গ্রীক পুরাণশাস্ত্র মতে হেলেন (Helen,গ্রীক ভাষায় Helene) ছিলেন Zeus ও Leda -র কন্যা। Sparta 'র হেলেন এবং পরবর্তীকালে Helen of Troy হিসেবেও তিনি সমধিক পরিচিতি পেয়েছেন। অপরূপ সুন্দরী হিসেবে হেলেনর ছিল জগৎজোড়া খ্যাতি। অকেন রাজা, রাজপুত্র এই রূপলাবণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার পাণিপ্রার্থী হয়েছিলেন। অবশেষে হেলেন পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন Sparta 'র রাজা Menelaus এর সঙ্গে। একদা হেলেন ট্রয়ের রাজপুত্র paris কর্তৃত অপহৃত হন। ফলে Trojan যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।
জীবনের অনেক চড়াই -উৎরাই পেরিয়ে আসা হেলেন সম্পর্কে প্রখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার Christopher Marlowe -র মন্তব্য : the face
that launched a thousand ships. এখন জ্যামিতিতে হেলেনের আগমনী প্রসঙ্গ টানা যাক। চক্রিমা (cycloid) আকর্ষনীয় ও চমকপ্রদ জ্যামিতিক চিত্র। একটি সরলরেখায় চলমান কোন বৃত্তাকার চাকার পরিধিস্হ বিন্দুর দ্বারা সৃষ্ট বক্ররেখা হচ্ছে চক্রিমা যা
simple/common cycloid. চাকার বহিস্হ বিন্দুর সঞ্চারপপত্র curtate cy -cloid. আর অন্তস্হ বিন্দুর সঞ্চারপথ prolate cycloid রূপে আখ্যাত হয়ে থাকে। জ্যামিতি ও ক্যালকুলাসের এ এক অপরিহার্য পাঠ। চক্রিমার সমীকরণ x = a(t-sint) , y = a (l- cost)। রেখাটির নাম দেন গ্যালিলিও (১৫৯৯)। এর সমীকরণের রূপপ্রকৃতি
থেকে ক্যালকুলাসের বহু বিভিন্ন তথ্য আবিষ্কৃৃত হয়েছে। এ আবিষ্কারের ফরাসী গণিতবিদ ফার্মা
(Fermat) ও পাসক্যালের (Pascal) অবদান উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের Fort Worth -এর Kimbell Art Museum -এর নকশায় চক্রিমা সদৃশ arch ব্যবহার করেন স্হপতি Louis Khan. নিউ হ্যাম্পশায়ারের হানোভারে অবস্হিত Hopkins Center - এও এ ধরনের নকশা শুভা পাচ্ছে। চক্রিমার অনুপম নির্মাণশৈলী একে তুলনীয় করেছে ইতিহাসখ্যাত অনিন্দ্যসুন্দরী রমণী 'হেলেন' -এর সাথে। বলা হয়েছে 'জ্যামিতিররহেলেন।
দি নিউ এনসাইক্লোপিডিয়া বৃটানিকা পঞ্চদশ খণ্ডে (১৯৮৮) চক্রিমা সম্পর্কে বর্ণিত বিশেষ মন্তব্য : lts beautiful properties led many disputes over priority and it has been called the Helen of Geometry অন্যভাবে চক্রিমাকে বলা হয়েছে, The Helen of Geometers'as it provokes quarrels among 17th century mathematicians.
Creative Forum
Tuesday, 5 November 2019
Monday, 4 November 2019
চীনের মহাপ্রাচীর
ইংরেজিতে একে বলে দ্য গ্রেট ওয়াল অব চায়না। পাথর ও মাটি দিয়ে তৈরি দীর্ঘ প্রাচীর সারি। খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতক থেকে খ্রিষ্টীয় ১৬শ শতক পর্যন্ত চীনের উত্তর সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এটি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। অনেকগুলো প্রাচীরই তৈরি করা হয়েছিল, তবে চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াঙের অধীনে নির্মিত প্রাচীরটিই সবচেয়ে বিখ্যাত। এটি বর্তমান প্রাচীরের অনেক
উত্তরে অবস্হিত এবং এর খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে। বার্তমানে প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়। এর মূল অংশের নির্মাণ শুরু হয়েছিল প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ২০৮ সালের দিকে। তিনটি রাজবংশ : যেমন কিউইন , হান এবং মিং -এর সময় বিভিন্ন জীবিকার মানুষজন এই বিশাল
প্রাচীরটির নির্মাণে যুক্ত ছিল। এই স্হানটির সবচেয়ে সু -সংরক্ষণ ও সংস্করণ প্রাচীন মিং রাজবংশের সময়েই হয়েছিল।
১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্হান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ।
উত্তরে অবস্হিত এবং এর খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে। বার্তমানে প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়। এর মূল অংশের নির্মাণ শুরু হয়েছিল প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ২০৮ সালের দিকে। তিনটি রাজবংশ : যেমন কিউইন , হান এবং মিং -এর সময় বিভিন্ন জীবিকার মানুষজন এই বিশাল
প্রাচীরটির নির্মাণে যুক্ত ছিল। এই স্হানটির সবচেয়ে সু -সংরক্ষণ ও সংস্করণ প্রাচীন মিং রাজবংশের সময়েই হয়েছিল।
১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্হান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ।
Thursday, 31 October 2019
চুক্তিতে শর্তারোপ করা
বিষয় -১৩০ : বিনিয়োগ প্রদানের সময় ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তিতে বিভিন্ন ধারা সংযোজিত থাকে। এর মধ্যে একটি হলো, "In case of any dispute arises out of this agreement or the terms and conditions thereof the decision of the Bank Management shall be final and binding upon the parties.' অর্থাৎ, 'চুক্তির কোনো বিষয় বা শর্তের ব্যাপারে কোনো আপত্তি
উত্থাপিত হলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে -চুক্তিপত্রে এ ধরনেন ধারা উল্লেখ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : চুক্তিপত্রে উক্ত ধারার অন্তর্ভুক্তিতে শরী'আহর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে ধারাটি প্রয়োগকালে শরী'আহর কোনো মূলনীতি লঙ্গঘন করা যাবে না।
(সূত্র : ১৯ আগষ্ট ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পারিভাষিক শব্দ
ইবরা আরবি ইবরা শব্দটি বারিউন থেকে উদ্ভূত। অর্থ -দায়মুক্ত করা, অব্যাহতি, মাফকরণ, মুক্তকরণ ইত্যাদি। পাওনার সম্পপূর্ণ বা আংশিক মাফ করে দেয়াকে ইবরা বলা হয়।
ওয়াদ ব্যাংকের কাছ থেকে গ্রাহকের পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকারকে ওয়াদ বিশ -
বিশ -শিরা শিরা বা ক্রয়ের অঙ্গীকারনামা বলা হয়। এটি পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের চুক্তি নয়, বরং পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের অঙ্গীকার। অর্থাৎ, গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী ব্যাংক পণ্য ক্রয় করার পর গ্রাহক তা ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেয়ার অঙ্গীকার (ওয়াদা) করবে। কারণ পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও দখল অর্জিত হওয়ার আগে তা কারো কাছে বিক্রয় করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ওয়াদি'আহ ওয়াদি'আহ আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ করা, ছেড়ে দেয়া, আমানত রাখা, গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি। নিজের সম্পদ অপরের হিফাজতে অর্পণ করাকে আল -ওয়াদি'আহ বলে। এ পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তার অর্থ জমা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে তার জমাকৃত অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে তবে তার জমাকৃত অর্থের বিনিময়ে কোনো লাভ সে পায় না আবার প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকসানও তাকে বহন করতে হয় না।
কুরআন কুরআন আরবি শব্দ। এর অর্থ -পাঠ্য বা পঠন। কুরআন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা পঠিত ও পঠিতব্য গ্রন্থ বিধায় একে কুরআন বলা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা:) এর নবুওয়াতের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনকালে অবস্হা ও চাহিদার প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণের জন্য যে আল্লাহ প্রদত্ত বাণী অবতীর্ণ করা হয়েছে তার সামষ্টিক ও সম্কলিত রূপই হলো আল কুরআন। এ মহাগ্রন্হ যে ভাষায় ( language) পাঠ (text) ও পঠন পদ্ধতিতে (method of reciation) অবতীর্ণ হয়েছিল তার সবটুকুই যথাযথভাবে বিদ্যমান আছে।
