Saturday, 6 July 2019

হযরত আলী (রা:) কর্তৃক হযরত উসমান (রা:) এর কিরাত শ্রবণ

মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক - এর মধ্যে এই ঘটনাটি এসেছে --
 "হযরত ইবন সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার আমি হযরত আলী (রা:) এর সাথে ইয়াম্বু থেকে মদীনায় আসছিলাম। হযরত আলী (রা:)রোযাদার ছিলেন এবং তিনি বাহনের আরোহী ছিলেন। আর আমি পদাতিক হওয়ার কারণে রোযাদার ছিলাম না। অবশেষে রাতের বেলা যখন আমরা মদিনায় পৌঁছুলাম এবং হযরত উসমান (রা:) এর বাড়ির পাশ দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছিলাম, তখন শুনতে পেলাম যে, হযরত উসমান (রা:) কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করছেন। শব্দ পেয়ে হযরত আলী (রা:) দাঁড়িয়ে কানপেতে তেলাওয়াত শুনতে লাগলাম। অতঃপর তিনি বললেন, হযরত উসমান (রা:) অমুক সূরা (সূরায়ে নাহল) থেকে তেলাওয়াত করছেন। আবদুর রাযযাক (সংকলক) বলেন, আমি শুনেছি যে, মদীনা থেকে ইয়াম্মু এর দূরত্ব চারদিনের পথ।
টিকা: ইয়াম্বু'তে হযরত আলী (রা:) এর একটি চাষের জমি ছিল। যেটি হযরত উমর (রা:) তাঁকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তিনি সেটি দেখা শোনার জন্য মাঝে -মধ্যে ওখানে যাতায়াত করতের। এ বাষয়ে এই কিকাবের ২য় খন্ডে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
হযরত উসমান (রা:) কর্তৃক হযরত আলী (রা:) কে উটনী প্রদান
হাফেজ আবু নাঈম ইস্পাহানী (মৃ:৪৩০হি:) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আখাবারে ইস্পাহান এর মধ্যে এই ঘটনাটি সনদসহ উল্লেখ করেছেন --
  "হযরত আনাস (রা:) বলেন: একদা হযরত আলী (রা:) একটি উটনী নিয়ে নবীজী (সা:) এর কাছে  এলেন। হুযূর (সা:) বললেন, এটি কার উটনী? তিনি বললেন, হযরত উসমান (রা:) আমাকে আরোহনের জন্য হাদিয়া দিয়েছেন।  একথা শুনে হুযূর (সা:) (উপদেশ স্বরূপ) বললেন, শোন আলী, দুনিয়াদারী পরিহার কর। কারণ, দুনিয়ার সাথে যার সম্পর্ক বেশি হয়, তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আর ব্যস্ততা বেড়ে গেলে লোভ বেড়ে যায়। যখন লোভ বেড়ে যায়, তখন চিন্তা -ভাবনা বেড়ে যায় এবং মানুষ তার প্রভূকে ভুলে যায়। হে আলী! এখন বলতো, যে তার প্রভূকে ভুলে যায় -তার সম্পর্ক তোমার মন্তব্য?।

No comments:

Post a Comment