ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জারির পর গুগলের সঙ্গে মিলে স্মার্টস্পিকার আনার পরিকল্পনা বাতিল করেছে হুয়াওয়ে। কথা ছিল হুয়াওয়ের তৈরি স্পিকারে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট যুক্ত করা হবে। ডিভাইসটি উন্মোচনের জন্য বেছে নেয়া হয়েছিল
সেপ্টেম্বরে বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য আইএফএ সম্মেলন। গত ১৫ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করে। ফলে এর পরই গুগল হুয়াওয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বন্ধ করে দেয়। এতে স্মার্টস্পিকার তৈরির প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। এক বছর ধরে তারা এ স্মার্টস্পিকার আনতে যৌথভাবে কাজ করেছিল। অনলাইনে পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য আনারও পরিকল্পনা ছিল হুয়াওয়ের। এছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড অটোর সঙ্গে হুয়াওয়ের ফোন খাপ খাবে কিনা তা নিয়েও সে সময়ে গুগলের সঙ্গে আলোচনা করেছিল হুয়াওয়ে। স্মার্টস্পিকারের বাজারে এখন রাজত্ব করছে অ্যাপল, অ্যামাজন ও গুগল।
তাদের স্মার্টস্পিকারে যুক্ত করা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি, অ্যালেক্সা ও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে দেয়া নির্দেশ হরহামেশাই শুনে থাকেন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মিরা। তাদের দাবী, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের দক্ষতা বাড়াতে ও ভুল কমাতেই তারা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে ব্যবহারকারীর কথোপকথনের রেকর্ড শোনা হয়।
চীনের সরকার হুয়াওয়ের তৈরী স্মার্টস্পিকারের মাধ্যমে নজরদারি করবে কিনা তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিল মার্কিন সরকার ।।
Wednesday, 31 July 2019
Tuesday, 30 July 2019
শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -১৭ : কোন ধরনের কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় শরী'আহসম্মত?
সিদ্ধান্ত : শেয়ার একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য হওয়ায় অন্যান্য হালাল পণ্যের মতো তা ক্রয় -বিক্রয় করা
নিম্নেবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে বৈধ:
ক. যেসব প্রতিষ্ঠান হালাল পণ্য ও সেবা উৎপাদন বা ক্রয় -বিক্রয়ের সাথে জড়িত এবং নীতিগতভাবে সুদি কারবার বা সুদের লেনদেন করে না, এমন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করা জায়েয। তবে কোনো কোম্পানি সুদের সাথে জড়িত হয়ে পড়লে এবং কোনো কারণে আয়ের সাথে সুদের সংমিশ্রণ ঘটলে তা যদি আলাদা করার ব্যবস্তা থাকে তাহলে এ জাতীয় কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করা যেতে পারে।
খ. যেসব কোম্পানির মোট মূলধনের কিয়দংশ সম্পদ অতরল ( non -liquid) থাকে, শরী'আহ
অনুযায়ী সেসব কোম্পানির শেয়ার ফেস ভ্যালুর চেয়ে কম বা বেশি মূল্যে ক্রয় -বিক্রয় করা যাবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১৮ : শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করে?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকের জন্য শেয়ার ব্যবসায়ে
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতির চেয়ে মুশারাকা পদ্ধতিই বেশি উপযুক্ত। শেয়ারবাজারে প্রচলিত বর্তমান নীতির অধীনে ব্যাংক কর্তৃক শেয়ারের মালিকানা ও ক্ববদ অর্জন এবং গ্রাহকের কাছে তা হস্তান্তর করা জটিল হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বাই'মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলন করা দুরূহ। তাই শেয়ার ব্যবসায়ে বাই'মুরাবাহার পরিবর্তে মুদারাবা বা মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দেয়াই শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাবে মঞ্জুরিকৃত
বিনিয়োগের অর্থ স্হানান্তর করবে। অতঃপর গ্রাহক উক্ত অর্থ দিয়ে নির্ধারিত কোডে শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করবে। ব্যাংক দৈনিক/সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/
মাসিক ভিত্তিতে গ্রাহকের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়সংক্রান্ত বিবরণী যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হবে ও লাভ -লোকসান নির্ণয়ের মাধ্যমে হিসাবটি চুড়ান্ত করতে পারে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১৯ : বর্তমানে ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে
শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে ব্রোকারের ভূমিকা পালন করা ইসলামী ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি সুদি কারবারে জড়িত এবং যেসব কোম্পানি হারাম পণ্য উৎপাদন করে কিংবা হারাম পণ্য বা সেবার ব্যবসা করে সেসব প্রতিষ্ঠন বা কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে সহায়তা করা বৈধ নয়।
যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠন শরী'আহর নীতিমালা অনুসরণ করে চলে এবং যেসব কোম্পানি মূলত
হালাল পণ্য উৎপাদন করে অথবা হালাল পণ্য বা
সেবার ব্যবসা করে তাদের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে সহায়তা বা ব্রোকারেজ সার্ভিস দেয়া যেতে পারে।
( সূত্র : ১১ মে ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
যেসব কোম্পানি মৌলিকভাবে হালাল পণ্য ও সেবার ব্যবসায়ে জড়িত কিন্তু সুদি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্টনের সাথে লেনদেন করে এবং তা
থেকে সুদ অর্জন করে, কিছু শর্তসাপেক্ষে সেসব কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করা যেতে পারে।
শর্তগুলো নিম্নরুপ :
ক। কোম্পানির আয়ের সাথে সুদের সংমিশ্রণ ঘটলে তা যদি আলাদা করার ব্যবস্হা থাকে তাহলে এ জাতীয় কোম্পানির শোয়ার কেনাবেচা
করা যেতে পারে ।।
খ । কোম্পানির এজিএম ( AGM) বা অন্য কোনো আইনানুগ পন্হায় সুদি লেনদেনের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান করতে হবে।
( সূত্র : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -২০ : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ইসলামী ব্যাংক কিভাবে বিনিয়োগ প্রদান করতে পারে?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহার বা বিল পাওয়ার আগে বিনিয়োগ গ্রাহকের সাথে একটি আলাদা এয়াকালাহ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে
গ্রাহক কর্তৃক গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্ববদ করা হলে ব্যাংকের ক্ববদের প্রয়োজন নেই। শুধু গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল থাকলেই চলবে। তবে, যেহেতু ব্যাংক সরাসরি গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারে না সেহেতু বিনিয়োগ গ্রাহক উক্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ব্যাংককে ক্ষমতাপত্র
( letter of authority) প্রদান করবে।
( সূত্র : ৯ জুন ২০০২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড,ই -ফিল,আই -টপ -আপ প্রভৃতি ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -২১ : মোবাইল ফোন কোম্পানির ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড,ই -ফিল,আই -টপ - আপ প্রভৃতিতে বিনিয়োগের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী? সিদ্ধান্ত : মোবাইল ফোন কোম্পানির ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড, ই -ফিল,আই -টপ -আপ প্রভৃতিতে বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত পন্হা রয়েছে। এসব টকটাইম
রিচার্জ করার আধুনিক পদ্ধতিকে পণ্য হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে মুশারাকা ও মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে আবার বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতেও বিনিয়োগ দেয়া যেতে পারে। তবে উক্ত ব্যবসায়ে তেমন কোনো ঝুঁকি না থাকায় এবং পুরোপুরি স্বচ্ছতা বিদ্যমান থাকায় মুশারাকা কংবা কমিশনভিত্তিক ওয়াকালাহ পদ্ধতির অনুশীলন করাই শ্রেয়।
(সূত্র: ১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী । )
বিষয় -২২ : সিমকার্ড,প্রিপেইড কর্ড,হ্যান্ডসেট, বেজস্টেশন নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কিং ইন্সট্রুমেন্ট প্রভৃতিতে বিনিয়োগ করা
শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সিমকার্ড, প্রিপেইড কার্ড,হ্যান্ড সেট , বেজস্টেশন নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কিং ইন্সট্রুমেন্ট প্রভৃতি পণ্যসামগ্রী আমদানি বা ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ ।
(সূত্র: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৬৫ তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী) ।
সিদ্ধান্ত : শেয়ার একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য হওয়ায় অন্যান্য হালাল পণ্যের মতো তা ক্রয় -বিক্রয় করা
নিম্নেবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে বৈধ:
ক. যেসব প্রতিষ্ঠান হালাল পণ্য ও সেবা উৎপাদন বা ক্রয় -বিক্রয়ের সাথে জড়িত এবং নীতিগতভাবে সুদি কারবার বা সুদের লেনদেন করে না, এমন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করা জায়েয। তবে কোনো কোম্পানি সুদের সাথে জড়িত হয়ে পড়লে এবং কোনো কারণে আয়ের সাথে সুদের সংমিশ্রণ ঘটলে তা যদি আলাদা করার ব্যবস্তা থাকে তাহলে এ জাতীয় কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করা যেতে পারে।
খ. যেসব কোম্পানির মোট মূলধনের কিয়দংশ সম্পদ অতরল ( non -liquid) থাকে, শরী'আহ
অনুযায়ী সেসব কোম্পানির শেয়ার ফেস ভ্যালুর চেয়ে কম বা বেশি মূল্যে ক্রয় -বিক্রয় করা যাবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১৮ : শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করে?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকের জন্য শেয়ার ব্যবসায়ে
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতির চেয়ে মুশারাকা পদ্ধতিই বেশি উপযুক্ত। শেয়ারবাজারে প্রচলিত বর্তমান নীতির অধীনে ব্যাংক কর্তৃক শেয়ারের মালিকানা ও ক্ববদ অর্জন এবং গ্রাহকের কাছে তা হস্তান্তর করা জটিল হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বাই'মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলন করা দুরূহ। তাই শেয়ার ব্যবসায়ে বাই'মুরাবাহার পরিবর্তে মুদারাবা বা মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দেয়াই শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাবে মঞ্জুরিকৃত
বিনিয়োগের অর্থ স্হানান্তর করবে। অতঃপর গ্রাহক উক্ত অর্থ দিয়ে নির্ধারিত কোডে শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করবে। ব্যাংক দৈনিক/সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/
মাসিক ভিত্তিতে গ্রাহকের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়সংক্রান্ত বিবরণী যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হবে ও লাভ -লোকসান নির্ণয়ের মাধ্যমে হিসাবটি চুড়ান্ত করতে পারে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১৯ : বর্তমানে ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে
শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে ব্রোকারের ভূমিকা পালন করা ইসলামী ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি সুদি কারবারে জড়িত এবং যেসব কোম্পানি হারাম পণ্য উৎপাদন করে কিংবা হারাম পণ্য বা সেবার ব্যবসা করে সেসব প্রতিষ্ঠন বা কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে সহায়তা করা বৈধ নয়।
যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠন শরী'আহর নীতিমালা অনুসরণ করে চলে এবং যেসব কোম্পানি মূলত
হালাল পণ্য উৎপাদন করে অথবা হালাল পণ্য বা
সেবার ব্যবসা করে তাদের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে সহায়তা বা ব্রোকারেজ সার্ভিস দেয়া যেতে পারে।
( সূত্র : ১১ মে ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
যেসব কোম্পানি মৌলিকভাবে হালাল পণ্য ও সেবার ব্যবসায়ে জড়িত কিন্তু সুদি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্টনের সাথে লেনদেন করে এবং তা
থেকে সুদ অর্জন করে, কিছু শর্তসাপেক্ষে সেসব কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করা যেতে পারে।
শর্তগুলো নিম্নরুপ :
ক। কোম্পানির আয়ের সাথে সুদের সংমিশ্রণ ঘটলে তা যদি আলাদা করার ব্যবস্হা থাকে তাহলে এ জাতীয় কোম্পানির শোয়ার কেনাবেচা
করা যেতে পারে ।।
খ । কোম্পানির এজিএম ( AGM) বা অন্য কোনো আইনানুগ পন্হায় সুদি লেনদেনের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান করতে হবে।
( সূত্র : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -২০ : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ইসলামী ব্যাংক কিভাবে বিনিয়োগ প্রদান করতে পারে?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহার বা বিল পাওয়ার আগে বিনিয়োগ গ্রাহকের সাথে একটি আলাদা এয়াকালাহ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে
গ্রাহক কর্তৃক গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্ববদ করা হলে ব্যাংকের ক্ববদের প্রয়োজন নেই। শুধু গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল থাকলেই চলবে। তবে, যেহেতু ব্যাংক সরাসরি গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারে না সেহেতু বিনিয়োগ গ্রাহক উক্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ব্যাংককে ক্ষমতাপত্র
( letter of authority) প্রদান করবে।
( সূত্র : ৯ জুন ২০০২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড,ই -ফিল,আই -টপ -আপ প্রভৃতি ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -২১ : মোবাইল ফোন কোম্পানির ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড,ই -ফিল,আই -টপ - আপ প্রভৃতিতে বিনিয়োগের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী? সিদ্ধান্ত : মোবাইল ফোন কোম্পানির ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড, ই -ফিল,আই -টপ -আপ প্রভৃতিতে বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত পন্হা রয়েছে। এসব টকটাইম
রিচার্জ করার আধুনিক পদ্ধতিকে পণ্য হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে মুশারাকা ও মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে আবার বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতেও বিনিয়োগ দেয়া যেতে পারে। তবে উক্ত ব্যবসায়ে তেমন কোনো ঝুঁকি না থাকায় এবং পুরোপুরি স্বচ্ছতা বিদ্যমান থাকায় মুশারাকা কংবা কমিশনভিত্তিক ওয়াকালাহ পদ্ধতির অনুশীলন করাই শ্রেয়।
(সূত্র: ১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী । )
বিষয় -২২ : সিমকার্ড,প্রিপেইড কর্ড,হ্যান্ডসেট, বেজস্টেশন নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কিং ইন্সট্রুমেন্ট প্রভৃতিতে বিনিয়োগ করা
শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সিমকার্ড, প্রিপেইড কার্ড,হ্যান্ড সেট , বেজস্টেশন নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কিং ইন্সট্রুমেন্ট প্রভৃতি পণ্যসামগ্রী আমদানি বা ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ ।
(সূত্র: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৬৫ তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী) ।
Saturday, 27 July 2019
ডাব্লিউইএফের তথ্য
#চাকরির বাজারে ২৫ শতাংশ দখল করবে রোবট
শিল্প -কারখানায় উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত রোবটের ব্যবহার বাড়ছে। দিন দিন এ প্রবণতা আরও বাড়বে। পোশাক শিল্প এখন দ্রুত এগোচ্ছে স্বয়ংক্রিয়কররণের দিকে। -কারখানায় শ্রমিকের কাজ দখল করে নিচ্ছে রোবট। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বর্তমান বৈশ্বিক চাকরির বাজারের ২৫ শতাংশ দখল করবে রোবট। দ্রুত
বর্ধনশীল প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আগামী এক দশকের মধ্যে চাকরি হারাবে সাতকোটি ৫০ লাখ মানুষ। ডব্লিউইএফ বলছে, অর্থনীতির ইতিহাসে দেখা যায়, শিল্পবিপ্লবের ফলে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে সে সময় বিদ্যুৎ এবং বাষ্পীয় ইঞ্জিনের ব্যবহার মানুষের জন্য নতুন অনেক কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছিল মধ্যবিত্ত সমাজ: রোবট - অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটবে। ডব্লিউইএফের চেয়ারম্যান ক্লস সোয়াব বলেন,
প্রযুক্তির উন্নতির ফলে যে পরিস্হিতির সৃষ্টি হবে, তা আগে থেকেই জানা যায় তেমন নয়। নতুন এ পরিস্হিতিতে খাপ খাওয়াতে মানুষকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করতে অনেক বড় বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। এছাড়া জরুরি যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তা হল, নতুন পরিস্হিতিতে চাকরি নিয়ে হুমকির মধ্যে থাকা কর্মজীবীদের পুনরায় দক্ষ করে তোলা এবং তাদের অর্থনীতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাজ্যভিক্তিক সামাজিক সংগঠন ফেবিয়ান সোসাইটি ও ট্রেড
ইউনিয়ন সংস্হার গবেষণা অনুযায়ী দেশটিতে ৬০ লাখের বেশি মানুষ আগামী দশকের মধ্যেই তাদের কাজ প্রযুক্তি দখল করে নেবে বলে আশংষ্কা করছোন। যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক
'ব্যাংক অব ইংল্যান্ড' আগেই সতর্ক করেছে, এক কোটি ৫০ লাখ পর্যন্ত মানুষের চাকরি আগামীতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পিডাব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র , জার্মানি ও যুক্তরাজ্য প্রায় এক -তৃতীয়াংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে শেষ হয়ে যাবে। বিশেষ করে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পাইকারী ও খুচরা বাজারে চাকরি বেশি লোপ পাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০ পেশার মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবোটিক্রের (আইএফআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত
রোবটের বিক্রি গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে।
২০২১ সাল নাগাদ গড়ে প্রতিবছর ১৪ শতাংশ হারে বিক্রি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছ সংস্হাটি। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী ৩ লাখ ৮১ হাজার ইউনিট শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত রোবটের বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রোবট বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোবট উৎপাদন করে জাপান, বিক্রি বেশি হয় চীনে। আইএফআর তথ্য অনুযায়ী, শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত রোবটের বৈশ্বিক বাজারের
৭৩ শতাংশ ৫টি দেশের দখলে। দেশগুলো হচ্ছে - চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ও জার্মানি। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ চীনের দখলে রয়েছে।
আইএফআর জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত রোবট বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার ইউনিটি, ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজারে। ২০১১ সালে বিক্রি হয় ১ লাখ ৬৬ হাজার, ২০১২ সালে তা কমে ১ লাখ ৫৯ হাজারে অবস্হান করে। ২০১৩ সালে বিক্রি হয় ১ লাখ ৭৮ হাজার, ২০১৪ সালে ২ লাখ ২১ হাজার, ২০১৫ তে ২ লাখ ৫৪ হাজার, ২০১৬ সালে ২ লাখ ৯৪ হাজার, ২০১৭ তে ৩ লাখ ৮১ হাজার,এবং ২০১৮ সালে ৪ লাখ ২১ হাজার ইউনিট রোবট বিক্রি হয়েছে। ।
শিল্প -কারখানায় উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত রোবটের ব্যবহার বাড়ছে। দিন দিন এ প্রবণতা আরও বাড়বে। পোশাক শিল্প এখন দ্রুত এগোচ্ছে স্বয়ংক্রিয়কররণের দিকে। -কারখানায় শ্রমিকের কাজ দখল করে নিচ্ছে রোবট। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বর্তমান বৈশ্বিক চাকরির বাজারের ২৫ শতাংশ দখল করবে রোবট। দ্রুত
বর্ধনশীল প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আগামী এক দশকের মধ্যে চাকরি হারাবে সাতকোটি ৫০ লাখ মানুষ। ডব্লিউইএফ বলছে, অর্থনীতির ইতিহাসে দেখা যায়, শিল্পবিপ্লবের ফলে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে সে সময় বিদ্যুৎ এবং বাষ্পীয় ইঞ্জিনের ব্যবহার মানুষের জন্য নতুন অনেক কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছিল মধ্যবিত্ত সমাজ: রোবট - অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটবে। ডব্লিউইএফের চেয়ারম্যান ক্লস সোয়াব বলেন,
প্রযুক্তির উন্নতির ফলে যে পরিস্হিতির সৃষ্টি হবে, তা আগে থেকেই জানা যায় তেমন নয়। নতুন এ পরিস্হিতিতে খাপ খাওয়াতে মানুষকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করতে অনেক বড় বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। এছাড়া জরুরি যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তা হল, নতুন পরিস্হিতিতে চাকরি নিয়ে হুমকির মধ্যে থাকা কর্মজীবীদের পুনরায় দক্ষ করে তোলা এবং তাদের অর্থনীতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাজ্যভিক্তিক সামাজিক সংগঠন ফেবিয়ান সোসাইটি ও ট্রেড
ইউনিয়ন সংস্হার গবেষণা অনুযায়ী দেশটিতে ৬০ লাখের বেশি মানুষ আগামী দশকের মধ্যেই তাদের কাজ প্রযুক্তি দখল করে নেবে বলে আশংষ্কা করছোন। যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক
'ব্যাংক অব ইংল্যান্ড' আগেই সতর্ক করেছে, এক কোটি ৫০ লাখ পর্যন্ত মানুষের চাকরি আগামীতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পিডাব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র , জার্মানি ও যুক্তরাজ্য প্রায় এক -তৃতীয়াংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে শেষ হয়ে যাবে। বিশেষ করে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পাইকারী ও খুচরা বাজারে চাকরি বেশি লোপ পাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০ পেশার মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবোটিক্রের (আইএফআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত
রোবটের বিক্রি গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে।
২০২১ সাল নাগাদ গড়ে প্রতিবছর ১৪ শতাংশ হারে বিক্রি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছ সংস্হাটি। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী ৩ লাখ ৮১ হাজার ইউনিট শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত রোবটের বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রোবট বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোবট উৎপাদন করে জাপান, বিক্রি বেশি হয় চীনে। আইএফআর তথ্য অনুযায়ী, শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত রোবটের বৈশ্বিক বাজারের
৭৩ শতাংশ ৫টি দেশের দখলে। দেশগুলো হচ্ছে - চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ও জার্মানি। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ চীনের দখলে রয়েছে।
আইএফআর জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী শিল্প -কারখানায় ব্যবহ্নত রোবট বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার ইউনিটি, ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজারে। ২০১১ সালে বিক্রি হয় ১ লাখ ৬৬ হাজার, ২০১২ সালে তা কমে ১ লাখ ৫৯ হাজারে অবস্হান করে। ২০১৩ সালে বিক্রি হয় ১ লাখ ৭৮ হাজার, ২০১৪ সালে ২ লাখ ২১ হাজার, ২০১৫ তে ২ লাখ ৫৪ হাজার, ২০১৬ সালে ২ লাখ ৯৪ হাজার, ২০১৭ তে ৩ লাখ ৮১ হাজার,এবং ২০১৮ সালে ৪ লাখ ২১ হাজার ইউনিট রোবট বিক্রি হয়েছে। ।
অন্য ব্যাংকের দায় স্হানান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ
বিষয় -১৬ : অন্য ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ অথবা ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনাকারী কোনো কোনো গ্রাহক ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ করে পূর্বোক্ত দায় পরিশোধ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমতাবস্হায় উক্ত গ্রাহককে ইসলামী ব্যাংক কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগদিতে পারে?
সিদ্ধান্ত : অন্য ব্যাংকের যেসব গ্রাহক শুধু বিনিয়োগ বা ঋণসীমা বাড়ানো কিংবা অন্য কোনো সুবিধা প্রাপ্তির জন্যে নয়, বরং সুদ পরিত্যাগ করা ও ব্যাংকিংয়ে শরী'আহ পরিপালনের মতো মহৎ উদ্দেশ্যে ইসলামী ব্যাংকে
আসতে আগ্রহী কেবল সেসব গ্রাহকের দায় স্হানান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক নিম্নের পদ্ধতি
অনুশীলন করতে পারে :
স্হাবর সম্পক্ত/ মেশিনারিজ এর ক্ষেত্রে
অন্য ব্যাংকের মেয়াদি বিনিয়োগ/ঋণ ( term invesment/loan) , যার দ্বারা কোনো ভাড়াযোগ্য স্হায়ী সম্পদ ক্রয়/ তৈরি করা হয়েছে
( যেসব চলতি মূলধনী দায়কে মেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা হয়নি) যেমন -বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট ও মেশিনারিজ অন্য ব্যাংক অথবা গ্রাহকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে তার প্রতৃত বাজারদাম নির্ধারণকরত উক্ত সম্পদের ওপর ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণ -মালিকানা অর্জিত হওয়ার পর তা গ্রাহককে প্রচলিত হারে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে ভাড়ায় প্রদান করা যেতে পারে। তবে কোনো অবস্হায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকের কাছে প্রচলিত
(conventional) ব্যাংকের প্রাপ্য সুদ (যদি থাকে) পরিশোধ করতে পারবে না। যদি কোনো সুদ পরিশোধযোগ্য (dur) হয় তবে তা গ্রাহক নিজস্ব তহবিল হতে পরিশোধ করবেন।
চলতি মূলধন (প্লেজ/হাইপোথিকেশন / টিআর) এর ক্ষেত্রে
১। অন্য ব্যাংকের দায় (সিসি হাইপো/প্লেজ) -এর বিপরীতে পপণ্যের পর্যাপ্ত এবং সন্তোষজনক মজুদ রয়েছে -এমন গ্রাহকদেরকে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিনিয়োগ প্রদান করা যাবে
ক. ইসলামী ব্যাংক শুরুতেই (প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর আগে) পণ্যের তালিকা তৈরি ও মূল্য নির্ধারণ করবে এবং বিনিয়োগ প্রদানের সময় শাখা কর্তৃক পণ্যের মূল্যসহ হালনাগাদ সরেজমিন স্টক রিপোর্ট প্রস্তুত করবে।
খ. গ্রাহক নিজস্ব প্যাডে উল্লেখ করত পণ্যের মালিকানা তার বর্তমান ব্যাংকের নিকট অপর্ণ করবেন।
গ. গ্রাহকের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও তার যথাযথ মূল্যায়ন সম্বলিত একটি আলাদা প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ফাইলে সংরক্ষন করতে হবে।
ঘ. গ্রাহকের বর্তমান ব্যাংক তার দেয়া ক্ষমতা ও
আইনগত অধিকার বলে তার ঋণ/বিনিয়োগের সমপরিমান পণ্যের স্টক লিস্ট তৈরি করে ইসলামী
ব্যাংকের নিকট বিক্রয় করবে।
ঙ. ইসলামী ব্যাংক স্টক লিস্ট অনুসারে উক্ত
পণ্যের মূল্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে পরিশোধের মাধ্যমে ক্রয় করে গ্রাহকের নিকট
বাই'মুরাবাহা/ বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় ও হস্তান্তর করবে।
চ. বিনিয়োগ প্রদানের সময় প্রস্তাবিত বিনিয়োগ
গ্রাহককে শরী'আহ বিষয়ক প্রয়োজনীয় জ্ঞান
বিশেষ করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যপালনীয়
নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
ছ . ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পণ্যের সর্বশেষ মূল্যের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রদান করা
যাবে না ।
জ . গ্রাহক, পূর্ববর্তী ব্যাংক এবং বিনিয়োগ প্রদানকারী শাখার মধ্যে যোগাযোগের যাবতীয় নথিপত্র শাখা কর্তৃক গ্রাহকের ফাইলে সংরক্ষণ করতে হবে।
ঞ . যেহেতু উক্ত লেনদেনটি শরী'আহতে নিষিদ্ধ
বাই -উল -ঈনা -এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই গ্রাহকের পণ্য বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অথবা গ্রাহকের
নিজস্ব তহবিল থেকে উক্ত বিনিয়োগ পাওনা
যথাসম্ভব দ্রুত সমন্বয় করে পুনরায় নতুন বিনিয়োগ প্রদানের ব্যাপারে চেষ্টা চালাতে হবে।
২ । যেসব গ্রাহকের দায়ের বিপরীতে পণ্যের আংশকি মজুদ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট যৌক্তিক বিবেচিত হলে উক্ত শর্তাবলি
পরিপালনসাপেক্ষে উক্ত গ্রাহকের আংশকি দায় স্হানান্তর করা যেতে পারে।
৩ । যে ক্ষেত্রে কোনো সম্পদ বা মালামাল আদৌ নেই সে ক্ষেত্রে গ্রাহককে ক্বরদে হাসানা ছাড়া কোনো প্রকার বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করা যাবে না।
( সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশন এবং
২৪ আগস্ট ২০১৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৯৩তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : অন্য ব্যাংকের যেসব গ্রাহক শুধু বিনিয়োগ বা ঋণসীমা বাড়ানো কিংবা অন্য কোনো সুবিধা প্রাপ্তির জন্যে নয়, বরং সুদ পরিত্যাগ করা ও ব্যাংকিংয়ে শরী'আহ পরিপালনের মতো মহৎ উদ্দেশ্যে ইসলামী ব্যাংকে
আসতে আগ্রহী কেবল সেসব গ্রাহকের দায় স্হানান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক নিম্নের পদ্ধতি
অনুশীলন করতে পারে :
স্হাবর সম্পক্ত/ মেশিনারিজ এর ক্ষেত্রে
অন্য ব্যাংকের মেয়াদি বিনিয়োগ/ঋণ ( term invesment/loan) , যার দ্বারা কোনো ভাড়াযোগ্য স্হায়ী সম্পদ ক্রয়/ তৈরি করা হয়েছে
( যেসব চলতি মূলধনী দায়কে মেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা হয়নি) যেমন -বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট ও মেশিনারিজ অন্য ব্যাংক অথবা গ্রাহকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে তার প্রতৃত বাজারদাম নির্ধারণকরত উক্ত সম্পদের ওপর ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণ -মালিকানা অর্জিত হওয়ার পর তা গ্রাহককে প্রচলিত হারে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে ভাড়ায় প্রদান করা যেতে পারে। তবে কোনো অবস্হায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকের কাছে প্রচলিত
(conventional) ব্যাংকের প্রাপ্য সুদ (যদি থাকে) পরিশোধ করতে পারবে না। যদি কোনো সুদ পরিশোধযোগ্য (dur) হয় তবে তা গ্রাহক নিজস্ব তহবিল হতে পরিশোধ করবেন।
চলতি মূলধন (প্লেজ/হাইপোথিকেশন / টিআর) এর ক্ষেত্রে
১। অন্য ব্যাংকের দায় (সিসি হাইপো/প্লেজ) -এর বিপরীতে পপণ্যের পর্যাপ্ত এবং সন্তোষজনক মজুদ রয়েছে -এমন গ্রাহকদেরকে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিনিয়োগ প্রদান করা যাবে
ক. ইসলামী ব্যাংক শুরুতেই (প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর আগে) পণ্যের তালিকা তৈরি ও মূল্য নির্ধারণ করবে এবং বিনিয়োগ প্রদানের সময় শাখা কর্তৃক পণ্যের মূল্যসহ হালনাগাদ সরেজমিন স্টক রিপোর্ট প্রস্তুত করবে।
খ. গ্রাহক নিজস্ব প্যাডে উল্লেখ করত পণ্যের মালিকানা তার বর্তমান ব্যাংকের নিকট অপর্ণ করবেন।
গ. গ্রাহকের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও তার যথাযথ মূল্যায়ন সম্বলিত একটি আলাদা প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ফাইলে সংরক্ষন করতে হবে।
ঘ. গ্রাহকের বর্তমান ব্যাংক তার দেয়া ক্ষমতা ও
আইনগত অধিকার বলে তার ঋণ/বিনিয়োগের সমপরিমান পণ্যের স্টক লিস্ট তৈরি করে ইসলামী
ব্যাংকের নিকট বিক্রয় করবে।
ঙ. ইসলামী ব্যাংক স্টক লিস্ট অনুসারে উক্ত
পণ্যের মূল্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে পরিশোধের মাধ্যমে ক্রয় করে গ্রাহকের নিকট
বাই'মুরাবাহা/ বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় ও হস্তান্তর করবে।
চ. বিনিয়োগ প্রদানের সময় প্রস্তাবিত বিনিয়োগ
গ্রাহককে শরী'আহ বিষয়ক প্রয়োজনীয় জ্ঞান
বিশেষ করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যপালনীয়
নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
ছ . ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পণ্যের সর্বশেষ মূল্যের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রদান করা
যাবে না ।
জ . গ্রাহক, পূর্ববর্তী ব্যাংক এবং বিনিয়োগ প্রদানকারী শাখার মধ্যে যোগাযোগের যাবতীয় নথিপত্র শাখা কর্তৃক গ্রাহকের ফাইলে সংরক্ষণ করতে হবে।
ঞ . যেহেতু উক্ত লেনদেনটি শরী'আহতে নিষিদ্ধ
বাই -উল -ঈনা -এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই গ্রাহকের পণ্য বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অথবা গ্রাহকের
নিজস্ব তহবিল থেকে উক্ত বিনিয়োগ পাওনা
যথাসম্ভব দ্রুত সমন্বয় করে পুনরায় নতুন বিনিয়োগ প্রদানের ব্যাপারে চেষ্টা চালাতে হবে।
২ । যেসব গ্রাহকের দায়ের বিপরীতে পণ্যের আংশকি মজুদ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট যৌক্তিক বিবেচিত হলে উক্ত শর্তাবলি
পরিপালনসাপেক্ষে উক্ত গ্রাহকের আংশকি দায় স্হানান্তর করা যেতে পারে।
৩ । যে ক্ষেত্রে কোনো সম্পদ বা মালামাল আদৌ নেই সে ক্ষেত্রে গ্রাহককে ক্বরদে হাসানা ছাড়া কোনো প্রকার বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করা যাবে না।
( সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশন এবং
২৪ আগস্ট ২০১৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৯৩তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
Friday, 26 July 2019
ইবরা (ছাড়/Rebate)
বিষয় -১১ : ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের জন্য গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে থাকে। কিন্তু কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক মেয়াদপূর্তির আগেই ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক ব্যাংকের প্রাপ্য মুনাফা (profit receivable) এর কিছুটা ইবরা (ছাড়/rebate) দেয়ার জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করে থাকেন। এমতাবস্হায় ব্যাংক কর্তৃক ইবরা (ছাড়/rebate) দেয়ার বিষয়টি শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : চুক্তিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময়ের আগে বিনিয়োগ গ্রাহক পণ্যের মূল্য বা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করে দিলে কোনো প্রকার পূর্বশর্ত ও সমঝোতা ব্যতীত সময়নুপাতিক হারে তাকে ইবরা (ছাড়/rebate) প্রদান করা যাবে। আলোচ্য ইবরার পরিমান চুক্তিতে ধার্যকৃত মুনাফার অনুপাতে হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
(সূত্র: ১১আগস্ট,১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৮শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১২ : মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাবে মেয়াদপূর্তির আগে অগ্রিম পরিশোধকৃত অর্থের ওপর রিবেট প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : বিনিয়োগ গ্রাহক যদি মেয়াদপূর্তির আগে পণ্যের বিক্রয়মূল্যের আংশিক পাওনা ( পণ্যের ক্রয়মূল্য + মুনাফা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ) পরিশোধ করেন কিন্তু পরে নির্ধারিত দিনে বাকি পাওনা পরিশোধ করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে তাকে রিবেট না দিয়ে তার কাছ থেকে পুরো পাওনা আদায় করা সঙ্গত নয়। তাই বাই'মুরাবাহা চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির আগে অগ্রিম পরিশোধকৃত আংশিক বিনিয়োগ পাওনার রিবেট প্রদান করতে হবে। তবে খেলাপি অংশের ওপর আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যাবে এবং তা ব্যাংকের বৈধ আয়ের অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না।
( সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
গ্রাহকের প্যাডে ক্যাশমেমো তৈরি
বিষয় -১৩ : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রয় -বিক্রয়ের প্রমাণস্বরূপ ব্যাংক সরবরাহকারী প্রদত্ত ক্যাশমেমো সংরক্ষণ করে থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী কর্তৃক প্রদত্ত ক্যাশমেমোর পরিবর্তে বিনিয়োগ গ্রাহক তার ব্যক্তিগত প্যাডে ক্যাশমেমো তৈরি করেন। এ ধরনের ক্যাশমেমো গ্রহণ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : গ্রাহকের ব্যক্তিগত প্যাডে তৈরিকৃত ক্যাশমেমো গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যাংক কর্তৃক পণ্য ক্রয়ের প্রমাণস্বরূপ ক্রয়মূল্য প্রদানের বিপরিতে যথাযথ ক্যাশমেমো সংরক্ষণ করতে হবে। অন্যথায় ব্যাংক কর্তৃক সঠিকভাবে পণ্য ক্রয় -বিক্রয় না হওয়ার মতো সন্দেহের অবকাশ থেকে যাবে।
( সূত্র: ১৯ আগস্ট ১৯৯২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩৪শ অধিবেষনের কার্যবিবরণী)
চলতি মূলধনে বিনিয়োগ
বিষয় -১৪ : চলতি মূলধনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল
(raw material) এর চাহিদা পূরণের জন্য বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান শরী'আহসম্মত কি ?