ক্ববদ ক্রয়ের পর পণ্যের ওপর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে দখল অর্জন করাকে ক্ববদ বলা হয়। পণ্যের বিভিন্নতায় ক্ববদের ধরনও বিভিন্ন হতে পারে। ক্ববদ করার অর্থ হলো ব্যয় -ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং যেভাবে সেই ক্ষমতা অর্জিত হবে সেটাই ক্ববদ বলে গণ্য হবে।
ক্ববদে ক্ববদে হাসানা মূলত এমন একধরনের ঋণ যা কারো উপকারের
হাসানা জন্য বিনা শর্তে প্রদান করা হয়। এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করার অবকাশ থাকে ।
ক্বালবুদ ক্বালবুদ দাইন অর্থ দায়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা। এটা রিবার
দাইন অন্তর্ভূক্ত।
ক্বিয়াস ক্বিয়াস শব্দের অর্থ হলো অনুমান করা, সামঞ্জস্যপূর্ণ করা,সমন্বিত করা, যুক্ত করা ইত্যাদি। যে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে কিছু বলা হয়নি সে বিষয়কে কুরআন -সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো বিষয়ের হুকুমের সঙ্গে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো বিধান নির্গত করার নাম ক্বিয়াস। ক্বিয়াস ইসলামী আইনের একটি উৎস ।
সাহিবুল মুদারাবা কারবারে মূলধন সরবরাহকারীকে সাহিবুল মাল বলা হয়।
মাল
জামানত ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের নিরাপ্তার জন্য ঋণদাতার কাছে কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখা ।
ফতওয়া রায়, মত,সিদ্ধান্ত ইত্যাদি :ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃত প্রদত্ত মতামতকে ফতওয়া বলা হয়। যিনি এ ফতওয়া প্রদান করেন তাকে মুফতি বলা হয়। বিচারক অথবা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃত উপস্হাপিত প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞগণ কুরআন, সুন্নাহ,ইজমা, ক্বিয়াস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের আলোকে এ মতামত দিয়ে থাকেন।
বাই ' আরবি বাই' শব্দের অর্থ ক্রয় -বিক্রয়। বাই' বা ক্রয় -বিক্রয় হচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোনো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদের পরিবর্তন অথবা বিক্রয়যোগ্য কোনো সম্পদের বিনিময়ে কোনো বস্তুর মালিকানা হস্তান্তর করা।
বাই' -এর সংজ্ঞায় আল্লামা বুরহানুদ্দীন মুরগিনানী তার 'হিদায়া' নামক গ্রন্হে বলেছেন, 'ক্রয় -বিক্রয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে একটি
দ্রব্যের বিপরীতে অপর একটি দ্রব্যের বিনিময় করাকে বাই' বলা হয় '। এ ধরনের কেনাবেচাকে বাই ' মুতলাক বা সাধারণ ক্রয় -বিক্রয়ও বলা হয়। বাই' ইসতিসন : ক্রেতার নির্দেশ বা অর্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য প্রস্তুত করে ক্রয় -বিক্রয়কে বাই' ইসতিসনা বলা হয়। সাধারণত কোনো জিনিস তৈরি বা নির্মাণ করে দেয়ার জন্য অপর পক্ষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বা অর্ডার দানকে বাই'ইসতিসনা বলে।
বাই'মুরাবাহা : আভিধানিক অর্থে বাই'মুরাবাহা বলতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে লাভে বিক্রয়কে বুঝায়। পারিভাষিক অর্থে ক্রয়মূল্যের
ওপর নির্দিষ্ট লাভ যোগ করে কোনো পণ্য বিক্রয় করাকে বাই'মুরাবাহা বলা হয়।
বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট : বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি পরিভাষা। আমদানি পণ্যে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যাংক মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিটি অনুশীলন করে থাকে। বিনিয়োগ গ্রাহক বিদেশ থেকে যে ধরনের পণ্য আমদানি করতে চান তার বিবরণসহ ইসলামী ব্যাংকের কাছে তা আমদানি করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন। তার কাঙ্খিত পণ্য বিদেশ থেকে ক্রয় করে ব্যাংক তার কাছে মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিতে বিক্রয় করে।
বাই'মুয়াজ্জাল : বাই'মুয়াজ্জাল ইসলামী ব্যাংকের একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। মুয়াজ্জাল আরবি আজল থেকে উদ্ভূত। আজল শব্দের আভিধানিক অর্থ বিলম্ব, বাকি আর মুয়াজ্জাল শব্দের অর্ধ বিলম্বিত, বিলম্বে পরিশোধযোগ্য, বাকি, নগদের বিপরীত ইত্যাদি। পরিভাষায় বাই'মুয়াজ্জাল হলো এমন এক ধরনের ক্রয় -বিক্রয় যেখানে পণ্যটি নগদে হস্তান্তর এবং মূল্য বাকিতে অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে/মেয়াদে পরিশোধ করা হয়।
বাই'সালাম : আভিধানিক অর্থে বাই'সালাম হচ্ছে অগ্রিম ক্রয় -বিক্রয়। অগ্রিম মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ান্তে হস্তান্তরযোগ্য কোনো নির্ধারিত বস্তু ক্রয় -বিক্রয় করাকে বাই'সালাম বলে।
বাই'সরফ : সরফ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে রূপান্তর করা, স্হানান্তর করা, বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয়কে অথবা স্বর্ণ,রৌপ্য বা মুদ্রার পরস্পর বিনিময় করাকে বাই'সরফ বলা হয়। একই বৈঠকে দু'জন তাদের মালিকানাধীন জিনিসকে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর মাস করে বিধায় একে বাই'সরফ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মাসালিহ মুরসালা : কল্যাণকে ভিত্তি করে বিধান রচনা করার নাম মাসলাহা বা মাসালিহ মুরসালা। সার্বিক জনস্বার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ 'নস' বিদ্যমান না থাকা অবস্হায় গৃহীত সিদ্ধান্তকে এমন কোনো মৌলিক নীতির সঙ্গে সংল্শিষ্ট করে দেয়ার নাম মাসালিহ মুরসালা। যে সব বিষয়ে শরী'আহর সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান আছে সেই বিষয়টি মাসালিহ মুরসালার অন্তর্ভূক্ত হবে না । কোনো বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ করা, শরী'আহর উদ্দেশ্য পূরণ করা ও ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করাই মাসালিহ মুরসালার উদ্দেশ্য।
মু'আমালাহ : সাধারণভাবে মু'আমালাহ অর্থ লেনদেন। ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় কেবল আর্থিক লেনদেনকে মু'আমালাহ বলে।
মুশারাকা : মুশারাকা মূলত একটি অংশীদারি কারবার। ব্যাংক এবং গ্রাহক পুঁজি ও ব্যবস্হাপনা উভয় ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে যে ব্যবসা পরিচালনা করে তাকে মুশারাকা বলা হয়। মুশারাকাকে সরাসরি অর্থায়ন (direct financing) পদ্ধতিও বলা হয়। ব্যবসায়ে লাভ হলে চুক্তি মোতাবেক ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে তা বন্টন করে নেয় এবং লোকসান হলে তা মূলধন মোতাবেক
উভয়ে বহন করে থাকে।
মুশারাকা মুতানাকিসা : ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা পদ্ধতিকে মুশারাকা মুতানাকিসা বলা হয়।
মুরাবাহা লিল আমিরিবিশ শিরা : ক্রেতার অনুরোধে তার চাহিদা মোতাবেক বিক্রেতা কর্তৃত পণ্য ক্রয় করে মালিকানা ও দখল লাভের পর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সম্মত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক বিক্রয় করাকে
'মুরাবাহা লিল আমিরি বিশ -শিরা' বা ক্রেতার আদেশ ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মুরাবাহা ' বলা হয়। ইসলামী ব্যাংকসমূহ এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে বলে একে ব্যাংকিং মুরাবাহাও বলা হয়ে থাকে।
