বিষয় -১৭ : কোন ধরনের কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় শরী'আহসম্মত?
সিদ্ধান্ত : শেয়ার একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য হওয়ায় অন্যান্য হালাল পণ্যের মতো তা ক্রয় -বিক্রয় করা
নিম্নেবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে বৈধ:
ক. যেসব প্রতিষ্ঠান হালাল পণ্য ও সেবা উৎপাদন বা ক্রয় -বিক্রয়ের সাথে জড়িত এবং নীতিগতভাবে সুদি কারবার বা সুদের লেনদেন করে না, এমন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করা জায়েয। তবে কোনো কোম্পানি সুদের সাথে জড়িত হয়ে পড়লে এবং কোনো কারণে আয়ের সাথে সুদের সংমিশ্রণ ঘটলে তা যদি আলাদা করার ব্যবস্তা থাকে তাহলে এ জাতীয় কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করা যেতে পারে।
খ. যেসব কোম্পানির মোট মূলধনের কিয়দংশ সম্পদ অতরল ( non -liquid) থাকে, শরী'আহ
অনুযায়ী সেসব কোম্পানির শেয়ার ফেস ভ্যালুর চেয়ে কম বা বেশি মূল্যে ক্রয় -বিক্রয় করা যাবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১৮ : শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করে?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকের জন্য শেয়ার ব্যবসায়ে
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতির চেয়ে মুশারাকা পদ্ধতিই বেশি উপযুক্ত। শেয়ারবাজারে প্রচলিত বর্তমান নীতির অধীনে ব্যাংক কর্তৃক শেয়ারের মালিকানা ও ক্ববদ অর্জন এবং গ্রাহকের কাছে তা হস্তান্তর করা জটিল হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বাই'মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলন করা দুরূহ। তাই শেয়ার ব্যবসায়ে বাই'মুরাবাহার পরিবর্তে মুদারাবা বা মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দেয়াই শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকের বিনিয়োগ হিসাবে মঞ্জুরিকৃত
বিনিয়োগের অর্থ স্হানান্তর করবে। অতঃপর গ্রাহক উক্ত অর্থ দিয়ে নির্ধারিত কোডে শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করবে। ব্যাংক দৈনিক/সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/
মাসিক ভিত্তিতে গ্রাহকের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়সংক্রান্ত বিবরণী যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হবে ও লাভ -লোকসান নির্ণয়ের মাধ্যমে হিসাবটি চুড়ান্ত করতে পারে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
বিষয় -১৯ : বর্তমানে ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে
শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে ব্রোকারের ভূমিকা পালন করা ইসলামী ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি সুদি কারবারে জড়িত এবং যেসব কোম্পানি হারাম পণ্য উৎপাদন করে কিংবা হারাম পণ্য বা সেবার ব্যবসা করে সেসব প্রতিষ্ঠন বা কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে সহায়তা করা বৈধ নয়।
যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠন শরী'আহর নীতিমালা অনুসরণ করে চলে এবং যেসব কোম্পানি মূলত
হালাল পণ্য উৎপাদন করে অথবা হালাল পণ্য বা
সেবার ব্যবসা করে তাদের শেয়ার ক্রয় -বিক্রয়ে সহায়তা বা ব্রোকারেজ সার্ভিস দেয়া যেতে পারে।
( সূত্র : ১১ মে ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
যেসব কোম্পানি মৌলিকভাবে হালাল পণ্য ও সেবার ব্যবসায়ে জড়িত কিন্তু সুদি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্টনের সাথে লেনদেন করে এবং তা
থেকে সুদ অর্জন করে, কিছু শর্তসাপেক্ষে সেসব কোম্পানির শেয়ার ক্রয় -বিক্রয় করা যেতে পারে।
শর্তগুলো নিম্নরুপ :
ক। কোম্পানির আয়ের সাথে সুদের সংমিশ্রণ ঘটলে তা যদি আলাদা করার ব্যবস্হা থাকে তাহলে এ জাতীয় কোম্পানির শোয়ার কেনাবেচা
করা যেতে পারে ।।
খ । কোম্পানির এজিএম ( AGM) বা অন্য কোনো আইনানুগ পন্হায় সুদি লেনদেনের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান করতে হবে।
( সূত্র : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )
গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -২০ : বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ইসলামী ব্যাংক কিভাবে বিনিয়োগ প্রদান করতে পারে?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহার বা বিল পাওয়ার আগে বিনিয়োগ গ্রাহকের সাথে একটি আলাদা এয়াকালাহ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে
গ্রাহক কর্তৃক গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্ববদ করা হলে ব্যাংকের ক্ববদের প্রয়োজন নেই। শুধু গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল থাকলেই চলবে। তবে, যেহেতু ব্যাংক সরাসরি গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারে না সেহেতু বিনিয়োগ গ্রাহক উক্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ব্যাংককে ক্ষমতাপত্র
( letter of authority) প্রদান করবে।
( সূত্র : ৯ জুন ২০০২ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড,ই -ফিল,আই -টপ -আপ প্রভৃতি ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -২১ : মোবাইল ফোন কোম্পানির ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড,ই -ফিল,আই -টপ - আপ প্রভৃতিতে বিনিয়োগের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী? সিদ্ধান্ত : মোবাইল ফোন কোম্পানির ফ্ল্যাক্রি -লোড,ইজি -লোড, ই -ফিল,আই -টপ -আপ প্রভৃতিতে বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত পন্হা রয়েছে। এসব টকটাইম
রিচার্জ করার আধুনিক পদ্ধতিকে পণ্য হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে মুশারাকা ও মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে আবার বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতেও বিনিয়োগ দেয়া যেতে পারে। তবে উক্ত ব্যবসায়ে তেমন কোনো ঝুঁকি না থাকায় এবং পুরোপুরি স্বচ্ছতা বিদ্যমান থাকায় মুশারাকা কংবা কমিশনভিত্তিক ওয়াকালাহ পদ্ধতির অনুশীলন করাই শ্রেয়।
(সূত্র: ১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী । )
বিষয় -২২ : সিমকার্ড,প্রিপেইড কর্ড,হ্যান্ডসেট, বেজস্টেশন নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কিং ইন্সট্রুমেন্ট প্রভৃতিতে বিনিয়োগ করা
শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সিমকার্ড, প্রিপেইড কার্ড,হ্যান্ড সেট , বেজস্টেশন নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কিং ইন্সট্রুমেন্ট প্রভৃতি পণ্যসামগ্রী আমদানি বা ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ ।
(সূত্র: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৬৫ তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী) ।
No comments:
Post a Comment