জ্ঞান বিজ্ঞানের নির্দেশনার ক্ষেত্রে কুরআন এক বিস্ময়কর মহাগ্রন্হ এবং আল্লাহর অনবধ্য ও অতুলনীয় মহাসৃষ্টি । গোয়েথের ভাষা বলা যায়, "কুরআনের লক্ষ্য আলোচ্য বিষয়ানুয়ী এর রচনাশৈলী অনমনীয়, পূর্ণাঙ্গ ও চমকপ্রদ যা চিরকালেই মহিমান্নিত। ভবিষ্যতের প্রতিটি এগ্রন্হ অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করবে মানব সমাজে ।
ড: ষ্ট্রেইন গ্রাস বলেন, "এ গ্রন্হ সময় ও মানসিকতার দিক থেকে দূরবর্তী পাঠকের মনেও
সৃষ্ট করে শক্তি এবং সংগত আবেগ । এ গ্রন্হ বিমুখ পাঠককে শুধু জয়ই করে না, বরয় মনে সৃটি করে অভূতপূর্ব বিস্ময়। জর্জ বার্নাডশ, জনডেভেন পোর্ট, মারডিউক পিটটক, চমাস কার্লাইল এবং মহাত্ম গান্ধীর মত দার্শনিক ও চিন্তাবিদ মনীষীবৃন্দ রাসূল মুহাম্মদের প্রশংসা করে বলেন যে, লক্ষ কোটি মানুষের মধ্যে তিনি ছিলেন অনন্য ও সর্বশ্রেষ্ঠ। গীবনের মত , মুহাম্মদের ধর্মমত সব সন্দেহের সংশয় থেকে মুক্ত। বিধর্মী আরবদেরকে মোজেজা প্রদর্শনের দাবিতে আল্লাহ স্বয়ং নির্দেশ দেন যে, মহাগ্রন্হ কুরআন মোজেজা সম্পন্ন । স্যার চমাস কার্লাইল বলেন, কুরআন এমন একটি অগ্নি স্ফূলিঙ্গ যা বিস্ফোরক হিসেবে দিল্লি থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত আলোড়িত করেছে । লন্ডন থেকে প্রকাশিত "দি ইস্ট" পত্রিকায় বলা হয়েছে "কুরআন হচ্ছে একটি অতি আশ্চর্যজনক গ্রন্হ -যা জ্ঞান বুদ্ধির আওতার বাইরে। প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কুরআনের অশেষ নির্দেশনা রয়েছে । এ সবের কিছু নিম্নরুপ :
১। বিশ্ব সৃষ্ট : বর্তমান বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক দর্শ পূর্বে সিদ্ধান্ত নেন যে, মহাবিশ্বের সকল বস্তুই বৃত্তাকারে ঘুরছে । চৌদ্দশত বছর পূর্বে কুরআন ঘোষণা দেয়, "অবিশ্বাসীগণ কি দেখে না যে, আসমান সমূহ এবং জমিন একত্রে সৃষ্টর এককরূপে ছিল, যতক্রণ না আমরা (আল্লাহ )
এসবকে খন্ড খন্ড ভাবে বিভিন্ন করেছি (আল -কুরআন -২১:৩০ ") ।
তিনিই সৃষ্ট করেছেন দিন ও রাত্রি এবং চন্দ্র ও সূর্যকে। সকলেই (মহাবিশ্বের বস্তুসমূহ ) তাদের
বৃত্তাকার কক্ষপতে ভেসে বেড়ায় ।
২। রাসায়নিক তথ্য : কুরআনে উদ্ভিদ তত্ত,পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, গণিত ইত্যাদি বিষয়ক অসংখ্য নির্দেশনা রয়েছে । যেমন বাতাস থেকে খাদ্য তৈরি করা সম্পর্কিত কুরআনের নির্দেশনা ! "তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদের্শন দেখান।এবং আকাশ থেকে খাদ্য পাঠান (১০:৩০ )
রসায়ন শাস্ত্র সম্পর্কিত জ্ঞানার্জনের নির্দেশ আছে কুরআনে ৪৩ টি আয়াতে।
৩। গণিতের রহস্যময় বন্ধন : কুরআনের সূরা মুদ্দাছিরের ৩০তম আয়াতে বলা হয়েছে "এর ওপর উনিশ"। গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঊনিশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । ইহা গণতের প্রথম সংখ্যা ১ দিয়ে শুরু এবং শেষ সংখ্যা ৯ দিয়ে শেষ অর্থাৎ ১৯ হচ্ছে গণিতের আলফা,ওমেগা । ১৯ কেবল ১৯ ও ১ ছাড়া অন্য সংখ্যা দিয়ে বিভাজ্য নয় ।