সিদ্ধান্ত : চলতি মূলধনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল (raw material) -এর চাহিদা পূরণে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় করবে। এভাবে বিনিয়োগ করায় শরী'আহর কোনো আপক্তি নেই। (সূত্র: ৩১ জুলাই ২০০২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৫তম অধিবেষনের কার্যবিবরণী)
ডেলিভারি অর্ডারের বিপরীতে বিনিয়োগ
বিষয় -১৫ : অনেক কোম্পানি তাদের অনুমোদিত (authorized) ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বাজারজাত করে। এসব ডিলারকে পণ্য সরবরাহের আগেই তাদের নামে বরাদ্দকৃত পণ্যের বিপরীতে ডিও (Delivery Order) ইস্যু করা হয়। ডিলারগণ কখনো উক্ত ডিও লেটার ইস্যুকারী কোম্পানি হতে পণ্য উত্তোলন করেন আবার কখনো উত্তোলন না করে তা অন্যের কাছে লাভে বিক্রয় করেন। এভাবে কখনো কখনো ডিও -টি কয়েক হাত বদল হয়। উক্ত ডিও ক্রয়ের বিপরীতে বিনিয়োগ প্রদান বৈধ কি ?
সিদ্ধান্ত : ডেলিভারি অর্ডারের মাধ্যমে ব্যাংক পণ্য ক্রয়ের আইনগত অধিকার অর্জন করে। কিন্তু শুধু ডিও'র মাধ্যমে মূল ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত না হওয়ায় এর বিপরীতে মুরাবাহা বিনিয়োগ বৈধ নয়। এ ক্ষেত্রে পে - অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ডিও ইস্যুকারী কোম্পানিকে ডিও -র বিপরীতে থাকা পণ্যের মূল্য পরিশোধপূর্বক ব্যাংক সরাসরি পণ্য ক্রয় করবে এবং উক্ত পণ্য বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় করবে।
( সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর, ২০০২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : চুক্তিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময়ের আগে বিনিয়োগ গ্রাহক পণ্যের মূল্য বা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করে দিলে কোনো প্রকার পূর্বশর্ত ও সমঝোতা ব্যতীত সময়নুপাতিক হারে তাকে ইবরা (ছাড়/rebate) প্রদান করা যাবে। আলোচ্য ইবরার পরিমান চুক্তিতে ধার্যকৃত মুনাফার অনুপাতে হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
(সূত্র: ১১আগস্ট,১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৮শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১২ : মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাবে মেয়াদপূর্তির আগে অগ্রিম পরিশোধকৃত অর্থের ওপর রিবেট প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : বিনিয়োগ গ্রাহক যদি মেয়াদপূর্তির আগে পণ্যের বিক্রয়মূল্যের আংশিক পাওনা ( পণ্যের ক্রয়মূল্য + মুনাফা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ) পরিশোধ করেন কিন্তু পরে নির্ধারিত দিনে বাকি পাওনা পরিশোধ করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে তাকে রিবেট না দিয়ে তার কাছ থেকে পুরো পাওনা আদায় করা সঙ্গত নয়। তাই বাই'মুরাবাহা চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির আগে অগ্রিম পরিশোধকৃত আংশিক বিনিয়োগ পাওনার রিবেট প্রদান করতে হবে। তবে খেলাপি অংশের ওপর আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যাবে এবং তা ব্যাংকের বৈধ আয়ের অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না।
( সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ সুপারভাইজারি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
গ্রাহকের প্যাডে ক্যাশমেমো তৈরি
বিষয় -১৩ : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রয় -বিক্রয়ের প্রমাণস্বরূপ ব্যাংক সরবরাহকারী প্রদত্ত ক্যাশমেমো সংরক্ষণ করে থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী কর্তৃক প্রদত্ত ক্যাশমেমোর পরিবর্তে বিনিয়োগ গ্রাহক তার ব্যক্তিগত প্যাডে ক্যাশমেমো তৈরি করেন। এ ধরনের ক্যাশমেমো গ্রহণ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : গ্রাহকের ব্যক্তিগত প্যাডে তৈরিকৃত ক্যাশমেমো গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যাংক কর্তৃক পণ্য ক্রয়ের প্রমাণস্বরূপ ক্রয়মূল্য প্রদানের বিপরিতে যথাযথ ক্যাশমেমো সংরক্ষণ করতে হবে। অন্যথায় ব্যাংক কর্তৃক সঠিকভাবে পণ্য ক্রয় -বিক্রয় না হওয়ার মতো সন্দেহের অবকাশ থেকে যাবে।
( সূত্র: ১৯ আগস্ট ১৯৯২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩৪শ অধিবেষনের কার্যবিবরণী)
চলতি মূলধনে বিনিয়োগ
বিষয় -১৪ : চলতি মূলধনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল
(raw material) এর চাহিদা পূরণের জন্য বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান শরী'আহসম্মত কি ?
সিদ্ধান্ত : চলতি মূলধনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল (raw material) -এর চাহিদা পূরণে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় করবে। এভাবে বিনিয়োগ করায় শরী'আহর কোনো আপক্তি নেই। (সূত্র: ৩১ জুলাই ২০০২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৫তম অধিবেষনের কার্যবিবরণী)
ডেলিভারি অর্ডারের বিপরীতে বিনিয়োগ
বিষয় -১৫ : অনেক কোম্পানি তাদের অনুমোদিত (authorized) ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বাজারজাত করে। এসব ডিলারকে পণ্য সরবরাহের আগেই তাদের নামে বরাদ্দকৃত পণ্যের বিপরীতে ডিও (Delivery Order) ইস্যু করা হয়। ডিলারগণ কখনো উক্ত ডিও লেটার ইস্যুকারী কোম্পানি হতে পণ্য উত্তোলন করেন আবার কখনো উত্তোলন না করে তা অন্যের কাছে লাভে বিক্রয় করেন। এভাবে কখনো কখনো ডিও -টি কয়েক হাত বদল হয়। উক্ত ডিও ক্রয়ের বিপরীতে বিনিয়োগ প্রদান বৈধ কি ?
সিদ্ধান্ত : ডেলিভারি অর্ডারের মাধ্যমে ব্যাংক পণ্য ক্রয়ের আইনগত অধিকার অর্জন করে। কিন্তু শুধু ডিও'র মাধ্যমে মূল ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত না হওয়ায় এর বিপরীতে মুরাবাহা বিনিয়োগ বৈধ নয়। এ ক্ষেত্রে পে - অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ডিও ইস্যুকারী কোম্পানিকে ডিও -র বিপরীতে থাকা পণ্যের মূল্য পরিশোধপূর্বক ব্যাংক সরাসরি পণ্য ক্রয় করবে এবং উক্ত পণ্য বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় করবে।
( সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর, ২০০২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Thursday, 25 July 2019
পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহক থেকে কমিশন আদায়
বিষয় -৯ : বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল প্রভৃতি ক্রয় -বিক্রয় পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক পণ্য ক্রয় করে গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক বিনিয়োগের পণ্য ক্রয়ের জন্য যে ডিডি, টিটি,পেমেন্ট অর্ডার ইত্যাদি ইস্যু করে থাকে তার কমিশন বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে থেকে আদায় করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক যে সমস্ত পণ্য বিক্রয়ের জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে, চুক্তি অনুযায়ী দেশি -বিদেশি বাজার থেকে প্রত্যাশিত সে সমস্ত পণ্য কিনে তা ক্রেতা বা গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করা তখন ব্যাংকের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে যায়। ব্যাংক স্হানীয় বাজার থেকে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতে গিয়ে ডিমান্ড ড্রাফটি, টিটি,পেমেন্ট অর্ডার
ইত্যাদি ইস্যু করে। ব্যাংক নগদ টাকা দিয়ে পণ্যের ক্রয়মূল্য পরিশোধ করল নাকি পূর্বোক্ত ইনস্ট্রুমেন্টর মাধ্যমে করল তা ক্রেতা বা গ্রাহকের
জানা জরুরি নয় এবং ঢ় জন্য কোনো কমিশন দিতেও তাকে বাধ্য করার কোনো যুক্তি নেই। অনুরূপভাবে ব্যাংক এলসি খুলে বিদেশ থেকেও
কাঙ্খিক্ষিত পণ্য আমদানি ও বিল পরিশোধের ব্যবস্হাা করে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই পণ্য ক্রয়ের দায়িত্ব যেমন ব্যাংকের, তেমনি ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের দায়িত্বও ব্যাংকের। এমতাবস্হায় পণ্য বিক্রয়চুক্তিতে উল্লেখিত ও ধার্যকৃত মুনাফার অতিরিক্ত কোনো প্রকার কমিশন ধার্য করা বৈধ নয়। একইভাবে নোশন ( notion) বা ধারণার ভিক্তিতে -যা আদৌ খরচ করা হয়নি এমন কোনো খরচ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা জায়েয নেই। তবে পণ্য বিক্রয়ের সময় ক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক খরচ পণ্যের মূল্য হিসেবে আদায় করা যাবে। কিন্তু উক্ত আনুষঙ্গিক খরচের ওপর কোনো প্রকার লাভ ধার্য করা যাবে না। তবে
যদি অঙ্গীকারনামা সম্পাদনের (ওয়াদাচুক্তির) সময় গ্রাহক থেকে এই মর্মে লিখিত ওয়াদা নেয়া হয় যে, শুধু পণ্যের ক্রয়মূল্যের সাথে লাভ যোগ
করা হবে এবং আনুষঙ্গিক খরচ গ্রাহক নিজেই বহন করবে, সে ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক খরচ (যদি হয়) আলাদাভাবে আদায়ে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই।
( সূত্র: ১৮ মার্চ ,১৯৯৩ ও ৭ মে, ২০০৩ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩৬শ ১০৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০ : এলসি (L/c) - এর মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্য কোনো গ্রাহক মুরাবাহা পদ্ধতিতে কিনে নিলে তার কাছ থেকে মুরাবাহার মুনাফার সাথে এলসি খোলাসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক
খরচ আদায় করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতির অধীনে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার পর এ সংক্রান্ত
আনুষঙ্গিক খরচ সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্রয়মূল্যের সাথে যোগ করে প্রত্যাশিত মুনাফাসহ বিক্রয়মূল্য ধার্য্য করা যেতে পারে।
( সূত্র: ১৮ মার্চ, ১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৭শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক যে সমস্ত পণ্য বিক্রয়ের জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে, চুক্তি অনুযায়ী দেশি -বিদেশি বাজার থেকে প্রত্যাশিত সে সমস্ত পণ্য কিনে তা ক্রেতা বা গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করা তখন ব্যাংকের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে যায়। ব্যাংক স্হানীয় বাজার থেকে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতে গিয়ে ডিমান্ড ড্রাফটি, টিটি,পেমেন্ট অর্ডার
ইত্যাদি ইস্যু করে। ব্যাংক নগদ টাকা দিয়ে পণ্যের ক্রয়মূল্য পরিশোধ করল নাকি পূর্বোক্ত ইনস্ট্রুমেন্টর মাধ্যমে করল তা ক্রেতা বা গ্রাহকের
জানা জরুরি নয় এবং ঢ় জন্য কোনো কমিশন দিতেও তাকে বাধ্য করার কোনো যুক্তি নেই। অনুরূপভাবে ব্যাংক এলসি খুলে বিদেশ থেকেও
কাঙ্খিক্ষিত পণ্য আমদানি ও বিল পরিশোধের ব্যবস্হাা করে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই পণ্য ক্রয়ের দায়িত্ব যেমন ব্যাংকের, তেমনি ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের দায়িত্বও ব্যাংকের। এমতাবস্হায় পণ্য বিক্রয়চুক্তিতে উল্লেখিত ও ধার্যকৃত মুনাফার অতিরিক্ত কোনো প্রকার কমিশন ধার্য করা বৈধ নয়। একইভাবে নোশন ( notion) বা ধারণার ভিক্তিতে -যা আদৌ খরচ করা হয়নি এমন কোনো খরচ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা জায়েয নেই। তবে পণ্য বিক্রয়ের সময় ক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক খরচ পণ্যের মূল্য হিসেবে আদায় করা যাবে। কিন্তু উক্ত আনুষঙ্গিক খরচের ওপর কোনো প্রকার লাভ ধার্য করা যাবে না। তবে
যদি অঙ্গীকারনামা সম্পাদনের (ওয়াদাচুক্তির) সময় গ্রাহক থেকে এই মর্মে লিখিত ওয়াদা নেয়া হয় যে, শুধু পণ্যের ক্রয়মূল্যের সাথে লাভ যোগ
করা হবে এবং আনুষঙ্গিক খরচ গ্রাহক নিজেই বহন করবে, সে ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক খরচ (যদি হয়) আলাদাভাবে আদায়ে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই।
( সূত্র: ১৮ মার্চ ,১৯৯৩ ও ৭ মে, ২০০৩ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩৬শ ১০৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০ : এলসি (L/c) - এর মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্য কোনো গ্রাহক মুরাবাহা পদ্ধতিতে কিনে নিলে তার কাছ থেকে মুরাবাহার মুনাফার সাথে এলসি খোলাসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক
খরচ আদায় করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতির অধীনে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার পর এ সংক্রান্ত
আনুষঙ্গিক খরচ সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্রয়মূল্যের সাথে যোগ করে প্রত্যাশিত মুনাফাসহ বিক্রয়মূল্য ধার্য্য করা যেতে পারে।
( সূত্র: ১৮ মার্চ, ১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৭শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
Tuesday, 23 July 2019
ব্যাংক কর্তৃক পণ্য ক্রয় -বিক্রয়
বিষয় -৪ : বাই' মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য ক্রয় ও তার ওপর দখল লাভের পর বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে তা বিক্রয় করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় গ্রাহক ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের
পরিবর্তে নিজে ক্রয় করার উদ্দেশ্যে বাই'মুরাবাহা/
বাই'/মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে নগদ টাকা চান। এমতাবস্হায় পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহককে বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে নগদ অর্থ
প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক কর্তৃক পন্য ক্রয় -বিক্রয় করা আবশ্যক। ব্যাংক পণ্য ক্রয় -বিক্রয় না করে কেবল গ্রাহককে নগদ টাকা দিয়ে তার ওপরে অতিরিক্ত কিছু নেয়া সুদেরই নামান্তর।
(সূত্র: ২৭ জানুয়ারী, ১৯৮৬ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় - : বাই'মুরাবাহা (প্লেজ) পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চুক্তির মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হলেও পণ্যের মূল্য পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তা গুদামে
ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষন করতে হয়। এ সময় পণ্যের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণজনিত আনুষঙ্গিক খরচ কে বহন করবে, ব্যাংক না গ্রাহক?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তা যখন যার মালিকানায় থাকবে, নিরাপত্তা ও সংরক্ষণজনিত আনুষঙ্গিক খরচের দায়িত্বও তাকে বহন করতে হবে।
(সূত্র: ২৭ জানুয়ারী, ১৯৮৬ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৬ : আগ্রহী গ্রাহকের অনুরোধে বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে তার জন্য পণ্য ক্রয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক উক্ত পণ্য ব্যাংক থেকে কিনে নিতে অপারগ হলে উক্ত মুরাবাহা বিনিয়োগের বিপরীতে অতিরিক্ত কিছু চার্জ/আদায় করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে গ্রাহকের অনুরোধক্রমে পণ্য ক্রয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সে পণ্য ব্যাংকের কাছ থেকে কিনে নিতে অপারগ হলে চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী ব্যাংক বিলম্বজনিত সময়ের অতিরিক্ত প্রকৃত আনুষঙ্গিক খরচ আদায় করতে পারে। তবে পণ্যের পরিমাণ অনুসারে পূর্বনির্ধারিত হারে এ চার্জ নিতে হবে।
( সূত্র: ১৩ আগস্ট,১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ২৮শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও মুনাফা নির্ধারণে শর'ঈ নীতিমালা
বিষয় - ৭ : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের
ক্ষেত্রে পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও মুনাফা নির্ধারণের শর'ঈ নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে পণ্যের ক্রয়মূল্য ও মুনাফার পরিমাণ প্রকাশ করতে হবে। পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত ব্যয়ই ক্রয়মূল্য হিসেবে পরিগণিত হবে এবং এই ক্রয়মূল্যের ভিক্তিতেই (ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত মুনাফা যুক্ত করে)
বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।
( সূত্র: ৭ জুলাই ও ৩০ নভেম্বর, ১৯৮৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০ম ও ১১শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮ : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের সময় পণ্যের ক্রয়মূল্যের, আমদানি খরচ ও মুনাফার পরিমাণ গ্রাহককে জানাতে হবে কি না এবং এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কয়টি পক্ষ থাকা অপরিহার্য?
সিদ্ধান্ত : মুরাবাহা চুক্তির সময় গ্রাহককে পণ্যের ক্রয়মূল্য, আমদানি খরচ ও মুনাফার পরিমাণ
সুস্পষ্টভাবে বলে দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে অনু্ষ্টিত প্রত্যেক কারবারে ব্যাংক,পণ্যের সরবরাহকারী ও ক্রেতা এই তিন পক্ষের অস্তিত্ব থাকা জরুরি এবং
প্রত্যেক পক্ষই পণ্যের মালিকানা ও দখল লাভের পর তা বিক্রয় করলে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি থাকবে না।
(সূত্র: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮ম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
পরিবর্তে নিজে ক্রয় করার উদ্দেশ্যে বাই'মুরাবাহা/
বাই'/মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে নগদ টাকা চান। এমতাবস্হায় পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহককে বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে নগদ অর্থ
প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক কর্তৃক পন্য ক্রয় -বিক্রয় করা আবশ্যক। ব্যাংক পণ্য ক্রয় -বিক্রয় না করে কেবল গ্রাহককে নগদ টাকা দিয়ে তার ওপরে অতিরিক্ত কিছু নেয়া সুদেরই নামান্তর।
(সূত্র: ২৭ জানুয়ারী, ১৯৮৬ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় - : বাই'মুরাবাহা (প্লেজ) পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চুক্তির মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হলেও পণ্যের মূল্য পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তা গুদামে
ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষন করতে হয়। এ সময় পণ্যের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণজনিত আনুষঙ্গিক খরচ কে বহন করবে, ব্যাংক না গ্রাহক?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তা যখন যার মালিকানায় থাকবে, নিরাপত্তা ও সংরক্ষণজনিত আনুষঙ্গিক খরচের দায়িত্বও তাকে বহন করতে হবে।
(সূত্র: ২৭ জানুয়ারী, ১৯৮৬ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৬ : আগ্রহী গ্রাহকের অনুরোধে বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে তার জন্য পণ্য ক্রয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক উক্ত পণ্য ব্যাংক থেকে কিনে নিতে অপারগ হলে উক্ত মুরাবাহা বিনিয়োগের বিপরীতে অতিরিক্ত কিছু চার্জ/আদায় করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে গ্রাহকের অনুরোধক্রমে পণ্য ক্রয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সে পণ্য ব্যাংকের কাছ থেকে কিনে নিতে অপারগ হলে চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী ব্যাংক বিলম্বজনিত সময়ের অতিরিক্ত প্রকৃত আনুষঙ্গিক খরচ আদায় করতে পারে। তবে পণ্যের পরিমাণ অনুসারে পূর্বনির্ধারিত হারে এ চার্জ নিতে হবে।
( সূত্র: ১৩ আগস্ট,১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ২৮শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও মুনাফা নির্ধারণে শর'ঈ নীতিমালা
বিষয় - ৭ : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের
ক্ষেত্রে পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও মুনাফা নির্ধারণের শর'ঈ নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে পণ্যের ক্রয়মূল্য ও মুনাফার পরিমাণ প্রকাশ করতে হবে। পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত ব্যয়ই ক্রয়মূল্য হিসেবে পরিগণিত হবে এবং এই ক্রয়মূল্যের ভিক্তিতেই (ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত মুনাফা যুক্ত করে)
বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।
( সূত্র: ৭ জুলাই ও ৩০ নভেম্বর, ১৯৮৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০ম ও ১১শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮ : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের সময় পণ্যের ক্রয়মূল্যের, আমদানি খরচ ও মুনাফার পরিমাণ গ্রাহককে জানাতে হবে কি না এবং এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কয়টি পক্ষ থাকা অপরিহার্য?
সিদ্ধান্ত : মুরাবাহা চুক্তির সময় গ্রাহককে পণ্যের ক্রয়মূল্য, আমদানি খরচ ও মুনাফার পরিমাণ
সুস্পষ্টভাবে বলে দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে অনু্ষ্টিত প্রত্যেক কারবারে ব্যাংক,পণ্যের সরবরাহকারী ও ক্রেতা এই তিন পক্ষের অস্তিত্ব থাকা জরুরি এবং
প্রত্যেক পক্ষই পণ্যের মালিকানা ও দখল লাভের পর তা বিক্রয় করলে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি থাকবে না।
(সূত্র: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮ম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
Saturday, 20 July 2019
জুুুুরাসিক যুগেও ছিল শিষ্ট খাদ্যাভ্যাসী প্রাণী
জুরাসিক যুগের নাম শুনলেই কল্পনায় ভেসে ওঠে বিশালাকার ডাইনোসরের ছবি। মাংসাশী ও তৃণভোজী বিশালদেহীর ওই প্রাণীর রাজত্বকালেও ছিল শিষ্ট খাদ্যাভ্যাসী প্রাণী! শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীদের দাবি সেটিই ইতিহাসের প্রথম স্তন্যপায়ী শিষ্ট খাদ্যাভ্যাসী প্রাণী। জার্মানির বন
ইউনিভারসিটির একদল বিজ্ঞানী বলছেন, চীনে এক ছোট্র প্রাণীর ফসিল পাওয়া যায়। গবেষণা করে দেখা যাচ্ছে,এটি প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগের, অর্থাৎ জুরাসিক যুগের। প্রায় ৫ ইঞ্চি দৈর্ষ্যের প্রাণীটি দেখতে অনেকটা ইঁদুরের মতো। তবে এর লেজ বর্তমান যুগের ইঁদুরের তুলনায় খানিকটা লম্বা। এটি পোকামাকড় খেত,
থাকত গাছে। শারীরিক গঠনও ছিল একালের ইঁদুরের চেয়ে মজবুত।
রয়টার্স ।।।
ইউনিভারসিটির একদল বিজ্ঞানী বলছেন, চীনে এক ছোট্র প্রাণীর ফসিল পাওয়া যায়। গবেষণা করে দেখা যাচ্ছে,এটি প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগের, অর্থাৎ জুরাসিক যুগের। প্রায় ৫ ইঞ্চি দৈর্ষ্যের প্রাণীটি দেখতে অনেকটা ইঁদুরের মতো। তবে এর লেজ বর্তমান যুগের ইঁদুরের তুলনায় খানিকটা লম্বা। এটি পোকামাকড় খেত,
থাকত গাছে। শারীরিক গঠনও ছিল একালের ইঁদুরের চেয়ে মজবুত।
রয়টার্স ।।।
Friday, 19 July 2019
বাই' মুরাবাহা ও বাই' মুয়াজ্জাল পণ্যের মালিকানা
বিষয় - ১: ইসলামী ব্যাংকে অনুশীলিত মুরাবাহা
পদ্ধতিতে ব্যাংক গ্রাহকের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করে থাকে। এমতাবস্হায় বিক্রয়ের জন্য ক্রয়কৃত পণ্যের মালিক ব্যাংক না গ্রাহক?
সিদ্ধন্ত : শরী'আহর নীতি অনুযায়ী মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংক কর্তৃক ক্রয়কৃত পণ্যের মালিকানা বিনিয়োগ গ্রাহককে বুঝিয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত তা ব্যাংকেরই থাকবে।
( সূত্র:১৫ জানুয়ারী, ১৯৯৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬ তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
পণ্যের মালিকানা অর্জনের আগে মুনাফা নির্ধারণ
বিষয় -২ : প্রকাশনা শিল্পের সাথে জড়িত কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য কাগজ ক্রয়ের ইনডেন্ট পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে টেন্ডারের সময় কাঙ্খিত কাগজের ১০০% মূল্য সরবরাহকারীর অনুকূলে অগ্রিম জমা দিতে হয়। কিন্তু সরবরাহকারী ১৫ -২০ দিন পর অগ্রিম পরিশোধিত অর্থের ৪০% - ৫০% কম কাগজ সরবরাহ করে এবং বাকি অর্থ ফেরত দেয়। গ্রাহক তার প্রত্যাশিত কাগজ সরবরাহকারী থেকে ক্রয় করে দেয়ার জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করেন। এমতাবস্হায় কিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি সমস্যা দেখা যায় :
ক. বিনিয়োগের ১৫ -২০ দিন পর কাগজ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কাগজ না পেয়ে মুনাফা ধার্য ও মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন করা যায় না।
খ. অগ্রিম প্রদত্ত অর্থের ১০০% কাগজ পাওয়া যায় না। সাধারণত ৪০% -৫০% কম পাওয়া যায়।
এ বিশেষ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহকারীকে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে
মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন ও মুনাফা নির্ধারণের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
সিদ্ধান্ত: শাখা শুরুতে কাগজ ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের সাথে 'ওয়াদ বিশ -শির' (ক্রয়ের অঙ্গীকার) চুক্তি সম্পাদন করবে। অতঃপর গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাব বিকলন করে প্রত্যাশিত কাগজের অগ্রিম মূল্য সরবরাহকারীকে পরিশোধ করবে। এ সময় কোনো মুনাফা ধার্য করা যাবে না। তবে ১৫ -২০ দিন পর পণ্য হাতে এলে সরবরাহকারী থেকে ফেরত অর্থ সমন্বয়ের পর মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন করে সম্মত মুনাফা
(agreed upon profit) - সহ শাখা প্রাপ্ত পণ্য গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে পারে।
( সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী। )
বিষয় -৩ : বাই মুরাবাহা বিনিয়োগের বিপরীতে
পণ্যের অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক। কিন্তু মোটরসাইকেল ব্যবসার ক্ষেত্রে আমদানিকারক/প্রস্তুতকারকদের কাছে গাড়ির মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করে বুকিং দিতে হয়। সাধারণত বুকিং
দেয়ার ৩/৪ মাস পর তারা মোটরসাইকেল সরবরাহ করে। ফলে বুকিং প্রদানের তারিখ থেকে সরবরাহের তারিখ পর্যন্ত মোটরসাইকেলের কোনো স্টক ব্যাংকের কাছে থাকে না। এমতাবস্হায়, পণ্য বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের আগে মুনাফা ধার্য করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : শরী'আহর বিধান অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক কোনো বস্তুর মালিকানা অর্জন ও ক্ববদ করার পূর্বে তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। অতএব, ব্যাংক কর্তৃক মোটরসাইকেলের মূল্য অগ্রিম পরিষোধ/ডিসবার্সমেন্টের সময় গ্রাহকের সাথে
উক্ত মোটরসাইকেল বাই ' মুরাবাহা/ বাই' মুয়াজ্জাল ভিত্তিতে বিক্রয় চুক্তি (sale agreement) করা এবং ক্রয়মূল্যের ওপর মুনাফা আরোপ করা বৈধ হবে না। এ ক্ষেত্রে উক্ত
প্রক্রিয়াকে শরী' আহ অনুযায়ী সম্পন্ন করতে নিম্নেরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক বিনিয়োগ মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করার সময়
গ্রাহকের সাথে একটি'ওয়াদা বিশ -শিরা'
(ক্রয়ের অঙ্গীকার চুক্তি) সম্পাদন করবে।
খ. ব্যাংক মোটরসাইকেল সরবরাহের সময় গ্রাহকের সাথে বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল চুক্তি সম্পাদন করবে।
গ. মোটর সাইকেলের অর্ডার প্রদান থেকে বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে সরবরাহ পর্যন্ত সময়ে
কোনো মুনাফা আরোপ করা হবে না। তবে সরবরাহকালে ব্যাংক পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর মুনাফা আরোপ করতে পারবে।
ঘ. গ্রাগকের অবহেলা কিংবা ত্রুটি ছাড়া অন্য কোনো কারণে ব্যাংক পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্ত হলে কিংবা সরবরাহের আগে পণ্যের ক্ষতি হলে
গ্রাহকের কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে না।
( সূত্র: ৬ জানুয়ারী, ২০০৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৩৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
পদ্ধতিতে ব্যাংক গ্রাহকের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহকারী থেকে পণ্য ক্রয় করে তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করে থাকে। এমতাবস্হায় বিক্রয়ের জন্য ক্রয়কৃত পণ্যের মালিক ব্যাংক না গ্রাহক?
