথভাবে ক্রয় করবে। গ্রাহক নিজ অংশের মূল্য এককালীন অগ্রিম প্রদান করবে এবং ব্যাংকের অংশ নির্ধারিত ভাড়া প্রদানের শর্তে গ্রহণ করতে পারবে। ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত অংশ গ্রাহক পর্যায়ক্রমে কিনে নিতে থাকবে। ফলে যতই ব্যাংকের মালিকানা হ্রাস পেতে থাকবে ততই গ্রাহকের মালিকানা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ক্রমশ ভাড়ার পরিমাণও কমে যেতে থাকবে।
(সূত্র: ১১ আগস্ট ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ২৮শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৪৫ : বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রচলিত এইচপিএসএম -কে বৈদেশিক মুদ্রায় এইচপিএসএম -এ রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত
কি না?
সিদ্ধান্ত : উপর্যুক্ত বিষয়ে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটি নিম্নোক্ত অভিমত ব্যক্ত করে :
# এইচপিএসএম পদ্ধতিতে উভয় অংশীদারের
(ব্যাংক ও গ্রাহক) সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তিতে শরী'আহসম্মত যেকোনো ধারা সংযোজন/বিয়োজন /পরিবর্তন / পরিমার্জন করা যেতে পারে।
# বর্তমান বিনিয়োগ দায়কে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যেদিন বিনিয়োগকে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা হবে সেই দিনের বিনিময় হার প্রযোজ্য হবে।
# উল্লিখিত অনুমোদন কেবল উক্ত গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
( সূত্র: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৮০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Monday, 26 August 2019
গ্রাহককে ক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে পালনীয় বিষয়
ক. প্রথমে গ্রাহক ক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট পণ্য ক্রয় করে ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করবে। অতঃপর ইজাব ও কবুল (বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল চুক্তিপত্র পূরণ) এর মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত দামে নিজের জন্যে তা ক্রয় করে নেবে। এরূপ ক্ষেত্রে গ্রাহকের দুটি বৈশিষ্ট্যের একটিকে অন্যটি থেকে সুস্পষ্টভাবে পৃথক রাখা অত্যাবশ্যক। অর্থাৎ কখনো সে একজন গ্রাহক এবং কখনো একজন প্রতিনিধি। যতক্ষণ পর্যন্ত সে
প্রতিনিধি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর প্রতিনিধিত্বের বিধান বলবৎ থাকবে। অতঃপর যখন সে ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পণ্য ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেবে, তখন থেকে উক্ত পণ্যের মালিকানা ও ঝুঁকি গ্রাহককেই বহন করতে হবে।
খ. শাখার আওতাবহির্ভূত স্হান এবং স্হানীয় বিক্রেতা হতে খুচরা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রই শুধু গ্রাহককে প্রতিনিধি নিয়োগ করা যেতে পারে। এ
ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহক বা প্রতিনিধির ক্রয়কৃত পণ্য সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মকর্তা পরিদর্শন করে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ফাইলে সংরক্ষন করবেন।
# ক্রয় প্রতিনাধি নিয়োগের পদ্ধতি
ক. গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্তৃক বিনিয়োগ মঞ্জুরি ও গ্রাহক কর্তৃক উক্ত মঞ্জুরিপত্রে স্বীকৃতিপ্রাপ্তির পর প্রয়োজনীয় দলিলাদি সম্পাদিত হতে হবে। অতঃপর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে বাংকের প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য ক্রয়ের জন্য আবেদনপত্র নিতে হবে।
খ. গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য ক্রয়ের আবেদনপত্র পাওয়ার পর গ্রাহককে ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য ক্রয়ের জন্য কর্তৃত্ব প্রদানপূর্বক নিয়োগপত্র দিতে হবে।
গ. পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাব
বিকলন (debit) করে বিনিয়োগের অর্থ সরবরাহকারী/ বিক্রেতার ব্যাংক হিসাবে স্হানান্তর বা তার অনুকূলে ইস্যুকৃত পে - অর্ডার, ডিমান্ড ড্রাফটি ইত্যাদি প্রতিনিধির কাছে যথাযথ প্রাপ্তিস্বীকারের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে। প্রয়োজনে পণ্যের ক্রয়মূল্য ব্যাংকের কাছে রক্ষিত
গ্রাহকের প্রতিনিধির হিসাবে আকলন (credit) করা যেতে পারে অথবা যথাযথ প্রাপ্তিস্বীকারপূর্বক প্রতিনিধিকে নগদ অর্থও প্রদান করা যেতে পারে।
এ ব্যাপারে বাস্তবতার দিকে লক্ষ রেখে শাখা ব্যবস্হাপককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ঘ. ক্রয়ের পর প্রতিনিধি পূর্বনির্ধারিত স্হানে পণ্য
মজুদ করে অবিলম্বে ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পণ্যের দখল (possession) ও ক্রয়সংক্রান্ত প্রমাণাদি যথা - ক্যাশমেমো, চালান, পরিবহণ রশিদ, বীমাপত্র ইত্যাদি হস্তান্তর করবে।
অতঃপর ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রাহককে পণ্য হস্তান্তপৃর্বক পারচেজ শিডিউল ও অন্যান্য
সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রে তার স্বাক্ষর নেবেন ।
ঙ . সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি / দলিলাদি শাখার গ্রাহকের ফাইলে যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকতে হবে।
( সূত্র: ৩০ এপ্রিল ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৪৩ : বিনিয়োগ গ্রাহক বিভিন্ন সময় সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয়ের মৌখিক অঙ্গীকার করেন এবং এর নিশ্চয়তাস্বরূপ আগাম চেক প্রদান করেন। নির্দিষ্ট সময়ান্তে (সাধারণত এক মাসের মধ্যে) উক্ত চেক নগদায়িত হয়ে থাকে। চেকের অর্থ প্রদানের তারিখে সরবরাহকারী চেক উপস্হাপন করেন। চেক যাতে অনার (honour) হয় অর্থাৎ সরবরাহকারী যাতে টাকা উঠাতে পারেন সে জন্য গ্রাহক উক্ত তারিখে শাখার নিকট বিনিয়োগ গ্রহণের জন্য আবেদন করে তার নিজ হিসাবে টাকা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। প্রস্তাবিত পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগের অনুমতি না থাকায় শাখা গ্রাহকের হিসেবে বিনিয়োগের অর্থ প্রদান করতে পারে না। অন্যদিকে সরবরাহকারীকে আগাম চেক প্রদানের কারণে তার হিসাবে সরাসরি বিনিয়োগের অর্থ স্হানান্তরও করা যায় না।
এমতাবস্হায় সরবরাহকারীকে আগাম চেক প্রদান করে পণ্য ক্রয়ের জন্য বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগ করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়াই গ্রাহক সরবরাহকারীকে পণ্যের ক্রয়মূল্য হিসেবে অগ্রিম
চেক প্রদান করায় বর্তমানে ব্যাংক ও সরবরাহকারীর পরিবর্তে গ্রাহক ও সরবরাহকারীর মধ্যে ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত হচ্ছে, যা বাই'মুরাবাহা নীতিমালার পরিপন্থী। কাজেই উক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগ করা যেতে পারে। তবে গ্রাহকের হিসাবে প্রদত্ত বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে শুধু সরবরাহকারীকে পূর্বে
প্রদত্ত চেক অনার করা যাবে : অন্য কোনো খাত এ অর্থ স্হানান্তর করা যাবে না। উল্লেখ্য, চেক
প্রদানের সময় গ্রাহক শাখাকে অবহিত করবে এবং শাখা গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগ করবে। এক্ষেত্রে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগের শর্তানুযায়ী শাখা
কর্তৃক পণ্য পরিদর্শন করত বুঝে নিয়ে গ্রাহককে বুঝিয়ে দেবে এবং এসংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ডিল -ডকুমেন্টের সাথে সংরক্ষণ করবে।
(সূত্র: ২৭ মে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৮৯তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী ) ।
প্রতিনিধি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর প্রতিনিধিত্বের বিধান বলবৎ থাকবে। অতঃপর যখন সে ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পণ্য ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেবে, তখন থেকে উক্ত পণ্যের মালিকানা ও ঝুঁকি গ্রাহককেই বহন করতে হবে।
খ. শাখার আওতাবহির্ভূত স্হান এবং স্হানীয় বিক্রেতা হতে খুচরা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রই শুধু গ্রাহককে প্রতিনিধি নিয়োগ করা যেতে পারে। এ
ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহক বা প্রতিনিধির ক্রয়কৃত পণ্য সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মকর্তা পরিদর্শন করে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ফাইলে সংরক্ষন করবেন।
# ক্রয় প্রতিনাধি নিয়োগের পদ্ধতি
ক. গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্তৃক বিনিয়োগ মঞ্জুরি ও গ্রাহক কর্তৃক উক্ত মঞ্জুরিপত্রে স্বীকৃতিপ্রাপ্তির পর প্রয়োজনীয় দলিলাদি সম্পাদিত হতে হবে। অতঃপর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে বাংকের প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য ক্রয়ের জন্য আবেদনপত্র নিতে হবে।
খ. গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য ক্রয়ের আবেদনপত্র পাওয়ার পর গ্রাহককে ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য ক্রয়ের জন্য কর্তৃত্ব প্রদানপূর্বক নিয়োগপত্র দিতে হবে।
গ. পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাব
বিকলন (debit) করে বিনিয়োগের অর্থ সরবরাহকারী/ বিক্রেতার ব্যাংক হিসাবে স্হানান্তর বা তার অনুকূলে ইস্যুকৃত পে - অর্ডার, ডিমান্ড ড্রাফটি ইত্যাদি প্রতিনিধির কাছে যথাযথ প্রাপ্তিস্বীকারের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে। প্রয়োজনে পণ্যের ক্রয়মূল্য ব্যাংকের কাছে রক্ষিত
গ্রাহকের প্রতিনিধির হিসাবে আকলন (credit) করা যেতে পারে অথবা যথাযথ প্রাপ্তিস্বীকারপূর্বক প্রতিনিধিকে নগদ অর্থও প্রদান করা যেতে পারে।
এ ব্যাপারে বাস্তবতার দিকে লক্ষ রেখে শাখা ব্যবস্হাপককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ঘ. ক্রয়ের পর প্রতিনিধি পূর্বনির্ধারিত স্হানে পণ্য
মজুদ করে অবিলম্বে ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পণ্যের দখল (possession) ও ক্রয়সংক্রান্ত প্রমাণাদি যথা - ক্যাশমেমো, চালান, পরিবহণ রশিদ, বীমাপত্র ইত্যাদি হস্তান্তর করবে।
অতঃপর ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রাহককে পণ্য হস্তান্তপৃর্বক পারচেজ শিডিউল ও অন্যান্য
সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রে তার স্বাক্ষর নেবেন ।
ঙ . সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি / দলিলাদি শাখার গ্রাহকের ফাইলে যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকতে হবে।
( সূত্র: ৩০ এপ্রিল ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৪৩ : বিনিয়োগ গ্রাহক বিভিন্ন সময় সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয়ের মৌখিক অঙ্গীকার করেন এবং এর নিশ্চয়তাস্বরূপ আগাম চেক প্রদান করেন। নির্দিষ্ট সময়ান্তে (সাধারণত এক মাসের মধ্যে) উক্ত চেক নগদায়িত হয়ে থাকে। চেকের অর্থ প্রদানের তারিখে সরবরাহকারী চেক উপস্হাপন করেন। চেক যাতে অনার (honour) হয় অর্থাৎ সরবরাহকারী যাতে টাকা উঠাতে পারেন সে জন্য গ্রাহক উক্ত তারিখে শাখার নিকট বিনিয়োগ গ্রহণের জন্য আবেদন করে তার নিজ হিসাবে টাকা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। প্রস্তাবিত পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগের অনুমতি না থাকায় শাখা গ্রাহকের হিসেবে বিনিয়োগের অর্থ প্রদান করতে পারে না। অন্যদিকে সরবরাহকারীকে আগাম চেক প্রদানের কারণে তার হিসাবে সরাসরি বিনিয়োগের অর্থ স্হানান্তরও করা যায় না।
এমতাবস্হায় সরবরাহকারীকে আগাম চেক প্রদান করে পণ্য ক্রয়ের জন্য বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগ করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়াই গ্রাহক সরবরাহকারীকে পণ্যের ক্রয়মূল্য হিসেবে অগ্রিম
চেক প্রদান করায় বর্তমানে ব্যাংক ও সরবরাহকারীর পরিবর্তে গ্রাহক ও সরবরাহকারীর মধ্যে ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত হচ্ছে, যা বাই'মুরাবাহা নীতিমালার পরিপন্থী। কাজেই উক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগ করা যেতে পারে। তবে গ্রাহকের হিসাবে প্রদত্ত বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে শুধু সরবরাহকারীকে পূর্বে
প্রদত্ত চেক অনার করা যাবে : অন্য কোনো খাত এ অর্থ স্হানান্তর করা যাবে না। উল্লেখ্য, চেক
প্রদানের সময় গ্রাহক শাখাকে অবহিত করবে এবং শাখা গ্রাহককে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগ করবে। এক্ষেত্রে ক্রয়প্রতিনিধি নিয়োগের শর্তানুযায়ী শাখা
কর্তৃক পণ্য পরিদর্শন করত বুঝে নিয়ে গ্রাহককে বুঝিয়ে দেবে এবং এসংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ডিল -ডকুমেন্টের সাথে সংরক্ষণ করবে।
(সূত্র: ২৭ মে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৮৯তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী ) ।
ক্রয় প্রতিনিধি বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ
বিষয় -৪২ :বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সমস্যার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে সরবরাহকারী থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ক. ক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান, প্রকৃতি, প্রকৃত মূল্য ইত্যাদি জানার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞাতা না থাকায় তাদের দিয়ে পণ্য ক্রয় করানো হলে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়েই বিভিন্ন সমস্যা ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞাতার কারণে বিনিয়োগ গ্রাহকই পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক পারদর্শী হয়ে থাকেন।
খ. অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ পণ্য বিভিন্ন সরবরাহকারী,বাজার বা এলাকা থেকে ঘুরে ঘুরে
দরকষাকষির মাধ্যমে কিনতে হয়, যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
গ. অনেক বিক্রেতা নগদ টাকা ছাড়া ডিমান্ড ড্রাফট, টিটি,পে অর্ডার ইত্যাদির মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করতে চান না। তাই ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে নগদ টাকা নিয়ে বিভিন্ন বাজার বা এলাকা থেকে পণ্য ক্রয় করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
ঘ. অনেক সময় একাধিক ছোট ছোট পণ্য বিভিন্ন দোকান থেকে নগদ টাকায় কিনতে হয়, যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
এমতাবস্হায় বিনিয়োগের পণ্য ক্রয়ের জন্য ব্যাংক বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে কি না?
