Monday, 29 April 2019

ফাতেমার (রাঃ) বিয়ের স্বাক্ষী

ইতোপূর্বে আমরা হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে -বাজার নিয়ে কথা বলছিলাম । এ প্রসংগে মিদ্দীকি,ফারুকী ও ওসমানি অবদান ও ভূমিকার কথাও উঠে এসেছিল । এবার আমরা হযরত আবু বকর (রাঃ ), ওমর ( রাঃ ) ও ওসমান (রাঃ) এর উক্ত বিবাহে দাওয়াতপ্রাপ্তি ও স্বাক্ষীী হওয়ার বর্ণনা দেব। বলব এগুলো সবই তাঁদের মধ্যকার অন্তরঙ্গতা ও চমৎকার বোঝাপড়ার অতি উত্তম
দলিল । বরাবারের মত এ ক্ষেত্রে অমর সর্বাগ্রে শীয়া বন্ধুদের নির্ভরযোগ্য কিতাবের বরাত টানব ।
পরে আনব সুন্নীদের বর্ণনাও।
                   প্রথম শ্রেণীর বর্ণনা
১। মানাকেবে খারযামী ;'আলী (রাঃ) এর সাথে ফাতেমার বিয়ে দান প্রসংগে' উল্লেখ করা হয়েছে -
"হযরত আলী (রাঃ ) মোরতাযা (রাঃ)  বলেন, ( নবী করীম (সা:)এর সাথে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে বিষয়ে কথাবার্তার পরে ) আমি খুবই খুবই আনন্দিত ও পুলকিত ছিলাম । পথিমধ্যে হযরত আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) কে আসতে দেখলাম । তাঁরা আমার কাছে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে আমি বললাম , রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাকে
বলেছেন আল্লাহ পাক সাত আসমানের ওপর থেকে আমার ও ফাতেমার বিয়ে করিয়ে দিয়েছেন।
 তাই রাসূলুল্লাহ (সা:) এর ঘর থেকে বেরিয়ে আমি আপনাদেরকে সেই সুসংবাদই দিতে যাচ্ছি। সংবাদটি শুনে হযরত আবূ বকর ও ওমর (রাঃ )
নেকহায়াতেই খোশ হলেন এবং আমার সাথে মসজিদে নববীতে এলেন ।আমরা মসজিদে আসতে না আসতেই নবী করীম (সা:) হাস্যমুখে আমাদের পেছনে পেছনে এসে পড়লেই ।নবী করীম (সা:) এর চেহারা মোবারক খুশীতে চকচক করছিল। তিনি হযরত বেলাল (রাঃ) কে ডেকে বললেন, আনসার ও মুহাজিরদের জমায়েত কর।
হযরত বেলাল (রাঃ)  এর আমন্ত্রনে সাহাবায়ে কেরাম জামাত হলেন । নবী করীম (সা:) মিম্বারে
ওঠলেন । হামদ ও ছানা পাঠ করে বললেন , মুসলিম বন্ধুগণ!   জিবরীল এই মাত্র আমার কাছে এসে সংবাদ দিলেন , আল্লাহ তা'আলা বায়তুল মামুরের কাছে সকল ফেরেশতাকে জমায়েত করে বলেছেন,  তোমরা  স্বাক্ষী থাকো আমি ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সা:)এর সাথে হযরত আলী (রাঃ) এর বিয়ে করিয়ে দিয়েছি। তিনি আমাকে নির্দেশ
করেছেন, যমীনেও যেন আমি আমার মেয়ের বিয়ে
পড়িয়ে দিই । তোমরা সকলে এই বিয়ের স্বাক্ষী করছি ।
            "কাশফুল গুম্মাহ' কিতাবে উক্ত রেওয়ায়েতের বাইরে আরেকটি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে । উক্ত বর্ণনার পাশাপাশি নতুন কিছু কথা
সেখানে বিদ্যমান । এই বর্ণনাতে নবী করীম (সা:)
বলেন, তোমরা স্বাক্ষী থাকো, 'আল্লাহ পাক ফাতেমা ও আলীর বিয়েতে ৪০০ মিছকাল মোহর
নির্ধারণ করেছেন' ।
       সার -নির্যাস
১। হযরত ফাতেমা (রাঃ ) এর বিয়েতে আবূ বকর (রাঃ) , ওমর (রাঃ ) ও ওসমান (রাঃ ) দাওয়াতপ্রাপ্ত ছিলেন ।
২। উক্ত তিন সাহাবীসহ মদীনায় উপস্হিত ওই সময়কাল সকল সাহাবীই এই মুবারক বিয়ের স্বাক্ষী হয়েছিলেন ।
প্রসংগত উল্লেখ্য, যাদের সাথে টানাপোড়ন ও মনোমালিন্য থাকে তাদেরকে কখনোই কী কেউ বিয়েতে দাওয়াত দিয়ে স্বাক্ষী রাখে ?