সংখ্যাতত্তের বিচার ১৯ সর্বশ্রেষ্ঠ । প্রকৃত পক্ষে মহাগ্রন্হ কুরআনে আল্লাহ "গণিতের সর্বজন গ্রাহ্য
অথচ বিস্ময়কর বন্ধন প্রয়াগ করেছেন । সমস্ত কুরআনে ছড়িয়ে আছে গণিতের এ বিস্ময়কর বন্ধন। যেমন "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" বাক্যের মোট বর্ণ সংখ্যা ১৯ এতে ব্যবহৃত চারটি শব্দ ইলম, আল্লাহ,আর রাহমান আর রাহীম সমগ্র কুরআনে যথাক্রমে ১৯, ২৬৯৬, ৫৭ এবং ১১৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে । এর সব কয়টি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য। কুরআনের সূরা সংখ্যা ১১৩ হয়তে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয়। কিন্তু সূরা তাওবার ৩০তম আয়াতে এ সীল অন্তর্ভুক্ত করে সীল সংখ্যা ১১৩ +১ : ১১৪ এবং ১৯ দ্বারা বিভাজ্য রাখা হয়েছে কম্পিউটারের নির্ভুল পদ্ধতিতে। নিরক্ষর রাসূলের পক্ষে ১৯ এর এ বিস্ময়কর বুনন সম্ভব ছিল না ।
এতে কুরআনের মহান রচয়িতা আল্লাহ বলে প্রমাণিত হয় ।
৪। মুকাত্তাত : পৃথিবীর কুরআন ব্যতীত আর কোন গ্রন্হ নেই যার একটি অক্ষরও আজ পর্যন্ত
পরিবর্তিত হয়নি । এক মাত্র কুরআনেই অলৌকিকভাবে অজ্ঞাত অর্থ নির্দেশক অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে যাকে বলা হয় মুকাত্তাত যে প্রথম সূরা বাকারায় প্রথমে আছে আলীফ লাল মীম । এসব মুকাত্তাতের ১৪টি বর্ণ ১৪টি বিন্যাস ২৯টি সূরার প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে যার যোগ সংখ্যা ১৪+১৪+২৯ - ৫৭ ঊনিশ দ্বারা বিভাজ্য ।
একক অক্ষর মুকাত্তাত বিশিষ্ট তিনটি সূরার মধ্যে কালামের মুকাত্তাত নূন, এ সূরাতে ১৩৩ বার ব্যবহার করা হয়েছে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য দুটি সূরায় স্কাফ সম্বলিত মুকাত্তাত আছে। এ দুটোতে ব্যবহার করা হয়েছে ১১৪ বার যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য । আল্লাহ বিস্ময়কর দুরদর্শিতার সাথে ক্কাফ সূরায় ঊনিশের ফরমূলা ঠিক রেখেছেন ।
কারণ আল্লাহ কুরআনের ১২টি স্হানে লুৎ সম্প্রদারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতি ক্ষেত্রে
একই বিশেষণ "কাওমেনুলুত" ব্যবহার করলেও
একমাত্র সূরা ক্কাফের ১৩তম আয়াতে ইথওয়ানুলুত ব্যবহার করে অংকের হিসাব ঠিক রেখেছেন। অন্যথায় কাফের সংখ্যা ৫৭ এর পরিবর্তে ৫৮ হত, ৫০, ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয় । নিরক্ষর শেষ রাসূলের পক্ষে গাণিতিক হিসেব করে ১৯ এর ফরমুলা ঠিক রাখা সম্ভব ছিল না ।
৫। বিজ্ঞান সাধনায় ভিত্তিক : আল্লাহ বলেন, "যাকে বিজ্ঞানের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে
যথেষ্ট জ্ঞান দান করা হয়েছে"। আল্লাহ বার বার নির্দেশ দিয়েছেন তার সৃষ্ট সম্পর্কে চিন্তা করতে ।
"বিজ্ঞান মুসলমানদের দান" গ্রন্হে জনাব এম আকবর আলী দেখিয়েন যে, একমাত্র রসায়ন শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ আছে কুরআনের বিভিন্ন সূরায় ৪৩টি আয়াতে। পানি দ্বারা খাদ্য উৎপাদন, বাতাস থেকে খাদ্য তৈরি, গাভীর দুধ কীভাবে তৈরি হয়, এসব রসায়নের মিশ্রশনের কথাও কুরআনের আছে। কুরআন ঘোষণা করে, তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখান এবং আকাশ থেকে খাদ্য তৈরি বিষয়ক