সিদ্ধান্ত : কতিপয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে,নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয় প্রতিনিধি (buying agent) নিয়োগ করা যাবে।
ক. ক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান, প্রকৃতি, প্রকৃত মূল্য ইত্যাদি জানার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞাতা না থাকায় তাদের দিয়ে পণ্য ক্রয় করানো হলে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়েই বিভিন্ন সমস্যা ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞাতার কারণে বিনিয়োগ গ্রাহকই পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক পারদর্শী হয়ে থাকেন।
খ. অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ পণ্য বিভিন্ন সরবরাহকারী,বাজার বা এলাকা থেকে ঘুরে ঘুরে
দরকষাকষির মাধ্যমে কিনতে হয়, যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
গ. অনেক বিক্রেতা নগদ টাকা ছাড়া ডিমান্ড ড্রাফট, টিটি,পে অর্ডার ইত্যাদির মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করতে চান না। তাই ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে নগদ টাকা নিয়ে বিভিন্ন বাজার বা এলাকা থেকে পণ্য ক্রয় করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
ঘ. অনেক সময় একাধিক ছোট ছোট পণ্য বিভিন্ন দোকান থেকে নগদ টাকায় কিনতে হয়, যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
এমতাবস্হায় বিনিয়োগের পণ্য ক্রয়ের জন্য ব্যাংক বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে কি না?
সিদ্ধান্ত : কতিপয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে,নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহককে ক্রয় প্রতিনিধি (buying agent) নিয়োগ করা যাবে।
Sunday, 25 August 2019
বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল কে এইচপিএসএম বিনিয়োগে রূপান্তর
বিষয় -৩৯ বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল বিনিয়োগ পাওনার বিপরীতে গ্রাহক প্রদত্ত সম্পদ এইচপিএসএম -এ রূপান্তর করে তার ওপর বাজারে প্রচলিত প্রকৃত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আরোপ করা হলে লেনদেনটি ক্বালবুদ দায়িন বা দায়কে বিনিয়গে রূপান্তর বলে বিবেচিত হবে, যা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। তবে সম্পদের ভাড়া যদি বাজারে প্রচলিত প্রকৃত ভাড়ার সমান হয় এবং গ্রাহক যদি সম্পদটির নির্ধারিত অংশ ইসলামী ব্যাংক থেকে বাজারমূল্যে ক্রয় করে নেয় তাহলে এ জাতীয় লেনদেন দূষণীয় নয়। এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, বিক্রয় এবং ভাড়া চুক্তি একটি অপরটির সাথে শর্তযুক্ত হতে পারবে না। বরং প্রতিটি চুক্তি স্বতন্ত্র হতে হবে।
(সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত যথাক্রমে শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৪০ : ইসলামী ব্যাংকের বৃহদাংকের অনিয়মিত বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস (restructuring) প্রসঙ্গে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা হলো, যেসব গ্রাহকের নিকট বাংকের অনিয়মিত (মেয়াদোত্তীর্ণ বা শ্রেণিকৃত) পাওনার পরিমাণ ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি তারা তাদের অনিয়মিত পাওনা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ( ইসলামী ব্যাংকের বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। এক্ষেত্রে গ্রাহকের নিকট থেকে বর্ধিত সময়ের জন্য ব্যাংক তাদের তহবিল ব্যয় ( cost of fund) প্লাস ১% এর বেশি হারে মুনাফা নিতে পারবে না। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের চলতি মূলধন বিনিয়োগ তথা বাই'মুরাবাহা কিংবা বাই'মুয়াজ্জালের ক্ষেত্রে ব্যাংক পণ্য ক্রয় করে তা গ্রাহকের নিকট মুনাফাসহ বিক্রয় করে থাকে এবং
উক্ত বিক্রয়মূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকের সাথে সাধারণত ১ বছরের চুক্তি করা হয়। কোনো গ্রাহক এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে শরী'আহ অনুযায়ী তার ওপর দ্বিতীয়বার মুনাফা আরোপ করা যায় না। কারণ পাওনার ওপর সময় বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত কিছু আদায়
করাই রিবা আন -নাসী'আহ বা রিবা আল -জাহিলিয়্যাহ। অন্যদিকে গ্রাহক যথাসময়ে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে উক্ত মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর ইসলামী ব্যাংক যে
ক্ষতিপূরণ ( compensation) আরোপ করে তা
ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভূক্ত করা হয় না।
এমতাবস্হায় এ বিশাল অম্কের বিনিয়োগকে পুনর্বিন্যাস (restructure) করা না হলে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত বিনিয়োগ ও এর বিপরীতে প্রভিশনিং
বৃদ্ধি, নন -পারফর্মিং বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি,
বিনিয়োগ আয় হ্রাস, ব্যাংকের লাভজনকতা হ্রাস,
আমানতকারীদের লাভের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে না
পারলে অন্য ব্যাংকে তাদের চলে যাওয়া আশম্কাসহ ইসলামিক ব্যাংকে আরো বিভিন্ন
সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক বাই'মুরাবাহার ভিত্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করে
বিনিয়োগের পণ্য বিক্রয়ের পর ব্যাংকের পাওনা
পরিশোধ না করে তা দিয়ে স্হায়ী বা ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ গড়ে তোলেন। আবার কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের ভিত্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণের পর
ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এমতাবস্হায় গ্রাহক ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের জন্য তার মালিকানাধীন স্হায়ী এবং ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ স্বপ্রণোদিত হয়ে যদি ব্যাংককে প্রদান করেন এবং ব্যাংক কর্তৃক সে সম্পদ অর্জনের পর তা গ্রাহকের নিকট
এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিক্রয় ও ভাড়ায় প্রদান
করা এবং উক্ত তহবিল দিয়ে গ্রাহক তার নামে
এইচপিএসএম বিনিয়োগ মঞ্জুর করত পূর্বের বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল বিনিয়োগ হিসাব সমন্বয় করেন তাহলে এরূপ বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা শরী'আহসম্মত হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের কোনো দায়কে রূপান্তর ( ক্বালবুদ দাইন) করা
সাধারণভাবে শরী'আহসম্মত নয়। তবে উদ্ভূত
পরিস্হিতির প্রেক্ষাপটে অনিয়মিত বিনিয়োগ
পূনর্বিন্যাস (restructuring) এবং পুনর্বাসনের
ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটি নিম্নরূপ অভিমত ব্যক্ত করে :
১ । এইচপিএসএম (HPSM) বিনিয়োগে ভাড়াযোগ্য সম্পদের অস্তিত্ব থাকলে উভয়পক্ষের
সম্মতিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোতে শরী'আহর কোনো আপক্তি নেই।
২ । চলতি মূলধন (working capital) কিংবা অন্য কোনো বিনিয়োগ ( বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল ইত্যাদি) এর ক্ষেত্রে যেসব গ্রাহকের স্হায়ী বা ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ রয়েছে
শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির কেস টু কেস অনুমোদনসাপেক্ষে ব্যাংক কর্তৃক সে সম্পদ অর্জনের পর তা গ্রাহকের নিকট এইচপিএসএম
পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে ভাড়ায় প্রদান করা
যেতে পারে :
শর্তাবলি:
ক. ব্যাংকের অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে গ্রাহকের নিকট সেই পরিমাণ স্হায়ী ও
ভাড়াযোগ্য সম্পদ বিদ্যমান থাকতে হবে যা দিয়ে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করা যায়।
খ . গ্রাহক তার নিকট ব্যাংকের অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে স্হায়ী ও ভাড়াযোগ্য সম্পদ
স্বেচ্ছায় ব্যাংকের নিকট হস্তান্তর করবে।
গ . প্রথমে গ্রাহক কর্তৃক প্রস্তাবিত সম্পদ নির্দিষ্ট
করে বাজারমূল্য নির্ধারণ করবে ও তার ওপর
ব্যাংক মালিকানা অর্জন করবে।
ঘ. সম্পদের মূল্য (বিক্রয়মূল্য) ব্যাংক কর্তৃক মালিকানা অর্জনকালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি হবে না।
ঙ . এক্ষেত্রে আরোপিত ক্ষতিপূরণকে কোনোক্রমেই মূলধনে রূপান্তর (capitalize) করা যাবে না।
চ . গ্রাহকের নিকট থেকে উক্ত সম্পদের ওপর ব্যাংকের মালিকানা অর্জন এবং তার নিকট বিক্রয় ও ভাড়া প্রদান (এইচপিএসএম) চুক্তি একটি অপরটির সাথে শর্তযুক্ত হবে না।
ছ . নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতার মতো
জরুরি ক্ষেত্রে এই অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।
জ . জরুরি প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকের বাই'মুরাবাহা / বাই'মুয়াজ্জাল দায়কে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিতে হবে। অর্থাৎ উক্ত অনুমোদনকে সাধারণ নীতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
৩ । যেক্ষেত্রে ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদের অস্হিত্ব নেই সেক্ষেত্রে গ্রাহকের চলতি মূলধন দেনা কোনোক্রমেই এইচপিএসএম -এ রূপান্তর করা
যাবে না।
( সূত্র: ১৪ মে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজারি কমিটির ১৮৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তর
বিষয়-৪১ : স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগ চুক্তির মধ্যে এরূপ শর্ত বা ধারা সংযোজিত না থাকলে অর্থাৎ চুক্তিতে সংল্শিষ্ট কর্মকর্তা -কর্মচারীর পদত্যাগের পর কিংবা বরখাস্তের পর তার স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তরের শর্ত না থাকলে এ রূপান্তর শরী'আহসম্মত হবে না। কারণ মুসলিমগণ চুক্তিবদ্ধ শর্তসমূহ পরিপালন করতে বাধ্য। তবে
মুশারাকা পদ্ধতিতে উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে এরূপ রূপান্তর করা হলে তাতে শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই।
( সূত্র: ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
(সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত যথাক্রমে শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৪০ : ইসলামী ব্যাংকের বৃহদাংকের অনিয়মিত বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস (restructuring) প্রসঙ্গে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা হলো, যেসব গ্রাহকের নিকট বাংকের অনিয়মিত (মেয়াদোত্তীর্ণ বা শ্রেণিকৃত) পাওনার পরিমাণ ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি তারা তাদের অনিয়মিত পাওনা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ( ইসলামী ব্যাংকের বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। এক্ষেত্রে গ্রাহকের নিকট থেকে বর্ধিত সময়ের জন্য ব্যাংক তাদের তহবিল ব্যয় ( cost of fund) প্লাস ১% এর বেশি হারে মুনাফা নিতে পারবে না। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের চলতি মূলধন বিনিয়োগ তথা বাই'মুরাবাহা কিংবা বাই'মুয়াজ্জালের ক্ষেত্রে ব্যাংক পণ্য ক্রয় করে তা গ্রাহকের নিকট মুনাফাসহ বিক্রয় করে থাকে এবং
উক্ত বিক্রয়মূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকের সাথে সাধারণত ১ বছরের চুক্তি করা হয়। কোনো গ্রাহক এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে শরী'আহ অনুযায়ী তার ওপর দ্বিতীয়বার মুনাফা আরোপ করা যায় না। কারণ পাওনার ওপর সময় বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত কিছু আদায়
করাই রিবা আন -নাসী'আহ বা রিবা আল -জাহিলিয়্যাহ। অন্যদিকে গ্রাহক যথাসময়ে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে উক্ত মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর ইসলামী ব্যাংক যে
ক্ষতিপূরণ ( compensation) আরোপ করে তা
ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভূক্ত করা হয় না।
এমতাবস্হায় এ বিশাল অম্কের বিনিয়োগকে পুনর্বিন্যাস (restructure) করা না হলে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত বিনিয়োগ ও এর বিপরীতে প্রভিশনিং
বৃদ্ধি, নন -পারফর্মিং বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি,
বিনিয়োগ আয় হ্রাস, ব্যাংকের লাভজনকতা হ্রাস,
