Friday, 12 July 2019

হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হাশেমীয়গণের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন ও তাদের জানাযায় ইমামতি

 উপরোক্ত শিরোনামের অধীনে আমরা কতিপয়
বিষয় আলোচনা করেছি, এতে হযরত উসমান (রা:) ও হাশেমীগণের মাঝে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও
আচার -অভ্যাসের বিশদ বিবরণ রয়েছে --
    হযরত আব্বাস বিন আবদুল মুক্তালিব (রা:) এর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন  --
হযরত আব্বাস (রা:) একাধারে রাসূলুল্লাহ (সা:) ও
হযরত আলী (রা:) উভয়েরই চাচা। তিনি বনী হাশেম গোত্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। নবী করীম (সা:) তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁর মর্যাদা সংরক্ষনে যত্নবান ছিলেন।
        # প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি
রাসূলুল্লাহ (সা:) আব্বাস বিন আবদুল মুক্তালিবকে শ্রদ্ধা ও সমীহ করতেন এবং তাঁকে
পিতার মতো সম্মান করতেন। বলতেন,  তিনি আমার বাপ -দাদার শেষ স্মৃতিচিহ্ন।
  রাসূলুল্লাহ (সা:) এর দেখাদেখি সাহাবাগণও আব্বাস (রা:) কে যথাবিহিত সম্মান করতেন।

হযরত উমর (রা:) ও উসমান (রা:) এর সম্পর্কে
বর্ণিত আছে --
 হযরত উমর (রা:) ও হযরত উসমান (রা:) বাহনারুঢ় হয়ে হযরত আব্বাস (রা:) এর পাশ দিয়ে পথ অতিক্রমকালে তাঁকে সম্মান দেখিয়ে
নেমে যেতেন এবং পদব্রজে চলতেন।
 হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে এক ব্যক্তি হযরত আব্বাস (রা:) কে গালমন্দ করলে
হযরত উসমান (রা:) তাকে শাস্তি প্রদান করেন।
নিম্নে মূল বিবরণ উদ্ধৃত হল --
 কাসিম বিন মুহাম্মাদ বলেন, হযরত উসমান (রা:)
একটি অভিনব কাজ করেন। (সবার কাছে সেটি
বেশ পছন্দনীয়ও হয়েছিল।)  হযরত আব্বাস (রা:) এর সঙ্গে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি হয়। এতে সে হযরত আব্বাস (রা:) এর প্রতি অপমানসূচক
মন্তব্য করে। এ কারণে হযরত উসমান (রা:) তাকে প্রহার করেন। লোকেরা হযরত উসমান (রা:) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,  রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর চাচাকে সম্মান করতেন।
আমি কি তাকে অবমাননার সুযোগ করে দেব! যে
ব্যক্তি এ কাজে সন্তুষ্ট থাকে প্রকৃত অর্থে রাসূলের বিরোধিতা করে।।
#  হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হযরত আব্বাস (রা:)  এর জানাযা নামাজে ইমামতি
  "হযরত আব্বাস (রা:) ৩২ হিজরী মোতাবেক
১২ রজব ( মতান্তরে রমজান)  শুক্রবার দিবাগত
রাতে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। এটি উসমান (রা:)
এর ইন্তেকালের দুই বছরকার পূর্বের কথা।
উসমান (রা:) তার জানাযা নামাজ পড়ান। তাকে
জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার
বয়স হয়েছিল আটাশি বছর।
    # আবান বিন উসমান (রা:) কর্তৃক মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযার নামাজে ইমামতি
 মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর মা খাওলা বিনতে
জাফর বিন কায়েস ছিলেন বনী হানীফা গোত্রের এক রমণী। ইয়ামামা যুদ্ধে বন্দী হয়ে তিনি মদীনায় নীত হন। হযরত আবু বকর (রা:) এর আদেশে তাঁকে হযরত আলী (রা:) এর হাতে অর্পণ করা হয়। মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহ ৮১ হিজরীর মুহাররম মাসের প্রথম ভাগে ইন্তেকাল করেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর। তখন মদীনার গভর্ণর ছিলেন আবান বিন উসমান বিন আফফান (রা:)।  মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযা প্রস্তুত হলে তিনি সেখানে উপস্তিত হলেন। মুহাম্মাদ বিন
হানাফিয়্যাহর পুত্র আবু হাশেম আবদুল্লাও সেখানে ছিলেন। লোকেরা আবান বিন উসমানকে বলল -  "আমরা জানি, মুসলমানদের ইমাম ও প্রশাসক তাদের জানাযার নামাজে ইমামতি করার অধিক হকদার। এমনটি না হলে আমরা আপনাকে অগ্রাধিকার দিতাম না। পরে আবান বিন  উসমান
মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহর জানাযার নামায পড়ান।।
#  আবান বিন উসমান (রা:) কর্তৃক আবদুল্লাহ বিন জাফরের জানাযা নামাজে ইমামতি --
  হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবু তালেব
হযরত আলী (রা:)  এর আপন ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা ছিলেন।
তিনি বনি হাশেম গোত্রের একজন বিখ্যাত বুযুর্গ ব্যক্তি। অধিকাংশ জীবনীকারের মতে,  আশি হিজরীতে মদীনায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। খলীফা আবদুল মালিকের পক্ষে তৎকালীন মদীনার প্রশাসক আবান বিন উসমান (রা:) তাঁর জানাযার নামাজ পড়ান।
# হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে হাশেমীয়গণের যুদ্ধে অংশগ্রহণ
   হযরত উসমান (রা:) এর খেলাফতকালে অন্যান্য সাহাবার পাশাপাশি হাশেমীগণ বিভিন্ন যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তাদের মাঝে না ছিল গোত্রীয় বিদ্বেষ, না ছিল পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও
বিভেদ বরং প্রতিটি রণাঙ্গনে তারা পরস্পরের সহযোগী ছিলেন। এখানে আমরা এরূপ কতিপয়
অভিযানের কথা উল্লেখ করব, যাতে হযরত আলী  (রা:) এর পুত্রদ্বয়,
ভ্রাতুষ্পুত্র ও অন্যান্য চাচাতো ভাইয়েরা অংশগ্রহণ করেন। এতে তাদের ( হাশেমীগণের) পারস্পরিক সদ্ভাব ও শুভাকাঙ্ক্ষীতা প্রমাণিত হবে।

No comments:

Post a Comment