মুদারাবা মুদারাবা শব্দটি 'দারবুন' শব্দমূল হতে উদ্ভূত হয়েছে। আরবি ভাষায় শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহ্নত হয়ে থাকে। যেমন -প্রহার করা, অন্বেষণ করা, দৃষ্টান্ত দেয়া,পরিভ্রমণ করা ইত্যাদি।
ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা এমন ধরনের ব্যবসা যেখানে দুটি পক্ষ থাকে। মুনাফার উদ্দেশ্যে একপক্ষ মূলধন সরবরাহ করে আর অপরপক্ষ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে উক্ত মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। ব্যবসায়ে লাভ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বশর্ত অনুসারে বন্টিত হয়। আর লোকসান হলে মূলধন সরবরাহকারী (সাহিবুল মাল) কে তা বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে
মুদারিবের শ্রম ও সময় লোকসান হয়। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে মুদারিবের অবহেলা প্রমাণিত হলে কিংবা চুক্তির শর্ত লঙ্গনের কারণে লোকসান হলে তা মুদারিবকে বহন করতে হবে।
মুদারাবা মুতলাক্বাহ : শর্তহীনভাবে পরিচালিত সাধারণ মুদারাবাকে ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা মুতলাক্বাহ বলা হয়।
মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ : মুদারাবা কারবারে সাহিবুল মাল মুদারিবের ওপর কোনো শর্ত আরোপ করলে তাকে মুদারাবা মুক্বাইয়্যাদাহ বলা হয়।
মিলকিয়াত কোনো সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব। কোনো সম্পত্তি ব্যবহার, ভোগ ও স্হানান্তরের অধিকার।
যাকাত যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের
একটি। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রকরণ, প্রবৃদ্ধি, প্রশংসা ইত্যাদি। পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি
নির্দিষ্ট (নিসাব) পরিমাণ মালের মালিক হলে, তার নির্ধারিত অংশ (শতকরা ২.৫০ ভাগ) নির্ধারিত
খাতে (মাসারিফে যাকাত) ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
রিবা সুদের আরবি প্রতিশব্দ হলো রিবা। রিবা শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সংযোজন, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। তবে ইসলামে সব ধরনের বৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধিকে রিবা বলে গণ্য করা হয়নি। শরী'আহতে
সেই বৃদ্ধিকে রিবা বলা হয়েছে যা প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে শর্ত হিসেবে আদায় করা হয়।
শরী'আহ শরী'আহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পানি পান করার ঘাট, চলার পথ ইত্যাদি। শরী'আহ বলতে সে সব পথনির্দেশকে বুঝায়, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি জারি করেছেন। আল -কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করার পথনির্দেশকেই শরী'আহ বলা হয়।
সুন্নাহ রীতি, নিয়ম, পথ ইত্যাদি। পরিভাষায় রাসূল স. -এর যেসব কথা ও কাজকর্মের বিবরণ এবং কার্যকলাপের অনুমোদন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ বলা হয়। এটি ইসলামী আইনের উৎস।
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক :
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলককে আরবিতে ইজারা বিল বাই তাহতা শিরকাতিল মিলক বলা হয়। এ পদ্ধতি মুলত তিনটি বিনিয়োগ পদ্ধতির সমন্বিত রূপ। একটি হচ্ছে 'ইজারা' (ভাড়া) , আরেকটি 'বাই' (ক্রয় -বিক্রয়) এবং অন্যটি 'শিরকাতুল মিলক ' (মালিকানায় অংশীদারিত্ব) । এ পদ্ধতির আয়কে বলা হয় ভাড়া (rent) ।
এ পদ্ধতিতে পক্ষগুলো প্রথমে যৌথভাবে কোনো সম্পদের মালিকানা অর্জন করে। সংল্শিষ্ট সম্পদে প্রত্যেক পক্ষ তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের অনুপাতে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। একপক্ষ অপর পক্ষের কাছে তার অংশ ভাড়া দেয় এবং ক্রমান্নয়ে বিক্রয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে ।।।
উত্থাপিত হলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে -চুক্তিপত্রে এ ধরনেন ধারা উল্লেখ করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : চুক্তিপত্রে উক্ত ধারার অন্তর্ভুক্তিতে শরী'আহর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে ধারাটি প্রয়োগকালে শরী'আহর কোনো মূলনীতি লঙ্গঘন করা যাবে না।
(সূত্র : ১৯ আগষ্ট ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পারিভাষিক শব্দ
ইবরা আরবি ইবরা শব্দটি বারিউন থেকে উদ্ভূত। অর্থ -দায়মুক্ত করা, অব্যাহতি, মাফকরণ, মুক্তকরণ ইত্যাদি। পাওনার সম্পপূর্ণ বা আংশিক মাফ করে দেয়াকে ইবরা বলা হয়।
ওয়াদ ব্যাংকের কাছ থেকে গ্রাহকের পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকারকে ওয়াদ বিশ -
বিশ -শিরা শিরা বা ক্রয়ের অঙ্গীকারনামা বলা হয়। এটি পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের চুক্তি নয়, বরং পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের অঙ্গীকার। অর্থাৎ, গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী ব্যাংক পণ্য ক্রয় করার পর গ্রাহক তা ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেয়ার অঙ্গীকার (ওয়াদা) করবে। কারণ পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও দখল অর্জিত হওয়ার আগে তা কারো কাছে বিক্রয় করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ওয়াদি'আহ ওয়াদি'আহ আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ করা, ছেড়ে দেয়া, আমানত রাখা, গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি। নিজের সম্পদ অপরের হিফাজতে অর্পণ করাকে আল -ওয়াদি'আহ বলে। এ পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তার অর্থ জমা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে তার জমাকৃত অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে তবে তার জমাকৃত অর্থের বিনিময়ে কোনো লাভ সে পায় না আবার প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকসানও তাকে বহন করতে হয় না।
কুরআন কুরআন আরবি শব্দ। এর অর্থ -পাঠ্য বা পঠন। কুরআন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা পঠিত ও পঠিতব্য গ্রন্থ বিধায় একে কুরআন বলা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা:) এর নবুওয়াতের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনকালে অবস্হা ও চাহিদার প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণের জন্য যে আল্লাহ প্রদত্ত বাণী অবতীর্ণ করা হয়েছে তার সামষ্টিক ও সম্কলিত রূপই হলো আল কুরআন। এ মহাগ্রন্হ যে ভাষায় ( language) পাঠ (text) ও পঠন পদ্ধতিতে (method of reciation) অবতীর্ণ হয়েছিল তার সবটুকুই যথাযথভাবে বিদ্যমান আছে।
ক্ববদ ক্রয়ের পর পণ্যের ওপর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে দখল অর্জন করাকে ক্ববদ বলা হয়। পণ্যের বিভিন্নতায় ক্ববদের ধরনও বিভিন্ন হতে পারে। ক্ববদ করার অর্থ হলো ব্যয় -ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং যেভাবে সেই ক্ষমতা অর্জিত হবে সেটাই ক্ববদ বলে গণ্য হবে।
ক্ববদে ক্ববদে হাসানা মূলত এমন একধরনের ঋণ যা কারো উপকারের
হাসানা জন্য বিনা শর্তে প্রদান করা হয়। এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করার অবকাশ থাকে ।