সিদ্ধন্ত : শরী'আহর নীতি অনুযায়ী মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংক কর্তৃক ক্রয়কৃত পণ্যের মালিকানা বিনিয়োগ গ্রাহককে বুঝিয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত তা ব্যাংকেরই থাকবে।
( সূত্র:১৫ জানুয়ারী, ১৯৯৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬ তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
পণ্যের মালিকানা অর্জনের আগে মুনাফা নির্ধারণ
বিষয় -২ : প্রকাশনা শিল্পের সাথে জড়িত কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য কাগজ ক্রয়ের ইনডেন্ট পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে টেন্ডারের সময় কাঙ্খিত কাগজের ১০০% মূল্য সরবরাহকারীর অনুকূলে অগ্রিম জমা দিতে হয়। কিন্তু সরবরাহকারী ১৫ -২০ দিন পর অগ্রিম পরিশোধিত অর্থের ৪০% - ৫০% কম কাগজ সরবরাহ করে এবং বাকি অর্থ ফেরত দেয়। গ্রাহক তার প্রত্যাশিত কাগজ সরবরাহকারী থেকে ক্রয় করে দেয়ার জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করেন। এমতাবস্হায় কিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি সমস্যা দেখা যায় :
ক. বিনিয়োগের ১৫ -২০ দিন পর কাগজ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কাগজ না পেয়ে মুনাফা ধার্য ও মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন করা যায় না।
খ. অগ্রিম প্রদত্ত অর্থের ১০০% কাগজ পাওয়া যায় না। সাধারণত ৪০% -৫০% কম পাওয়া যায়।
এ বিশেষ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহকারীকে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে
মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন ও মুনাফা নির্ধারণের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
সিদ্ধান্ত: শাখা শুরুতে কাগজ ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের সাথে 'ওয়াদ বিশ -শির' (ক্রয়ের অঙ্গীকার) চুক্তি সম্পাদন করবে। অতঃপর গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাব বিকলন করে প্রত্যাশিত কাগজের অগ্রিম মূল্য সরবরাহকারীকে পরিশোধ করবে। এ সময় কোনো মুনাফা ধার্য করা যাবে না। তবে ১৫ -২০ দিন পর পণ্য হাতে এলে সরবরাহকারী থেকে ফেরত অর্থ সমন্বয়ের পর মুরাবাহা চুক্তিপত্র সম্পাদন করে সম্মত মুনাফা
(agreed upon profit) - সহ শাখা প্রাপ্ত পণ্য গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে পারে।
( সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী। )
বিষয় -৩ : বাই মুরাবাহা বিনিয়োগের বিপরীতে
পণ্যের অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক। কিন্তু মোটরসাইকেল ব্যবসার ক্ষেত্রে আমদানিকারক/প্রস্তুতকারকদের কাছে গাড়ির মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করে বুকিং দিতে হয়। সাধারণত বুকিং
দেয়ার ৩/৪ মাস পর তারা মোটরসাইকেল সরবরাহ করে। ফলে বুকিং প্রদানের তারিখ থেকে সরবরাহের তারিখ পর্যন্ত মোটরসাইকেলের কোনো স্টক ব্যাংকের কাছে থাকে না। এমতাবস্হায়, পণ্য বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের আগে মুনাফা ধার্য করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : শরী'আহর বিধান অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক কোনো বস্তুর মালিকানা অর্জন ও ক্ববদ করার পূর্বে তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। অতএব, ব্যাংক কর্তৃক মোটরসাইকেলের মূল্য অগ্রিম পরিষোধ/ডিসবার্সমেন্টের সময় গ্রাহকের সাথে
উক্ত মোটরসাইকেল বাই ' মুরাবাহা/ বাই' মুয়াজ্জাল ভিত্তিতে বিক্রয় চুক্তি (sale agreement) করা এবং ক্রয়মূল্যের ওপর মুনাফা আরোপ করা বৈধ হবে না। এ ক্ষেত্রে উক্ত
প্রক্রিয়াকে শরী' আহ অনুযায়ী সম্পন্ন করতে নিম্নেরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক বিনিয়োগ মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করার সময়
গ্রাহকের সাথে একটি'ওয়াদা বিশ -শিরা'
(ক্রয়ের অঙ্গীকার চুক্তি) সম্পাদন করবে।
খ. ব্যাংক মোটরসাইকেল সরবরাহের সময় গ্রাহকের সাথে বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল চুক্তি সম্পাদন করবে।
গ. মোটর সাইকেলের অর্ডার প্রদান থেকে বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে সরবরাহ পর্যন্ত সময়ে
কোনো মুনাফা আরোপ করা হবে না। তবে সরবরাহকালে ব্যাংক পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর মুনাফা আরোপ করতে পারবে।
ঘ. গ্রাগকের অবহেলা কিংবা ত্রুটি ছাড়া অন্য কোনো কারণে ব্যাংক পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্ত হলে কিংবা সরবরাহের আগে পণ্যের ক্ষতি হলে
গ্রাহকের কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে না।
( সূত্র: ৬ জানুয়ারী, ২০০৭ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৩৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Tuesday, 16 July 2019
হযরত আলী (রা:) সন্তানগণের মাঝে 'উসমান' নামের প্রচলন
মানুষ পূর্ণ সচেতনতার সাথে তার সন্তানের নাম রাখে। নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিখ্যাত ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নাম অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। যাদের প্রতি তাঁর মনে বিশ্বাস -শ্রদ্ধা ও ভক্তি
আকাশচুম্বী। সে আশা করে, এ নাম তার সন্তানের জীবনে সম্মান ও গৌরব বয়ে আনবে। আর যাদের প্রতি তার মনে তাচ্ছিল্য, ক্ষোভ ও ক্রোধ কিংবা ঘুণার উদ্রেক হয় তাদের নামে সে তার সন্তানের নাম রাখতে চায় না।
প্রাকৃতিক এই সূত্রকে সামনে রেখে যদি আমরা হযরত আলী (রা:) এর প্রতি দৃকপাত করি, তবে দেখি তাঁর সন্তানদের মাঝে রয়েছে হযরত আবু বকর, উমর, উসমান (রা:) প্রমুখ সাহাবাগণেরর নাম। এতে একথা পরিষ্কার হয়ে উঠে যে, খলিফাত্রয়ের প্রতি হযরত আলী (রা:) এর মনে শত্রুতা কিংবা হিংসার লেশমাত্র ছিল না। তাঁদেরকে সম্মানিত ও মর্যাদার পাত্র বলে জ্ঞান করতেন বিধায় তার সন্তানদের তাঁদের নামে নামও রেখেছিলেন। নিম্নে এ প্রসঙ্গে কতিপয় উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হল।
আবু আবদুুল্লাহ মুসআব বিন আবদুল্লাহ যুবাইরী
(মৃত্যু:২৩৬ হি:) স্বীয়গ্রন্হে আলী (রা:) এর সন্তানবর্গের বিবরণ দিয়েছেন এভাবে --
উমর বিন আলী ও রুকাইয়া যমজ ভাইবোন ছিলেন। তাদের মা হলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের যুদ্ধলব্ধ বাঁদী সাহবা। পঞ্চম সন্তান :
আব্বাস বিন আলী এবং তার আপন ভাইয়েরা হচ্ছে উসমান বিন আলী, জাফর বিন আলী, আবদুল্লাহ বিন আলী। এঁরা কারবালার যুদ্ধক্ষেত্রে
আব্বাস বিন আলী (রা:) এর পূর্বে শহীদ হন।
আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযাম উন্দুলুসী তার বিখ্যাত গ্রন্হ 'জামহারাতু আনসাবুর আরব' এ হযরত আলী বিন আবু তালেব (রা:) সন্তানবর্গের আলোচনায়
লেখেন --
"ষষ্ঠ আব্বাস,সপ্তম আবু বকর, অষ্টম উসমান, নবম জাফর কারবালা প্রাঙ্গণে এই ভ্রাতৃচতুষ্ঠয় তাদের ভাই হুসাইন (রা:) এর সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন।
তাবাকাতে ইবনে সাদ -এ নিম্নেরূপ উল্লেখ রয়েছে
আবু বকর বিন আলী হুসাইন (রা:) এর সাথে কারবালায় শহীদ হন এবং আব্বাস বিন আলী
(জ্যেষ্ঠ), উসমান, জাফর (জ্যেষ্ঠ) ও আবদুুল্লাহ হুসাইন (রা:) এর সঙ্গে শহীদ হন।
'তারীখে খলীফা ইবনে খয়্যাত' -এ শুহাদা -এ কারবালা' শিরোনামের অধীনে উদ্ধৃতি --
আবুল হাসান বলেন, হুসাইন (রা:) এর সাথে তার ভাই উসমান বিন আলী শহীদ হন। তার মায়ের নাম উম্মুল বানীন।
আহামদ বিন য়া'কুব প্রসিদ্ধ গ্রন্হ 'তারীখে য়া'কুবীতে লিখেছেন --
"হযরত হুসাইন (রা:) এর দুই ভাই আব্বাস ও জাফর কারবালায় শহীদ হন। উসমান ও আবদুল্লাহ এ ভ্রাতৃচতুষ্ঠয়ের মা ছিলেন উম্মুল বানীন বিনতে হেযাম কিলাবিয়া। উসমান (কনিষ্ঠ)
ও য়াহয়া । এঁদের মায়ের নাম আসমা বিনতে উমাইস খাসআমিয়া।
আবুল ফারাজ ইস্পাহানী 'মাকাতিলুত তালিবীন' গ্রন্হে কারকালার যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী হুসাইন (রা:) এর ভাইদের নাম পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন --
"হযরত আলী (রা:) সন্তানবর্গের মাঝে উসমান বিন আলী অন্যতম। তাঁর মা উম্মুল বানীন। একুশ
বছর বয়সে তিনি শহীদ হন।
প্রখ্যাত শীয়া ঐতিহাসিক মাসউদী হযরত আলী (রা:) এর এগারজন সন্তানের নাম উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে অষ্টম সন্তানের নাম উসমান।
মাসউদী 'মুআবিয়া (রা:) এর শাসনকাল' শিরোনামের অধীনে কারবালার শহীদগণের পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছেন। এখানে তিনি তৃতীয় অবস্হানে উসমান বিন আলী নাম এনেছেন--
"কারবালায় হুসাইন (রা:) এর সাথে তাঁর ছয় ভাই (পিতার সন্তান) শহীদ হন। তাঁদের নাম যথারূপ:
আব্বাস,জাফর,উসমান,মুহাম্মাদ (কনিষ্ঠ) , আবদুল্লাহ , আবু বকর "।
শাইখ মুফীদ তদীয় গ্রন্হ 'আল -ইরশাদ' -এর হযরত আলী (রা:) এর সন্তানগণের নাম উল্লেখ
করেছেন --
হযরত আলী (রা:) এর পুত্র উসমান ও আবদুল্লাহ
তাঁদের ভাই হুসাইন (রা:) এর সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন।
আলইরশাদ, শাইখ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন নুমানকৃত (আলমুফীদ উপাধি প্রসিদ্ধ) পৃষ্ঠা: ১৬৮
জনাব আলী ইবনে ঈসা আরবিলী স্বীয় গ্রন্হে হযরত আলী (রা:) এর সন্তান ১৪ জন বলে উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে সপ্তম সন্তান হচ্ছেন উসমান বিন আলী।।
সায়্যিদ জামালুদ্দীন আহমাদ বিন আলী স্বীয় গ্রন্হ 'উমদাতুল তালিব ফি আনসাবি আলী ইবনে আবী তালিব' এ হযরত আলী (রা:) এর সন্তানগণের কথা উল্লেখ করেছেন --
আব্বাস বিন আলী ও তাঁর ভাই উসমান, জাফর, ও আবদুল্লাহর মায়ের নাম উম্মুল বানীন ফাতিমা হিযাম ইবনে খালিদ।
একাদশ শতাব্দীর গবেষক মোল্লা বাকির মজলিসী তার নির্ভরযোগ্য পুস্তক 'জালাউল উয়ূন' এ কারবালার শহীদগণের বিবরণ দিয়ে লিখেছেন, আশুরা দিবসে হযরত আলী (রা:) এর নয়জন পুত্র শাহাদত বরণ করেন। তাঁরা হচ্ছেন, শাহীদে আযম হুসাইন (রা:), আব্বাস,তদীয় পুত্র মুহাম্মাদ, উমর, উসমান, জাফর, ইবরাহীম, আবদুল্লাহ (কনিষ্ঠ) এবং মুহাম্মাদ (কনিষ্ঠ) ।।
আকাশচুম্বী। সে আশা করে, এ নাম তার সন্তানের জীবনে সম্মান ও গৌরব বয়ে আনবে। আর যাদের প্রতি তার মনে তাচ্ছিল্য, ক্ষোভ ও ক্রোধ কিংবা ঘুণার উদ্রেক হয় তাদের নামে সে তার সন্তানের নাম রাখতে চায় না।
প্রাকৃতিক এই সূত্রকে সামনে রেখে যদি আমরা হযরত আলী (রা:) এর প্রতি দৃকপাত করি, তবে দেখি তাঁর সন্তানদের মাঝে রয়েছে হযরত আবু বকর, উমর, উসমান (রা:) প্রমুখ সাহাবাগণেরর নাম। এতে একথা পরিষ্কার হয়ে উঠে যে, খলিফাত্রয়ের প্রতি হযরত আলী (রা:) এর মনে শত্রুতা কিংবা হিংসার লেশমাত্র ছিল না। তাঁদেরকে সম্মানিত ও মর্যাদার পাত্র বলে জ্ঞান করতেন বিধায় তার সন্তানদের তাঁদের নামে নামও রেখেছিলেন। নিম্নে এ প্রসঙ্গে কতিপয় উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হল।
আবু আবদুুল্লাহ মুসআব বিন আবদুল্লাহ যুবাইরী
(মৃত্যু:২৩৬ হি:) স্বীয়গ্রন্হে আলী (রা:) এর সন্তানবর্গের বিবরণ দিয়েছেন এভাবে --
উমর বিন আলী ও রুকাইয়া যমজ ভাইবোন ছিলেন। তাদের মা হলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের যুদ্ধলব্ধ বাঁদী সাহবা। পঞ্চম সন্তান :
আব্বাস বিন আলী এবং তার আপন ভাইয়েরা হচ্ছে উসমান বিন আলী, জাফর বিন আলী, আবদুল্লাহ বিন আলী। এঁরা কারবালার যুদ্ধক্ষেত্রে
আব্বাস বিন আলী (রা:) এর পূর্বে শহীদ হন।
আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযাম উন্দুলুসী তার বিখ্যাত গ্রন্হ 'জামহারাতু আনসাবুর আরব' এ হযরত আলী বিন আবু তালেব (রা:) সন্তানবর্গের আলোচনায়
লেখেন --
"ষষ্ঠ আব্বাস,সপ্তম আবু বকর, অষ্টম উসমান, নবম জাফর কারবালা প্রাঙ্গণে এই ভ্রাতৃচতুষ্ঠয় তাদের ভাই হুসাইন (রা:) এর সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন।
তাবাকাতে ইবনে সাদ -এ নিম্নেরূপ উল্লেখ রয়েছে
আবু বকর বিন আলী হুসাইন (রা:) এর সাথে কারবালায় শহীদ হন এবং আব্বাস বিন আলী
(জ্যেষ্ঠ), উসমান, জাফর (জ্যেষ্ঠ) ও আবদুুল্লাহ হুসাইন (রা:) এর সঙ্গে শহীদ হন।
'তারীখে খলীফা ইবনে খয়্যাত' -এ শুহাদা -এ কারবালা' শিরোনামের অধীনে উদ্ধৃতি --
আবুল হাসান বলেন, হুসাইন (রা:) এর সাথে তার ভাই উসমান বিন আলী শহীদ হন। তার মায়ের নাম উম্মুল বানীন।
আহামদ বিন য়া'কুব প্রসিদ্ধ গ্রন্হ 'তারীখে য়া'কুবীতে লিখেছেন --
"হযরত হুসাইন (রা:) এর দুই ভাই আব্বাস ও জাফর কারবালায় শহীদ হন। উসমান ও আবদুল্লাহ এ ভ্রাতৃচতুষ্ঠয়ের মা ছিলেন উম্মুল বানীন বিনতে হেযাম কিলাবিয়া। উসমান (কনিষ্ঠ)
ও য়াহয়া । এঁদের মায়ের নাম আসমা বিনতে উমাইস খাসআমিয়া।
আবুল ফারাজ ইস্পাহানী 'মাকাতিলুত তালিবীন' গ্রন্হে কারকালার যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী হুসাইন (রা:) এর ভাইদের নাম পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন --
"হযরত আলী (রা:) সন্তানবর্গের মাঝে উসমান বিন আলী অন্যতম। তাঁর মা উম্মুল বানীন। একুশ
বছর বয়সে তিনি শহীদ হন।
প্রখ্যাত শীয়া ঐতিহাসিক মাসউদী হযরত আলী (রা:) এর এগারজন সন্তানের নাম উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে অষ্টম সন্তানের নাম উসমান।
মাসউদী 'মুআবিয়া (রা:) এর শাসনকাল' শিরোনামের অধীনে কারবালার শহীদগণের পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছেন। এখানে তিনি তৃতীয় অবস্হানে উসমান বিন আলী নাম এনেছেন--
"কারবালায় হুসাইন (রা:) এর সাথে তাঁর ছয় ভাই (পিতার সন্তান) শহীদ হন। তাঁদের নাম যথারূপ:
আব্বাস,জাফর,উসমান,মুহাম্মাদ (কনিষ্ঠ) , আবদুল্লাহ , আবু বকর "।
শাইখ মুফীদ তদীয় গ্রন্হ 'আল -ইরশাদ' -এর হযরত আলী (রা:) এর সন্তানগণের নাম উল্লেখ
করেছেন --
হযরত আলী (রা:) এর পুত্র উসমান ও আবদুল্লাহ
তাঁদের ভাই হুসাইন (রা:) এর সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন।
আলইরশাদ, শাইখ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন নুমানকৃত (আলমুফীদ উপাধি প্রসিদ্ধ) পৃষ্ঠা: ১৬৮
জনাব আলী ইবনে ঈসা আরবিলী স্বীয় গ্রন্হে হযরত আলী (রা:) এর সন্তান ১৪ জন বলে উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে সপ্তম সন্তান হচ্ছেন উসমান বিন আলী।।
সায়্যিদ জামালুদ্দীন আহমাদ বিন আলী স্বীয় গ্রন্হ 'উমদাতুল তালিব ফি আনসাবি আলী ইবনে আবী তালিব' এ হযরত আলী (রা:) এর সন্তানগণের কথা উল্লেখ করেছেন --
আব্বাস বিন আলী ও তাঁর ভাই উসমান, জাফর, ও আবদুল্লাহর মায়ের নাম উম্মুল বানীন ফাতিমা হিযাম ইবনে খালিদ।
একাদশ শতাব্দীর গবেষক মোল্লা বাকির মজলিসী তার নির্ভরযোগ্য পুস্তক 'জালাউল উয়ূন' এ কারবালার শহীদগণের বিবরণ দিয়ে লিখেছেন, আশুরা দিবসে হযরত আলী (রা:) এর নয়জন পুত্র শাহাদত বরণ করেন। তাঁরা হচ্ছেন, শাহীদে আযম হুসাইন (রা:), আব্বাস,তদীয় পুত্র মুহাম্মাদ, উমর, উসমান, জাফর, ইবরাহীম, আবদুল্লাহ (কনিষ্ঠ) এবং মুহাম্মাদ (কনিষ্ঠ) ।।
Monday, 15 July 2019
হযরত উসমান (রা:) এর জানাযা ও দাফনকার্যে আলী (রা:) ও তাঁর পুত্রদ্বয়ের অংশগ্রহণ
উসমান (রা:) এর শাহাদতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মদীনায় থমথমে পরিস্হিতি সৃষ্টি হয়। বিদ্রোহী পরিবেষ্টিত অবস্হায় নিতান্ত সাহসিকতার সঙ্গে সাহাবাগণ উসমান (রা:) এর অন্তিম কার্যাবলী সম্পাদন করেন। এ ক্ষেত্রে আলী (রা:) ও হাসান (রা:) পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করেন।
চিন্তা -ভাবনা করল বিবেক একথাই বলবে যে, অবরোধকালীন উদ্বেগজনক পরিস্হিতিতে যারা উসমান (রা:) কে সাহায্য -সহায়তা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, মৃত্যুর পর তাঁদের হাতেই তাঁর শেষ কাজটুকু সমাধা হবে। নিম্নে এ প্রসঙ্গে কয়েকটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হচ্ছে --
মারওয়ান,যায়েদ বিন সাবিত, তালহা বিন উবাইদুল্লাহ, আলী, হাসান, কা'ব বিন মালিকসহ অন্যান্য সাহাব্গণ উসমান (রা:) এর বাড়ি পৌঁছুলেন। সেখানে জানাযার নামাজ পড়ার উদেশ্যে কিছু সংখ্যক বালক ও মহিলাও জমায়েত হয়েছিল। উসমান (রা:) এর লাশ বাইরে আনা হল। মারওয়ান বিন হাকাম জানাযার ইমামতি করলেন। নামাজ বাদ সকলে লাশ নিয়ে 'হাশশে কাওকাব' সংলগ্ন গোরস্হান বাকীতে পৌঁছে সেখানে দাফন করলেন।
উসমান (রা:) এর পরিবারভুক্ত কিছু ব্যক্তি এবং
যুবাইর বিন আওয়াম,হাসান বিন আলী, আবু জাহম বিন হুজাইফা, মারওয়ান বিন হাকাম প্রমুখ মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে জানাযার উদ্দেশ্যে উসমান (রা:) এর লাশ বাইরে আনলেন এবং তাকে নিয়ে হাশশে কাওকাব নামক স্হানে পৌঁছুলেন ( এটি তৎকালীন বাকী'র বাইরের একটি বাগান ছিল) জুবাইর বিন মুতইম, অথবা হাকিম বিন হিযাম অথবা মারওয়ান অথবা যুবাইর (মতান্তরে) জানাযা নামাজ পড়ালেন এবং সেখানে দাফন করলেন। ঐতিহাসিকগণের অভিমত হচ্ছে, হযরত উসমান (রা:) এর জানাযায় হযরত আলী বিন আবু তালিব (রা:) ,তালহা বিন উবাইদুল্লাহ (রা: ) , যায়েদ বিন সাবিত (রা:) ,তা'ব বিন মালিক এবং উসমান (রা:) এর অন্যান্য সঙ্গী -সহচরও উপস্হিত ছিলন।
তাঁকে (উসমান রা:) রাতে দাফন করা হয়। বিদ্রোহীদের অগোচরে মাগরিব ও ইশার মাঝামাঝি সময়। কেউ বলেছেন, বিদ্রোহীপ্রধানের নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে তার লাশ বাইরে আনা হয় অতঃপর তার লাশ নিয়ে সাহাবাদের ছোট্র একটি দল হাশশে কাওকাবের পথে রওনা হন।
তাদের মাঝে হাকিম বিন হিযাম, হুওয়াইতিব বিন আবদুল উজ্জা, আবু জাহাম বিন হুজাইফা, নায়্যার বিন মুকাররাম আসলামী, জুবাইর বিন মুতইম, যায়েদ বিন সাবিত, কা'ব বিন মালিক, তালহা, যুবাইর, আলী বিন আবু তালিব (রা:) এ সময় উপস্হিত ছিলেন। এছাড়া উসমান (রা:) এর একদল সঙ্গী এবং তার দুই স্ত্রী নায়েলা ও উম্মুল বানীন (সহ কতিপয় বালক) এতে অংশগ্রহণ করেন। উসমান (রা:) এর একদল পরিচারক গোসল ও কাফনের পরে তাঁকে বাড়ির দরজার কাছে আনেন। কেউ কেউ মনে করেন, তাঁর গোসল -কাফন কিছুই হয়নি। এটি ভুল। প্রথমোক্ত বক্তব্যই সঠিক।।
চিন্তা -ভাবনা করল বিবেক একথাই বলবে যে, অবরোধকালীন উদ্বেগজনক পরিস্হিতিতে যারা উসমান (রা:) কে সাহায্য -সহায়তা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, মৃত্যুর পর তাঁদের হাতেই তাঁর শেষ কাজটুকু সমাধা হবে। নিম্নে এ প্রসঙ্গে কয়েকটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হচ্ছে --
মারওয়ান,যায়েদ বিন সাবিত, তালহা বিন উবাইদুল্লাহ, আলী, হাসান, কা'ব বিন মালিকসহ অন্যান্য সাহাব্গণ উসমান (রা:) এর বাড়ি পৌঁছুলেন। সেখানে জানাযার নামাজ পড়ার উদেশ্যে কিছু সংখ্যক বালক ও মহিলাও জমায়েত হয়েছিল। উসমান (রা:) এর লাশ বাইরে আনা হল। মারওয়ান বিন হাকাম জানাযার ইমামতি করলেন। নামাজ বাদ সকলে লাশ নিয়ে 'হাশশে কাওকাব' সংলগ্ন গোরস্হান বাকীতে পৌঁছে সেখানে দাফন করলেন।
উসমান (রা:) এর পরিবারভুক্ত কিছু ব্যক্তি এবং
যুবাইর বিন আওয়াম,হাসান বিন আলী, আবু জাহম বিন হুজাইফা, মারওয়ান বিন হাকাম প্রমুখ মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে জানাযার উদ্দেশ্যে উসমান (রা:) এর লাশ বাইরে আনলেন এবং তাকে নিয়ে হাশশে কাওকাব নামক স্হানে পৌঁছুলেন ( এটি তৎকালীন বাকী'র বাইরের একটি বাগান ছিল) জুবাইর বিন মুতইম, অথবা হাকিম বিন হিযাম অথবা মারওয়ান অথবা যুবাইর (মতান্তরে) জানাযা নামাজ পড়ালেন এবং সেখানে দাফন করলেন। ঐতিহাসিকগণের অভিমত হচ্ছে, হযরত উসমান (রা:) এর জানাযায় হযরত আলী বিন আবু তালিব (রা:) ,তালহা বিন উবাইদুল্লাহ (রা: ) , যায়েদ বিন সাবিত (রা:) ,তা'ব বিন মালিক এবং উসমান (রা:) এর অন্যান্য সঙ্গী -সহচরও উপস্হিত ছিলন।
তাঁকে (উসমান রা:) রাতে দাফন করা হয়। বিদ্রোহীদের অগোচরে মাগরিব ও ইশার মাঝামাঝি সময়। কেউ বলেছেন, বিদ্রোহীপ্রধানের নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে তার লাশ বাইরে আনা হয় অতঃপর তার লাশ নিয়ে সাহাবাদের ছোট্র একটি দল হাশশে কাওকাবের পথে রওনা হন।
তাদের মাঝে হাকিম বিন হিযাম, হুওয়াইতিব বিন আবদুল উজ্জা, আবু জাহাম বিন হুজাইফা, নায়্যার বিন মুকাররাম আসলামী, জুবাইর বিন মুতইম, যায়েদ বিন সাবিত, কা'ব বিন মালিক, তালহা, যুবাইর, আলী বিন আবু তালিব (রা:) এ সময় উপস্হিত ছিলেন। এছাড়া উসমান (রা:) এর একদল সঙ্গী এবং তার দুই স্ত্রী নায়েলা ও উম্মুল বানীন (সহ কতিপয় বালক) এতে অংশগ্রহণ করেন। উসমান (রা:) এর একদল পরিচারক গোসল ও কাফনের পরে তাঁকে বাড়ির দরজার কাছে আনেন। কেউ কেউ মনে করেন, তাঁর গোসল -কাফন কিছুই হয়নি। এটি ভুল। প্রথমোক্ত বক্তব্যই সঠিক।।
খাদ্যে পু্ষ্টিগুন এখন বড় চ্যালেঞ্জ
খ্যাদ্য মানুষের একটি মৌলিক চাহিদা। তবে খাদ্য হলেই হবে না, তা হবে নিরাপদ ও পু্ষ্টিমানসম্পন্ন। বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে ৪ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি। দেশে খাদ্য পর্যাপ্ততা থাকা সত্ত্বেও অপুষ্টিজনিত রোগের আধিক্য অনেক বেশি। দেশে অপুষ্টিতে ভুগছে আড়াই কোটি মানুষ। মাত্রাতিরিক্ত অপুষ্টিজনিত খর্বতা ৩৬.১ শতাংশ; কম ওজন ৩২.৪ শতাংশ ; রক্তশূন্যতায়
ভুগছেন ৪৪ শতাংশ নারী। যে কোনো দেশের জনগণের পু্ষ্টি অবস্হানির্ভর করে - দেশের অর্থনৈতিক অবস্হা, খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্হা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির ওপর।
খাদ্যের পুষ্টিমূল্য সঠিকভাবে বুজায় রাখার জন্য
চাষ জমি থেকে শুরু করে খাবার প্লেটে যাবার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপ গুরুত্ব ও দক্ষতার সাথে পার করতে হবে।
খাদ্যের পুষ্টিমান অনেকভাবে নষ্ট হতে পারে, যেমন --
# মাটি: যে মাটিতে যে ফসল ভালো হয় সেই মাটিতে সেই ফসল চাষ না করলে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান কমে যায়।
# বীজ: ভালো মানের বীজ ব্যবহার করতে হবে পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদনের জন্য।
# পরিচর্য: ফসলের পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হবে। ফসলের জন্য উপযুক্ত সূর্যের আলো, বাতাস, পর্যাপ্ত পানি, পরিমিত কীটনাশক, প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
# কৃষকের দক্ষতা: অদক্ষ কৃষকের দ্বারা ফসলের পুষ্টমান নষ্ট হতে পারে।
# ফসল সংগ্রহ: পরিপক্ব ও পূর্ণাঙ্গ বয়স হলে সঠিক পদ্ধতিতে দক্ষ হতে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। অপরিপক্ব ফসলে সঠিক পু্ষ্টিগুন পাওয়া যায় না।
# রাসায়নিক পদার্থ : রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যের গুণাগুণ নষ্ট করে।
# packaging: সংগৃহীত ফসল সঠিকভাবে প্যাকেটজাত করতে হবে, অঅন্যথায় পুষ্টিমান নষ্ট হতে পারে।
# Transport: ফসল পরিবহনে বিশেষ সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে।
# storage: ফসল সঠিকভাবে গুদামজাত করণ জরুরী, অন্যথায় খাদ্যের গুণগতমানের অপচয় হয়।
# রক্ষণাবেক্ষণ : সঠিকভাবে কাটা, ধোয়া, রান্না করার ওপর পুষ্টিমান অনেকাংশ নির্ভর করে।
একটা সময় দেশে দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা -মন্দা, দারিদ্রোর প্রাদুর্ভাব ছিল অনেক। এখন দেশের খাদ্য খাতের ব্যাপক সাফল্যের ফলে দেশের খাদ্য ঘাটতি কমে
গেছে। তবে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্যের পুষ্টমানের নিশ্চিয়তা। অতিরিক্ত সার, রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করলেও খাদ্যমূল্য কমিয়ে ফেলছে, যা দেশের জন্য বড় হুমকি।।
ভুগছেন ৪৪ শতাংশ নারী। যে কোনো দেশের জনগণের পু্ষ্টি অবস্হানির্ভর করে - দেশের অর্থনৈতিক অবস্হা, খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্হা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির ওপর।
খাদ্যের পুষ্টিমূল্য সঠিকভাবে বুজায় রাখার জন্য
চাষ জমি থেকে শুরু করে খাবার প্লেটে যাবার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপ গুরুত্ব ও দক্ষতার সাথে পার করতে হবে।
খাদ্যের পুষ্টিমান অনেকভাবে নষ্ট হতে পারে, যেমন --
# মাটি: যে মাটিতে যে ফসল ভালো হয় সেই মাটিতে সেই ফসল চাষ না করলে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান কমে যায়।
# বীজ: ভালো মানের বীজ ব্যবহার করতে হবে পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদনের জন্য।
# পরিচর্য: ফসলের পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হবে। ফসলের জন্য উপযুক্ত সূর্যের আলো, বাতাস, পর্যাপ্ত পানি, পরিমিত কীটনাশক, প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
# কৃষকের দক্ষতা: অদক্ষ কৃষকের দ্বারা ফসলের পুষ্টমান নষ্ট হতে পারে।
# ফসল সংগ্রহ: পরিপক্ব ও পূর্ণাঙ্গ বয়স হলে সঠিক পদ্ধতিতে দক্ষ হতে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। অপরিপক্ব ফসলে সঠিক পু্ষ্টিগুন পাওয়া যায় না।
# রাসায়নিক পদার্থ : রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যের গুণাগুণ নষ্ট করে।
# packaging: সংগৃহীত ফসল সঠিকভাবে প্যাকেটজাত করতে হবে, অঅন্যথায় পুষ্টিমান নষ্ট হতে পারে।
# Transport: ফসল পরিবহনে বিশেষ সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে।
# storage: ফসল সঠিকভাবে গুদামজাত করণ জরুরী, অন্যথায় খাদ্যের গুণগতমানের অপচয় হয়।
# রক্ষণাবেক্ষণ : সঠিকভাবে কাটা, ধোয়া, রান্না করার ওপর পুষ্টিমান অনেকাংশ নির্ভর করে।
একটা সময় দেশে দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা -মন্দা, দারিদ্রোর প্রাদুর্ভাব ছিল অনেক। এখন দেশের খাদ্য খাতের ব্যাপক সাফল্যের ফলে দেশের খাদ্য ঘাটতি কমে
গেছে। তবে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্যের পুষ্টমানের নিশ্চিয়তা। অতিরিক্ত সার, রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করলেও খাদ্যমূল্য কমিয়ে ফেলছে, যা দেশের জন্য বড় হুমকি।।
শরীয়াহ স্ট্যান্ডর্ড - ৫ গ্যারান্টি
স্ট্যান্ডর্ড এর বিবৃতি
১। আওতা
২। গ্যারান্টির উপর সাধারণ নির্দেশনা
২/১ গ্যারান্টির বৈধতা এবং চুক্তিতে সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা ২/১/১ বিনিময় চুক্তিতে গ্যারান্টির চুক্তি বৈধ।
যেমন - একটি বিক্রয় চুক্তি বা অধীকারের চুক্তি যথা -মেধাসত্ত্ব অধিকার। এ ধরনের গ্যারান্টি চুক্তি যেখানে প্রয়োজন তা মূল চুক্তির বৈধতাকে প্রভাবিত করে না। তার উপর একটি মূল চুক্তির ভিতর একটি গ্যারান্টি একই সময়ে আরোপ করা অনুমোদিত, কারণ গ্যারান্টি চুক্তির প্রাসঙ্গিক বা যথাযথ।।
২/১/২ একটি চুক্তির ভিতর একাধিক গ্যারান্টি অন্তর্ভূক্ত করায় শরীয়তের কোনো বিধি নিষেদ নেই।
যেমন একই চুক্তিতে সিকিউরিটি মর্টগেজ এ পার্সনাল গ্যারান্টি লিপিবদ্ধ করা।
২/২ ট্রাস্ট গ্যারান্টি (fiduciary) চুক্তিতে
২/২/১ ট্রাস্ট চুক্তিতে গ্যারান্টি আরোপ করা অনুমোদিত নয়। যেমন এজেন্সি চুক্তি বা ডিপোজিট চুক্তি যাতে পার্সোনাল গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি এর মর্টগেজ হয়ে যায়। কারণ এ ধরনের কাজ ট্রাস্ট ( fiduciary) চুক্তির প্রকৃতির বিরুদ্ধে হস্তেক্ষেপ। তবে এটি যদি না আপ ব্যবহার,অবহেলা শর্তভঙ্গ বা অযাচিত হস্তেক্ষেপ
প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়। ট্রাস্ট চুক্তিতে গ্যারান্টি চাওয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরো কঠিন করা হয়। মুশারাকা ও মাদারাবাহ চুক্তিতে। যেহেতু মুদারাবাহ বা মুশারাকা চুক্তিতে অথবা একজন ইনভেস্টমেন্ট এজেন্টের কাছে অথবা এচুক্তি গুলোর যে কোন একজন পার্টনারের কাছে ম্যানেজারের পক্ষ থেকে পুঁজির
গ্যারান্টি অথবা নিশ্চিত লাভের গ্যারান্টি চাওয়া
অনুমোদিত নয়। অধিকিন্তু, এই চুক্তিগুলো বাজারজাত করা বা ইনভেস্টমেন্টের গ্যারান্টি হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ নয়।
২/২/২ একই সময়ে একই চুক্তিতে এজেন্সি ও পার্সনাল গ্যারান্টি সমন্বিত করা বৈধ নয়। (যেমন একই পার্টি একদিকে একজন এজেন্টের ক্যাপাসিটি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে গ্যারান্টির হিসেবে ভূমিকা রাখছে)। কারন এ ধরনের সমন্বয় এ ধরনের চুক্তিগুলোর
প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। তার উপর, একটি পক্ষ যা কোন বিনিয়োগের সাপেক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তার প্রদত্ত গ্যারান্টি লেনদেনটিকে সুদ ভিত্তিক ঋনে রূপান্তর করে, যেহেতু বিনিয়োগের মূলধন বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে বাড়তি গ্যারান্টিযুক্ত। ( অর্থাৎ যেহেতু বিনিয়োগ এজেন্ট একটি ঋন নিয়েছেন এবং তা পরিশোধ করেছেন
অতিরিক্ত পরিমান দিয়ে যা সুদের নামান্তর)
কিন্তু একটি গ্যারান্টি যদি এজেন্সি চুক্তিতে উল্লেখ না থাকে এবং এজেন্ট তার গ্রাহককে স্ব প্রনোদিত হয়ে গ্যারান্টি প্রদান করে যা এজেন্সি চুক্তির কোন শর্ত নয়, তবে অসংশ্লিষ্ট এজেন্ট তার এজেন্সির বাইরে ভিন্ন একজন গ্যারান্টির হিসেবে গন্য হবেন।
এক্ষেত্রে এই এজেন্সির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেও গ্যারান্টির হিসেবে দায় অব্যাহত থাকবে।
২/৩ ইজারা/লিস দেয়া সম্পদ দিয়ে গ্যারান্টি দেয়া
ইজারাদাতা ইজারাকৃত সম্পত্তির ঝুঁকি বহন করেন এবং ইজারাদার একটি ট্রাস্ট এর ভিত্তিতে তা ধারন করেন। অতএব ইজারাদাতা কোন ভাবেই ইজারা চুক্তিতে এটি উল্লেখ করতে পারবেন না যে, ইজারাদার একটি গ্যারান্টি বা মর্টগেজ দেবেন যাতে করে ইজারা দেয়া সম্পদের কোন ক্ষতি হলে তিনি ইজারর ভাড়া আদায়ে এটি ব্যবহার করতে পারেন, যদি না এ ধরনের উল্লেখ করা অপব্যবহার, ইজারাদাতা ইজারাকৃত সম্পদের যে কোন ধরনের ক্ষয় ক্ষতির জন্য দায়ী যা ইজারাদার এর অবহেলা বা অপব্যবহার জনিত কারনে হয় নি এবং ইজারাদাতা প্রাসঙ্গিক ইনসিওরেন্স ব্যায়ের জন্যও দায়বদ্ধ। ইজারার অধীনে চুক্তিভিত্তিক সুবিধাদি প্রদানের জন্য ইজারাকৃত সম্পক্তিকে উপযোগী অবস্হায় রাখতে যে কোন ধরনের ব্যয় ইজারাদাতা বহন করবেন।
২/৪ লিখিত নথিকরন ও সত্যায়ন
২/৪/১ শরীয়তের সুপারিশ হচ্ছে নথিপত্র লিখিত
হবে , এগুলো প্রাইভেট ( ordinary) অথবা
অফিসিয়াল যাই হোক না কেন অধিকিন্তু। এ ধরনের নথিপত্র তৈরী করতে এবং প্রাসঙ্গিক প্রমান হিসেবে নথিপত্র (অথবা স্বাক্ষ্য মূল্য আছে এমন) চিহ্নিত করতে গতানুগতিক চর্চা প্রয়োগযোগ্য। জাল নথি তৈরী করা অথবা ভিতরের কথ্য গোপন করা অথবা নষ্ট করে দেয়া
নিষিদ্ধ, যা অন্য মানুষের অধিকার নষ্ট করে বা ক্ষতি করে।
২/৪/২ অর্থনৈতিক লেনদেনে সত্যায়ন শরীয়াহ কর্তৃক সুপারিশকৃত। স্বাক্ষ্য দেয়া প্রশংসনীয় ও এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে শপথ ভঙ্গ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি কবীরা গুনাহ।
২/৪/৩ শরীয়াহ কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজের লেখক বা স্বাক্ষী হওয়া বৈধ নয়। যেমন সুদ ভিক্তিক ঋনের স্বাক্ষী বা সনদ দেয়া ইত্যাদি।।
১। আওতা
২। গ্যারান্টির উপর সাধারণ নির্দেশনা
২/১ গ্যারান্টির বৈধতা এবং চুক্তিতে সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা ২/১/১ বিনিময় চুক্তিতে গ্যারান্টির চুক্তি বৈধ।
যেমন - একটি বিক্রয় চুক্তি বা অধীকারের চুক্তি যথা -মেধাসত্ত্ব অধিকার। এ ধরনের গ্যারান্টি চুক্তি যেখানে প্রয়োজন তা মূল চুক্তির বৈধতাকে প্রভাবিত করে না। তার উপর একটি মূল চুক্তির ভিতর একটি গ্যারান্টি একই সময়ে আরোপ করা অনুমোদিত, কারণ গ্যারান্টি চুক্তির প্রাসঙ্গিক বা যথাযথ।।
২/১/২ একটি চুক্তির ভিতর একাধিক গ্যারান্টি অন্তর্ভূক্ত করায় শরীয়তের কোনো বিধি নিষেদ নেই।
যেমন একই চুক্তিতে সিকিউরিটি মর্টগেজ এ পার্সনাল গ্যারান্টি লিপিবদ্ধ করা।
২/২ ট্রাস্ট গ্যারান্টি (fiduciary) চুক্তিতে
২/২/১ ট্রাস্ট চুক্তিতে গ্যারান্টি আরোপ করা অনুমোদিত নয়। যেমন এজেন্সি চুক্তি বা ডিপোজিট চুক্তি যাতে পার্সোনাল গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি এর মর্টগেজ হয়ে যায়। কারণ এ ধরনের কাজ ট্রাস্ট ( fiduciary) চুক্তির প্রকৃতির বিরুদ্ধে হস্তেক্ষেপ। তবে এটি যদি না আপ ব্যবহার,অবহেলা শর্তভঙ্গ বা অযাচিত হস্তেক্ষেপ
প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়। ট্রাস্ট চুক্তিতে গ্যারান্টি চাওয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরো কঠিন করা হয়। মুশারাকা ও মাদারাবাহ চুক্তিতে। যেহেতু মুদারাবাহ বা মুশারাকা চুক্তিতে অথবা একজন ইনভেস্টমেন্ট এজেন্টের কাছে অথবা এচুক্তি গুলোর যে কোন একজন পার্টনারের কাছে ম্যানেজারের পক্ষ থেকে পুঁজির
গ্যারান্টি অথবা নিশ্চিত লাভের গ্যারান্টি চাওয়া
অনুমোদিত নয়। অধিকিন্তু, এই চুক্তিগুলো বাজারজাত করা বা ইনভেস্টমেন্টের গ্যারান্টি হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ নয়।
২/২/২ একই সময়ে একই চুক্তিতে এজেন্সি ও পার্সনাল গ্যারান্টি সমন্বিত করা বৈধ নয়। (যেমন একই পার্টি একদিকে একজন এজেন্টের ক্যাপাসিটি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে গ্যারান্টির হিসেবে ভূমিকা রাখছে)। কারন এ ধরনের সমন্বয় এ ধরনের চুক্তিগুলোর
প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। তার উপর, একটি পক্ষ যা কোন বিনিয়োগের সাপেক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তার প্রদত্ত গ্যারান্টি লেনদেনটিকে সুদ ভিত্তিক ঋনে রূপান্তর করে, যেহেতু বিনিয়োগের মূলধন বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে বাড়তি গ্যারান্টিযুক্ত। ( অর্থাৎ যেহেতু বিনিয়োগ এজেন্ট একটি ঋন নিয়েছেন এবং তা পরিশোধ করেছেন
অতিরিক্ত পরিমান দিয়ে যা সুদের নামান্তর)
কিন্তু একটি গ্যারান্টি যদি এজেন্সি চুক্তিতে উল্লেখ না থাকে এবং এজেন্ট তার গ্রাহককে স্ব প্রনোদিত হয়ে গ্যারান্টি প্রদান করে যা এজেন্সি চুক্তির কোন শর্ত নয়, তবে অসংশ্লিষ্ট এজেন্ট তার এজেন্সির বাইরে ভিন্ন একজন গ্যারান্টির হিসেবে গন্য হবেন।
এক্ষেত্রে এই এজেন্সির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেও গ্যারান্টির হিসেবে দায় অব্যাহত থাকবে।
২/৩ ইজারা/লিস দেয়া সম্পদ দিয়ে গ্যারান্টি দেয়া
ইজারাদাতা ইজারাকৃত সম্পত্তির ঝুঁকি বহন করেন এবং ইজারাদার একটি ট্রাস্ট এর ভিত্তিতে তা ধারন করেন। অতএব ইজারাদাতা কোন ভাবেই ইজারা চুক্তিতে এটি উল্লেখ করতে পারবেন না যে, ইজারাদার একটি গ্যারান্টি বা মর্টগেজ দেবেন যাতে করে ইজারা দেয়া সম্পদের কোন ক্ষতি হলে তিনি ইজারর ভাড়া আদায়ে এটি ব্যবহার করতে পারেন, যদি না এ ধরনের উল্লেখ করা অপব্যবহার, ইজারাদাতা ইজারাকৃত সম্পদের যে কোন ধরনের ক্ষয় ক্ষতির জন্য দায়ী যা ইজারাদার এর অবহেলা বা অপব্যবহার জনিত কারনে হয় নি এবং ইজারাদাতা প্রাসঙ্গিক ইনসিওরেন্স ব্যায়ের জন্যও দায়বদ্ধ। ইজারার অধীনে চুক্তিভিত্তিক সুবিধাদি প্রদানের জন্য ইজারাকৃত সম্পক্তিকে উপযোগী অবস্হায় রাখতে যে কোন ধরনের ব্যয় ইজারাদাতা বহন করবেন।
২/৪ লিখিত নথিকরন ও সত্যায়ন
২/৪/১ শরীয়তের সুপারিশ হচ্ছে নথিপত্র লিখিত
হবে , এগুলো প্রাইভেট ( ordinary) অথবা
অফিসিয়াল যাই হোক না কেন অধিকিন্তু। এ ধরনের নথিপত্র তৈরী করতে এবং প্রাসঙ্গিক প্রমান হিসেবে নথিপত্র (অথবা স্বাক্ষ্য মূল্য আছে এমন) চিহ্নিত করতে গতানুগতিক চর্চা প্রয়োগযোগ্য। জাল নথি তৈরী করা অথবা ভিতরের কথ্য গোপন করা অথবা নষ্ট করে দেয়া
নিষিদ্ধ, যা অন্য মানুষের অধিকার নষ্ট করে বা ক্ষতি করে।
২/৪/২ অর্থনৈতিক লেনদেনে সত্যায়ন শরীয়াহ কর্তৃক সুপারিশকৃত। স্বাক্ষ্য দেয়া প্রশংসনীয় ও এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে শপথ ভঙ্গ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি কবীরা গুনাহ।
২/৪/৩ শরীয়াহ কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজের লেখক বা স্বাক্ষী হওয়া বৈধ নয়। যেমন সুদ ভিক্তিক ঋনের স্বাক্ষী বা সনদ দেয়া ইত্যাদি।।
Sunday, 14 July 2019
হযরত আলী (রা:) ও তদীয় পুত্রগণের প্রতিরোধ প্রচেষ্টা
হযরত উসমান (রা:) এর কাবাগৃহ অবরোধকালে
সাহাবায়ে কেরামগণ বেশ কয়েকবার বিদ্রোহীদদের হটিয়ে দিতে সচেষ্ট হন। বিশেষত হযরত আলী (রা:) ও তাঁর পুত্রদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু উসমান (রা:) কাউকে ফিতনাবাজদের প্রতিরোধের অনুমতি দেননি।
"আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ -হযরত হাসান বিন আলী (রা:) এর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন, হাসান বিন আলী (রা:) এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছিল। তিনি অবরোধকালে উসমান (রা:) এর কাছে গিয়েছিলেন। (যাহোক) আমরা তাদের কথাবার্তা জানার জন্য তাঁর সাথে ফিরে এলাম। হাসান বিন আলী (রা:) হযরত উসমান (রা:) কে বলেছিলেন, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি যে আদেশ দেন তা পালন করব। উসমান (রা:) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র হে! নিজের জায়গায় বসে থাক। আল্লাহর অমোঘ বিধান বাস্তবায়িত হোক। দুনিয়ার প্রতি আমার কোনো চাহিদা নেই। অথবা তিনি বলেছিলেন, আমার যুদ্ধ -বিগ্রহের কোনো দরকার নেই।
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা:) এর ক্রীতদাস ও শিষ্য নাফে এ ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন --
উসমান (রা:) এর শাহাদাতের দিন হযরত হাসান
(রা:) ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) বলেছিলেন, হযরত উসমান (রা:) আমাদের আদেশ দিল আমরা লড়তাম, কিন্তু বললেন, তোমরা সবাই শান্ত হও। (আমার জন্য কেউ যুদ্ধ করো না।
শায়খ সায়্যিদ আলী লাহোরী তদীয় গ্রন্হ 'কাশফুল মাহজুব' -এ হযরত হাসান (রা:) এর পূর্বোক্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, "হযরত হাসান বিন আলী (রা:) খলীফা গৃহে প্রবেশ করে
সালাম দিলেন এবং আসন্ন বিপদ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হে মুমিনগণের নেতা! আমি আপনার নির্দেশ ব্যতিরেকে তরবারী কোষমুক্ত করতে পারি না। আপনি ন্যায়সঙ্গত শাসক ও খলিফা। অনুমতি দিন সমস্যার সমাধান
করে ফেলি। উসমান (রা:) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র হে!
