Monday, 21 October 2019

বৈদেশিক -বাণিজ্য

আমদানি বাণিজ্য বাই'মুরাবাহা
বিষয় -১১৯ :বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা বৈধ কি না এবং ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলনের নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা জায়েয, তবে শর্ত হলো লেনদেন নগদ এবং হাতে হাতে সম্পন্ন হতে হবে। কোনোমতেই বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রিম কেনাবেচা করা যাবে না। সময়ের পার্থক্য এ ক্ষেত্রে জায়েয নেই। অপর পক্ষে , একই দেশের মুদ্রার বিনিময়ে মূল্য কমবেশি হওয়া শরী'আহ পরিপন্হী । ব্যাংক কর্তৃক বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুরাবাহার সাধারণ নীতিসমূহ প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রোফরমা ইনভয়েসের ভিত্তিতে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। গ্রাহকের সাথে চুক্তির সময় এ সকল বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
( সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১২০ : বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক কীভাবে মুরাবাহা পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে? এ ক্ষেত্রে পণ্য হস্তগত হওয়ার পর ব্যাংক তা বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করতে পারে কি না ?
সিদ্ধান্ত :মুরাবাহা চুক্তির অধীনে পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী গ্রাহকের কাছে সর্বপ্রথম মুরাবাহা পদ্ধতির যাবতীয় নিয়মাবলি তুলে ধরতে হবে। গ্রাহক ব্যাংকের নীতিমালা মানতে রাজি হলে তার কাছ থেকে এ মর্মে ওয়াদা নিতে হবে যে, তার পক্ষ হয়ে ব্যাংক যে পণ্য আমদানি করবে তিনি (গ্রাহক) তা ব্যাংকের কাছ থেকে চুক্তিকৃত মূল্যে ক্রয় করবেন। এলসির অধীনে মুরাবাহা চুক্তিতে পণ্য আমদানি করা হলে প্রকৃত আমদানিকারক কত সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নেবেন বা পণ্যের মূল্য প্রদান করবেন তার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে মুনাফা আদায় করা যেতে পারে। তবে একবার এই হার নির্ধারিত হয়ে গেলে তা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। আমদানিকারক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যের ডেলিভারি নিতে বা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে চুক্তি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে এবং সে ক্ষেত্রে ব্যাংক জামানত বাজেয়াপ্ত ও আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয়সহ আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করতে পারে। জামানত ও পণ্যের বিক্রয়মূল্য যদি ব্যাংকের পাওনা মেটানোর জন্য যথেষ্ট না হয় তবে চুক্তিতে থাকলে পাওনার অবশিষ্টাংশ আদায়ের জন্য ব্যাংক আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
আমদানিকৃত পণ্য শিপমেন্ট হলে এবং সংল্শিষ্ট কাগজপত্র ব্যাংকে এসে পৌঁছলে আমদানিকারক কর্তৃক উক্ত পণ্য বিক্রয় করা জায়েয। কিন্তু পণ্যের ক্ববদ সম্পন্ন হওয়ার আগে পরবর্তী ক্রেতা কর্তৃক কারো কাছে উক্ত পণ্য বিক্রয় করতে পারবে না।
(সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী' আহ কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ) ।

No comments:

Post a Comment