বিষয় -৯৭ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে এবং তা দিয়ে এর ওপর ধার্যকৃত আয়কর প্রদান করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত দেশি -বিদেশি বিভিন্ন
ইসলামী ব্যাংক ও ব্যক্তিবর্গের মতামতের নিরিখে এবং এ বিষয়ে বিরাজমান পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ গৃহীত অর্থ সুদের সংশয় থেকে মুক্ত নয় বলে তা ব্যাংকের হালাল আয়ের অন্তর্ভূক্ত না করে অসাহায় -দুস্হদের কল্যাণে ব্যয়
করতে হবে। ক্ষতিপূরণের অর্থের ওপর ধার্যকৃত আয়কর এ অর্থ থেকে দেয়া যেতে পারে।
(সূত্র: ২৪ অক্টোবর ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৫শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৯৮ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য উৎস হতে অর্জিত সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে আয়কর প্রদান করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া প্রাপ্ত সুদ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে আয়কর প্রদান শরী'আহসম্মত নয়, তবে এসব অর্থের ওপর সরবার যে আয়কর ধার্য করে সে আয়কর উক্ত খাত থেকে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৯ : ব্যাংকের কোনো গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগের পাওনা পরিশোধ না করলে তার কাছ থেকে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যয়ের খাতগুলো কী?
সিদ্ধান্ত: মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য সুদি আয় ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত বৈধ আয় নয়। এগুলো ব্যয়ের খাতসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
ক . ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ট্যাক্স প্রদান
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তা কেবল সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় হতে দেয়া যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় দিয়ে ব্যাংকের অন্যান্য আয়কর প্রদান করা যাবে না। কেননা, হালাল আয়ের কর হারাম উপাদান দিয়ে পরিশোধ করা শরী'আহসম্মত নয়।
খ . সুদভিত্তিক বীমা কোম্পানিসমূহক বাধ্যতামূলক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম প্রদান
ইসলামী বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত
অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সুদি আয় হতে বর্তমান সুদি
বীমার প্রিমিয়াম দেয়া যেতে পারে।
গ . বৈদেশিক লেনদেনের বিপরীতে বিদেশি ব্যাংকসমূহকে প্রদেয় সুদ
ইসলামী ব্যাংক বৈদেশিক করেসপনডেন্ট (correspondent) - এর সাথে সুদের লেনদেন করবে না মর্মে বৈদেশিক লেনদেন করার জন্য
পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা
চালাবে। অনন্যোপায় হলে এ ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
ঘ . গরিব মুসলমানদের আত্নাকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করা
গরিব মুসলমানদেরকে সুদি আয় দিয়ে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করার ব্যাপারে শরী'আহর
কোনো আপক্তি নেই।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান
এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে যদি চাঁদা দেয়া বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে এবং ব্যাংককে বাধ্য হয়েই এটা প্রদান করতে হয় সে ক্ষেত্রে এ জাতীয়
আয় থেকে চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংস্হায় চাঁদা প্রদান
শুধু বাধ্যতামূলক ক্ষেত্রেই আপাতত সুদি খাত হতে এ চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে। একান্ত বাধ্য না হলে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ চাঁদা প্রদান করাও
জায়েয নয়।
(সূত্র : ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -১০০ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য (realisable) ও আদায়কৃত (realised) ক্ষতিপূরণ এবং শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে প্রভিশন করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ (compenstion) দিয়ে প্রভিশন করা শরী'আহ অনুমোদন করে না। আল -ওয়াদি'আহ চলতি হিসাব হতে যে বিনিয়োগ করা হয় তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অর্থের সাহায্যে প্রভিশন করা যাবে না। কেননা, ব্যাংক জমাকারীকে চাহিবামাত্র তার চলতি হিসাবের টাকা প্রদান করতে গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। মুদারাবা নীতিতে গৃহীত মূলধনের গ্যারান্টি দেয়া শরী'আহতে জায়েয নেই। সে জন্য সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে এ অবৈধ কাজের প্রভিশন করা যেতে পারে। ক্ষতিপূরণের অর্থ গরিব -মিসকিনদের কোনো নির্ধারিত হক বা অধিকার নয়, বরং দায়িত্ব মুক্তির একটি উপায় মাত্র। পক্ষান্তরে যাকাত, ফিৎরা, কাফফারা, ফিদিয়া ইত্যাদি হচ্ছে শরী'আহ কর্তৃক নির্ধারিত গরিবদের হক।
(সূত্র : ৯ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার গাফিলতি, ত্রুটি বা অব্যবস্হাপনা না থাকা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও যেসব বিনিয়োগ শ্রেণিকৃত
হয় শুধু ক্ষতিপূরণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সেসব
বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা বৈধ।