তুমি বাড়ি ফিরে যাও। আল্লাহর আদেশ বিধিমতো বাস্তবায়িত হোক! মুসলমানদের রক্ত ঝরানোর কোনো প্রয়োজন নেই ।।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক খলিফা ইবনে খয়্যাত সূত্রসমেত ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন --
"মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন বলেন, হযরত হাসান (রা:) , হুসাইন (রা:) , আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) , আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) এবং মারওয়ান সকলে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে উসমান (রা:) এর বাড়িতে পৌঁছুলেন। উসমান (রা:) তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের দোহাই দিয়ে বলছি,
তোমরা বাড়ি ফিরে যাও এবং অস্ত্র সংবরণ কর।
নিজেদের ঘরে গিয়ে বসে থাক।
# আল্লামা ইবনে কাসীরের মন্তব্য --
উসমান (রা:) হযরত হাসান (রা:) ও হুসাইন (রা:)
কে শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালবাসতেন।
তিনি আরো লিখেছেন ,
"হযরত উসমান (রা:) যখন অবরুদ্ধ ছিলেন তখন হাসান বিন আলী (রা:) সর্বক্ষণ তাঁর প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। গলায় তলোয়ার ঝুলিয়ে বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় ঢাল হয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন। উসমান (রা:) এর মনে আশংকা দেখা
দিল, বিদ্রোহীদের সঙ্গে মোকাবেলার দরুণ হাসানের (রা:) অমঙ্গল হতে পারে। তাই তিনি তাকে দোহাই দিয়ে বললেন, তিনি যেন অবশ্যই বাড়ি ফিরে যান। মূলত হযরত আলীর (রা:) মন শান্ত করার জন্য এবং আশংষ্কা দূর করার জন্য তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।।
ইবনে কাসীর ঘটনাটি আরো বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করেছেন, যুকাদাহ -এর শেষের দিকে থেকে নিয়ে ১৮ যিলহজ্জ (৩৫ হি:) শুক্রবার পর্যাপ্ত এ অবরোধ বহাল ছিল। আনসার ও মুহাজিরগণ এ সময়ে উসমান (রা:) নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁর বাড়িতে অবস্হান করছিলেন। এ সময় মহাত্মাগণের মাঝে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) ,
আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) , হাসান বিন আলী (রা:) , হুসাইন বিন আলী (রা:) , মারওয়ান ,আবু হুরাইরা (রা:) এবং তাদের সেবক ও ক্রীতদানগণ উল্লেখযোগ্য। যদি উসমান (রা:) এদেরকে বাঁধা না দিতেন তবে বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হতেন। কিন্তু উসমান (রা:) তাদেরকে দোহাই দিয়ে বললেন, যার উপরে আমার হক আছে সে যেন হস্তসংবরণ করে বাড়ি ফিরে যায়। তখন পর্যন্ত তার বাড়িতে মনীষী সাহাবাগণের পুত্রদের একটি বিরাট অবস্হান ছিল। হযরত উসমান (রা:) তাঁর ক্রীতদাসদের আদেশ দিলেন, যে তলোয়ার কোষবদ্ধ করেছে সে মুক্ত ।।
অবরোধকালীন আরো কিছু ঘটনা
হযরত উসমান (রা:) সকল সাহাবাকে তাঁর নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেন। পূর্বে যেমনটি বিবৃত হয়েছে। তথাপিও দীর্ঘ সময় তারা বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অবরোধ সংঘর্ষ হয়। হযরত আলী (রা:) ও কয়েকবার এতে অংশ নিয়েছিলেন। এসব লড়াইয়ে হাশেমীগণ আহত হন। একবার পানিরর সংকট দেখা দিলে আলী (রা:) যথাশক্তি প্রয়োগ করে উসমান (রা:) এর বাড়িতে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্হা করেন। অবশ্য এতে হাশেমীয়গণের পরিচারকের আহত হয়েছিল। বিদ্রোহীরা অবশেষে যখন উসমান (রা:) কে শহীদ করে দিল তখন এই মর্মন্তুদ সংবাদ আলী (রা:) অন্যান্য সাহাবা সমেত আফসোস করতে করতে উসমান (রা:) এর বাড়িতে পৌঁছুলেন। উসমান রা, এর বাড়ির সামনে যাদেরকে প্রহরায় নিযুক্ত করা হয়েছিল তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তাদেরকে কঠোর ভর্ৎসনা করলেন এবং গভীর বেদনাহত হলেন।
এ ঘটনাকে একনজরে দেখে নেয়ার জন্য আহলে সুন্নাত ও শীয়া উভয় মতের গ্রন্হাকারদের গ্রন্হিসমূহ হতে উদ্ধৃতি দেওয়া হচ্ছে। এতে হযরত উসমান (রা:) ও আলী (রা:) এর মাঝে বিদ্যমান হিতাকাঙ্খিতা ও সুসম্পর্কের একটি চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠবে --
"হযরত আলী (রা:) স্বীয় পুত্রদ্বয়কে বরলেন, তোমরা তলোয়ার নিয়ে হযরত উসমান (রা:) এর
বাড়ির প্রবেশপথ অবস্হান নাও, যাতে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এরূপে হযরত যুবাইর (রা:) তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে, তালহা (রা:)
তাঁর পুত্রকে উসমান (রা:) এর হেফাজতের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। এছাড়া আরো বহু সংখ্যক সাহাবা (রা:) স্বীয় পুত্রগণকে উসমান রা,
এর নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত করেন।
"সাহাবায়ে কেরামগণের পুত্রদের একটি দল তাঁদের পিতার নির্দেশে উসমান (রা:) এর বাড়িতে
পৌঁছেন। এদের মধ্যে হযরত হাসান, হুসাইন, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) বিদ্রোহীরা বাড়ি আক্রমণে উদ্যত হলে তাদের মোকাবেলা করে হটিয়ে দিতেন।।
সাহাবায়ে কেরামগণ বেশ কয়েকবার বিদ্রোহীদদের হটিয়ে দিতে সচেষ্ট হন। বিশেষত হযরত আলী (রা:) ও তাঁর পুত্রদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু উসমান (রা:) কাউকে ফিতনাবাজদের প্রতিরোধের অনুমতি দেননি।
"আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ -হযরত হাসান বিন আলী (রা:) এর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন, হাসান বিন আলী (রা:) এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছিল। তিনি অবরোধকালে উসমান (রা:) এর কাছে গিয়েছিলেন। (যাহোক) আমরা তাদের কথাবার্তা জানার জন্য তাঁর সাথে ফিরে এলাম। হাসান বিন আলী (রা:) হযরত উসমান (রা:) কে বলেছিলেন, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি যে আদেশ দেন তা পালন করব। উসমান (রা:) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র হে! নিজের জায়গায় বসে থাক। আল্লাহর অমোঘ বিধান বাস্তবায়িত হোক। দুনিয়ার প্রতি আমার কোনো চাহিদা নেই। অথবা তিনি বলেছিলেন, আমার যুদ্ধ -বিগ্রহের কোনো দরকার নেই।
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা:) এর ক্রীতদাস ও শিষ্য নাফে এ ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন --
উসমান (রা:) এর শাহাদাতের দিন হযরত হাসান
(রা:) ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) বলেছিলেন, হযরত উসমান (রা:) আমাদের আদেশ দিল আমরা লড়তাম, কিন্তু বললেন, তোমরা সবাই শান্ত হও। (আমার জন্য কেউ যুদ্ধ করো না।
শায়খ সায়্যিদ আলী লাহোরী তদীয় গ্রন্হ 'কাশফুল মাহজুব' -এ হযরত হাসান (রা:) এর পূর্বোক্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, "হযরত হাসান বিন আলী (রা:) খলীফা গৃহে প্রবেশ করে
সালাম দিলেন এবং আসন্ন বিপদ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হে মুমিনগণের নেতা! আমি আপনার নির্দেশ ব্যতিরেকে তরবারী কোষমুক্ত করতে পারি না। আপনি ন্যায়সঙ্গত শাসক ও খলিফা। অনুমতি দিন সমস্যার সমাধান
করে ফেলি। উসমান (রা:) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র হে!
তুমি বাড়ি ফিরে যাও। আল্লাহর আদেশ বিধিমতো বাস্তবায়িত হোক! মুসলমানদের রক্ত ঝরানোর কোনো প্রয়োজন নেই ।।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক খলিফা ইবনে খয়্যাত সূত্রসমেত ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন --
"মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন বলেন, হযরত হাসান (রা:) , হুসাইন (রা:) , আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) , আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) এবং মারওয়ান সকলে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে উসমান (রা:) এর বাড়িতে পৌঁছুলেন। উসমান (রা:) তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের দোহাই দিয়ে বলছি,
তোমরা বাড়ি ফিরে যাও এবং অস্ত্র সংবরণ কর।
নিজেদের ঘরে গিয়ে বসে থাক।
# আল্লামা ইবনে কাসীরের মন্তব্য --
উসমান (রা:) হযরত হাসান (রা:) ও হুসাইন (রা:)
কে শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালবাসতেন।
তিনি আরো লিখেছেন ,
"হযরত উসমান (রা:) যখন অবরুদ্ধ ছিলেন তখন হাসান বিন আলী (রা:) সর্বক্ষণ তাঁর প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। গলায় তলোয়ার ঝুলিয়ে বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় ঢাল হয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন। উসমান (রা:) এর মনে আশংকা দেখা
দিল, বিদ্রোহীদের সঙ্গে মোকাবেলার দরুণ হাসানের (রা:) অমঙ্গল হতে পারে। তাই তিনি তাকে দোহাই দিয়ে বললেন, তিনি যেন অবশ্যই বাড়ি ফিরে যান। মূলত হযরত আলীর (রা:) মন শান্ত করার জন্য এবং আশংষ্কা দূর করার জন্য তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।।
ইবনে কাসীর ঘটনাটি আরো বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করেছেন, যুকাদাহ -এর শেষের দিকে থেকে নিয়ে ১৮ যিলহজ্জ (৩৫ হি:) শুক্রবার পর্যাপ্ত এ অবরোধ বহাল ছিল। আনসার ও মুহাজিরগণ এ সময়ে উসমান (রা:) নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁর বাড়িতে অবস্হান করছিলেন। এ সময় মহাত্মাগণের মাঝে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) ,
আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) , হাসান বিন আলী (রা:) , হুসাইন বিন আলী (রা:) , মারওয়ান ,আবু হুরাইরা (রা:) এবং তাদের সেবক ও ক্রীতদানগণ উল্লেখযোগ্য। যদি উসমান (রা:) এদেরকে বাঁধা না দিতেন তবে বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হতেন। কিন্তু উসমান (রা:) তাদেরকে দোহাই দিয়ে বললেন, যার উপরে আমার হক আছে সে যেন হস্তসংবরণ করে বাড়ি ফিরে যায়। তখন পর্যন্ত তার বাড়িতে মনীষী সাহাবাগণের পুত্রদের একটি বিরাট অবস্হান ছিল। হযরত উসমান (রা:) তাঁর ক্রীতদাসদের আদেশ দিলেন, যে তলোয়ার কোষবদ্ধ করেছে সে মুক্ত ।।
অবরোধকালীন আরো কিছু ঘটনা
হযরত উসমান (রা:) সকল সাহাবাকে তাঁর নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেন। পূর্বে যেমনটি বিবৃত হয়েছে। তথাপিও দীর্ঘ সময় তারা বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অবরোধ সংঘর্ষ হয়। হযরত আলী (রা:) ও কয়েকবার এতে অংশ নিয়েছিলেন। এসব লড়াইয়ে হাশেমীগণ আহত হন। একবার পানিরর সংকট দেখা দিলে আলী (রা:) যথাশক্তি প্রয়োগ করে উসমান (রা:) এর বাড়িতে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্হা করেন। অবশ্য এতে হাশেমীয়গণের পরিচারকের আহত হয়েছিল। বিদ্রোহীরা অবশেষে যখন উসমান (রা:) কে শহীদ করে দিল তখন এই মর্মন্তুদ সংবাদ আলী (রা:) অন্যান্য সাহাবা সমেত আফসোস করতে করতে উসমান (রা:) এর বাড়িতে পৌঁছুলেন। উসমান রা, এর বাড়ির সামনে যাদেরকে প্রহরায় নিযুক্ত করা হয়েছিল তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তাদেরকে কঠোর ভর্ৎসনা করলেন এবং গভীর বেদনাহত হলেন।
এ ঘটনাকে একনজরে দেখে নেয়ার জন্য আহলে সুন্নাত ও শীয়া উভয় মতের গ্রন্হাকারদের গ্রন্হিসমূহ হতে উদ্ধৃতি দেওয়া হচ্ছে। এতে হযরত উসমান (রা:) ও আলী (রা:) এর মাঝে বিদ্যমান হিতাকাঙ্খিতা ও সুসম্পর্কের একটি চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠবে --
"হযরত আলী (রা:) স্বীয় পুত্রদ্বয়কে বরলেন, তোমরা তলোয়ার নিয়ে হযরত উসমান (রা:) এর
বাড়ির প্রবেশপথ অবস্হান নাও, যাতে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এরূপে হযরত যুবাইর (রা:) তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে, তালহা (রা:)
তাঁর পুত্রকে উসমান (রা:) এর হেফাজতের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। এছাড়া আরো বহু সংখ্যক সাহাবা (রা:) স্বীয় পুত্রগণকে উসমান রা,
এর নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত করেন।
"সাহাবায়ে কেরামগণের পুত্রদের একটি দল তাঁদের পিতার নির্দেশে উসমান (রা:) এর বাড়িতে
পৌঁছেন। এদের মধ্যে হযরত হাসান, হুসাইন, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) বিদ্রোহীরা বাড়ি আক্রমণে উদ্যত হলে তাদের মোকাবেলা করে হটিয়ে দিতেন।।
পাসওয়ার্ড থাকবে না উইন্ডোজ ১০ -এ
## পাসওয়ার্ড বাদ উইন্ডোজ ১০ থেকে
উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম থেকে পাসওয়ার্ড ব্যবস্হা বাদ দেয়ার পরিকল্পনা করছে
মাইক্রোসফট। এর বদলে উইন্ডোজ হ্যালো ফেস শনাক্তকরণ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা পিন কোড চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। উইন্ডোজ ১০ থেকে পাসওয়ার্ড বাদ দিতে কয়েক মাস ধরে কাজ করছে মাইক্রোসফট। ফলে উইন্ডোজ ১০ -এর পরবর্তী মূল উইন্ডোজ ১০ আপডেট পেছাতে পারে ২০২০ সাল পর্যন্ত। সফটওয়্যার জায়ান্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির ধারণা পাসওয়ার্ডের চেয়ে পিন কোড অনেক বেশি নিরাপদ। চার ডিজিটের পিন কোড অনেক সহজ এবং এটি অনলাইনে ফাঁস হওয়ার আশম্কাও কম। প্রতিজন আলাদা গ্রাহকের জন্য
উইন্ডোজ ১০ ট্রাস্টেড প্লাটফরম মডিউলের (টিপিএম) সঙ্গে একটি প্রাইভেট কি মজুদ করে। টিপিএম একটি নিরাপদ চিপ যা পিনকোড গ্রাহকের লোকাল ডিভাইসে মজুদ করে। ফলে সার্ভার হ্যাকিংয়ে পাসওয়ার্ড চুরি করা হলেও উইন্ডোজ হ্যালো পিনের কোনো প্রভাব পড়বে না
বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাইক্রোসসফটের ব্যবসায়িক গ্রাহক অ্যাজিউর অ্যাক্টিভ ডিরেক্টরির মতো সেবাগুলোতেও পাসওয়ার্ডলেস ব্যবস্হা আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বদলে ব্যবহার করা হবে নিরাপত্তা
কি, অথেনটিকেটর অ্যাপ বা উইন্ডোজ হ্যালো। ফিচারটি সামনের বছর উন্মক্ত করা হবে লগইন স্ক্রিন থেকে পাসওয়ার্ড অপশন পুরোপুরি গায়েব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।।
-- -- আইটি ডেস্ক ।
উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম থেকে পাসওয়ার্ড ব্যবস্হা বাদ দেয়ার পরিকল্পনা করছে
মাইক্রোসফট। এর বদলে উইন্ডোজ হ্যালো ফেস শনাক্তকরণ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা পিন কোড চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। উইন্ডোজ ১০ থেকে পাসওয়ার্ড বাদ দিতে কয়েক মাস ধরে কাজ করছে মাইক্রোসফট। ফলে উইন্ডোজ ১০ -এর পরবর্তী মূল উইন্ডোজ ১০ আপডেট পেছাতে পারে ২০২০ সাল পর্যন্ত। সফটওয়্যার জায়ান্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির ধারণা পাসওয়ার্ডের চেয়ে পিন কোড অনেক বেশি নিরাপদ। চার ডিজিটের পিন কোড অনেক সহজ এবং এটি অনলাইনে ফাঁস হওয়ার আশম্কাও কম। প্রতিজন আলাদা গ্রাহকের জন্য
উইন্ডোজ ১০ ট্রাস্টেড প্লাটফরম মডিউলের (টিপিএম) সঙ্গে একটি প্রাইভেট কি মজুদ করে। টিপিএম একটি নিরাপদ চিপ যা পিনকোড গ্রাহকের লোকাল ডিভাইসে মজুদ করে। ফলে সার্ভার হ্যাকিংয়ে পাসওয়ার্ড চুরি করা হলেও উইন্ডোজ হ্যালো পিনের কোনো প্রভাব পড়বে না
বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাইক্রোসসফটের ব্যবসায়িক গ্রাহক অ্যাজিউর অ্যাক্টিভ ডিরেক্টরির মতো সেবাগুলোতেও পাসওয়ার্ডলেস ব্যবস্হা আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বদলে ব্যবহার করা হবে নিরাপত্তা
কি, অথেনটিকেটর অ্যাপ বা উইন্ডোজ হ্যালো। ফিচারটি সামনের বছর উন্মক্ত করা হবে লগইন স্ক্রিন থেকে পাসওয়ার্ড অপশন পুরোপুরি গায়েব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।।
-- -- আইটি ডেস্ক ।
Saturday, 13 July 2019
হযরত উসমান (রা:) এর গৃহ অবরোধ
আমীরুল মুমিনীন উসমান যুননূরাইন (রা:) এর শাহাদতের পূর্বে সমগ্র মুসলিম জাতি ছিল ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত। তাদের মাঝে কোনোরূপ
বিভেদ ছিল না। তারা কুফরী শক্তির মোকাবিলায়
অবিচল ও দৃঢ়পদ ছিলেন। এ ঘটনার পরে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ মতভিন্নতা ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানদের যে সংঘবদ্ধ শক্তি ইসলামের
শক্রদের দমন ও নির্মূল কার্যে ব্যয়িত হচ্ছিল তা
পরস্পরের মাঝে বিবাদ -বিসম্বাদে নিঃশেষ হতে লাগল। নিজেদের ভেতরে যুদ্ধবিগ্রহের দ্বার উন্মুক্ত হল এবং যে নববী মাহাত্ম্য তাদের মাঝে বিদ্যমান
ছিল তা পূর্ববৎ অব্যাহত রইল না, ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে লাগল।
হযরত উসমান (রা:) খেলাফতকালের শেষ দিকে হযরত উসমান (রা:) এর কতিপয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়। দুষ্কৃতিকারীরা (তাদের নেতা ছিল সাবা নামক জনৈক ইহুদী) এগুলোতে রং চড়িয়ে অভিযোগ
সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এ ফিতনা বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয। এসব দুষ্কৃতিকারীর উদ্দেশ্য ছিল
ইসলামী কেন্দ্রের উপরে আঘাত হেনে ইসলামপন্হীদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করা। খলীফা হত্যার মাধ্যমে তারা সেটি বাস্তবায়ন করেছে। এজন্য তারা রাজধানী মদীনা আক্রমণ করল। কিছু দিন খলিফার বাসভবন অবরোধ করে রাখল। এই অবরোধের ভেতরে ৮ যিলহজ্জ ৩৫ হিজরীতে তারা ইসলামের তৃতীয় খলীফাকে জুলুম করে শহীদ করে ফেলল।
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগে বিদ্রোহ
সৃষ্টি হওয়ার কারণ কি ছিল? ফিতনা -ফাসাদ সৃষ্টির নেপথ্যে কারা সক্রিয় ছিল? অবরোধকালে
মদীনাবাসী খলিফাকে সাহায্য করেছিল? নাকি তার বিরোধিতা করেছিল? এসব ব্যাপারে বিস্তারিত জানা দরকার। আমাদের আগের বিষয়বস্তু এবং গ্রন্হের প্রতিপাদ্য বিষয় থেকে এটি
সম্পূর্ণ আলাদা। তাই আমরা এখানে স্বেচ্ছায় উল্লেখ করা থেকে বিরত রইলাম।
অবরোধকালে হাশেমীগণ হযরত উসমান (রা:) এর প্রতি বন্ধুত্বের প্রমাণ দিয়েছিল এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেছিল। আমরা এ বিষয়টিকে পঞ্চম অধ্যায়ে কতিপয় শিরোনামের অধীনে উল্লেখ
করছি, যাতে পাঠকবৃন্দ উসমানী শাসনামলের শেষ দিন পর্যন্ত হাশেমীগণের অবিচল সমর্থন ও
বন্ধুত্বের নিদর্শনগুলিকে একনজরে দেখে নিতে পারেন। হযরত আলী (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) এর মাঝে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে অটুট বন্ধুত্ব ও
সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল সেটিও তারা জানতে পারবেন। বংশীয় বিভেদ তাদের মাঝে একেবারেই
ছিল না, গোত্রীয় বিদ্বেষও তাদের ভেতরে পূর্ণরূপে অনুপস্হিত ছিল। এগুলি পরবর্তীকালে সৃষ্টি হয়েছে।
বিভেদ ছিল না। তারা কুফরী শক্তির মোকাবিলায়
অবিচল ও দৃঢ়পদ ছিলেন। এ ঘটনার পরে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ মতভিন্নতা ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানদের যে সংঘবদ্ধ শক্তি ইসলামের
শক্রদের দমন ও নির্মূল কার্যে ব্যয়িত হচ্ছিল তা
পরস্পরের মাঝে বিবাদ -বিসম্বাদে নিঃশেষ হতে লাগল। নিজেদের ভেতরে যুদ্ধবিগ্রহের দ্বার উন্মুক্ত হল এবং যে নববী মাহাত্ম্য তাদের মাঝে বিদ্যমান
ছিল তা পূর্ববৎ অব্যাহত রইল না, ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে লাগল।
হযরত উসমান (রা:) খেলাফতকালের শেষ দিকে হযরত উসমান (রা:) এর কতিপয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়। দুষ্কৃতিকারীরা (তাদের নেতা ছিল সাবা নামক জনৈক ইহুদী) এগুলোতে রং চড়িয়ে অভিযোগ
সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এ ফিতনা বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয। এসব দুষ্কৃতিকারীর উদ্দেশ্য ছিল
ইসলামী কেন্দ্রের উপরে আঘাত হেনে ইসলামপন্হীদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করা। খলীফা হত্যার মাধ্যমে তারা সেটি বাস্তবায়ন করেছে। এজন্য তারা রাজধানী মদীনা আক্রমণ করল। কিছু দিন খলিফার বাসভবন অবরোধ করে রাখল। এই অবরোধের ভেতরে ৮ যিলহজ্জ ৩৫ হিজরীতে তারা ইসলামের তৃতীয় খলীফাকে জুলুম করে শহীদ করে ফেলল।
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগে বিদ্রোহ
সৃষ্টি হওয়ার কারণ কি ছিল? ফিতনা -ফাসাদ সৃষ্টির নেপথ্যে কারা সক্রিয় ছিল? অবরোধকালে
মদীনাবাসী খলিফাকে সাহায্য করেছিল? নাকি তার বিরোধিতা করেছিল? এসব ব্যাপারে বিস্তারিত জানা দরকার। আমাদের আগের বিষয়বস্তু এবং গ্রন্হের প্রতিপাদ্য বিষয় থেকে এটি
সম্পূর্ণ আলাদা। তাই আমরা এখানে স্বেচ্ছায় উল্লেখ করা থেকে বিরত রইলাম।
অবরোধকালে হাশেমীগণ হযরত উসমান (রা:) এর প্রতি বন্ধুত্বের প্রমাণ দিয়েছিল এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেছিল। আমরা এ বিষয়টিকে পঞ্চম অধ্যায়ে কতিপয় শিরোনামের অধীনে উল্লেখ
করছি, যাতে পাঠকবৃন্দ উসমানী শাসনামলের শেষ দিন পর্যন্ত হাশেমীগণের অবিচল সমর্থন ও
বন্ধুত্বের নিদর্শনগুলিকে একনজরে দেখে নিতে পারেন। হযরত আলী (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) এর মাঝে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে অটুট বন্ধুত্ব ও
সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল সেটিও তারা জানতে পারবেন। বংশীয় বিভেদ তাদের মাঝে একেবারেই
ছিল না, গোত্রীয় বিদ্বেষও তাদের ভেতরে পূর্ণরূপে অনুপস্হিত ছিল। এগুলি পরবর্তীকালে সৃষ্টি হয়েছে।
হযরত আলী (রা:) এর প্রতি উসমান (রা:) এর উপঢৌকন
হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে একবার
কুফার গভর্ণর সাঈদ বিন আস মদীনায় এসে
নেতৃস্হানীয় মুহাজির -আনসার ব্যক্তিবর্গের নামে
নানাবিধ উপহার ও পোষাকসামগ্রী প্রেরণ করেন। হযরত আলী (রা:) এর জন্যও তিনি অনুরূপ পাঠিয়েছিলেন। আলী (রা:) প্রেরিত উপহারসামগ্রী সানন্দে গ্রহণ করেন। ত্রিশ হিজরীতে সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন আমের -এর নেতৃত্বে খোরাসান, আমেল, মরভ প্রভৃতি অঞ্চল বিজিত হয়। বিজয়োত্তরকালে তিনি মদীনায় এসে হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্হিত হন। পরে তিনি
মদীনায় উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়। একথা হযরত উসমান (রা:) এর গোচরিভূত হলে তিনি
আবদুল্লাহ ইবনে আমেরকে ডেকে বললেন, তোমার অকল্যাণ হোক। আলী (রা:) এর জন্য এত সামান্য পরিমাণ অর্থ পাঠালে কেন? আবদুল্লাহ ইবনে আমের বললেন, এক ব্যক্তিকে
অধিক পরিমাণ অর্থ প্রদান করা আমার ইচ্ছাবিরুদ্ধ এবং এ ব্যাপারে আপনার অভিমতও
আমার জানা নেই ।
উসমান (রা:) তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দিলেন, আলী (রা:) এর জন্য আরো অধিক অর্থ প্রেরণ করা হোক। পরে আবদুল্লাহ ইবনে আমের আলী (রা:) এর জন্য বিশ হাজার দিরহাম ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী পাঠিয়ে দেন। মসজিদে নববীতে লোকেরা সমবেত ছিল। হযরত আলী (রা:) সেখানে উপস্তিত হলেন। লোকেরা কুরাইশ বংশোদ্ভূত আবদুল্লাহ ইবনে আমের (রা:) এর উপহার -উপঢৌকনের কথা আলোচনা করছিল।
হযরত আলী (রা:) লোকদের লক্ষ্য করে বললেন,
আবদুল্লাহ ইবনে আমের কুরাইশী তরুণদের নেতা। তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য।
# মুত্তালিবী হাশেমীগণের প্রতি বিশেষ বিবেচনা
তারীখে তবারীতে লেখা আছে, জাহেলী যুগে রবীআ বিন হারেস বিন আবদুল মুত্তালিব হযরত
উসমান (রা:) এর বাণিজ্য অংশীদার ছিলেন। হযরত উসমান রা -এর খেলাফত লাভের পরে রবীআ বিন হারেসের পুত্র আব্বাস বিন রবীআ
হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্তিত হয়ে আবেদন করলেন, আপনি বসরার গভর্ণর আবদুল্লাহ ইবনে আমেরকে লিখে দেন, তিনি যেন
আমাকে এক লক্ষ দিরহাম ঋণ দেন। আমার
বসবাসের জন্য একটি বাড়িও দরকার। হযরত উসমান (রা:) আব্বাস বিন রবীআর অনুরোধকল্পে বসরার গভর্ণরকে নির্দেশ দেন। সেমতে ইবনে আমের তাকে এক লক্ষ দিরহাম প্রদান করেন এবং বসবাসের নিমিত্তে বাসভবন নির্ধারণ করে দেন। এখনো সেটি 'আব্বাস বিন রবীআ'র বাড়ি'
নামে সমধিক প্রসিদ্ধ।
# অর্থনৈতিক প্রাপ্যাধিকার প্রদান প্রসঙ্গ
(শীয়াগ্রন্হ হতে উৎকলিত) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমেরের নেতৃত্বে খোরাসান অভিযান পরিচালিত হয়। খোরাসান পদানত হল। যুদ্ধলদ্ধ
সম্পদের সাথে খোরাসান নৃপতির দুই কন্যাও বন্দীরূপে মুসলমানদের হস্তগত হল। হযরত উসমান (রা:) তাদেরকে হুসাইন (রা:) এর দায়িত্বে
অর্পণ করেন। নিম্নে নির্ভরযোগ্য গ্রন্হ 'তানকীহুল
মাকাল' হতে উদ্ধৃত হচ্ছে --
সাহাল বিন কাসিম বুশিনজানী বলেন, খোরাসানে
অবস্হানরত অবস্হায় হযরত আলী রেযা আমাকে বললেন, আমাদের ও তোমাদের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে। আমি বললাম, কীভাবে? আলী রেযা বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে
আমের যখন খোরাসান বিজয় করেন তখন খোরাসান অধিপতি য়াযদজর্দ বিন শাহরিয়ার -এর দুটি কন্যা তার কাছে পাঠিয়ে দেন। খলীফা তাদের একজনকে হযরত হাসান (রা:) এর হাতে, অপরজনকে হযরত হুসাইন (রা:) এর হাতে অর্পণ করেন। তারা তাঁদের বিবাহাধীনে সন্তানবতী হন,
পরবর্তীকালে মারা যান। যিনি হযরত হুসাইন (রা:)
এর সহধর্মিণী ছিলেন তার গর্ভে হযরত আলী বিন
হুসাইন (যাইনুল আবিদীন) জন্মগ্রহণ করেন।
# ফাদাকে উত্তারাধিকার
ফাদাকের ব্যাপারে হযরত আবু বকর ও ফাতেমা
(রা:) এর মাঝে যে কথাবার্তা হয়েছিল ইবনে মায়সাম বাহরাণী তা 'শরহে নাহজুল বালাগাহ'
গ্রন্হে উল্লেখ করেছেন --
আবু বকর (রা:) ফাতেমা (রা:) কে লক্ষ্য করে বললেন,রাসূলুল্লাহ (সা:) আপনাদের খাদ্যসামগ্রী
ফাদাকের জমিন থেকে গ্রহণ করতেন। অবশিষ্ট ফসলাদি বন্টন করে দিতেন এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির স্বার্থে আমি আপনার জন্য সে পন্হা অবলম্বন করব, যেটি আপনার পিতা (সা:) গ্রহণ করেছিলেন। হযরত ফাতেমা (রা:) এ কথায় সম্মত হন ও হযরত আবু
বকর (রা:) থেকে এ ব্যাপারে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা:) ফাদাকের আয় থেকে
তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ শস্যাদি প্রদান করতেন।
পরিবর্তী খলীফাগণও তাঁর রীতি/পদ্ধতি অনুসরণ
করেছেন। এখানে আমরা আরো একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরছি -এখানে শীয়া গ্রন্হকার ইবনে আবিল
হাদীদ প্রত্যেক খলিফার নামোল্লেখপূর্বক স্পষ্টতঃঃ
বিষয়টি উল্লেখ করেছেন --
চতুর্দশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ শীয়া আলিম ও গবেষক
সায়্যিদ আলী নকী ফাইযুল ইসলাম নাহজুল বালাগাহর ভাষ্যগ্রন্হ (ফার্সী) এ পূর্ববৎ মন্তব্য করেছেন।।
কুফার গভর্ণর সাঈদ বিন আস মদীনায় এসে
নেতৃস্হানীয় মুহাজির -আনসার ব্যক্তিবর্গের নামে
নানাবিধ উপহার ও পোষাকসামগ্রী প্রেরণ করেন। হযরত আলী (রা:) এর জন্যও তিনি অনুরূপ পাঠিয়েছিলেন। আলী (রা:) প্রেরিত উপহারসামগ্রী সানন্দে গ্রহণ করেন। ত্রিশ হিজরীতে সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন আমের -এর নেতৃত্বে খোরাসান, আমেল, মরভ প্রভৃতি অঞ্চল বিজিত হয়। বিজয়োত্তরকালে তিনি মদীনায় এসে হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্হিত হন। পরে তিনি
মদীনায় উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়। একথা হযরত উসমান (রা:) এর গোচরিভূত হলে তিনি
আবদুল্লাহ ইবনে আমেরকে ডেকে বললেন, তোমার অকল্যাণ হোক। আলী (রা:) এর জন্য এত সামান্য পরিমাণ অর্থ পাঠালে কেন? আবদুল্লাহ ইবনে আমের বললেন, এক ব্যক্তিকে
অধিক পরিমাণ অর্থ প্রদান করা আমার ইচ্ছাবিরুদ্ধ এবং এ ব্যাপারে আপনার অভিমতও
আমার জানা নেই ।
উসমান (রা:) তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দিলেন, আলী (রা:) এর জন্য আরো অধিক অর্থ প্রেরণ করা হোক। পরে আবদুল্লাহ ইবনে আমের আলী (রা:) এর জন্য বিশ হাজার দিরহাম ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী পাঠিয়ে দেন। মসজিদে নববীতে লোকেরা সমবেত ছিল। হযরত আলী (রা:) সেখানে উপস্তিত হলেন। লোকেরা কুরাইশ বংশোদ্ভূত আবদুল্লাহ ইবনে আমের (রা:) এর উপহার -উপঢৌকনের কথা আলোচনা করছিল।
হযরত আলী (রা:) লোকদের লক্ষ্য করে বললেন,
আবদুল্লাহ ইবনে আমের কুরাইশী তরুণদের নেতা। তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য।
# মুত্তালিবী হাশেমীগণের প্রতি বিশেষ বিবেচনা
তারীখে তবারীতে লেখা আছে, জাহেলী যুগে রবীআ বিন হারেস বিন আবদুল মুত্তালিব হযরত