আমানতকারীদের লাভের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে না
পারলে অন্য ব্যাংকে তাদের চলে যাওয়া আশম্কাসহ ইসলামিক ব্যাংকে আরো বিভিন্ন
সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক বাই'মুরাবাহার ভিত্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করে
বিনিয়োগের পণ্য বিক্রয়ের পর ব্যাংকের পাওনা
পরিশোধ না করে তা দিয়ে স্হায়ী বা ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ গড়ে তোলেন। আবার কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের ভিত্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণের পর
ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এমতাবস্হায় গ্রাহক ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের জন্য তার মালিকানাধীন স্হায়ী এবং ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ স্বপ্রণোদিত হয়ে যদি ব্যাংককে প্রদান করেন এবং ব্যাংক কর্তৃক সে সম্পদ অর্জনের পর তা গ্রাহকের নিকট
এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিক্রয় ও ভাড়ায় প্রদান
করা এবং উক্ত তহবিল দিয়ে গ্রাহক তার নামে
এইচপিএসএম বিনিয়োগ মঞ্জুর করত পূর্বের বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল বিনিয়োগ হিসাব সমন্বয় করেন তাহলে এরূপ বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা শরী'আহসম্মত হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের কোনো দায়কে রূপান্তর ( ক্বালবুদ দাইন) করা
সাধারণভাবে শরী'আহসম্মত নয়। তবে উদ্ভূত
পরিস্হিতির প্রেক্ষাপটে অনিয়মিত বিনিয়োগ
পূনর্বিন্যাস (restructuring) এবং পুনর্বাসনের
ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটি নিম্নরূপ অভিমত ব্যক্ত করে :
১ । এইচপিএসএম (HPSM) বিনিয়োগে ভাড়াযোগ্য সম্পদের অস্তিত্ব থাকলে উভয়পক্ষের
সম্মতিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোতে শরী'আহর কোনো আপক্তি নেই।
২ । চলতি মূলধন (working capital) কিংবা অন্য কোনো বিনিয়োগ ( বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল ইত্যাদি) এর ক্ষেত্রে যেসব গ্রাহকের স্হায়ী বা ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ রয়েছে
শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির কেস টু কেস অনুমোদনসাপেক্ষে ব্যাংক কর্তৃক সে সম্পদ অর্জনের পর তা গ্রাহকের নিকট এইচপিএসএম
পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে ভাড়ায় প্রদান করা
যেতে পারে :
শর্তাবলি:
ক. ব্যাংকের অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে গ্রাহকের নিকট সেই পরিমাণ স্হায়ী ও
ভাড়াযোগ্য সম্পদ বিদ্যমান থাকতে হবে যা দিয়ে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করা যায়।
খ . গ্রাহক তার নিকট ব্যাংকের অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে স্হায়ী ও ভাড়াযোগ্য সম্পদ
স্বেচ্ছায় ব্যাংকের নিকট হস্তান্তর করবে।
গ . প্রথমে গ্রাহক কর্তৃক প্রস্তাবিত সম্পদ নির্দিষ্ট
করে বাজারমূল্য নির্ধারণ করবে ও তার ওপর
ব্যাংক মালিকানা অর্জন করবে।
ঘ. সম্পদের মূল্য (বিক্রয়মূল্য) ব্যাংক কর্তৃক মালিকানা অর্জনকালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি হবে না।
ঙ . এক্ষেত্রে আরোপিত ক্ষতিপূরণকে কোনোক্রমেই মূলধনে রূপান্তর (capitalize) করা যাবে না।
চ . গ্রাহকের নিকট থেকে উক্ত সম্পদের ওপর ব্যাংকের মালিকানা অর্জন এবং তার নিকট বিক্রয় ও ভাড়া প্রদান (এইচপিএসএম) চুক্তি একটি অপরটির সাথে শর্তযুক্ত হবে না।
ছ . নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতার মতো
জরুরি ক্ষেত্রে এই অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।
জ . জরুরি প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকের বাই'মুরাবাহা / বাই'মুয়াজ্জাল দায়কে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিতে হবে। অর্থাৎ উক্ত অনুমোদনকে সাধারণ নীতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
৩ । যেক্ষেত্রে ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদের অস্হিত্ব নেই সেক্ষেত্রে গ্রাহকের চলতি মূলধন দেনা কোনোক্রমেই এইচপিএসএম -এ রূপান্তর করা
যাবে না।
( সূত্র: ১৪ মে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজারি কমিটির ১৮৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তর
বিষয়-৪১ : স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগ চুক্তির মধ্যে এরূপ শর্ত বা ধারা সংযোজিত না থাকলে অর্থাৎ চুক্তিতে সংল্শিষ্ট কর্মকর্তা -কর্মচারীর পদত্যাগের পর কিংবা বরখাস্তের পর তার স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তরের শর্ত না থাকলে এ রূপান্তর শরী'আহসম্মত হবে না। কারণ মুসলিমগণ চুক্তিবদ্ধ শর্তসমূহ পরিপালন করতে বাধ্য। তবে
মুশারাকা পদ্ধতিতে উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে এরূপ রূপান্তর করা হলে তাতে শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই।
( সূত্র: ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
Saturday, 24 August 2019
ওয়াদ বিশ -শিরা বা ক্রয়ের অঙ্গীকার
বিষয় -৩৭ : ইসলামী ব্যাংক বাই'মুরাবাহা লিল আমিরি বিশ -শিরা' পদ্ধতিতে গ্রাহকের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে তা উক্ত গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ফরমায়েশকৃত পণ্য ব্যাংক কর্তৃক ক্রয়ের পর গ্রাহক তা ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেবে এ মর্মে উভয়ের মধ্যে 'ওয়াদ বিশ শিরা' বা ক্রয়ের অঙ্গীকার চুক্তি সম্পাদন করা কি শরী'আহসম্মত?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকিং মুরাবাহার ক্ষেত্রে ক্রয় বিক্রয়ের মূল চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে 'ওয়াদ বিশ -শিরা' বা
'ক্রয়ের অঙ্গীকারপত্র' সম্পাদন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহক ব্যাংকের কাছে এই মর্মে অঙ্গীকার করবে যে, তার ফরমায়েশ অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক ক্রয়কৃত পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে সে ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেবে।
( সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬ শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পণ্যের ক্ষয়ক্ষতিজনিত দায়ভার বহন
বিষয় -৩৮ : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগ পণ্যের ওপর গ্রাহকের মালিকানা ও ক্ববদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ভার কে বহন করবে, ব্যাংক না বিনিয়োগ গ্রাহক ?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে কোনো পণ্য বিক্রয় ও হস্তান্তরের পর এর মালিকানা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হয়ে যায় এবং তার কাছে পণ্যের মূল্য
বাবদ শুধু ব্যাংকের পাওনা বাকি থাকে। এমতাবস্হায় ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী উক্ত পণ্যের ক্ষয় -ক্ষতিজনিত কোনো দায়ভার ইসলামী ব্যাংক বা বিক্রেতার ওপর বর্তায় না। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহক বা ক্রেতা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে বাধ্য থাকবে।
( সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকিং মুরাবাহার ক্ষেত্রে ক্রয় বিক্রয়ের মূল চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে 'ওয়াদ বিশ -শিরা' বা
'ক্রয়ের অঙ্গীকারপত্র' সম্পাদন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহক ব্যাংকের কাছে এই মর্মে অঙ্গীকার করবে যে, তার ফরমায়েশ অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক ক্রয়কৃত পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে সে ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেবে।
( সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬ শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পণ্যের ক্ষয়ক্ষতিজনিত দায়ভার বহন
বিষয় -৩৮ : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগ পণ্যের ওপর গ্রাহকের মালিকানা ও ক্ববদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ভার কে বহন করবে, ব্যাংক না বিনিয়োগ গ্রাহক ?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে কোনো পণ্য বিক্রয় ও হস্তান্তরের পর এর মালিকানা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হয়ে যায় এবং তার কাছে পণ্যের মূল্য
বাবদ শুধু ব্যাংকের পাওনা বাকি থাকে। এমতাবস্হায় ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী উক্ত পণ্যের ক্ষয় -ক্ষতিজনিত কোনো দায়ভার ইসলামী ব্যাংক বা বিক্রেতার ওপর বর্তায় না। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গ্রাহক বা ক্রেতা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে বাধ্য থাকবে।
( সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
Friday, 23 August 2019
বিনিয়োগের বিপরীতে জামানত
বিষয় -৩২: বিনিয়োগের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়ক জামানত গ্রহণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক বন্ড/ সিকিউরিটিজকে সহায়ক জামানত হিসেবে গ্রহণ
করা বৈধ হবে কি?
সিদ্ধান্ত : কিনিয়োগের বিপরীতে সুদভিত্তিক বন্ড/সিকিউরিটিজকে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে সহায়ক জামানতরূপে গ্রহণ করা যেতে পারে :
ক : আলোচ্য বন্ড/ সিকিউরিটিজের অভিহিত মূল্যই ( face value) সহায়ক জামানত হিসেবে বিবেচিত হবে।
খ . উক্ত বন্ড/সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত
কোনো সুদই ইসলামী ব্যাংক গ্রহণ করতে পারবে না।
গ . প্রয়োজনে এগুলো নগদায়নে বাধ্য হলে অভিহিত মূল্যই ব্যাংক গ্রহণ করতে পারবে।
ঘ . ব্যাংকের প্রাপ্যের অতিরিক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট জামানতদারকে ফেরত দিতে হবে।
(সূত্র: ১০ জুলাই ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৩৩ : সিনেমা হলের জায়গা ও অন্যান্য সম্পত্তি সহায়ক জামানত রেখে বিনিয়োগ প্রদান করা ইনলামী ব্যাংকের জন্য বৈধ কি না ?
সিদ্ধান্ত : বাংলাদেশে প্রচলিত সিনেমা শিল্প এখনো শরী'আহ কর্তৃক অনুমোদনযোগ্য নয়। এ কারণে, যে জায়গায় সিনেমা হল রয়েছে (বিতর্ক এড়ানোর জন্য) এ ধরনের সম্পত্তি সহায়ক জামানত হিসেবে গ্রহণ না করাই বাঞ্ছনীয়। কারণ, অন্যায় কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায়্য করা বৈধ নয়। তবে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট সিনেমা হল বন্ধের প্রতিশ্রুতি প্রদান
করলে স্হাপনা বাদ দিয়ে শুধু সিনেমা হলের জায়গাটি ব্যাংক সহায়ক জামানত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে একজন ইসলামী গ্রাহক ও ইসলামী শরী'আহ অনুশীলনকারী হিসেবে তৈরি করার উদ্দেশ্যে সিনেমা হলের জায়গার পরিবর্তে তার কাছ থেকে অন্য কোনো
সহায়ক জামানত নেয়ার জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেষ্টা করা উচিত।
( সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৩৪ : টিডিআর (Term Deposit Receipt) , এমএসবি (Mudaraba Savings Bond) , এমএমপিডিএস (Mudaraba Monthly Profit Deposit Scheme) , এমএসএস (Mudaraba Special Savings Scheme) ইত্যাদি মেয়াদি প্রকল্পের জমা হিসাবে জমাকৃত অর্থকে সহায়ক জামানত হিসেবে লিয়েন
রেখে বিনিয়োগ প্রদান করা এবং এ সকল মেয়াদি জমা থেকে প্রয়োজনে জমাকারীকে ক্বরদে হাসানা দেয়া ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত সব মেয়াদি জমাকে সহায়ক জামানত হিসেবে গণ্য করে জমাকরীকে অন্যান্য সাধারণ গ্রাহকদের মতো বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান
করা যেতে পারে। অপর দিকে মেয়াদি জমার বিপরীতে জমাকারীকে ক্বরদে হাসানা দেয়া যেতে পারে এই শর্তে যে তার কাছ থেকে এর বিনিময়ে
কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হবে না।
(সূত্র: ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ সালে অনু্ষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৬শ অধিবেশনের
কার্যবিবরণী)
বিষয় -৩৫ : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক
কোনো পণ্যের সরবরাহকারীকে তালিকাভুক্ত করে পণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তাস্বরূপ তার কাছ থেকে
কোনো জামানত গ্রহণ করতে পারে কি ?