সূক্ষ্ম রাসায়নিক বিষয়ে কুরআনের ২৪টি আয়াতে চিন্তাশীলদের সৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে । কুরআনের এ ঘোষণার বহু শত বছর পরে বাতাসের নাইট্রোজেন থেকে সার তৈরী ও কৃষি কাজে তা ব্যবহারের দ্বারা খাদ্য তৈরির ব্যাপারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে । কুরআনের শিক্ষা মতবাদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব মানবতার সমস্যা সার্বিক সমাধান করা সম্ভব । কুরআন মানব সভ্যতা বিকাশের প্রতিস্তরে ও শিক্ষার গতিশীলতার ক্ষেত্রে নব নব অবদান রাখতে সক্ষম।
৬। সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা : বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী এবং লেখক ডঃমরিস বুকাইলী তাঁর "দি বাইবেল কুরআন এন্ড 'সায়েন্স" গ্রন্হে পবিত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্পর্কে বলেন যে , "কুরআনে এমন কোন একটা বক্তব্যও নেই যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিচার খন্ডন করা যেতে পারে" ।
প্রকৃতপক্ষে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষনা এবং আবিষ্কারের পূর্বে সঠিকভাবে নির্ধারন সম্ভব ছিল না। তাই মহাগ্রন্হ কুরআনে বার বার আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
৭। সূর্যের গতিপথঃ আরো আশ্চর্যের বিষয় কুরআন চৌদ্দশত বছর পূর্বে ২১ নং সূরার ৩০ নং আয়াতে ঘোষণা করেছে, "সূর্য কখনও ধরতে পারবে না চন্দ্রকে, কিংবা রাত্রি অতিক্রম করতে পারবে না দিবসকে , প্রত্যেকেই পরিভ্রমণে নিরত নিজ নিজ কক্ষে "। অথচ কেবল ১৯৭১ খৃস্টাব্দের দিকে বিজ্ঞানীরা জানতে পারে যে, আমাদের ছায়াপথ এবং সূর্য়েরও একটি গতিপথ আছে। তারা নিজেদের মেরুদদন্ডের ওপর ঘুরপাক খেয়ে একবার ঘুর আসতে সময় নেয় ৫৫ কোটি বছর ।
৮। বিশ্ব সম্প্রসারন: মহাবিশ্বের সম্প্রসাণ সম্পর্কে ৭১ নং সুরায় ৪৭ আয়াতে চৌদ্দশত বছর পর্বে বলা হয়েছে, "আকাশ মন্ডলী, আমরাই তা সৃষ্টি
করেছি ক্ষমতার বলে এবং নিশ্চয়ই আমরা তাকে সম্প্রসারণ করি"। এ সম্পর্কে আইনস্টাইনের সূত্র
ইদানীং কালের ব্যাপারে। বিভিন্ন ছায়াপথের বর্ণালী বিভা ক্রমান্নয়ে লালচে হয়ে যাওয়া থেকে ধারণা হচ্ছে যে, ছায়া পথগুলো ক্রমে পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং মহাবিশ্বের পরিমন্ডল
ক্রমে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
৯। প্রাণসৃষ্টি : মাত্র কয়েক দশক পূর্বে আমরা জেনেছি যে, পানিই সকল প্রাণের উৎস। অথচ
১৪ শত বছর পূর্বে প্রাণ সৃষ্ট সম্পর্কে কুরআনের
২৪ নং সূরায় ৪৫নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, "আল্লাহ সকল প্রকার প্রাণি কে পানিহতে সৃষ্ট করেছেন" । কুরআনে ব্যবহৃত পানি (মা'আ ) শব্দটি দ্বারা বুঝান হয়েছে যে, "পানি হচ্ছে জীবন্ত সব কিছুর জীবকোষ উপাদান 'সাইটোপ্লাজম'।
