বরকতময় উপরিউক্ত বিয়েতে তিন খলীফায়ে রাশেদের যারপরনাই প্রচেষ্টা ও ভূমিকার কথা ইতোপূর্বে বিবৃত হয়েছে। তাঁদের স্বাক্ষী হওয়া ও
দাওয়াতপ্রাপ্তির দালিলিক বর্ণনাও বিস্তারিত আকারে আলোচনা হয়েছে। এক্ষণে আমরা খাতুনে জান্নাতের স্বামীগৃহে যাত্রার আলোচনায় যাব । জানব উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) ও উম্মে সালাম (রাঃ )এর এক্ষেত্রে সুচারু ব্যবস্হাপনার কতাও । আলোচনাটি শুরু হবে শীয়াা বন্ধুদের প্রামাণ্য গ্রন্হ থেকে । পরিশেষে থাকবে সুন্নীদের গ্রন্হ থেকে নির্মোহ আলোচনাও।
মানাকেবে খারযামীর ভাষ্যঃ
উম্মে আয়মান (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি নবী করীম (সা:) এর খেদমতে হযরত আলী (রাঃ ) কে
ডেকে পাঠালাম। তিনি তাশরীফ এনে বললেন -
"আমি যখন ঘরে প্রবেশ করলাম তখন -রাসূলুল্লাহ (সা:) হযরত আয়েশা (রা:) এর ঘরে প্রবেশ করছিলেন । (আমি আসায় ) উম্মৎ জননীগণ উঠে অন্য কামরায় চলে গেলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) এর সামনে লজ্জায় কুকড়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন, 'আলী! তোমার স্ত্রীকে ঘরে তুলতে চাও কী? আমি বললাম, আমার বাবা -মা আপনার চরণে উৎসর্গিত হোক হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার মেহেরবাণী নবী করীম (সা:) বললেন, ইনশাআল্লাহ আজ কিংবা কালকের মধ্যেই আমি ওকে স্বামীগৃহে পাঠাব। রাসূলুল্লাহ (সা:) এর দরবার থেকে এই সদর অনুমতির আনন্দ নিয়ে আমি যখন ফিরছিলাম তখন তিনি
উম্মৎ জননীদের ডেকে বললেন , তোমরা ফাতেমাকে স্বাক্ষীগৃহে প্রেরণের ব্যবন্হা করো ।
উত্তম পোষাকে তাঁকে সজ্জিত করো । সুগন্ধি লাগাও তাঁর দেহে। ফাতেমার বাসরে ফুল বিছানা বিছিয়ে দাও। উম্মৎ জননীগণ নবী করীম (সা:) এর নির্দেশ মোতাবেক তাই করলেন।
বিশিষ্ট শীয়া ভাষ্যকার শায়খ আবূ জাফর তূসী তার 'আমালী' কিতাবে বিষয়টির বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্য -
অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা:) উম্মৎ জননীদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, কে কে এখানে আছে? উম্মে সালামাহ (রাঃ ) বলেন, জ্বী আমি উম্মে সালামাহ আর এ যয়নব। অমুক অর্থাৎ আয়েশা ও হাফসা (রাঃ) । তিনি বললেন, আমার মেয়ে ফাতেমা ও চাচাত ভাই আলীকে তোমরা বিয়ের সাজে সাজাও এবং তাদের বাসর তৈরী করো । উম্মে সালামাহ (রাঃ) বললেন, ওদেরকে কোন ঘরে দেব হে আল্লাহর রাসূল (সা:)। ইরশাদ হলো, কেন তোমার ঘরেই। পরে উম্মৎ জননীদের হুকুম দিলেন, বাসর ঘর সাজাও, অবশ্যই তা ওদের মর্যাদামাফিকই ।
এবার আসুন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের কিতাবসমূহের প্রতি দৃষ্টি বুলিয়ে নেওয়া যাক। ইবনে মাজাহ শরীফের ওয়ালিমা অধ্যায়ের একটি
হাদীসে বর্ণিত আছে-
"ইমাম শাবী মাসরূক থেকে তিনি হযরত আয়েশা
(রাঃ) ও উম্মে সালামাহ (রাঃ ) থেকে বর্ণনা করেন যে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) ও উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাদের
নির্দেশ করেন যে, তোমরা ফাতেমাকে আলীর ঘরে তুলে দেবার ব্যবস্হা করো। আমরা বাতহা উপত্যকা থেকে মাটি এনে বাসর ঘর লেপন করলাম । নিজ হাতে আমরা খেজুরের ছাল ভরে
দুটি গদিও বানালাম। খেজুর ও মুনাক্কা দ্বারা বিশেষ খাবারও প্রস্তত করলাম। ঘরের কোণে 'একটি কাঠ গেড়ে দেয়া হলো যাতে তাতে কাপড় ও মশক লটকে দেয়া যায়। হযরত আয়েশা (রাঃ )
ও উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, আমরা ফাতেমার
শাদীর মত উত্তম শাদী আর দেখিনি।
ইবনে মাজাহ শরীফের হাদীস পেশ করার পর আমরা পুনরায় বিশিষ্ট শীয়া ভাষ্যকার আবূ জাফর তূসীর 'একটি ভাষ্য তুুুলে ধরছি, যাতে একটি নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। তথ্যটি সুন্নীদের ক্ছে অভিনব না হলেও শীয়া বন্ধুদের কাছে অতি
অবশ্যই অভিনব মনে হবে -
"হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর স্বামীগৃহে আগমন হয় ওসমান (রাঃ) এর স্ত্রী নবী নন্দিনী রুকাইয়া (রাঃ)
এর মৃত্যুর ১৬ দিন পরে ঘটনাটি বদর যুদ্ধের ১৬ দিন পরের। (বদর যুদ্ধ ২য় হিজরীতে হয়েছিল ।
শায়খ আবূ জাফর তূসীর এই বর্ণনা দ্বারা জানা গেল, হযরত রুকাইয়া (রাঃ) যিনি হযরত নবী করীম (সা:) এর সাহেবযাদী ও ফাতেমা (রাঃ ) এর বোন । তিরি হযরত ওসামন (রাঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। বদর যুদ্ধ শেষে তিনি ইন্তেকাল করেন।
সার -সংক্ষেপঃ
উপরিউক্ত শীয়া -সুন্নী কিতাবের সার -নির্যাস নিম্নরুপঃঃ
১। হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর স্বামীগৃহে আগমন ও বধু -বিদায়ের পরামর্শটি হযরত আয়েশা (রাঃ) এর গৃহেই সম্পন্ন হয়েছিল।
২। নবী করীম (সা:) হযরত উম্মে সালামাহ (রাঃ) ও হযরত আয়েশা (রাঃ) কেই ব্যবস্হানার গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন ।
৩। বধু -বিদায়ের ব্যবস্হাপনা যেমনঃ ঘরদোর পরিচ্ছন্নকরণ, লেপা, গদীওয়ালা বিছানা তৈরী করা, খাদ্য -খাবার তৈরী করা, খেজুর -মুনাক্কা প্রস্তুতি, মিঠাই -মন্ড বানানো, ঘরে আলনা লাগানের মত ইত্যকার সকল দায়িত্ব উম্মৎ জননী হযরত উম্মে সালামাহ (রাঃ) ও হযরত আয়েশা (রাঃ) এর স্কন্ধেই অর্পিত হয়েছিল। এর দ্বারা তাঁদের মধ্যকার অন্তরঙ্গতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে নয় কী। তাই বেশ জোর গলায়ই বলা যায়, তাঁদের মাঝে কোন প্রকার মনোমালিন্য, হীনমন্যতা কিংবা কোন হিংসা -দ্বেষ ছিলনা। সুতরাং সাহাবায়ে কেরামের পারস্পরিক মতানৈক্যের যে উপাখ্যান বাজারে চাউর হয়ে আছে তা নিছক গাল -গল্প ছাড়া কিছু নয়।
Tuesday, 30 April 2019
Monday, 29 April 2019
ফাতেমার (রাঃ) বিয়ের স্বাক্ষী
ইতোপূর্বে আমরা হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে -বাজার নিয়ে কথা বলছিলাম । এ প্রসংগে মিদ্দীকি,ফারুকী ও ওসমানি অবদান ও ভূমিকার কথাও উঠে এসেছিল । এবার আমরা হযরত আবু বকর (রাঃ ), ওমর ( রাঃ ) ও ওসমান (রাঃ) এর উক্ত বিবাহে দাওয়াতপ্রাপ্তি ও স্বাক্ষীী হওয়ার বর্ণনা দেব। বলব এগুলো সবই তাঁদের মধ্যকার অন্তরঙ্গতা ও চমৎকার বোঝাপড়ার অতি উত্তম
দলিল । বরাবারের মত এ ক্ষেত্রে অমর সর্বাগ্রে শীয়া বন্ধুদের নির্ভরযোগ্য কিতাবের বরাত টানব ।
পরে আনব সুন্নীদের বর্ণনাও।
প্রথম শ্রেণীর বর্ণনা
১। মানাকেবে খারযামী ;'আলী (রাঃ) এর সাথে ফাতেমার বিয়ে দান প্রসংগে' উল্লেখ করা হয়েছে -
"হযরত আলী (রাঃ ) মোরতাযা (রাঃ) বলেন, ( নবী করীম (সা:)এর সাথে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে বিষয়ে কথাবার্তার পরে ) আমি খুবই খুবই আনন্দিত ও পুলকিত ছিলাম । পথিমধ্যে হযরত আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) কে আসতে দেখলাম । তাঁরা আমার কাছে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে আমি বললাম , রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাকে
বলেছেন আল্লাহ পাক সাত আসমানের ওপর থেকে আমার ও ফাতেমার বিয়ে করিয়ে দিয়েছেন।
তাই রাসূলুল্লাহ (সা:) এর ঘর থেকে বেরিয়ে আমি আপনাদেরকে সেই সুসংবাদই দিতে যাচ্ছি। সংবাদটি শুনে হযরত আবূ বকর ও ওমর (রাঃ )
নেকহায়াতেই খোশ হলেন এবং আমার সাথে মসজিদে নববীতে এলেন ।আমরা মসজিদে আসতে না আসতেই নবী করীম (সা:) হাস্যমুখে আমাদের পেছনে পেছনে এসে পড়লেই ।নবী করীম (সা:) এর চেহারা মোবারক খুশীতে চকচক করছিল। তিনি হযরত বেলাল (রাঃ) কে ডেকে বললেন, আনসার ও মুহাজিরদের জমায়েত কর।
হযরত বেলাল (রাঃ) এর আমন্ত্রনে সাহাবায়ে কেরাম জামাত হলেন । নবী করীম (সা:) মিম্বারে
ওঠলেন । হামদ ও ছানা পাঠ করে বললেন , মুসলিম বন্ধুগণ! জিবরীল এই মাত্র আমার কাছে এসে সংবাদ দিলেন , আল্লাহ তা'আলা বায়তুল মামুরের কাছে সকল ফেরেশতাকে জমায়েত করে বলেছেন, তোমরা স্বাক্ষী থাকো আমি ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সা:)এর সাথে হযরত আলী (রাঃ) এর বিয়ে করিয়ে দিয়েছি। তিনি আমাকে নির্দেশ
করেছেন, যমীনেও যেন আমি আমার মেয়ের বিয়ে
পড়িয়ে দিই । তোমরা সকলে এই বিয়ের স্বাক্ষী করছি ।
"কাশফুল গুম্মাহ' কিতাবে উক্ত রেওয়ায়েতের বাইরে আরেকটি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে । উক্ত বর্ণনার পাশাপাশি নতুন কিছু কথা
সেখানে বিদ্যমান । এই বর্ণনাতে নবী করীম (সা:)
বলেন, তোমরা স্বাক্ষী থাকো, 'আল্লাহ পাক ফাতেমা ও আলীর বিয়েতে ৪০০ মিছকাল মোহর
নির্ধারণ করেছেন' ।
সার -নির্যাস
১। হযরত ফাতেমা (রাঃ ) এর বিয়েতে আবূ বকর (রাঃ) , ওমর (রাঃ ) ও ওসমান (রাঃ ) দাওয়াতপ্রাপ্ত ছিলেন ।
২। উক্ত তিন সাহাবীসহ মদীনায় উপস্হিত ওই সময়কাল সকল সাহাবীই এই মুবারক বিয়ের স্বাক্ষী হয়েছিলেন ।
প্রসংগত উল্লেখ্য, যাদের সাথে টানাপোড়ন ও মনোমালিন্য থাকে তাদেরকে কখনোই কী কেউ বিয়েতে দাওয়াত দিয়ে স্বাক্ষী রাখে ?
$ ফাতেমা (রাঃ ) এর বিয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ভাষ্য
এক্ষণে আমরা উপরিউক্ত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের কিতাবের উদ্ধৃতি পেশ করব, যাতে বিষয়টি সতলের কাছে পরিস্কার হয়ে যায়।
এক। হযরত আনাস (রাঃ) এর ভাষ্যঃ
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলে আকরাম (সা:) আমাকে বললেনঃঃ
"হযরত আনাস (রাঃ ) বলেন, নবী করীম (সা:)
আমাকে বলেন, যাও আবূ বকর, ওমর, ওসমান, আবদুর রহমান ইবনে আওফ, সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, তালহা ও যুবায়েরসহ কিছু সাহাবীকে ডেকে পাঠাও । আনাস (রাঃ) সকলকে ডেকে পাঠালেন । এরা এসে সস্হানে উপবিষ্ট হলেন ।
এদিকে হযরত আলী (রাঃ) নবী করীম (সা:) এর
নির্দেশ মোতাবেক কোনো কাজে বেরিয়ে পড়েছিলেন । নবী করীম (সা:) বিয়ের খুৎবা শুরুকরলেন। এই খুৎবার মাঝে তিনি বললেন,
ফাতেমা -আলীর শুভ বিবাহটি আল্লাহর নির্দেশেই আমি সম্পন্ন করতে যাচ্ছি । কাজেই তোমরা স্বাক্ষী থাকো আল্লাহর নির্দেশটি পালন করার ।
চারশ মিছকাল রূপা এই বিয়ের মোহর। পরে খেজুরের থলে বিছিয়ে সামনে রাখলেন । বললেন , এই খেজুর সকলের মাঝে ছিটিয়ে দাও। তাঁর পরস্পরে ছিটানো খেজুরে মেতে গেলেন। ইতোমধ্যে হযরত আলী (রাঃ ) এসে হাজির । রাসূলুল্লাহ (সা:) তাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, ৪০০ মিছকাল রূপির বিনিময়ে ফাতেমাকে তোমার হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ করেছেন আল্লাহ তা'আলা । তুমি রাযী আছো তো আলী? হযরত আলী (রাঃ ) বললেন , হ্যাঁ! আমি রাযী হে আল্লাহর রাসূল ! আমি সম্মত আছি ।
মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া কিতাবেও এই মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত আছে । আল্লামা মুহিবুদ্দিন বিহারীও তাঁর প্রণীত 'রিয়াজুুন নাজরাহ ফী মানাকিবিল আশরাতিল মুবাশশারাহ' -এ আবুল
খায়ের কাযবিনীর সূত্রে এ মর্মের কাছাকাছি একটি বর্ণনা দেন। এছাড়া আরো অনেক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত।
# সতর্কীকরণশঃ
হযরত ফাতেমা -আলীর বিয়ের
ক্ষেত্রে যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন যে,
('আল্লাহ তা'আলা ফাতেমার সাথে আলীকে বিয়ে
দিতে আমাকে নির্দেশ করেছেন) সেভাবে হযরত
ওসমান ও উম্মে কুলসুম (নবী করীম (সা:) এর সেজো সাহেবযাদী যিনি হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর চেয়ে বয়সে বড় ) এর বিয়ের ক্ষেত্রেও বলেছিলেন।
"আমি ঐশী নির্দেশেই উম্মে কুলসুমের সাথে
ওসমানের বিয়ে সুসম্পন্ন করেছি "।
এ কথার উদ্দেশ্য এই যে, নবী নন্দীনির কলিজার
টুকরা হযরত ফাতেমার বিয়ে যেভাবে ঐশী নির্দেশে সুসম্পন্ন হয়েছিল সেভাবে তার অপর এক বোন হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর বিয়েও সেই ঐশী নিয়মেই হযরত ওসমান (রাঃ ) এর সাথো
সুসম্পন্ন হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহর নির্দেশে এ দু'
আত্মীয়তা সমান্তরাল যাতে কোনও ভিন্নতা নেই ।
ব্যাপারটি ভেবে দেখার মত নয় কী ?
দলিল । বরাবারের মত এ ক্ষেত্রে অমর সর্বাগ্রে শীয়া বন্ধুদের নির্ভরযোগ্য কিতাবের বরাত টানব ।
পরে আনব সুন্নীদের বর্ণনাও।
প্রথম শ্রেণীর বর্ণনা
১। মানাকেবে খারযামী ;'আলী (রাঃ) এর সাথে ফাতেমার বিয়ে দান প্রসংগে' উল্লেখ করা হয়েছে -
"হযরত আলী (রাঃ ) মোরতাযা (রাঃ) বলেন, ( নবী করীম (সা:)এর সাথে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে বিষয়ে কথাবার্তার পরে ) আমি খুবই খুবই আনন্দিত ও পুলকিত ছিলাম । পথিমধ্যে হযরত আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) কে আসতে দেখলাম । তাঁরা আমার কাছে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে আমি বললাম , রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাকে
বলেছেন আল্লাহ পাক সাত আসমানের ওপর থেকে আমার ও ফাতেমার বিয়ে করিয়ে দিয়েছেন।
তাই রাসূলুল্লাহ (সা:) এর ঘর থেকে বেরিয়ে আমি আপনাদেরকে সেই সুসংবাদই দিতে যাচ্ছি। সংবাদটি শুনে হযরত আবূ বকর ও ওমর (রাঃ )
নেকহায়াতেই খোশ হলেন এবং আমার সাথে মসজিদে নববীতে এলেন ।আমরা মসজিদে আসতে না আসতেই নবী করীম (সা:) হাস্যমুখে আমাদের পেছনে পেছনে এসে পড়লেই ।নবী করীম (সা:) এর চেহারা মোবারক খুশীতে চকচক করছিল। তিনি হযরত বেলাল (রাঃ) কে ডেকে বললেন, আনসার ও মুহাজিরদের জমায়েত কর।
হযরত বেলাল (রাঃ) এর আমন্ত্রনে সাহাবায়ে কেরাম জামাত হলেন । নবী করীম (সা:) মিম্বারে
ওঠলেন । হামদ ও ছানা পাঠ করে বললেন , মুসলিম বন্ধুগণ! জিবরীল এই মাত্র আমার কাছে এসে সংবাদ দিলেন , আল্লাহ তা'আলা বায়তুল মামুরের কাছে সকল ফেরেশতাকে জমায়েত করে বলেছেন, তোমরা স্বাক্ষী থাকো আমি ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সা:)এর সাথে হযরত আলী (রাঃ) এর বিয়ে করিয়ে দিয়েছি। তিনি আমাকে নির্দেশ
করেছেন, যমীনেও যেন আমি আমার মেয়ের বিয়ে
পড়িয়ে দিই । তোমরা সকলে এই বিয়ের স্বাক্ষী করছি ।
"কাশফুল গুম্মাহ' কিতাবে উক্ত রেওয়ায়েতের বাইরে আরেকটি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে । উক্ত বর্ণনার পাশাপাশি নতুন কিছু কথা
সেখানে বিদ্যমান । এই বর্ণনাতে নবী করীম (সা:)
বলেন, তোমরা স্বাক্ষী থাকো, 'আল্লাহ পাক ফাতেমা ও আলীর বিয়েতে ৪০০ মিছকাল মোহর
নির্ধারণ করেছেন' ।
সার -নির্যাস
১। হযরত ফাতেমা (রাঃ ) এর বিয়েতে আবূ বকর (রাঃ) , ওমর (রাঃ ) ও ওসমান (রাঃ ) দাওয়াতপ্রাপ্ত ছিলেন ।
২। উক্ত তিন সাহাবীসহ মদীনায় উপস্হিত ওই সময়কাল সকল সাহাবীই এই মুবারক বিয়ের স্বাক্ষী হয়েছিলেন ।
প্রসংগত উল্লেখ্য, যাদের সাথে টানাপোড়ন ও মনোমালিন্য থাকে তাদেরকে কখনোই কী কেউ বিয়েতে দাওয়াত দিয়ে স্বাক্ষী রাখে ?
