Thursday, 31 October 2019

চুক্তিতে শর্তারোপ করা

বিষয় -১৩০ : বিনিয়োগ প্রদানের সময় ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তিতে বিভিন্ন ধারা সংযোজিত থাকে। এর মধ্যে একটি হলো, "In case of any dispute arises out of this agreement or the terms and conditions thereof the decision of the Bank Management shall be final and binding upon the parties.' অর্থাৎ, 'চুক্তির কোনো বিষয় বা শর্তের ব্যাপারে কোনো আপত্তি
উত্থাপিত হলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে -চুক্তিপত্রে এ ধরনেন ধারা উল্লেখ করা শরী'আহসম্মত হবে  কি ?
সিদ্ধান্ত  : চুক্তিপত্রে উক্ত ধারার অন্তর্ভুক্তিতে শরী'আহর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে ধারাটি প্রয়োগকালে শরী'আহর কোনো মূলনীতি লঙ্গঘন করা যাবে  না।
(সূত্র : ১৯ আগষ্ট ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
           পারিভাষিক শব্দ
ইবরা     আরবি ইবরা শব্দটি বারিউন থেকে উদ্ভূত। অর্থ -দায়মুক্ত করা, অব্যাহতি, মাফকরণ, মুক্তকরণ ইত্যাদি। পাওনার সম্পপূর্ণ বা আংশিক মাফ করে দেয়াকে ইবরা বলা হয়।
ওয়াদ         ব্যাংকের কাছ থেকে গ্রাহকের পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকারকে ওয়াদ বিশ -
বিশ -শিরা   শিরা বা ক্রয়ের অঙ্গীকারনামা বলা হয়। এটি পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের চুক্তি নয়, বরং পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের অঙ্গীকার। অর্থাৎ, গ্রাহকের আবেদন অনুযায়ী ব্যাংক পণ্য ক্রয় করার পর গ্রাহক তা ব্যাংক থেকে ক্রয় করে নেয়ার অঙ্গীকার (ওয়াদা)  করবে। কারণ পণ্যের ওপর ব্যাংকের মালিকানা ও দখল অর্জিত হওয়ার আগে তা কারো কাছে বিক্রয় করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ওয়াদি'আহ  ওয়াদি'আহ আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ করা, ছেড়ে দেয়া, আমানত রাখা, গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি। নিজের সম্পদ অপরের হিফাজতে অর্পণ করাকে আল -ওয়াদি'আহ বলে। এ পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তার অর্থ জমা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে তার জমাকৃত অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে তবে তার জমাকৃত অর্থের বিনিময়ে কোনো লাভ সে পায় না আবার প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকসানও  তাকে বহন করতে হয় না।
কুরআন    কুরআন আরবি শব্দ। এর অর্থ -পাঠ্য বা পঠন। কুরআন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা পঠিত ও পঠিতব্য গ্রন্থ বিধায় একে কুরআন বলা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা:) এর নবুওয়াতের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনকালে অবস্হা ও চাহিদার প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণের জন্য যে আল্লাহ প্রদত্ত বাণী অবতীর্ণ করা হয়েছে তার সামষ্টিক ও সম্কলিত রূপই হলো আল কুরআন। এ মহাগ্রন্হ যে ভাষায় ( language) পাঠ (text) ও পঠন পদ্ধতিতে (method of reciation) অবতীর্ণ হয়েছিল তার সবটুকুই যথাযথভাবে বিদ্যমান আছে।
ক্ববদ       ক্রয়ের পর পণ্যের ওপর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে দখল অর্জন করাকে ক্ববদ বলা হয়। পণ্যের বিভিন্নতায় ক্ববদের ধরনও বিভিন্ন হতে পারে। ক্ববদ করার অর্থ হলো ব্যয় -ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করা। সুতরাং যেভাবে সেই ক্ষমতা অর্জিত হবে সেটাই ক্ববদ বলে গণ্য হবে।
