Monday, 15 April 2019

জীব বিজ্ঞানন (Biology) : কোরআন হতে

* প্রতিটি জীব পানি হতে সৃষ্ট হয় কুরআনের নিম্নেবর্ণিত আয়াতটি বিবেচনা করুন --
 "অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে আকাশমন্ডলী
ও পৃথিবী (একক সৃষ্ট হিসেবে ) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল এরপর আমি তােকে পৃথক করে দিয়েছি এবং প্রতিটি জীবিত জিনিসকে পানি হতে সৃষ্ট করেছি তবুও কি তারা ঈমান আনবে না ?
(আল -কুরআন ২১:৩০ )
কেবলমাত্র বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার পরেই আমরা জানতে পেরেছি যে, জীব কোষের যে মৌলিক উপাদান , সাইটোপ্লাজম ( Cytoplasm ) তা ৮০% পানি দিয়ে তৈরি। আধুনিক গবেষণা আরও প্রকাশ করেছে যে, অধিকাংশ জীবেই ৫০% হতে ৯০ পানি আছে এবং প্রতিটি জীবন্ত সত্তারই বেঁচে থাকার জন্য পানির প্রয়োজন। নমস্ত জীবিত জিনিসই পানির দ্বারা গঠিত এ সত্যটি ১৪০০ বছর পূর্বে অনুমান করা কি কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব ? অধিকন্তু মরুভূমিতে যেখানে সর্বদাই রয়েছে পানির অভাব, সেখানে এরূপ একটি অনুমানও কি কোন মানুষের পক্ষে কল্পনাসাধ্য হতে পারে ?
কুরআনের সিম্নের আয়াত পানি হতে প্রাণী সৃষ্টর উল্লেখ রয়েছে :
"আর আল্লাহ সমস্ত জীব সৃষ্ট করেছেন পানি হতে "। (আল -কুরআন ২৪:৪৫)
কুরআনের নিম্নের আয়াতে পানি হতে মানুষ সৃষ্টর উল্লেখ রয়েছে :
"আর তিনিই পানি হতে মানুষ সৃষ্ট করেছেন । অতঃপর এ থেকে তার বংশগত ও অপরটি বৈবাহিক সম্পর্ক -এ দুটি আত্মীয়তার ধারা সৃষ্ট করেছেন । তোমার প্রতিপালক সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান "। (আল -কুরআন ২৫:৫৪ )
উদ্ভিদ বিজ্ঞান (Botany )
* উদ্ভিদ সৃষ্ট হয়ে জোঁড়ায়, পুরুষ ও স্ত্রীরূপে
পূর্বেকার লোকদের এধারণাই ছিল না যে, উদ্ভিদেরও চিহ্নিত বরণযোগ্য স্বতন্ত্র কোন পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ আছে । কিন্তু একণ উদ্ভিদ বিজ্ঞান প্রকাশ করেছে যে, প্রত্যেক উদ্ভিদের পুরুষ ও স্ত্রী
-এই উভইয়ের চিহ্নিতকরণযোগ্য উপাদান রয়ছে  আল -কুরআন ঘোষণা তরে :
 "তিনিই আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন এবং তা দিয়ে আমি নানান প্রকার উদ্ভিদ জোঁড়ায় জোঁড়ায়
সৃষ্ট করি যা একটি অন্যটি হতে আলাদা "(আল -কুরআন -২০:৫৩)
ফল সৃষ্ট হয় জোঁড়ায় জোঁড়ায় , পুরুষ ও স্ত্রী রূপে
(আল -কুরআনে উল্লেখ আছে -- --
 "আর তিনি প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্ট করেছেন জোঁড়ায় জোঁড়ায়,  দু'প্রকার  "। (আল -কুরআন ১৩:৩ )
উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজননের সর্বশেষে সৃষ্ট হল ফল। ফলের পূর্ববর্তী অবস্হা হল ফুল যার আছে
পুরুষ অঙ্গ (পুংকেশর) এবং স্ত্রী অঙ্গ (গর্ভ কেশর । পরাগ রেণু বাহিত হয়ে ফুলে এসে পড়লে তাতে ফল ধরে। পালাক্রমে পরিক্ক হয় এবং তার বীজ মুক্ত করে।  সুতরাং সকল ফলই পুরুষ ও স্ত্রী অঙ্গের অস্তিত্ব সূচিত করে। এ সত্যই প্রকাশ করেছে আল -কুরআন ।  কিছু প্রজাতির উদ্ভিদে
অনিষিক্ত ফুলেও (parthenocarpic ) ফলে আসে। যেমন - কলা, কিচু নির্দিষ্ট জাতের আনারস, ডুমুর,কমলা লেবু, আঙুর ইত্যাদি ।
তাদেরও অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিচয়বাহী লিঙ্গ আছে ।
১. যে ফুলে কেবলমাত্র পুং কেশর বা কেবলমাত্র গর্ভ কেশর থাকে তাকে এক লিঙ্গ ফুল (Unoseual flower) বলে । যে ফুলে কেবল স্ত্রী কেশর আছে তাকে স্ত্রী ফুল বলে । লাউ,কুমড়া,ঝিঙা  ইত্যাদি উদ্ভিদে একই গাছে স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল জন্মে থাকে। অনুবাদক
সব কিছুই সৃষ্ট হয় জোঁড়ায় জোঁড়ায়
আল -কুরআন ঘোষণা করে :
 "আর আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্ট করেছি জোঁড়ায়"(আল -কুরআন ৫১:৪৯)