$ ফাতেমা (রাঃ ) এর বিয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ভাষ্য
এক্ষণে আমরা উপরিউক্ত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের কিতাবের উদ্ধৃতি পেশ করব, যাতে বিষয়টি সতলের কাছে পরিস্কার হয়ে যায়।
এক। হযরত আনাস (রাঃ) এর ভাষ্যঃ
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলে আকরাম (সা:) আমাকে বললেনঃঃ
"হযরত আনাস (রাঃ ) বলেন, নবী করীম (সা:)
আমাকে বলেন, যাও আবূ বকর, ওমর, ওসমান, আবদুর রহমান ইবনে আওফ, সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, তালহা ও যুবায়েরসহ কিছু সাহাবীকে ডেকে পাঠাও । আনাস (রাঃ) সকলকে ডেকে পাঠালেন । এরা এসে সস্হানে উপবিষ্ট হলেন ।
এদিকে হযরত আলী (রাঃ) নবী করীম (সা:) এর
নির্দেশ মোতাবেক কোনো কাজে বেরিয়ে পড়েছিলেন । নবী করীম (সা:) বিয়ের খুৎবা শুরুকরলেন। এই খুৎবার মাঝে তিনি বললেন,
ফাতেমা -আলীর শুভ বিবাহটি আল্লাহর নির্দেশেই আমি সম্পন্ন করতে যাচ্ছি । কাজেই তোমরা স্বাক্ষী থাকো আল্লাহর নির্দেশটি পালন করার ।
চারশ মিছকাল রূপা এই বিয়ের মোহর। পরে খেজুরের থলে বিছিয়ে সামনে রাখলেন । বললেন , এই খেজুর সকলের মাঝে ছিটিয়ে দাও। তাঁর পরস্পরে ছিটানো খেজুরে মেতে গেলেন। ইতোমধ্যে হযরত আলী (রাঃ ) এসে হাজির । রাসূলুল্লাহ (সা:) তাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, ৪০০ মিছকাল রূপির বিনিময়ে ফাতেমাকে তোমার হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ করেছেন আল্লাহ তা'আলা । তুমি রাযী আছো তো আলী? হযরত আলী (রাঃ ) বললেন , হ্যাঁ! আমি রাযী হে আল্লাহর রাসূল ! আমি সম্মত আছি ।
মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া কিতাবেও এই মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত আছে । আল্লামা মুহিবুদ্দিন বিহারীও তাঁর প্রণীত 'রিয়াজুুন নাজরাহ ফী মানাকিবিল আশরাতিল মুবাশশারাহ' -এ আবুল
খায়ের কাযবিনীর সূত্রে এ মর্মের কাছাকাছি একটি বর্ণনা দেন। এছাড়া আরো অনেক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত।
# সতর্কীকরণশঃ
হযরত ফাতেমা -আলীর বিয়ের
ক্ষেত্রে যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন যে,
('আল্লাহ তা'আলা ফাতেমার সাথে আলীকে বিয়ে
দিতে আমাকে নির্দেশ করেছেন) সেভাবে হযরত
ওসমান ও উম্মে কুলসুম (নবী করীম (সা:) এর সেজো সাহেবযাদী যিনি হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর চেয়ে বয়সে বড় ) এর বিয়ের ক্ষেত্রেও বলেছিলেন।
"আমি ঐশী নির্দেশেই উম্মে কুলসুমের সাথে
ওসমানের বিয়ে সুসম্পন্ন করেছি "।
এ কথার উদ্দেশ্য এই যে, নবী নন্দীনির কলিজার
টুকরা হযরত ফাতেমার বিয়ে যেভাবে ঐশী নির্দেশে সুসম্পন্ন হয়েছিল সেভাবে তার অপর এক বোন হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর বিয়েও সেই ঐশী নিয়মেই হযরত ওসমান (রাঃ ) এর সাথো
সুসম্পন্ন হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহর নির্দেশে এ দু'
আত্মীয়তা সমান্তরাল যাতে কোনও ভিন্নতা নেই ।
ব্যাপারটি ভেবে দেখার মত নয় কী ?
Sunday, 28 April 2019
ফাতেমা (রাঃ) -এর বিয়েতে আবূ বকর (রাঃ) ও ওসমান (রাঃ) এর অবদান
ইতোপূর্বে আমরা হযরত আলী ও ফাতেমা (রাঃ ) এর বিয়েতে আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) এর অকুন্ঠ সহযোগিতা ও অকৃত্রিম সহমর্মিতার কথা জেনেছি। এবার দেখব এই মহতি বিয়ের খর্চা ও সাজ -সরঞ্জাম গোছাতে তাঁদের ভুমিকা কী ছিল ?
এ ক্ষেত্রে সিদ্দীকে আকবর (রাঃ) ও ওসমান গনী (রাঃ ) এর ভূমিকা ও অবদান প্রনিধানযোগ্য। এ প্রসংগে শীয়াদের সুবিখ্যাত পণ্ডিত আমালিয়ে শায়খ তুসী, মানাকেবে খারযামী, মানাকেবে ইবনে শাহর আশোব, কাশফুল গুম্মাহ, বেহারুল আনোয়ার, জালাউল য়ুউন প্রমুখের কিতাবের উদ্ধৃতি দেখা যেতে পারে। উপরিউক্ত কিতাবসমূহের মধ্যে 'আমালী' কিতাবখানি খুবই নির্ভরযোগ্য। এতে শায়খ তূসী হযরত আলী (রাঃ )-এর ভাষ্য এভাবেই তুলে ধরেছেন -- --
হযরত আলী (রাঃ) বলেন , রাসূল (সা.) আমাকে আদেশপূর্বক বললেন, 'আলী ? যাও, বিয়ের খরচাদি যোগানোর জন্য তোমার বর্মটি বেচে দাও । আমার বর্মটি বিক্রি করলাম এবং এর মূল্য প্রিয়নবী (সা.)-এর কাছে সোপর্দ করলাম। তিনি বেলাল (রাঃ ) -কে ডেকে মুঠ ভরে তাকে দিয়ে বললোন, যাও? ফাতেমার জন্য খোশবু ক্রয় করে নিয়ে এসো । আরেক মুঠ ভরে আবূ বকর (রাঃ) -কে দিয়ে বললেন, ফাতেমার জন্য (বিয়ের ) অন্যান্য সাজ সরঞ্জাম কিনে নাও । আম্মার ইবনে ইয়াসের (রাঃ) ও অন্যান্য সাথীসহ তিনি রওয়ানা হলেন । সকলে বাজারে গেলেন। তারা যে জিনিষটিই কিনতেন সর্বাগ্রে তা আবূ বকর (রাঃ )
এর সামনে পেশ করতেন। তিনি যুৎসই মনে করলে সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলতেন। তাঁরা নিম্নেবর্ণিত জিনিষসমূহ ক্রয় করের,
সাত দিরহামে একটি কামিজ, চার দিরহামে একটি ওড়না ,একটি খয়বারী চাদর, একটি রেডিমেট টেবিল, দুটি বসার গদী, একটি গদিতে খেজুরে ভরা ছিল । অপর গদিটি ভেড়ার পশম দ্বারা পরিপূর্ণ। ইযখির ঘাসভর্তি একটি তোষকে ছিল। ছিল একটি পশমের বিছানার চাদর। চামড়ার একটি মশক, দুধ রাখার একটি কাষ্ঠপত্র । সবুজ রংয়ের একটি ঘড়া ও মাটির একটি কলসও ছিল । মাল -সামানা ক্রয় করার পর হযরত আবূ বকর (রাঃ ) নিজে কিছু বহন করেন। বাদবাকি গুলো অন্যান্য সঙ্গী -সাথীরা কাঁধে তুলে নেন ।এগুলো সবই রাসূল (সা.)- এর দরবারে পেশ করা হয় । তিনি এগুলো হাত দ্বারা ছুঁয়ে দোয়া করেন । বলেন, হে আল্লাহ ? আপনি আহলে বাইতের মাঝে বরকত দিন ।
শীয়াদের অন্যান্য কিতাবে এও আছে যে, হযরত আলী (রাঃ) বিয়ের খরচ মেটাতে তার প্রিয় বর্মটি হযরত ওসমান গণী (রাঃ ) এর কাছে বিক্রয় করে দেন। হযরত ওসসান গনী বর্মটি মূল্যশোধ করার
পর বর্মটি তাঁকে পুনরায় ফেরৎ দের। হযরত ওসমান (রাঃ ) এর এই অশ্রুতপূর্ব ত্যাগের দরুন রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দু'আ করেন। এই রেওয়ায়েতটি শীয়াদের বিখ্যাত কিতাব 'আখতাবে খারজামী, কাশফুল গুম্মাহ -এ বিস্তারিত আকারে লিপিবদ্ধ আছে । বেহারাল আনোয়ারেও ঘটিনাটি বিবৃত ।
মানাকেবে খারযামীর ভাষ্য
হযরত আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (সা.) আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার বর্মটি বিক্রি করে এর মূল্য আমার নিকট সোপর্দ কর । তদ্দারা তোমার ও ফাতেমার বিয়ের সাজ -সরঞ্জাম খরিদ করব । আমি বর্মটি নিয়ে মদীনার বাজারে গেলাম। ৪০০ দিরহামে সেটি হযরত ওসমান (রাঃ ) এর কাছে বিক্রি করলাম। বর্মটি হস্তান্তর করার পর ওসমান (রাঃ) সেটি গ্রহণ করলেন আর আমি গ্রহণ করলাম এর মূল্য। ওসমান (রাঃ) বললেন , এই বর্মটির অধিকার একমাত্র আমারই তো নাকি। আমি বললাম , অবশ্যই । উসমান (রাঃ) বললেন , তাহলে নিন, এটি আপনাকে হাদিয়া দিলাম । হযরত আলী (রাঃ) বললেন, আমি বর্ম ও এর মূল্য উভয়টিই নিলাম এবং রাসূল (সা:) এর দরবারে পেশ করলাম । রাসূল (সা:) হযরত ওসমান (রাঃ ) এর জন্য দু 'আ করলেন। পরে হযরত আবু বকর (রাঃ ) কে ডেকে তাকে এক মুঠি দেরহাম দিয়ে বললেন, এ দিয়ে ফাতেমার ঘর -গৃহস্হলীর সামগ্রী খরিদ কর। হযরত সালমান ফারসি (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ ) আবূ বকর (রাঃ ) এর সাথে গেলেন। উদ্দেশ্য, তাকে সাহায্য করা। হযরত আবূ বকর (রাঃ ) বলেন, রাসূল (সা:) আমাকে ৬৩ দিরহাম দিয়েছিলেন । বাজারে গিয়ে আমি একটি মিসরী বিছানা, একটি চামড়ার গদি, চামড়ার তোষক যার ভেতর খেজুরের ছাল দ্বারা পরিপূর্ণ, একটি খয়রী চাদর , পানির মশক, ঘড়া , কলস ও একটি ওযুর বদনা ক্রয় করি। পশমের একটি পাতলা কাপড়ও ছিল এর মাঝে। হযরত আবূ বকর (রাঃ ) বলেন, এই সামগ্রীসমূহের কিছু আমি আর কিছু হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) আর কিছু বিলাল (রাঃ )বহন করেছিলেন।
এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়
হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের সামগ্রী হযরত ওসমান (রাঃ ) -ই দান করা । যা তিনি হাদিয়া ও তোহফা স্বরূপ দিয়েছিলেন। এই আত্মদানের অস্বীকৃতিস্বরূপ নবী করীম (সা:) তাঁকে দু 'আও করেছিলেন। তিনি বিয়ে বাজারের পুরো খরচের
যোগানদাতা। এর দ্বারা হযরত ওসমান (রাঃ) ও আলী (রাঃ) -এর মধ্যকার সখ্যতার দিকটি ফুটিয়ে তোলে নয় কি ? আর সিদ্দীকে আকবার (রাঃ) এর কেনাকাটা ও তা নিজে বহন করে নিয়ে আসার ব্যাপারটি তো বলাই বাহুল্য।
উপরিউক্ত বর্ণনাসমূহের সবই শীয়াদের মধ্যকার সর্বজনগ্রাহ্য বিজ্ঞ ওলামাদর। এদের প্রতি শীয়াদের অগাধ আস্হা ও শ্রদ্ধা। তাঁদেরই বর্ণনায়
কত সুন্দরভাবে উঠে এসেছে খোলাফায়ে রাশেদা ও নবী পরিবারের অকৃত্রিম ভালবাসার কাহিনী।
এ ক্ষেত্রে সিদ্দীকে আকবর (রাঃ) ও ওসমান গনী (রাঃ ) এর ভূমিকা ও অবদান প্রনিধানযোগ্য। এ প্রসংগে শীয়াদের সুবিখ্যাত পণ্ডিত আমালিয়ে শায়খ তুসী, মানাকেবে খারযামী, মানাকেবে ইবনে শাহর আশোব, কাশফুল গুম্মাহ, বেহারুল আনোয়ার, জালাউল য়ুউন প্রমুখের কিতাবের উদ্ধৃতি দেখা যেতে পারে। উপরিউক্ত কিতাবসমূহের মধ্যে 'আমালী' কিতাবখানি খুবই নির্ভরযোগ্য। এতে শায়খ তূসী হযরত আলী (রাঃ )-এর ভাষ্য এভাবেই তুলে ধরেছেন -- --
হযরত আলী (রাঃ) বলেন , রাসূল (সা.) আমাকে আদেশপূর্বক বললেন, 'আলী ? যাও, বিয়ের খরচাদি যোগানোর জন্য তোমার বর্মটি বেচে দাও । আমার বর্মটি বিক্রি করলাম এবং এর মূল্য প্রিয়নবী (সা.)-এর কাছে সোপর্দ করলাম। তিনি বেলাল (রাঃ ) -কে ডেকে মুঠ ভরে তাকে দিয়ে বললোন, যাও? ফাতেমার জন্য খোশবু ক্রয় করে নিয়ে এসো । আরেক মুঠ ভরে আবূ বকর (রাঃ) -কে দিয়ে বললেন, ফাতেমার জন্য (বিয়ের ) অন্যান্য সাজ সরঞ্জাম কিনে নাও । আম্মার ইবনে ইয়াসের (রাঃ) ও অন্যান্য সাথীসহ তিনি রওয়ানা হলেন । সকলে বাজারে গেলেন। তারা যে জিনিষটিই কিনতেন সর্বাগ্রে তা আবূ বকর (রাঃ )
এর সামনে পেশ করতেন। তিনি যুৎসই মনে করলে সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলতেন। তাঁরা নিম্নেবর্ণিত জিনিষসমূহ ক্রয় করের,
সাত দিরহামে একটি কামিজ, চার দিরহামে একটি ওড়না ,একটি খয়বারী চাদর, একটি রেডিমেট টেবিল, দুটি বসার গদী, একটি গদিতে খেজুরে ভরা ছিল । অপর গদিটি ভেড়ার পশম দ্বারা পরিপূর্ণ। ইযখির ঘাসভর্তি একটি তোষকে ছিল। ছিল একটি পশমের বিছানার চাদর। চামড়ার একটি মশক, দুধ রাখার একটি কাষ্ঠপত্র । সবুজ রংয়ের একটি ঘড়া ও মাটির একটি কলসও ছিল । মাল -সামানা ক্রয় করার পর হযরত আবূ বকর (রাঃ ) নিজে কিছু বহন করেন। বাদবাকি গুলো অন্যান্য সঙ্গী -সাথীরা কাঁধে তুলে নেন ।এগুলো সবই রাসূল (সা.)- এর দরবারে পেশ করা হয় । তিনি এগুলো হাত দ্বারা ছুঁয়ে দোয়া করেন । বলেন, হে আল্লাহ ? আপনি আহলে বাইতের মাঝে বরকত দিন ।
শীয়াদের অন্যান্য কিতাবে এও আছে যে, হযরত আলী (রাঃ) বিয়ের খরচ মেটাতে তার প্রিয় বর্মটি হযরত ওসমান গণী (রাঃ ) এর কাছে বিক্রয় করে দেন। হযরত ওসসান গনী বর্মটি মূল্যশোধ করার
পর বর্মটি তাঁকে পুনরায় ফেরৎ দের। হযরত ওসমান (রাঃ ) এর এই অশ্রুতপূর্ব ত্যাগের দরুন রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দু'আ করেন। এই রেওয়ায়েতটি শীয়াদের বিখ্যাত কিতাব 'আখতাবে খারজামী, কাশফুল গুম্মাহ -এ বিস্তারিত আকারে লিপিবদ্ধ আছে । বেহারাল আনোয়ারেও ঘটিনাটি বিবৃত ।
মানাকেবে খারযামীর ভাষ্য
হযরত আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (সা.) আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার বর্মটি বিক্রি করে এর মূল্য আমার নিকট সোপর্দ কর । তদ্দারা তোমার ও ফাতেমার বিয়ের সাজ -সরঞ্জাম খরিদ করব । আমি বর্মটি নিয়ে মদীনার বাজারে গেলাম। ৪০০ দিরহামে সেটি হযরত ওসমান (রাঃ ) এর কাছে বিক্রি করলাম। বর্মটি হস্তান্তর করার পর ওসমান (রাঃ) সেটি গ্রহণ করলেন আর আমি গ্রহণ করলাম এর মূল্য। ওসমান (রাঃ) বললেন , এই বর্মটির অধিকার একমাত্র আমারই তো নাকি। আমি বললাম , অবশ্যই । উসমান (রাঃ) বললেন , তাহলে নিন, এটি আপনাকে হাদিয়া দিলাম । হযরত আলী (রাঃ) বললেন, আমি বর্ম ও এর মূল্য উভয়টিই নিলাম এবং রাসূল (সা:) এর দরবারে পেশ করলাম । রাসূল (সা:) হযরত ওসমান (রাঃ ) এর জন্য দু 'আ করলেন। পরে হযরত আবু বকর (রাঃ ) কে ডেকে তাকে এক মুঠি দেরহাম দিয়ে বললেন, এ দিয়ে ফাতেমার ঘর -গৃহস্হলীর সামগ্রী খরিদ কর। হযরত সালমান ফারসি (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ ) আবূ বকর (রাঃ ) এর সাথে গেলেন। উদ্দেশ্য, তাকে সাহায্য করা। হযরত আবূ বকর (রাঃ ) বলেন, রাসূল (সা:) আমাকে ৬৩ দিরহাম দিয়েছিলেন । বাজারে গিয়ে আমি একটি মিসরী বিছানা, একটি চামড়ার গদি, চামড়ার তোষক যার ভেতর খেজুরের ছাল দ্বারা পরিপূর্ণ, একটি খয়রী চাদর , পানির মশক, ঘড়া , কলস ও একটি ওযুর বদনা ক্রয় করি। পশমের একটি পাতলা কাপড়ও ছিল এর মাঝে। হযরত আবূ বকর (রাঃ ) বলেন, এই সামগ্রীসমূহের কিছু আমি আর কিছু হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) আর কিছু বিলাল (রাঃ )বহন করেছিলেন।
এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়
হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের সামগ্রী হযরত ওসমান (রাঃ ) -ই দান করা । যা তিনি হাদিয়া ও তোহফা স্বরূপ দিয়েছিলেন। এই আত্মদানের অস্বীকৃতিস্বরূপ নবী করীম (সা:) তাঁকে দু 'আও করেছিলেন। তিনি বিয়ে বাজারের পুরো খরচের
যোগানদাতা। এর দ্বারা হযরত ওসমান (রাঃ) ও আলী (রাঃ) -এর মধ্যকার সখ্যতার দিকটি ফুটিয়ে তোলে নয় কি ? আর সিদ্দীকে আকবার (রাঃ) এর কেনাকাটা ও তা নিজে বহন করে নিয়ে আসার ব্যাপারটি তো বলাই বাহুল্য।
উপরিউক্ত বর্ণনাসমূহের সবই শীয়াদের মধ্যকার সর্বজনগ্রাহ্য বিজ্ঞ ওলামাদর। এদের প্রতি শীয়াদের অগাধ আস্হা ও শ্রদ্ধা। তাঁদেরই বর্ণনায়
কত সুন্দরভাবে উঠে এসেছে খোলাফায়ে রাশেদা ও নবী পরিবারের অকৃত্রিম ভালবাসার কাহিনী।
হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিবাহে আবু বকর (রাঃ) ও ওমর ( রাঃ) এর উৎসাহ
মোল্লা বাকের মজলিসী যিনি একজন বিদগ্ধ শীয়া -মতাবলম্বী এবং একজন শীয়া বিশেষজ্ঞ বটে। তিনি তাঁর প্রণীত 'জালাউল উয়ূন' কিতাবে 'আমীরুল মু, মিনীন হযরত আলী (রা)- এর সাথে হযরত ফাতেমা (রাঃ) -এর বিয়ে প্রসংগে লিখেন --
"একদা হযরত আবূ বকর (রাঃ) , হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ) মসজিদে নববীতে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁদের মাঝে হযরত মাঝে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে শাদী নিয়ে কথাবার্তা চলছিল । আবু বকর (রাঃ) বললেন , ফাতেমা (রাঃ) এর পাণি গ্রহণে কুরাইশের অভিজাতবর্গ আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রিয়নবী (সাঃ ) ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের ব্যাপারটি মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন। তিনি যাকে খুশী তার কাছে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের ব্যবস্হা করবেন। হযরত আলী (রাঃ ) এ ব্যাপারে নিজে যেমন রাসুলুল্লাহ ( সাঃ )এর কাছে কোনও আগ্রহ প্রকাশ করেননি তেমনি অন্য কেউও তাঁর কাছে এ ব্যাপারে কোন প্রস্তুাবও তুলেননি । তবে আমার যদ্দুর মনে হয়, হযরত আলি (রাঃ ) শুধুমাত্র দারিদ্রে্ার কারণেই হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। মনে হচ্ছে, হযরত ফাতেমা (রাঃ )কে প্রিয়নবী ( সাঃ ) হযরত আলী (রা) এর জন্যই নির্ধারণ করে রেখেছেন। পরে হযরত আবূ বকর (রাঃ) , ওমর ফারুক (রাঃ ) ও হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ )কে বলেন, চলো হযরত আলী (রাঃ )
এর কাছে যাই । ফাতেমা (রাঃ ) কে বিয়ে প্রসংগে
তাঁকে উৎসাহ দিই ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করি ।
দারিদ্রে্ার কারণে তিনি যদি এই বিয়েতে অমত দেন তাহলে আমরা তাঁকে সাহায্য করব । হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ ) বললেন,আবূ বকর (রাঃ) যথার্থ বলেছেন। তারা তিনজন ওঠলেন এবং আমীরুল মু'মিনীনের বাড়ীতে এলেন ।হযরত
আলী (রাঃ ) ওই সময় বাড়ীতে ছিলেন না । ওই সময় তিনি জনৈক আনসারীর বাগানে মজুরির
বিনিময়ে পানি সিঞ্চন করতে গিয়েছিলেন। উক্ত তিনজনই ওই বাগানে গযরত আলী )রাঃ ) এর কাছে আসেন। হযরত আলঅ (রাঃ ) প্রশ্নচ্ছলে বলেন, আপনারা? সিদ্দীকে আকবার (রাঃ ) বলেন, উত্তম চরিত্র ও সদাচরে আপনি যে কাউকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে আপনার আত্মীয়তা খুবই দৃঢ় ও হৃদ্যতাপূর্ণ।
রাসূল (সা. ) এর সাথে আপনার সাহচর্য ও দীর্ঘদিেনের । তারপরও কেন যে আপনি ফাতেমার (রাঃ) কা বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন না ? আমার মন বলছে, রাসূল (সা.) ফাতেমার (রা.) জন্য আপনাকেই পছন্দ করে রেখেছেন। -- -- (৩নংপৃ: )
অন্য কারো প্রস্তাবই তিনি আমলে আনছেন না।
সিদ্দীকে আকবারের কথা শুনে হযরত আলী (রাঃ) এর চোখে পানি এসে গেল । অশ্রুসজল নয়নে তিনি বললেন, আবূ বকর ! আপনি আমার
মর্মপীড়া আরো বাড়িয়ে দিলেন। মনের কোনে ধিধিধিকি করে জ্বলা আগুনকে জ্বেলে দিলেন। বলুন ? প্রিয়নবীর সাথে কেইবা এই সম্পর্ক চায় না ? আমি কেবল দারিদ্রে্ার দরুন আমার সুপ্ত অভিলাষকে প্রকাশ করতে লজ্জানুভব করছি ।
মোটকথা উক্ত তিনজনই হযরত আলী (রাঃ ) কে এই বিয়ের জন্য উৎসাহিত করলেন। বললেন, রাসূলে আকরাম (সা. ) এর কাছে প্রস্তাব তুলতে ।
হযরত আলী (রাঃ ) তাঁর উটটি বেধে বাড়ীতে এলেন । অত:পর তিনি দরবারে নবুওয়াতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
#
হযরত আলী (রাঃ ) বলেন, প্রিয়নবী (সা.) আমাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, কি হে আবূ তালেব পুত্র ? কী উদ্দেশ্যে এসেছ? আমি তাঁর কন্যার পাণি গ্রহণের প্রস্তাব তুললাম। হুযুর (সা.)
