Sunday, 25 August 2019

বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল কে এইচপিএসএম বিনিয়োগে রূপান্তর

বিষয় -৩৯  বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল বিনিয়োগ পাওনার বিপরীতে গ্রাহক প্রদত্ত সম্পদ এইচপিএসএম  -এ রূপান্তর করে তার ওপর বাজারে প্রচলিত প্রকৃত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আরোপ করা হলে লেনদেনটি ক্বালবুদ দায়িন বা দায়কে বিনিয়গে রূপান্তর বলে বিবেচিত  হবে, যা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। তবে সম্পদের ভাড়া যদি বাজারে প্রচলিত প্রকৃত ভাড়ার সমান হয় এবং গ্রাহক যদি সম্পদটির নির্ধারিত অংশ ইসলামী ব্যাংক থেকে বাজারমূল্যে ক্রয় করে নেয় তাহলে এ জাতীয় লেনদেন দূষণীয় নয়। এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, বিক্রয় এবং ভাড়া চুক্তি একটি অপরটির সাথে শর্তযুক্ত হতে পারবে না। বরং প্রতিটি চুক্তি স্বতন্ত্র হতে হবে।
(সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত  যথাক্রমে শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
 বিষয় -৪০ : ইসলামী ব্যাংকের বৃহদাংকের অনিয়মিত বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস (restructuring)  প্রসঙ্গে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা হলো, যেসব গ্রাহকের নিকট বাংকের অনিয়মিত (মেয়াদোত্তীর্ণ বা শ্রেণিকৃত) পাওনার পরিমাণ ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি তারা তাদের অনিয়মিত পাওনা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ( ইসলামী ব্যাংকের বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল)  বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। এক্ষেত্রে গ্রাহকের নিকট থেকে বর্ধিত সময়ের জন্য ব্যাংক তাদের তহবিল ব্যয় ( cost of fund)  প্লাস ১% এর বেশি হারে মুনাফা নিতে পারবে না। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের চলতি মূলধন বিনিয়োগ তথা বাই'মুরাবাহা কিংবা বাই'মুয়াজ্জালের ক্ষেত্রে ব্যাংক পণ্য ক্রয় করে তা গ্রাহকের নিকট মুনাফাসহ বিক্রয় করে থাকে এবং
উক্ত বিক্রয়মূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকের সাথে সাধারণত ১ বছরের চুক্তি করা হয়। কোনো গ্রাহক এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে শরী'আহ অনুযায়ী তার ওপর দ্বিতীয়বার মুনাফা আরোপ করা যায় না। কারণ পাওনার ওপর সময় বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত কিছু আদায়
করাই রিবা আন -নাসী'আহ বা রিবা আল -জাহিলিয়্যাহ। অন্যদিকে গ্রাহক যথাসময়ে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে উক্ত মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর ইসলামী ব্যাংক যে
ক্ষতিপূরণ ( compensation)  আরোপ করে তা
ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভূক্ত করা হয় না।
এমতাবস্হায় এ বিশাল অম্কের বিনিয়োগকে পুনর্বিন্যাস (restructure) করা না হলে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত বিনিয়োগ ও এর বিপরীতে প্রভিশনিং
বৃদ্ধি, নন -পারফর্মিং বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি,
বিনিয়োগ আয় হ্রাস, ব্যাংকের লাভজনকতা হ্রাস,
আমানতকারীদের লাভের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে না
পারলে অন্য ব্যাংকে তাদের চলে যাওয়া আশম্কাসহ ইসলামিক ব্যাংকে আরো বিভিন্ন
সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক বাই'মুরাবাহার ভিত্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করে
বিনিয়োগের পণ্য বিক্রয়ের পর ব্যাংকের পাওনা
পরিশোধ না করে তা দিয়ে স্হায়ী  বা ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ গড়ে তোলেন। আবার কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের ভিত্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণের পর
ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এমতাবস্হায় গ্রাহক ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের জন্য তার মালিকানাধীন স্হায়ী এবং ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ স্বপ্রণোদিত হয়ে যদি ব্যাংককে প্রদান করেন এবং ব্যাংক কর্তৃক সে সম্পদ অর্জনের পর তা গ্রাহকের নিকট
এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিক্রয় ও ভাড়ায় প্রদান
করা এবং উক্ত তহবিল দিয়ে গ্রাহক তার নামে
এইচপিএসএম বিনিয়োগ মঞ্জুর করত পূর্বের বাই'মুরাবাহা /বাই'মুয়াজ্জাল বিনিয়োগ হিসাব সমন্বয় করেন তাহলে এরূপ বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা শরী'আহসম্মত হবে কি না?
  সিদ্ধান্ত  : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের কোনো দায়কে রূপান্তর ( ক্বালবুদ দাইন) করা
সাধারণভাবে শরী'আহসম্মত নয়। তবে উদ্ভূত
পরিস্হিতির প্রেক্ষাপটে অনিয়মিত বিনিয়োগ
পূনর্বিন্যাস (restructuring) এবং পুনর্বাসনের
ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটি নিম্নরূপ অভিমত ব্যক্ত করে :
 ১ । এইচপিএসএম (HPSM) বিনিয়োগে ভাড়াযোগ্য সম্পদের অস্তিত্ব থাকলে উভয়পক্ষের
সম্মতিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোতে শরী'আহর কোনো আপক্তি নেই।
২ । চলতি মূলধন (working capital)  কিংবা অন্য কোনো বিনিয়োগ ( বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল ইত্যাদি) এর ক্ষেত্রে যেসব গ্রাহকের স্হায়ী বা ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদ রয়েছে
শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির কেস টু কেস অনুমোদনসাপেক্ষে ব্যাংক কর্তৃক সে সম্পদ অর্জনের পর তা গ্রাহকের নিকট এইচপিএসএম
পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে ভাড়ায় প্রদান করা
যেতে পারে :
      শর্তাবলি:
              ক. ব্যাংকের অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে গ্রাহকের নিকট সেই পরিমাণ স্হায়ী ও
ভাড়াযোগ্য সম্পদ বিদ্যমান থাকতে হবে যা দিয়ে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করা যায়।
  খ . গ্রাহক তার নিকট ব্যাংকের অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে স্হায়ী ও ভাড়াযোগ্য সম্পদ
স্বেচ্ছায় ব্যাংকের নিকট হস্তান্তর করবে।
 গ . প্রথমে গ্রাহক কর্তৃক প্রস্তাবিত সম্পদ নির্দিষ্ট
করে বাজারমূল্য নির্ধারণ করবে ও তার ওপর
ব্যাংক মালিকানা অর্জন করবে।
 ঘ. সম্পদের মূল্য (বিক্রয়মূল্য) ব্যাংক কর্তৃক মালিকানা অর্জনকালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি হবে না।
ঙ . এক্ষেত্রে আরোপিত ক্ষতিপূরণকে কোনোক্রমেই মূলধনে রূপান্তর (capitalize)  করা যাবে না।
চ . গ্রাহকের নিকট থেকে উক্ত সম্পদের ওপর ব্যাংকের মালিকানা অর্জন এবং তার নিকট বিক্রয় ও ভাড়া প্রদান (এইচপিএসএম)  চুক্তি একটি অপরটির সাথে শর্তযুক্ত হবে না।
ছ . নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতার মতো
জরুরি ক্ষেত্রে এই অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।
 জ . জরুরি প্রয়োজনীয়তা  শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকের বাই'মুরাবাহা / বাই'মুয়াজ্জাল দায়কে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিতে হবে। অর্থাৎ উক্ত অনুমোদনকে সাধারণ নীতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
৩ । যেক্ষেত্রে ভাড়াযোগ্য কোনো সম্পদের অস্হিত্ব নেই সেক্ষেত্রে গ্রাহকের চলতি মূলধন দেনা কোনোক্রমেই এইচপিএসএম -এ রূপান্তর করা
যাবে না।
( সূত্র: ১৪ মে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজারি কমিটির ১৮৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
 # স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তর
বিষয়-৪১  : স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত  স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগ চুক্তির মধ্যে এরূপ শর্ত বা ধারা সংযোজিত না থাকলে অর্থাৎ চুক্তিতে সংল্শিষ্ট  কর্মকর্তা -কর্মচারীর পদত্যাগের পর কিংবা বরখাস্তের পর তার স্টাফ হাউজ বিল্ডিং বিনিয়োগকে সাধারণ কমার্শিয়াল বিনিয়োগে রূপান্তরের শর্ত না থাকলে এ রূপান্তর শরী'আহসম্মত হবে না। কারণ মুসলিমগণ চুক্তিবদ্ধ শর্তসমূহ পরিপালন করতে বাধ্য। তবে
মুশারাকা পদ্ধতিতে উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে এরূপ রূপান্তর করা হলে তাতে শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই।
( সূত্র: ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।


No comments:

Post a Comment