উসমান (রা:) এর বাণিজ্য অংশীদার ছিলেন। হযরত উসমান রা -এর খেলাফত লাভের পরে রবীআ বিন হারেসের পুত্র আব্বাস বিন রবীআ
হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্তিত হয়ে আবেদন করলেন, আপনি বসরার গভর্ণর আবদুল্লাহ ইবনে আমেরকে লিখে দেন, তিনি যেন
আমাকে এক লক্ষ দিরহাম ঋণ দেন। আমার
বসবাসের জন্য একটি বাড়িও দরকার। হযরত উসমান (রা:) আব্বাস বিন রবীআর অনুরোধকল্পে বসরার গভর্ণরকে নির্দেশ দেন। সেমতে ইবনে আমের তাকে এক লক্ষ দিরহাম প্রদান করেন এবং বসবাসের নিমিত্তে বাসভবন নির্ধারণ করে দেন। এখনো সেটি 'আব্বাস বিন রবীআ'র বাড়ি'
নামে সমধিক প্রসিদ্ধ।
# অর্থনৈতিক প্রাপ্যাধিকার প্রদান প্রসঙ্গ
(শীয়াগ্রন্হ হতে উৎকলিত) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমেরের নেতৃত্বে খোরাসান অভিযান পরিচালিত হয়। খোরাসান পদানত হল। যুদ্ধলদ্ধ
সম্পদের সাথে খোরাসান নৃপতির দুই কন্যাও বন্দীরূপে মুসলমানদের হস্তগত হল। হযরত উসমান (রা:) তাদেরকে হুসাইন (রা:) এর দায়িত্বে
অর্পণ করেন। নিম্নে নির্ভরযোগ্য গ্রন্হ 'তানকীহুল
মাকাল' হতে উদ্ধৃত হচ্ছে --
সাহাল বিন কাসিম বুশিনজানী বলেন, খোরাসানে
অবস্হানরত অবস্হায় হযরত আলী রেযা আমাকে বললেন, আমাদের ও তোমাদের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে। আমি বললাম, কীভাবে? আলী রেযা বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে
আমের যখন খোরাসান বিজয় করেন তখন খোরাসান অধিপতি য়াযদজর্দ বিন শাহরিয়ার -এর দুটি কন্যা তার কাছে পাঠিয়ে দেন। খলীফা তাদের একজনকে হযরত হাসান (রা:) এর হাতে, অপরজনকে হযরত হুসাইন (রা:) এর হাতে অর্পণ করেন। তারা তাঁদের বিবাহাধীনে সন্তানবতী হন,
পরবর্তীকালে মারা যান। যিনি হযরত হুসাইন (রা:)
এর সহধর্মিণী ছিলেন তার গর্ভে হযরত আলী বিন
হুসাইন (যাইনুল আবিদীন) জন্মগ্রহণ করেন।
# ফাদাকে উত্তারাধিকার
ফাদাকের ব্যাপারে হযরত আবু বকর ও ফাতেমা
(রা:) এর মাঝে যে কথাবার্তা হয়েছিল ইবনে মায়সাম বাহরাণী তা 'শরহে নাহজুল বালাগাহ'
গ্রন্হে উল্লেখ করেছেন --
আবু বকর (রা:) ফাতেমা (রা:) কে লক্ষ্য করে বললেন,রাসূলুল্লাহ (সা:) আপনাদের খাদ্যসামগ্রী
ফাদাকের জমিন থেকে গ্রহণ করতেন। অবশিষ্ট ফসলাদি বন্টন করে দিতেন এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির স্বার্থে আমি আপনার জন্য সে পন্হা অবলম্বন করব, যেটি আপনার পিতা (সা:) গ্রহণ করেছিলেন। হযরত ফাতেমা (রা:) এ কথায় সম্মত হন ও হযরত আবু
বকর (রা:) থেকে এ ব্যাপারে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা:) ফাদাকের আয় থেকে
তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ শস্যাদি প্রদান করতেন।
পরিবর্তী খলীফাগণও তাঁর রীতি/পদ্ধতি অনুসরণ
করেছেন। এখানে আমরা আরো একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরছি -এখানে শীয়া গ্রন্হকার ইবনে আবিল
হাদীদ প্রত্যেক খলিফার নামোল্লেখপূর্বক স্পষ্টতঃঃ
বিষয়টি উল্লেখ করেছেন --
চতুর্দশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ শীয়া আলিম ও গবেষক
সায়্যিদ আলী নকী ফাইযুল ইসলাম নাহজুল বালাগাহর ভাষ্যগ্রন্হ (ফার্সী) এ পূর্ববৎ মন্তব্য করেছেন।।
Friday, 12 July 2019
হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হাশেমীয়গণের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন ও তাদের জানাযায় ইমামতি
উপরোক্ত শিরোনামের অধীনে আমরা কতিপয়
বিষয় আলোচনা করেছি, এতে হযরত উসমান (রা:) ও হাশেমীগণের মাঝে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও
আচার -অভ্যাসের বিশদ বিবরণ রয়েছে --
হযরত আব্বাস বিন আবদুল মুক্তালিব (রা:) এর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন --
হযরত আব্বাস (রা:) একাধারে রাসূলুল্লাহ (সা:) ও
হযরত আলী (রা:) উভয়েরই চাচা। তিনি বনী হাশেম গোত্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। নবী করীম (সা:) তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁর মর্যাদা সংরক্ষনে যত্নবান ছিলেন।
# প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি
রাসূলুল্লাহ (সা:) আব্বাস বিন আবদুল মুক্তালিবকে শ্রদ্ধা ও সমীহ করতেন এবং তাঁকে
পিতার মতো সম্মান করতেন। বলতেন, তিনি আমার বাপ -দাদার শেষ স্মৃতিচিহ্ন।
রাসূলুল্লাহ (সা:) এর দেখাদেখি সাহাবাগণও আব্বাস (রা:) কে যথাবিহিত সম্মান করতেন।
হযরত উমর (রা:) ও উসমান (রা:) এর সম্পর্কে
বর্ণিত আছে --
হযরত উমর (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) বাহনারুঢ় হয়ে হযরত আব্বাস (রা:) এর পাশ দিয়ে পথ অতিক্রমকালে তাঁকে সম্মান দেখিয়ে
নেমে যেতেন এবং পদব্রজে চলতেন।
হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে এক ব্যক্তি হযরত আব্বাস (রা:) কে গালমন্দ করলে
হযরত উসমান (রা:) তাকে শাস্তি প্রদান করেন।
নিম্নে মূল বিবরণ উদ্ধৃত হল --
কাসিম বিন মুহাম্মাদ বলেন, হযরত উসমান (রা:)
একটি অভিনব কাজ করেন। (সবার কাছে সেটি
বেশ পছন্দনীয়ও হয়েছিল।) হযরত আব্বাস (রা:) এর সঙ্গে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি হয়। এতে সে হযরত আব্বাস (রা:) এর প্রতি অপমানসূচক
মন্তব্য করে। এ কারণে হযরত উসমান (রা:) তাকে প্রহার করেন। লোকেরা হযরত উসমান (রা:) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর চাচাকে সম্মান করতেন।
আমি কি তাকে অবমাননার সুযোগ করে দেব! যে
ব্যক্তি এ কাজে সন্তুষ্ট থাকে প্রকৃত অর্থে রাসূলের বিরোধিতা করে।।
# হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হযরত আব্বাস (রা:) এর জানাযা নামাজে ইমামতি
"হযরত আব্বাস (রা:) ৩২ হিজরী মোতাবেক
১২ রজব ( মতান্তরে রমজান) শুক্রবার দিবাগত
রাতে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। এটি উসমান (রা:)
এর ইন্তেকালের দুই বছরকার পূর্বের কথা।
উসমান (রা:) তার জানাযা নামাজ পড়ান। তাকে
জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার
বয়স হয়েছিল আটাশি বছর।
# আবান বিন উসমান (রা:) কর্তৃক মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযার নামাজে ইমামতি
মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর মা খাওলা বিনতে
জাফর বিন কায়েস ছিলেন বনী হানীফা গোত্রের এক রমণী। ইয়ামামা যুদ্ধে বন্দী হয়ে তিনি মদীনায় নীত হন। হযরত আবু বকর (রা:) এর আদেশে তাঁকে হযরত আলী (রা:) এর হাতে অর্পণ করা হয়। মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহ ৮১ হিজরীর মুহাররম মাসের প্রথম ভাগে ইন্তেকাল করেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর। তখন মদীনার গভর্ণর ছিলেন আবান বিন উসমান বিন আফফান (রা:)। মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযা প্রস্তুত হলে তিনি সেখানে উপস্তিত হলেন। মুহাম্মাদ বিন
হানাফিয়্যাহর পুত্র আবু হাশেম আবদুল্লাও সেখানে ছিলেন। লোকেরা আবান বিন উসমানকে বলল - "আমরা জানি, মুসলমানদের ইমাম ও প্রশাসক তাদের জানাযার নামাজে ইমামতি করার অধিক হকদার। এমনটি না হলে আমরা আপনাকে অগ্রাধিকার দিতাম না। পরে আবান বিন উসমান
মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযার নামায পড়ান।।
# আবান বিন উসমান (রা:) কর্তৃক আবদুল্লাহ বিন জাফরের জানাযা নামাজে ইমামতি --
হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবু তালেব
হযরত আলী (রা:) এর আপন ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা ছিলেন।
তিনি বনি হাশেম গোত্রের একজন বিখ্যাত বুযুর্গ ব্যক্তি। অধিকাংশ জীবনীকারের মতে, আশি হিজরীতে মদীনায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। খলীফা আবদুল মালিকের পক্ষে তৎকালীন মদীনার প্রশাসক আবান বিন উসমান (রা:) তাঁর জানাযার নামাজ পড়ান।
# হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে হাশেমীয়গণের যুদ্ধে অংশগ্রহণ
হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে অন্যান্য সাহাবার পাশাপাশি হাশেমীগণ বিভিন্ন যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তাদের মাঝে না ছিল গোত্রীয় বিদ্বেষ, না ছিল পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও
বিভেদ বরং প্রতিটি রণাঙ্গনে তারা পরস্পরের সহযোগী ছিলেন। এখানে আমরা এরূপ কতিপয়
অভিযানের কথা উল্লেখ করব, যাতে হযরত আলী (রা:) এর পুত্রদ্বয়,
ভ্রাতুষ্পুত্র ও অন্যান্য চাচাতো ভাইয়েরা অংশগ্রহণ করেন। এতে তাদের ( হাশেমীগণের) পারস্পরিক সদ্ভাব ও শুভাকাঙ্ক্ষীতা প্রমাণিত হবে।
বিষয় আলোচনা করেছি, এতে হযরত উসমান (রা:) ও হাশেমীগণের মাঝে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও
আচার -অভ্যাসের বিশদ বিবরণ রয়েছে --
হযরত আব্বাস বিন আবদুল মুক্তালিব (রা:) এর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন --
হযরত আব্বাস (রা:) একাধারে রাসূলুল্লাহ (সা:) ও
হযরত আলী (রা:) উভয়েরই চাচা। তিনি বনী হাশেম গোত্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। নবী করীম (সা:) তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁর মর্যাদা সংরক্ষনে যত্নবান ছিলেন।
# প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি
রাসূলুল্লাহ (সা:) আব্বাস বিন আবদুল মুক্তালিবকে শ্রদ্ধা ও সমীহ করতেন এবং তাঁকে
পিতার মতো সম্মান করতেন। বলতেন, তিনি আমার বাপ -দাদার শেষ স্মৃতিচিহ্ন।
রাসূলুল্লাহ (সা:) এর দেখাদেখি সাহাবাগণও আব্বাস (রা:) কে যথাবিহিত সম্মান করতেন।
হযরত উমর (রা:) ও উসমান (রা:) এর সম্পর্কে
বর্ণিত আছে --
হযরত উমর (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) বাহনারুঢ় হয়ে হযরত আব্বাস (রা:) এর পাশ দিয়ে পথ অতিক্রমকালে তাঁকে সম্মান দেখিয়ে
নেমে যেতেন এবং পদব্রজে চলতেন।
হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে এক ব্যক্তি হযরত আব্বাস (রা:) কে গালমন্দ করলে
হযরত উসমান (রা:) তাকে শাস্তি প্রদান করেন।
নিম্নে মূল বিবরণ উদ্ধৃত হল --
কাসিম বিন মুহাম্মাদ বলেন, হযরত উসমান (রা:)
একটি অভিনব কাজ করেন। (সবার কাছে সেটি
বেশ পছন্দনীয়ও হয়েছিল।) হযরত আব্বাস (রা:) এর সঙ্গে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি হয়। এতে সে হযরত আব্বাস (রা:) এর প্রতি অপমানসূচক
মন্তব্য করে। এ কারণে হযরত উসমান (রা:) তাকে প্রহার করেন। লোকেরা হযরত উসমান (রা:) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর চাচাকে সম্মান করতেন।
আমি কি তাকে অবমাননার সুযোগ করে দেব! যে
ব্যক্তি এ কাজে সন্তুষ্ট থাকে প্রকৃত অর্থে রাসূলের বিরোধিতা করে।।
# হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হযরত আব্বাস (রা:) এর জানাযা নামাজে ইমামতি
"হযরত আব্বাস (রা:) ৩২ হিজরী মোতাবেক
১২ রজব ( মতান্তরে রমজান) শুক্রবার দিবাগত
রাতে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। এটি উসমান (রা:)
এর ইন্তেকালের দুই বছরকার পূর্বের কথা।
উসমান (রা:) তার জানাযা নামাজ পড়ান। তাকে
জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার
বয়স হয়েছিল আটাশি বছর।
# আবান বিন উসমান (রা:) কর্তৃক মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযার নামাজে ইমামতি
মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর মা খাওলা বিনতে
জাফর বিন কায়েস ছিলেন বনী হানীফা গোত্রের এক রমণী। ইয়ামামা যুদ্ধে বন্দী হয়ে তিনি মদীনায় নীত হন। হযরত আবু বকর (রা:) এর আদেশে তাঁকে হযরত আলী (রা:) এর হাতে অর্পণ করা হয়। মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহ ৮১ হিজরীর মুহাররম মাসের প্রথম ভাগে ইন্তেকাল করেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর। তখন মদীনার গভর্ণর ছিলেন আবান বিন উসমান বিন আফফান (রা:)। মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযা প্রস্তুত হলে তিনি সেখানে উপস্তিত হলেন। মুহাম্মাদ বিন
হানাফিয়্যাহর পুত্র আবু হাশেম আবদুল্লাও সেখানে ছিলেন। লোকেরা আবান বিন উসমানকে বলল - "আমরা জানি, মুসলমানদের ইমাম ও প্রশাসক তাদের জানাযার নামাজে ইমামতি করার অধিক হকদার। এমনটি না হলে আমরা আপনাকে অগ্রাধিকার দিতাম না। পরে আবান বিন উসমান
মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযার নামায পড়ান।।
# আবান বিন উসমান (রা:) কর্তৃক আবদুল্লাহ বিন জাফরের জানাযা নামাজে ইমামতি --
হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবু তালেব
হযরত আলী (রা:) এর আপন ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা ছিলেন।
তিনি বনি হাশেম গোত্রের একজন বিখ্যাত বুযুর্গ ব্যক্তি। অধিকাংশ জীবনীকারের মতে, আশি হিজরীতে মদীনায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। খলীফা আবদুল মালিকের পক্ষে তৎকালীন মদীনার প্রশাসক আবান বিন উসমান (রা:) তাঁর জানাযার নামাজ পড়ান।
# হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে হাশেমীয়গণের যুদ্ধে অংশগ্রহণ
হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে অন্যান্য সাহাবার পাশাপাশি হাশেমীগণ বিভিন্ন যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তাদের মাঝে না ছিল গোত্রীয় বিদ্বেষ, না ছিল পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও
বিভেদ বরং প্রতিটি রণাঙ্গনে তারা পরস্পরের সহযোগী ছিলেন। এখানে আমরা এরূপ কতিপয়
অভিযানের কথা উল্লেখ করব, যাতে হযরত আলী (রা:) এর পুত্রদ্বয়,
ভ্রাতুষ্পুত্র ও অন্যান্য চাচাতো ভাইয়েরা অংশগ্রহণ করেন। এতে তাদের ( হাশেমীগণের) পারস্পরিক সদ্ভাব ও শুভাকাঙ্ক্ষীতা প্রমাণিত হবে।
Thursday, 11 July 2019
৫ জি -তে ডাউনলোডের গতি তিন গুণ
৫ জি নেটওয়ার্কে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড গতি পাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকরা ৪জি'র সর্বোচ্চ গতির চেয়ে এর গতি প্রায় তিন গুণ বেশি বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৫জি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ডাউনলোড গতি বলা হয়েছে ১৮১৫ এমবিপিএস। সুইজারল্যান্ডে এই গতি ১১৪৫ এমবিপিএস এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০৭১ এমবিপিএস। ৫ জি গতির ওপর এই গবেষনা চালিয়ছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক মোবাইল বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওপেনসিগনাল। গবেষকরা বলেন আমরা ৫ জি অধ্যায়ের শুরুর দিকে রয়েছি। এই নেটওয়ার্ক যত বিস্তৃত হবে এর গতি তত বাড়বে। ৪জি'র চেয়ে ৫জি গ্রাহকদের ডাউনলোড গতি যুক্তরাষ্ট্রে ২.৭ গুণ এবং সুইজারল্যান্ডে ২.৬ গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন
ওপেনসিগনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান ফগ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ৪জি গতি এতটাই বেশি যে দেশটির ৫জি গতি ৪জি'র চেয়ে সামান্য কম।
গবেষনার জন্য আটটি দেশ ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ
গতি পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা, যে দেশগুলো ইতিমধ্যেই ৫জি নেটওয়ার্ক চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলীয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি ,স্পেন ,যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। ফগ বলেন, এতে আশ্চর্যের কোনো কারণ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্রে ৫জি'র সর্বোচ্চ গতি এতটা বেশি। কারণ, দেশটির মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠনগুলো ৫জি'র জন্য এমএমওয়েভ স্পেক্ট্রাম ব্যবহার করতে পারছে ।।
-- আইটি ডেস্ক
ওপেনসিগনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান ফগ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ৪জি গতি এতটাই বেশি যে দেশটির ৫জি গতি ৪জি'র চেয়ে সামান্য কম।
গবেষনার জন্য আটটি দেশ ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ
গতি পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা, যে দেশগুলো ইতিমধ্যেই ৫জি নেটওয়ার্ক চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলীয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি ,স্পেন ,যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। ফগ বলেন, এতে আশ্চর্যের কোনো কারণ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্রে ৫জি'র সর্বোচ্চ গতি এতটা বেশি। কারণ, দেশটির মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠনগুলো ৫জি'র জন্য এমএমওয়েভ স্পেক্ট্রাম ব্যবহার করতে পারছে ।।
-- আইটি ডেস্ক
Wednesday, 10 July 2019
হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে হাশেমীগণের প্রশাসনিক পদসমূহ
পূর্বোক্ত বিবরণসমূহের দ্বারা এটা জানা গেছে যে, উসমানী খেলাফতে হযরত আলী (রা:) উসমান (রা:) এর দক্ষিণহস্তরূপে খেলাফতের দায়িত্ব নির্বাহ করেছেন। এখন আমরা আলোচনা করছি,
অন্যান্য হাশেমী ব্যক্তির সম্বন্ধে। তাদেরকে বিচারকরূপে নিযুক্ত করা হত। এবং তারাও স্বেচ্ছায় উক্ত পদ গ্রহণ করে প্রশাসনিক কাজে
অংশগ্রহণ করতেন। কখনো হাশেমী যুুবকদের
গুরুত্বপূর্ণ স্হানের প্রশাসক ও গভর্ণররূপেও নিয়োগ দেওয়া হত। তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব উত্তমরূপে সমাধান করতেন। গোত্রীয় বিভেদ, জাতিগত শত্রুতা, বংশীয় দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব এসব তাদের মাঝে অনুপস্হিত ছিল। এগুলো পরবর্তীতে উদ্ভব ঘটেছে। নিম্নবর্ণিত ঘটনাসমূহ এ
বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তুলবে বলে আশা রাখি।
বিচারকের পদ
মহানবী (সা:) এর চাচা আবু তালিবের ভাই হারেস বিন আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র মুগীরা বিন নওফেল বিন হারেস হিজরতের পূর্বে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অতিশয় বিচক্ষণ, দৃঢ়চিত্ত ও চিন্তাশীল অনন্য যুবক। তিনি হযরত আলী (রা:) এর পরে মহানবী (সা:) এর নাতনী -উমামা বিনতে আবিল আসকে বিবাহ করেন। মুগীরা বিন নওফেল সম্বন্ধে জীবনীগ্রন্হসমূহের
মন্তব্য নিম্নরূপ --
হযরত উসমান (রা:) খেলাফতকালে মুগীরা বিন
নওফেলএকজন বিচারক ছিলেন।।
প্রশাসকের পদ
আবদুল্লাহ বিন হারেস বিন নওফেল বিন হারেস বিন আবদুল মুক্তালিব। তিনি হারেস বিন আবদুল
মুত্তালিবের প্রপৌত্র। তার মা হিন্দ বিনতে আবি সুফিয়ান। জন্মের পর তার মা তাকে আপন ভগ্নী উম্মে হাবীবা বিনতে আবী সুফিয়ানের গৃহে নিয়ে যান। মহানবী (সা:) গৃহে প্রবেশ করে উম্মে হাবীবা
(রা:) কে জিজ্ঞাসা করলেন, উম্মে হাবীবা! শিশুটি কার? প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, আপনার চাচাতো ভাই। আমার ভাগ্নে। তখন মহানবী (সা:) তাঁর মুখের বরকতপূর্ণ লালা আবদুল্লাহর মুখে লাগিয়ে
দেন এবং তার জন্য দুআ করেন।
হযরত আবদুল্লাহ বিন হারেস সম্বন্ধে উল্লেখ রয়েছে --
উসমান (রা:) এর খেলাফত আমলে তিনি মক্কার গভর্ণর ছিলেন।।
গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ
সাহাবা (রা:) গণের জীবনীকারগণ লেখেন, আবদুল্লাহ বিন হারেস -এর পিতা হারেস মহানবী (সা:) এর একজন সম্মানিত সাহাবী ছিলেন। মহানবী (সা:) তাঁকে মক্কা নগরীর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করেছিলেন। প্রথম দুই খলিফার শাসনামলে তিনি উক্ত পদে বহাল থাকেন। হযরত উসমান (রা:) এর আমলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে বসরায় গমন করেন এবং উসমান (রা:) এর খেলাফতের শেষভাগ ।।
অন্যান্য হাশেমী ব্যক্তির সম্বন্ধে। তাদেরকে বিচারকরূপে নিযুক্ত করা হত। এবং তারাও স্বেচ্ছায় উক্ত পদ গ্রহণ করে প্রশাসনিক কাজে
অংশগ্রহণ করতেন। কখনো হাশেমী যুুবকদের
গুরুত্বপূর্ণ স্হানের প্রশাসক ও গভর্ণররূপেও নিয়োগ দেওয়া হত। তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব উত্তমরূপে সমাধান করতেন। গোত্রীয় বিভেদ, জাতিগত শত্রুতা, বংশীয় দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব এসব তাদের মাঝে অনুপস্হিত ছিল। এগুলো পরবর্তীতে উদ্ভব ঘটেছে। নিম্নবর্ণিত ঘটনাসমূহ এ
বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তুলবে বলে আশা রাখি।
বিচারকের পদ
মহানবী (সা:) এর চাচা আবু তালিবের ভাই হারেস বিন আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র মুগীরা বিন নওফেল বিন হারেস হিজরতের পূর্বে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অতিশয় বিচক্ষণ, দৃঢ়চিত্ত ও চিন্তাশীল অনন্য যুবক। তিনি হযরত আলী (রা:) এর পরে মহানবী (সা:) এর নাতনী -উমামা বিনতে আবিল আসকে বিবাহ করেন। মুগীরা বিন নওফেল সম্বন্ধে জীবনীগ্রন্হসমূহের
মন্তব্য নিম্নরূপ --
হযরত উসমান (রা:) খেলাফতকালে মুগীরা বিন
নওফেলএকজন বিচারক ছিলেন।।
প্রশাসকের পদ
আবদুল্লাহ বিন হারেস বিন নওফেল বিন হারেস বিন আবদুল মুক্তালিব। তিনি হারেস বিন আবদুল
মুত্তালিবের প্রপৌত্র। তার মা হিন্দ বিনতে আবি সুফিয়ান। জন্মের পর তার মা তাকে আপন ভগ্নী উম্মে হাবীবা বিনতে আবী সুফিয়ানের গৃহে নিয়ে যান। মহানবী (সা:) গৃহে প্রবেশ করে উম্মে হাবীবা
(রা:) কে জিজ্ঞাসা করলেন, উম্মে হাবীবা! শিশুটি কার? প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, আপনার চাচাতো ভাই। আমার ভাগ্নে। তখন মহানবী (সা:) তাঁর মুখের বরকতপূর্ণ লালা আবদুল্লাহর মুখে লাগিয়ে
দেন এবং তার জন্য দুআ করেন।
হযরত আবদুল্লাহ বিন হারেস সম্বন্ধে উল্লেখ রয়েছে --
উসমান (রা:) এর খেলাফত আমলে তিনি মক্কার গভর্ণর ছিলেন।।
গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ
সাহাবা (রা:) গণের জীবনীকারগণ লেখেন, আবদুল্লাহ বিন হারেস -এর পিতা হারেস মহানবী (সা:) এর একজন সম্মানিত সাহাবী ছিলেন। মহানবী (সা:) তাঁকে মক্কা নগরীর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করেছিলেন। প্রথম দুই খলিফার শাসনামলে তিনি উক্ত পদে বহাল থাকেন। হযরত উসমান (রা:) এর আমলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে বসরায় গমন করেন এবং উসমান (রা:) এর খেলাফতের শেষভাগ ।।
Monday, 8 July 2019
আইনের প্রয়োগে হযরত উসমান (রা:) ও হযরত আলী (রা:) এর পারস্পরিক সহযোগিতা
ইতোপূর্বে একথা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, হযরত আবু বকর (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে বিচারকার্যের দায়িত্ব হযরত আলী
(রা:) এর উপরে ন্যস্ত ছিল। অনুরূপভাবে হযরত
উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে মামলার নিষ্পত্তির কাজ হযরত আলী (রা:) এর সাহায্য
নেওয়া হত। বেশ কয়েকবার শরয়ী আইন প্রয়োগ
ও শাস্তি বিধানের দায়িত্ব হযরত আলী (রা:) এর উপর অর্পিত হয় এবং তিনি তা সুচারুরূপে সম্পাদন করেন।
বিচারকার্যে হযরত আলী (রা:) এর অংশগ্রহণ
আল্লামা বায়হাকী (রাহ:) হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে দায়েরকৃত মামলার নিষ্পত্তি ও বিচারের কার্যপদ্ধতি সম্বন্ধে বিবরণ সূত্রসমেত দিয়েছেন --
আমর বিন উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দাদা বলেছেন, যখন উসমান (রা:) বিচার করার জন্য এজলাসে আসন গ্রহণ করতেন তখন
বাদী উপস্হিত হত। তিনি একজনকে বলতেন, আলী ইবনে আবী তালিব (রা:) কে ডেকে নিয়ে এস। অপরজনকে বলতেন, তালহা, যুবাইর (রা:) সহ একদল সাহাবাকে খবর দাও। এরপর বাদী -বিবাদীকে বলতেন, তোমাদের অভিযোগ জানাতে পার। অভিযোগ শোনার পর উপস্হিত সাহাবাগণকে লক্ষ্য করে বলতেন,এই মোকদ্দমায়
আপনাদের রায় কী? হযরত উসমান (রা:) এর অভিমতের সাথে তাদের ঐকমত্য হলে তখনই তিনি রায় ঘোষণা করে তা কার্যকর করতেন। নচেৎ আরো চিন্তা -ভাবনা করতেন। অবশেষে উভয় পক্ষই তাঁর সিদ্ধান্ত সন্তুষ্টিচিত্তে মনে নিত।
শীয়া আলিমগণ লিখেছেন, তিন খলীফার শাসনামলে শরয়ী হদ প্রয়োগের দায়িত্ব হযরত আল (রা:) এর উপর অর্পিত হত। উদ্ধৃতি --
মদ্যপানের শাস্তি -ওয়ালীদ বিন উকবার ঘটনা
বুখারী শরীফের প্রথম খণ্ডে উসমান (রা:) এর মর্যাদা শীর্ষক পরিচ্ছেদে এই ঘটনাটি সংক্ষেপে
এরূপ বিবৃত হয়েছে।
( প্রথম খণ্ডে,পৃষ্ঠা:৫২২,হাদীস: ৩৬৯৬)
হুসাইন বিন সাসান রুকাশী বলেন,আমি একদা হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্হিত ছিলাম।
এমতাবস্হায় সেখানে মদ্যপানের অপরাধে ওয়ালীদ বিন উকবাকে হাজির করা হল। হুমরান
বিন আবান ও জনৈক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ায় হযরত উসমান (রা:) আলী ( রা:) কে
বললেন, ওকে শাস্তি দাও। হযরত আলী (রা:)
ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুল্লাহ বিন জাফরকে বেত্রাঘাতের
নির্দেশ দিলেন। তিনি বেত্রাঘাত শুরু করলেন। সঙ্গে সঙ্গে হযরত আলী চল্লিশ পর্যন্ত গুণলেন।
চল্লিশ পূর্ণ হলে আবদুল্লাহকে বেত্রাঘাত বন্ধের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেন, মহানবী (সা:)
চল্লিশটি বেত্রাঘাত করতেন। হযরত আবু বকর (রা:) ও অনুরূপ চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন। হযরত উসমান (রা:) খেলাফতের প্রথম দিক চল্লিশটি বেত্রাঘাত করলেও পরবর্তীতে সংখ্যাবৃদ্ধি
করে আশিতে উন্নীত করেন। এর সবটাই সুন্নাহ
নবীজীর আদর্শভিত্তিক কর্মপন্হা এবং এটি আমার নিকট অধিকতর পছন্দ।
বুখারীর বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত উসমান (রা:) হযরত আলী (রা:) কে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিল তিনি ওয়ালীদকে আশিটি বেত্রাঘাত করেন।
পাঠকবন্দকে মনে রাখতে হবে যে, এসব ঘটনা শীয়া আলিমগণের নির্ভরযোগ্য গ্রন্হরাজিতে বিদ্যমান। জনাব কালিনী স্ব -গ্রন্হ 'ফূরুয়ে কাফী' -এ মদ্যপানের শাস্তি শীর্ষক পরিচ্ছেদে, ইবনে শাহর আশোব মানাকেব গ্রন্হে এবং 'ইবনে আবিল হাদীদ' শরহু নাহজিল বালাগাহ' গ্রন্হে লেখেন -
মুহাম্মাদ বাকির বলেন, ওয়ালীদ বিন উকবার মদ্যপানের ব্যাপারে সাক্ষ্য পাওয়া গেলে হযরত উসমান (রা:) আলী (রা:) কে ডেকে বিচার করে দিতে বললেন। তখন আলী (রা:) ওয়ালীদ কে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। বেতটি দুখণ্ডে বিভক্ত ছিল।
একটি পর্যালোচনা
আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর (রা:) মদ্যপানের শাস্তিতে যেটুকু বৃদ্ধি করেছেন সেটি ছিল সেই সময়ের এবং তৎকালীন যুগে এই কঠোরতা আরোপের প্রয়োজন ছিল। সাহাবাগণের উপস্হিতিতে তাদের সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালেও এটি কার্যকর ছিল। হযরত আলী ( রা:) কথা ও কাজে তার সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন --
সাহাবীগণের মাঝে ( হাশেমী -অহাশেমী) কেউ এই বৃদ্ধিকে সুন্নাহপরিপন্হী বলে আখ্যা দেননি।
শিয়াদের কথিত 'নিষ্পাপ' ইমামগণও মদ্যপানের
শাস্তি আশিটি বেত্রাঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিটি লক্ষ্য তরুন --
অপর একটি বর্ণনা -- --
জাফর সাদিক (রা:) বলেন, স্বল্পমাত্রা কি অধিক মাত্রা, সর্বক্ষেত্রে মদ্যপানের শাস্তি আশি বেত্রাঘাত। নাবীয পানের শাস্তিও পূর্ববৎ।
এ বক্তব্য দ্বারা জানা যায় যে, প্রয়োজনবশত: মদ্যপানের শাস্তির মাত্রা বর্ধিত হয়েছিল। বিদআতরূপে প্রবর্তিত হয়নি । মুসনাদে ইমাম
আহমদ -এর প্রথম খণ্ডে হযরত আলী (রা:) এর বর্ণিত হাদীসমুহ'র অধীনে নিম্নোক্ত ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে --
একবার য়াহনাস ও সাফিয়্যাহ (নামে দুই নারী -পুরুষ) স্বামী -স্ত্রী যুদ্ধবন্দীরূপে মদীনায় নীত হয়।
সাফিয়্যাহ জনৈক বন্দির সাথে অবৈধভাবে মিলিত হয় এবং পরবর্তীতে সন্তান প্রসব করে। ভূমিষ্ট সন্তানের দাবীতে য়াহনাস (স্বামী) ও ব্যভিচারী পুরুষ হযরত উসমান (রা:) এর কাছে মোকদ্দমা
দায়ের করেন। হযরত উসমান ( রা:) নিষ্টত্তির উদ্দেশ্যে তাদের উভয়কে হযরত আলী ( রা:) এর
নিকট পাঠিয়ে দিলেন। হযরত আলী (রা:) ঘোষণা করলেন, আমি রাসূল (সা:) এর রীতি অনুযায়ী তাদের মাঝে ফয়সালা করব। বিবাহিত পুরুষ পাবে সন্তান, আর ব্যভিচারীর জুটবে শাস্তি। অতঃপর ব্যভিচারী নারী -পুরুষ উভয়কে পঞ্চাশ ঘা করে চাবুক মারা হল।
সমকামিতার শাস্তি বিধান
সালেম ইবনে আবদুল্লাহ, আবান বিন উসমান ও যায়েদ বিন হাসান থেকে বর্ণিত, একবার হযরত উসমান (রা:) এর নিকট এক লোককে হাজির করা হল। সে কুরাইশ বংশীয় জনৈক বালকের সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছে। ওখানে হযরত আলী