বললেন, আলী? আমি অন্দর মহল থেকে আসার আগ পর্যন্ত তুমি একটু অপেক্ষা কর । তিনি অন্দর মহলে গেলেন, রাসূল (সা.) কে দেখে হযরত ফাতেমা (রাঃ ) উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর চাদর ও জুতা যথাস্হানে রেখে উযুর পানির ব্যবস্হা করলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ফাতেমা? তিনি বললেন, বলুন ? আল্লাহর রাসূল ? তিনি বললেন ,
আলী তোমার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছে । আমি তোমার ইযাযত নিতে এসেছি । হযরত ফাতেমা (রাঃ) নিশ্চুপ, তবে তাঁর চেহারায় অপছন্দের কোন চিন্হ দেখা গেল না। রাসূল (সা.)
আল্লাহ আকবার বলে উঠে দাঁড়ালেন । হযরত ফাতেমা (রাঃ )এর নিশ্চুপ নির্বিকার কথাটা বিয়েতে রাজির আলামত। আল্লাহর নবী এতে বেজায় খোশ হলেন।
সার -সংক্ষেপ
উক্ত কথিকা থেকে আমরা নাম্নবর্নিত টয়েন্টগুলো পেতে পারি -- -- --
১. হযরত আলী (রাঃ ) ও ফাতেমা (রা.) এর বিয়েতে সর্বপ্রথম আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ)
ই পরামর্শ দেন । যা তাদের মধ্যকার কল্যাণকামতার চমৎকার দলিল।
২. বিয়ের খর্চাপাতির ব্যাপারে তাঁকে অভয় দেয়াও বন্ধুত্বের প্রকৃষ্ট দলিল।
৩. কল্যাণধর্মী উক্ত পরামর্শ গ্রহণ করে হযরত আলী (রাঃ ) তাঁর বন্ধুদের কথা রাখলেন। কেননা সঠিক হলেও কেউ শত্রুর পরামর্শ গ্রহণ করে না।
"একদা হযরত আবূ বকর (রাঃ) , হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ) মসজিদে নববীতে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁদের মাঝে হযরত মাঝে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে শাদী নিয়ে কথাবার্তা চলছিল । আবু বকর (রাঃ) বললেন , ফাতেমা (রাঃ) এর পাণি গ্রহণে কুরাইশের অভিজাতবর্গ আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রিয়নবী (সাঃ ) ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের ব্যাপারটি মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন। তিনি যাকে খুশী তার কাছে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের ব্যবস্হা করবেন। হযরত আলী (রাঃ ) এ ব্যাপারে নিজে যেমন রাসুলুল্লাহ ( সাঃ )এর কাছে কোনও আগ্রহ প্রকাশ করেননি তেমনি অন্য কেউও তাঁর কাছে এ ব্যাপারে কোন প্রস্তুাবও তুলেননি । তবে আমার যদ্দুর মনে হয়, হযরত আলি (রাঃ ) শুধুমাত্র দারিদ্রে্ার কারণেই হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। মনে হচ্ছে, হযরত ফাতেমা (রাঃ )কে প্রিয়নবী ( সাঃ ) হযরত আলী (রা) এর জন্যই নির্ধারণ করে রেখেছেন। পরে হযরত আবূ বকর (রাঃ) , ওমর ফারুক (রাঃ ) ও হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ )কে বলেন, চলো হযরত আলী (রাঃ )
এর কাছে যাই । ফাতেমা (রাঃ ) কে বিয়ে প্রসংগে
তাঁকে উৎসাহ দিই ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করি ।
দারিদ্রে্ার কারণে তিনি যদি এই বিয়েতে অমত দেন তাহলে আমরা তাঁকে সাহায্য করব । হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ ) বললেন,আবূ বকর (রাঃ) যথার্থ বলেছেন। তারা তিনজন ওঠলেন এবং আমীরুল মু'মিনীনের বাড়ীতে এলেন ।হযরত
আলী (রাঃ ) ওই সময় বাড়ীতে ছিলেন না । ওই সময় তিনি জনৈক আনসারীর বাগানে মজুরির
বিনিময়ে পানি সিঞ্চন করতে গিয়েছিলেন। উক্ত তিনজনই ওই বাগানে গযরত আলী )রাঃ ) এর কাছে আসেন। হযরত আলঅ (রাঃ ) প্রশ্নচ্ছলে বলেন, আপনারা? সিদ্দীকে আকবার (রাঃ ) বলেন, উত্তম চরিত্র ও সদাচরে আপনি যে কাউকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে আপনার আত্মীয়তা খুবই দৃঢ় ও হৃদ্যতাপূর্ণ।
রাসূল (সা. ) এর সাথে আপনার সাহচর্য ও দীর্ঘদিেনের । তারপরও কেন যে আপনি ফাতেমার (রাঃ) কা বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন না ? আমার মন বলছে, রাসূল (সা.) ফাতেমার (রা.) জন্য আপনাকেই পছন্দ করে রেখেছেন। -- -- (৩নংপৃ: )
অন্য কারো প্রস্তাবই তিনি আমলে আনছেন না।
সিদ্দীকে আকবারের কথা শুনে হযরত আলী (রাঃ) এর চোখে পানি এসে গেল । অশ্রুসজল নয়নে তিনি বললেন, আবূ বকর ! আপনি আমার
মর্মপীড়া আরো বাড়িয়ে দিলেন। মনের কোনে ধিধিধিকি করে জ্বলা আগুনকে জ্বেলে দিলেন। বলুন ? প্রিয়নবীর সাথে কেইবা এই সম্পর্ক চায় না ? আমি কেবল দারিদ্রে্ার দরুন আমার সুপ্ত অভিলাষকে প্রকাশ করতে লজ্জানুভব করছি ।
মোটকথা উক্ত তিনজনই হযরত আলী (রাঃ ) কে এই বিয়ের জন্য উৎসাহিত করলেন। বললেন, রাসূলে আকরাম (সা. ) এর কাছে প্রস্তাব তুলতে ।
হযরত আলী (রাঃ ) তাঁর উটটি বেধে বাড়ীতে এলেন । অত:পর তিনি দরবারে নবুওয়াতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
#
হযরত আলী (রাঃ ) বলেন, প্রিয়নবী (সা.) আমাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, কি হে আবূ তালেব পুত্র ? কী উদ্দেশ্যে এসেছ? আমি তাঁর কন্যার পাণি গ্রহণের প্রস্তাব তুললাম। হুযুর (সা.)
বললেন, আলী? আমি অন্দর মহল থেকে আসার আগ পর্যন্ত তুমি একটু অপেক্ষা কর । তিনি অন্দর মহলে গেলেন, রাসূল (সা.) কে দেখে হযরত ফাতেমা (রাঃ ) উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর চাদর ও জুতা যথাস্হানে রেখে উযুর পানির ব্যবস্হা করলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ফাতেমা? তিনি বললেন, বলুন ? আল্লাহর রাসূল ? তিনি বললেন ,
আলী তোমার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছে । আমি তোমার ইযাযত নিতে এসেছি । হযরত ফাতেমা (রাঃ) নিশ্চুপ, তবে তাঁর চেহারায় অপছন্দের কোন চিন্হ দেখা গেল না। রাসূল (সা.)
আল্লাহ আকবার বলে উঠে দাঁড়ালেন । হযরত ফাতেমা (রাঃ )এর নিশ্চুপ নির্বিকার কথাটা বিয়েতে রাজির আলামত। আল্লাহর নবী এতে বেজায় খোশ হলেন।
সার -সংক্ষেপ
উক্ত কথিকা থেকে আমরা নাম্নবর্নিত টয়েন্টগুলো পেতে পারি -- -- --
১. হযরত আলী (রাঃ ) ও ফাতেমা (রা.) এর বিয়েতে সর্বপ্রথম আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ)
ই পরামর্শ দেন । যা তাদের মধ্যকার কল্যাণকামতার চমৎকার দলিল।
২. বিয়ের খর্চাপাতির ব্যাপারে তাঁকে অভয় দেয়াও বন্ধুত্বের প্রকৃষ্ট দলিল।
৩. কল্যাণধর্মী উক্ত পরামর্শ গ্রহণ করে হযরত আলী (রাঃ ) তাঁর বন্ধুদের কথা রাখলেন। কেননা সঠিক হলেও কেউ শত্রুর পরামর্শ গ্রহণ করে না।
Wednesday, 24 April 2019
Human Resource Management ; A case study of niribilishop. com
The term human resource refers to the people in an organization. Human resource management is concerned with people dimensions in management. When managers engaged in human resource activities as a part of their job, they seek to facilitate the contribution; people make to achieve an organizations strategies and plans.
Human resource management encompasses those activities designed to provide for and co -ordinate the Human efforts, so that they can contribute to achieve the goals of the organizations.
Human resource department of niribilishop .com follows the following steps for managing the human resource.
1. Human Resource planning policies of niribilishop .com
Human resource planning is the process of estimating human resource needs for achieving human resource and organizational goals. It is the process through which organizational goals are translated into objective. Human Resources give the company a significant competitive edge in terms of knowledge and experiences.
The effective working days of this organization is 6 days per week and each Employee will work 8 hours per day.
If it is required to slot in them for overtime duties then the duty time will be utmost 60 hours/weeks.
Compang usually paid their salaries to employees within 7 days of the next month.
They try maintaining to continuous development of the human resource through Appropriate training and motivation.
2 . Recruiting and Selection policies of niribilishop. com
Recruiting is the process of searching the potential job candidates in order to fill up the vacant position of the organization and selection is the process of choosing the best candidate among the available candidates. the candidates who are successfully perform the job.
In case of recruitment and selection niribilishop. com considers the following process:
Need assessment
niribilishop .com take need assessment to identify in which sector,it is needed to recruit the employee for achieving their target and goals. In their assessment they have to realize that they need human resource (HR) in the following situation - vacancy in existing post (s ), market expansion, increase in production capacity, launching new product, introducing new system.
Checking the recruiting options
Internal
Internal source are included - promotion, transfer, job rotation, friends and relatives of existing employees.
External
External source included - advertisement, employment agencies, and campus recruiting .
# Screeming and short -listing Applications
The responses to the advertisements are sorted and screened. the CVs as well as the covering letters are judged. Experience, educational degree , computer literacy, communication skill, etc are the basis of judging the candidates application .
# Written test
In is the most important and effective tool for judging the candidares. the written test includes IQ test, behavioral competencies, and communication skills.
# Interview
Trough interviews the interviewers of niribilishop. com seek to answer three broad questions:
1. Can the applicant do the job ?
2. Will the applicant do the job ?
3. How does the applicants compare with other who are being considered for the jpb?
Selection interview are most widely used selection technique. They can be adapted to unskilled, skilled , and managerial and staff employees.
# Reference checking
Reference and background check are important, which refers the process to undertake of those apllication the appear to offer potential as employees.
Reference check is indented to verify
that was state on the application from correct and accurate information. Some question are arises through reference checking. Those ate :
1. In the applicant a good, reliable worker ?
2. Are the job accomplishments, titles, educational background, and other facts of the Resume or application true?
3. What type of person is the applicant?
4. What information id relevant to match the applicant and the job?
offer letter:
When the candidates satisfy the Human Resource Recruiting Broad, then the broad provide to the candidate offer letter.
Orientation/induction
Through orientation niribilishop.com
thy to introducing the new comers or new employees with its work unit , rules and regulation, culture,norms, value, believe and exposure to all important functions and locations of the company and so forth .
3. Training policies of niribilishop.com
Trainig is a learninig process that involves the acquisition of skills,concepts, rules,and attitudes to increases the performances of the employees in the organizations. on the other hand development is more future oriented, and more concerned with education, than is employees training or assisting a person to become a better performer.
In order to excel in a competitive marketing environment there is no alternative to development knowledge
and skilled level of people through training. Training and develoment program of niribilishop. com
include orientation activities the
★ Inform employees of policies and procedure of niribilishop.com
★ Educate them in job skills
★ Develop them for future advancement
4. job Analysis and job Evaluation process of niribilishop. com
job Analysis
job evaluation is the process of appraising the different positions of employees in the roganization with a view to establish a well conceived for pay -structure. For job analysis niribilishop .com consider several common uses such as -job definition, jpb re -design,orientation, socialization , carrier counseling , employee safety, performance appraisal and compensation.
job Evaluation
niribilishop. com. follows the Ranking and the Classification method for evaluating the job. In case of ranking method a committee typically compared of both management and employee to representative to arrange the job in a simple rank order, from highest to the lowest rank. In case of classification method this classification are created by identified some common fenominators like - skills, knowledge, responsibilities with the desired goals being the creations of a number of distinct classes on grades of jobs.
Human resource management encompasses those activities designed to provide for and co -ordinate the Human efforts, so that they can contribute to achieve the goals of the organizations.
Human resource department of niribilishop .com follows the following steps for managing the human resource.
1. Human Resource planning policies of niribilishop .com
Human resource planning is the process of estimating human resource needs for achieving human resource and organizational goals. It is the process through which organizational goals are translated into objective. Human Resources give the company a significant competitive edge in terms of knowledge and experiences.
The effective working days of this organization is 6 days per week and each Employee will work 8 hours per day.
If it is required to slot in them for overtime duties then the duty time will be utmost 60 hours/weeks.
Compang usually paid their salaries to employees within 7 days of the next month.
They try maintaining to continuous development of the human resource through Appropriate training and motivation.
2 . Recruiting and Selection policies of niribilishop. com
Recruiting is the process of searching the potential job candidates in order to fill up the vacant position of the organization and selection is the process of choosing the best candidate among the available candidates. the candidates who are successfully perform the job.
In case of recruitment and selection niribilishop. com considers the following process:
Need assessment
niribilishop .com take need assessment to identify in which sector,it is needed to recruit the employee for achieving their target and goals. In their assessment they have to realize that they need human resource (HR) in the following situation - vacancy in existing post (s ), market expansion, increase in production capacity, launching new product, introducing new system.
Checking the recruiting options
Internal
Internal source are included - promotion, transfer, job rotation, friends and relatives of existing employees.
External
External source included - advertisement, employment agencies, and campus recruiting .
# Screeming and short -listing Applications
The responses to the advertisements are sorted and screened. the CVs as well as the covering letters are judged. Experience, educational degree , computer literacy, communication skill, etc are the basis of judging the candidates application .
# Written test
In is the most important and effective tool for judging the candidares. the written test includes IQ test, behavioral competencies, and communication skills.
# Interview
Trough interviews the interviewers of niribilishop. com seek to answer three broad questions:
1. Can the applicant do the job ?
2. Will the applicant do the job ?
3. How does the applicants compare with other who are being considered for the jpb?
Selection interview are most widely used selection technique. They can be adapted to unskilled, skilled , and managerial and staff employees.
# Reference checking
Reference and background check are important, which refers the process to undertake of those apllication the appear to offer potential as employees.
Reference check is indented to verify
that was state on the application from correct and accurate information. Some question are arises through reference checking. Those ate :
1. In the applicant a good, reliable worker ?
2. Are the job accomplishments, titles, educational background, and other facts of the Resume or application true?
3. What type of person is the applicant?
4. What information id relevant to match the applicant and the job?
offer letter:
When the candidates satisfy the Human Resource Recruiting Broad, then the broad provide to the candidate offer letter.
Orientation/induction
Through orientation niribilishop.com
thy to introducing the new comers or new employees with its work unit , rules and regulation, culture,norms, value, believe and exposure to all important functions and locations of the company and so forth .
3. Training policies of niribilishop.com
Trainig is a learninig process that involves the acquisition of skills,concepts, rules,and attitudes to increases the performances of the employees in the organizations. on the other hand development is more future oriented, and more concerned with education, than is employees training or assisting a person to become a better performer.