$ ফাতেমা (রাঃ ) এর বিয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ভাষ্য
               এক্ষণে আমরা উপরিউক্ত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের কিতাবের উদ্ধৃতি পেশ করব, যাতে বিষয়টি সতলের কাছে পরিস্কার হয়ে যায়।
এক।  হযরত আনাস (রাঃ) এর ভাষ্যঃ
 হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলে আকরাম (সা:) আমাকে বললেনঃঃ
"হযরত আনাস (রাঃ ) বলেন, নবী করীম (সা:)
আমাকে বলেন, যাও আবূ বকর, ওমর, ওসমান, আবদুর রহমান ইবনে আওফ, সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, তালহা ও যুবায়েরসহ কিছু সাহাবীকে ডেকে পাঠাও । আনাস (রাঃ)  সকলকে ডেকে পাঠালেন । এরা এসে সস্হানে উপবিষ্ট হলেন ।
এদিকে হযরত আলী (রাঃ)  নবী করীম (সা:) এর
নির্দেশ মোতাবেক কোনো কাজে বেরিয়ে পড়েছিলেন । নবী করীম (সা:) বিয়ের খুৎবা শুরুকরলেন।  এই খুৎবার মাঝে তিনি বললেন,
ফাতেমা -আলীর শুভ বিবাহটি আল্লাহর নির্দেশেই আমি সম্পন্ন করতে যাচ্ছি । কাজেই তোমরা স্বাক্ষী থাকো আল্লাহর নির্দেশটি পালন করার ।
চারশ মিছকাল রূপা এই বিয়ের মোহর। পরে খেজুরের থলে বিছিয়ে সামনে রাখলেন । বললেন , এই খেজুর সকলের মাঝে ছিটিয়ে দাও। তাঁর পরস্পরে ছিটানো খেজুরে মেতে গেলেন।   ইতোমধ্যে হযরত আলী (রাঃ ) এসে হাজির । রাসূলুল্লাহ (সা:) তাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, ৪০০ মিছকাল রূপির বিনিময়ে  ফাতেমাকে তোমার হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ করেছেন আল্লাহ তা'আলা । তুমি রাযী আছো তো আলী? হযরত আলী (রাঃ ) বললেন , হ্যাঁ! আমি রাযী হে আল্লাহর রাসূল ! আমি সম্মত আছি ।
       মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া কিতাবেও এই মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত আছে । আল্লামা মুহিবুদ্দিন বিহারীও তাঁর প্রণীত 'রিয়াজুুন নাজরাহ ফী মানাকিবিল আশরাতিল মুবাশশারাহ' -এ আবুল
খায়ের কাযবিনীর সূত্রে এ মর্মের কাছাকাছি একটি বর্ণনা দেন। এছাড়া আরো অনেক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত।
 #   সতর্কীকরণশঃ
                          হযরত ফাতেমা -আলীর বিয়ের
ক্ষেত্রে যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন যে,
('আল্লাহ তা'আলা ফাতেমার সাথে আলীকে বিয়ে
দিতে আমাকে নির্দেশ করেছেন)  সেভাবে হযরত
ওসমান ও উম্মে কুলসুম (নবী করীম (সা:) এর সেজো সাহেবযাদী যিনি হযরত ফাতেমা (রাঃ)  এর চেয়ে বয়সে বড় ) এর বিয়ের ক্ষেত্রেও বলেছিলেন।
"আমি ঐশী নির্দেশেই উম্মে কুলসুমের সাথে
ওসমানের বিয়ে সুসম্পন্ন করেছি "।
এ কথার উদ্দেশ্য এই যে, নবী নন্দীনির কলিজার
টুকরা হযরত ফাতেমার বিয়ে যেভাবে ঐশী  নির্দেশে সুসম্পন্ন হয়েছিল সেভাবে তার অপর এক বোন হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর বিয়েও সেই ঐশী নিয়মেই হযরত ওসমান (রাঃ ) এর সাথো
সুসম্পন্ন হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহর নির্দেশে এ দু'
আত্মীয়তা সমান্তরাল যাতে কোনও ভিন্নতা নেই ।
ব্যাপারটি ভেবে দেখার মত নয় কী  ?

No comments:

Post a Comment