ক্বালবুদ ক্বালবুদ দাইন অর্থ দায়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা। এটা রিবার
দাইন অন্তর্ভূক্ত।
ক্বিয়াস ক্বিয়াস শব্দের অর্থ হলো অনুমান করা, সামঞ্জস্যপূর্ণ করা,সমন্বিত করা, যুক্ত করা ইত্যাদি। যে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে কিছু বলা হয়নি সে বিষয়কে কুরআন -সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো বিষয়ের হুকুমের সঙ্গে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো বিধান নির্গত করার নাম ক্বিয়াস। ক্বিয়াস ইসলামী আইনের একটি উৎস ।
সাহিবুল মুদারাবা কারবারে মূলধন সরবরাহকারীকে সাহিবুল মাল বলা হয়।
মাল
জামানত ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের নিরাপ্তার জন্য ঋণদাতার কাছে কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখা ।
ফতওয়া রায়, মত,সিদ্ধান্ত ইত্যাদি :ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃত প্রদত্ত মতামতকে ফতওয়া বলা হয়। যিনি এ ফতওয়া প্রদান করেন তাকে মুফতি বলা হয়। বিচারক অথবা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃত উপস্হাপিত প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞগণ কুরআন, সুন্নাহ,ইজমা, ক্বিয়াস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের আলোকে এ মতামত দিয়ে থাকেন।
বাই ' আরবি বাই' শব্দের অর্থ ক্রয় -বিক্রয়। বাই' বা ক্রয় -বিক্রয় হচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোনো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদের পরিবর্তন অথবা বিক্রয়যোগ্য কোনো সম্পদের বিনিময়ে কোনো বস্তুর মালিকানা হস্তান্তর করা।
বাই' -এর সংজ্ঞায় আল্লামা বুরহানুদ্দীন মুরগিনানী তার 'হিদায়া' নামক গ্রন্হে বলেছেন, 'ক্রয় -বিক্রয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে একটি
দ্রব্যের বিপরীতে অপর একটি দ্রব্যের বিনিময় করাকে বাই' বলা হয় '। এ ধরনের কেনাবেচাকে বাই ' মুতলাক বা সাধারণ ক্রয় -বিক্রয়ও বলা হয়। বাই' ইসতিসন : ক্রেতার নির্দেশ বা অর্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য প্রস্তুত করে ক্রয় -বিক্রয়কে বাই' ইসতিসনা বলা হয়। সাধারণত কোনো জিনিস তৈরি বা নির্মাণ করে দেয়ার জন্য অপর পক্ষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বা অর্ডার দানকে বাই'ইসতিসনা বলে।
বাই'মুরাবাহা : আভিধানিক অর্থে বাই'মুরাবাহা বলতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে লাভে বিক্রয়কে বুঝায়। পারিভাষিক অর্থে ক্রয়মূল্যের
ওপর নির্দিষ্ট লাভ যোগ করে কোনো পণ্য বিক্রয় করাকে বাই'মুরাবাহা বলা হয়।
বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট : বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি পরিভাষা। আমদানি পণ্যে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যাংক মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিটি অনুশীলন করে থাকে। বিনিয়োগ গ্রাহক বিদেশ থেকে যে ধরনের পণ্য আমদানি করতে চান তার বিবরণসহ ইসলামী ব্যাংকের কাছে তা আমদানি করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন। তার কাঙ্খিত পণ্য বিদেশ থেকে ক্রয় করে ব্যাংক তার কাছে মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিতে বিক্রয় করে।
বাই'মুয়াজ্জাল : বাই'মুয়াজ্জাল ইসলামী ব্যাংকের একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। মুয়াজ্জাল আরবি আজল থেকে উদ্ভূত। আজল শব্দের আভিধানিক অর্থ বিলম্ব, বাকি আর মুয়াজ্জাল শব্দের অর্ধ বিলম্বিত, বিলম্বে পরিশোধযোগ্য, বাকি, নগদের বিপরীত ইত্যাদি। পরিভাষায় বাই'মুয়াজ্জাল হলো এমন এক ধরনের ক্রয় -বিক্রয় যেখানে পণ্যটি নগদে হস্তান্তর এবং মূল্য বাকিতে অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে/মেয়াদে পরিশোধ করা হয়।
বাই'সালাম : আভিধানিক অর্থে বাই'সালাম হচ্ছে অগ্রিম ক্রয় -বিক্রয়। অগ্রিম মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ান্তে হস্তান্তরযোগ্য কোনো নির্ধারিত বস্তু ক্রয় -বিক্রয় করাকে বাই'সালাম বলে।
বাই'সরফ : সরফ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে রূপান্তর করা, স্হানান্তর করা, বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয়কে অথবা স্বর্ণ,রৌপ্য বা মুদ্রার পরস্পর বিনিময় করাকে বাই'সরফ বলা হয়। একই বৈঠকে দু'জন তাদের মালিকানাধীন জিনিসকে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর মাস করে বিধায় একে বাই'সরফ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মাসালিহ মুরসালা : কল্যাণকে ভিত্তি করে বিধান রচনা করার নাম মাসলাহা বা মাসালিহ মুরসালা। সার্বিক জনস্বার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ 'নস' বিদ্যমান না থাকা অবস্হায় গৃহীত সিদ্ধান্তকে এমন কোনো মৌলিক নীতির সঙ্গে সংল্শিষ্ট করে দেয়ার নাম মাসালিহ মুরসালা। যে সব বিষয়ে শরী'আহর সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান আছে সেই বিষয়টি মাসালিহ মুরসালার অন্তর্ভূক্ত হবে না । কোনো বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ করা, শরী'আহর উদ্দেশ্য পূরণ করা ও ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করাই মাসালিহ মুরসালার উদ্দেশ্য।
মু'আমালাহ : সাধারণভাবে মু'আমালাহ অর্থ লেনদেন। ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় কেবল আর্থিক লেনদেনকে মু'আমালাহ বলে।
মুশারাকা : মুশারাকা মূলত একটি অংশীদারি কারবার। ব্যাংক এবং গ্রাহক পুঁজি ও ব্যবস্হাপনা উভয় ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে যে ব্যবসা পরিচালনা করে তাকে মুশারাকা বলা হয়। মুশারাকাকে সরাসরি অর্থায়ন (direct financing) পদ্ধতিও বলা হয়। ব্যবসায়ে লাভ হলে চুক্তি মোতাবেক ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে তা বন্টন করে নেয় এবং লোকসান হলে তা মূলধন মোতাবেক
উভয়ে বহন করে থাকে।
মুশারাকা মুতানাকিসা : ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা পদ্ধতিকে মুশারাকা মুতানাকিসা বলা হয়।
মুরাবাহা লিল আমিরিবিশ শিরা : ক্রেতার অনুরোধে তার চাহিদা মোতাবেক বিক্রেতা কর্তৃত পণ্য ক্রয় করে মালিকানা ও দখল লাভের পর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সম্মত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক বিক্রয় করাকে
'মুরাবাহা লিল আমিরি বিশ -শিরা' বা ক্রেতার আদেশ ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মুরাবাহা ' বলা হয়। ইসলামী ব্যাংকসমূহ এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে বলে একে ব্যাংকিং মুরাবাহাও বলা হয়ে থাকে।
মুদারাবা মুদারাবা শব্দটি 'দারবুন' শব্দমূল হতে উদ্ভূত হয়েছে। আরবি ভাষায় শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহ্নত হয়ে থাকে। যেমন -প্রহার করা, অন্বেষণ করা, দৃষ্টান্ত দেয়া,পরিভ্রমণ করা ইত্যাদি।
ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা এমন ধরনের ব্যবসা যেখানে দুটি পক্ষ থাকে। মুনাফার উদ্দেশ্যে একপক্ষ মূলধন সরবরাহ করে আর অপরপক্ষ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে উক্ত মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। ব্যবসায়ে লাভ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বশর্ত অনুসারে বন্টিত হয়। আর লোকসান হলে মূলধন সরবরাহকারী (সাহিবুল মাল) কে তা বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে
মুদারিবের শ্রম ও সময় লোকসান হয়। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে মুদারিবের অবহেলা প্রমাণিত হলে কিংবা চুক্তির শর্ত লঙ্গনের কারণে লোকসান হলে তা মুদারিবকে বহন করতে হবে।
মুদারাবা মুতলাক্বাহ : শর্তহীনভাবে পরিচালিত সাধারণ মুদারাবাকে ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা মুতলাক্বাহ বলা হয়।
মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ : মুদারাবা কারবারে সাহিবুল মাল মুদারিবের ওপর কোনো শর্ত আরোপ করলে তাকে মুদারাবা মুক্বাইয়্যাদাহ বলা হয়।
মিলকিয়াত কোনো সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব। কোনো সম্পত্তি ব্যবহার, ভোগ ও স্হানান্তরের অধিকার।
যাকাত যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের
একটি। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রকরণ, প্রবৃদ্ধি, প্রশংসা ইত্যাদি। পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি
নির্দিষ্ট (নিসাব) পরিমাণ মালের মালিক হলে, তার নির্ধারিত অংশ (শতকরা ২.৫০ ভাগ) নির্ধারিত
খাতে (মাসারিফে যাকাত) ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
রিবা সুদের আরবি প্রতিশব্দ হলো রিবা। রিবা শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সংযোজন, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। তবে ইসলামে সব ধরনের বৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধিকে রিবা বলে গণ্য করা হয়নি। শরী'আহতে
সেই বৃদ্ধিকে রিবা বলা হয়েছে যা প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে শর্ত হিসেবে আদায় করা হয়।
শরী'আহ শরী'আহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পানি পান করার ঘাট, চলার পথ ইত্যাদি। শরী'আহ বলতে সে সব পথনির্দেশকে বুঝায়, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি জারি করেছেন। আল -কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করার পথনির্দেশকেই শরী'আহ বলা হয়।
সুন্নাহ রীতি, নিয়ম, পথ ইত্যাদি। পরিভাষায় রাসূল স. -এর যেসব কথা ও কাজকর্মের বিবরণ এবং কার্যকলাপের অনুমোদন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ বলা হয়। এটি ইসলামী আইনের উৎস।
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক :
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলককে আরবিতে ইজারা বিল বাই তাহতা শিরকাতিল মিলক বলা হয়। এ পদ্ধতি মুলত তিনটি বিনিয়োগ পদ্ধতির সমন্বিত রূপ। একটি হচ্ছে 'ইজারা' (ভাড়া) , আরেকটি 'বাই' (ক্রয় -বিক্রয়) এবং অন্যটি 'শিরকাতুল মিলক ' (মালিকানায় অংশীদারিত্ব) । এ পদ্ধতির আয়কে বলা হয় ভাড়া (rent) ।
এ পদ্ধতিতে পক্ষগুলো প্রথমে যৌথভাবে কোনো সম্পদের মালিকানা অর্জন করে। সংল্শিষ্ট সম্পদে প্রত্যেক পক্ষ তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের অনুপাতে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। একপক্ষ অপর পক্ষের কাছে তার অংশ ভাড়া দেয় এবং ক্রমান্নয়ে বিক্রয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে ।।।
Sunday, 27 October 2019
সুকুক
বিষয় -১২৮ : সম্প্রতি একজন গবেষক প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk) ও গর্ভনমেন্ট সৃরাবাহি সুকুক (Government Murabaha Sukuk) শীর্ষক দুটি প্রোডাক্ট শরী'আহসম্মত কি না সে সম্পর্কে শরী'আহ সুপারবাইজারি কমিটির অভিমত জানতে চান। প্রোডাক্ট দুটির সারসংক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো :
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk -CBMS)
ক. সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) শরী'আহ অনুমোদিত মুদারাবা পদ্ধতিতে সম্পন্না হবে।
খ . ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে প্রয়োজন মত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সিবিএমএস (CBMS) ক্রয় করবে। ব্যাংক হবে সাহিবুল মাল আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে মুদারিব। সুকুক ক্রয় -বিক্রয়ের সময় মুনাফার অনুপাত (অর্থাৎ, সুকুক ক্রয়কারী ব্যাংক মুনাফার কতভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতভাগ পাবে তা) নির্ধারিত থাকবে। নিলামের মাধ্যমে মুনাফায় অংশ নেয়ার অনুপাত (PSR) নির্ধারিত হবে।
গ . সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল ব্যবস্হাপনার জন্য একটি এসপিভি (Special Purpose Vehicle -SPV) বা 'বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্হা যেমন 'ইসলামী মাইক্রো ফাইন্যান্স ফাউন্ডেশন' গঠিত হবে। এসপিভি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত তহবিল দেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইসলাসী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহকে পুনরায় বিনিয়োগ প্রদান করবে।
ঘ . বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সুকুকধারী ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর অনুযায়ী বণ্টিত হবে।
গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (Government Murabaha Sukuk - GMS)
ক . এ প্রোডাক্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সুকুক ইস্যু করবে। নিলামে বিজয়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের ক্রয় প্রতিনিধি বানাবে। সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে গঠিত তহবিল দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রয়প্রতিনিধি হিসেবে সুকুক -ধারকের পক্ষে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তার ওপর মুনাফা ধার্য করে সুকুক -ধারক ব্যাংকের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের কাছে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি কবরে।
খ . প্রস্তাবনায় জিএমএস (GNS) প্রোডাক্টটিকে শরী'আহসম্মত মুদ্রা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
গ . জিএমএস -এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এবং
ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত তারল্য সরকারি আমদানিতে বিনিয়োগের সুযোগ হবে।
ঘ . এ প্রোডাক্টের মাধ্যমে সরকার খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্য যেমন : পেট্রোলিয়াম, পাম অয়েল ইত্যাদি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য সহজ তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।
সিদ্ধান্ত : 'সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) ' ও 'গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) ' প্রোডাক্ট
দুটি প্রচলিত রিপো (Repurchase Order -REPO) ও রিভার্স রিপো ( Reverse REPO) এর ইসলামী বিকল্প হিসেবে নিঃসন্দেহে একটি
প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ, সিবিএমএস পদ্ধতিতে সংগৃহীত অর্থ ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার সুবাদে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হবে এবং অর্থনীতিক ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে সম্পদের প্রবাহ ধাবিত হবে।
অন্যদিকে সরকারি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির একটি শরী'আহসম্মত উপকরণ হিসেবেও আলোচ্য জিএমএস ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী ব্যাংকসমূহের লাভজনক খাতে অতিরিক্ত তারল্য
বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBNS) সম্পর্কে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত/পরামর্শ/সুপারিশ :
১। প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক প্রোডাক্টটি মুদারাবা পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নীতিগতভাবে এটি শরী'আহসম্মত।
২ । প্রোডাক্টটির লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা / যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . সুকুক থেকে সংগৃহীত মুদারাবা তহবিল ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার কথা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে : তবে তা কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটি মনে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে সংগৃহীত তহবিল এসপিভি -এর মাধ্যমে পুনরায় মুদারাবা পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ের ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হা বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রদান করতে পারে যা তারা শরী'আহসম্মত (বাই'মুয়াজ্জাল, বাই'সালাম, এইচপিএসএম, মুশারাকা, মুদারাবা ইত্যাদি) পদ্ধতিতে তাদের সদস্যদের মধ্যে ( গ্রাহক পর্যায়ে) বিনিয়োগ করতে পারবে। উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় এসপিভি -এর মাধ্যমে প্রথমে সাহিবুল মাল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মুদারিব হিসেবে ইসলামিক মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট (Ialamic Micro Finance Institute) এর মধ্যে পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বন্টিত হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্জিত অংশ ( আয়) পুনরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর (PSR) অনুযায়ী বন্টিত হবে। অর্থাৎ, এটি দুইস্তর বিশিষ্ট মুদারাবা কারবারে পরিণত হবে।
খ . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (সাহিবুল মাল) তার মুদারাবা তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . প্রস্তাবনায় সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) এর বৈশিষ্ট্য/ পদ্ধতির মধ্যে শুধু লাভের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। লোকসান হলে তা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী বহন করার বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।
ঘ . সুকুকের মেয়েদ শেষে সুকুকধারী ও সুকুক ইস্যুকারী এবং সংল্শিষ্ট অন্যান্য পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফা বন্টনের সময় লাভ -ক্ষতির হিসাব কিভাবে সম্পন্ন/চূড়ান্ত করা হবে সে ব্যাপারে প্রস্তাবনায় স্পষ্ট ধারণা দেয়া প্রয়োজন।
ঙ . মুদারাবা ভিত্তিতে গৃহীত সুকুক তহবিল সকল পর্যায়ের ব্যবহারকারী বিশেষ করে ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রদানের সময় শরী'আহ পরিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্হা রাখা প্রয়োজন।
চ . প্রস্তাবিত সিবিএমএস -এর চুক্তিপত্রে মুদাোবার শর'ঈ মৌলিক শর্তাবলি সন্নিবেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও শরী'আহসম্মত বিভিন্ন সুকুক চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে অধিকতর চিন্তা -গবেষণা করা প্রয়োজন।
গর্ভনমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) এর ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত /পরামর্শ/ সুপারিশ :
১. মুরাবাহা পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় নীতিগতভাবে প্রস্তাবিত গভর্নমেন্ট মুদারাবাহা সুকুক শরী'আহসম্মত।
২. সুকুক তহবিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত /আমদানিকৃত পণ্য ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে অবশ্যই হালাল/বৈধ হতে হবে।
৩ . প্রোডাক্টটির প্রস্তাবিত লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নেবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা/যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (বিনিয়োগকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান) তার তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
খ . আলোচ্য জিএমএস -এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুকধারকদের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কি ধরনের সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . যেহেতু আলোচ্য সুকুক শরী'আহসম্মত বাই'মুরাবাহা নীতিমালার ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে তাই বাই'মুরাবাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর'ঈ শর্তাবলি জিএমএস -এর চুক্তিপত্রে সন্নিবেশন এবং তা পরিপালন নিশ্চিয়ত করা প্রয়োজন।
(সূত্র: ২০ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৮৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৯ : কমার্শিয়াল পেপার (Commercial Paper -CP) বা বাণিজ্যিক পত্র স্বল্পমেয়াদী পুঁজি সংগ্রহের জন্য সুদের ভিত্তিতে ইস্যুকৃত একটি আর্থিক উপকরণ, যা কুপন রেট (coupon rate) বা ডিসকাউন্ট (discount) এর ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়। কুপন হচ্ছে দলিলে উউল্লেখিত টাকার পরিমাণের ওপর মেয়াদান্তে নির্ধারিত হারে সুদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি, আর ডিসকাউন্ট হচ্ছে ফেসভ্যালুর চেয়ে কম দামে বিক্রয় করে মেয়াদান্তে ফেস ভ্যালুতে কিনে নেয়ার শর্তে কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু করা। এ ধরনের বাণিজ্যিক পত্র শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ কিনা?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কুপন বা ডিসকাউন্টিং কোনোটিই বৈধ নয়। কাজেই ইসলামী ব্যাংক এ ধরনের কমার্শিয়াল পেপারে বিনিয়োগ কিংবা কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু এজেন্ট এবং পেয়িং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
( সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (Central Bank Mudaraba Sukuk -CBMS)
ক. সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) শরী'আহ অনুমোদিত মুদারাবা পদ্ধতিতে সম্পন্না হবে।
খ . ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে প্রয়োজন মত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সিবিএমএস (CBMS) ক্রয় করবে। ব্যাংক হবে সাহিবুল মাল আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে মুদারিব। সুকুক ক্রয় -বিক্রয়ের সময় মুনাফার অনুপাত (অর্থাৎ, সুকুক ক্রয়কারী ব্যাংক মুনাফার কতভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতভাগ পাবে তা) নির্ধারিত থাকবে। নিলামের মাধ্যমে মুনাফায় অংশ নেয়ার অনুপাত (PSR) নির্ধারিত হবে।
গ . সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল ব্যবস্হাপনার জন্য একটি এসপিভি (Special Purpose Vehicle -SPV) বা 'বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্হা যেমন 'ইসলামী মাইক্রো ফাইন্যান্স ফাউন্ডেশন' গঠিত হবে। এসপিভি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত তহবিল দেশের তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইসলাসী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহকে পুনরায় বিনিয়োগ প্রদান করবে।