In order to excel in a competitive marketing environment there is no alternative to development knowledge
and skilled level of people through training. Training and develoment program of niribilishop. com
include orientation activities the
★ Inform employees of policies and procedure of niribilishop.com
★ Educate them in job skills
★ Develop them for future advancement
4. job Analysis and job Evaluation process of niribilishop. com
job Analysis
job evaluation is the process of appraising the different positions of employees in the roganization with a view to establish a well conceived for pay -structure. For job analysis niribilishop .com consider several common uses such as -job definition, jpb re -design,orientation, socialization , carrier counseling , employee safety, performance appraisal and compensation.
job Evaluation
niribilishop. com. follows the Ranking and the Classification method for evaluating the job. In case of ranking method a committee typically compared of both management and employee to representative to arrange the job in a simple rank order, from highest to the lowest rank. In case of classification method this classification are created by identified some common fenominators like - skills, knowledge, responsibilities with the desired goals being the creations of a number of distinct classes on grades of jobs.
Tuesday, 16 April 2019
জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎস আল -কুরআন ।
জ্ঞান বিজ্ঞানের নির্দেশনার ক্ষেত্রে কুরআন এক বিস্ময়কর মহাগ্রন্হ এবং আল্লাহর অনবধ্য ও অতুলনীয় মহাসৃষ্টি । গোয়েথের ভাষা বলা যায়, "কুরআনের লক্ষ্য আলোচ্য বিষয়ানুয়ী এর রচনাশৈলী অনমনীয়, পূর্ণাঙ্গ ও চমকপ্রদ যা চিরকালেই মহিমান্নিত। ভবিষ্যতের প্রতিটি এগ্রন্হ অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করবে মানব সমাজে ।
ড: ষ্ট্রেইন গ্রাস বলেন, "এ গ্রন্হ সময় ও মানসিকতার দিক থেকে দূরবর্তী পাঠকের মনেও
সৃষ্ট করে শক্তি এবং সংগত আবেগ । এ গ্রন্হ বিমুখ পাঠককে শুধু জয়ই করে না, বরয় মনে সৃটি করে অভূতপূর্ব বিস্ময়। জর্জ বার্নাডশ, জনডেভেন পোর্ট, মারডিউক পিটটক, চমাস কার্লাইল এবং মহাত্ম গান্ধীর মত দার্শনিক ও চিন্তাবিদ মনীষীবৃন্দ রাসূল মুহাম্মদের প্রশংসা করে বলেন যে, লক্ষ কোটি মানুষের মধ্যে তিনি ছিলেন অনন্য ও সর্বশ্রেষ্ঠ। গীবনের মত , মুহাম্মদের ধর্মমত সব সন্দেহের সংশয় থেকে মুক্ত। বিধর্মী আরবদেরকে মোজেজা প্রদর্শনের দাবিতে আল্লাহ স্বয়ং নির্দেশ দেন যে, মহাগ্রন্হ কুরআন মোজেজা সম্পন্ন । স্যার চমাস কার্লাইল বলেন, কুরআন এমন একটি অগ্নি স্ফূলিঙ্গ যা বিস্ফোরক হিসেবে দিল্লি থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত আলোড়িত করেছে । লন্ডন থেকে প্রকাশিত "দি ইস্ট" পত্রিকায় বলা হয়েছে "কুরআন হচ্ছে একটি অতি আশ্চর্যজনক গ্রন্হ -যা জ্ঞান বুদ্ধির আওতার বাইরে। প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কুরআনের অশেষ নির্দেশনা রয়েছে । এ সবের কিছু নিম্নরুপ :
১। বিশ্ব সৃষ্ট : বর্তমান বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক দর্শ পূর্বে সিদ্ধান্ত নেন যে, মহাবিশ্বের সকল বস্তুই বৃত্তাকারে ঘুরছে । চৌদ্দশত বছর পূর্বে কুরআন ঘোষণা দেয়, "অবিশ্বাসীগণ কি দেখে না যে, আসমান সমূহ এবং জমিন একত্রে সৃষ্টর এককরূপে ছিল, যতক্রণ না আমরা (আল্লাহ )
এসবকে খন্ড খন্ড ভাবে বিভিন্ন করেছি (আল -কুরআন -২১:৩০ ") ।
তিনিই সৃষ্ট করেছেন দিন ও রাত্রি এবং চন্দ্র ও সূর্যকে। সকলেই (মহাবিশ্বের বস্তুসমূহ ) তাদের
বৃত্তাকার কক্ষপতে ভেসে বেড়ায় ।
২। রাসায়নিক তথ্য : কুরআনে উদ্ভিদ তত্ত,পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, গণিত ইত্যাদি বিষয়ক অসংখ্য নির্দেশনা রয়েছে । যেমন বাতাস থেকে খাদ্য তৈরি করা সম্পর্কিত কুরআনের নির্দেশনা ! "তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদের্শন দেখান।এবং আকাশ থেকে খাদ্য পাঠান (১০:৩০ )
রসায়ন শাস্ত্র সম্পর্কিত জ্ঞানার্জনের নির্দেশ আছে কুরআনে ৪৩ টি আয়াতে।
৩। গণিতের রহস্যময় বন্ধন : কুরআনের সূরা মুদ্দাছিরের ৩০তম আয়াতে বলা হয়েছে "এর ওপর উনিশ"। গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঊনিশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । ইহা গণতের প্রথম সংখ্যা ১ দিয়ে শুরু এবং শেষ সংখ্যা ৯ দিয়ে শেষ অর্থাৎ ১৯ হচ্ছে গণিতের আলফা,ওমেগা । ১৯ কেবল ১৯ ও ১ ছাড়া অন্য সংখ্যা দিয়ে বিভাজ্য নয় ।
সংখ্যাতত্তের বিচার ১৯ সর্বশ্রেষ্ঠ । প্রকৃত পক্ষে মহাগ্রন্হ কুরআনে আল্লাহ "গণিতের সর্বজন গ্রাহ্য
অথচ বিস্ময়কর বন্ধন প্রয়াগ করেছেন । সমস্ত কুরআনে ছড়িয়ে আছে গণিতের এ বিস্ময়কর বন্ধন। যেমন "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" বাক্যের মোট বর্ণ সংখ্যা ১৯ এতে ব্যবহৃত চারটি শব্দ ইলম, আল্লাহ,আর রাহমান আর রাহীম সমগ্র কুরআনে যথাক্রমে ১৯, ২৬৯৬, ৫৭ এবং ১১৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে । এর সব কয়টি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য। কুরআনের সূরা সংখ্যা ১১৩ হয়তে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয়। কিন্তু সূরা তাওবার ৩০তম আয়াতে এ সীল অন্তর্ভুক্ত করে সীল সংখ্যা ১১৩ +১ : ১১৪ এবং ১৯ দ্বারা বিভাজ্য রাখা হয়েছে কম্পিউটারের নির্ভুল পদ্ধতিতে। নিরক্ষর রাসূলের পক্ষে ১৯ এর এ বিস্ময়কর বুনন সম্ভব ছিল না ।
এতে কুরআনের মহান রচয়িতা আল্লাহ বলে প্রমাণিত হয় ।
৪। মুকাত্তাত : পৃথিবীর কুরআন ব্যতীত আর কোন গ্রন্হ নেই যার একটি অক্ষরও আজ পর্যন্ত
পরিবর্তিত হয়নি । এক মাত্র কুরআনেই অলৌকিকভাবে অজ্ঞাত অর্থ নির্দেশক অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে যাকে বলা হয় মুকাত্তাত যে প্রথম সূরা বাকারায় প্রথমে আছে আলীফ লাল মীম । এসব মুকাত্তাতের ১৪টি বর্ণ ১৪টি বিন্যাস ২৯টি সূরার প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে যার যোগ সংখ্যা ১৪+১৪+২৯ - ৫৭ ঊনিশ দ্বারা বিভাজ্য ।
একক অক্ষর মুকাত্তাত বিশিষ্ট তিনটি সূরার মধ্যে কালামের মুকাত্তাত নূন, এ সূরাতে ১৩৩ বার ব্যবহার করা হয়েছে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য দুটি সূরায় স্কাফ সম্বলিত মুকাত্তাত আছে। এ দুটোতে ব্যবহার করা হয়েছে ১১৪ বার যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য । আল্লাহ বিস্ময়কর দুরদর্শিতার সাথে ক্কাফ সূরায় ঊনিশের ফরমূলা ঠিক রেখেছেন ।
কারণ আল্লাহ কুরআনের ১২টি স্হানে লুৎ সম্প্রদারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতি ক্ষেত্রে
একই বিশেষণ "কাওমেনুলুত" ব্যবহার করলেও
একমাত্র সূরা ক্কাফের ১৩তম আয়াতে ইথওয়ানুলুত ব্যবহার করে অংকের হিসাব ঠিক রেখেছেন। অন্যথায় কাফের সংখ্যা ৫৭ এর পরিবর্তে ৫৮ হত, ৫০, ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয় । নিরক্ষর শেষ রাসূলের পক্ষে গাণিতিক হিসেব করে ১৯ এর ফরমুলা ঠিক রাখা সম্ভব ছিল না ।
৫। বিজ্ঞান সাধনায় ভিত্তিক : আল্লাহ বলেন, "যাকে বিজ্ঞানের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে
যথেষ্ট জ্ঞান দান করা হয়েছে"। আল্লাহ বার বার নির্দেশ দিয়েছেন তার সৃষ্ট সম্পর্কে চিন্তা করতে ।
"বিজ্ঞান মুসলমানদের দান" গ্রন্হে জনাব এম আকবর আলী দেখিয়েন যে, একমাত্র রসায়ন শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ আছে কুরআনের বিভিন্ন সূরায় ৪৩টি আয়াতে। পানি দ্বারা খাদ্য উৎপাদন, বাতাস থেকে খাদ্য তৈরি, গাভীর দুধ কীভাবে তৈরি হয়, এসব রসায়নের মিশ্রশনের কথাও কুরআনের আছে। কুরআন ঘোষণা করে, তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখান এবং আকাশ থেকে খাদ্য তৈরি বিষয়ক
সূক্ষ্ম রাসায়নিক বিষয়ে কুরআনের ২৪টি আয়াতে চিন্তাশীলদের সৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে । কুরআনের এ ঘোষণার বহু শত বছর পরে বাতাসের নাইট্রোজেন থেকে সার তৈরী ও কৃষি কাজে তা ব্যবহারের দ্বারা খাদ্য তৈরির ব্যাপারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে । কুরআনের শিক্ষা মতবাদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব মানবতার সমস্যা সার্বিক সমাধান করা সম্ভব । কুরআন মানব সভ্যতা বিকাশের প্রতিস্তরে ও শিক্ষার গতিশীলতার ক্ষেত্রে নব নব অবদান রাখতে সক্ষম।
৬। সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা : বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী এবং লেখক ডঃমরিস বুকাইলী তাঁর "দি বাইবেল কুরআন এন্ড 'সায়েন্স" গ্রন্হে পবিত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্পর্কে বলেন যে , "কুরআনে এমন কোন একটা বক্তব্যও নেই যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিচার খন্ডন করা যেতে পারে" ।
প্রকৃতপক্ষে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষনা এবং আবিষ্কারের পূর্বে সঠিকভাবে নির্ধারন সম্ভব ছিল না। তাই মহাগ্রন্হ কুরআনে বার বার আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
৭। সূর্যের গতিপথঃ আরো আশ্চর্যের বিষয় কুরআন চৌদ্দশত বছর পূর্বে ২১ নং সূরার ৩০ নং আয়াতে ঘোষণা করেছে, "সূর্য কখনও ধরতে পারবে না চন্দ্রকে, কিংবা রাত্রি অতিক্রম করতে পারবে না দিবসকে , প্রত্যেকেই পরিভ্রমণে নিরত নিজ নিজ কক্ষে "। অথচ কেবল ১৯৭১ খৃস্টাব্দের দিকে বিজ্ঞানীরা জানতে পারে যে, আমাদের ছায়াপথ এবং সূর্য়েরও একটি গতিপথ আছে। তারা নিজেদের মেরুদদন্ডের ওপর ঘুরপাক খেয়ে একবার ঘুর আসতে সময় নেয় ৫৫ কোটি বছর ।
৮। বিশ্ব সম্প্রসারন: মহাবিশ্বের সম্প্রসাণ সম্পর্কে ৭১ নং সুরায় ৪৭ আয়াতে চৌদ্দশত বছর পর্বে বলা হয়েছে, "আকাশ মন্ডলী, আমরাই তা সৃষ্টি
করেছি ক্ষমতার বলে এবং নিশ্চয়ই আমরা তাকে সম্প্রসারণ করি"। এ সম্পর্কে আইনস্টাইনের সূত্র
ইদানীং কালের ব্যাপারে। বিভিন্ন ছায়াপথের বর্ণালী বিভা ক্রমান্নয়ে লালচে হয়ে যাওয়া থেকে ধারণা হচ্ছে যে, ছায়া পথগুলো ক্রমে পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং মহাবিশ্বের পরিমন্ডল
ক্রমে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
৯। প্রাণসৃষ্টি : মাত্র কয়েক দশক পূর্বে আমরা জেনেছি যে, পানিই সকল প্রাণের উৎস। অথচ
১৪ শত বছর পূর্বে প্রাণ সৃষ্ট সম্পর্কে কুরআনের
২৪ নং সূরায় ৪৫নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, "আল্লাহ সকল প্রকার প্রাণি কে পানিহতে সৃষ্ট করেছেন" । কুরআনে ব্যবহৃত পানি (মা'আ ) শব্দটি দ্বারা বুঝান হয়েছে যে, "পানি হচ্ছে জীবন্ত সব কিছুর জীবকোষ উপাদান 'সাইটোপ্লাজম'।
পানি ছাড়া জীবন সম্ভব নয়। তাই অন্য গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে খোঁজা হয় পানির অস্তিত্ব ।
১০ । মহাশূন্য বিজয়ঃ মানুষের ভ্রমণ সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছেন ড: মরিস বুকাইলী । সংশ্লিষ্ট আয়াতটি হল ৫৫নং সূরায় ৩৩নং আয়াত: "হে জীব ও মানব মন্ডলী ! যদি তোমরা প্রবেশ করতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায় তাহলে এতে প্রবেশ কর, তোমরা তাতে প্রবেশ করতে পারবে না মহাক্ষমতা ব্যতিরেক " ।
তাতে ব্যাবহৃত শব্দ নাফাজার অর্থ হল প্রবেশ করা বা "টু পেনিট্রেট" অর্থাৎ কোন কিছুর ভেতরে সোজা ঢুকে অপর পার্শ্বে বের হয়ে যাওয়া । এ দ্বারা মানুষের পক্ষে মহাশূন্য বিজয়ের সম্ভাব্যতা নির্দেশ করা হয়েছে বলে , ড: বুকাইলী মনে করেন।
১১। ভবিষ্যৎ বাণী ও ফেরাউনের দেহ : কুরআনে ফেরাউন এর মরা দেহ সংরক্ষন সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণীতে বলা হয়, "আজ আমরা কেবল তোমার
(মৃত) দেহকেই রক্ষা করব যাতে তুমি তোমরা পরবর্তীদিগের জন্য নিদর্শন হতে পারে"।ঊনবিংশ
শতাব্দীর শেষ দিকে ১৮৯৪ খৃস্টাব্দে তা আবিস্কৃত হয়। কুরআনে প্রদত্ত বর্ণনা অনুযায়ী পানিতে ডুবে
তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। কায়রো
শহরের তারবীজ জাতীয় যাদুঘরে রক্তি মমিটি
দেখলে বুঝা যাবে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি কেমন বিস্ময়করভাবে সত্যে পরিণত হয়েছেে ।
১২ । জীব বিজ্ঞান : ডঃ আবদুল্লাহ এলিশন
(ইসলাম গ্রহণেন পূর্বনাম আর্থার জে এলিশন) বলেন, "মহাবিশ্ব সৃষ্টি , গ্রহ -নক্ষত্র সৃষ্ট , জীবজগতের যত সব রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চিরন্তন এ আসমানী কিতাব" (আল -কুরআন)।
চন্দ্র -সূর্য, গ্রহ - -নক্ষত্রের গতি প্রকৃতি, এর আবর্তন -বিবর্তন সম্পর্কে, পানি,সমুদ্র, বায়ু মন্ডল, বিদ্যুৎ ,প্রাণি জগৎ, প্রাণের উৎপত্তি ও
বিকাশ, মহাকাল ইত্যাদি সম্পর্কে এমন নিখুঁত
নির্ভুল জ্ঞান -বিজ্ঞানের পবিত্র কুরআনে প্রকাশ করেছে - যা কোন মানুষের রচনা হতে পারে না "। জীব বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর সত্য ১৪ শত বছর
পূর্বে কুরআনে বর্ণিথ হলেও তা ইদ্যানিং কালে
গবেষণায় আবিস্কৃত হয়েছে।
টরেন্টো -বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রুণতত্তের প্রফেসর ডঃ কিথ মুর বলেন, "মানুষের বৃদ্ধির কিছু ব্যাপারে (মাতৃগর্ভে) কুরআন যা বলেছে, মাত্র ৩০ বছর পূর্বেও তা জানা ছিল । কুরআন একটি স্তরে মানুষকে "জোঁক সদৃশ্য জমাট বাঁধা রক্ত" বলে বর্ণনা করেছে । ডঃ মুর তাঁর গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখতে পান কুরআনের বর্ণনা যে সঠিক তা কেবল অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করা যায়।
আবিস্কৃত তথ্য সমগ্র কানাডার পত্র পত্রিকায় প্রকাশীত হয় । চৌদ্দশত বছর পূর্বে আরবে কোন
অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছিল না যে, তা পরীক্ষণ করে কুরআনে লিখবে। একমাত্র আল্লাহর পক্ষে তা সম্ভব । সূরা বাকারায় নবজাতক শিশুকে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করানোর নির্দেশ সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত।