(রা:) উপস্হিত ছিলেন। হযরত উসমান (রা:) জানতে চাইলেন, লোকটি বিবাহিত কি -না? লোকেরা বলল, সে বিবাহ করেছে বটে, কিন্তু এখনো বাসর হয়নি। একথা শুনে হযরত আলী (রা:) বললেন,সে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়ে থাকলে তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করা আবশ্যক হত। যেহেতু মিলিত হয়নি তাই বেত্রাঘাত করা হোক। হযরত আবু আয়্যুব আনসারী (রা:) বলতে লাগলেন, আবুল হাসান যেমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তেমনটিই আমি রাসূল (সা:) কে বলতে শুনেছি।
অতঃপর হযরত উসমান (রা:) আদেশে একশত
বেত্রাঘাত করা হল।
চক্ষু বিনষ্টের মামাল
শীয়া আলিমগণ ফূরূয়ে কাফী গ্রন্হে ইমাম জাফর সাদিক (রা:) এর বরাত ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন -
জাফর সাদিক বলেন, হযরত উসমান (রা:)এর
নিকট কায়েস গোত্রীয় এক লোক তার ক্রীতদাসকে ধরে এনে অভিযোগ করল, দাসটি তার চক্ষু ফুঁড়ে দিয়েছে। চোখের কোটায় পানি জমে গেছে। চোখের মণি স্বস্হানে বিদ্যমান থাকলেও সে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। হযরত উসমান (রা:) মীমাংসা করার জন্য বললেন, আমি তোমাকে চোখের বদলে 'দিয়াত' (ক্ষতিপূরণ) দিতে চাই। লোকটি দিয়াত নিতে অস্বীকার করল। জাফর সাদেক ( রা:) বলেন, উসমান (রা:) তাদের উভয়কে হযরত আলী ( রা:) এর নিকট পাঠিয়ে
( আলীকে) আদেশ করলেন,আপনি তাদের মাঝে ফয়সালা করে দিন। হযরত আলী (রা:) ও লোকটিকে প্রথমে দিয়াত দিতে চাইলেন। কিন্ত
লোকটি অস্বীকার করল। অতপর তাকে দ্বিগুণ দিয়াত নিতে অনুরোধ করাহল। তথাপি সে কিসাস ছাড়া অন্য কিসাস ছাড়া অন্য কিছুতে সম্মত হল না।।
(রা:) এর উপরে ন্যস্ত ছিল। অনুরূপভাবে হযরত
উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে মামলার নিষ্পত্তির কাজ হযরত আলী (রা:) এর সাহায্য
নেওয়া হত। বেশ কয়েকবার শরয়ী আইন প্রয়োগ
ও শাস্তি বিধানের দায়িত্ব হযরত আলী (রা:) এর উপর অর্পিত হয় এবং তিনি তা সুচারুরূপে সম্পাদন করেন।
বিচারকার্যে হযরত আলী (রা:) এর অংশগ্রহণ
আল্লামা বায়হাকী (রাহ:) হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে দায়েরকৃত মামলার নিষ্পত্তি ও বিচারের কার্যপদ্ধতি সম্বন্ধে বিবরণ সূত্রসমেত দিয়েছেন --
আমর বিন উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দাদা বলেছেন, যখন উসমান (রা:) বিচার করার জন্য এজলাসে আসন গ্রহণ করতেন তখন
বাদী উপস্হিত হত। তিনি একজনকে বলতেন, আলী ইবনে আবী তালিব (রা:) কে ডেকে নিয়ে এস। অপরজনকে বলতেন, তালহা, যুবাইর (রা:) সহ একদল সাহাবাকে খবর দাও। এরপর বাদী -বিবাদীকে বলতেন, তোমাদের অভিযোগ জানাতে পার। অভিযোগ শোনার পর উপস্হিত সাহাবাগণকে লক্ষ্য করে বলতেন,এই মোকদ্দমায়
আপনাদের রায় কী? হযরত উসমান (রা:) এর অভিমতের সাথে তাদের ঐকমত্য হলে তখনই তিনি রায় ঘোষণা করে তা কার্যকর করতেন। নচেৎ আরো চিন্তা -ভাবনা করতেন। অবশেষে উভয় পক্ষই তাঁর সিদ্ধান্ত সন্তুষ্টিচিত্তে মনে নিত।
শীয়া আলিমগণ লিখেছেন, তিন খলীফার শাসনামলে শরয়ী হদ প্রয়োগের দায়িত্ব হযরত আল (রা:) এর উপর অর্পিত হত। উদ্ধৃতি --
মদ্যপানের শাস্তি -ওয়ালীদ বিন উকবার ঘটনা
বুখারী শরীফের প্রথম খণ্ডে উসমান (রা:) এর মর্যাদা শীর্ষক পরিচ্ছেদে এই ঘটনাটি সংক্ষেপে
এরূপ বিবৃত হয়েছে।
( প্রথম খণ্ডে,পৃষ্ঠা:৫২২,হাদীস: ৩৬৯৬)
হুসাইন বিন সাসান রুকাশী বলেন,আমি একদা হযরত উসমান (রা:) এর কাছে উপস্হিত ছিলাম।
এমতাবস্হায় সেখানে মদ্যপানের অপরাধে ওয়ালীদ বিন উকবাকে হাজির করা হল। হুমরান
বিন আবান ও জনৈক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ায় হযরত উসমান (রা:) আলী ( রা:) কে
বললেন, ওকে শাস্তি দাও। হযরত আলী (রা:)
ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুল্লাহ বিন জাফরকে বেত্রাঘাতের
নির্দেশ দিলেন। তিনি বেত্রাঘাত শুরু করলেন। সঙ্গে সঙ্গে হযরত আলী চল্লিশ পর্যন্ত গুণলেন।
চল্লিশ পূর্ণ হলে আবদুল্লাহকে বেত্রাঘাত বন্ধের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেন, মহানবী (সা:)
চল্লিশটি বেত্রাঘাত করতেন। হযরত আবু বকর (রা:) ও অনুরূপ চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন। হযরত উসমান (রা:) খেলাফতের প্রথম দিক চল্লিশটি বেত্রাঘাত করলেও পরবর্তীতে সংখ্যাবৃদ্ধি
করে আশিতে উন্নীত করেন। এর সবটাই সুন্নাহ
নবীজীর আদর্শভিত্তিক কর্মপন্হা এবং এটি আমার নিকট অধিকতর পছন্দ।
বুখারীর বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত উসমান (রা:) হযরত আলী (রা:) কে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিল তিনি ওয়ালীদকে আশিটি বেত্রাঘাত করেন।
পাঠকবন্দকে মনে রাখতে হবে যে, এসব ঘটনা শীয়া আলিমগণের নির্ভরযোগ্য গ্রন্হরাজিতে বিদ্যমান। জনাব কালিনী স্ব -গ্রন্হ 'ফূরুয়ে কাফী' -এ মদ্যপানের শাস্তি শীর্ষক পরিচ্ছেদে, ইবনে শাহর আশোব মানাকেব গ্রন্হে এবং 'ইবনে আবিল হাদীদ' শরহু নাহজিল বালাগাহ' গ্রন্হে লেখেন -
মুহাম্মাদ বাকির বলেন, ওয়ালীদ বিন উকবার মদ্যপানের ব্যাপারে সাক্ষ্য পাওয়া গেলে হযরত উসমান (রা:) আলী (রা:) কে ডেকে বিচার করে দিতে বললেন। তখন আলী (রা:) ওয়ালীদ কে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। বেতটি দুখণ্ডে বিভক্ত ছিল।
একটি পর্যালোচনা
আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর (রা:) মদ্যপানের শাস্তিতে যেটুকু বৃদ্ধি করেছেন সেটি ছিল সেই সময়ের এবং তৎকালীন যুগে এই কঠোরতা আরোপের প্রয়োজন ছিল। সাহাবাগণের উপস্হিতিতে তাদের সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালেও এটি কার্যকর ছিল। হযরত আলী ( রা:) কথা ও কাজে তার সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন --
সাহাবীগণের মাঝে ( হাশেমী -অহাশেমী) কেউ এই বৃদ্ধিকে সুন্নাহপরিপন্হী বলে আখ্যা দেননি।
শিয়াদের কথিত 'নিষ্পাপ' ইমামগণও মদ্যপানের
শাস্তি আশিটি বেত্রাঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিটি লক্ষ্য তরুন --
অপর একটি বর্ণনা -- --
জাফর সাদিক (রা:) বলেন, স্বল্পমাত্রা কি অধিক মাত্রা, সর্বক্ষেত্রে মদ্যপানের শাস্তি আশি বেত্রাঘাত। নাবীয পানের শাস্তিও পূর্ববৎ।
এ বক্তব্য দ্বারা জানা যায় যে, প্রয়োজনবশত: মদ্যপানের শাস্তির মাত্রা বর্ধিত হয়েছিল। বিদআতরূপে প্রবর্তিত হয়নি । মুসনাদে ইমাম
আহমদ -এর প্রথম খণ্ডে হযরত আলী (রা:) এর বর্ণিত হাদীসমুহ'র অধীনে নিম্নোক্ত ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে --
একবার য়াহনাস ও সাফিয়্যাহ (নামে দুই নারী -পুরুষ) স্বামী -স্ত্রী যুদ্ধবন্দীরূপে মদীনায় নীত হয়।
সাফিয়্যাহ জনৈক বন্দির সাথে অবৈধভাবে মিলিত হয় এবং পরবর্তীতে সন্তান প্রসব করে। ভূমিষ্ট সন্তানের দাবীতে য়াহনাস (স্বামী) ও ব্যভিচারী পুরুষ হযরত উসমান (রা:) এর কাছে মোকদ্দমা
দায়ের করেন। হযরত উসমান ( রা:) নিষ্টত্তির উদ্দেশ্যে তাদের উভয়কে হযরত আলী ( রা:) এর
নিকট পাঠিয়ে দিলেন। হযরত আলী (রা:) ঘোষণা করলেন, আমি রাসূল (সা:) এর রীতি অনুযায়ী তাদের মাঝে ফয়সালা করব। বিবাহিত পুরুষ পাবে সন্তান, আর ব্যভিচারীর জুটবে শাস্তি। অতঃপর ব্যভিচারী নারী -পুরুষ উভয়কে পঞ্চাশ ঘা করে চাবুক মারা হল।
সমকামিতার শাস্তি বিধান
সালেম ইবনে আবদুল্লাহ, আবান বিন উসমান ও যায়েদ বিন হাসান থেকে বর্ণিত, একবার হযরত উসমান (রা:) এর নিকট এক লোককে হাজির করা হল। সে কুরাইশ বংশীয় জনৈক বালকের সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছে। ওখানে হযরত আলী
(রা:) উপস্হিত ছিলেন। হযরত উসমান (রা:) জানতে চাইলেন, লোকটি বিবাহিত কি -না? লোকেরা বলল, সে বিবাহ করেছে বটে, কিন্তু এখনো বাসর হয়নি। একথা শুনে হযরত আলী (রা:) বললেন,সে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়ে থাকলে তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করা আবশ্যক হত। যেহেতু মিলিত হয়নি তাই বেত্রাঘাত করা হোক। হযরত আবু আয়্যুব আনসারী (রা:) বলতে লাগলেন, আবুল হাসান যেমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তেমনটিই আমি রাসূল (সা:) কে বলতে শুনেছি।
অতঃপর হযরত উসমান (রা:) আদেশে একশত
বেত্রাঘাত করা হল।
চক্ষু বিনষ্টের মামাল
শীয়া আলিমগণ ফূরূয়ে কাফী গ্রন্হে ইমাম জাফর সাদিক (রা:) এর বরাত ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন -
জাফর সাদিক বলেন, হযরত উসমান (রা:)এর
নিকট কায়েস গোত্রীয় এক লোক তার ক্রীতদাসকে ধরে এনে অভিযোগ করল, দাসটি তার চক্ষু ফুঁড়ে দিয়েছে। চোখের কোটায় পানি জমে গেছে। চোখের মণি স্বস্হানে বিদ্যমান থাকলেও সে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। হযরত উসমান (রা:) মীমাংসা করার জন্য বললেন, আমি তোমাকে চোখের বদলে 'দিয়াত' (ক্ষতিপূরণ) দিতে চাই। লোকটি দিয়াত নিতে অস্বীকার করল। জাফর সাদেক ( রা:) বলেন, উসমান (রা:) তাদের উভয়কে হযরত আলী ( রা:) এর নিকট পাঠিয়ে
( আলীকে) আদেশ করলেন,আপনি তাদের মাঝে ফয়সালা করে দিন। হযরত আলী (রা:) ও লোকটিকে প্রথমে দিয়াত দিতে চাইলেন। কিন্ত
লোকটি অস্বীকার করল। অতপর তাকে দ্বিগুণ দিয়াত নিতে অনুরোধ করাহল। তথাপি সে কিসাস ছাড়া অন্য কিসাস ছাড়া অন্য কিছুতে সম্মত হল না।।
Sunday, 7 July 2019
ঢাকায় ভালো গিফট আইটেম
জন্মদিন, বিয়ে, বিবাহ -বার্ষিকী, সুখবর, ভালো রেজাল্ট ইত্যাদি নানাবিধ উপলক্ষে উপহার প্রদান
একটি চমৎকার সংস্কৃতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবস্হা এমন হয় যে, হাতে সময় নেই। অথবা ভালো উপহার সামগ্রী কোথায় পাওয়া যেতে পারে জানা নেই। আবার গিফট আইটেম পাওয়া গেল বটে কিন্তু পছন্দসই হচ্ছে না। তার উপর গিফট এর দামও একটি ফ্যাক্ট। এসব বিবেচনায় নিয়ে
নিরিবিলি শপ ডট কম এবার নতুন আয়োজন করেছে । সাধারনভাবে অনলাইনে যে কোন গিফট
আইটেম পছন্দ করে অর্ডার করলে আমরা ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে থাকি। তবে নতুন আয়োজন হচ্ছে এখন থেকে গ্রাহকরা চাইলে অফ লাইনেও উপহার সামগ্রী দেখে শুনে সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন। ঢাকায় মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান, বিজয়নগর, কমলাপুর, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ এসব এলাকা ও এর পাশ্চবর্তী যারা
আছেন তারা সহজে আমাদের শো -রুম ও ডিসপ্লে থেকে পচন্দমাফিক গিফট সামগ্রী সংগ্রহ করতে
পারবেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন
www.niribilishop. com
উপহার সামগ্রী শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার উপযোগী ও মানানসই হবে আশা করা যায়।
পর্যায়ক্রমে চট্রগ্রাম, সিলেট,বরিশাল, রাজশাহী
ও খুলনায় উপহার সামগ্রি নিজে দেখে ক্রয় করার ব্যবস্হা করা হবে।।
একটি চমৎকার সংস্কৃতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবস্হা এমন হয় যে, হাতে সময় নেই। অথবা ভালো উপহার সামগ্রী কোথায় পাওয়া যেতে পারে জানা নেই। আবার গিফট আইটেম পাওয়া গেল বটে কিন্তু পছন্দসই হচ্ছে না। তার উপর গিফট এর দামও একটি ফ্যাক্ট। এসব বিবেচনায় নিয়ে
নিরিবিলি শপ ডট কম এবার নতুন আয়োজন করেছে । সাধারনভাবে অনলাইনে যে কোন গিফট
আইটেম পছন্দ করে অর্ডার করলে আমরা ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে থাকি। তবে নতুন আয়োজন হচ্ছে এখন থেকে গ্রাহকরা চাইলে অফ লাইনেও উপহার সামগ্রী দেখে শুনে সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন। ঢাকায় মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান, বিজয়নগর, কমলাপুর, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ এসব এলাকা ও এর পাশ্চবর্তী যারা
আছেন তারা সহজে আমাদের শো -রুম ও ডিসপ্লে থেকে পচন্দমাফিক গিফট সামগ্রী সংগ্রহ করতে
পারবেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন
www.niribilishop. com
উপহার সামগ্রী শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার উপযোগী ও মানানসই হবে আশা করা যায়।
পর্যায়ক্রমে চট্রগ্রাম, সিলেট,বরিশাল, রাজশাহী
ও খুলনায় উপহার সামগ্রি নিজে দেখে ক্রয় করার ব্যবস্হা করা হবে।।
হোয়াটস অ্যাপে নতুন ফিচার
একের পর এক ফিচার যোগ হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ফিচার যোগ হয়েছে বেটা ভার্সানে। পরে কিছু ফিচার স্টেবল ভার্সনে পৌঁছেছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ বেটা ভার্সানে আরও একটি নতুন ফিচার যোগ হল। এবার কিউআর কোড ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কনট্যক্ট শেয়ার করা যাবে। আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড বেটা ভার্সানে
এই ফিচার যোগ হয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে কিউআর কোনো স্ক্যান ও শেয়ার করার ফিচার যোগ হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। আগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এ ফিচার নিয়ে এসেছিল ফেসবুক। একই ভাবে
হোয়াটসঅ্যাপেও কিউআর কোড় ব্যবহার করে
কনট্যাক্ট শেয়ার করা যাবে। ২০২০ সাল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে বিজ্ঞাপন দেখান শুরু হবে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস গ্রাহকদের বিজ্ঞাপন দেখাতে শুরু করবে জনপ্রিয় মেসেজিং কোম্পানিটি। আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে বিজ্ঞাপন দেখান শুরু হবে। মে মাসে ডেভেলারদের সঙ্গে বৈঠকে এই কথা জানিয়েছে ফেসবুক। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখানোর খবর সামনে এসেছিল। কবে থেকে বিজ্ঞাপন দেখান হবে জানা যায়নি। বিজ্ঞাপনের সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপে থেকে
কেনাকাটা করার উপায় নিয়ে আসছে ফেসবুক।
-- --আইটি ডেস্ক ।
এই ফিচার যোগ হয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে কিউআর কোনো স্ক্যান ও শেয়ার করার ফিচার যোগ হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। আগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এ ফিচার নিয়ে এসেছিল ফেসবুক। একই ভাবে
হোয়াটসঅ্যাপেও কিউআর কোড় ব্যবহার করে
কনট্যাক্ট শেয়ার করা যাবে। ২০২০ সাল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে বিজ্ঞাপন দেখান শুরু হবে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস গ্রাহকদের বিজ্ঞাপন দেখাতে শুরু করবে জনপ্রিয় মেসেজিং কোম্পানিটি। আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে বিজ্ঞাপন দেখান শুরু হবে। মে মাসে ডেভেলারদের সঙ্গে বৈঠকে এই কথা জানিয়েছে ফেসবুক। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখানোর খবর সামনে এসেছিল। কবে থেকে বিজ্ঞাপন দেখান হবে জানা যায়নি। বিজ্ঞাপনের সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপে থেকে
কেনাকাটা করার উপায় নিয়ে আসছে ফেসবুক।
-- --আইটি ডেস্ক ।
Saturday, 6 July 2019
হযরত উসমান (রা:) সম্পর্কে হাশেমীগণের বর্ণনা
এতক্ষণ শুধু হযরত আলী (রা:) এর মন্তব্য এবং
হযরত উসমান (রা:) এর সাথে তাঁর বিভিন্ন ঘটনা
বর্ণনা করা হয়েছে। এখন হযরত আলী (রা:) এর সন্তানাদি এবংচাচাত ভাইদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা তুলে ধরা হবে, যদ্বারা হযরত উসমান (রা:)
এর ফযিলত, মর্যাদা ও অবদান সম্বন্ধে ধারণা লাভ করা যাবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা:) এর বর্ণনা এবং আরও কয়েকটি কিতাবে হযরত ইবনে
আব্বাস (রা:) এর এই রেওয়ায়েতটি এসেছে।।
"হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা:) বলেন, হযরত আবু বকর (রা:) এর আমলে একবার অনাবৃষ্টি হেতু দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন লোকেরা সমবেত হয়ে হযরত আবু বকর (রা:) এর কাছে এসে বলল, হুযূর, আকাশ থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে জমি থেকে কিছু উৎপন্ন হয়নি। যার কারণে জনসাধারণ অত্যন্ত অভাবে ও দুর্গতির মাঝে রয়েছে। আশা করি, সন্ধ্যার মধ্যে দয়াময়
আল্লাহ'র পক্ষ থেকে কোন সমাধান এসে যাবে।
এর একটু পরেই শাম থেকে হযরত উসমান
(রা:) এর কর্মচারীরা এসে পড়ল। তার ১০০ উট বোঝাই করে গমের একটি চালান নিয়ে এল। খবর পেয়ে মদীনার লোকজন হযরত উসমান (রা:) এর
বাড়িতে উপস্হিত হয়ে দরজার কড়া নাড়লো। হযরত উসমান (রা:) ঘর থেকে বেরিয়ে দেখলেন যে, একদল লোক (ব্যবসায়ী) তাঁর ঘরের সামনে
উপস্হিত হয়েছে। তাদের দেখে তিনি বললেন,তোমরা কী চাও? তারা বলল: , অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপন্ন না হওয়ায় নগরীতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। ফলে লোকজন গভীর খাদ্য সংকটে পড়েছে। আমরা শুনলাম যে, আপনার কাছে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য আছে। ( সেগুলো আমরা কিনতে চাই) সুতরাং আপনি আমাদের কাছে সেগুলো বিক্রি করুন, যাতে আমরা গরীব মুসলমানদের খাদ্য সংকট দূর করতে পারি। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বললেন, আসুন ( দেখে শুনে)
কিনে নিন। ব্যবসায়ীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখল যে, সেখানে প্রচুর খাদ্যশষ্য মজুত আছে।
( তারা দেখার পরে) হযরত উসমান (রা:) বললেন, আপনারা আমার ক্রয়মূল্যের উপরে কী
পরিমান লাভ দিতে পারবেন? তারা বললেন, আমরা দশ টাকায় বারো টাকা দিব। হযরত উসমান (রা:) বললেন, আমি তো এরচেয়ে বেশি লাভ পাচ্ছি। তখন তারা বললেন, তাহলে দশ টাকায় চৌদ্দ টাকা করে লাভ দিই। তিনি বললেন, আমি তো অন্যত্র এরচেয়ে বেশি লাভ পাচ্ছি। তখন তারা আবার বলর,তাহলে আমরা দশ টাকায় ১৫ টাকা করে দিতে পারি। তিনি বললেন,আমি তো অন্যত্র এরচেয়ে বেশি লাভ পাচ্ছি। একথা শুনে ব্যবসায়ীরা বলল,হে আবু আমর, মদীনায় তো আমরা ছাড়া আর কোন ব্যবসায়ী নেই, তাহলে আপনাকে এরচেয়ে বেশি লাভ কে দিচ্ছে? তিনি বললেন, আল্লাহপাক আমাকে এক টাকায় দশ টাকা দেয়ার ওয়াদা করেছেন, তোমরা কি এমন লাভ দিতে পারবে? তারা বলল,আরে আল্লাহ! তাই কি পারে? তখন হযরত উসমান (রা:) বললেন, আমি আল্লাহ পাককে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আমি এসব খাদ্যশস্য গরীব মুসলমানদের জন্য বিনামূল্যেই দান করে দিলাম।
হযরত ইবন আব্বাস (রা:) বলেন, সে রাতেই আমি নবীজী (সা:) কে স্বপ্নে দেখলাম, তিনি নূরের পোশাক পরিহিত অবস্হায় একটি সাদা কালো ডোরাকাটা তুর্কী ঘোড়ায় চড়ে দ্রুতগতিতে কোথাও যাচ্ছেন। আমি বললাম, হুযূর, আপনাকে দেখতে এবং আপনার সাথে দু'টি কথা বলতে আমার বহুদিন ধরে মনে চায়, তা আপনি ব্যস্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছেন? গুযূর (সা:) বললেন, (আজ) উসমান এমন একটি দান করেছে, যেটি আল্লাহপাক কবুল করেছেন এবং এ উটলক্ষ্যে
জান্নাতে একটি আনন্দ -উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আমাকে ও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
হযরত হাসান ইবন আলী (রা:) এর বর্ণনা
হযরত উসমান (রা:) এর ফযিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হযরত হাসান (রা:) এর একটি বর্ণনা উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী'র ইযালাতুল খাফাসহ আরও কয়েকটি কিতাবে বর্ণনাটি উদ্ধৃত
হয়েছে।
বর্ণনাসমূহের সার -সংক্ষেপঃ
একবার কুফায় হযরত হাসান বিন আলী (রা:)
দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, হে লোক সকল! আমি রাতে আশ্চর্য এক স্বপ্ন দেখেছি।
আল্লাহ তাআলা আরশে আযীমে সমাসীন। মহানবী (সা:) এসে আরশের একটি পায়ার নিকট দণ্ডায়মান হলেন। অতপর হযরত আবু বকর (রা:) আগমন করলেন। তিনি মহানবী (সা:) এর কাঁধে হাত রাখলেন। অতপর হযরত উমর (রা:) এলেন তিনি হাত রাখলেন হযরত আবু বকর (রা:) এর কাঁধে। অতঃপর এলেন হযরত উসমান বিন আফফান (রা:)। তিনি হযরত উমর (রা:) এর কাঁধে হাত রাখলেন। এ সময় হযরত উসমান (রা:)
স্বীয় কর্তিত মস্তক ধারণপূর্বক আরজ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদেরকে জিজ্ঞাসা
করুন, তারা কী করণে আমাকে হত্যা করেছে?
অতঃপর হযরত হাসান (রা:) বলতে লাগলেন, আকাশ হতে পৃথিবীর দিকে রক্তের দুটি ধারা প্রবাহিত হতে দেখা গেল। বলা হল, এটি উসমানের রক্ত, এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এরপর হযরত আলী (রা:) কে সম্বোধন করে
লোকেরা বললেন, হযরত হাসান (রা:) যা বলেছেন
তা কি আপনি শুনেছেন? প্রত্যুত্তরে হযরত আলী
(রা:) বললেন, সে যা দেখেছে তাই বিবৃত করেছে।
এ বিষয়ের সমর্থনে 'আত -তামহীদ ওয়াল বয়ান ফী মাকতালিশ শহীদ উসমান' (পৃষ্ঠা:২৩৫) গ্রন্হে হযরত হাসান বিন আলী (রা:) এর বক্তৃতা প্রসঙ্গ
বিস্তারিত বিধৃত হয়েছে। সেখানে হযরত উসমান (রা:) এর মর্যাদার বিবরণেন পাশাপাশি স্বপ্নটির কথারও উল্লেখ রয়েছে। আগ্রহী পাঠক দেখে নিতে পারেন। 'কিতিবুত তামহীদ'এর রচয়িতা স্পেনের প্রসিদ্ধ আলেম মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি বকর (মৃত্যু: ৭৪১হি:) নিম্নে মূলগ্রন্হের উদ্ধৃতি
উল্লেক করা হল --
হযরত যাইনুল আবিদীন বিন হযরত হুসাইন (রা:) এর বক্তব্য হযরত যাইনুল আবিদীন এর নিম্নোক্ত
বর্ণনিটি আবু নাঈম ইস্পাহানী স্বীয়গ্রন্হ "হিলয়াতুল আউলিয়া' তৃতীয় খন্ডে যাইনুল আবিদীন রাহ: এর আলোচনায় উল্লেখ করেছেন এবং বিখ্যাত শীয়ামতাবলম্বী আলেম আলী বিন ঈসা আরবিলী (মৃত্যু : ৬৮৭হি:) স্বীয় গ্রন্হ 'কাশফুল গুম্মাহ ফী মা'রাফাতিল আইম্মাহ' দ্বিতীয় খণ্ডে যাইনুল আবেদীন রাহ: এর আলোচনায় বিধৃত করেন। কাশফুল গুম্মাহ
থেকে মূূল উদ্ধৃতি --
একবার যাইনুল আবিদীন রাহ: এর নিকট ইরাকী
দল এসে হযরত আবুু বকর, উমর ও উসমান (রা:) এর সম্বন্ধে নিন্দা ও সমালোচনা করল। তাদের কথাবার্তা শেষ হলে যাইনুল আবিদীন রাহ:
তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি সে সকল প্রথম স্হানীয় মুহাজিরগণের অন্তর্ভূক্ত, যাদের সম্বন্ধে কুরআন মজীদে এসেছে, 'তাদেরকে তাদের ঘর -বাড়ি ও সহায় -সম্পত্তি
থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা আল্লাহর সন্তোষ ও অনুগ্রহের অন্বেষী ছিল এবং আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সা:) কে সহযোগিতা করত।
বস্তুত: তারাই সত্যবাদী। ইরাকীগণ উত্তর দিলেন,
আমরা তাদের দলভূক্ত নই। পুনরাই যাইনুল আবিদীন রাহ: জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি
তাদের অন্তর্ভূক্ত, যারা মুহাজিরদের পূর্বে মদীনায়
বসবাস করত এবং তাদের পূর্বে ঈমান আনয়ন করেছিল। তারা মুহাজিরদের ভালবাসে এবং মুহাজিরদের যা প্রদান করা হয়েছে তজ্জন্যে মনে
ঈর্ষ পোষণ করে না। অভাব -অনটন সত্ত্বেও তারা
নিজেদের উপর মুহাজিরদের প্রাধান্য দেয়। ইরাকীগণ উত্তর দিল, না।
যাইনুল আবিদীন রাহ: বললেন, তোমরা এই দুটি দলের অন্তর্ভূক্ত হতে অস্বীকৃত হয়েছে। কাজেই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি,তোমরা কখনোই তাদের অন্তর্ভূক্ত নও, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'আর যারা তাদের পরে আগমন করেছে, তারা বলে হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকেও অগ্রনী ঈমানদার ভাইদেরকে ক্ষমা
করুন এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন না। তোমরা এখান থেকে বের হয়ে যাও। তোমরা যেমন আল্লাহ তোমাদের প্রতি তেমন আচরণ করুন।
হযরত উসমান (রা:) এর সাথে তাঁর বিভিন্ন ঘটনা
বর্ণনা করা হয়েছে। এখন হযরত আলী (রা:) এর সন্তানাদি এবংচাচাত ভাইদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা তুলে ধরা হবে, যদ্বারা হযরত উসমান (রা:)
এর ফযিলত, মর্যাদা ও অবদান সম্বন্ধে ধারণা লাভ করা যাবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা:) এর বর্ণনা এবং আরও কয়েকটি কিতাবে হযরত ইবনে
আব্বাস (রা:) এর এই রেওয়ায়েতটি এসেছে।।
"হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা:) বলেন, হযরত আবু বকর (রা:) এর আমলে একবার অনাবৃষ্টি হেতু দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন লোকেরা সমবেত হয়ে হযরত আবু বকর (রা:) এর কাছে এসে বলল, হুযূর, আকাশ থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে জমি থেকে কিছু উৎপন্ন হয়নি। যার কারণে জনসাধারণ অত্যন্ত অভাবে ও দুর্গতির মাঝে রয়েছে। আশা করি, সন্ধ্যার মধ্যে দয়াময়
আল্লাহ'র পক্ষ থেকে কোন সমাধান এসে যাবে।
এর একটু পরেই শাম থেকে হযরত উসমান
(রা:) এর কর্মচারীরা এসে পড়ল। তার ১০০ উট বোঝাই করে গমের একটি চালান নিয়ে এল। খবর পেয়ে মদীনার লোকজন হযরত উসমান (রা:) এর
বাড়িতে উপস্হিত হয়ে দরজার কড়া নাড়লো। হযরত উসমান (রা:) ঘর থেকে বেরিয়ে দেখলেন যে, একদল লোক (ব্যবসায়ী) তাঁর ঘরের সামনে
উপস্হিত হয়েছে। তাদের দেখে তিনি বললেন,তোমরা কী চাও? তারা বলল: , অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপন্ন না হওয়ায় নগরীতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। ফলে লোকজন গভীর খাদ্য সংকটে পড়েছে। আমরা শুনলাম যে, আপনার কাছে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য আছে। ( সেগুলো আমরা কিনতে চাই) সুতরাং আপনি আমাদের কাছে সেগুলো বিক্রি করুন, যাতে আমরা গরীব মুসলমানদের খাদ্য সংকট দূর করতে পারি। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বললেন, আসুন ( দেখে শুনে)
কিনে নিন। ব্যবসায়ীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখল যে, সেখানে প্রচুর খাদ্যশষ্য মজুত আছে।
( তারা দেখার পরে) হযরত উসমান (রা:) বললেন, আপনারা আমার ক্রয়মূল্যের উপরে কী
পরিমান লাভ দিতে পারবেন? তারা বললেন, আমরা দশ টাকায় বারো টাকা দিব। হযরত উসমান (রা:) বললেন, আমি তো এরচেয়ে বেশি লাভ পাচ্ছি। তখন তারা বললেন, তাহলে দশ টাকায় চৌদ্দ টাকা করে লাভ দিই। তিনি বললেন, আমি তো অন্যত্র এরচেয়ে বেশি লাভ পাচ্ছি। তখন তারা আবার বলর,তাহলে আমরা দশ টাকায় ১৫ টাকা করে দিতে পারি। তিনি বললেন,আমি তো অন্যত্র এরচেয়ে বেশি লাভ পাচ্ছি। একথা শুনে ব্যবসায়ীরা বলল,হে আবু আমর, মদীনায় তো আমরা ছাড়া আর কোন ব্যবসায়ী নেই, তাহলে আপনাকে এরচেয়ে বেশি লাভ কে দিচ্ছে? তিনি বললেন, আল্লাহপাক আমাকে এক টাকায় দশ টাকা দেয়ার ওয়াদা করেছেন, তোমরা কি এমন লাভ দিতে পারবে? তারা বলল,আরে আল্লাহ! তাই কি পারে? তখন হযরত উসমান (রা:) বললেন, আমি আল্লাহ পাককে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আমি এসব খাদ্যশস্য গরীব মুসলমানদের জন্য বিনামূল্যেই দান করে দিলাম।
হযরত ইবন আব্বাস (রা:) বলেন, সে রাতেই আমি নবীজী (সা:) কে স্বপ্নে দেখলাম, তিনি নূরের পোশাক পরিহিত অবস্হায় একটি সাদা কালো ডোরাকাটা তুর্কী ঘোড়ায় চড়ে দ্রুতগতিতে কোথাও যাচ্ছেন। আমি বললাম, হুযূর, আপনাকে দেখতে এবং আপনার সাথে দু'টি কথা বলতে আমার বহুদিন ধরে মনে চায়, তা আপনি ব্যস্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছেন? গুযূর (সা:) বললেন, (আজ) উসমান এমন একটি দান করেছে, যেটি আল্লাহপাক কবুল করেছেন এবং এ উটলক্ষ্যে
জান্নাতে একটি আনন্দ -উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আমাকে ও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
হযরত হাসান ইবন আলী (রা:) এর বর্ণনা
হযরত উসমান (রা:) এর ফযিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হযরত হাসান (রা:) এর একটি বর্ণনা উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী'র ইযালাতুল খাফাসহ আরও কয়েকটি কিতাবে বর্ণনাটি উদ্ধৃত
হয়েছে।
বর্ণনাসমূহের সার -সংক্ষেপঃ
একবার কুফায় হযরত হাসান বিন আলী (রা:)
দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, হে লোক সকল! আমি রাতে আশ্চর্য এক স্বপ্ন দেখেছি।
আল্লাহ তাআলা আরশে আযীমে সমাসীন। মহানবী (সা:) এসে আরশের একটি পায়ার নিকট দণ্ডায়মান হলেন। অতপর হযরত আবু বকর (রা:) আগমন করলেন। তিনি মহানবী (সা:) এর কাঁধে হাত রাখলেন। অতপর হযরত উমর (রা:) এলেন তিনি হাত রাখলেন হযরত আবু বকর (রা:) এর কাঁধে। অতঃপর এলেন হযরত উসমান বিন আফফান (রা:)। তিনি হযরত উমর (রা:) এর কাঁধে হাত রাখলেন। এ সময় হযরত উসমান (রা:)
স্বীয় কর্তিত মস্তক ধারণপূর্বক আরজ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদেরকে জিজ্ঞাসা
করুন, তারা কী করণে আমাকে হত্যা করেছে?