পানি ছাড়া জীবন সম্ভব নয়। তাই অন্য গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে খোঁজা হয় পানির অস্তিত্ব ।
১০ । মহাশূন্য বিজয়ঃ মানুষের ভ্রমণ সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছেন ড: মরিস বুকাইলী । সংশ্লিষ্ট আয়াতটি হল ৫৫নং সূরায় ৩৩নং আয়াত: "হে জীব ও মানব মন্ডলী ! যদি তোমরা প্রবেশ করতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায় তাহলে এতে প্রবেশ কর, তোমরা তাতে প্রবেশ করতে পারবে না মহাক্ষমতা ব্যতিরেক " ।
তাতে ব্যাবহৃত শব্দ নাফাজার অর্থ হল প্রবেশ করা বা "টু পেনিট্রেট" অর্থাৎ কোন কিছুর ভেতরে সোজা ঢুকে অপর পার্শ্বে বের হয়ে যাওয়া । এ দ্বারা মানুষের পক্ষে মহাশূন্য বিজয়ের সম্ভাব্যতা নির্দেশ করা হয়েছে বলে , ড: বুকাইলী মনে করেন।
১১। ভবিষ্যৎ বাণী ও ফেরাউনের দেহ : কুরআনে ফেরাউন এর মরা দেহ সংরক্ষন সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণীতে বলা হয়, "আজ আমরা কেবল তোমার
(মৃত) দেহকেই রক্ষা করব যাতে তুমি তোমরা পরবর্তীদিগের জন্য নিদর্শন হতে পারে"।ঊনবিংশ
শতাব্দীর শেষ দিকে ১৮৯৪ খৃস্টাব্দে তা আবিস্কৃত হয়। কুরআনে প্রদত্ত বর্ণনা অনুযায়ী পানিতে ডুবে
তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। কায়রো
শহরের তারবীজ জাতীয় যাদুঘরে রক্তি মমিটি
দেখলে বুঝা যাবে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি কেমন বিস্ময়করভাবে সত্যে পরিণত হয়েছেে ।
১২ । জীব বিজ্ঞান : ডঃ আবদুল্লাহ এলিশন
(ইসলাম গ্রহণেন পূর্বনাম আর্থার জে এলিশন) বলেন, "মহাবিশ্ব সৃষ্টি , গ্রহ -নক্ষত্র সৃষ্ট , জীবজগতের যত সব রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চিরন্তন এ আসমানী কিতাব" (আল -কুরআন)।
চন্দ্র -সূর্য, গ্রহ - -নক্ষত্রের গতি প্রকৃতি, এর আবর্তন -বিবর্তন সম্পর্কে, পানি,সমুদ্র, বায়ু মন্ডল, বিদ্যুৎ ,প্রাণি জগৎ, প্রাণের উৎপত্তি ও
বিকাশ, মহাকাল ইত্যাদি সম্পর্কে এমন নিখুঁত
নির্ভুল জ্ঞান -বিজ্ঞানের পবিত্র কুরআনে প্রকাশ করেছে - যা কোন মানুষের রচনা হতে পারে না "। জীব বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর সত্য ১৪ শত বছর
পূর্বে কুরআনে বর্ণিথ হলেও তা ইদ্যানিং কালে
গবেষণায় আবিস্কৃত হয়েছে।
টরেন্টো -বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রুণতত্তের প্রফেসর ডঃ কিথ মুর বলেন, "মানুষের বৃদ্ধির কিছু ব্যাপারে (মাতৃগর্ভে) কুরআন যা বলেছে, মাত্র ৩০ বছর পূর্বেও তা জানা ছিল । কুরআন একটি স্তরে মানুষকে "জোঁক সদৃশ্য জমাট বাঁধা রক্ত" বলে বর্ণনা করেছে । ডঃ মুর তাঁর গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখতে পান কুরআনের বর্ণনা যে সঠিক তা কেবল অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করা যায়।
আবিস্কৃত তথ্য সমগ্র কানাডার পত্র পত্রিকায় প্রকাশীত হয় । চৌদ্দশত বছর পূর্বে আরবে কোন
অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছিল না যে, তা পরীক্ষণ করে কুরআনে লিখবে। একমাত্র আল্লাহর পক্ষে তা সম্ভব । সূরা বাকারায় নবজাতক শিশুকে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করানোর নির্দেশ সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত।
১৩। চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত নিষিদ্ধ বস্তুঃ কুরআনে শুকরের গোস্ত হারাম করার পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ইদানীং আবিস্কৃত হয়েছে যে, শুকরের মাংশ খাওয়ার ফলে ট্রাইকিনোলো স্পাইরালিস (পর্কওয়ার্ম) দ্বারা ট্রাই কিনসিস রোগ সৃষ্টি হয় । যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন লোক এ রোগে আক্রান্ত । সম্প্রতি কালে বৈজ্ঞানিক গবেষনায় দেখা গেছে যে, সাটস্কিল নামক প্রোটিন শুকরের মাংসে পাওয়া যায় তাতে বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। শুকরের মাংসে প্রাপ্ত মিউকো -পলিস্যাকারাইডস শরীরের গ্রন্হিসমূহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে । বর্তমান বিশেক্ষ স্কুর্কওয়ার্ম (টিনিয়া সোলিয়াম )দ্বারা শরীরের মাংসপেশি ,
হৃৎপিন্ড,মস্তিষ্ক,চোখ,স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ মিলিয়নের অধিক । অথএব প্রমানিত হয় যে, মানুষের খাওয়া পরা প্রভৃতি বিষয়ে কুরআনের আদেশ নিষেধ চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত।
১৪ । বিস্ময়কর গ্রন্হ: জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন বিস্ময়কর তথ্য প্রদান করেছে। ডাঃ খন্দকার আবদুল মান্নান তার রচিত "কম্পিউটার ও কুরআন" নামক গ্রন্হে বলেন ,
১৯সংখ্যাটির জটিল জালকে যেভাবে (কুরআনে )
এ্ঁটে দেয়া হয়েছে তেমনিভাবে সমশব্দে,সমবাক্য সংখ্যায় সমান সংখ্যক অক্ষরে একটি অনুরূপ বৈশিষ্টের গ্রন্হে রচনার জন্য প্রয়োজন পড়ত ৬.২৬×১০ বছর। "কম্পিউটার প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী এর জন্য "৬৩অক্টিলিয়ন (৬৩০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ )বার" প্রচেষ্টা চালাতে হবে । তাই অকাট্য যুক্তিভিত্তিক
কুরআনের আল্লাহ বলেন যে, সমগ্র মানব জাতি
ও জীবন সম্প্রদায় সমুদ্রের পানিকে কালিরূপে ব্যবহার করে এটি লেখার প্রচেষ্টা চালালে পানি শেষ হয়ে গেলেও অনুরূপ গ্রন্হ লেখা সম্ভব হবে না । গোয়েথ বলেন "এর রচনা শৈলী অনমনীয় ,
পূর্ণাঙ্গ ও চমকপ্রদ যা চিরকালই মহিমান্নিত "।
গবেষক জর্জ বিল বলেন "কোন মহামানবের জ্ঞান ও মেধা এধরনের গ্রন্হ রচনা করতে সক্ষম নয় ।
মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার চেয়েও কঠিন, দুঃসাধ্য ও অলৌকিক এ গ্রন্হ "।
১৫। শিল্প সাহিত্যঃ কুরআন আল্লাহর এক অতুলনীয় মহাগ্রন্হ ও অপূর্ব সাহিত্য সম্ভারে সৌন্দর্যমন্ডিত । ভাষার মাধুর্যে অপূর্ব রচনা শৈলী
এবং বর্ণনার চাতুুর্যে এর সমকক্ষ কোন শিল্প সাহিত্য আজও সৃষ্টি হয়নি । এমনই তার প্রকাশ ভঙ্গি যে একে সব কিছুই বলা যায় অথচ এ যেন এর কোনটিই নয়, এক অপূর্ব ও অনন্য সৃষ্টি ।