ক্ববদে     ক্ববদে হাসানা মূলত এমন একধরনের ঋণ যা কারো উপকারের
হাসানা       জন্য বিনা  শর্তে প্রদান করা হয়। এই  ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করার অবকাশ থাকে ।
ক্বালবুদ      ক্বালবুদ দাইন অর্থ দায়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা। এটা রিবার
দাইন    অন্তর্ভূক্ত।
ক্বিয়াস    ক্বিয়াস শব্দের অর্থ হলো অনুমান করা, সামঞ্জস্যপূর্ণ করা,সমন্বিত করা, যুক্ত করা ইত্যাদি। যে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে কিছু বলা হয়নি সে বিষয়কে কুরআন -সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো বিষয়ের হুকুমের সঙ্গে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো বিধান নির্গত করার নাম ক্বিয়াস। ক্বিয়াস ইসলামী আইনের একটি উৎস ।
সাহিবুল    মুদারাবা কারবারে মূলধন সরবরাহকারীকে সাহিবুল মাল বলা হয়।
মাল
জামানত   ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের নিরাপ্তার জন্য ঋণদাতার কাছে কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখা ।
ফতওয়া    রায়, মত,সিদ্ধান্ত ইত্যাদি :ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃত প্রদত্ত মতামতকে ফতওয়া বলা হয়। যিনি এ ফতওয়া প্রদান করেন তাকে মুফতি বলা হয়। বিচারক অথবা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃত উপস্হাপিত প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞগণ কুরআন, সুন্নাহ,ইজমা, ক্বিয়াস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের আলোকে এ মতামত দিয়ে থাকেন।
বাই '    আরবি  বাই'   শব্দের অর্থ ক্রয় -বিক্রয়। বাই' বা ক্রয় -বিক্রয় হচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোনো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদের পরিবর্তন অথবা বিক্রয়যোগ্য কোনো সম্পদের বিনিময়ে কোনো বস্তুর মালিকানা হস্তান্তর করা।
বাই' -এর সংজ্ঞায় আল্লামা বুরহানুদ্দীন মুরগিনানী তার 'হিদায়া' নামক গ্রন্হে বলেছেন,  'ক্রয় -বিক্রয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে একটি
দ্রব্যের বিপরীতে অপর একটি দ্রব্যের বিনিময় করাকে বাই'  বলা হয় '। এ ধরনের কেনাবেচাকে বাই ' মুতলাক বা সাধারণ ক্রয় -বিক্রয়ও বলা হয়। বাই' ইসতিসন : ক্রেতার নির্দেশ বা অর্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য প্রস্তুত করে ক্রয় -বিক্রয়কে বাই' ইসতিসনা বলা হয়। সাধারণত কোনো জিনিস তৈরি বা নির্মাণ করে দেয়ার জন্য অপর পক্ষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বা অর্ডার দানকে বাই'ইসতিসনা বলে।
বাই'মুরাবাহা  : আভিধানিক অর্থে বাই'মুরাবাহা বলতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে লাভে বিক্রয়কে বুঝায়। পারিভাষিক অর্থে ক্রয়মূল্যের
ওপর নির্দিষ্ট লাভ যোগ করে কোনো পণ্য বিক্রয় করাকে বাই'মুরাবাহা বলা হয়।
বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট :  বাই'মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি পরিভাষা। আমদানি পণ্যে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যাংক মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিটি অনুশীলন করে থাকে। বিনিয়োগ গ্রাহক বিদেশ থেকে যে ধরনের পণ্য আমদানি করতে চান তার বিবরণসহ ইসলামী ব্যাংকের কাছে তা আমদানি করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন। তার কাঙ্খিত পণ্য বিদেশ থেকে ক্রয় করে ব্যাংক তার কাছে মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট পদ্ধতিতে বিক্রয় করে।