সিদ্ধান্ত : পণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তাস্বরূপ সরবরাহকারী থেকে জামানত গ্রহণ করা বৈধ।
এ ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ইচ্ছে করলে ব্যাংকের সম্মতিক্রমে জামানতের অর্থ ব্যাংকের মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট অ্যাকাউন্টেও রাখতে পারেন।
( সূত্র: ১০ এপ্রিল ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯ম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৩৬ : বাই'মুরাবাহায় নগদ জামানত ( cash security) এর পরিবর্তে পণ্য জামানত
(goods security) গ্রহণ ইসলামী ব্যাংকের জন্য
বৈধ কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহায় বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ জামানতের পরির্বতে পণ্য জামানত গ্রহণ করা শরী'আহর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জামানতের পণ্য গ্রাহকের নিজের টাকায় কিনে তা ব্যাংকের কাছে জামানত রাখার পর ব্যাংক তার কাছে পণ্য বিক্রয় করতে পারে।
( সূত্র: ২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সিলর ২২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
করা বৈধ হবে কি?
সিদ্ধান্ত : কিনিয়োগের বিপরীতে সুদভিত্তিক বন্ড/সিকিউরিটিজকে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে সহায়ক জামানতরূপে গ্রহণ করা যেতে পারে :
ক : আলোচ্য বন্ড/ সিকিউরিটিজের অভিহিত মূল্যই ( face value) সহায়ক জামানত হিসেবে বিবেচিত হবে।
খ . উক্ত বন্ড/সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত
কোনো সুদই ইসলামী ব্যাংক গ্রহণ করতে পারবে না।
গ . প্রয়োজনে এগুলো নগদায়নে বাধ্য হলে অভিহিত মূল্যই ব্যাংক গ্রহণ করতে পারবে।
ঘ . ব্যাংকের প্রাপ্যের অতিরিক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট জামানতদারকে ফেরত দিতে হবে।
(সূত্র: ১০ জুলাই ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৩৩ : সিনেমা হলের জায়গা ও অন্যান্য সম্পত্তি সহায়ক জামানত রেখে বিনিয়োগ প্রদান করা ইনলামী ব্যাংকের জন্য বৈধ কি না ?
সিদ্ধান্ত : বাংলাদেশে প্রচলিত সিনেমা শিল্প এখনো শরী'আহ কর্তৃক অনুমোদনযোগ্য নয়। এ কারণে, যে জায়গায় সিনেমা হল রয়েছে (বিতর্ক এড়ানোর জন্য) এ ধরনের সম্পত্তি সহায়ক জামানত হিসেবে গ্রহণ না করাই বাঞ্ছনীয়। কারণ, অন্যায় কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায়্য করা বৈধ নয়। তবে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট সিনেমা হল বন্ধের প্রতিশ্রুতি প্রদান
করলে স্হাপনা বাদ দিয়ে শুধু সিনেমা হলের জায়গাটি ব্যাংক সহায়ক জামানত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে একজন ইসলামী গ্রাহক ও ইসলামী শরী'আহ অনুশীলনকারী হিসেবে তৈরি করার উদ্দেশ্যে সিনেমা হলের জায়গার পরিবর্তে তার কাছ থেকে অন্য কোনো
সহায়ক জামানত নেয়ার জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেষ্টা করা উচিত।
( সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৩৪ : টিডিআর (Term Deposit Receipt) , এমএসবি (Mudaraba Savings Bond) , এমএমপিডিএস (Mudaraba Monthly Profit Deposit Scheme) , এমএসএস (Mudaraba Special Savings Scheme) ইত্যাদি মেয়াদি প্রকল্পের জমা হিসাবে জমাকৃত অর্থকে সহায়ক জামানত হিসেবে লিয়েন
রেখে বিনিয়োগ প্রদান করা এবং এ সকল মেয়াদি জমা থেকে প্রয়োজনে জমাকারীকে ক্বরদে হাসানা দেয়া ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত সব মেয়াদি জমাকে সহায়ক জামানত হিসেবে গণ্য করে জমাকরীকে অন্যান্য সাধারণ গ্রাহকদের মতো বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান
করা যেতে পারে। অপর দিকে মেয়াদি জমার বিপরীতে জমাকারীকে ক্বরদে হাসানা দেয়া যেতে পারে এই শর্তে যে তার কাছ থেকে এর বিনিময়ে
কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হবে না।
(সূত্র: ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ সালে অনু্ষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৬শ অধিবেশনের
কার্যবিবরণী)
বিষয় -৩৫ : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক
কোনো পণ্যের সরবরাহকারীকে তালিকাভুক্ত করে পণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তাস্বরূপ তার কাছ থেকে
কোনো জামানত গ্রহণ করতে পারে কি ?
সিদ্ধান্ত : পণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তাস্বরূপ সরবরাহকারী থেকে জামানত গ্রহণ করা বৈধ।
এ ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ইচ্ছে করলে ব্যাংকের সম্মতিক্রমে জামানতের অর্থ ব্যাংকের মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট অ্যাকাউন্টেও রাখতে পারেন।
( সূত্র: ১০ এপ্রিল ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯ম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৩৬ : বাই'মুরাবাহায় নগদ জামানত ( cash security) এর পরিবর্তে পণ্য জামানত
(goods security) গ্রহণ ইসলামী ব্যাংকের জন্য
বৈধ কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহায় বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ জামানতের পরির্বতে পণ্য জামানত গ্রহণ করা শরী'আহর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জামানতের পণ্য গ্রাহকের নিজের টাকায় কিনে তা ব্যাংকের কাছে জামানত রাখার পর ব্যাংক তার কাছে পণ্য বিক্রয় করতে পারে।
( সূত্র: ২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সিলর ২২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
Thursday, 22 August 2019
ডিলভিত্তিক বিনিয়োগ প্রদান
বিষয় - ২৯ :ব্যাংক প্রদত্ত বিনিয়োগ সীমা বা লিমিট থেকে গ্রাহক বিভিন্ন সময়ে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ক্রয়ের জন্য ডিলভিত্তিক বিনিয়োগ গ্রহণ করেন এবং পণ্য বিক্রয়ের পর আগের ডিল সমন্বয় করে থাকেন। এভাবে একই লিমিটের আওতায় বিভিন্ন ডিলের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় -বিক্রয় করা শরী'আহসম্মত কি ?
সিদ্ধান্ত : লিমিট হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো গ্রাহককে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিনিয়োগ বরাদ্দদানের সীমা মাত্র। প্রতিটি ডিলে শরী'আহর নীতিমালা অনুযায়ী পণ্য ক্রয় -বিক্রয় হলে এরূপ সীমা নির্ধারন, ডিলভিত্তিক বিনিয়োগ গ্রহণ এবং পূর্ববর্তী ডিল সমন্বয়করণে শরী'আহতে কোনো বাধা নেই।
(সূত্র: ২০ জুন, ১৯৮৯ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৩শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# কম্পোজিট লিমিট এবং সিন্ডিকেট বিনিয়োগ
বিষয় - ৩০ : কোনো গ্রাহকের নামে একই সাথে বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল, এইচপিএসএম ইত্যাদি পদ্ধতিতে বিনিয়োগসীমা অর্থাৎ কম্পোজিট লিমিট ( composit limit) মঞ্জুর করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : কম্পোজিট লিমিটের আওতায় নিম্নোক্ত
শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন বিনিয়োগ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করায় ইসলামী শরী'আহতে কোনো আপত্তিনেই :
ক . একই বিনিয়োগচুক্তিতে একাধিক পদ্ধতির সংমিশ্রণ ঘটানো যাবে না।
খ . পুরাতন বিনিয়োগ দায় সমন্বয়ের জন্য কোনো বরাদ্দ দেয়া যাবে না ।
( সূত্র: ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
বিষয় -৩১ : অনেকগুলো ব্যাংক একত্রে সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে বড় কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ করে থাকে। এরূপ ক্ষেত্রে গঠিত সিন্ডিকেটে ইসলাসী ব্যাংক অংশগ্রহণ করতে পারবে কি?
সিদ্ধান্ত : নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে অনেকগুলো ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ করতে পারে :
ক. লিড বা ম্যানেজার ব্যাংক হতে হবে ইসলামী ব্যাংককে।
খ . সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছ থেকে মুশারাকা পদ্ধতিতে তহবিল সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রকল্প
থেকে অর্জিত প্রকৃত লাভ/-লোকসান সদস্যদের মধ্যে বন্টন করতে হবে।
গ . সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যাংকগুলোর সরবরাহকৃত মূলধনের আনুপাতিক মালিকানা স্বীকার করতে হবে।
ঘ . শরী'আহসম্মত পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
ঙ . সিন্ডিকেট বিনিয়গ চুক্তিটি শরী'আহসম্মত হতে হবে এবং তা ইসলামী ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
চ. বিনিয়োগ কার্যকর থাকাকালে ইসলামী ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল শর'ঈ ব্যাপারে কোনো আপত্তি উত্থাপন করলে তা নিরসন করতে হবে।
ছ. লিড ব্যাংক হিসেবে কোনো ব্যাংক অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ/কমিশন দাবি করলে তা সদস্য ব্যাংকগুলোর সম্মতিক্রমে বিনিয়োগের মুনাফা থেকে দেয়া হবে: বিনিয়োগ গ্রাহক থেকে নয়।
জ . ইসলামী ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল প্রয়োজন মনে করলে উক্ত বিনিয়োগ প্রকল্প পরিদর্শন করতে পারবে।
ঝ. ইসলামী শরী'আহর নিয়মনীতি পরিপালনসাপেক্ষে অন্য কোনো লিড ব্যাংকের অধীনে গঠিত সিন্ডিকেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও
ইসলামী ব্যাংক অংশগ্রহণ করতে পারবে।
( সূত্র: ২৩ অক্টোবর ১৯৯৪ ও ২৪ মার্চ ২০০৯ সালে অনু্ষ্টিত যথাক্রমে শরী'আহ কাউন্সলের ৪৫শ ও ১৫২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : লিমিট হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো গ্রাহককে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিনিয়োগ বরাদ্দদানের সীমা মাত্র। প্রতিটি ডিলে শরী'আহর নীতিমালা অনুযায়ী পণ্য ক্রয় -বিক্রয় হলে এরূপ সীমা নির্ধারন, ডিলভিত্তিক বিনিয়োগ গ্রহণ এবং পূর্ববর্তী ডিল সমন্বয়করণে শরী'আহতে কোনো বাধা নেই।
(সূত্র: ২০ জুন, ১৯৮৯ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৩শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# কম্পোজিট লিমিট এবং সিন্ডিকেট বিনিয়োগ
বিষয় - ৩০ : কোনো গ্রাহকের নামে একই সাথে বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল, এইচপিএসএম ইত্যাদি পদ্ধতিতে বিনিয়োগসীমা অর্থাৎ কম্পোজিট লিমিট ( composit limit) মঞ্জুর করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : কম্পোজিট লিমিটের আওতায় নিম্নোক্ত
শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন বিনিয়োগ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করায় ইসলামী শরী'আহতে কোনো আপত্তিনেই :
ক . একই বিনিয়োগচুক্তিতে একাধিক পদ্ধতির সংমিশ্রণ ঘটানো যাবে না।
খ . পুরাতন বিনিয়োগ দায় সমন্বয়ের জন্য কোনো বরাদ্দ দেয়া যাবে না ।
( সূত্র: ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
বিষয় -৩১ : অনেকগুলো ব্যাংক একত্রে সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে বড় কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ করে থাকে। এরূপ ক্ষেত্রে গঠিত সিন্ডিকেটে ইসলাসী ব্যাংক অংশগ্রহণ করতে পারবে কি?
সিদ্ধান্ত : নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে অনেকগুলো ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ করতে পারে :
ক. লিড বা ম্যানেজার ব্যাংক হতে হবে ইসলামী ব্যাংককে।
খ . সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছ থেকে মুশারাকা পদ্ধতিতে তহবিল সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রকল্প
থেকে অর্জিত প্রকৃত লাভ/-লোকসান সদস্যদের মধ্যে বন্টন করতে হবে।
গ . সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যাংকগুলোর সরবরাহকৃত মূলধনের আনুপাতিক মালিকানা স্বীকার করতে হবে।
ঘ . শরী'আহসম্মত পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
ঙ . সিন্ডিকেট বিনিয়গ চুক্তিটি শরী'আহসম্মত হতে হবে এবং তা ইসলামী ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
চ. বিনিয়োগ কার্যকর থাকাকালে ইসলামী ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল শর'ঈ ব্যাপারে কোনো আপত্তি উত্থাপন করলে তা নিরসন করতে হবে।
ছ. লিড ব্যাংক হিসেবে কোনো ব্যাংক অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ/কমিশন দাবি করলে তা সদস্য ব্যাংকগুলোর সম্মতিক্রমে বিনিয়োগের মুনাফা থেকে দেয়া হবে: বিনিয়োগ গ্রাহক থেকে নয়।
জ . ইসলামী ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সল প্রয়োজন মনে করলে উক্ত বিনিয়োগ প্রকল্প পরিদর্শন করতে পারবে।
ঝ. ইসলামী শরী'আহর নিয়মনীতি পরিপালনসাপেক্ষে অন্য কোনো লিড ব্যাংকের অধীনে গঠিত সিন্ডিকেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও
ইসলামী ব্যাংক অংশগ্রহণ করতে পারবে।
( সূত্র: ২৩ অক্টোবর ১৯৯৪ ও ২৪ মার্চ ২০০৯ সালে অনু্ষ্টিত যথাক্রমে শরী'আহ কাউন্সলের ৪৫শ ও ১৫২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Tuesday, 6 August 2019
বিনিয়োগের আংশিক সমন্বয়
বিষয় - ২৬ : বিনিয়োগের সময় ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে গ্রাহক কর্তৃক ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের সময়সীমা উল্লেখ থাকে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগে অনেক গ্রাহক বিনিয়োগ দায়ের আংশিক সমন্বয় করতে চান। এমতাবস্হায় গ্রাহক থেকে আংশিক পাওনা গ্রহণ
করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ কি?