ঘ . বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সুকুকধারী ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর অনুযায়ী বণ্টিত হবে।
গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (Government Murabaha Sukuk - GMS)
ক . এ প্রোডাক্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সুকুক ইস্যু করবে। নিলামে বিজয়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের ক্রয় প্রতিনিধি বানাবে। সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে গঠিত তহবিল দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রয়প্রতিনিধি হিসেবে সুকুক -ধারকের পক্ষে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তার ওপর মুনাফা ধার্য করে সুকুক -ধারক ব্যাংকের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের কাছে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি কবরে।
খ . প্রস্তাবনায় জিএমএস (GNS) প্রোডাক্টটিকে শরী'আহসম্মত মুদ্রা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
গ . জিএমএস -এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এবং
ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত তারল্য সরকারি আমদানিতে বিনিয়োগের সুযোগ হবে।
ঘ . এ প্রোডাক্টের মাধ্যমে সরকার খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্য যেমন : পেট্রোলিয়াম, পাম অয়েল ইত্যাদি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য সহজ তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।
সিদ্ধান্ত : 'সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) ' ও 'গভর্নমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) ' প্রোডাক্ট
দুটি প্রচলিত রিপো (Repurchase Order -REPO) ও রিভার্স রিপো ( Reverse REPO) এর ইসলামী বিকল্প হিসেবে নিঃসন্দেহে একটি
প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ, সিবিএমএস পদ্ধতিতে সংগৃহীত অর্থ ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার সুবাদে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হবে এবং অর্থনীতিক ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে সম্পদের প্রবাহ ধাবিত হবে।
অন্যদিকে সরকারি আমদানিতে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির একটি শরী'আহসম্মত উপকরণ হিসেবেও আলোচ্য জিএমএস ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী ব্যাংকসমূহের লাভজনক খাতে অতিরিক্ত তারল্য
বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBNS) সম্পর্কে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত/পরামর্শ/সুপারিশ :
১। প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক প্রোডাক্টটি মুদারাবা পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নীতিগতভাবে এটি শরী'আহসম্মত।
২ । প্রোডাক্টটির লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা / যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . সুকুক থেকে সংগৃহীত মুদারাবা তহবিল ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার কথা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে : তবে তা কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটি মনে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে সংগৃহীত তহবিল এসপিভি -এর মাধ্যমে পুনরায় মুদারাবা পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ের ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী সংস্হা বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রদান করতে পারে যা তারা শরী'আহসম্মত (বাই'মুয়াজ্জাল, বাই'সালাম, এইচপিএসএম, মুশারাকা, মুদারাবা ইত্যাদি) পদ্ধতিতে তাদের সদস্যদের মধ্যে ( গ্রাহক পর্যায়ে) বিনিয়োগ করতে পারবে। উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় এসপিভি -এর মাধ্যমে প্রথমে সাহিবুল মাল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মুদারিব হিসেবে ইসলামিক মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট (Ialamic Micro Finance Institute) এর মধ্যে পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বন্টিত হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্জিত অংশ ( আয়) পুনরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত পিএসআর (PSR) অনুযায়ী বন্টিত হবে। অর্থাৎ, এটি দুইস্তর বিশিষ্ট মুদারাবা কারবারে পরিণত হবে।
খ . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (সাহিবুল মাল) তার মুদারাবা তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . প্রস্তাবনায় সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদারাবা সুকুক (CBMS) এর বৈশিষ্ট্য/ পদ্ধতির মধ্যে শুধু লাভের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। লোকসান হলে তা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী বহন করার বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।
ঘ . সুকুকের মেয়েদ শেষে সুকুকধারী ও সুকুক ইস্যুকারী এবং সংল্শিষ্ট অন্যান্য পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফা বন্টনের সময় লাভ -ক্ষতির হিসাব কিভাবে সম্পন্ন/চূড়ান্ত করা হবে সে ব্যাপারে প্রস্তাবনায় স্পষ্ট ধারণা দেয়া প্রয়োজন।
ঙ . মুদারাবা ভিত্তিতে গৃহীত সুকুক তহবিল সকল পর্যায়ের ব্যবহারকারী বিশেষ করে ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রদানের সময় শরী'আহ পরিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্হা রাখা প্রয়োজন।
চ . প্রস্তাবিত সিবিএমএস -এর চুক্তিপত্রে মুদাোবার শর'ঈ মৌলিক শর্তাবলি সন্নিবেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও শরী'আহসম্মত বিভিন্ন সুকুক চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে অধিকতর চিন্তা -গবেষণা করা প্রয়োজন।
গর্ভনমেন্ট মুরাবাহা সুকুক (GMS) এর ব্যাপারে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিমত /পরামর্শ/ সুপারিশ :
১. মুরাবাহা পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় নীতিগতভাবে প্রস্তাবিত গভর্নমেন্ট মুদারাবাহা সুকুক শরী'আহসম্মত।
২. সুকুক তহবিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত /আমদানিকৃত পণ্য ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে অবশ্যই হালাল/বৈধ হতে হবে।
৩ . প্রোডাক্টটির প্রস্তাবিত লেনদেন প্রক্রিয়ায় নিম্নেবর্ণিত শরী'আহ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা/যুক্ত করা প্রয়োজন :
ক . প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির পরে সুকুকধারক (বিনিয়োগকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান) তার তহবিল মুনাফাসহ ফেরত পাবে। কিন্তু মেয়াদপূর্তির পূর্বে তার তহবিল প্রত্যাহার করা প্রয়োজন হলে তা কিভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়টি প্রস্তাবনায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
খ . আলোচ্য জিএমএস -এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুকধারকদের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কি ধরনের সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