১৩। চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত নিষিদ্ধ বস্তুঃ কুরআনে শুকরের গোস্ত হারাম করার পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ইদানীং আবিস্কৃত হয়েছে যে, শুকরের মাংশ খাওয়ার ফলে ট্রাইকিনোলো স্পাইরালিস (পর্কওয়ার্ম) দ্বারা ট্রাই কিনসিস রোগ সৃষ্টি হয় । যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন লোক এ রোগে আক্রান্ত । সম্প্রতি কালে বৈজ্ঞানিক গবেষনায় দেখা গেছে যে, সাটস্কিল নামক প্রোটিন শুকরের মাংসে পাওয়া যায় তাতে বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। শুকরের মাংসে প্রাপ্ত মিউকো -পলিস্যাকারাইডস শরীরের গ্রন্হিসমূহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে । বর্তমান বিশেক্ষ স্কুর্কওয়ার্ম (টিনিয়া সোলিয়াম )দ্বারা শরীরের মাংসপেশি ,
হৃৎপিন্ড,মস্তিষ্ক,চোখ,স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ মিলিয়নের অধিক । অথএব প্রমানিত হয় যে, মানুষের খাওয়া পরা প্রভৃতি বিষয়ে কুরআনের আদেশ নিষেধ চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত।
১৪ । বিস্ময়কর গ্রন্হ: জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন বিস্ময়কর তথ্য প্রদান করেছে। ডাঃ খন্দকার আবদুল মান্নান তার রচিত "কম্পিউটার ও কুরআন" নামক গ্রন্হে বলেন ,
১৯সংখ্যাটির জটিল জালকে যেভাবে (কুরআনে )
এ্ঁটে দেয়া হয়েছে তেমনিভাবে সমশব্দে,সমবাক্য সংখ্যায় সমান সংখ্যক অক্ষরে একটি অনুরূপ বৈশিষ্টের গ্রন্হে রচনার জন্য প্রয়োজন পড়ত ৬.২৬×১০ বছর। "কম্পিউটার প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী এর জন্য "৬৩অক্টিলিয়ন (৬৩০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ )বার" প্রচেষ্টা চালাতে হবে । তাই অকাট্য যুক্তিভিত্তিক
কুরআনের আল্লাহ বলেন যে, সমগ্র মানব জাতি
ও জীবন সম্প্রদায় সমুদ্রের পানিকে কালিরূপে ব্যবহার করে এটি লেখার প্রচেষ্টা চালালে পানি শেষ হয়ে গেলেও অনুরূপ গ্রন্হ লেখা সম্ভব হবে না । গোয়েথ বলেন "এর রচনা শৈলী অনমনীয় ,
পূর্ণাঙ্গ ও চমকপ্রদ যা চিরকালই মহিমান্নিত "।
গবেষক জর্জ বিল বলেন "কোন মহামানবের জ্ঞান ও মেধা এধরনের গ্রন্হ রচনা করতে সক্ষম নয় ।
মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার চেয়েও কঠিন, দুঃসাধ্য ও অলৌকিক এ গ্রন্হ "।
১৫। শিল্প সাহিত্যঃ কুরআন আল্লাহর এক অতুলনীয় মহাগ্রন্হ ও অপূর্ব সাহিত্য সম্ভারে সৌন্দর্যমন্ডিত । ভাষার মাধুর্যে অপূর্ব রচনা শৈলী
এবং বর্ণনার চাতুুর্যে এর সমকক্ষ কোন শিল্প সাহিত্য আজও সৃষ্টি হয়নি । এমনই তার প্রকাশ ভঙ্গি যে একে সব কিছুই বলা যায় অথচ এ যেন এর কোনটিই নয়, এক অপূর্ব ও অনন্য সৃষ্টি ।
ইতিহাস প্রমান করে যে, কোন কবি সাহিত্যিকের পক্ষে কুরআনের ভাষা, লালিত্য, মাধুর্য ছন্দ ও সাহিত্যিক সৌন্দর্যের সাথে তুলনীয় একটি স্তবক তৈরির চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করতে পারেনি। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সমসাময়িক কবি সাহিত্যিকগণ এক বাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য হন
যে, এটি মানুষের সৃষ্টি হতে পারে না ।
১৬। জীব বিজ্ঞানের স্পর্শ মণি: কুরআন সকল বিষয়ের প্যানেসিয়া ও জ্ঞান বিজ্ঞানের স্পর্শমণি ।
এতে রয়েছে নৃতত্ত, পুরাতত্ত,ইতিহাস ,ভূগোল,চিকিৎসা , সমাজবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা,
রসায়ন , দর্শন সাহিত্য প্রভৃতি অসংখ্য জ্ঞান সাধনার দিক দিক নির্দেশনা।
১৭ । সৃজনশীল শিক্ষা ও গবেষনা : অন্যান্য সৃষ্ট
জীবের ওপের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের প্রয়োজন জ্ঞানার্জন ।
জ্ঞান সৃজন শক্তির বিকাশ সাধনে সহায়ক । সৃজনশীলতায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতিশীলতা ও সৃজনশীলতা ইসলামের
মূল তত্তের সাতে একাত্ম হয়ে আছে । শুধু দৃৃৃৃষ্টি রাখতে হবে আল্লাহর সাথে যেন কোন শরীক করা না হয় । তারপর জীব ও জড় পদার্থ, সৃষ্টি,ধ্বংস যাতেই বিশ্ব মানবতার মঙ্গল সাদন সম্ভব,সে সম্পর্কেই 'শিক্ষা করা যায়, গবেষনা (ইজতিহাদ )
করা যায় । প্রকৃতির কোন বস্তু হিসেবে অকেজো নয়। প্রতিটি প্রাকৃতিক বস্তুকে মানুষ চিন্তা বাবনা এবং গবেষণার বস্তু হিসেবে বেছে নিতে পারে। পরিবেশ ও প্রকৃতিতে প্রাপ্ত প্রতিটি অণুপরমাণু মানুষের মঙ্গলের জন্য তৈরী । তাদের দায়িত্ব হল তা কাজে লাগান । কুরআন শুধু শিক্ষার ওপরই গুরুত্ব দেয়নি তদোপরি গাভীর জ্ঞান সাধনা ও গবেষনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ।
১৮। পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার: অজানাকে জানা ও প্রাকৃতিক রহস্য ভেদ করা মানুষের দায়িত্ব । কুরআন তাদেরকে আল্লাহর উপাসনার পর 'পৃথিবীর বিভিন্ন স্হানে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছে। মানুষকে জানতে হবে আল্লাহর সৃষ্ট অজানা বস্তুকে। খুঁজে আবিষ্কার করতে হবে কিসে মানুষের মঙ্গল হবে। মানব জীবনের প্রকৃত সার্থকতা হল স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে জেনে এ দুয়ের সাথে
মানুষের কি সম্পর্ক তা জানা। আল্লাহ কুরআনে বলেন, 'পৃথিবী ভ্রমণ কর এবং তোমার পূর্ববর্তীদের পরিণতির প্রক্রিয়া লক্ষ্য কর ও চিন্তা
অনুধ্যান করে তারা বলতে বাধ্য হয় , হে আমাদের রব ! তুমি ইহা ।
১৯। শিল্প ও সাহিত্র : কুরআনের আল্লাহর এক অতুলনীয় মহাগ্রন্হ ও অপূর্ব সাহিত্য সম্ভারে সৌন্দর্যমন্ডিত । ভাষার মাধুর্যে অপূর্ব রচনা শৈলী এবং বর্ণনার চাতুর্যে এর সমকক্ষ কোন শিল্প সাহিত্য আজও সৃষ্টি হয়নি। এমনই তার প্রকাশ
ভঙ্গি যে একে সব কিছুই বলা যায় অতচ এ যেন এর কোনটিই নয়, এক অপূর্ব ও ।।
ড: ষ্ট্রেইন গ্রাস বলেন, "এ গ্রন্হ সময় ও মানসিকতার দিক থেকে দূরবর্তী পাঠকের মনেও
সৃষ্ট করে শক্তি এবং সংগত আবেগ । এ গ্রন্হ বিমুখ পাঠককে শুধু জয়ই করে না, বরয় মনে সৃটি করে অভূতপূর্ব বিস্ময়। জর্জ বার্নাডশ, জনডেভেন পোর্ট, মারডিউক পিটটক, চমাস কার্লাইল এবং মহাত্ম গান্ধীর মত দার্শনিক ও চিন্তাবিদ মনীষীবৃন্দ রাসূল মুহাম্মদের প্রশংসা করে বলেন যে, লক্ষ কোটি মানুষের মধ্যে তিনি ছিলেন অনন্য ও সর্বশ্রেষ্ঠ। গীবনের মত , মুহাম্মদের ধর্মমত সব সন্দেহের সংশয় থেকে মুক্ত। বিধর্মী আরবদেরকে মোজেজা প্রদর্শনের দাবিতে আল্লাহ স্বয়ং নির্দেশ দেন যে, মহাগ্রন্হ কুরআন মোজেজা সম্পন্ন । স্যার চমাস কার্লাইল বলেন, কুরআন এমন একটি অগ্নি স্ফূলিঙ্গ যা বিস্ফোরক হিসেবে দিল্লি থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত আলোড়িত করেছে । লন্ডন থেকে প্রকাশিত "দি ইস্ট" পত্রিকায় বলা হয়েছে "কুরআন হচ্ছে একটি অতি আশ্চর্যজনক গ্রন্হ -যা জ্ঞান বুদ্ধির আওতার বাইরে। প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কুরআনের অশেষ নির্দেশনা রয়েছে । এ সবের কিছু নিম্নরুপ :
১। বিশ্ব সৃষ্ট : বর্তমান বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক দর্শ পূর্বে সিদ্ধান্ত নেন যে, মহাবিশ্বের সকল বস্তুই বৃত্তাকারে ঘুরছে । চৌদ্দশত বছর পূর্বে কুরআন ঘোষণা দেয়, "অবিশ্বাসীগণ কি দেখে না যে, আসমান সমূহ এবং জমিন একত্রে সৃষ্টর এককরূপে ছিল, যতক্রণ না আমরা (আল্লাহ )
এসবকে খন্ড খন্ড ভাবে বিভিন্ন করেছি (আল -কুরআন -২১:৩০ ") ।
তিনিই সৃষ্ট করেছেন দিন ও রাত্রি এবং চন্দ্র ও সূর্যকে। সকলেই (মহাবিশ্বের বস্তুসমূহ ) তাদের
বৃত্তাকার কক্ষপতে ভেসে বেড়ায় ।
২। রাসায়নিক তথ্য : কুরআনে উদ্ভিদ তত্ত,পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, গণিত ইত্যাদি বিষয়ক অসংখ্য নির্দেশনা রয়েছে । যেমন বাতাস থেকে খাদ্য তৈরি করা সম্পর্কিত কুরআনের নির্দেশনা ! "তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদের্শন দেখান।এবং আকাশ থেকে খাদ্য পাঠান (১০:৩০ )
রসায়ন শাস্ত্র সম্পর্কিত জ্ঞানার্জনের নির্দেশ আছে কুরআনে ৪৩ টি আয়াতে।
৩। গণিতের রহস্যময় বন্ধন : কুরআনের সূরা মুদ্দাছিরের ৩০তম আয়াতে বলা হয়েছে "এর ওপর উনিশ"। গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঊনিশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । ইহা গণতের প্রথম সংখ্যা ১ দিয়ে শুরু এবং শেষ সংখ্যা ৯ দিয়ে শেষ অর্থাৎ ১৯ হচ্ছে গণিতের আলফা,ওমেগা । ১৯ কেবল ১৯ ও ১ ছাড়া অন্য সংখ্যা দিয়ে বিভাজ্য নয় ।
সংখ্যাতত্তের বিচার ১৯ সর্বশ্রেষ্ঠ । প্রকৃত পক্ষে মহাগ্রন্হ কুরআনে আল্লাহ "গণিতের সর্বজন গ্রাহ্য
অথচ বিস্ময়কর বন্ধন প্রয়াগ করেছেন । সমস্ত কুরআনে ছড়িয়ে আছে গণিতের এ বিস্ময়কর বন্ধন। যেমন "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" বাক্যের মোট বর্ণ সংখ্যা ১৯ এতে ব্যবহৃত চারটি শব্দ ইলম, আল্লাহ,আর রাহমান আর রাহীম সমগ্র কুরআনে যথাক্রমে ১৯, ২৬৯৬, ৫৭ এবং ১১৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে । এর সব কয়টি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য। কুরআনের সূরা সংখ্যা ১১৩ হয়তে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয়। কিন্তু সূরা তাওবার ৩০তম আয়াতে এ সীল অন্তর্ভুক্ত করে সীল সংখ্যা ১১৩ +১ : ১১৪ এবং ১৯ দ্বারা বিভাজ্য রাখা হয়েছে কম্পিউটারের নির্ভুল পদ্ধতিতে। নিরক্ষর রাসূলের পক্ষে ১৯ এর এ বিস্ময়কর বুনন সম্ভব ছিল না ।
এতে কুরআনের মহান রচয়িতা আল্লাহ বলে প্রমাণিত হয় ।
৪। মুকাত্তাত : পৃথিবীর কুরআন ব্যতীত আর কোন গ্রন্হ নেই যার একটি অক্ষরও আজ পর্যন্ত
পরিবর্তিত হয়নি । এক মাত্র কুরআনেই অলৌকিকভাবে অজ্ঞাত অর্থ নির্দেশক অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে যাকে বলা হয় মুকাত্তাত যে প্রথম সূরা বাকারায় প্রথমে আছে আলীফ লাল মীম । এসব মুকাত্তাতের ১৪টি বর্ণ ১৪টি বিন্যাস ২৯টি সূরার প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে যার যোগ সংখ্যা ১৪+১৪+২৯ - ৫৭ ঊনিশ দ্বারা বিভাজ্য ।
একক অক্ষর মুকাত্তাত বিশিষ্ট তিনটি সূরার মধ্যে কালামের মুকাত্তাত নূন, এ সূরাতে ১৩৩ বার ব্যবহার করা হয়েছে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য দুটি সূরায় স্কাফ সম্বলিত মুকাত্তাত আছে। এ দুটোতে ব্যবহার করা হয়েছে ১১৪ বার যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য । আল্লাহ বিস্ময়কর দুরদর্শিতার সাথে ক্কাফ সূরায় ঊনিশের ফরমূলা ঠিক রেখেছেন ।
কারণ আল্লাহ কুরআনের ১২টি স্হানে লুৎ সম্প্রদারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতি ক্ষেত্রে
একই বিশেষণ "কাওমেনুলুত" ব্যবহার করলেও
একমাত্র সূরা ক্কাফের ১৩তম আয়াতে ইথওয়ানুলুত ব্যবহার করে অংকের হিসাব ঠিক রেখেছেন। অন্যথায় কাফের সংখ্যা ৫৭ এর পরিবর্তে ৫৮ হত, ৫০, ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয় । নিরক্ষর শেষ রাসূলের পক্ষে গাণিতিক হিসেব করে ১৯ এর ফরমুলা ঠিক রাখা সম্ভব ছিল না ।
৫। বিজ্ঞান সাধনায় ভিত্তিক : আল্লাহ বলেন, "যাকে বিজ্ঞানের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে
যথেষ্ট জ্ঞান দান করা হয়েছে"। আল্লাহ বার বার নির্দেশ দিয়েছেন তার সৃষ্ট সম্পর্কে চিন্তা করতে ।
"বিজ্ঞান মুসলমানদের দান" গ্রন্হে জনাব এম আকবর আলী দেখিয়েন যে, একমাত্র রসায়ন শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ আছে কুরআনের বিভিন্ন সূরায় ৪৩টি আয়াতে। পানি দ্বারা খাদ্য উৎপাদন, বাতাস থেকে খাদ্য তৈরি, গাভীর দুধ কীভাবে তৈরি হয়, এসব রসায়নের মিশ্রশনের কথাও কুরআনের আছে। কুরআন ঘোষণা করে, তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখান এবং আকাশ থেকে খাদ্য তৈরি বিষয়ক
সূক্ষ্ম রাসায়নিক বিষয়ে কুরআনের ২৪টি আয়াতে চিন্তাশীলদের সৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে । কুরআনের এ ঘোষণার বহু শত বছর পরে বাতাসের নাইট্রোজেন থেকে সার তৈরী ও কৃষি কাজে তা ব্যবহারের দ্বারা খাদ্য তৈরির ব্যাপারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে । কুরআনের শিক্ষা মতবাদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব মানবতার সমস্যা সার্বিক সমাধান করা সম্ভব । কুরআন মানব সভ্যতা বিকাশের প্রতিস্তরে ও শিক্ষার গতিশীলতার ক্ষেত্রে নব নব অবদান রাখতে সক্ষম।
৬। সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা : বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী এবং লেখক ডঃমরিস বুকাইলী তাঁর "দি বাইবেল কুরআন এন্ড 'সায়েন্স" গ্রন্হে পবিত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্পর্কে বলেন যে , "কুরআনে এমন কোন একটা বক্তব্যও নেই যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিচার খন্ডন করা যেতে পারে" ।
প্রকৃতপক্ষে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষনা এবং আবিষ্কারের পূর্বে সঠিকভাবে নির্ধারন সম্ভব ছিল না। তাই মহাগ্রন্হ কুরআনে বার বার আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
৭। সূর্যের গতিপথঃ আরো আশ্চর্যের বিষয় কুরআন চৌদ্দশত বছর পূর্বে ২১ নং সূরার ৩০ নং আয়াতে ঘোষণা করেছে, "সূর্য কখনও ধরতে পারবে না চন্দ্রকে, কিংবা রাত্রি অতিক্রম করতে পারবে না দিবসকে , প্রত্যেকেই পরিভ্রমণে নিরত নিজ নিজ কক্ষে "। অথচ কেবল ১৯৭১ খৃস্টাব্দের দিকে বিজ্ঞানীরা জানতে পারে যে, আমাদের ছায়াপথ এবং সূর্য়েরও একটি গতিপথ আছে। তারা নিজেদের মেরুদদন্ডের ওপর ঘুরপাক খেয়ে একবার ঘুর আসতে সময় নেয় ৫৫ কোটি বছর ।
৮। বিশ্ব সম্প্রসারন: মহাবিশ্বের সম্প্রসাণ সম্পর্কে ৭১ নং সুরায় ৪৭ আয়াতে চৌদ্দশত বছর পর্বে বলা হয়েছে, "আকাশ মন্ডলী, আমরাই তা সৃষ্টি
করেছি ক্ষমতার বলে এবং নিশ্চয়ই আমরা তাকে সম্প্রসারণ করি"। এ সম্পর্কে আইনস্টাইনের সূত্র
ইদানীং কালের ব্যাপারে। বিভিন্ন ছায়াপথের বর্ণালী বিভা ক্রমান্নয়ে লালচে হয়ে যাওয়া থেকে ধারণা হচ্ছে যে, ছায়া পথগুলো ক্রমে পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং মহাবিশ্বের পরিমন্ডল
ক্রমে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