ইতিহাস প্রমান করে যে, কোন কবি সাহিত্যিকের পক্ষে কুরআনের ভাষা, লালিত্য, মাধুর্য ছন্দ ও সাহিত্যিক সৌন্দর্যের সাথে তুলনীয় একটি স্তবক তৈরির চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করতে পারেনি। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সমসাময়িক কবি সাহিত্যিকগণ এক বাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য হন
যে, এটি মানুষের সৃষ্টি হতে পারে না ।
১৬। জীব বিজ্ঞানের স্পর্শ মণি: কুরআন সকল বিষয়ের প্যানেসিয়া ও জ্ঞান বিজ্ঞানের স্পর্শমণি ।
এতে রয়েছে নৃতত্ত, পুরাতত্ত,ইতিহাস ,ভূগোল,চিকিৎসা , সমাজবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা,
রসায়ন , দর্শন সাহিত্য প্রভৃতি অসংখ্য জ্ঞান সাধনার দিক দিক নির্দেশনা।
১৭ । সৃজনশীল শিক্ষা ও গবেষনা : অন্যান্য সৃষ্ট
জীবের ওপের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের প্রয়োজন জ্ঞানার্জন ।
জ্ঞান সৃজন শক্তির বিকাশ সাধনে সহায়ক । সৃজনশীলতায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতিশীলতা ও সৃজনশীলতা ইসলামের
মূল তত্তের সাতে একাত্ম হয়ে আছে । শুধু দৃৃৃৃষ্টি রাখতে হবে আল্লাহর সাথে যেন কোন শরীক করা না হয় । তারপর জীব ও জড় পদার্থ, সৃষ্টি,ধ্বংস যাতেই বিশ্ব মানবতার মঙ্গল সাদন সম্ভব,সে সম্পর্কেই 'শিক্ষা করা যায়, গবেষনা (ইজতিহাদ )
করা যায় । প্রকৃতির কোন বস্তু হিসেবে অকেজো নয়। প্রতিটি প্রাকৃতিক বস্তুকে মানুষ চিন্তা বাবনা এবং গবেষণার বস্তু হিসেবে বেছে নিতে পারে। পরিবেশ ও প্রকৃতিতে প্রাপ্ত প্রতিটি অণুপরমাণু মানুষের মঙ্গলের জন্য তৈরী । তাদের দায়িত্ব হল তা কাজে লাগান । কুরআন শুধু শিক্ষার ওপরই গুরুত্ব দেয়নি তদোপরি গাভীর জ্ঞান সাধনা ও গবেষনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ।
১৮। পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার: অজানাকে জানা ও প্রাকৃতিক রহস্য ভেদ করা মানুষের দায়িত্ব । কুরআন তাদেরকে আল্লাহর উপাসনার পর 'পৃথিবীর বিভিন্ন স্হানে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছে। মানুষকে জানতে হবে আল্লাহর সৃষ্ট অজানা বস্তুকে। খুঁজে আবিষ্কার করতে হবে কিসে মানুষের মঙ্গল হবে। মানব জীবনের প্রকৃত সার্থকতা হল স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে জেনে এ দুয়ের সাথে
মানুষের কি সম্পর্ক তা জানা। আল্লাহ কুরআনে বলেন, 'পৃথিবী ভ্রমণ কর এবং তোমার পূর্ববর্তীদের পরিণতির প্রক্রিয়া লক্ষ্য কর ও চিন্তা
অনুধ্যান করে তারা বলতে বাধ্য হয় , হে আমাদের রব ! তুমি ইহা ।
১৯। শিল্প ও সাহিত্র : কুরআনের আল্লাহর এক অতুলনীয় মহাগ্রন্হ ও অপূর্ব সাহিত্য সম্ভারে সৌন্দর্যমন্ডিত । ভাষার মাধুর্যে অপূর্ব রচনা শৈলী এবং বর্ণনার চাতুর্যে এর সমকক্ষ কোন শিল্প সাহিত্য আজও সৃষ্টি হয়নি। এমনই তার প্রকাশ
ভঙ্গি যে একে সব কিছুই বলা যায় অতচ এ যেন এর কোনটিই নয়, এক অপূর্ব ও ।।
No comments:
Post a Comment