গ . যেহেতু আলোচ্য সুকুক শরী'আহসম্মত বাই'মুরাবাহা নীতিমালার ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে তাই বাই'মুরাবাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর'ঈ শর্তাবলি জিএমএস -এর চুক্তিপত্রে সন্নিবেশন এবং তা পরিপালন নিশ্চিয়ত করা প্রয়োজন।
(সূত্র: ২০ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৮৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২৯ : কমার্শিয়াল পেপার (Commercial Paper -CP) বা বাণিজ্যিক পত্র স্বল্পমেয়াদী পুঁজি সংগ্রহের জন্য সুদের ভিত্তিতে ইস্যুকৃত একটি আর্থিক উপকরণ, যা কুপন রেট (coupon rate) বা ডিসকাউন্ট (discount) এর ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়। কুপন হচ্ছে দলিলে উউল্লেখিত টাকার পরিমাণের ওপর মেয়াদান্তে নির্ধারিত হারে সুদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি, আর ডিসকাউন্ট হচ্ছে ফেসভ্যালুর চেয়ে কম দামে বিক্রয় করে মেয়াদান্তে ফেস ভ্যালুতে কিনে নেয়ার শর্তে কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু করা। এ ধরনের বাণিজ্যিক পত্র শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ কিনা?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কুপন বা ডিসকাউন্টিং কোনোটিই বৈধ নয়। কাজেই ইসলামী ব্যাংক এ ধরনের কমার্শিয়াল পেপারে বিনিয়োগ কিংবা কমার্শিয়াল পেপার ইস্যু এজেন্ট এবং পেয়িং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
( সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Saturday, 26 October 2019
অদাবিকৃত আমানত কেন্দ্রীয় ব্যাংকেে প্রেরণ
বিষয় -১২৬ : ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ নীতিমালার আলোকে জনগণ থেকে ডিপোজিট সংগ্রহ করে থাকে। কোনো গ্রাহক কোনো নির্দিষ্ট হিসাবে দশ বছর লেনদেন না করলে তার প্রাপ্য অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রেরণ করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত জমা হিসাবের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রদান করা যাবে। তবে এরূপ বাধ্যবাধকতার বিষয়টি হিসাব খোলার আবেদনপত্র উল্লেখ করতে হবে।
(সূত্র : ২৪ জুন ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিকিউরিটি গার্ডদের জুমু'আর সালাত আদায়
বিষয় -১২৭ : ইসলামী শরী'আহতে জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব অত্যধিক। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডগণ একসঙ্গে জুমু'আর সালাতে গেলে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশম্কা থেকে যায়। অতএব এমন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডদের শুক্রবারের জুমু'আর সালাত আদায়ের বিধান কী ?
সিদ্ধাস্ত : কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডগণ পালাক্রমে শুক্রবার জুমু'আর সালাত আদায় করবেন। যারা জুমু'আর সালাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না তারা যথারীতি জোহরের সালাত আদায় করবেন।
(সূত্র : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত জমা হিসাবের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রদান করা যাবে। তবে এরূপ বাধ্যবাধকতার বিষয়টি হিসাব খোলার আবেদনপত্র উল্লেখ করতে হবে।
(সূত্র : ২৪ জুন ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিকিউরিটি গার্ডদের জুমু'আর সালাত আদায়
বিষয় -১২৭ : ইসলামী শরী'আহতে জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব অত্যধিক। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডগণ একসঙ্গে জুমু'আর সালাতে গেলে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশম্কা থেকে যায়। অতএব এমন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডদের শুক্রবারের জুমু'আর সালাত আদায়ের বিধান কী ?
সিদ্ধাস্ত : কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডগণ পালাক্রমে শুক্রবার জুমু'আর সালাত আদায় করবেন। যারা জুমু'আর সালাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না তারা যথারীতি জোহরের সালাত আদায় করবেন।
(সূত্র : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Wednesday, 23 October 2019
ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ
বিষয় -১২৫ : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ বৈধ হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া মহিলা গ্রাহকগণ মহিলা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন। সেহেতু একান্ত প্রয়োজনে বাস্তবজীবনে ইসলামের অনুসারী মহিলাদের কর্মসংস্হানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের দ্বার উন্মুক্ত থাকা উচিত।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন -মহিলা কর্মকর্তা ও মহিলা গ্রাহকদের জন্য শরী'আহসম্মতভাবে বসার জন্য ব্যবস্হা, বাথরুম/টয়লেট ইত্যাদি ব্যবস্হাকরণ সাপেক্ষে পর্দা তথা ইসলামী পরিবেশের ব্যবস্হা নিশ্চিত করে যেসব শাখায় মহিলা গ্রাহকের সংখ্যা বেশি এমন শাখাগুলোতে একাধিক মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দিয়ে মহিলা কাউন্টার বা মহিলা গ্রাহকদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। তবে পুরুষ সহকর্মী ও পুরুষ গ্রাহকদের মাঝে দু -একজন মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দেয়া সমীচীন হবে না।
(সূত্র : ৮ এপ্রিল ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া মহিলা গ্রাহকগণ মহিলা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন। সেহেতু একান্ত প্রয়োজনে বাস্তবজীবনে ইসলামের অনুসারী মহিলাদের কর্মসংস্হানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের দ্বার উন্মুক্ত থাকা উচিত।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন -মহিলা কর্মকর্তা ও মহিলা গ্রাহকদের জন্য শরী'আহসম্মতভাবে বসার জন্য ব্যবস্হা, বাথরুম/টয়লেট ইত্যাদি ব্যবস্হাকরণ সাপেক্ষে পর্দা তথা ইসলামী পরিবেশের ব্যবস্হা নিশ্চিত করে যেসব শাখায় মহিলা গ্রাহকের সংখ্যা বেশি এমন শাখাগুলোতে একাধিক মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দিয়ে মহিলা কাউন্টার বা মহিলা গ্রাহকদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। তবে পুরুষ সহকর্মী ও পুরুষ গ্রাহকদের মাঝে দু -একজন মহিলা কর্মকর্তা পোস্টিং দেয়া সমীচীন হবে না।
(সূত্র : ৮ এপ্রিল ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১০৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রামের ব্যবহার
বিষয় -১২৪ - : ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন কাগজপত্র, ফরম ও প্রকাশনায় আল কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণত যেসব প্রকাশনা ও প্রচারপত্র মাত্র একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দেয়া হয় তাতে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে লিফলেট ও ইনভেলাপে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার না করা উচিত।
(সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
সিদ্ধান্ত : সাধারণত যেসব প্রকাশনা ও প্রচারপত্র মাত্র একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দেয়া হয় তাতে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে লিফলেট ও ইনভেলাপে কুরআনের আয়াত সংবলিত মনোগ্রাম ব্যবহার না করা উচিত।
(সূত্র : ২৮ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।
Subscribe to:
Posts (Atom)