৯। প্রাণসৃষ্টি : মাত্র কয়েক দশক পূর্বে আমরা জেনেছি যে, পানিই সকল প্রাণের উৎস। অথচ
১৪ শত বছর পূর্বে প্রাণ সৃষ্ট সম্পর্কে কুরআনের
২৪ নং সূরায় ৪৫নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, "আল্লাহ সকল প্রকার প্রাণি কে পানিহতে সৃষ্ট করেছেন" । কুরআনে ব্যবহৃত পানি (মা'আ ) শব্দটি দ্বারা বুঝান হয়েছে যে, "পানি হচ্ছে জীবন্ত সব কিছুর জীবকোষ উপাদান 'সাইটোপ্লাজম'।
পানি ছাড়া জীবন সম্ভব নয়। তাই অন্য গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে খোঁজা হয় পানির অস্তিত্ব ।
১০ । মহাশূন্য বিজয়ঃ মানুষের ভ্রমণ সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছেন ড: মরিস বুকাইলী । সংশ্লিষ্ট আয়াতটি হল ৫৫নং সূরায় ৩৩নং আয়াত: "হে জীব ও মানব মন্ডলী ! যদি তোমরা প্রবেশ করতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায় তাহলে এতে প্রবেশ কর, তোমরা তাতে প্রবেশ করতে পারবে না মহাক্ষমতা ব্যতিরেক " ।
তাতে ব্যাবহৃত শব্দ নাফাজার অর্থ হল প্রবেশ করা বা "টু পেনিট্রেট" অর্থাৎ কোন কিছুর ভেতরে সোজা ঢুকে অপর পার্শ্বে বের হয়ে যাওয়া । এ দ্বারা মানুষের পক্ষে মহাশূন্য বিজয়ের সম্ভাব্যতা নির্দেশ করা হয়েছে বলে , ড: বুকাইলী মনে করেন।
১১। ভবিষ্যৎ বাণী ও ফেরাউনের দেহ : কুরআনে ফেরাউন এর মরা দেহ সংরক্ষন সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণীতে বলা হয়, "আজ আমরা কেবল তোমার
(মৃত) দেহকেই রক্ষা করব যাতে তুমি তোমরা পরবর্তীদিগের জন্য নিদর্শন হতে পারে"।ঊনবিংশ
শতাব্দীর শেষ দিকে ১৮৯৪ খৃস্টাব্দে তা আবিস্কৃত হয়। কুরআনে প্রদত্ত বর্ণনা অনুযায়ী পানিতে ডুবে
তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। কায়রো
শহরের তারবীজ জাতীয় যাদুঘরে রক্তি মমিটি
দেখলে বুঝা যাবে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি কেমন বিস্ময়করভাবে সত্যে পরিণত হয়েছেে ।
১২ । জীব বিজ্ঞান : ডঃ আবদুল্লাহ এলিশন
(ইসলাম গ্রহণেন পূর্বনাম আর্থার জে এলিশন) বলেন, "মহাবিশ্ব সৃষ্টি , গ্রহ -নক্ষত্র সৃষ্ট , জীবজগতের যত সব রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চিরন্তন এ আসমানী কিতাব" (আল -কুরআন)।
চন্দ্র -সূর্য, গ্রহ - -নক্ষত্রের গতি প্রকৃতি, এর আবর্তন -বিবর্তন সম্পর্কে, পানি,সমুদ্র, বায়ু মন্ডল, বিদ্যুৎ ,প্রাণি জগৎ, প্রাণের উৎপত্তি ও
বিকাশ, মহাকাল ইত্যাদি সম্পর্কে এমন নিখুঁত
নির্ভুল জ্ঞান -বিজ্ঞানের পবিত্র কুরআনে প্রকাশ করেছে - যা কোন মানুষের রচনা হতে পারে না "। জীব বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর সত্য ১৪ শত বছর
পূর্বে কুরআনে বর্ণিথ হলেও তা ইদ্যানিং কালে
গবেষণায় আবিস্কৃত হয়েছে।
টরেন্টো -বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রুণতত্তের প্রফেসর ডঃ কিথ মুর বলেন, "মানুষের বৃদ্ধির কিছু ব্যাপারে (মাতৃগর্ভে) কুরআন যা বলেছে, মাত্র ৩০ বছর পূর্বেও তা জানা ছিল । কুরআন একটি স্তরে মানুষকে "জোঁক সদৃশ্য জমাট বাঁধা রক্ত" বলে বর্ণনা করেছে । ডঃ মুর তাঁর গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখতে পান কুরআনের বর্ণনা যে সঠিক তা কেবল অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করা যায়।
আবিস্কৃত তথ্য সমগ্র কানাডার পত্র পত্রিকায় প্রকাশীত হয় । চৌদ্দশত বছর পূর্বে আরবে কোন
অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছিল না যে, তা পরীক্ষণ করে কুরআনে লিখবে। একমাত্র আল্লাহর পক্ষে তা সম্ভব । সূরা বাকারায় নবজাতক শিশুকে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করানোর নির্দেশ সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত।
১৩। চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত নিষিদ্ধ বস্তুঃ কুরআনে শুকরের গোস্ত হারাম করার পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ইদানীং আবিস্কৃত হয়েছে যে, শুকরের মাংশ খাওয়ার ফলে ট্রাইকিনোলো স্পাইরালিস (পর্কওয়ার্ম) দ্বারা ট্রাই কিনসিস রোগ সৃষ্টি হয় । যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন লোক এ রোগে আক্রান্ত । সম্প্রতি কালে বৈজ্ঞানিক গবেষনায় দেখা গেছে যে, সাটস্কিল নামক প্রোটিন শুকরের মাংসে পাওয়া যায় তাতে বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। শুকরের মাংসে প্রাপ্ত মিউকো -পলিস্যাকারাইডস শরীরের গ্রন্হিসমূহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে । বর্তমান বিশেক্ষ স্কুর্কওয়ার্ম (টিনিয়া সোলিয়াম )দ্বারা শরীরের মাংসপেশি ,
হৃৎপিন্ড,মস্তিষ্ক,চোখ,স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ মিলিয়নের অধিক । অথএব প্রমানিত হয় যে, মানুষের খাওয়া পরা প্রভৃতি বিষয়ে কুরআনের আদেশ নিষেধ চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত।
১৪ । বিস্ময়কর গ্রন্হ: জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন বিস্ময়কর তথ্য প্রদান করেছে। ডাঃ খন্দকার আবদুল মান্নান তার রচিত "কম্পিউটার ও কুরআন" নামক গ্রন্হে বলেন ,
১৯সংখ্যাটির জটিল জালকে যেভাবে (কুরআনে )
এ্ঁটে দেয়া হয়েছে তেমনিভাবে সমশব্দে,সমবাক্য সংখ্যায় সমান সংখ্যক অক্ষরে একটি অনুরূপ বৈশিষ্টের গ্রন্হে রচনার জন্য প্রয়োজন পড়ত ৬.২৬×১০ বছর। "কম্পিউটার প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী এর জন্য "৬৩অক্টিলিয়ন (৬৩০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ )বার" প্রচেষ্টা চালাতে হবে । তাই অকাট্য যুক্তিভিত্তিক
কুরআনের আল্লাহ বলেন যে, সমগ্র মানব জাতি
ও জীবন সম্প্রদায় সমুদ্রের পানিকে কালিরূপে ব্যবহার করে এটি লেখার প্রচেষ্টা চালালে পানি শেষ হয়ে গেলেও অনুরূপ গ্রন্হ লেখা সম্ভব হবে না । গোয়েথ বলেন "এর রচনা শৈলী অনমনীয় ,
পূর্ণাঙ্গ ও চমকপ্রদ যা চিরকালই মহিমান্নিত "।
গবেষক জর্জ বিল বলেন "কোন মহামানবের জ্ঞান ও মেধা এধরনের গ্রন্হ রচনা করতে সক্ষম নয় ।
মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার চেয়েও কঠিন, দুঃসাধ্য ও অলৌকিক এ গ্রন্হ "।
১৫। শিল্প সাহিত্যঃ কুরআন আল্লাহর এক অতুলনীয় মহাগ্রন্হ ও অপূর্ব সাহিত্য সম্ভারে সৌন্দর্যমন্ডিত । ভাষার মাধুর্যে অপূর্ব রচনা শৈলী
এবং বর্ণনার চাতুুর্যে এর সমকক্ষ কোন শিল্প সাহিত্য আজও সৃষ্টি হয়নি । এমনই তার প্রকাশ ভঙ্গি যে একে সব কিছুই বলা যায় অথচ এ যেন এর কোনটিই নয়, এক অপূর্ব ও অনন্য সৃষ্টি ।
ইতিহাস প্রমান করে যে, কোন কবি সাহিত্যিকের পক্ষে কুরআনের ভাষা, লালিত্য, মাধুর্য ছন্দ ও সাহিত্যিক সৌন্দর্যের সাথে তুলনীয় একটি স্তবক তৈরির চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করতে পারেনি। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সমসাময়িক কবি সাহিত্যিকগণ এক বাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য হন
যে, এটি মানুষের সৃষ্টি হতে পারে না ।
১৬। জীব বিজ্ঞানের স্পর্শ মণি: কুরআন সকল বিষয়ের প্যানেসিয়া ও জ্ঞান বিজ্ঞানের স্পর্শমণি ।
এতে রয়েছে নৃতত্ত, পুরাতত্ত,ইতিহাস ,ভূগোল,চিকিৎসা , সমাজবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা,
রসায়ন , দর্শন সাহিত্য প্রভৃতি অসংখ্য জ্ঞান সাধনার দিক দিক নির্দেশনা।
১৭ । সৃজনশীল শিক্ষা ও গবেষনা : অন্যান্য সৃষ্ট
জীবের ওপের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের প্রয়োজন জ্ঞানার্জন ।
জ্ঞান সৃজন শক্তির বিকাশ সাধনে সহায়ক । সৃজনশীলতায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতিশীলতা ও সৃজনশীলতা ইসলামের
মূল তত্তের সাতে একাত্ম হয়ে আছে । শুধু দৃৃৃৃষ্টি রাখতে হবে আল্লাহর সাথে যেন কোন শরীক করা না হয় । তারপর জীব ও জড় পদার্থ, সৃষ্টি,ধ্বংস যাতেই বিশ্ব মানবতার মঙ্গল সাদন সম্ভব,সে সম্পর্কেই 'শিক্ষা করা যায়, গবেষনা (ইজতিহাদ )
করা যায় । প্রকৃতির কোন বস্তু হিসেবে অকেজো নয়। প্রতিটি প্রাকৃতিক বস্তুকে মানুষ চিন্তা বাবনা এবং গবেষণার বস্তু হিসেবে বেছে নিতে পারে। পরিবেশ ও প্রকৃতিতে প্রাপ্ত প্রতিটি অণুপরমাণু মানুষের মঙ্গলের জন্য তৈরী । তাদের দায়িত্ব হল তা কাজে লাগান । কুরআন শুধু শিক্ষার ওপরই গুরুত্ব দেয়নি তদোপরি গাভীর জ্ঞান সাধনা ও গবেষনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ।
১৮। পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার: অজানাকে জানা ও প্রাকৃতিক রহস্য ভেদ করা মানুষের দায়িত্ব । কুরআন তাদেরকে আল্লাহর উপাসনার পর 'পৃথিবীর বিভিন্ন স্হানে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছে। মানুষকে জানতে হবে আল্লাহর সৃষ্ট অজানা বস্তুকে। খুঁজে আবিষ্কার করতে হবে কিসে মানুষের মঙ্গল হবে। মানব জীবনের প্রকৃত সার্থকতা হল স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে জেনে এ দুয়ের সাথে
মানুষের কি সম্পর্ক তা জানা। আল্লাহ কুরআনে বলেন, 'পৃথিবী ভ্রমণ কর এবং তোমার পূর্ববর্তীদের পরিণতির প্রক্রিয়া লক্ষ্য কর ও চিন্তা
অনুধ্যান করে তারা বলতে বাধ্য হয় , হে আমাদের রব ! তুমি ইহা ।
১৯। শিল্প ও সাহিত্র : কুরআনের আল্লাহর এক অতুলনীয় মহাগ্রন্হ ও অপূর্ব সাহিত্য সম্ভারে সৌন্দর্যমন্ডিত । ভাষার মাধুর্যে অপূর্ব রচনা শৈলী এবং বর্ণনার চাতুর্যে এর সমকক্ষ কোন শিল্প সাহিত্য আজও সৃষ্টি হয়নি। এমনই তার প্রকাশ
ভঙ্গি যে একে সব কিছুই বলা যায় অতচ এ যেন এর কোনটিই নয়, এক অপূর্ব ও ।।
Monday, 15 April 2019
কোরআনে ভূতত্ত্ববিদ্যা ( Geology) :
* পর্বত তাঁবুর কীলক বা পেরেকের মত
ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানে ভাঁজকরণ প্রতিভাস অধুনা আবিস্কৃত সত্য। ভাঁজকরণ প্রক্রিয়া পর্বতমালা বা শ্রেণি গঠনের জন্য দায়ি । ভূপৃষ্ঠের কঠিন আবরণটি ( Lithosphere ) যার উপরে আমরা বাস করি, সেটা একটি কঠিন খোসার মত, পক্ষান্তরে এর গভীর স্তরগুলো গরম এবং গ্যাসীয় ও তরল ( fluid ) এবং তাই এগুলো যে কোন রকম জীবের জীবন ধারণের জন্য অনোপযোগী। এটাও আমরা জানি যে , পর্বতের দৃঢ় ও সুস্হিত অবস্হা ভাঁজকরণ ঘটনার সাথে গভীরভাবে জড়িত। কারণ ভূপৃষ্ঠে যে ভাঁজগুলো ছিল, সেই ভাঁজগুলোই স্তরসমূহকে যোগান দিয়েছিল মজবুত ভিত্তি । আর এই স্তরসমূহ গবর্ত গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে ।
ভূতত্ত্ববিদগণ আমাদেরকে বলেন যে, পৃথিবীর ব্যাসার্ধও প্রায় ৩৭৫০ মাইল বা ৬,০৩৫ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ যার উপর আমরা বাস করি এটা খুবই পাতলা এর পুরুত্ব ১ থেকে ৩০ মাইল এর মধ্যে।
যেহেতু কঠিন আবরণটি পাতলা, তাই এর কম্পনের সম্ভাবনাটা বেশি । পবর্তগুলো পেরেক বা তাঁবুর কীলকের মত কাজ করে ও ভূপৃষ্ঠের এই কছিন আবরণটিককে ধরে রাখে এবং তাকে দেয় সুস্হিতি । কুরআনে হুবহু এরূপ বর্ণনাই রয়েছে ।
"আমি কি পৃথিবীকে বিস্তীর্ণ বিছানাস্বরূপ এবং পবর্তসমূহকে কীলক স্বরূপ সৃষ্ট করিনি ?" (আল কুরআন ৭৮:৬ -৭ )
'আওতাদ' শব্দটি অর্থ খুঁটি বা কীলক (ঐগুলোর মত যা ব্যবহার করা হয় তাঁবু খাটাতে ) এগুলো হল ভূতাত্বিক ভাঁজসমূহের (Geologecal folds)-
এর গভীর ভিত্তি।
'পৃথিবী' (Earth ) নামক একটি বই বিশ্বের অনেক -বিশ্ববিদ্যালয়ের বুনিয়দি (reference) পাঠ্য পুস্তক হিসেবে বিবেচনা করা হয় । পুস্তিকাটির অন্যতম লেখক ছিলেন ড. ফ্রাম্কপ্রেস (Dr.Frank press ) , যিনি ছিলেন ১২ বছর ধরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান একাডেমীর প্রেসিডেন্ট এবং ছিলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ( jimmy Carter) -এর বিজ্ঞান উপদেষ্টা। এই পুস্তকে তিনি চিত্র ও উপমা সহকারে বর্ণনা করেছেন যে, পর্বত
কীলকাকৃতির ,
(১. স্তরীভূত শিরার ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী গমণের ফলে সৃষ্ট অবস্হাকে ভাঁজ বলে । এই ভাঁজ পাললিক শিলায় অধিক হলেও আগ্নেয় শিলা বা রূপান্তরিত শিরার অনেক ভাঁজ পৃথিবীতে দেখা যায় । আকৃতিতে ভাঁজ কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক শত কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ( অনুবাদক)
পর্বত নিজেই পুরোটার একটি ক্ষুদ্র অংশ যার মূল মাটির গভীরে সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত। ড. প্রেসের মতে পর্বত সমূহ ভূপৃষ্ঠের কঠিন আবরণটিকে স্হিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে ।
'পৃথিবীর কম্পন রোধে পবর্তসমূহের কার্যক্রমে সম্পর্কে আল -কুরআন সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে ।
আমি পৃথিবীতে সৃষ্ট করেছি সুদৃঢ় পর্বতমালা যাতে 'পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে এদিক ওদিক ঢলে না যায়। (আল -কুরআন ২১:৩১ )
অনুরূপ বর্ণনা কুরআনের ১৬:১৫ ও ৩১:১০ স্হানে আছে তাই দেখা যায় পর্বতসমূহের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মহিমান্বিত কুরআনে যেসব বর্ণনা রয়েছে ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আবিষ্কারের সাথে পুরাপুরিই সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ ।
* পর্বতসমূহ সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত
ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বহু শক্ত স্তর মজবুত প্লেট বা পাতে (plates) বিভক্ত যেগুলোর পুরুত্ব হল প্রায় ১০০ কিল্রমিটার। এই পাত বা প্লেটগুলো আংশকি গলিত অঞ্চলে ভাসমান অবস্হায় থাকে । এই আংশকি গলিত অঞ্চলকে এসথেনোস্ফিয়ার (Aesthenosphere ) বলে । পর্বত গড়া শুরু হয় পাত বা প্লেটগুলোর প্রান্তসীমায়। পৃথিবীর কঠিন আবরণ (ভূত্বক) ৫ কিলোমিটার মোটা বা পুরু মহাসাগরের নিচে, প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মোটা সমতল মহাদেশীয় পৃষ্ঠাদশগুলোর নিচে প্রাই ৮০ কিলোমিটার মোটা বিশাল পবর্তমালা নিচে । এগুলো হল মজবুত ভিত্তি যার উপর পবর্তগুলো দাঁড়িয়ে আচে কুরআনেও পবর্তসমূহের ভিত্তি সম্পর্ক বলে ।
"আর তিনি পবর্তগুলো সুদৃঢ়ভাবে স্হাপন করেছেন" । (আল -কুরআন ৭৯:৩২ )
অনুরূপ বক্তব্য কুরআনের ১৬: ১৫, ৩১: ১০ ও ৮৮: ১৬৯ স্হানে উল্লেখ আছে।
১. 'Earth, Press and siever, p. 435,Also See science, Trsbuck and luthens: p.157.