এই আয়াতটি সকল জিনিসেরই উপর গুরুত্ব প্রদান করেছে , এটা মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও ফল ছাড়াও বিদ্যুতের ন্যায় অন্য কিছুকেও বুজায়। বিদ্যুতের যেমন আছে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ, সেরকম প্রত্যেক বস্তুর পরম্ণুতে ঋণাত্মক (negative ) চার্জবিহী ইলেকট্রন ও ধনাত্মক
(positive ) চার্জবাহী প্রোটন আছে।
  কুরআন ঘোষণা করে -:
  "পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং ওরা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে সৃষ্ট করেছেন জোড়া জোড়া করে"।
(আল -কুরআন ৩৬:৩৬)
এখানে -কুরআন বলছে জোঁড়ায় জোঁড়ায় সৃষ্ট করা হয়েছে সকল বস্তুকে ঐ সকল বস্তুসহ যেগুলোকে আজও মানুষ জানতে পারেনি, ভবিষ্যতে হয়ত সেগুলো আবিস্কৃত হবে ।
প্রাণি বিদ্যা (Zoology)
 * পশু পাখি দলবদ্ধ হয়ে বাস করে
আল্লাহ বলেন  :
 "ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল সকল প্রাণি এবং ডানায় ভর করে উড়ন্ত সকল পাখি ওরা সকলে তোমাদের মতহ এক একটি সম্প্রদায় (হিসেবে জীবন ধারণ করে । (আল -কুরআন ৬:৩৮ )
গবেষণায় দেখা গেছে যে,  প্রাণি পাখি এরা সকলেই দলবদ্ধ হয়ে বাস করেে অর্থাৎ তারা সংগঠিত করে,  একসঙ্গে বাস করে ও কাজ করে।  * পাখির উডডয়ন
           পাখির উডডয়ন সম্পর্কে কুরআনে বলে :
 "তারা কি লক্ষ্য করেনি আকাশের শুন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন পক্ষীকুলের প্রতি?  আল্লাহ ব্যতীত কেউ তাদেরকে ঊর্ধ্বে ধরে রাখে না । অবশ্য এতে রয়েছে নিদর্শন তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে
 আল -কুরআন ১৬:৭৯ )
একই ধরনের বক্তব্য নিম্নের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে ।
 " তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের ওপর উড়ন্ত পক্ষীকুলকে ডানা বিস্তার করতে এবং গুটিয়ে নিতে ?  দয়াময় ব্যতীত আর কেউই তাদেরকে ধরোকে না ।নিশ্চয়ই তিনি সকল কিছুর প্রতি লক্ষ্য রাখেন । (আল -কুরআন ৬৭:১৯ )
আরবী 'আমসাকা' শব্দটির অর্থ 'কারো হাতের উপর রাখা, পাকড়াও করা , ধরে রাখা , কারো পিষ্টদেশ ধরা । এগুলো এ ধারণা প্রকাশ করে যে আল্লাহ তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে পাখিদেরকে ঊর্ধ্বে ধরে রাখেন।  এই আয়াতগুলো, ঐশী নির্দেশের উপর পাখিদের আচরণগত পরম ঘনিষ্ট
নির্ভরতার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছে । আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত কিছু প্রজাতির পাখির গমনাগমনের পূর্বলেখ (programming  বিষয়ে তাদের অর্জিত উৎকর্ষতার মাত্রা প্রদর্শন করেছে ।
পাখিদের বংশীয় সংকেতে তাদের যাবাবরী বা ভ্রমণশীল আচরণের অনুক্রম প্রকাশের ক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান আছে, আর কেবলমাত্র এটাই পথপ্রদর্শক ও পূর্ব অভিজ্ঞাত ছাড়াই একটি শিশু
পাখির দীর্ঘ ও জটিল ভ্রমণ এবং নির্দিষ্ট তারিখে
প্রস্হান স্হানে ফিরে আসার মক্ষমতার ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে। অধ্যাপক হাম বার্গার (prof.hamburger) তাঁর 'ক্ষমতা ও নশ্বরতা ' (power and Fragility) পুস্তুকে মাটন বার্ড ( mutton brid )  এর উপমা দিয়েছেন । এ পাখির বাস হল প্রশান্ত সাগরীয় এলাকায়। ইংরেজী সংখ্যা '৪' এর আকারে ১৫০০০ মাইল পথ ভ্রমণ করে । এ ভ্রমণ সম্পন্ন করতে তার সময় লাগে ৬ মাস এবং প্রস্হান স্হানে ফিরে আসে (নির্দিষ্ট তারিখের ) সর্বাধিক এক সপ্তাহ বিলম্বে। এরূপ একটি ভ্রমণের জন্য পাখিদের স্নায়ু কোষে খুবই জটিল নির্দেশিকা অবশ্য বিদ্যমান আচে । তারা অবশ্যই অনুক্রমিত (programmed )। আমাদের কি উচিত নয় সেই পূর্ব লেখনিকে (programmer ) এর পরিচয় জানা  ?

No comments:

Post a Comment