সিদ্ধান্ত : পণ্য বিক্রয় চুক্তি অনুযায়ী মূল্য পরিশোধের মেয়াদপূর্তির আগে আংশিক পাওনা
পাওয়া গেলে তা সময়ানুপাতে সমন্বয়করণে কোনো অসুবিধা নেই।
( সূত্র: ১ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -২৭ : বিনিয়োগ পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়ের আগে গ্রাহক ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাবে আংশিক অর্থ জমা দিলে তা থেকে আসল ও মুনাফা/ ভাড়ার কোনটি প্রথমে সমন্বয় করা শরী'আহসম্মত?
সিদ্ধান্ত : গ্রাহক ব্যাংকের পাওনার আংশিক পরিশোধ করলে সে ক্ষেত্রে চুক্তি মোতাবেক প্রথমে মূলধন ও পরে লাভ কিংবা আনুপাতিক হারে
( proportionately) আসল ও লাভ সমন্বয় করা উভয়টিই শরী'আহসম্মত ।
(সূত্র: ২৪ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৭৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ও ইসলামী ব্যাংকিং : মাসায়েল ও ফতওয়া
( ১৯৮৩ -২০০১) ,পৃ - ৩৫)
বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জালের মধ্যে পার্থক্য
বিষয় - : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক কর্তৃক পণ্য ক্রয় করে গ্রাহকের কাছে বাকিতে বিক্রয় করা হয়ে থাকে। উভয় পদ্ধতিতে
ব্যাংকের কার্যক্রম আপাতদৃষ্টিতে একই রকম মনে হয়। এমতাবস্হায় বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জালের মধ্যে শর'ঈ কোনো পার্থক্য আছে কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ক্রয় - বিক্রয় চুক্তি এবং এদের মধ্যে
মৌলিক পার্থক্য রয়েছে :
ক. বাই'মুয়াজ্জালের মূল কথা হলো বাকিতে বিক্রয় আর বাই'মুরাবাহা মূল কথা হলো লাভে বিক্রয়। বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে লাভ সুনির্দিষ্ট ও
সুনিশ্চিত এবং লোকসানের কোনো সুযোগ নেই।
পক্ষান্তরে, বাই'মুয়াজ্জালে লাভ মুখ্য বিষয় নয়, বাকিতে মূল্য পরিশোধই মুখ্য বিষয় ।
খ. বাই'মুয়াজ্জালের ক্ষেত্রে গ্রাহককে ক্রয়মূল্য
জানানোর কোনো শর'ঈ বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু
বাই'মুরাবাহার ক্ষেত্রে অনুরূপ বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
(সূত্র:১০ জুন ১৯৮৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী / ফতওয়া সম্কলন কমিটি কর্তৃক সংশোধিত ও
পরিমার্জিত, তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০০৮)
করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ কি?
সিদ্ধান্ত : পণ্য বিক্রয় চুক্তি অনুযায়ী মূল্য পরিশোধের মেয়াদপূর্তির আগে আংশিক পাওনা
পাওয়া গেলে তা সময়ানুপাতে সমন্বয়করণে কোনো অসুবিধা নেই।
( সূত্র: ১ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -২৭ : বিনিয়োগ পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়ের আগে গ্রাহক ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাবে আংশিক অর্থ জমা দিলে তা থেকে আসল ও মুনাফা/ ভাড়ার কোনটি প্রথমে সমন্বয় করা শরী'আহসম্মত?
সিদ্ধান্ত : গ্রাহক ব্যাংকের পাওনার আংশিক পরিশোধ করলে সে ক্ষেত্রে চুক্তি মোতাবেক প্রথমে মূলধন ও পরে লাভ কিংবা আনুপাতিক হারে
( proportionately) আসল ও লাভ সমন্বয় করা উভয়টিই শরী'আহসম্মত ।
(সূত্র: ২৪ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৭৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ও ইসলামী ব্যাংকিং : মাসায়েল ও ফতওয়া
( ১৯৮৩ -২০০১) ,পৃ - ৩৫)
বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জালের মধ্যে পার্থক্য
বিষয় - : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক কর্তৃক পণ্য ক্রয় করে গ্রাহকের কাছে বাকিতে বিক্রয় করা হয়ে থাকে। উভয় পদ্ধতিতে
ব্যাংকের কার্যক্রম আপাতদৃষ্টিতে একই রকম মনে হয়। এমতাবস্হায় বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জালের মধ্যে শর'ঈ কোনো পার্থক্য আছে কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ক্রয় - বিক্রয় চুক্তি এবং এদের মধ্যে
মৌলিক পার্থক্য রয়েছে :
ক. বাই'মুয়াজ্জালের মূল কথা হলো বাকিতে বিক্রয় আর বাই'মুরাবাহা মূল কথা হলো লাভে বিক্রয়। বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে লাভ সুনির্দিষ্ট ও
সুনিশ্চিত এবং লোকসানের কোনো সুযোগ নেই।
পক্ষান্তরে, বাই'মুয়াজ্জালে লাভ মুখ্য বিষয় নয়, বাকিতে মূল্য পরিশোধই মুখ্য বিষয় ।
খ. বাই'মুয়াজ্জালের ক্ষেত্রে গ্রাহককে ক্রয়মূল্য
জানানোর কোনো শর'ঈ বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু
বাই'মুরাবাহার ক্ষেত্রে অনুরূপ বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
(সূত্র:১০ জুন ১৯৮৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী / ফতওয়া সম্কলন কমিটি কর্তৃক সংশোধিত ও
পরিমার্জিত, তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০০৮)
Monday, 5 August 2019
কমোটিডি মুরাবাহার মৌলিক বৈশিষ্ট্য
১। তহবিলদাতা কমোডিটি ট্রেডার (Commodity Trader) দের সাথে চুক্তি করে।
২। তহবিলগ্রহীতা ব্যাংক যদি চায় সরাসরি মার্কেটে পণ্য বিক্রির স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারে, তবে সেক্ষেত্রেও পণ্য বিক্রয়ের জন্য তহবিলদাতাকে তহবিল গ্রহীতা ব্যাংকের পক্ষে
প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগ থাকে।
৩। ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং পণ্যের ওপর স্বল্প সময়ের (অর্থাৎ কয়েক ঘন্টার) জন্য হলেও ব্যাংকের দখল থাকার ব্যাপারে ( নিয়ন্ত্রক সংস্হার) অনুমোদন থাকতে হবে।
কমোডিটি মুরাবাহার লেনদেন প্রক্রিয়া
১। তহবিলদাতা ব্যাংক নিজের নামে মার্কেট থেকে নগদে (onthe spot) শরী'আহ অনুমোদিত কোনো পণ্য ক্রয় করবে।
২ । তহবিলদাতা ব্যাংক তহবিলগ্রহীতা (counterparty) এর নিকট উক্ত পণ্য ভবিষ্যতে
কোনো নির্ধারিত সময়ে মূল্য পরিশোধের শর্তে বাকিতে (deferred basis) বিক্রি করবে।
৩। তহবিলদাতা ব্যাংক পণ্যের মালিকানা আইনগতভাবে এবং পরোক্ষভাবে তহবিলগ্রহীতার নিকট স্হানান্তর করবে।
৪। অতঃপর প্রধান চুক্তি ( master agreement) অনুসারে তহবিলগ্রহীতা উক্ত পণ্য নগদে বিক্রয়ের জন্য তহবিলদাতাকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করবে।
৫। তহবিলদাতা বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত পণ্য নগদে বিক্রয় করে বিক্রয়মূল্য তহবিলগ্রহীতার হিসাবে তাৎক্ষনিকভাবে স্হানান্তর করবে এবং এর মাধ্যমে তহবিলগ্রহীতা তার তারল্য চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
৬। নির্ধারিত সময়ে তহবিলদাতা ব্যাংক মুনাফাসহ পণ্যের ক্রয়মূল্য তহবিলদাতাকে পরিশোধ করে
(অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারে ।)
কমোডিটি মুরাবাহার শর'ঈ ভিত্তি
কমোডিটি মুরাবাহা মূলত ফিকহী পরিভাষায় তাওয়াররুক (নগদ টাকার প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে কারো নিকট থেকে কোনো পণ্য ক্রয় করে তা বিক্রয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ গ্রহণ করা)
এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অ্যাকাউন্টংং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন্স (Accounting and Auditing organization for islamic Financial institutions - AAOIFl) এর তাওয়াররুক -সংক্রান্ত শরী'আহ স্ট্যান্ডার্ড
(নং ৩০) এ কমোডিটি মুরাবাহা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
তাওয়াররুক মূলত দুই ধরনের
প্রথমতঃ তাওয়াররুকের পণ্যটি যার থেকে ক্রয় করা হয় তারই নিকট পুনরায় বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করা।
দ্বিতীয়ত: তাওয়াররুকের পণ্যটি যার থেকে ক্রয় করা হয় তারই নিকট পুনরায় বিক্রি না করে
তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করা।
উক্ত প্রথম প্রকার তাওয়াররুক মূলত সরাসরি বাই' আল - ঈনা' হওয়ার কারণে গ্রহণযোগ্য নয়।
অর্থাৎ, কারো নিকট থেকে পণ্য ক্রয়ের পর তার নিকট পুনরায় তা বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করা এই প্রকারের অন্তর্ভূক্ত হবে। অন্যদিকে, কারো নিকট থেকে পণ্য ক্রয় করে তা তৃতীয় কোনো পক্ষের নিকট বিক্রয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ গ্রহণ করা দ্বিতীয় প্রকার তাওয়াররুক -এর অন্তর্ভূত।
দ্বিতীয় প্রকার তাওয়াররুকের বৈধতার প্রশ্নে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। কারো কারো মতে তা প্রথম প্রকারের মতোই হারাম, কেননা পদ্ধতি যাই হোক এখানে মূল উদ্দেশ্য পণ্য ক্রয় নয়, নগদ তহবিল গ্রহণ করা। জায়েয বলে অভিমত প্রদানকারী বিজ্ঞ ফকিহগণের বক্তব্য হলো, মু'আমালার ক্ষেত্রে শরী'আহর সাধারণ মূলনীতি হলো হালাল হওয়া।
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকের জন্য কমোডিটি মুরাবাহা লেনদেনে সম্পৃক্ত না হওয়াই উত্তম। তবে
অতীব জরুরী প্রয়োজনে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে ইসলামী ব্যাংক উপরিউক্ত লেনদেনে অংশগ্রহণ করতে পারে:
ক . সেক্ষেত্রে AAoifl এর তাওয়াররুক -সংক্রান্ত শরী'আহ স্ট্যান্ডার্ড (নং ৩০) এ বর্ণিত
শর্তাবলি যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
খ. উক্ত অনুমোদন শুধু বৈদেশিক মুদ্রায় তারল্য ব্যবস্হাপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
গ . বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ প্রদান করে ব্যাংকের বিদ্যমান গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদেরকে সুদ থেকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে উক্ত লেনদেনে ব্যাংক সম্পৃক্ত হতে পারবে।
ঘ . পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও ক্ববদ নিশ্চিত করতে হবে।
ঙ . হতবিলদাতাকে আলাদা চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে।
চ . শুধু জরুরি প্রয়োজন অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রায়
ব্যাংকের সম্পদ ও দায় (Asset & Liability)
এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই ইসলামী ব্যাংক উক্ত লেনদেনের সম্পৃক্ত হতে পারবে। উল্লিখিত জরুরি প্রয়োজন পূরণের পর
এ ধরনের লেনদেনে ব্যাংক আর সম্পৃক্ত থাকবে না।
ছ . তহবিলদাতার সাথে ইসলামী ব্যাংকের কমোডিটি মুরাবাহা লেনদেনের প্রধান চুক্তিপত্র
(Master Agreement) সহ অন্যান্য ডুকুমেন্ট শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
(সূত্র: ৬ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
সুপারভাইজারি কমিটির ১৮৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)।
২। তহবিলগ্রহীতা ব্যাংক যদি চায় সরাসরি মার্কেটে পণ্য বিক্রির স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারে, তবে সেক্ষেত্রেও পণ্য বিক্রয়ের জন্য তহবিলদাতাকে তহবিল গ্রহীতা ব্যাংকের পক্ষে
প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগ থাকে।
৩। ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং পণ্যের ওপর স্বল্প সময়ের (অর্থাৎ কয়েক ঘন্টার) জন্য হলেও ব্যাংকের দখল থাকার ব্যাপারে ( নিয়ন্ত্রক সংস্হার) অনুমোদন থাকতে হবে।
কমোডিটি মুরাবাহার লেনদেন প্রক্রিয়া
১। তহবিলদাতা ব্যাংক নিজের নামে মার্কেট থেকে নগদে (onthe spot) শরী'আহ অনুমোদিত কোনো পণ্য ক্রয় করবে।
২ । তহবিলদাতা ব্যাংক তহবিলগ্রহীতা (counterparty) এর নিকট উক্ত পণ্য ভবিষ্যতে
কোনো নির্ধারিত সময়ে মূল্য পরিশোধের শর্তে বাকিতে (deferred basis) বিক্রি করবে।
৩। তহবিলদাতা ব্যাংক পণ্যের মালিকানা আইনগতভাবে এবং পরোক্ষভাবে তহবিলগ্রহীতার নিকট স্হানান্তর করবে।