২ -৩. পৃথিবীর শক্ত বিহরাবরণকে অশ্বমন্ডল । ( Lithosphers ) বলে। এর অংশ হচ্ছে প্লেট। অশ্বমন্ডলের নিচের স্তরকে অ্যাসথেনোসফিয়ার
( Aesthenosphere) বলে। এই স্তরের গভীরতা
১৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত তাপ ও চাপে এই স্তর কঠিন নয় বরং নমনীয়রূপে বিরাজমান। হয়ে থাকে । মোহনাসমূহে যা মিঠা বা সুপেয় পানিকে লবনাক্ত পানি হতে পৃথক করে সেটা আবিস্কৃত হয়েছে । সেটা হল Pycnocline zone বা অঞ্চল
যার চিহ্নিত ঘনত্ব ধারাবাহিকহীনভাবে দু'টি স্তরকে পৃথক করে থাকে। এই পর্দা বা অন্তরালটির (বিভাজন অঞ্চলের) রয়েছে এমন লবনাক্ততা যা সুপেয় পানি ও লবনাক্ত পানি এই উবয় প্রকার পানির লবনাক্ততা হতে আলাদা । নীল -নদ প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরের যেখানে পড়েছেে মিশরের সেই স্হানসহ অন্যান্য অনেক স্হানে এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে থাকে ।
(ঘ) মহাসাগরের গভীরে অন্ধকার
সামুদ্রিক ভূতত্ববিদ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ ও জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজীজ -বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দুর্গরাওকে কুরআনের
নিম্নলিখিত আয়াতের উপর তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয় --
"অথবা (অবিশ্বাসীদের অবস্হা) এর উপমা এমন, যেমন এক বিশাল গভীর সমুদ্রের তলের অন্ধকার, উপরে একটি তরঙ্গ ছেয়ে আছে তার উপর আরও একটি তরঙ্গ এবং এর উপরে ঘনকালো মেঘমালা। অন্ধকারের উপর অন্ধকার ছেয়ে আছে এমনকি কেউ যদি তার হাত বের করে তবে সে তা আদ্যে দেখতে পাবে না। আল্লাহ যাকে আলো দেন না তাঁর জন্য আর কোন আলো নেই" (আল -কুরআন ২৪: ৪০ )
অধ্যাপক রাও বলেন যে, বিজ্ঞানীগণ কেবলমাত্র বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মহাসাগরের গভীরের যে অন্ধকার বিরাজ করছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোনরূপ সাহায্য ছাড়া মানুষ পানির নিচে ২০ হতে ৩০ মিটার অধিক গভীরের ডুব দিতে সক্ষম নয় এবং মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২০০ মিটার অধিক গভীরে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না কুরআনের এই আয়াত সকল সাগরে কথা উল্লেখ করে না । কারণ প্রতিটি সাগর অন্ধকার স্তরে স্তরে পু্ঞ্জিভূত
করে রাখে না । এ আয়াত বিশেষভাবে গভীর সাগর বা গভীর মহাসাগরের কথাই উল্লেখ করেছে । যেহেতু কুরআন বলে বিশাল গভীর মহাসাগরের মধ্যে অন্ধকার। গভীর মহাসাগরের এই স্তরে স্তরে অন্ধকার সৃষ্ট ২টি কারণে হয়ে থাকে।
(১) আলোক রশ্মি ৭টি রং এর সমন্বয়ে গঠিত। এ সাতটি রং হল বেগুনি, নীল,আসমানী,সবুজ,হলুদ, কমলা ও লাল (বেনীআসহকলা)। আলোক রশ্মি যখন পানিতে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণ সংঘটিত হয়ে থাকে। পানির উপরিভাগের ১০ হতে ১৫ মিটার গভীরে পানি লাল রংকে শোষণ করে। তাই একজন ডুবরী ২৫ মিটার গভীরে যদি যান এবং আঘাতপ্রাপ্ত হন তাহলে তিনি তার রক্তের লাল রং দেখতে সক্ষম হবে না । কারণ লাল রংটি এই গভীরতায় পৌঁছতে পারে না । অনুরূপভাবে কমলা রং ৩০ হতে ৫০ সিটার, হলুদ ৫০ হতে ১০০ মিটার, সবুজ ১০০ হতে ২০০ মিটারের অধিক গভীর পানিতে শোষিত হয় । এক স্তরের পর অন্য স্তরে ক্রমাগতভাবে রং সমূহের অন্তর্ধান মহাসাগর
ক্রমবর্ধমান হারে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে থাকে
অর্থাৎ আলোর স্তরে স্তরে অন্ধকার সৃষ্ট হতে থাকে । ১০০০ মিটার গভীর নিচে পরিপূর্ণ অন্ধকার বিরাজ করে।
(২) সূর্যের রশ্মি মেঘমালার দ্বারা শোষিত হয় যাতে আলোকে রশ্মিগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে । ফলে মেঘমালায় নিচে সৃষ্ট হয় এক অন্ধকার স্তর ।
এটাই হল অন্ধকারের প্রথম স্তর । আবার যকন আলোকত রশ্মিসমূহ মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশে পৌঁছায় তখন এগুলো ঢেউ এর উপরিতল কর্তৃক প্রতিফলিত হয়, ফলে ঢেউ এর উপরিতল দীপ্তিময় চক চকে হয়ে উঠে। সুতরাং তরঙ্গগুলোই আলোককে প্রতিফলিত করে এবং অন্ধকার সৃষ্ট
করে । অপ্রতিফলিত রশ্মিগুলো পানি ভেদ করে সমুদ্রের গভীরে পৌঁছায় । সুতরাং মহাসাগর দু'টি অংশে বিভক্ত হয়ে যায় । অন্যটি গভীর অঞ্চল যা চিহ্নিত করা যায় অন্ধকার দ্বারা। পৃষ্ঠদেশ বা উপরিভাগ আবার মহাসাগরের গভীর অঞ্চল হতে পৃথক হয়েছে তরঙ্গমালা দ্বারা সাগর ও মহাসাগরের গভীর অঞ্চলে পানিকে ঢেকে রেখেছে আভ্যন্তরীণ তরঙ্গমালা। কারণ গভীর অংশের পানির ঘনত্ব তার উপরিভাগের পানির ঘনত্ব হতে অধিক। আভ্যন্তরীণ তরঙ্গমালার নিম্ন হতেই অন্ধকার শুরু ঞয় । এমনকি মাছেরাও সাগর মহাসাগরের গভীর অঞ্চলে দেখতে পায় না। তাদের একমাত্র আলোর উৎস হল তাদের নিজেদের দেহের আলো।
আল কুরআনের এটা যথার্থভাবে বর্ণনা করেছে --
"এক বিশাল গভীর সমুদ্রের মধ্যে অন্ধকার ,উপরে একটি তরঙ্গ ছেয়ে আছে তার উপর আরও একটি তরঙ্গ অন্য কথায়, এই তরঙ্গমালার উপরে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার তরঙ্গ অর্থাৎ ঐ তরঙ্গগুলো যা দেকা যায় মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশে বা উপরিভাগে।
কুরআনের আয়াতটি আরও বলে : শীর্ষদেশে রয়েছে ঘন কালো মেঘমালা, একের ইপর এক গভীর অন্ধকার ।
যেমন বর্ণনা করা হয়েছে এই মেঘমালা একটার উপর আর একটা আড়াল বা পর্দা হিসেবে রয়েছে এবং বিভিন্ন স্তরে আলোর রং শোষণ করে অতিরিক্ত অন্ধকার সৃষ্ট করে । অধ্যাপক দুর্গারাও তার বক্তব্যের পরিসমাপ্তি টানেন এ কথা বলে : ১৪০০ বছর পূর্বে একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এসব বিস্ময়কর ঘটনাসমূহের এরূপ সুবিস্তারিত বর্ণনা দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয় । সুতরাং এ সফল তথ্য অবশ্যই কোন অতিপ্রাকৃতিক উৎস হতেই এসেছে ।
ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানে ভাঁজকরণ প্রতিভাস অধুনা আবিস্কৃত সত্য। ভাঁজকরণ প্রক্রিয়া পর্বতমালা বা শ্রেণি গঠনের জন্য দায়ি । ভূপৃষ্ঠের কঠিন আবরণটি ( Lithosphere ) যার উপরে আমরা বাস করি, সেটা একটি কঠিন খোসার মত, পক্ষান্তরে এর গভীর স্তরগুলো গরম এবং গ্যাসীয় ও তরল ( fluid ) এবং তাই এগুলো যে কোন রকম জীবের জীবন ধারণের জন্য অনোপযোগী। এটাও আমরা জানি যে , পর্বতের দৃঢ় ও সুস্হিত অবস্হা ভাঁজকরণ ঘটনার সাথে গভীরভাবে জড়িত। কারণ ভূপৃষ্ঠে যে ভাঁজগুলো ছিল, সেই ভাঁজগুলোই স্তরসমূহকে যোগান দিয়েছিল মজবুত ভিত্তি । আর এই স্তরসমূহ গবর্ত গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে ।
ভূতত্ত্ববিদগণ আমাদেরকে বলেন যে, পৃথিবীর ব্যাসার্ধও প্রায় ৩৭৫০ মাইল বা ৬,০৩৫ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ যার উপর আমরা বাস করি এটা খুবই পাতলা এর পুরুত্ব ১ থেকে ৩০ মাইল এর মধ্যে।
যেহেতু কঠিন আবরণটি পাতলা, তাই এর কম্পনের সম্ভাবনাটা বেশি । পবর্তগুলো পেরেক বা তাঁবুর কীলকের মত কাজ করে ও ভূপৃষ্ঠের এই কছিন আবরণটিককে ধরে রাখে এবং তাকে দেয় সুস্হিতি । কুরআনে হুবহু এরূপ বর্ণনাই রয়েছে ।
"আমি কি পৃথিবীকে বিস্তীর্ণ বিছানাস্বরূপ এবং পবর্তসমূহকে কীলক স্বরূপ সৃষ্ট করিনি ?" (আল কুরআন ৭৮:৬ -৭ )
'আওতাদ' শব্দটি অর্থ খুঁটি বা কীলক (ঐগুলোর মত যা ব্যবহার করা হয় তাঁবু খাটাতে ) এগুলো হল ভূতাত্বিক ভাঁজসমূহের (Geologecal folds)-
এর গভীর ভিত্তি।
'পৃথিবী' (Earth ) নামক একটি বই বিশ্বের অনেক -বিশ্ববিদ্যালয়ের বুনিয়দি (reference) পাঠ্য পুস্তক হিসেবে বিবেচনা করা হয় । পুস্তিকাটির অন্যতম লেখক ছিলেন ড. ফ্রাম্কপ্রেস (Dr.Frank press ) , যিনি ছিলেন ১২ বছর ধরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান একাডেমীর প্রেসিডেন্ট এবং ছিলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ( jimmy Carter) -এর বিজ্ঞান উপদেষ্টা। এই পুস্তকে তিনি চিত্র ও উপমা সহকারে বর্ণনা করেছেন যে, পর্বত
কীলকাকৃতির ,
(১. স্তরীভূত শিরার ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী গমণের ফলে সৃষ্ট অবস্হাকে ভাঁজ বলে । এই ভাঁজ পাললিক শিলায় অধিক হলেও আগ্নেয় শিলা বা রূপান্তরিত শিরার অনেক ভাঁজ পৃথিবীতে দেখা যায় । আকৃতিতে ভাঁজ কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক শত কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ( অনুবাদক)
পর্বত নিজেই পুরোটার একটি ক্ষুদ্র অংশ যার মূল মাটির গভীরে সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত। ড. প্রেসের মতে পর্বত সমূহ ভূপৃষ্ঠের কঠিন আবরণটিকে স্হিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে ।
'পৃথিবীর কম্পন রোধে পবর্তসমূহের কার্যক্রমে সম্পর্কে আল -কুরআন সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে ।
আমি পৃথিবীতে সৃষ্ট করেছি সুদৃঢ় পর্বতমালা যাতে 'পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে এদিক ওদিক ঢলে না যায়। (আল -কুরআন ২১:৩১ )
অনুরূপ বর্ণনা কুরআনের ১৬:১৫ ও ৩১:১০ স্হানে আছে তাই দেখা যায় পর্বতসমূহের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মহিমান্বিত কুরআনে যেসব বর্ণনা রয়েছে ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আবিষ্কারের সাথে পুরাপুরিই সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ ।
* পর্বতসমূহ সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত
ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বহু শক্ত স্তর মজবুত প্লেট বা পাতে (plates) বিভক্ত যেগুলোর পুরুত্ব হল প্রায় ১০০ কিল্রমিটার। এই পাত বা প্লেটগুলো আংশকি গলিত অঞ্চলে ভাসমান অবস্হায় থাকে । এই আংশকি গলিত অঞ্চলকে এসথেনোস্ফিয়ার (Aesthenosphere ) বলে । পর্বত গড়া শুরু হয় পাত বা প্লেটগুলোর প্রান্তসীমায়। পৃথিবীর কঠিন আবরণ (ভূত্বক) ৫ কিলোমিটার মোটা বা পুরু মহাসাগরের নিচে, প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মোটা সমতল মহাদেশীয় পৃষ্ঠাদশগুলোর নিচে প্রাই ৮০ কিলোমিটার মোটা বিশাল পবর্তমালা নিচে । এগুলো হল মজবুত ভিত্তি যার উপর পবর্তগুলো দাঁড়িয়ে আচে কুরআনেও পবর্তসমূহের ভিত্তি সম্পর্ক বলে ।
"আর তিনি পবর্তগুলো সুদৃঢ়ভাবে স্হাপন করেছেন" । (আল -কুরআন ৭৯:৩২ )
অনুরূপ বক্তব্য কুরআনের ১৬: ১৫, ৩১: ১০ ও ৮৮: ১৬৯ স্হানে উল্লেখ আছে।
১. 'Earth, Press and siever, p. 435,Also See science, Trsbuck and luthens: p.157.
২ -৩. পৃথিবীর শক্ত বিহরাবরণকে অশ্বমন্ডল । ( Lithosphers ) বলে। এর অংশ হচ্ছে প্লেট। অশ্বমন্ডলের নিচের স্তরকে অ্যাসথেনোসফিয়ার
( Aesthenosphere) বলে। এই স্তরের গভীরতা
১৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত তাপ ও চাপে এই স্তর কঠিন নয় বরং নমনীয়রূপে বিরাজমান। হয়ে থাকে । মোহনাসমূহে যা মিঠা বা সুপেয় পানিকে লবনাক্ত পানি হতে পৃথক করে সেটা আবিস্কৃত হয়েছে । সেটা হল Pycnocline zone বা অঞ্চল
যার চিহ্নিত ঘনত্ব ধারাবাহিকহীনভাবে দু'টি স্তরকে পৃথক করে থাকে। এই পর্দা বা অন্তরালটির (বিভাজন অঞ্চলের) রয়েছে এমন লবনাক্ততা যা সুপেয় পানি ও লবনাক্ত পানি এই উবয় প্রকার পানির লবনাক্ততা হতে আলাদা । নীল -নদ প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরের যেখানে পড়েছেে মিশরের সেই স্হানসহ অন্যান্য অনেক স্হানে এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে থাকে ।
(ঘ) মহাসাগরের গভীরে অন্ধকার
সামুদ্রিক ভূতত্ববিদ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ ও জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজীজ -বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দুর্গরাওকে কুরআনের
নিম্নলিখিত আয়াতের উপর তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয় --
"অথবা (অবিশ্বাসীদের অবস্হা) এর উপমা এমন, যেমন এক বিশাল গভীর সমুদ্রের তলের অন্ধকার, উপরে একটি তরঙ্গ ছেয়ে আছে তার উপর আরও একটি তরঙ্গ এবং এর উপরে ঘনকালো মেঘমালা। অন্ধকারের উপর অন্ধকার ছেয়ে আছে এমনকি কেউ যদি তার হাত বের করে তবে সে তা আদ্যে দেখতে পাবে না। আল্লাহ যাকে আলো দেন না তাঁর জন্য আর কোন আলো নেই" (আল -কুরআন ২৪: ৪০ )
অধ্যাপক রাও বলেন যে, বিজ্ঞানীগণ কেবলমাত্র বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মহাসাগরের গভীরের যে অন্ধকার বিরাজ করছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোনরূপ সাহায্য ছাড়া মানুষ পানির নিচে ২০ হতে ৩০ মিটার অধিক গভীরের ডুব দিতে সক্ষম নয় এবং মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২০০ মিটার অধিক গভীরে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না কুরআনের এই আয়াত সকল সাগরে কথা উল্লেখ করে না । কারণ প্রতিটি সাগর অন্ধকার স্তরে স্তরে পু্ঞ্জিভূত
করে রাখে না । এ আয়াত বিশেষভাবে গভীর সাগর বা গভীর মহাসাগরের কথাই উল্লেখ করেছে । যেহেতু কুরআন বলে বিশাল গভীর মহাসাগরের মধ্যে অন্ধকার। গভীর মহাসাগরের এই স্তরে স্তরে অন্ধকার সৃষ্ট ২টি কারণে হয়ে থাকে।
(১) আলোক রশ্মি ৭টি রং এর সমন্বয়ে গঠিত। এ সাতটি রং হল বেগুনি, নীল,আসমানী,সবুজ,হলুদ, কমলা ও লাল (বেনীআসহকলা)। আলোক রশ্মি যখন পানিতে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণ সংঘটিত হয়ে থাকে। পানির উপরিভাগের ১০ হতে ১৫ মিটার গভীরে পানি লাল রংকে শোষণ করে। তাই একজন ডুবরী ২৫ মিটার গভীরে যদি যান এবং আঘাতপ্রাপ্ত হন তাহলে তিনি তার রক্তের লাল রং দেখতে সক্ষম হবে না । কারণ লাল রংটি এই গভীরতায় পৌঁছতে পারে না । অনুরূপভাবে কমলা রং ৩০ হতে ৫০ সিটার, হলুদ ৫০ হতে ১০০ মিটার, সবুজ ১০০ হতে ২০০ মিটারের অধিক গভীর পানিতে শোষিত হয় । এক স্তরের পর অন্য স্তরে ক্রমাগতভাবে রং সমূহের অন্তর্ধান মহাসাগর
ক্রমবর্ধমান হারে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে থাকে
অর্থাৎ আলোর স্তরে স্তরে অন্ধকার সৃষ্ট হতে থাকে । ১০০০ মিটার গভীর নিচে পরিপূর্ণ অন্ধকার বিরাজ করে।
(২) সূর্যের রশ্মি মেঘমালার দ্বারা শোষিত হয় যাতে আলোকে রশ্মিগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে । ফলে মেঘমালায় নিচে সৃষ্ট হয় এক অন্ধকার স্তর ।
এটাই হল অন্ধকারের প্রথম স্তর । আবার যকন আলোকত রশ্মিসমূহ মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশে পৌঁছায় তখন এগুলো ঢেউ এর উপরিতল কর্তৃক প্রতিফলিত হয়, ফলে ঢেউ এর উপরিতল দীপ্তিময় চক চকে হয়ে উঠে। সুতরাং তরঙ্গগুলোই আলোককে প্রতিফলিত করে এবং অন্ধকার সৃষ্ট
করে । অপ্রতিফলিত রশ্মিগুলো পানি ভেদ করে সমুদ্রের গভীরে পৌঁছায় । সুতরাং মহাসাগর দু'টি অংশে বিভক্ত হয়ে যায় । অন্যটি গভীর অঞ্চল যা চিহ্নিত করা যায় অন্ধকার দ্বারা। পৃষ্ঠদেশ বা উপরিভাগ আবার মহাসাগরের গভীর অঞ্চল হতে পৃথক হয়েছে তরঙ্গমালা দ্বারা সাগর ও মহাসাগরের গভীর অঞ্চলে পানিকে ঢেকে রেখেছে আভ্যন্তরীণ তরঙ্গমালা। কারণ গভীর অংশের পানির ঘনত্ব তার উপরিভাগের পানির ঘনত্ব হতে অধিক। আভ্যন্তরীণ তরঙ্গমালার নিম্ন হতেই অন্ধকার শুরু ঞয় । এমনকি মাছেরাও সাগর মহাসাগরের গভীর অঞ্চলে দেখতে পায় না। তাদের একমাত্র আলোর উৎস হল তাদের নিজেদের দেহের আলো।
আল কুরআনের এটা যথার্থভাবে বর্ণনা করেছে --
"এক বিশাল গভীর সমুদ্রের মধ্যে অন্ধকার ,উপরে একটি তরঙ্গ ছেয়ে আছে তার উপর আরও একটি তরঙ্গ অন্য কথায়, এই তরঙ্গমালার উপরে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার তরঙ্গ অর্থাৎ ঐ তরঙ্গগুলো যা দেকা যায় মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশে বা উপরিভাগে।
কুরআনের আয়াতটি আরও বলে : শীর্ষদেশে রয়েছে ঘন কালো মেঘমালা, একের ইপর এক গভীর অন্ধকার ।
যেমন বর্ণনা করা হয়েছে এই মেঘমালা একটার উপর আর একটা আড়াল বা পর্দা হিসেবে রয়েছে এবং বিভিন্ন স্তরে আলোর রং শোষণ করে অতিরিক্ত অন্ধকার সৃষ্ট করে । অধ্যাপক দুর্গারাও তার বক্তব্যের পরিসমাপ্তি টানেন এ কথা বলে : ১৪০০ বছর পূর্বে একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এসব বিস্ময়কর ঘটনাসমূহের এরূপ সুবিস্তারিত বর্ণনা দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয় । সুতরাং এ সফল তথ্য অবশ্যই কোন অতিপ্রাকৃতিক উৎস হতেই এসেছে ।
জীব বিজ্ঞানন (Biology) : কোরআন হতে
* প্রতিটি জীব পানি হতে সৃষ্ট হয় কুরআনের নিম্নেবর্ণিত আয়াতটি বিবেচনা করুন --
"অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে আকাশমন্ডলী
ও পৃথিবী (একক সৃষ্ট হিসেবে ) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল এরপর আমি তােকে পৃথক করে দিয়েছি এবং প্রতিটি জীবিত জিনিসকে পানি হতে সৃষ্ট করেছি তবুও কি তারা ঈমান আনবে না ?
(আল -কুরআন ২১:৩০ )
কেবলমাত্র বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার পরেই আমরা জানতে পেরেছি যে, জীব কোষের যে মৌলিক উপাদান , সাইটোপ্লাজম ( Cytoplasm ) তা ৮০% পানি দিয়ে তৈরি। আধুনিক গবেষণা আরও প্রকাশ করেছে যে, অধিকাংশ জীবেই ৫০% হতে ৯০ পানি আছে এবং প্রতিটি জীবন্ত সত্তারই বেঁচে থাকার জন্য পানির প্রয়োজন। নমস্ত জীবিত জিনিসই পানির দ্বারা গঠিত এ সত্যটি ১৪০০ বছর পূর্বে অনুমান করা কি কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব ? অধিকন্তু মরুভূমিতে যেখানে সর্বদাই রয়েছে পানির অভাব, সেখানে এরূপ একটি অনুমানও কি কোন মানুষের পক্ষে কল্পনাসাধ্য হতে পারে ?