অতঃপর হযরত হাসান (রা:) বলতে লাগলেন, আকাশ হতে পৃথিবীর দিকে রক্তের দুটি ধারা প্রবাহিত হতে দেখা গেল। বলা হল, এটি উসমানের রক্ত, এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এরপর হযরত আলী (রা:) কে সম্বোধন করে
লোকেরা বললেন, হযরত হাসান (রা:) যা বলেছেন
তা কি আপনি শুনেছেন? প্রত্যুত্তরে হযরত আলী
(রা:) বললেন, সে যা দেখেছে তাই বিবৃত করেছে।
এ বিষয়ের সমর্থনে 'আত -তামহীদ ওয়াল বয়ান ফী মাকতালিশ শহীদ উসমান' (পৃষ্ঠা:২৩৫) গ্রন্হে হযরত হাসান বিন আলী (রা:) এর বক্তৃতা প্রসঙ্গ
বিস্তারিত বিধৃত হয়েছে। সেখানে হযরত উসমান (রা:) এর মর্যাদার বিবরণেন পাশাপাশি স্বপ্নটির কথারও উল্লেখ রয়েছে। আগ্রহী পাঠক দেখে নিতে পারেন। 'কিতিবুত তামহীদ'এর রচয়িতা স্পেনের প্রসিদ্ধ আলেম মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি বকর (মৃত্যু: ৭৪১হি:) নিম্নে মূলগ্রন্হের উদ্ধৃতি
উল্লেক করা হল --
হযরত যাইনুল আবিদীন বিন হযরত হুসাইন (রা:) এর বক্তব্য হযরত যাইনুল আবিদীন এর নিম্নোক্ত
বর্ণনিটি আবু নাঈম ইস্পাহানী স্বীয়গ্রন্হ "হিলয়াতুল আউলিয়া' তৃতীয় খন্ডে যাইনুল আবিদীন রাহ: এর আলোচনায় উল্লেখ করেছেন এবং বিখ্যাত শীয়ামতাবলম্বী আলেম আলী বিন ঈসা আরবিলী (মৃত্যু : ৬৮৭হি:) স্বীয় গ্রন্হ 'কাশফুল গুম্মাহ ফী মা'রাফাতিল আইম্মাহ' দ্বিতীয় খণ্ডে যাইনুল আবেদীন রাহ: এর আলোচনায় বিধৃত করেন। কাশফুল গুম্মাহ
থেকে মূূল উদ্ধৃতি --
একবার যাইনুল আবিদীন রাহ: এর নিকট ইরাকী
দল এসে হযরত আবুু বকর, উমর ও উসমান (রা:) এর সম্বন্ধে নিন্দা ও সমালোচনা করল। তাদের কথাবার্তা শেষ হলে যাইনুল আবিদীন রাহ:
তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি সে সকল প্রথম স্হানীয় মুহাজিরগণের অন্তর্ভূক্ত, যাদের সম্বন্ধে কুরআন মজীদে এসেছে, 'তাদেরকে তাদের ঘর -বাড়ি ও সহায় -সম্পত্তি
থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা আল্লাহর সন্তোষ ও অনুগ্রহের অন্বেষী ছিল এবং আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সা:) কে সহযোগিতা করত।
বস্তুত: তারাই সত্যবাদী। ইরাকীগণ উত্তর দিলেন,
আমরা তাদের দলভূক্ত নই। পুনরাই যাইনুল আবিদীন রাহ: জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি
তাদের অন্তর্ভূক্ত, যারা মুহাজিরদের পূর্বে মদীনায়
বসবাস করত এবং তাদের পূর্বে ঈমান আনয়ন করেছিল। তারা মুহাজিরদের ভালবাসে এবং মুহাজিরদের যা প্রদান করা হয়েছে তজ্জন্যে মনে
ঈর্ষ পোষণ করে না। অভাব -অনটন সত্ত্বেও তারা
নিজেদের উপর মুহাজিরদের প্রাধান্য দেয়। ইরাকীগণ উত্তর দিল, না।
যাইনুল আবিদীন রাহ: বললেন, তোমরা এই দুটি দলের অন্তর্ভূক্ত হতে অস্বীকৃত হয়েছে। কাজেই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি,তোমরা কখনোই তাদের অন্তর্ভূক্ত নও, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'আর যারা তাদের পরে আগমন করেছে, তারা বলে হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকেও অগ্রনী ঈমানদার ভাইদেরকে ক্ষমা
করুন এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন না। তোমরা এখান থেকে বের হয়ে যাও। তোমরা যেমন আল্লাহ তোমাদের প্রতি তেমন আচরণ করুন।
হযরত আলী (রা:) কর্তৃক হযরত উসমান (রা:) এর কিরাত শ্রবণ
মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক - এর মধ্যে এই ঘটনাটি এসেছে --
"হযরত ইবন সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার আমি হযরত আলী (রা:) এর সাথে ইয়াম্বু থেকে মদীনায় আসছিলাম। হযরত আলী (রা:)রোযাদার ছিলেন এবং তিনি বাহনের আরোহী ছিলেন। আর আমি পদাতিক হওয়ার কারণে রোযাদার ছিলাম না। অবশেষে রাতের বেলা যখন আমরা মদিনায় পৌঁছুলাম এবং হযরত উসমান (রা:) এর বাড়ির পাশ দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছিলাম, তখন শুনতে পেলাম যে, হযরত উসমান (রা:) কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করছেন। শব্দ পেয়ে হযরত আলী (রা:) দাঁড়িয়ে কানপেতে তেলাওয়াত শুনতে লাগলাম। অতঃপর তিনি বললেন, হযরত উসমান (রা:) অমুক সূরা (সূরায়ে নাহল) থেকে তেলাওয়াত করছেন। আবদুর রাযযাক (সংকলক) বলেন, আমি শুনেছি যে, মদীনা থেকে ইয়াম্মু এর দূরত্ব চারদিনের পথ।
টিকা: ইয়াম্বু'তে হযরত আলী (রা:) এর একটি চাষের জমি ছিল। যেটি হযরত উমর (রা:) তাঁকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তিনি সেটি দেখা শোনার জন্য মাঝে -মধ্যে ওখানে যাতায়াত করতের। এ বাষয়ে এই কিকাবের ২য় খন্ডে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হযরত আলী (রা:) কে উটনী প্রদান
হাফেজ আবু নাঈম ইস্পাহানী (মৃ:৪৩০হি:) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আখাবারে ইস্পাহান এর মধ্যে এই ঘটনাটি সনদসহ উল্লেখ করেছেন --
"হযরত আনাস (রা:) বলেন: একদা হযরত আলী (রা:) একটি উটনী নিয়ে নবীজী (সা:) এর কাছে এলেন। হুযূর (সা:) বললেন, এটি কার উটনী? তিনি বললেন, হযরত উসমান (রা:) আমাকে আরোহনের জন্য হাদিয়া দিয়েছেন। একথা শুনে হুযূর (সা:) (উপদেশ স্বরূপ) বললেন, শোন আলী, দুনিয়াদারী পরিহার কর। কারণ, দুনিয়ার সাথে যার সম্পর্ক বেশি হয়, তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আর ব্যস্ততা বেড়ে গেলে লোভ বেড়ে যায়। যখন লোভ বেড়ে যায়, তখন চিন্তা -ভাবনা বেড়ে যায় এবং মানুষ তার প্রভূকে ভুলে যায়। হে আলী! এখন বলতো, যে তার প্রভূকে ভুলে যায় -তার সম্পর্ক তোমার মন্তব্য?।
"হযরত ইবন সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার আমি হযরত আলী (রা:) এর সাথে ইয়াম্বু থেকে মদীনায় আসছিলাম। হযরত আলী (রা:)রোযাদার ছিলেন এবং তিনি বাহনের আরোহী ছিলেন। আর আমি পদাতিক হওয়ার কারণে রোযাদার ছিলাম না। অবশেষে রাতের বেলা যখন আমরা মদিনায় পৌঁছুলাম এবং হযরত উসমান (রা:) এর বাড়ির পাশ দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছিলাম, তখন শুনতে পেলাম যে, হযরত উসমান (রা:) কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করছেন। শব্দ পেয়ে হযরত আলী (রা:) দাঁড়িয়ে কানপেতে তেলাওয়াত শুনতে লাগলাম। অতঃপর তিনি বললেন, হযরত উসমান (রা:) অমুক সূরা (সূরায়ে নাহল) থেকে তেলাওয়াত করছেন। আবদুর রাযযাক (সংকলক) বলেন, আমি শুনেছি যে, মদীনা থেকে ইয়াম্মু এর দূরত্ব চারদিনের পথ।
টিকা: ইয়াম্বু'তে হযরত আলী (রা:) এর একটি চাষের জমি ছিল। যেটি হযরত উমর (রা:) তাঁকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তিনি সেটি দেখা শোনার জন্য মাঝে -মধ্যে ওখানে যাতায়াত করতের। এ বাষয়ে এই কিকাবের ২য় খন্ডে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হযরত আলী (রা:) কে উটনী প্রদান
হাফেজ আবু নাঈম ইস্পাহানী (মৃ:৪৩০হি:) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আখাবারে ইস্পাহান এর মধ্যে এই ঘটনাটি সনদসহ উল্লেখ করেছেন --
"হযরত আনাস (রা:) বলেন: একদা হযরত আলী (রা:) একটি উটনী নিয়ে নবীজী (সা:) এর কাছে এলেন। হুযূর (সা:) বললেন, এটি কার উটনী? তিনি বললেন, হযরত উসমান (রা:) আমাকে আরোহনের জন্য হাদিয়া দিয়েছেন। একথা শুনে হুযূর (সা:) (উপদেশ স্বরূপ) বললেন, শোন আলী, দুনিয়াদারী পরিহার কর। কারণ, দুনিয়ার সাথে যার সম্পর্ক বেশি হয়, তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আর ব্যস্ততা বেড়ে গেলে লোভ বেড়ে যায়। যখন লোভ বেড়ে যায়, তখন চিন্তা -ভাবনা বেড়ে যায় এবং মানুষ তার প্রভূকে ভুলে যায়। হে আলী! এখন বলতো, যে তার প্রভূকে ভুলে যায় -তার সম্পর্ক তোমার মন্তব্য?।
হযরত আলী (রা:) এর দৃষ্টিতে হযরত উসমান (রা:) এর দ্বীনদারী
হযরত আলী (রা:) এর দৃষ্টিতে হযরত উসমান (রা:) এর ঈমান ও দ্বীনদারী অত্যন্ত উঁচু মানের ছিল। তিনি তাঁর দ্বীনদারী ও ঈমানী দৃঢ়তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির নজরে দেখতেন। আল্লামা ইবন আব্দুল বার এ প্রসঙ্গে হযরত আলী (রা:) এর একটি উক্তি বর্ণনা করেছেন --
অর্থাৎ, "হযরত আলী (রা:) বলেন, যে লোক হযরত উসমান (রা:) এর ঈমান ও দ্বীনদারীকে অস্বীকার করে (বা তার দ্বীনদারী নিয়ে প্রশ্ন তোলে) সে নিজের ঈমানকে নষ্ট করল।
কেননা, একজন সাধারণ মুসলমাকেও যদি কেউ
কাফের মনে করে তাহলে নিজে কাফের হয়ে যায়। তাহলে হযরত উসমান (রা:) এর মত একজন মহান সাহাবী সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ করলে তার নিজের ঈমান যে নষ্ট হয়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
হযরত উসমান (রা:) কল্যাণে অগ্রগামী, জান্নাতবাসী ও জাহান্নম থেকে মুক্ত হওয়ার পক্ষে হযরত আলী (রা:) এর সাক্ষ্য
এই প্রসঙ্গে এখানে কয়েকটি রেওয়ায়াত পেশ করা হবে।
আল্লামা বালাযুরী "আনসাবুল আশরাফ" এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: আল্লাহ পাকের শপথ, আমি সে পথেই অনুসরণ করে চলব, যে পথে হযরত উসমান (রা:) চলেছেন। দ্বীনদারী ও সৎকর্মের ব্যাপারে তিনি এত এগিয়ে গিয়েছেন যে, তারপর আর আল্লাহ পাক তাকে শাস্তি দিবেন না (বলে আমার বিশ্বাস)।
আলী মুত্তাকী হিন্দী (রহ:)(কানযুল উম্মাল) এর মধ্যে বিভিন্ন সনদের বরাতে হযরত আলী (রা:) এর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন:
"হযরত আলী (রা:) একদা হযরত উসমান (রা:) এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন: আল্লাহ পাকের শপথ, তিনি (হযরত উসমান (রা:) কল্যাণ ও সৎকর্মে এতখানি এগিয়ে ছিলেন যে, তারপরে আর আল্লাহ পাক তাঁকে কোন শাস্তি দিতে পারেন না ( বলে আমি মনে করি)।
'আনসাবুল আশরাফ' এর মধ্যে আরেক জায়গায় এসেছে--
"হযরত আলী (রা:) একদা হযরত উসমান (রা:) এর আলোচনা করছিলেন এবং তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল যা দিয়ে মাটি খুঁটছিলেন। তখন এই আয়াতখানা তেলাওয়াত করলেন: "নি:সন্ধেহে যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে তাদের কে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ দুরত্বে রাখা হবে"। তারপর বললেন, এরা হযরত উসমান (রা:) এবং তাঁর সঙ্গীরা।
অর্থাৎ, "হযরত আলী (রা:) বলেন, যে লোক হযরত উসমান (রা:) এর ঈমান ও দ্বীনদারীকে অস্বীকার করে (বা তার দ্বীনদারী নিয়ে প্রশ্ন তোলে) সে নিজের ঈমানকে নষ্ট করল।
কেননা, একজন সাধারণ মুসলমাকেও যদি কেউ
কাফের মনে করে তাহলে নিজে কাফের হয়ে যায়। তাহলে হযরত উসমান (রা:) এর মত একজন মহান সাহাবী সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ করলে তার নিজের ঈমান যে নষ্ট হয়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
হযরত উসমান (রা:) কল্যাণে অগ্রগামী, জান্নাতবাসী ও জাহান্নম থেকে মুক্ত হওয়ার পক্ষে হযরত আলী (রা:) এর সাক্ষ্য
এই প্রসঙ্গে এখানে কয়েকটি রেওয়ায়াত পেশ করা হবে।
আল্লামা বালাযুরী "আনসাবুল আশরাফ" এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: আল্লাহ পাকের শপথ, আমি সে পথেই অনুসরণ করে চলব, যে পথে হযরত উসমান (রা:) চলেছেন। দ্বীনদারী ও সৎকর্মের ব্যাপারে তিনি এত এগিয়ে গিয়েছেন যে, তারপর আর আল্লাহ পাক তাকে শাস্তি দিবেন না (বলে আমার বিশ্বাস)।
আলী মুত্তাকী হিন্দী (রহ:)(কানযুল উম্মাল) এর মধ্যে বিভিন্ন সনদের বরাতে হযরত আলী (রা:) এর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন:
"হযরত আলী (রা:) একদা হযরত উসমান (রা:) এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন: আল্লাহ পাকের শপথ, তিনি (হযরত উসমান (রা:) কল্যাণ ও সৎকর্মে এতখানি এগিয়ে ছিলেন যে, তারপরে আর আল্লাহ পাক তাঁকে কোন শাস্তি দিতে পারেন না ( বলে আমি মনে করি)।
'আনসাবুল আশরাফ' এর মধ্যে আরেক জায়গায় এসেছে--
"হযরত আলী (রা:) একদা হযরত উসমান (রা:) এর আলোচনা করছিলেন এবং তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল যা দিয়ে মাটি খুঁটছিলেন। তখন এই আয়াতখানা তেলাওয়াত করলেন: "নি:সন্ধেহে যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে তাদের কে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ দুরত্বে রাখা হবে"। তারপর বললেন, এরা হযরত উসমান (রা:) এবং তাঁর সঙ্গীরা।
হযরত আলী (রা:) এর দৃষ্টিতে মুসলিম উম্মাহ এর মাঝে হযরত উসমান (রা:) এর অবস্হান
হযরত আলী (রা:) তাঁর খেলাফতকালে একটি ভাষণের মধ্যে এ বষয়টি তুলে ধরেছিলেন। ভাষণটির প্রয়োজনীয় অংশ এখানে তুলে ধরা হল
"আবদে খায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার হযরত আলী (রা:) খুতবা (ভাষণ) দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, 'রাসূল (সা:) এর পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন হযরত আবু বকর (রা:) ,তারপর হযরত উসমান (রা:)। এর পর আমি চাইলে তৃতীয়জজনের নামও বলতে পারি।
আবদে খায়ের বলেন, তৃতীয়জন কে হতে পারে -এ বিষয়টি আমাকে ভাবনায় ফেলে দিল। পরে আমি হযরত হুসাইন (রা:) এর কাছে গিয়ে সবকিছু খুলে বললাম। সবশুনে তিনি বললেন, বিষয়টি আমাকেও ভাবিত করেছিল। আমি এ বিষয়ে তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলেছিলাম, আমীরুল মু'মিনীন! সে ব্যক্তি কে যার সম্পর্কে আপনি বলেছেন যে, আপনি চাইলে তাঁর নাম বলে দিতে পারেন? তিনি বললেন, আমি তো তাঁর কথা বলেছি, যাকে গরুর মতো জবাই করা
হয়েছে। অর্থাৎ, সেই তৃতীয় শ্রেষ্ঠতম মানুষ হলেন
হযরত উসমান (রা:) ,যাকে বিদ্রোহীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।
"আবদে খায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার হযরত আলী (রা:) খুতবা (ভাষণ) দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, 'রাসূল (সা:) এর পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন হযরত আবু বকর (রা:) ,তারপর হযরত উসমান (রা:)। এর পর আমি চাইলে তৃতীয়জজনের নামও বলতে পারি।
আবদে খায়ের বলেন, তৃতীয়জন কে হতে পারে -এ বিষয়টি আমাকে ভাবনায় ফেলে দিল। পরে আমি হযরত হুসাইন (রা:) এর কাছে গিয়ে সবকিছু খুলে বললাম। সবশুনে তিনি বললেন, বিষয়টি আমাকেও ভাবিত করেছিল। আমি এ বিষয়ে তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলেছিলাম, আমীরুল মু'মিনীন! সে ব্যক্তি কে যার সম্পর্কে আপনি বলেছেন যে, আপনি চাইলে তাঁর নাম বলে দিতে পারেন? তিনি বললেন, আমি তো তাঁর কথা বলেছি, যাকে গরুর মতো জবাই করা
হয়েছে। অর্থাৎ, সেই তৃতীয় শ্রেষ্ঠতম মানুষ হলেন
হযরত উসমান (রা:) ,যাকে বিদ্রোহীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।
Thursday, 4 July 2019
হযরত উসমান (রা:) এর ঈমান, তাকওয়া, সততা ইত্যাদির বিষয়ে হযরত আলী (রা:) এর মন্তব্য
হযরত আলী (রা:) এর খেলাফতকালে জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে জানতে চাইল, যদি কেউ আমাকে আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যে, 'আমীরুল মু'মিনীন হযরত উসমান (রা:) এর ব্যাপারে আপনার ধারণা কী? তখন আমি উত্তরে কী বলক? হযরত আলী (রা:) বললেন,
"তুমি তাদের বলে দিও যে, হযরত উসমান (রা:)
সম্বন্ধে আমি অত্যন্ত উঁচু ধারণা পোষণ করি। নিঃসন্দেহে হযরত উসমান (রা:) সে সব মণীষীদের অন্যতম,যাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক
(কুরআন শরীফে) ইরশাদ করেছেন, "যারা ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে, তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং সৎকর্মে ব্রতী হয়েছে। আল্লাহপাক সৎকর্মশীলদের পছন্দ করেন।
হযরত আলী (রা:) এর এই অমূল্য উক্তি বিভিন্ন কিতাবে কিছুটা শব্দের তারতম্যসহ উদ্ধৃত হয়েছে। অবশ্য মূল বিষয়বস্তু একই। যেমন --
আল্লামা ইবন কাসীর (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর আরও কতিপয় প্রশংসনীয় গুণসম্বলিত হযরত আলী (রা:) এর একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। সেটি হল --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: হযরত উসমান (রা:) আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ভাল লোক ছিলেন। তিনি
আত্মীয় বৎসল, লজ্জাশীল, পবিত্রতা প্রিয় এবং অত্যাধিক আল্লাহভীরু ছিলেন।
এরই সমথর্ক একটি বর্ণনা আবুল কাসিম সাহমী
(মৃ:৪২৮হি:) তার তারীখে জুরজান -এ উল্লেখ করেছেন:।
"তখন হযরত আলী (রা:) হুযূর ( সা:) কে লক্ষ্য করে বললেন, হুযূর, আমার পিতা -মাতা আপনার
জন্য কুরবান হোক -আমার এখানে আপনার কাছে এতগুলো লোক ছিলাম, তখন আপনি আপনার পা ঢাকেননি, অথচ উসমান আসামাত্রই আপনি পা ঢেকে নিলেন (এর কারণ কী) ? হুযূর
(সা:) উত্তরে বললেন, ফেরেশতারা যাকে দেখে লজ্জাবনত হয়, তাকে দেখে আমারও তো লজ্জা পেতে হয়।
হযরত আলী (রা:) এর বিভিন্ন উক্তিতে হযরত উসমান (রা:) এর 'যুন্নুরাইন' উপাধির স্বীকৃতি :
এ বিষয় দু'টি রেওয়ায়াত পেশ করা হবে। একটি নামায ইবন সাবুরাহ থেকে এবং অপরটি কাসীর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত।
প্রথম রেওয়ায়াত --
"নাযাল ইবন সাবুরাহ বলেন, একবার আমরা
হযরত আলী (রা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি আমাদেরকে হযরত উসমান (রা:) সম্পর্কে কিছু বলুন। হযরত আলী (রা:) বললেন: তিনি তো সেই
লোক, যাকে মালাউল আ'লা অর্থাৎ, ফেরেশতাদের জগতে 'যুন্নুরাইন' (দুই নূরের অধিকারী) বলে স্মরণ করা হয়। তিনি রাসূল (সা:) এর দূ'কন্যাকে পর্যায়ক্রমে বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জনকারী জামাতা ছিলেন।
দ্বিতীয় রেওয়ায়াত --
এই রেওয়ায়াতটি আলী মুত্তাকী হিন্দী 'ইবনে আসাকির'এর বরাত দিয়ে 'কানযুল উম্মাল' এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন: বর্ণনা করে ইমাম নাসাঈও -
"কাসীর ইবন মুররাহ থেকে বর্ণিত, একবার হযরত আলী (রা:) এর কাছে হযরত উসমান (রা:) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি উত্তরে
(হযরত উসমান (রা:) এর কয়েকটি ফযীলত ও দানশীলতার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে) বললেন, তিনি খুব ভাল লোক ছিলেন ( কিশেষ করে) --
(ক) চতুর্থ আকাশে তাঁকে 'যুন্নুরাইন' নামে অভিহিত করা হয়। ( কারণ) নবীজী (সা:) দু'কন্যাকে পর্যায়ক্রমে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন।
(খ) তাছাড়া একবার নবী করীম (সা:) ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি একটি জমি কিনে মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য দান করবে , আল্লাহ পাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) ঐ জমি কিনে মসজিদের জন্য দান করে দিলেন।
(গ) আরেকবার নবী কারীম (সা:) ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি অমুক গোত্রের খোঁয়াড়টি কিনে মুসলমানদের ব্যাপক ব্যবহারের জন্য ওয়াকফ করে দিবে, আল্লাহপাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) সেটি কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন।
(ঘ) আরেক দিন নবীজী (সা:) ঘোষাণা করলেন,যে ব্যক্তি তাবুক যুদ্ধের সেনাবাহিনীর
অস্ত্রশস্ত্র, রসদও বাহনের ব্যবস্হা করবে আল্লাহপাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) ঐ যুদ্ধের সেনাবাহিনীর সকল প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের ব্যবস্হা করে দিলেন। এমনকি উটনীর ওলান বাঁধার রশিও দিতে ভোলেননি।।
"তুমি তাদের বলে দিও যে, হযরত উসমান (রা:)
সম্বন্ধে আমি অত্যন্ত উঁচু ধারণা পোষণ করি। নিঃসন্দেহে হযরত উসমান (রা:) সে সব মণীষীদের অন্যতম,যাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক
(কুরআন শরীফে) ইরশাদ করেছেন, "যারা ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে, তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং সৎকর্মে ব্রতী হয়েছে। আল্লাহপাক সৎকর্মশীলদের পছন্দ করেন।
হযরত আলী (রা:) এর এই অমূল্য উক্তি বিভিন্ন কিতাবে কিছুটা শব্দের তারতম্যসহ উদ্ধৃত হয়েছে। অবশ্য মূল বিষয়বস্তু একই। যেমন --
আল্লামা ইবন কাসীর (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর আরও কতিপয় প্রশংসনীয় গুণসম্বলিত হযরত আলী (রা:) এর একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। সেটি হল --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: হযরত উসমান (রা:) আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ভাল লোক ছিলেন। তিনি
আত্মীয় বৎসল, লজ্জাশীল, পবিত্রতা প্রিয় এবং অত্যাধিক আল্লাহভীরু ছিলেন।
এরই সমথর্ক একটি বর্ণনা আবুল কাসিম সাহমী
(মৃ:৪২৮হি:) তার তারীখে জুরজান -এ উল্লেখ করেছেন:।
"তখন হযরত আলী (রা:) হুযূর ( সা:) কে লক্ষ্য করে বললেন, হুযূর, আমার পিতা -মাতা আপনার
জন্য কুরবান হোক -আমার এখানে আপনার কাছে এতগুলো লোক ছিলাম, তখন আপনি আপনার পা ঢাকেননি, অথচ উসমান আসামাত্রই আপনি পা ঢেকে নিলেন (এর কারণ কী) ? হুযূর
(সা:) উত্তরে বললেন, ফেরেশতারা যাকে দেখে লজ্জাবনত হয়, তাকে দেখে আমারও তো লজ্জা পেতে হয়।
হযরত আলী (রা:) এর বিভিন্ন উক্তিতে হযরত উসমান (রা:) এর 'যুন্নুরাইন' উপাধির স্বীকৃতি :
এ বিষয় দু'টি রেওয়ায়াত পেশ করা হবে। একটি নামায ইবন সাবুরাহ থেকে এবং অপরটি কাসীর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত।
প্রথম রেওয়ায়াত --
"নাযাল ইবন সাবুরাহ বলেন, একবার আমরা
হযরত আলী (রা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি আমাদেরকে হযরত উসমান (রা:) সম্পর্কে কিছু বলুন। হযরত আলী (রা:) বললেন: তিনি তো সেই
লোক, যাকে মালাউল আ'লা অর্থাৎ, ফেরেশতাদের জগতে 'যুন্নুরাইন' (দুই নূরের অধিকারী) বলে স্মরণ করা হয়। তিনি রাসূল (সা:) এর দূ'কন্যাকে পর্যায়ক্রমে বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জনকারী জামাতা ছিলেন।
দ্বিতীয় রেওয়ায়াত --
এই রেওয়ায়াতটি আলী মুত্তাকী হিন্দী 'ইবনে আসাকির'এর বরাত দিয়ে 'কানযুল উম্মাল' এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন: বর্ণনা করে ইমাম নাসাঈও -
"কাসীর ইবন মুররাহ থেকে বর্ণিত, একবার হযরত আলী (রা:) এর কাছে হযরত উসমান (রা:) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি উত্তরে
(হযরত উসমান (রা:) এর কয়েকটি ফযীলত ও দানশীলতার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে) বললেন, তিনি খুব ভাল লোক ছিলেন ( কিশেষ করে) --
(ক) চতুর্থ আকাশে তাঁকে 'যুন্নুরাইন' নামে অভিহিত করা হয়। ( কারণ) নবীজী (সা:) দু'কন্যাকে পর্যায়ক্রমে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন।
(খ) তাছাড়া একবার নবী করীম (সা:) ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি একটি জমি কিনে মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য দান করবে , আল্লাহ পাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) ঐ জমি কিনে মসজিদের জন্য দান করে দিলেন।
(গ) আরেকবার নবী কারীম (সা:) ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি অমুক গোত্রের খোঁয়াড়টি কিনে মুসলমানদের ব্যাপক ব্যবহারের জন্য ওয়াকফ করে দিবে, আল্লাহপাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) সেটি কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন।
(ঘ) আরেক দিন নবীজী (সা:) ঘোষাণা করলেন,যে ব্যক্তি তাবুক যুদ্ধের সেনাবাহিনীর
অস্ত্রশস্ত্র, রসদও বাহনের ব্যবস্হা করবে আল্লাহপাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) ঐ যুদ্ধের সেনাবাহিনীর সকল প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের ব্যবস্হা করে দিলেন। এমনকি উটনীর ওলান বাঁধার রশিও দিতে ভোলেননি।।
Wednesday, 3 July 2019
হযরত আলী (রা:) এর বিবাহে হযরত উসমান (রা:) সাক্ষী হলেন
হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (রা:) এর বিয়েতে
অন্যান্য সাহাবীর সাথে হযরত উসমান (রা:) কেও দাওয়াত করা হয় এবং তাঁকে এই বিয়েতে সাক্ষী রাখা হয়। শীয়া -সুন্নী সকল কিতাবে এই ঘটনার
উল্লেখ রয়েছে।
এসেছে, নবী কারীম (সা:) হযরত আনাস (রা:) কে বললেন --
"যাও, আবু বকর,উমর, উসমান,আব্দুর রহমান ইবন আউফ, সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস, ত্বলহা, যুবাইর এবং কয়েকজন আনসারী সাহাবীকে ডেকে নিয়ে এসো। হযরত আনাস (রা:) বলেন, আমি তাদের সকলকে ডেকে নিয়ে এলাম। তারা সকলে উপস্হিত হয়ে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলেন। অতঃপর নবীজী (সা:) এরশাদ করলেন, আল্লাহপাক আমাকে আলীর সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেমতে আমি তোমাদের
সাক্ষী রেখে ৪০০ মিসকাল রূপার (দেন মোহর) বিনিময়ে ওদের বিয়ে দিলাম। শীয়া আলেমগন তাদের কিতাবাদিতে ঘটনাটিকে মোটামুটি এ রকমই বর্ণনা করেছেন। এখানে সংক্ষেপে একটি
উদ্ধৃতি পেশ করা হল --
"হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদিন আমি নবী কারীম (সা:) এর কাছে ছিলাম। ( এমন সময় তিনি বললেন) যাও, আবু বকর, উমর, উসমান,আলী,ত্বলহা,যুবায়র এবং
তাদের সমসংখ্যক আনসারী সাহাবী কে ডেকে নিয়ে এসো। হযরত আনাস (রা:) বলেন: আমি তাঁদের সকলকে ডেকে নিয়ে এলাম। তাঁরা সকলে এসে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলে নবীজী (সা:)
এরশাদ করলেন আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে ফাতেমা (রা:)কে আলী (রা:) এর সঙ্গে ৪০০ মিসকাল রূপার (দেন মোহর) বিনিময়ে বিয়ে দিলাম।
অন্যান্য সাহাবীর সাথে হযরত উসমান (রা:) কেও দাওয়াত করা হয় এবং তাঁকে এই বিয়েতে সাক্ষী রাখা হয়। শীয়া -সুন্নী সকল কিতাবে এই ঘটনার
উল্লেখ রয়েছে।
এসেছে, নবী কারীম (সা:) হযরত আনাস (রা:) কে বললেন --
"যাও, আবু বকর,উমর, উসমান,আব্দুর রহমান ইবন আউফ, সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস, ত্বলহা, যুবাইর এবং কয়েকজন আনসারী সাহাবীকে ডেকে নিয়ে এসো। হযরত আনাস (রা:) বলেন, আমি তাদের সকলকে ডেকে নিয়ে এলাম। তারা সকলে উপস্হিত হয়ে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলেন। অতঃপর নবীজী (সা:) এরশাদ করলেন, আল্লাহপাক আমাকে আলীর সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেমতে আমি তোমাদের
সাক্ষী রেখে ৪০০ মিসকাল রূপার (দেন মোহর) বিনিময়ে ওদের বিয়ে দিলাম। শীয়া আলেমগন তাদের কিতাবাদিতে ঘটনাটিকে মোটামুটি এ রকমই বর্ণনা করেছেন। এখানে সংক্ষেপে একটি
উদ্ধৃতি পেশ করা হল --
"হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদিন আমি নবী কারীম (সা:) এর কাছে ছিলাম। ( এমন সময় তিনি বললেন) যাও, আবু বকর, উমর, উসমান,আলী,ত্বলহা,যুবায়র এবং
তাদের সমসংখ্যক আনসারী সাহাবী কে ডেকে নিয়ে এসো। হযরত আনাস (রা:) বলেন: আমি তাঁদের সকলকে ডেকে নিয়ে এলাম। তাঁরা সকলে এসে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলে নবীজী (সা:)
এরশাদ করলেন আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে ফাতেমা (রা:)কে আলী (রা:) এর সঙ্গে ৪০০ মিসকাল রূপার (দেন মোহর) বিনিময়ে বিয়ে দিলাম।
Tuesday, 2 July 2019
হযরত আলী (রা:) এর বিয়ের সময় হযরত উসমান (রা:) এর নি:স্বার্থ সাহায্য -সহায়তা
হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত ফাতেমা (রা:) এর শুভ বিবাহের বিস্তারিত বিবরণ এই পুস্তকের প্রথম খন্ডে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে শুধু এতটুকু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, হযরত আলী (রা:) এর এই বিয়ে সম্পন্ন করতে পয়োজনীয় জিনিস পত্র, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও অন্যান্য খরচের যাবতীয় অর্থ হযরত উসমান (রা:) হযরত আলী (রা:) কে হাদিয়াস্বরূপ প্রদান করেছিলেন।