বাই'মুয়াজ্জাল : বাই'মুয়াজ্জাল ইসলামী ব্যাংকের একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। মুয়াজ্জাল আরবি আজল থেকে উদ্ভূত। আজল শব্দের আভিধানিক অর্থ বিলম্ব, বাকি আর মুয়াজ্জাল শব্দের অর্ধ বিলম্বিত, বিলম্বে পরিশোধযোগ্য, বাকি, নগদের বিপরীত ইত্যাদি। পরিভাষায় বাই'মুয়াজ্জাল হলো এমন এক ধরনের ক্রয় -বিক্রয় যেখানে পণ্যটি নগদে হস্তান্তর এবং মূল্য বাকিতে অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে/মেয়াদে পরিশোধ করা হয়।
বাই'সালাম : আভিধানিক অর্থে বাই'সালাম হচ্ছে অগ্রিম ক্রয় -বিক্রয়। অগ্রিম মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ান্তে হস্তান্তরযোগ্য কোনো নির্ধারিত বস্তু ক্রয় -বিক্রয় করাকে বাই'সালাম বলে।
বাই'সরফ  : সরফ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে রূপান্তর করা, স্হানান্তর করা, বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয়কে অথবা স্বর্ণ,রৌপ্য বা মুদ্রার পরস্পর বিনিময় করাকে বাই'সরফ বলা হয়। একই বৈঠকে দু'জন তাদের মালিকানাধীন জিনিসকে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর মাস করে বিধায় একে বাই'সরফ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মাসালিহ মুরসালা  : কল্যাণকে ভিত্তি করে বিধান  রচনা করার নাম মাসলাহা বা মাসালিহ মুরসালা। সার্বিক জনস্বার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ 'নস' বিদ্যমান না থাকা অবস্হায় গৃহীত সিদ্ধান্তকে এমন কোনো মৌলিক নীতির সঙ্গে সংল্শিষ্ট করে দেয়ার নাম মাসালিহ মুরসালা। যে সব বিষয়ে শরী'আহর সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান আছে সেই বিষয়টি মাসালিহ মুরসালার অন্তর্ভূক্ত হবে না । কোনো বৃহত্তর স্বার্থ  সংরক্ষণ করা, শরী'আহর উদ্দেশ্য পূরণ করা ও ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করাই মাসালিহ মুরসালার উদ্দেশ্য।
মু'আমালাহ   : সাধারণভাবে মু'আমালাহ অর্থ লেনদেন। ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় কেবল আর্থিক লেনদেনকে মু'আমালাহ বলে।
মুশারাকা  :  মুশারাকা মূলত একটি অংশীদারি কারবার। ব্যাংক এবং গ্রাহক পুঁজি ও ব্যবস্হাপনা উভয় ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে যে ব্যবসা পরিচালনা করে তাকে মুশারাকা বলা হয়। মুশারাকাকে সরাসরি অর্থায়ন (direct financing) পদ্ধতিও বলা হয়। ব্যবসায়ে লাভ হলে চুক্তি মোতাবেক ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে তা বন্টন করে নেয় এবং লোকসান হলে তা মূলধন মোতাবেক
উভয়ে বহন করে থাকে।
মুশারাকা মুতানাকিসা  : ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা  পদ্ধতিকে মুশারাকা মুতানাকিসা বলা হয়।
মুরাবাহা লিল আমিরিবিশ শিরা : ক্রেতার অনুরোধে তার চাহিদা মোতাবেক বিক্রেতা কর্তৃত পণ্য ক্রয় করে মালিকানা ও দখল লাভের পর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সম্মত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক বিক্রয় করাকে
'মুরাবাহা লিল আমিরি বিশ -শিরা' বা ক্রেতার আদেশ ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মুরাবাহা ' বলা হয়। ইসলামী ব্যাংকসমূহ এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে বলে একে ব্যাংকিং মুরাবাহাও বলা হয়ে থাকে।
মুদারাবা       মুদারাবা শব্দটি 'দারবুন' শব্দমূল হতে উদ্ভূত হয়েছে। আরবি ভাষায় শব্দটি  বিভিন্ন অর্থে ব্যবহ্নত হয়ে থাকে। যেমন -প্রহার করা, অন্বেষণ করা, দৃষ্টান্ত দেয়া,পরিভ্রমণ করা ইত্যাদি।
ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা এমন ধরনের ব্যবসা যেখানে দুটি পক্ষ থাকে। মুনাফার উদ্দেশ্যে একপক্ষ মূলধন সরবরাহ করে আর অপরপক্ষ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে  উক্ত মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। ব্যবসায়ে লাভ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বশর্ত অনুসারে বন্টিত হয়। আর লোকসান হলে মূলধন সরবরাহকারী (সাহিবুল মাল) কে তা বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে
মুদারিবের শ্রম ও সময় লোকসান হয়। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে মুদারিবের অবহেলা প্রমাণিত হলে কিংবা চুক্তির শর্ত লঙ্গনের কারণে লোকসান হলে তা মুদারিবকে বহন করতে হবে।
মুদারাবা মুতলাক্বাহ : শর্তহীনভাবে পরিচালিত সাধারণ মুদারাবাকে ইসলামী শরী'আহর পরিভাষায় মুদারাবা মুতলাক্বাহ বলা হয়।
মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ : মুদারাবা কারবারে সাহিবুল মাল মুদারিবের ওপর কোনো শর্ত আরোপ করলে তাকে মুদারাবা মুক্বাইয়্যাদাহ বলা হয়।
মিলকিয়াত       কোনো সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব। কোনো সম্পত্তি ব্যবহার,  ভোগ ও স্হানান্তরের অধিকার।
যাকাত      যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের
একটি। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রকরণ, প্রবৃদ্ধি, প্রশংসা ইত্যাদি। পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি
নির্দিষ্ট (নিসাব) পরিমাণ মালের মালিক হলে,  তার নির্ধারিত অংশ (শতকরা ২.৫০ ভাগ) নির্ধারিত
খাতে (মাসারিফে যাকাত)  ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
রিবা          সুদের আরবি প্রতিশব্দ হলো রিবা। রিবা শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সংযোজন, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। তবে ইসলামে সব ধরনের বৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধিকে রিবা বলে গণ্য করা হয়নি। শরী'আহতে
সেই বৃদ্ধিকে রিবা বলা হয়েছে যা প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে শর্ত হিসেবে আদায় করা হয়।
শরী'আহ      শরী'আহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পানি পান করার ঘাট, চলার পথ ইত্যাদি। শরী'আহ বলতে সে সব পথনির্দেশকে বুঝায়, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি জারি করেছেন। আল -কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করার পথনির্দেশকেই শরী'আহ বলা হয়।
সুন্নাহ      রীতি,  নিয়ম, পথ ইত্যাদি। পরিভাষায় রাসূল স. -এর যেসব কথা ও কাজকর্মের বিবরণ এবং কার্যকলাপের অনুমোদন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ বলা হয়। এটি ইসলামী আইনের উৎস।
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক  :
হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলককে আরবিতে ইজারা বিল বাই  তাহতা শিরকাতিল মিলক বলা হয়। এ পদ্ধতি মুলত তিনটি বিনিয়োগ পদ্ধতির সমন্বিত রূপ। একটি হচ্ছে 'ইজারা' (ভাড়া) , আরেকটি 'বাই' (ক্রয় -বিক্রয়)  এবং অন্যটি  'শিরকাতুল মিলক ' (মালিকানায় অংশীদারিত্ব) । এ পদ্ধতির আয়কে বলা হয় ভাড়া (rent) ।
এ পদ্ধতিতে পক্ষগুলো প্রথমে যৌথভাবে কোনো সম্পদের মালিকানা অর্জন করে। সংল্শিষ্ট সম্পদে প্রত্যেক পক্ষ তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের অনুপাতে সম্পদের মালিকানা লাভ করে। একপক্ষ অপর পক্ষের কাছে তার অংশ ভাড়া দেয় এবং ক্রমান্নয়ে বিক্রয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে ।।।

No comments:

Post a Comment