৪। অতঃপর প্রধান চুক্তি ( master agreement) অনুসারে তহবিলগ্রহীতা উক্ত পণ্য নগদে বিক্রয়ের জন্য তহবিলদাতাকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করবে।
৫। তহবিলদাতা বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত পণ্য নগদে বিক্রয় করে বিক্রয়মূল্য তহবিলগ্রহীতার হিসাবে তাৎক্ষনিকভাবে স্হানান্তর করবে এবং এর মাধ্যমে তহবিলগ্রহীতা তার তারল্য চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
৬। নির্ধারিত সময়ে তহবিলদাতা ব্যাংক মুনাফাসহ পণ্যের ক্রয়মূল্য তহবিলদাতাকে পরিশোধ করে
(অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারে ।)
কমোডিটি মুরাবাহার শর'ঈ ভিত্তি
কমোডিটি মুরাবাহা মূলত ফিকহী পরিভাষায় তাওয়াররুক (নগদ টাকার প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে কারো নিকট থেকে কোনো পণ্য ক্রয় করে তা বিক্রয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ গ্রহণ করা)
এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অ্যাকাউন্টংং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন্স (Accounting and Auditing organization for islamic Financial institutions - AAOIFl) এর তাওয়াররুক -সংক্রান্ত শরী'আহ স্ট্যান্ডার্ড
(নং ৩০) এ কমোডিটি মুরাবাহা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
তাওয়াররুক মূলত দুই ধরনের
প্রথমতঃ তাওয়াররুকের পণ্যটি যার থেকে ক্রয় করা হয় তারই নিকট পুনরায় বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করা।
দ্বিতীয়ত: তাওয়াররুকের পণ্যটি যার থেকে ক্রয় করা হয় তারই নিকট পুনরায় বিক্রি না করে
তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করা।
উক্ত প্রথম প্রকার তাওয়াররুক মূলত সরাসরি বাই' আল - ঈনা' হওয়ার কারণে গ্রহণযোগ্য নয়।
অর্থাৎ, কারো নিকট থেকে পণ্য ক্রয়ের পর তার নিকট পুনরায় তা বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করা এই প্রকারের অন্তর্ভূক্ত হবে। অন্যদিকে, কারো নিকট থেকে পণ্য ক্রয় করে তা তৃতীয় কোনো পক্ষের নিকট বিক্রয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ গ্রহণ করা দ্বিতীয় প্রকার তাওয়াররুক -এর অন্তর্ভূত।
দ্বিতীয় প্রকার তাওয়াররুকের বৈধতার প্রশ্নে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। কারো কারো মতে তা প্রথম প্রকারের মতোই হারাম, কেননা পদ্ধতি যাই হোক এখানে মূল উদ্দেশ্য পণ্য ক্রয় নয়, নগদ তহবিল গ্রহণ করা। জায়েয বলে অভিমত প্রদানকারী বিজ্ঞ ফকিহগণের বক্তব্য হলো, মু'আমালার ক্ষেত্রে শরী'আহর সাধারণ মূলনীতি হলো হালাল হওয়া।
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকের জন্য কমোডিটি মুরাবাহা লেনদেনে সম্পৃক্ত না হওয়াই উত্তম। তবে
অতীব জরুরী প্রয়োজনে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে ইসলামী ব্যাংক উপরিউক্ত লেনদেনে অংশগ্রহণ করতে পারে:
ক . সেক্ষেত্রে AAoifl এর তাওয়াররুক -সংক্রান্ত শরী'আহ স্ট্যান্ডার্ড (নং ৩০) এ বর্ণিত
শর্তাবলি যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
খ. উক্ত অনুমোদন শুধু বৈদেশিক মুদ্রায় তারল্য ব্যবস্হাপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
গ . বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ প্রদান করে ব্যাংকের বিদ্যমান গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদেরকে সুদ থেকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে উক্ত লেনদেনে ব্যাংক সম্পৃক্ত হতে পারবে।
ঘ . পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও ক্ববদ নিশ্চিত করতে হবে।
ঙ . হতবিলদাতাকে আলাদা চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে।
চ . শুধু জরুরি প্রয়োজন অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রায়
ব্যাংকের সম্পদ ও দায় (Asset & Liability)
এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই ইসলামী ব্যাংক উক্ত লেনদেনের সম্পৃক্ত হতে পারবে। উল্লিখিত জরুরি প্রয়োজন পূরণের পর
এ ধরনের লেনদেনে ব্যাংক আর সম্পৃক্ত থাকবে না।
ছ . তহবিলদাতার সাথে ইসলামী ব্যাংকের কমোডিটি মুরাবাহা লেনদেনের প্রধান চুক্তিপত্র
(Master Agreement) সহ অন্যান্য ডুকুমেন্ট শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
(সূত্র: ৬ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
সুপারভাইজারি কমিটির ১৮৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)।
চাঁদের অজানা ৭ কাহন
@ চাঁদকে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা
আমেরিকা একবার সত্যি সত্যিই চাঁদের ওপর পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণের কথা চিন্তা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, এর মাধ্যমে আমেরিকার সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা। বিশেষ করে রাশিয়াকে ভয় দেখানো। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্হা নাসার অত্যন্ত গোপনীয় এই পরিকল্পনার নাম ছিল 'এ স্টাডি অফ লুনার রিসার্চ ফ্লাইটস' অথবা 'প্রজেক্ট এ ১১৯।
@ চাঁদ গোলাকার নয়
চাঁদের আকৃতি আসলে ডিমের মতো। আমরা যখন এর দিকে তাকাই তখন এর ছোট দুই প্রান্তের কোনো একটিকে দেখতে পাই। চাঁদের ভরের কেন্দ্র ঠিক এর জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্হিত নয়। এটি জ্যামিতিক কেন্দ্র থেকে ১ দশমিক ২ মাইল দূরে।
@ সবসময় চাঁদের পুরোটা দেখা যায় না
আমরা যখন চাঁদের দিকে তাকাই তখন এর ৫৯ শতাংশ দেখতে পাই। পৃথিবী থেকে চাঁদের বাকি ৪১ শতাংশ কখনই দেখা যায় না। কেউ যদি এই তথ্য বিশ্বাস না করেন এবং এটা সত্য কিনা সেটা যাচাই করে দেখতে চান, তাহলে চাঁদের লুকিয়ে থাকা ওই ৪১ শতাংশের ওপরে গিয়ে তাকে দাঁড়াতে হবে -সেখান থেকে তিনি এই পৃথিবীকে
দেখতে পাবেন না ।
@ ব্লু মুন হয়েছে আগ্নেয়গিরির কারণে
ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাতের পর
১৮৮৩ সালে 'ব্লু মুন' পরিভাষার জন্ম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সেসময় অগ্নুৎপাতের ফলে
বায়ুমণ্ডলে এত বেশি ধুলো ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল যে মানুষ যখন পৃথিবী থেকে চাঁদের দিকে তাকিয়েছিল তখন তা দেখতে নীল মনে হয়েছিল। আর এ থেকেই তৈরি হয়েছে 'ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন' কথাটি। বিরল কোনো ঘটনা বলতে এই
বাক্যটি ব্যবহার করা হয় ।
@ চাঁদের কারণে পৃথিবীর গতি ধীর হয়
চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয় কাছে চলে আসে তখন
জোয়ারের সৃষ্টি হয়। নতুন কিম্বা ফুল মুনের পরপরই এরকম হয়ে থাকে। তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন
শক্তিও চাঁদ চুরি করে নেয়। আর সে কারণে পৃথিবীর গতিও প্রতি ১০০ বছর প্রায় ১ দশমিক
৫ মিলি -সেকেন্ডন করে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে ।
@ চাঁদের আলো
সূর্য একটি পূর্ণ চাঁদের চেয়েও ১৪ গুণ মাত্রায় বেশি উজ্জ্বল। সূর্যের মতো সমান উজ্জ্বলতায়
জ্বলতে হলে প্রায় চার লাখ পূর্ণ চাঁদের প্রয়োজন।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে চলে যায় তখন চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দেড়
ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমে যেথে পারে।
@ লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বুঝেছিলেন ক্রিসেন্ট কী
চাঁদকে আমরা যখন ক্রিসেন্টের আকারে বা
অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো দেখি তখন চাঁদ থেকে ছিটকে আসা সূর্যের আলোকেই দেখতে পাই।
চাঁদের বাকি অংশটা খুব অস্পষ্ট দেখা যায়।
সেটাও নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপরে। শিল্পী
লিওনার্দো দা ভিঞ্চিই হলেন প্রথম কোনো ব্যক্তি
যিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন চাঁদ আসলে
সম্কুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে না, বরং এর কিছু
অংশ লুকানো থাকে।
আমেরিকা একবার সত্যি সত্যিই চাঁদের ওপর পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণের কথা চিন্তা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, এর মাধ্যমে আমেরিকার সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা। বিশেষ করে রাশিয়াকে ভয় দেখানো। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্হা নাসার অত্যন্ত গোপনীয় এই পরিকল্পনার নাম ছিল 'এ স্টাডি অফ লুনার রিসার্চ ফ্লাইটস' অথবা 'প্রজেক্ট এ ১১৯।
@ চাঁদ গোলাকার নয়
চাঁদের আকৃতি আসলে ডিমের মতো। আমরা যখন এর দিকে তাকাই তখন এর ছোট দুই প্রান্তের কোনো একটিকে দেখতে পাই। চাঁদের ভরের কেন্দ্র ঠিক এর জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্হিত নয়। এটি জ্যামিতিক কেন্দ্র থেকে ১ দশমিক ২ মাইল দূরে।
@ সবসময় চাঁদের পুরোটা দেখা যায় না
আমরা যখন চাঁদের দিকে তাকাই তখন এর ৫৯ শতাংশ দেখতে পাই। পৃথিবী থেকে চাঁদের বাকি ৪১ শতাংশ কখনই দেখা যায় না। কেউ যদি এই তথ্য বিশ্বাস না করেন এবং এটা সত্য কিনা সেটা যাচাই করে দেখতে চান, তাহলে চাঁদের লুকিয়ে থাকা ওই ৪১ শতাংশের ওপরে গিয়ে তাকে দাঁড়াতে হবে -সেখান থেকে তিনি এই পৃথিবীকে
দেখতে পাবেন না ।
@ ব্লু মুন হয়েছে আগ্নেয়গিরির কারণে
ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাতের পর
১৮৮৩ সালে 'ব্লু মুন' পরিভাষার জন্ম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সেসময় অগ্নুৎপাতের ফলে
বায়ুমণ্ডলে এত বেশি ধুলো ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল যে মানুষ যখন পৃথিবী থেকে চাঁদের দিকে তাকিয়েছিল তখন তা দেখতে নীল মনে হয়েছিল। আর এ থেকেই তৈরি হয়েছে 'ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন' কথাটি। বিরল কোনো ঘটনা বলতে এই
বাক্যটি ব্যবহার করা হয় ।
@ চাঁদের কারণে পৃথিবীর গতি ধীর হয়
চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয় কাছে চলে আসে তখন
জোয়ারের সৃষ্টি হয়। নতুন কিম্বা ফুল মুনের পরপরই এরকম হয়ে থাকে। তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন
শক্তিও চাঁদ চুরি করে নেয়। আর সে কারণে পৃথিবীর গতিও প্রতি ১০০ বছর প্রায় ১ দশমিক
৫ মিলি -সেকেন্ডন করে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে ।
@ চাঁদের আলো
সূর্য একটি পূর্ণ চাঁদের চেয়েও ১৪ গুণ মাত্রায় বেশি উজ্জ্বল। সূর্যের মতো সমান উজ্জ্বলতায়
জ্বলতে হলে প্রায় চার লাখ পূর্ণ চাঁদের প্রয়োজন।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে চলে যায় তখন চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দেড়
ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমে যেথে পারে।
@ লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বুঝেছিলেন ক্রিসেন্ট কী
চাঁদকে আমরা যখন ক্রিসেন্টের আকারে বা
অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো দেখি তখন চাঁদ থেকে ছিটকে আসা সূর্যের আলোকেই দেখতে পাই।
চাঁদের বাকি অংশটা খুব অস্পষ্ট দেখা যায়।
সেটাও নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপরে। শিল্পী
লিওনার্দো দা ভিঞ্চিই হলেন প্রথম কোনো ব্যক্তি
যিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন চাঁদ আসলে
সম্কুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে না, বরং এর কিছু
অংশ লুকানো থাকে।
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিগত অনেক শব্দ
তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণকর অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাপী জনমানুষের জীবনমান সহজ হচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষকে তার নানা রকম আশীর্বাদে পুষ্ট করছে
প্রতিনিয়ত। সেই সঙ্গে কেড়ে নিচ্ছে কিছু শব্দ এবং
শব্দগুচ্ছের স্বতন্ত্রতা। একসময় অ্যাপর এই শব্দটির বাংলা অর্থ একটি বিশেষ ফল বুঝলেও এখন বেশিরভাগ মানুষই বুঝে অ্যাপল জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম। ঠিক তেমনি টুইট শব্দের বাংলা অর্থ পাখির কিচিরমিচির হলেও তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন আর টুইট মানে পাখির কিচিরমিচির নায় বরং মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে কোনো বার্তা দেয়াকে বোঝায়। ব্রিটিশ
স্বতন্ত্র দাতব্য সংস্হা 'ন্যাশনাল ট্রাস্ট' এর এক জরিপে উঠে এসেছে প্রকৃতির শব্দগুচ্ছে প্রযুক্তির
আগ্রাসনের করণে এমন ঘটছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সময়কার বহুলব্যবহৃত শব্দ টুইট বা পাখির কিচিরমিচির অথচ মাত্র এক শতাংশ মানুষ এখন পাখির কিচিরমিচির বোঝাতে টুইট
শব্দটি ব্যবহার করেন। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে বার্তা দেয়াকে টুইট বোঝায়। টুইটের মতই একই পরিস্হিতি অ্যাপল
(ফল) , ক্লাউড (মেঘ) এবং স্ট্রিম বা স্রোতের মত
প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রেও । নব্বইয়ের দশকেও স্ট্রিম শব্দটি স্রোত বা ছোট জলাধার অর্থে ব্যবহ্নত হতো। ওই সময় শতভাগ মানুষ স্রোত বা জলাধার অর্থে স্ট্রিম শব্দটি ব্যবহার করতেন। বর্তমানে মাত্র ৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে স্রোত বা ছোট জলাধার বলতে স্ট্রিম শব্দ ব্যবহার হচ্ছে। বাকি ৬৪ শতাংশ মানুষ স্ট্রিম বলতে অনলাইনে অডিও বা ভিডিও মিডিয়া ফাইল সঞ্চালন করা বোঝায়। একইভাবে অ্যাপল একটি নির্দিষ্ট ফল হলেও অ্যাপল শব্দটি এখন ফল অর্থের চেয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল
ইনকরপোরেশনকে বোযায়। ক্লাউড অর্থ মেঘ। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যায় ক্লাউড শব্দটির ব্যবহার মেঘ অর্থে খুবই কম ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মেঘ অর্থে ক্লাউডের ব্যবহার খুবই নগণ্য। শব্দের এই বদলে যাওয়া অর্থ নিয়ে আয়োজিত জরিপে দেখা যায় শতকরা
২৫ জন বাবা -মা তাদের আগের প্রজন্ম প্রযুক্তির আগ্রাসনে শব্দের এ বদলে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা আশংকা করছেন, হয়ত তাদের উত্তরসূরিরা
এই শব্দগুলোর মূল অর্থই আর কখনও জানবে না। ইউনিভার্সিটি অফ লিডসের ভাষাবিজ্ঞানের
গবেষক ড. রবি লাভ, যিনি উল্লিখিত জরিপটি পরিচালনা করেছেন, তিনি বলছেন, 'আধুনিক প্রযুক্তির অনেক বিষয়ই ঠিক সহজে বুজিয়ে বলা সম্ভব হয় না। আর এখানেই এসে হাজির হয় মেটাফোর বা রূপক। ড. লাভ আরও বলছেন -সহজ সরল আর প্রাণবন্ত শব্দ অনেক সময়ই কঠিন বিষয়কে সহজে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। এমনকি যে বিষয় তারা নিজেরাও ঠিকঠাক বোঝেন না, এসব সহজ শব্দের ব্যবহারে তারাও সে বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার কোন যন্ত্রে কোন তথ্য
প্রবাহিত হচ্ছে সেটা বোঝাতে স্ট্রিম শব্দটি যদি না
থাকত, আপনি কী করে এটা বুঝিয়ে বলতেন ?
সময়ের বিবর্তনে শব্দের এমন অর্থ বদলে যাওয়ার প্রতিবেদন তৈরিতে দুটি ডাটাবেজ নিয়ে কাজ করেছেন গবেষকরা। এর একটি ডাটাবেজে ছিল ৯০ দশকের ৫০ লাখ কথোপকথন আর পরের ডেটাবেজে ছিল ২০১০ দশকের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ কথোপকথন। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের ডাটাবেজের তুলনায় পরেরটিতে মেঘ অর্থে ক্লাউড শব্দের ব্যবহার এক চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। ন্যাশনাল ট্রাস্টের আঞ্চলিক পরিচালক অ্যান্ডি বিয়ার বলেন, অর্থের এই পাল্টে যাওয়াকে ভালো বা মন্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সময়ের সঙ্গে ভাষা নতুন নতুন অর্থ গ্রহণ করে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ক্যান (can) শব্দটির মানে যেমন সক্ষমতা বোঝায় তেমনি পানীয়ের জন্য অ্যালুমিনিয়াম কৌটাও বোঝায়।
এটা ঠিক যে, জাতি হিসেবে আমরা প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। শিশু -তরুণদের প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারলেই কেবল হারান বন্ধন
আবার তৈরি হতে পারে।
প্রতিনিয়ত। সেই সঙ্গে কেড়ে নিচ্ছে কিছু শব্দ এবং
শব্দগুচ্ছের স্বতন্ত্রতা। একসময় অ্যাপর এই শব্দটির বাংলা অর্থ একটি বিশেষ ফল বুঝলেও এখন বেশিরভাগ মানুষই বুঝে অ্যাপল জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম। ঠিক তেমনি টুইট শব্দের বাংলা অর্থ পাখির কিচিরমিচির হলেও তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন আর টুইট মানে পাখির কিচিরমিচির নায় বরং মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে কোনো বার্তা দেয়াকে বোঝায়। ব্রিটিশ
স্বতন্ত্র দাতব্য সংস্হা 'ন্যাশনাল ট্রাস্ট' এর এক জরিপে উঠে এসেছে প্রকৃতির শব্দগুচ্ছে প্রযুক্তির
আগ্রাসনের করণে এমন ঘটছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সময়কার বহুলব্যবহৃত শব্দ টুইট বা পাখির কিচিরমিচির অথচ মাত্র এক শতাংশ মানুষ এখন পাখির কিচিরমিচির বোঝাতে টুইট
শব্দটি ব্যবহার করেন। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে বার্তা দেয়াকে টুইট বোঝায়। টুইটের মতই একই পরিস্হিতি অ্যাপল
(ফল) , ক্লাউড (মেঘ) এবং স্ট্রিম বা স্রোতের মত
প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রেও । নব্বইয়ের দশকেও স্ট্রিম শব্দটি স্রোত বা ছোট জলাধার অর্থে ব্যবহ্নত হতো। ওই সময় শতভাগ মানুষ স্রোত বা জলাধার অর্থে স্ট্রিম শব্দটি ব্যবহার করতেন। বর্তমানে মাত্র ৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে স্রোত বা ছোট জলাধার বলতে স্ট্রিম শব্দ ব্যবহার হচ্ছে। বাকি ৬৪ শতাংশ মানুষ স্ট্রিম বলতে অনলাইনে অডিও বা ভিডিও মিডিয়া ফাইল সঞ্চালন করা বোঝায়। একইভাবে অ্যাপল একটি নির্দিষ্ট ফল হলেও অ্যাপল শব্দটি এখন ফল অর্থের চেয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল
ইনকরপোরেশনকে বোযায়। ক্লাউড অর্থ মেঘ। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যায় ক্লাউড শব্দটির ব্যবহার মেঘ অর্থে খুবই কম ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মেঘ অর্থে ক্লাউডের ব্যবহার খুবই নগণ্য। শব্দের এই বদলে যাওয়া অর্থ নিয়ে আয়োজিত জরিপে দেখা যায় শতকরা
২৫ জন বাবা -মা তাদের আগের প্রজন্ম প্রযুক্তির আগ্রাসনে শব্দের এ বদলে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা আশংকা করছেন, হয়ত তাদের উত্তরসূরিরা
এই শব্দগুলোর মূল অর্থই আর কখনও জানবে না। ইউনিভার্সিটি অফ লিডসের ভাষাবিজ্ঞানের
গবেষক ড. রবি লাভ, যিনি উল্লিখিত জরিপটি পরিচালনা করেছেন, তিনি বলছেন, 'আধুনিক প্রযুক্তির অনেক বিষয়ই ঠিক সহজে বুজিয়ে বলা সম্ভব হয় না। আর এখানেই এসে হাজির হয় মেটাফোর বা রূপক। ড. লাভ আরও বলছেন -সহজ সরল আর প্রাণবন্ত শব্দ অনেক সময়ই কঠিন বিষয়কে সহজে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। এমনকি যে বিষয় তারা নিজেরাও ঠিকঠাক বোঝেন না, এসব সহজ শব্দের ব্যবহারে তারাও সে বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার কোন যন্ত্রে কোন তথ্য
প্রবাহিত হচ্ছে সেটা বোঝাতে স্ট্রিম শব্দটি যদি না
থাকত, আপনি কী করে এটা বুঝিয়ে বলতেন ?
সময়ের বিবর্তনে শব্দের এমন অর্থ বদলে যাওয়ার প্রতিবেদন তৈরিতে দুটি ডাটাবেজ নিয়ে কাজ করেছেন গবেষকরা। এর একটি ডাটাবেজে ছিল ৯০ দশকের ৫০ লাখ কথোপকথন আর পরের ডেটাবেজে ছিল ২০১০ দশকের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ কথোপকথন। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের ডাটাবেজের তুলনায় পরেরটিতে মেঘ অর্থে ক্লাউড শব্দের ব্যবহার এক চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। ন্যাশনাল ট্রাস্টের আঞ্চলিক পরিচালক অ্যান্ডি বিয়ার বলেন, অর্থের এই পাল্টে যাওয়াকে ভালো বা মন্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সময়ের সঙ্গে ভাষা নতুন নতুন অর্থ গ্রহণ করে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ক্যান (can) শব্দটির মানে যেমন সক্ষমতা বোঝায় তেমনি পানীয়ের জন্য অ্যালুমিনিয়াম কৌটাও বোঝায়।
এটা ঠিক যে, জাতি হিসেবে আমরা প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। শিশু -তরুণদের প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারলেই কেবল হারান বন্ধন
আবার তৈরি হতে পারে।
Sunday, 4 August 2019
গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক উপকরণ ক্রয়ের জন্য বিনিয়োগ
বিষয় -২৪ : গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন ( artificial insemination) -এর জন্য যন্ত্রপাতি
ও আনুষঙ্গিক উপকরণ ক্রয়ের জন্য বিনিয়োগ করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : গবাদি পশুর উৎপাদন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজনন বৈধ হবে কি না - এ বিষয়ে
শরী'আহ বিশেষজ্ঞগণ মতপার্থক্য করেছেন। তাদের কারো কারো মতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত পশু, এর গোস্ত ও দুগ্ধ মানুষের
জন্য ক্ষতিকর বিধায় তা অবৈধ। অন্যদিকে,
মক্কাভিত্তিক রাবেতা আল -আলম আল -ইসলামীর ইসলামীক ফিকহ একাডেমির পঞ্চম অধিবেশনে গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে, যার মূল বক্তব্য হচ্ছে, পশুর উৎপাদন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজননের উপায় -উপকরণ ব্যবহার বৈধ : এই শর্তে যে, ব্যক্তি, পশু এবং পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধের জন্য সব ধরনের পূর্বসতর্কতা অবলম্বন করতে হবে -যদিও তা (উক্ত ক্ষতি) দেরিতে দৃশ্যমান হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজননের ব্যাপারে উল্লিখিত দুটি অভিমতের মধ্যে মৌলিকভাবে কোনো পার্থক্য নেই। যারা অবৈধ বলেছেন তানা এর 'ক্ষতি'র কারণেই অবৈধ বলেছেন এবং যারা
বৈধ বলেছেন তারা 'ক্ষতি' না থাকার শর্তেই বৈধ বলেছেন। গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন
(artificial insemination) এবং এ সংক্রান্ত
যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক উপকরণ ক্রয় -বিক্রয়ের
ব্যাপারে যেহেতু শরী'আহতে কোনো সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই তাই তা বৈধ এবং এতে বিনিয়োগ কিংবা এলসি খোলাতে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো
অসুবিধা নেই।
(সুত্র: ২৭ মে ২০১৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৮৯তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী)।
কমোডিটি মুরাবাহা
বিষয় -২৫ : বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংকের
সম্পদ ও দায় ( Asset & liability) এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমতাবস্হায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা পূরণ ও বৈদেশিক মুদ্রার সম্কট উত্তরণে ইসলামী ব্যাংক স্বল্পপ্রচলিত (non precious) ধাতবপদার্থ যেমন - রডিয়াম, প্যাল্যাডিয়াম, কপার (Rhodium, palladium,Copper) এবং শরী'আহ অনুমোদিত কৃষি পণ্য যেমন -পাম,পামওয়েল, রাবার ইত্যাদি ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কমোডিটি মুরাবাহা (Commodity Murabaha) পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে কিনা?