কুরআনের সিম্নের আয়াত পানি হতে প্রাণী সৃষ্টর উল্লেখ রয়েছে :
"আর আল্লাহ সমস্ত জীব সৃষ্ট করেছেন পানি হতে "। (আল -কুরআন ২৪:৪৫)
কুরআনের নিম্নের আয়াতে পানি হতে মানুষ সৃষ্টর উল্লেখ রয়েছে :
"আর তিনিই পানি হতে মানুষ সৃষ্ট করেছেন । অতঃপর এ থেকে তার বংশগত ও অপরটি বৈবাহিক সম্পর্ক -এ দুটি আত্মীয়তার ধারা সৃষ্ট করেছেন । তোমার প্রতিপালক সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান "। (আল -কুরআন ২৫:৫৪ )
উদ্ভিদ বিজ্ঞান (Botany )
* উদ্ভিদ সৃষ্ট হয়ে জোঁড়ায়, পুরুষ ও স্ত্রীরূপে
পূর্বেকার লোকদের এধারণাই ছিল না যে, উদ্ভিদেরও চিহ্নিত বরণযোগ্য স্বতন্ত্র কোন পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ আছে । কিন্তু একণ উদ্ভিদ বিজ্ঞান প্রকাশ করেছে যে, প্রত্যেক উদ্ভিদের পুরুষ ও স্ত্রী
-এই উভইয়ের চিহ্নিতকরণযোগ্য উপাদান রয়ছে আল -কুরআন ঘোষণা তরে :
"তিনিই আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন এবং তা দিয়ে আমি নানান প্রকার উদ্ভিদ জোঁড়ায় জোঁড়ায়
সৃষ্ট করি যা একটি অন্যটি হতে আলাদা "(আল -কুরআন -২০:৫৩)
ফল সৃষ্ট হয় জোঁড়ায় জোঁড়ায় , পুরুষ ও স্ত্রী রূপে
(আল -কুরআনে উল্লেখ আছে -- --
"আর তিনি প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্ট করেছেন জোঁড়ায় জোঁড়ায়, দু'প্রকার "। (আল -কুরআন ১৩:৩ )
উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজননের সর্বশেষে সৃষ্ট হল ফল। ফলের পূর্ববর্তী অবস্হা হল ফুল যার আছে
পুরুষ অঙ্গ (পুংকেশর) এবং স্ত্রী অঙ্গ (গর্ভ কেশর । পরাগ রেণু বাহিত হয়ে ফুলে এসে পড়লে তাতে ফল ধরে। পালাক্রমে পরিক্ক হয় এবং তার বীজ মুক্ত করে। সুতরাং সকল ফলই পুরুষ ও স্ত্রী অঙ্গের অস্তিত্ব সূচিত করে। এ সত্যই প্রকাশ করেছে আল -কুরআন । কিছু প্রজাতির উদ্ভিদে
অনিষিক্ত ফুলেও (parthenocarpic ) ফলে আসে। যেমন - কলা, কিচু নির্দিষ্ট জাতের আনারস, ডুমুর,কমলা লেবু, আঙুর ইত্যাদি ।
তাদেরও অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিচয়বাহী লিঙ্গ আছে ।
১. যে ফুলে কেবলমাত্র পুং কেশর বা কেবলমাত্র গর্ভ কেশর থাকে তাকে এক লিঙ্গ ফুল (Unoseual flower) বলে । যে ফুলে কেবল স্ত্রী কেশর আছে তাকে স্ত্রী ফুল বলে । লাউ,কুমড়া,ঝিঙা ইত্যাদি উদ্ভিদে একই গাছে স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল জন্মে থাকে। অনুবাদক
সব কিছুই সৃষ্ট হয় জোঁড়ায় জোঁড়ায়
আল -কুরআন ঘোষণা করে :
"আর আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্ট করেছি জোঁড়ায়"(আল -কুরআন ৫১:৪৯)
এই আয়াতটি সকল জিনিসেরই উপর গুরুত্ব প্রদান করেছে , এটা মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও ফল ছাড়াও বিদ্যুতের ন্যায় অন্য কিছুকেও বুজায়। বিদ্যুতের যেমন আছে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ, সেরকম প্রত্যেক বস্তুর পরম্ণুতে ঋণাত্মক (negative ) চার্জবিহী ইলেকট্রন ও ধনাত্মক
(positive ) চার্জবাহী প্রোটন আছে।
কুরআন ঘোষণা করে -:
"পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং ওরা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে সৃষ্ট করেছেন জোড়া জোড়া করে"।
(আল -কুরআন ৩৬:৩৬)
এখানে -কুরআন বলছে জোঁড়ায় জোঁড়ায় সৃষ্ট করা হয়েছে সকল বস্তুকে ঐ সকল বস্তুসহ যেগুলোকে আজও মানুষ জানতে পারেনি, ভবিষ্যতে হয়ত সেগুলো আবিস্কৃত হবে ।
প্রাণি বিদ্যা (Zoology)
* পশু পাখি দলবদ্ধ হয়ে বাস করে
আল্লাহ বলেন :
"ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল সকল প্রাণি এবং ডানায় ভর করে উড়ন্ত সকল পাখি ওরা সকলে তোমাদের মতহ এক একটি সম্প্রদায় (হিসেবে জীবন ধারণ করে । (আল -কুরআন ৬:৩৮ )
গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাণি পাখি এরা সকলেই দলবদ্ধ হয়ে বাস করেে অর্থাৎ তারা সংগঠিত করে, একসঙ্গে বাস করে ও কাজ করে। * পাখির উডডয়ন
পাখির উডডয়ন সম্পর্কে কুরআনে বলে :
"তারা কি লক্ষ্য করেনি আকাশের শুন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন পক্ষীকুলের প্রতি? আল্লাহ ব্যতীত কেউ তাদেরকে ঊর্ধ্বে ধরে রাখে না । অবশ্য এতে রয়েছে নিদর্শন তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে
আল -কুরআন ১৬:৭৯ )
একই ধরনের বক্তব্য নিম্নের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে ।
" তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের ওপর উড়ন্ত পক্ষীকুলকে ডানা বিস্তার করতে এবং গুটিয়ে নিতে ? দয়াময় ব্যতীত আর কেউই তাদেরকে ধরোকে না ।নিশ্চয়ই তিনি সকল কিছুর প্রতি লক্ষ্য রাখেন । (আল -কুরআন ৬৭:১৯ )
আরবী 'আমসাকা' শব্দটির অর্থ 'কারো হাতের উপর রাখা, পাকড়াও করা , ধরে রাখা , কারো পিষ্টদেশ ধরা । এগুলো এ ধারণা প্রকাশ করে যে আল্লাহ তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে পাখিদেরকে ঊর্ধ্বে ধরে রাখেন। এই আয়াতগুলো, ঐশী নির্দেশের উপর পাখিদের আচরণগত পরম ঘনিষ্ট
নির্ভরতার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছে । আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত কিছু প্রজাতির পাখির গমনাগমনের পূর্বলেখ (programming বিষয়ে তাদের অর্জিত উৎকর্ষতার মাত্রা প্রদর্শন করেছে ।
পাখিদের বংশীয় সংকেতে তাদের যাবাবরী বা ভ্রমণশীল আচরণের অনুক্রম প্রকাশের ক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান আছে, আর কেবলমাত্র এটাই পথপ্রদর্শক ও পূর্ব অভিজ্ঞাত ছাড়াই একটি শিশু
পাখির দীর্ঘ ও জটিল ভ্রমণ এবং নির্দিষ্ট তারিখে
প্রস্হান স্হানে ফিরে আসার মক্ষমতার ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে। অধ্যাপক হাম বার্গার (prof.hamburger) তাঁর 'ক্ষমতা ও নশ্বরতা ' (power and Fragility) পুস্তুকে মাটন বার্ড ( mutton brid ) এর উপমা দিয়েছেন । এ পাখির বাস হল প্রশান্ত সাগরীয় এলাকায়। ইংরেজী সংখ্যা '৪' এর আকারে ১৫০০০ মাইল পথ ভ্রমণ করে । এ ভ্রমণ সম্পন্ন করতে তার সময় লাগে ৬ মাস এবং প্রস্হান স্হানে ফিরে আসে (নির্দিষ্ট তারিখের ) সর্বাধিক এক সপ্তাহ বিলম্বে। এরূপ একটি ভ্রমণের জন্য পাখিদের স্নায়ু কোষে খুবই জটিল নির্দেশিকা অবশ্য বিদ্যমান আচে । তারা অবশ্যই অনুক্রমিত (programmed )। আমাদের কি উচিত নয় সেই পূর্ব লেখনিকে (programmer ) এর পরিচয় জানা ?
"অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে আকাশমন্ডলী
ও পৃথিবী (একক সৃষ্ট হিসেবে ) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল এরপর আমি তােকে পৃথক করে দিয়েছি এবং প্রতিটি জীবিত জিনিসকে পানি হতে সৃষ্ট করেছি তবুও কি তারা ঈমান আনবে না ?
(আল -কুরআন ২১:৩০ )
কেবলমাত্র বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার পরেই আমরা জানতে পেরেছি যে, জীব কোষের যে মৌলিক উপাদান , সাইটোপ্লাজম ( Cytoplasm ) তা ৮০% পানি দিয়ে তৈরি। আধুনিক গবেষণা আরও প্রকাশ করেছে যে, অধিকাংশ জীবেই ৫০% হতে ৯০ পানি আছে এবং প্রতিটি জীবন্ত সত্তারই বেঁচে থাকার জন্য পানির প্রয়োজন। নমস্ত জীবিত জিনিসই পানির দ্বারা গঠিত এ সত্যটি ১৪০০ বছর পূর্বে অনুমান করা কি কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব ? অধিকন্তু মরুভূমিতে যেখানে সর্বদাই রয়েছে পানির অভাব, সেখানে এরূপ একটি অনুমানও কি কোন মানুষের পক্ষে কল্পনাসাধ্য হতে পারে ?
কুরআনের সিম্নের আয়াত পানি হতে প্রাণী সৃষ্টর উল্লেখ রয়েছে :
"আর আল্লাহ সমস্ত জীব সৃষ্ট করেছেন পানি হতে "। (আল -কুরআন ২৪:৪৫)
কুরআনের নিম্নের আয়াতে পানি হতে মানুষ সৃষ্টর উল্লেখ রয়েছে :
"আর তিনিই পানি হতে মানুষ সৃষ্ট করেছেন । অতঃপর এ থেকে তার বংশগত ও অপরটি বৈবাহিক সম্পর্ক -এ দুটি আত্মীয়তার ধারা সৃষ্ট করেছেন । তোমার প্রতিপালক সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান "। (আল -কুরআন ২৫:৫৪ )
উদ্ভিদ বিজ্ঞান (Botany )
* উদ্ভিদ সৃষ্ট হয়ে জোঁড়ায়, পুরুষ ও স্ত্রীরূপে
পূর্বেকার লোকদের এধারণাই ছিল না যে, উদ্ভিদেরও চিহ্নিত বরণযোগ্য স্বতন্ত্র কোন পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ আছে । কিন্তু একণ উদ্ভিদ বিজ্ঞান প্রকাশ করেছে যে, প্রত্যেক উদ্ভিদের পুরুষ ও স্ত্রী
-এই উভইয়ের চিহ্নিতকরণযোগ্য উপাদান রয়ছে আল -কুরআন ঘোষণা তরে :
"তিনিই আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন এবং তা দিয়ে আমি নানান প্রকার উদ্ভিদ জোঁড়ায় জোঁড়ায়
সৃষ্ট করি যা একটি অন্যটি হতে আলাদা "(আল -কুরআন -২০:৫৩)
ফল সৃষ্ট হয় জোঁড়ায় জোঁড়ায় , পুরুষ ও স্ত্রী রূপে
(আল -কুরআনে উল্লেখ আছে -- --
"আর তিনি প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্ট করেছেন জোঁড়ায় জোঁড়ায়, দু'প্রকার "। (আল -কুরআন ১৩:৩ )
উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজননের সর্বশেষে সৃষ্ট হল ফল। ফলের পূর্ববর্তী অবস্হা হল ফুল যার আছে
পুরুষ অঙ্গ (পুংকেশর) এবং স্ত্রী অঙ্গ (গর্ভ কেশর । পরাগ রেণু বাহিত হয়ে ফুলে এসে পড়লে তাতে ফল ধরে। পালাক্রমে পরিক্ক হয় এবং তার বীজ মুক্ত করে। সুতরাং সকল ফলই পুরুষ ও স্ত্রী অঙ্গের অস্তিত্ব সূচিত করে। এ সত্যই প্রকাশ করেছে আল -কুরআন । কিছু প্রজাতির উদ্ভিদে
অনিষিক্ত ফুলেও (parthenocarpic ) ফলে আসে। যেমন - কলা, কিচু নির্দিষ্ট জাতের আনারস, ডুমুর,কমলা লেবু, আঙুর ইত্যাদি ।
তাদেরও অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিচয়বাহী লিঙ্গ আছে ।
১. যে ফুলে কেবলমাত্র পুং কেশর বা কেবলমাত্র গর্ভ কেশর থাকে তাকে এক লিঙ্গ ফুল (Unoseual flower) বলে । যে ফুলে কেবল স্ত্রী কেশর আছে তাকে স্ত্রী ফুল বলে । লাউ,কুমড়া,ঝিঙা ইত্যাদি উদ্ভিদে একই গাছে স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল জন্মে থাকে। অনুবাদক
সব কিছুই সৃষ্ট হয় জোঁড়ায় জোঁড়ায়
আল -কুরআন ঘোষণা করে :
"আর আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্ট করেছি জোঁড়ায়"(আল -কুরআন ৫১:৪৯)
এই আয়াতটি সকল জিনিসেরই উপর গুরুত্ব প্রদান করেছে , এটা মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও ফল ছাড়াও বিদ্যুতের ন্যায় অন্য কিছুকেও বুজায়। বিদ্যুতের যেমন আছে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ, সেরকম প্রত্যেক বস্তুর পরম্ণুতে ঋণাত্মক (negative ) চার্জবিহী ইলেকট্রন ও ধনাত্মক
(positive ) চার্জবাহী প্রোটন আছে।
কুরআন ঘোষণা করে -:
"পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং ওরা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে সৃষ্ট করেছেন জোড়া জোড়া করে"।
(আল -কুরআন ৩৬:৩৬)
এখানে -কুরআন বলছে জোঁড়ায় জোঁড়ায় সৃষ্ট করা হয়েছে সকল বস্তুকে ঐ সকল বস্তুসহ যেগুলোকে আজও মানুষ জানতে পারেনি, ভবিষ্যতে হয়ত সেগুলো আবিস্কৃত হবে ।
প্রাণি বিদ্যা (Zoology)
* পশু পাখি দলবদ্ধ হয়ে বাস করে
আল্লাহ বলেন :
"ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল সকল প্রাণি এবং ডানায় ভর করে উড়ন্ত সকল পাখি ওরা সকলে তোমাদের মতহ এক একটি সম্প্রদায় (হিসেবে জীবন ধারণ করে । (আল -কুরআন ৬:৩৮ )
গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাণি পাখি এরা সকলেই দলবদ্ধ হয়ে বাস করেে অর্থাৎ তারা সংগঠিত করে, একসঙ্গে বাস করে ও কাজ করে। * পাখির উডডয়ন
পাখির উডডয়ন সম্পর্কে কুরআনে বলে :
"তারা কি লক্ষ্য করেনি আকাশের শুন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন পক্ষীকুলের প্রতি? আল্লাহ ব্যতীত কেউ তাদেরকে ঊর্ধ্বে ধরে রাখে না । অবশ্য এতে রয়েছে নিদর্শন তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে
আল -কুরআন ১৬:৭৯ )
একই ধরনের বক্তব্য নিম্নের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে ।
" তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের ওপর উড়ন্ত পক্ষীকুলকে ডানা বিস্তার করতে এবং গুটিয়ে নিতে ? দয়াময় ব্যতীত আর কেউই তাদেরকে ধরোকে না ।নিশ্চয়ই তিনি সকল কিছুর প্রতি লক্ষ্য রাখেন । (আল -কুরআন ৬৭:১৯ )
আরবী 'আমসাকা' শব্দটির অর্থ 'কারো হাতের উপর রাখা, পাকড়াও করা , ধরে রাখা , কারো পিষ্টদেশ ধরা । এগুলো এ ধারণা প্রকাশ করে যে আল্লাহ তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে পাখিদেরকে ঊর্ধ্বে ধরে রাখেন। এই আয়াতগুলো, ঐশী নির্দেশের উপর পাখিদের আচরণগত পরম ঘনিষ্ট
নির্ভরতার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছে । আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত কিছু প্রজাতির পাখির গমনাগমনের পূর্বলেখ (programming বিষয়ে তাদের অর্জিত উৎকর্ষতার মাত্রা প্রদর্শন করেছে ।
পাখিদের বংশীয় সংকেতে তাদের যাবাবরী বা ভ্রমণশীল আচরণের অনুক্রম প্রকাশের ক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান আছে, আর কেবলমাত্র এটাই পথপ্রদর্শক ও পূর্ব অভিজ্ঞাত ছাড়াই একটি শিশু
পাখির দীর্ঘ ও জটিল ভ্রমণ এবং নির্দিষ্ট তারিখে
প্রস্হান স্হানে ফিরে আসার মক্ষমতার ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে। অধ্যাপক হাম বার্গার (prof.hamburger) তাঁর 'ক্ষমতা ও নশ্বরতা ' (power and Fragility) পুস্তুকে মাটন বার্ড ( mutton brid ) এর উপমা দিয়েছেন । এ পাখির বাস হল প্রশান্ত সাগরীয় এলাকায়। ইংরেজী সংখ্যা '৪' এর আকারে ১৫০০০ মাইল পথ ভ্রমণ করে । এ ভ্রমণ সম্পন্ন করতে তার সময় লাগে ৬ মাস এবং প্রস্হান স্হানে ফিরে আসে (নির্দিষ্ট তারিখের ) সর্বাধিক এক সপ্তাহ বিলম্বে। এরূপ একটি ভ্রমণের জন্য পাখিদের স্নায়ু কোষে খুবই জটিল নির্দেশিকা অবশ্য বিদ্যমান আচে । তারা অবশ্যই অনুক্রমিত (programmed )। আমাদের কি উচিত নয় সেই পূর্ব লেখনিকে (programmer ) এর পরিচয় জানা ?
Friday, 12 April 2019
Culture Influence Business
Culture:
Culture is . understood to defer to such activities as dance. drama music and festivals. In its true sense culture is understated as that complex whole which includes knowledge , belief , art, morals, law, customs and other capabilities and habits acquired by an individual as a member of society. culture consists of. 'writes Elbert w. steward and tames A. Glynn. the thought and behavioural patterns thet memloers of a society learn through language and other forms of symbolic interests -action -their customs. hobits.
beliets and values . the common viewpcints which bind them together as a social entity. cultures change gradually. picking up new ideas and dropping old oncs
but many of the cultures of the past have been so presitent and selt. contained that the imlact of any sudden change tears them opast. up -rooting their people. psychogieally.
culture infruences business is brought out in the following stages .
(i) > culture creates people:
culture determines the ethos of the people.
(ii) > culture and Globalisation:
the need for understanding and appreciating culture differencess auross various countries is essential for business in the international molut.
(iii) > culture Determines Goeds and services:
culture broadly determines the type of goods and services a business should prpduce .
(iv) > Feoples Atlitude to business:
Attmitude of people towards business is largly dctermined by their culture.
(v) Ahitude to work:
Motiovation. morale and other related aspects of hunan resource menagement ore based on the workers attitude to their work.
(vi) > collectivism and individualism:
the spirit of collectivism and individualism is related to such personnel aspects as employee morale.
multiplicacy of trade unions and inper and inpra -union rivalries.
(vii) > Ambitions or complacent:
An individualis ambition to grow or remain complacent dcpends en his cultural ethos .
(viii) > Education:
the close interface of business and higber education is a new development.
(ix) > Family:
Basie to all types of social organigations is the family . the institutions which concerns itselt with love. gexual relationship. marriage reproduction. soci -alisation of the child and the vasious levels of slatus and roles involved in kinship organisation.
(ixi) > Authority:
the exercise of authority varies according to the nlaragement styles. but differenl styles are likcly to be present in different cultures.
(xi) > the view of scientific method :
culture influences business by scientific method.
(xii ) > Ethics in Business:
Ethics refers to the code of conduct that guides an individual in dealing with ofhers.
(xiii ) > Religion:
Religion refers to a specific and institu -tionalised set of beliefs and practices generally agreed upon by a number of persons or sects.
(xiv) > Marriage:
Traditionally marriage has three objectives:
the promotion of religion by the performance of how hold sacrifices. progeny where by the father and his ancestors where assured of a happy ofter and the line was continued and rati or sexual pleasure.
(xv) > Time dimension:
Tome dimension is another cultural aspect that will influenee business. time dimension refers to peoples orientation -past, present or future.
(xvi) > Cultural Resources:
cultural resources refer to the heritage which -makes -the country distinctive.
thoss all points ate the summery that culture influences business.
Culture is . understood to defer to such activities as dance. drama music and festivals. In its true sense culture is understated as that complex whole which includes knowledge , belief , art, morals, law, customs and other capabilities and habits acquired by an individual as a member of society. culture consists of. 'writes Elbert w. steward and tames A. Glynn. the thought and behavioural patterns thet memloers of a society learn through language and other forms of symbolic interests -action -their customs. hobits.
beliets and values . the common viewpcints which bind them together as a social entity. cultures change gradually. picking up new ideas and dropping old oncs
but many of the cultures of the past have been so presitent and selt. contained that the imlact of any sudden change tears them opast. up -rooting their people. psychogieally.
culture infruences business is brought out in the following stages .
(i) > culture creates people:
culture determines the ethos of the people.
(ii) > culture and Globalisation:
the need for understanding and appreciating culture differencess auross various countries is essential for business in the international molut.
(iii) > culture Determines Goeds and services:
culture broadly determines the type of goods and services a business should prpduce .
(iv) > Feoples Atlitude to business:
Attmitude of people towards business is largly dctermined by their culture.
(v) Ahitude to work:
Motiovation. morale and other related aspects of hunan resource menagement ore based on the workers attitude to their work.
(vi) > collectivism and individualism:
the spirit of collectivism and individualism is related to such personnel aspects as employee morale.
multiplicacy of trade unions and inper and inpra -union rivalries.
(vii) > Ambitions or complacent:
An individualis ambition to grow or remain complacent dcpends en his cultural ethos .
(viii) > Education:
the close interface of business and higber education is a new development.
(ix) > Family:
Basie to all types of social organigations is the family . the institutions which concerns itselt with love. gexual relationship. marriage reproduction. soci -alisation of the child and the vasious levels of slatus and roles involved in kinship organisation.
(ixi) > Authority:
the exercise of authority varies according to the nlaragement styles. but differenl styles are likcly to be present in different cultures.
(xi) > the view of scientific method :
culture influences business by scientific method.
(xii ) > Ethics in Business:
Ethics refers to the code of conduct that guides an individual in dealing with ofhers.
(xiii ) > Religion:
Religion refers to a specific and institu -tionalised set of beliefs and practices generally agreed upon by a number of persons or sects.
(xiv) > Marriage:
Traditionally marriage has three objectives:
the promotion of religion by the performance of how hold sacrifices. progeny where by the father and his ancestors where assured of a happy ofter and the line was continued and rati or sexual pleasure.
(xv) > Time dimension:
Tome dimension is another cultural aspect that will influenee business. time dimension refers to peoples orientation -past, present or future.
(xvi) > Cultural Resources:
cultural resources refer to the heritage which -makes -the country distinctive.
thoss all points ate the summery that culture influences business.
Subscribe to:
Posts (Atom)