আর তিনিও সন্তুষ্টচিত তা গ্রহণ করেছিলেন। পরে নবী কারীম (সা:) এ খবর শুনে খুশি হয়ে হযরত উসমান (রা:) কে অনেক দু'আও দিয়েছিলেন।
শীয়া -সুন্নীদের বিভিন্ন কিতাবে এ ঘটনা বর্ণিত আছে। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি উদ্ধৃতি পেশ করা হল --
১। 'শরহে মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া' কিতাব থেকে --
উক্ত কিতাবে হযরত আলী (রা:) এর বিয়ের আলোচনার মধ্যে লিখেছেন, নবী কারীম (সা:) বিয়ের খরচ -খরচা নির্বাহের জন্য হযরত আলী (রা:) কে নির্দেশ পূর্বক বললেন,
"তুমি তোমার (লৌহবর্মটি বিক্রি করে ফেল। হযরত আলী (রা:) বলেন, তখন আমি বর্মিটি উসমান (রা:) এর নিকটে ৪৮০ দিরহাম বেঁচে দিলাম। পরে হযরত উসমান (রা:) বর্মটি হযরত আলী (রা:) কে ফেরত দিলে, তিনি বর্ম ও এর মূল্য নিয়ে হুযূর (সা:) এর কাছে গেলেন। নবীজী (সা:) ঘটনা শুনে খুশি হয়ে হযরত উসমান (রা:) এর জন্য অনেক দু'আ করলেন।
২। "কাশফুল গুম্মাহ ফী মারিফাতিল" আইম্যা ও
"বেহারুল আনওয়ার" কিতাব থেকে --
হিজরী সপ্তম শতকের প্রখ্যাত শীয়া আলেম ইবন ঈসা আরবিলী "কাশফুল গুম্মাহ" কিতাবে এবং মোল্লা বাকের মজলিসী" বেহারুল আনওয়ার -এ ঘটনাটি বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করেছেন। তাদের বর্ণনামতে, রাসূল (সা:) হযরত আলী (রা:) তাঁর কর্ম বিক্রি করে দিতে বললেন --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: অতঃপর নবীজী (সা:) এর নির্দেশক্রমে আমি পিয়ে বর্মটি হযরত উসমান (রা:) এর কাছে ৪০০ দিরহামের বিনিময়ে বেচে দিলাম। এভাবে যখন দিরহাম আমার এবং বর্ম তার হস্তগত হয়ে গেল,তখন তিনি বললেন: হে আলী! এখন বর্মটি আমার এবং দিরহাম আপনার
হয়ে গেছে, তাই নয় কি? আমি বললাম, হ্যাঁ, তাই তো। তিনি বললেন, এবার আমি এই বর্মটি আপনাকে উপহার দিলাম। তখন আমি বর্মটি ও
দিরহামগুলো নিয়ে হুযূর (সা:) এর কাছে এসে তাঁর সামনে রেখে দিলাম এবং সমস্ত ঘটনা জানালাম। ঘটনা শুনে খুশি হয়ে হুযূর (সা:) হযরত উসমান (রা:) এর জন্য দু'আ করলেন।
আর তিনিও সন্তুষ্টচিত তা গ্রহণ করেছিলেন। পরে নবী কারীম (সা:) এ খবর শুনে খুশি হয়ে হযরত উসমান (রা:) কে অনেক দু'আও দিয়েছিলেন।
শীয়া -সুন্নীদের বিভিন্ন কিতাবে এ ঘটনা বর্ণিত আছে। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি উদ্ধৃতি পেশ করা হল --
১। 'শরহে মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া' কিতাব থেকে --
উক্ত কিতাবে হযরত আলী (রা:) এর বিয়ের আলোচনার মধ্যে লিখেছেন, নবী কারীম (সা:) বিয়ের খরচ -খরচা নির্বাহের জন্য হযরত আলী (রা:) কে নির্দেশ পূর্বক বললেন,
"তুমি তোমার (লৌহবর্মটি বিক্রি করে ফেল। হযরত আলী (রা:) বলেন, তখন আমি বর্মিটি উসমান (রা:) এর নিকটে ৪৮০ দিরহাম বেঁচে দিলাম। পরে হযরত উসমান (রা:) বর্মটি হযরত আলী (রা:) কে ফেরত দিলে, তিনি বর্ম ও এর মূল্য নিয়ে হুযূর (সা:) এর কাছে গেলেন। নবীজী (সা:) ঘটনা শুনে খুশি হয়ে হযরত উসমান (রা:) এর জন্য অনেক দু'আ করলেন।
২। "কাশফুল গুম্মাহ ফী মারিফাতিল" আইম্যা ও
"বেহারুল আনওয়ার" কিতাব থেকে --
হিজরী সপ্তম শতকের প্রখ্যাত শীয়া আলেম ইবন ঈসা আরবিলী "কাশফুল গুম্মাহ" কিতাবে এবং মোল্লা বাকের মজলিসী" বেহারুল আনওয়ার -এ ঘটনাটি বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করেছেন। তাদের বর্ণনামতে, রাসূল (সা:) হযরত আলী (রা:) তাঁর কর্ম বিক্রি করে দিতে বললেন --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: অতঃপর নবীজী (সা:) এর নির্দেশক্রমে আমি পিয়ে বর্মটি হযরত উসমান (রা:) এর কাছে ৪০০ দিরহামের বিনিময়ে বেচে দিলাম। এভাবে যখন দিরহাম আমার এবং বর্ম তার হস্তগত হয়ে গেল,তখন তিনি বললেন: হে আলী! এখন বর্মটি আমার এবং দিরহাম আপনার
হয়ে গেছে, তাই নয় কি? আমি বললাম, হ্যাঁ, তাই তো। তিনি বললেন, এবার আমি এই বর্মটি আপনাকে উপহার দিলাম। তখন আমি বর্মটি ও
দিরহামগুলো নিয়ে হুযূর (সা:) এর কাছে এসে তাঁর সামনে রেখে দিলাম এবং সমস্ত ঘটনা জানালাম। ঘটনা শুনে খুশি হয়ে হুযূর (সা:) হযরত উসমান (রা:) এর জন্য দু'আ করলেন।
হযরত রুকাইয়া (রা:) এর দিক দিয়ে মম্পর্ক
ইবন সা'দ তার 'তাবাকাত' গ্রন্হের মধ্যে মহানবী
(সা:) এর কন্যা হযরত রুকাইয়া (রা:) এর আআলোচনায় লিখেছেন --
অর্থাৎ নবী করীম (সা:) এর কন্যা রুকাইয়া এর মাতা হলেন হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ। মহানবীর নবুওয়াত লাভের পূর্বে আবু লাহাবের পূত্র উৎবা এর সাথে হযরত রুকাইয়া (রা:) এর বিয়ে হয়েছিল। পরে যখন নবীজী (সা:) নবুওয়াত লাভ করলেন এবং সূরা লাহাব নাযিল হল, তখন আবু লাহাব ক্ষিপ্ত হয়ে তার পুত্র উৎবাকে বাধ্য করে হযরত রুকাইয়াকে তালাক দিতে। ফলে 'স্বামীর সংসর্গ লাভের পূর্বেই তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে। হযরত খাদীজা (রা:) এর ইসলাম গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই হযরত রুকাইয়া ও তাঁর বোনের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃ পর অন্য মহিলাদের সঙ্গে তার ও নবীজি (সা:) এর হাতে বাইয়াত হন। পরবর্তীতে হযরত উসমান (রা:) এর সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং উভয়ে একত্রে হাবাশায় হিজরত করেন। মহানবী (সা:) বলেন, হযরত লূত (আ:) এর পরে এরাই সর্বপ্রথম আল্লাহর পথে হিজরতকারী দম্পতি।
হযরত রুকাইয়া (রা:) এর গর্ভে হযরত উসমান (রা:) এর আব্দুল্লাহ নামক একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। যার কারণে হযরত উসমান (রা:) মুসলিম সমাজে আবু আব্দুল্লাহ নামে খ্যাত হন। অবশ্য ছেলেটি ছয় বছর বয়সে মারা যায়। এরপর হযরত রুকাইয়া (রা:) এর গর্ভে আর কোন সন্তান হয়নি।
নবীজী যখন বদর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হযরত রুকাইয়া অসুস্হ ছিলেন। তাঁর সেবা -যত্নের জন্য হযরত উসমান মদীনায় থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর নবীজী (সা:) বদরে
থাকাকালেই হযরত রুকাইয়া (রা:) ইন্তিকাল করেন (১৭ রমযান, ও ২য় হিজরী) হযরত যায়েদ বিন হারেসা যখন বদর যুদ্ধ জয়ের সুসংবাদ নিয়ে মদীনায় পৌঁছেন তখনও লোকজন হযরত রুকাইয়া (রা:) এর দাফন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।।
(সা:) এর কন্যা হযরত রুকাইয়া (রা:) এর আআলোচনায় লিখেছেন --
অর্থাৎ নবী করীম (সা:) এর কন্যা রুকাইয়া এর মাতা হলেন হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ। মহানবীর নবুওয়াত লাভের পূর্বে আবু লাহাবের পূত্র উৎবা এর সাথে হযরত রুকাইয়া (রা:) এর বিয়ে হয়েছিল। পরে যখন নবীজী (সা:) নবুওয়াত লাভ করলেন এবং সূরা লাহাব নাযিল হল, তখন আবু লাহাব ক্ষিপ্ত হয়ে তার পুত্র উৎবাকে বাধ্য করে হযরত রুকাইয়াকে তালাক দিতে। ফলে 'স্বামীর সংসর্গ লাভের পূর্বেই তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে। হযরত খাদীজা (রা:) এর ইসলাম গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই হযরত রুকাইয়া ও তাঁর বোনের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃ পর অন্য মহিলাদের সঙ্গে তার ও নবীজি (সা:) এর হাতে বাইয়াত হন। পরবর্তীতে হযরত উসমান (রা:) এর সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং উভয়ে একত্রে হাবাশায় হিজরত করেন। মহানবী (সা:) বলেন, হযরত লূত (আ:) এর পরে এরাই সর্বপ্রথম আল্লাহর পথে হিজরতকারী দম্পতি।
হযরত রুকাইয়া (রা:) এর গর্ভে হযরত উসমান (রা:) এর আব্দুল্লাহ নামক একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। যার কারণে হযরত উসমান (রা:) মুসলিম সমাজে আবু আব্দুল্লাহ নামে খ্যাত হন। অবশ্য ছেলেটি ছয় বছর বয়সে মারা যায়। এরপর হযরত রুকাইয়া (রা:) এর গর্ভে আর কোন সন্তান হয়নি।
নবীজী যখন বদর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হযরত রুকাইয়া অসুস্হ ছিলেন। তাঁর সেবা -যত্নের জন্য হযরত উসমান মদীনায় থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর নবীজী (সা:) বদরে
থাকাকালেই হযরত রুকাইয়া (রা:) ইন্তিকাল করেন (১৭ রমযান, ও ২য় হিজরী) হযরত যায়েদ বিন হারেসা যখন বদর যুদ্ধ জয়ের সুসংবাদ নিয়ে মদীনায় পৌঁছেন তখনও লোকজন হযরত রুকাইয়া (রা:) এর দাফন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।।
হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের দিক থেকে সম্পর্ক
হযরত উসমান (রা:) এর বংশলতিকা এই:
আবু আব্দুল্লাহ উসমান যুন্নুরাইন, পিতা আফফান -পিতা, আবদুল আস -পিতা উমাইয়া -পিতা আবদে শামস -পিতা আবদে মানাফ। তাঁর মাতার নাম আরওয়া বিনত কুরাইয এবং নানীর নাম উম্মে হাকীম বিনত আবদুল মুক্তালিব বিন হাশেম বিন আবদে মানাফ।
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও বংশধারা বিশারদগণ এভাবেই হযরত উসমান (রা:) এর বংশলতিকা উল্লেখ করেছেন। যেমন --
সারকথা হল, হযরত উসমান (রা:) এর মাতা আরওয়া বিনতে কুরাইয এর মাতার নাম উম্মে হাকীম, যিনি হুযূর (সা:) এর ফুফু ছিলেন।
আফফান ইবন আবুল আস আরওয়াকে বিয়ে করেন। তার সংসারে দু'টি সন্তান জন্মলাভ করে,
একজন হযরত উসমান অন্যজন হযরত আমেনা
(রা:)। আরওয়া ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর (অন্য ঘরের) কন্যা উম্মে কুলসূম এরপরে মদীনায় হিজরত করেন এবং রাসূল (সা:) এর নিকট বাইয়াত হন। এরপর থেকে মদীনায় বসবাস করেন এবং হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে ইন্তিকাল করেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, হযরত উসমান (রা:) এর নানী উম্মে হাকীম যিনি নবী করিম (সা:) এর ফুফু ছিলেন, ইনি হুজুর (সা:) এর পিতা আব্দুল্লাহ এর যমজ সহোদর বোন ছিলেন।
এটিই ঐতিহাসিক বাস্তবতা যা শীয়া -সুন্নী নির্বেশেষে সকল আলিম সমর্থন করেন। শীয়া কিতাব এর ব্যাখ্যায় ইবন আবীল হাদীদ (একজন শীয়া ও মু'তাযিলা মতাবলম্বী লেখক) একাধিক স্হানে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত উসমান (রা:) হযরত আলী (রা:) কে (মামাতো ভাই) বলে ডাকতেন। হিজরী চতুর্দশ শতকের শীয়া মুজতাহিদ ও বরেণ্য আলিম শায়েখ আব্বাস কুমী ও নামক কিতাবে (১ম খন্ডে) এ আত্মীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। মোটকথা, হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর এই আত্মীয়তার সম্পর্ককে শীআ -সুন্নী নির্বিশেষে সকল আলিম স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই আত্মীয়তার ভিত্তিতে হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর বহুমূখী সম্পর্ক স্হাপিত হয়েছে। যেমন --
১। উম্মে হাকীম আল বাইযা, (যিনি হুযুর (সা:) এর সহোদরা ছিলেন অর্থাৎ নবী করিম (সা:) এবং হযরত আলী (রা:) এর ফুফু ছিলেন) হযরত উসমান (রা:) এর আপন নানী ছিলেন।
২। অর্থাৎ হযরত উসমান (রা:) উম্মে হাকীম (রা:) এর দৌহিত্র (নাতি) এবং রাসূল (সা:) এর ফুফু হযরত সাফিয়্যাহ (রা:) এর ভাগ্নীর ছেলে ছিলেন। হযরত সাফিয়্যাহ (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের আপন খালা ছিলেন।
৩। হযরত আলী (রা:) এর পিতা আবু তালেব হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের মামা ছিলেন।
৪। হযরত আলী (রা:) হযরত উসমান (রা:) এন
মায়ের মামাতো ভাই ছিলেন। তদ্রুপ হযরত জাফর (রা:) ও হযরত আকীল (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের সামাতো ভাই ছিলেন।
৫। হযরত আলী,জাফর ও আকীল (রা:) এর ফুফাতো বোনের ছেলে হযরত উসমান (রা:)।
৬। হযরত হামযা ও আব্বাস (রা:) এর ভাগ্নীর ছেলে হযরত উসমান (রা:)।
৭। আবু তালেবের মতো হযরত হামযা ও আব্বাস (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের মামা ছিলেন।
উপরিউক্ত বিবরণ দ্বারা বুঝে গেল হযরত উসমান
(রা:) এর মাতার মাতুলকুল হল বনী হাশেম। সেই সুবাদে হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর একটি সুগভীর ও চিরস্হায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এছাড়া ও তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক ও আন্তরিকতার আরো হহু দিক রয়েছে, যা যথাস্হানে উল্লেখ করা হবে ইনশাল্লাহ। যেমনটি কুরআন শরীফে এসেছে -- --
নবী কারীম (সা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর জামাই -শশুর সম্পর্ক
হুযূর (সা:) এর দুই কন্যা হযরত রুকাইয়া ও উম্মে
কুলসুম (রা:) ( যাদের মাতা হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা:) কে পর্যায়ক্রমে হযরত উসমান (রা:)
এর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। এ কারণে ইসলামের ইতিহাসে তাঁকে 'যুন্নুরাইন' (দুই নুরের অধিকারী)
বলে স্মরণ করা হয়। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ:)
এ লিখেছেন, সমগ্র মানব জাতির মধ্যে হযরত উসমান (রা:) ছাড়া আর কেউই নবীর দু'কন্যাকে বিয়ে করার সৌভাগ্য লাভ করে নি। ইবন হাজার মক্কী (রহ:) ও তার এ এই তথ্য উল্লেখ করেছেন।
মহানবী (সা:) তথা নবী হাশাম এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর বরকতময় আত্মীয়তার বিষয়ে কোন দলিল -প্রমাণ বা উদ্ধৃতির প্রয়োজন হয় না। শীয়া -সুন্নী নির্বিশেষে সকলের কাছেই এটি সুস্পষ্ট। তারপরও বিষয়টি আরও গভীর ও পরিস্কারভাবে বুঝার জন্য কিছুটা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল।
আবু আব্দুল্লাহ উসমান যুন্নুরাইন, পিতা আফফান -পিতা, আবদুল আস -পিতা উমাইয়া -পিতা আবদে শামস -পিতা আবদে মানাফ। তাঁর মাতার নাম আরওয়া বিনত কুরাইয এবং নানীর নাম উম্মে হাকীম বিনত আবদুল মুক্তালিব বিন হাশেম বিন আবদে মানাফ।
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও বংশধারা বিশারদগণ এভাবেই হযরত উসমান (রা:) এর বংশলতিকা উল্লেখ করেছেন। যেমন --
সারকথা হল, হযরত উসমান (রা:) এর মাতা আরওয়া বিনতে কুরাইয এর মাতার নাম উম্মে হাকীম, যিনি হুযূর (সা:) এর ফুফু ছিলেন।
আফফান ইবন আবুল আস আরওয়াকে বিয়ে করেন। তার সংসারে দু'টি সন্তান জন্মলাভ করে,
একজন হযরত উসমান অন্যজন হযরত আমেনা
(রা:)। আরওয়া ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর (অন্য ঘরের) কন্যা উম্মে কুলসূম এরপরে মদীনায় হিজরত করেন এবং রাসূল (সা:) এর নিকট বাইয়াত হন। এরপর থেকে মদীনায় বসবাস করেন এবং হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে ইন্তিকাল করেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, হযরত উসমান (রা:) এর নানী উম্মে হাকীম যিনি নবী করিম (সা:) এর ফুফু ছিলেন, ইনি হুজুর (সা:) এর পিতা আব্দুল্লাহ এর যমজ সহোদর বোন ছিলেন।
এটিই ঐতিহাসিক বাস্তবতা যা শীয়া -সুন্নী নির্বেশেষে সকল আলিম সমর্থন করেন। শীয়া কিতাব এর ব্যাখ্যায় ইবন আবীল হাদীদ (একজন শীয়া ও মু'তাযিলা মতাবলম্বী লেখক) একাধিক স্হানে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত উসমান (রা:) হযরত আলী (রা:) কে (মামাতো ভাই) বলে ডাকতেন। হিজরী চতুর্দশ শতকের শীয়া মুজতাহিদ ও বরেণ্য আলিম শায়েখ আব্বাস কুমী ও নামক কিতাবে (১ম খন্ডে) এ আত্মীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। মোটকথা, হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর এই আত্মীয়তার সম্পর্ককে শীআ -সুন্নী নির্বিশেষে সকল আলিম স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই আত্মীয়তার ভিত্তিতে হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর বহুমূখী সম্পর্ক স্হাপিত হয়েছে। যেমন --
১। উম্মে হাকীম আল বাইযা, (যিনি হুযুর (সা:) এর সহোদরা ছিলেন অর্থাৎ নবী করিম (সা:) এবং হযরত আলী (রা:) এর ফুফু ছিলেন) হযরত উসমান (রা:) এর আপন নানী ছিলেন।
২। অর্থাৎ হযরত উসমান (রা:) উম্মে হাকীম (রা:) এর দৌহিত্র (নাতি) এবং রাসূল (সা:) এর ফুফু হযরত সাফিয়্যাহ (রা:) এর ভাগ্নীর ছেলে ছিলেন। হযরত সাফিয়্যাহ (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের আপন খালা ছিলেন।
৩। হযরত আলী (রা:) এর পিতা আবু তালেব হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের মামা ছিলেন।
৪। হযরত আলী (রা:) হযরত উসমান (রা:) এন
মায়ের মামাতো ভাই ছিলেন। তদ্রুপ হযরত জাফর (রা:) ও হযরত আকীল (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের সামাতো ভাই ছিলেন।
৫। হযরত আলী,জাফর ও আকীল (রা:) এর ফুফাতো বোনের ছেলে হযরত উসমান (রা:)।
৬। হযরত হামযা ও আব্বাস (রা:) এর ভাগ্নীর ছেলে হযরত উসমান (রা:)।
৭। আবু তালেবের মতো হযরত হামযা ও আব্বাস (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর মায়ের মামা ছিলেন।
উপরিউক্ত বিবরণ দ্বারা বুঝে গেল হযরত উসমান
(রা:) এর মাতার মাতুলকুল হল বনী হাশেম। সেই সুবাদে হযরত আলী (রা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর একটি সুগভীর ও চিরস্হায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এছাড়া ও তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক ও আন্তরিকতার আরো হহু দিক রয়েছে, যা যথাস্হানে উল্লেখ করা হবে ইনশাল্লাহ। যেমনটি কুরআন শরীফে এসেছে -- --
নবী কারীম (সা:) এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর জামাই -শশুর সম্পর্ক
হুযূর (সা:) এর দুই কন্যা হযরত রুকাইয়া ও উম্মে
কুলসুম (রা:) ( যাদের মাতা হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা:) কে পর্যায়ক্রমে হযরত উসমান (রা:)
এর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। এ কারণে ইসলামের ইতিহাসে তাঁকে 'যুন্নুরাইন' (দুই নুরের অধিকারী)
বলে স্মরণ করা হয়। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ:)
এ লিখেছেন, সমগ্র মানব জাতির মধ্যে হযরত উসমান (রা:) ছাড়া আর কেউই নবীর দু'কন্যাকে বিয়ে করার সৌভাগ্য লাভ করে নি। ইবন হাজার মক্কী (রহ:) ও তার এ এই তথ্য উল্লেখ করেছেন।
মহানবী (সা:) তথা নবী হাশাম এর সাথে হযরত উসমান (রা:) এর বরকতময় আত্মীয়তার বিষয়ে কোন দলিল -প্রমাণ বা উদ্ধৃতির প্রয়োজন হয় না। শীয়া -সুন্নী নির্বিশেষে সকলের কাছেই এটি সুস্পষ্ট। তারপরও বিষয়টি আরও গভীর ও পরিস্কারভাবে বুঝার জন্য কিছুটা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল।
Monday, 1 July 2019
আবূ বকর ও ওমরই সেরা: পুত্রের প্রশ্নের জবাবে আলী (রা:)
হাসান -হুসাইন (রা:) এর পরে হযরত আলী (রা:)
সন্তানদের সেরা হলেন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ। বুযুর্গী , তাকওয়া ও জ্ঞানেগুণে অনন্য। বিশিষ্ট শীয়া ভাষ্যকার জামালুদ্দীন ইবনে
আম্বাহ তাঁর 'ওমদাতুত তালেব' এ স্বীকৃতি দিচ্ছেন
এই বলে --
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ জ্ঞানে, দুনিয়াবিমুখতায়, ইবাদত ও বীরত্ব যুগশ্রেষ্ঠ ছিলেন। হাসান -হুসাইন (রা:) এর পর তিনি আলী -সন্তানদের মাঝে সেরা।। সেই মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রা:) একবার হযরত আলী (রা:) কে
প্রশ্নচ্ছলে বললেন --
"ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেন, আমি একবার আমার বাবা হযরত আলী (রা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবীজীর পরে এই উম্মতের মাঝে সেরা কে? তিনি বললেন, আবূ বকর (রা:)। এর পর কে? তিনি বললেন, ওমর (রা:)। বললাম, এর পর বুঝি আপনি? তিনি বললেন না না, আমি নগণ্য এক মুসলিম মাত্র।।
সন্তানদের সেরা হলেন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ। বুযুর্গী , তাকওয়া ও জ্ঞানেগুণে অনন্য। বিশিষ্ট শীয়া ভাষ্যকার জামালুদ্দীন ইবনে
আম্বাহ তাঁর 'ওমদাতুত তালেব' এ স্বীকৃতি দিচ্ছেন
এই বলে --
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ জ্ঞানে, দুনিয়াবিমুখতায়, ইবাদত ও বীরত্ব যুগশ্রেষ্ঠ ছিলেন। হাসান -হুসাইন (রা:) এর পর তিনি আলী -সন্তানদের মাঝে সেরা।। সেই মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রা:) একবার হযরত আলী (রা:) কে
প্রশ্নচ্ছলে বললেন --
"ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেন, আমি একবার আমার বাবা হযরত আলী (রা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবীজীর পরে এই উম্মতের মাঝে সেরা কে? তিনি বললেন, আবূ বকর (রা:)। এর পর কে? তিনি বললেন, ওমর (রা:)। বললাম, এর পর বুঝি আপনি? তিনি বললেন না না, আমি নগণ্য এক মুসলিম মাত্র।।
ফারূকী খেলাফতে আব্বাস (রা:) অর্থনৈতিক সুবিধাদি
ফারূকী খেলাফতের শেষের দিকে বিপুল বিজয়ের
দরুণ প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জিত হয়। এই সম্পদ বন্টনের জন্য ইজতেমা হয়। সিদ্ধান্ত হয় যারা ইসলাম গ্রহণে অগ্রজ ও সর্বপ্রাচীন তাদেরকে আগে ভাগে রাখতে হবে। এছাড়া হযরত ওমর (রা:) ফরমান জারী করেন, নবীজীর নিকটাত্মীয়দের বেতন -ভাতা সর্বগ্রে আদায় করতে হবে। নিয়মিত বেতনভোগীদের তালিকা করে বায়তুল মালে জমা করবে। সময়ে সুযোগে দফায় দফায় এদের সুবিধাদি পরিশোধ করতে হবে। গুষ্ঠি -জ্ঞাতির যারা বংশ বংশ বিশেষজ্ঞ তাদের মাধ্যমে নামধাম রেজিস্টারে তুলবে।
"হযরত ওমর ফারূক (রা:) ওয়ালিদ ইবনে হিশামের উক্ত প্রস্তাবনা পছন্দ করলেন। কুরাইশ বংশবিশেষজ্ঞ আকীল ইবনে আবু তালেব, মাখরাম ইবনে নওফেল, জুবাইর ইবনে মুতঈমকে ডেকে বলেন, কুরাইশ বংশের বিস্তারিত নাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ কর। (কেউ মাঝখানে, খলীফায়ে ইসলাম উমর (রা:) এর বংশের নাম আগে লিপিবদ্ধ করা হোক বলে ওঠলে) ফারূকে আযম (রা:) বললেন, না। নবী বংশের নাম সবার আগেভোগে এবং তাঁর নিকটাত্মীয়দের নাম লেখতে হবে। উমর (রা:) কে সেখানেই রাখো যেখানে আল্লাহ তাকে রেখেছেন। ( অর্থাৎ তার নাম পরে) শীয়াদের কিতাবেও বিষয়টির স্বীকৃতি
বিদ্যমান।।
দরুণ প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জিত হয়। এই সম্পদ বন্টনের জন্য ইজতেমা হয়। সিদ্ধান্ত হয় যারা ইসলাম গ্রহণে অগ্রজ ও সর্বপ্রাচীন তাদেরকে আগে ভাগে রাখতে হবে। এছাড়া হযরত ওমর (রা:) ফরমান জারী করেন, নবীজীর নিকটাত্মীয়দের বেতন -ভাতা সর্বগ্রে আদায় করতে হবে। নিয়মিত বেতনভোগীদের তালিকা করে বায়তুল মালে জমা করবে। সময়ে সুযোগে দফায় দফায় এদের সুবিধাদি পরিশোধ করতে হবে। গুষ্ঠি -জ্ঞাতির যারা বংশ বংশ বিশেষজ্ঞ তাদের মাধ্যমে নামধাম রেজিস্টারে তুলবে।
"হযরত ওমর ফারূক (রা:) ওয়ালিদ ইবনে হিশামের উক্ত প্রস্তাবনা পছন্দ করলেন। কুরাইশ বংশবিশেষজ্ঞ আকীল ইবনে আবু তালেব, মাখরাম ইবনে নওফেল, জুবাইর ইবনে মুতঈমকে ডেকে বলেন, কুরাইশ বংশের বিস্তারিত নাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ কর। (কেউ মাঝখানে, খলীফায়ে ইসলাম উমর (রা:) এর বংশের নাম আগে লিপিবদ্ধ করা হোক বলে ওঠলে) ফারূকে আযম (রা:) বললেন, না। নবী বংশের নাম সবার আগেভোগে এবং তাঁর নিকটাত্মীয়দের নাম লেখতে হবে। উমর (রা:) কে সেখানেই রাখো যেখানে আল্লাহ তাকে রেখেছেন। ( অর্থাৎ তার নাম পরে) শীয়াদের কিতাবেও বিষয়টির স্বীকৃতি
বিদ্যমান।।
হযরত ওসমান ও ওমর (রা:) এর দৃষ্টিতে হযরত আব্বাস (রা:)
মহান ব্যক্তিবর্গকে শ্রদ্ধা -সম্মান ইসলামে আবশ্যক। হযরত আব্বাস (রা:) খলীফাদদের চেয়েও অধিক বয়স্ক হবার দরুন সর্বোপরি নবীজীর আপন চাচা হিসেবে তাঁর মর্যাদা আকাশ ছোঁয়া বৈকি। এজন্যই ফারূকে আযম (রা:) ও ওসমান গণী (রা:) তাদের স্ব -স্ব খেলাফত কালে তাঁর প্রতি নেহায়েত ভক্তি -শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। ইবনে আব্দুল বার (রহ:) এর ভাষ্য --
"ফারূকে আযম ও ওসমান গণী (রা:) এর নিয়ম
ছিল, তারা বাহনে চাপা অবস্হায় আব্বাস (রা:) এর সামনে পড়লে তাঁর সম্মানে তাঁরা নেমে পড়তেন। বলতেন, আমাদের নবীজীর মুহতারাম চাচা আসছেন।
কানযুল উম্মালের এক বর্ণনায় রয়েছে, হযরত আবূ বকর ওমর (রা:) এর সামনে আব্বাস (রা:) পড়লে তারা বাহন থেকে নেমে পড়তেন। তিনি যেখানে যেতে বেরোতেন সেই স্হান পর্যন্ত না পৌঁছা পর্যন্ত তাঁরা তাঁকে সঙ্গ দিতেন।
"ফারূকে আযম ও ওসমান গণী (রা:) এর নিয়ম
ছিল, তারা বাহনে চাপা অবস্হায় আব্বাস (রা:) এর সামনে পড়লে তাঁর সম্মানে তাঁরা নেমে পড়তেন। বলতেন, আমাদের নবীজীর মুহতারাম চাচা আসছেন।
কানযুল উম্মালের এক বর্ণনায় রয়েছে, হযরত আবূ বকর ওমর (রা:) এর সামনে আব্বাস (রা:) পড়লে তারা বাহন থেকে নেমে পড়তেন। তিনি যেখানে যেতে বেরোতেন সেই স্হান পর্যন্ত না পৌঁছা পর্যন্ত তাঁরা তাঁকে সঙ্গ দিতেন।
চাচাজীর মর্যাদা: দৃষ্টিকোন ফারূকে আযমের
ইবনে জরীর ত্ববারী ১৫ হিজরীতে বায়তুল মোকাদ্দাস বিজয়ক্ষণে হযরত আব্বাস (রা:) ও হযরত ওমর (রা:) এ সিরিয়া সফর নিয়ে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। ঘটনাটি এমন --
"সিরিয়াবাসীরা ফিলিস্তিনীদের মোকাবেলায় আমীরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে
(কেন্দ্রেীয়ভাবে) কমান্ডো চাইলে স্বয়ং খলীফা তাদের মদদে এগিয়ে যেতে চাইলেন। এ সময় তিনি হযরত আলী (রা:) কে মদীনায় তাঁর স্হলাভিষিক্ত নিয়োগ করলেন। এ সময় হযরত আলী (রা:) খলীফার একান্তই মঙ্গলাকাংখী হয়ে বিনয়ভরে বললেন,কোথায় যেতে চাচ্ছেন আপনি? কুকুরের মত হিংস্র জাতির কাছে যাচ্ছেন আপনি? হযরত ওমর (রা:) অদ্ভুৎ এক দর্শন ফিট করে বললেন, হযরত আব্বাস (রা:) এর জীবদ্দশায় আমি আমার জেহাদী সফর জারী রাখতে চাচ্ছি। কেননা তাঁকে হারালে দেখবে সুতা ছেড়া (পুঁতির দানার ন্যায়) অনিষ্টতা তোমাদের পেয়ে বসবে।।
হযরত আব্বাস (রা:) (ওই সফরে) খলীফার সামনে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার থাকতেন। তিনি খুবই সুশ্রী ও কান্তিমান ছিলেন। রোম ও খ্রীস্ট জেনারেল -যাজকেরা তাকে সালাম করতে এলে তিনি বলতেন, আমি নই উনি খলীফাতুল মুসলিমীন ওমর (রা:)।
কানযুল উম্মালে আছে যে, খলীফা ওসমান গণী (রা:) এর যুগে ৩২ হিজরীতে হযরত আব্বাস (রা:) ইন্তেকাল করেন। খোদার কসম! এই সময় থেকেই মুসলিম জাতির ওপরে নানাবিধ ফেৎনা ছড়িয়ে পড়ে।
"সিরিয়াবাসীরা ফিলিস্তিনীদের মোকাবেলায় আমীরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে
(কেন্দ্রেীয়ভাবে) কমান্ডো চাইলে স্বয়ং খলীফা তাদের মদদে এগিয়ে যেতে চাইলেন। এ সময় তিনি হযরত আলী (রা:) কে মদীনায় তাঁর স্হলাভিষিক্ত নিয়োগ করলেন। এ সময় হযরত আলী (রা:) খলীফার একান্তই মঙ্গলাকাংখী হয়ে বিনয়ভরে বললেন,কোথায় যেতে চাচ্ছেন আপনি? কুকুরের মত হিংস্র জাতির কাছে যাচ্ছেন আপনি? হযরত ওমর (রা:) অদ্ভুৎ এক দর্শন ফিট করে বললেন, হযরত আব্বাস (রা:) এর জীবদ্দশায় আমি আমার জেহাদী সফর জারী রাখতে চাচ্ছি। কেননা তাঁকে হারালে দেখবে সুতা ছেড়া (পুঁতির দানার ন্যায়) অনিষ্টতা তোমাদের পেয়ে বসবে।।
হযরত আব্বাস (রা:) (ওই সফরে) খলীফার সামনে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার থাকতেন। তিনি খুবই সুশ্রী ও কান্তিমান ছিলেন। রোম ও খ্রীস্ট জেনারেল -যাজকেরা তাকে সালাম করতে এলে তিনি বলতেন, আমি নই উনি খলীফাতুল মুসলিমীন ওমর (রা:)।
কানযুল উম্মালে আছে যে, খলীফা ওসমান গণী (রা:) এর যুগে ৩২ হিজরীতে হযরত আব্বাস (রা:) ইন্তেকাল করেন। খোদার কসম! এই সময় থেকেই মুসলিম জাতির ওপরে নানাবিধ ফেৎনা ছড়িয়ে পড়ে।
Subscribe to:
Posts (Atom)