উক্ত প্রশ্নের শর'ঈ সিদ্ধন্ত প্রদানের পূর্বে কমোডিটি মুরাবাহা সম্পর্কে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া জরুরি :
ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কমোডিটি মুরাবাহা (commodity murabaha) হলো এমন এক
ধরনের লেনদেন পদ্ধতি যেখানে ব্যাংক তার তারল্য চাহিদা পূরণের জন্য কোনো তহবিলদাতা
ব্যাংকের নিকট থেকে পণ্য বাকিতে ক্রয় করে এবং তহবিলদাতাকে প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে সে পণ্য নগদে বিক্রয় করে দেয়। এখানে ক্রয়কৃত পণ্য বা তার উপকার ভোগ করার ইচ্ছা ক্রেতার থাকে না : বরং এ লেনদেনের মাধ্যমে তারল্য চাহিদা পূরণ করাই ক্রেতার মূল উদ্দেশ্য ।।
ও আনুষঙ্গিক উপকরণ ক্রয়ের জন্য বিনিয়োগ করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : গবাদি পশুর উৎপাদন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজনন বৈধ হবে কি না - এ বিষয়ে
শরী'আহ বিশেষজ্ঞগণ মতপার্থক্য করেছেন। তাদের কারো কারো মতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত পশু, এর গোস্ত ও দুগ্ধ মানুষের
জন্য ক্ষতিকর বিধায় তা অবৈধ। অন্যদিকে,
মক্কাভিত্তিক রাবেতা আল -আলম আল -ইসলামীর ইসলামীক ফিকহ একাডেমির পঞ্চম অধিবেশনে গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে, যার মূল বক্তব্য হচ্ছে, পশুর উৎপাদন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজননের উপায় -উপকরণ ব্যবহার বৈধ : এই শর্তে যে, ব্যক্তি, পশু এবং পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধের জন্য সব ধরনের পূর্বসতর্কতা অবলম্বন করতে হবে -যদিও তা (উক্ত ক্ষতি) দেরিতে দৃশ্যমান হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজননের ব্যাপারে উল্লিখিত দুটি অভিমতের মধ্যে মৌলিকভাবে কোনো পার্থক্য নেই। যারা অবৈধ বলেছেন তানা এর 'ক্ষতি'র কারণেই অবৈধ বলেছেন এবং যারা
বৈধ বলেছেন তারা 'ক্ষতি' না থাকার শর্তেই বৈধ বলেছেন। গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন
(artificial insemination) এবং এ সংক্রান্ত
যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক উপকরণ ক্রয় -বিক্রয়ের
ব্যাপারে যেহেতু শরী'আহতে কোনো সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই তাই তা বৈধ এবং এতে বিনিয়োগ কিংবা এলসি খোলাতে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো
অসুবিধা নেই।
(সুত্র: ২৭ মে ২০১৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৮৯তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী)।
কমোডিটি মুরাবাহা
বিষয় -২৫ : বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংকের
সম্পদ ও দায় ( Asset & liability) এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমতাবস্হায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা পূরণ ও বৈদেশিক মুদ্রার সম্কট উত্তরণে ইসলামী ব্যাংক স্বল্পপ্রচলিত (non precious) ধাতবপদার্থ যেমন - রডিয়াম, প্যাল্যাডিয়াম, কপার (Rhodium, palladium,Copper) এবং শরী'আহ অনুমোদিত কৃষি পণ্য যেমন -পাম,পামওয়েল, রাবার ইত্যাদি ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কমোডিটি মুরাবাহা (Commodity Murabaha) পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে কিনা?
উক্ত প্রশ্নের শর'ঈ সিদ্ধন্ত প্রদানের পূর্বে কমোডিটি মুরাবাহা সম্পর্কে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া জরুরি :
ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কমোডিটি মুরাবাহা (commodity murabaha) হলো এমন এক
ধরনের লেনদেন পদ্ধতি যেখানে ব্যাংক তার তারল্য চাহিদা পূরণের জন্য কোনো তহবিলদাতা
ব্যাংকের নিকট থেকে পণ্য বাকিতে ক্রয় করে এবং তহবিলদাতাকে প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে সে পণ্য নগদে বিক্রয় করে দেয়। এখানে ক্রয়কৃত পণ্য বা তার উপকার ভোগ করার ইচ্ছা ক্রেতার থাকে না : বরং এ লেনদেনের মাধ্যমে তারল্য চাহিদা পূরণ করাই ক্রেতার মূল উদ্দেশ্য ।।
Saturday, 3 August 2019
কোম্পানির লাইসেন্স ক্রয় - বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -২৩ :কোনো কোম্পানির লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : লাইসেন্স সাধারণত দুই ধরনের :
ক. পেশাগত লাইসেন্স (professional license)
ও খ . ব্যবসায়িক লাইসেন্স (commercial license) ,যা আবার দুই ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. সুদি বা অবৈধ ব্যবসার লাইসেন্স ও ২ . বৈধ ব্যবসার লাইসেন্স।
প্রথম প্রকারের লাইসেন্স (পেশাগত লাইসেন্স) বিশেষ যোগ্যতা অর্জনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। ফলে তা অন্যের কাছে কোনোভাবে হস্তান্তর বা স্হানান্তর করা বৈধ নয়।
আর ব্যবসায়িক লাইসেন্স - এর ক্ষেত্রে সুদি বা অবৈধ ব্যবসার লাইসেন্সও ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রধান বৈধ নয়। ট্রেড লাইসেন্স -এর বিপরীতে কোনো ফি প্রদান করা হোক বা না হোক তা ভাড়াযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। বৈধ ব্যবসার লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রদান প্রসঙ্গে ওআইসি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত হলো
: প্রথমত, কমার্শিয়াল নাম, কমার্শিয়াল অ্যাড্রেস, ট্রেডমার্ক, স্বত্ব, আবিষ্কার,উদ্ভাবন এগুলো মালিকদের বিশেষ অধিকার এবং এগুলো ব্যবহারের জন্য বর্তমানে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী আর্থিক মূল্য প্রদান করতে হয়। শরী'আহ অনুযায়ী এসব অধিকার স্বীকৃত। সুতরাং এসব অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, কমার্শিয়াল নাম, কমার্শিয়াল অ্যাড্রেস,
ট্রেড মার্ক, স্বত্ব,আবিষ্কার, উদ্ভাবন এগুলো লেনদেন করা এবং আর্থিক মূল্যের বিনিময়ে এগুলোর হস্তান্তর ও স্হানান্তর বৈধ: যদি তাতে গারার, প্রতারণা, দোষত্রুটি গোপন করা থেকে মুক্ত থাকে।
তৃতীয়ত, লিখন, আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের অধিকার শরী'আহ অনুযায়ী সংরক্ষিত বিষয় এবং এদের মালিক এগুলো ব্যবহার করতে পারে। এসব অধিকার ক্ষুন্ন করা জায়েয নেই।
ওআইসি ফিকহ একাডেমির উক্ত সিদ্ধান্ত উল্লেখ
করে শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটি লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত অভিমত ব্যক্ত করে।
# রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন থাকলে লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রদান করা যাবে।
# ফটকাবাজারি, গারার, কোনোরকম অস্পষ্টতা বা প্রতারণাকে উৎসাহিত করবে এমন কোনো লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রদান বৈধ নয়।
# ব্যাংকের নামে মালিকানা অর্জন করা যায় না বলে তাতে বাই'মুরাবাহা বৈধ হবে না। তবে হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতিতে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ের যৌথ মালিকানায় লাইসেন্স ক্রয় করে তা গ্রাহকের (অংশীদারের)
কাছে ভাড়ায় প্রদান করা যাবে। কারণ, লাইসেন্সের নাম ট্রান্সফারের মাধ্যমে এতে গ্রাহকের মালিকানা প্রতিষ্টিত হয় :
যিনি ব্যাংকের একজন অংশীদার। আর অংশীদারের মালিকানা অর্জনের মাধ্যমে শর'ঈভাবে ব্যাংকের মালিকানা প্রতিষ্টিত হয়।
(সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজারি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী ) ।
সিদ্ধান্ত : লাইসেন্স সাধারণত দুই ধরনের :
ক. পেশাগত লাইসেন্স (professional license)
ও খ . ব্যবসায়িক লাইসেন্স (commercial license) ,যা আবার দুই ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. সুদি বা অবৈধ ব্যবসার লাইসেন্স ও ২ . বৈধ ব্যবসার লাইসেন্স।
প্রথম প্রকারের লাইসেন্স (পেশাগত লাইসেন্স) বিশেষ যোগ্যতা অর্জনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। ফলে তা অন্যের কাছে কোনোভাবে হস্তান্তর বা স্হানান্তর করা বৈধ নয়।
আর ব্যবসায়িক লাইসেন্স - এর ক্ষেত্রে সুদি বা অবৈধ ব্যবসার লাইসেন্সও ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রধান বৈধ নয়। ট্রেড লাইসেন্স -এর বিপরীতে কোনো ফি প্রদান করা হোক বা না হোক তা ভাড়াযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। বৈধ ব্যবসার লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রদান প্রসঙ্গে ওআইসি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত হলো
: প্রথমত, কমার্শিয়াল নাম, কমার্শিয়াল অ্যাড্রেস, ট্রেডমার্ক, স্বত্ব, আবিষ্কার,উদ্ভাবন এগুলো মালিকদের বিশেষ অধিকার এবং এগুলো ব্যবহারের জন্য বর্তমানে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী আর্থিক মূল্য প্রদান করতে হয়। শরী'আহ অনুযায়ী এসব অধিকার স্বীকৃত। সুতরাং এসব অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, কমার্শিয়াল নাম, কমার্শিয়াল অ্যাড্রেস,
ট্রেড মার্ক, স্বত্ব,আবিষ্কার, উদ্ভাবন এগুলো লেনদেন করা এবং আর্থিক মূল্যের বিনিময়ে এগুলোর হস্তান্তর ও স্হানান্তর বৈধ: যদি তাতে গারার, প্রতারণা, দোষত্রুটি গোপন করা থেকে মুক্ত থাকে।
তৃতীয়ত, লিখন, আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের অধিকার শরী'আহ অনুযায়ী সংরক্ষিত বিষয় এবং এদের মালিক এগুলো ব্যবহার করতে পারে। এসব অধিকার ক্ষুন্ন করা জায়েয নেই।
ওআইসি ফিকহ একাডেমির উক্ত সিদ্ধান্ত উল্লেখ
করে শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটি লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত অভিমত ব্যক্ত করে।
# রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন থাকলে লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রদান করা যাবে।
# ফটকাবাজারি, গারার, কোনোরকম অস্পষ্টতা বা প্রতারণাকে উৎসাহিত করবে এমন কোনো লাইসেন্স ক্রয় -বিক্রয় করা বা ভাড়ায় প্রদান বৈধ নয়।
# ব্যাংকের নামে মালিকানা অর্জন করা যায় না বলে তাতে বাই'মুরাবাহা বৈধ হবে না। তবে হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক পদ্ধতিতে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ের যৌথ মালিকানায় লাইসেন্স ক্রয় করে তা গ্রাহকের (অংশীদারের)
কাছে ভাড়ায় প্রদান করা যাবে। কারণ, লাইসেন্সের নাম ট্রান্সফারের মাধ্যমে এতে গ্রাহকের মালিকানা প্রতিষ্টিত হয় :
যিনি ব্যাংকের একজন অংশীদার। আর অংশীদারের মালিকানা অর্জনের মাধ্যমে শর'ঈভাবে ব্যাংকের মালিকানা প্রতিষ্টিত হয়।
(সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজারি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী ) ।
Subscribe to:
Posts (Atom)