(সূত্র: ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা নীতিগতভাবে অনুমোদিত নয়। তাই ব্যাংকের বৈধ
আয় দিয়েই শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করতে হবে।
(সূত্র : ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত
শরী'আহ কাউন্সলের ১২৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে গুরুতর সন্দেহযুক্ত আয় ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ দিয়ে
প্রভিশন করা যাবে না। তবে ব্যাংকের বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িকভাবে এ অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা যেতে পারে। প্রয়োজন শেষে যথাশীঘ্র সম্ভব তা জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র : ১১ মে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০১ :মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে মূলধনের পর্যাপ্তত মেটানো যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে কোনো অবস্হাতেই মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো জায়েয হবে না।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০২ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে এসএলআর (SLR) রাখা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুসারে ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রিজার্ভ (SLR) মেটানো যাবে না ।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৩ : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসো যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় কোন কোন খাতে ব্যবহার করা যাবে ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় নিম্নবর্ণিত খাতসমূহে ব্যয়/ব্যবহার করতে শরী'আহর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই :
ক . বৈদেশিক লেনদেনের কারণে বিদেশি ব্যাংককে বাধ্যতামূলক সুদ প্রদান।
খ . জনকল্যাণমূলক কাজ।
গ . দাওয়াতী কাজ।
ঘ . দরিদ্র মুসলিমদের আত্মকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে (ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে) বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি/ বেসরকারি সংস্হায় বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
ছ . ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি প্রচারকল্পে বই পুস্তক/জার্নাল প্রকাশনার জন্য অনুদান প্রদান।
জ . সেমিনার/কনফারেন্স অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান।
ঝ . এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ, সুদ বা এ ধরনের সংশয়পূর্ণ অর্থের সাহায্যে ক. মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো খ. মন্দ বা সন্দেহজনক বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা গ. এসএলআর সংরক্ষণ করা শরী'আহসম্মত নয়। তবে ক্ষতিপূরণ বা সংশয়পূর্ণ আয়ের ওপর সরকার যে আয়কর ধার্য করে তা উক্ত খাত হতে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র : ২৩ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী /
১৬ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সাবকমিটির ১৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৪ : ইসলামী ব্যাংক মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ আরোপ করে থাকে। উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমতাবস্হায় ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে ব্যাংকের প্রকৃত সার্ভিস চার্জ আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণের ওপর কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র : ৩১ মে ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৫ : ব্যাংকের প্রচারকাজে শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ব্যবহার করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত :ইসলামী ব্যাংকের প্রচারকাজে হালাল ও পবিত্র অর্থই ব্যয় করা বাঞ্ছনীয়। শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত অর্থ দিয়ে বিজ্ঞাপন দান ও একটি ইসলামী আদর্শভিত্তিক
প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালানো শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৬: ইসলামী ব্যাংকের জন্য ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত সন্দেহযুক্ত আয় দিয়েে ব্যাংকে সংঘটিত কোনো ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে ব্যাংকের ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০৭: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ (Compensation Realizable) - এর ওপর সঞ্চিতি ( provision) রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষতিপূরণের অর্থ
এখনও আদায় হয়নি এবং আদায় হবে কিনা তা -ও অনিশ্চত :
এমনকি আদায় হলেও তা ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এখন যদি আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত বিপুল পরিমান সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে রাখা হয়
তাহলে মুদারাবা জমাকারীদের মুনাফার হার ও শেয়ারহোল্ডারগণের ডিভিডেন্ড -এর পরিসাণ কমে যাবে। এমতাবস্হায় আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে না রেখে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে রাখা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের পরিবর্তে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে সাময়িকভাবে রাখা যেথে পারে।
(সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৮ : ব্যাংকের সংশয়পূর্ণ আয়, আদায়কৃত ও আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ক্বরদ প্রোগ্রাম চালুকরণের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের ব্যাপারে ফকীহদের অভিমত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ইমাম জুহুরী, ইমাম কুরতুবি, সাইয়্যেদ ইবনে আব্দুল্লাহ আলফানিসান, হুসাইন ইবন মুহাম্মদ শাওয়াতসহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের মতে,সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় যত
দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করে দিতে হবে। এ
ধরনের তহবিল থেকে কোনো ক্বরদ প্রদান করা
যাবে না। এমনকি ইমাম জুহুরীর মতে এ ধরনের তহবিল নিজের কাছে ধরে রাখা বা সংরক্ষণও
করা যাবে না। অপরদিকে ইমাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমত হলো, এ ধরনের নিষিদ্ধ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যভিচারী ও মদ্যব্যবসায়ীরা
তাদের পেশা ছেড়ে দিয়ে তওবা করলে ও হতদরিদ্র হলে এরূপ উপার্জিত হারাম অর্থ থেকে
তাদের পুনর্বাসনে মূলধন হিসেবে ক্বরদ প্রদান করা যাবে। সাধারণ ক্ষেত্রে ক্বরদ হিসেবে প্রদান করা যাবে না। উক্ত বর্ণনার আলোকে সিদ্ধান্ত হলো, সুদসহ ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সংশয়পূণ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করাই হলো শরী'আহর মূলনীতি। এ ধরনের সন্দেহজনক আয় দীর্ঘদিন ধরে রাখা শরী'আহর মূলনীতির খেলাপ।
তবে দেশের হতদরিদ্রদের জন্য ক্বরদ প্রোগ্রামের ব্যাপক কল্যাণের দিক বিবেচনায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে :
ক . নিয়ন্ত্রক সংস্হার অনুমোদনসাপেক্ষে ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে এ ধরনের তহবিল
গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
খ . প্রস্তাবিত ক্বরদ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াক্বফ একাউন্টের আদলে নতুন ডিপোজিট প্রোডাক্ট প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
গ . ক্বরদ প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য ব্যাংকের
সামর্থ্যবান ও আগ্রহী চলতি হিসাবধারীদের চলতি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রাখার জন্য উৎসাহিত করা।
ঘ . ব্যাংকের চলতি হিসাবসহ অন্যান্য কস্ট ফ্রি ডিপোজিট ( cost free deposit) বিনিয়োগের আয় থেকে এ ধরনের ক্বরদ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
(সূত্র: ২২ জুন ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Monday, 30 September 2019
ব্যাংক গ্যারান্টি
প্রশ্ন -৯৫ : ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে ইসলামী ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ও কমিশন গ্রহণ করতে পারবে কি ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক যদি নগদ বা সহায়ক জামানত (কোলেটারাল সিকিউরিটি) রেখে গ্রাহকের অনুকূলে গ্যারান্টিপত্র ইস্যু করে তবে তা শরী'আহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কভারেজ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উকিল হিসেবে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ছাড়াও কমিশন আদায় করতে পারবে। আর যদি গ্রাহক আংশিক জামানত প্রদান করে তবে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক উকিল ও কফিল হিসেবে প্রকৃত সার্ভিস চার্জ ও কমিশন দুটোই আদায় করতে পারবে।
অধিকন্তু, ১৯৭৯ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকসমূহের প্রথম সম্মেলনের ফতওয়া, আল -আজহার -বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান (শায়খুল আজহার) মর্হুম ড. আবদুল হালিম মাহমুদের ফতওয়া, ১৯৮৫ সালে মক্কা মুকাররামায় অনুষ্ঠিত ফিকহ অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় অঅধিবেশনে প্রদত্ত ফতওয়াসসসূহ এবং দুবাই ইসলামী ব্যাংকের ফতওয়া ও শরী'আহ সুপারভাইজরি বোর্ডের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা
পূর্বক কাউন্সল অভিমত ব্যক্ত করে যে, কালের ব্যবধানে ও সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান যুগে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্যারান্টির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির সম্পদ ও ব্যবসায়িক সুনাম ( goodwill) -এর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তার গ্যারান্টি বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয় না। ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনামের কারণে সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এর গ্যারান্টি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। অতএব ব্যাংক গ্যারান্টি
ইস্যুর বিপরীতে সাভিস চার্জ ও কমিশন আদায় করা শরী'আহ পরিপন্হী নয়।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৬ : ব্যাংক কখনো কখনো নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক তৃতীয় পক্ষের দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। এমতাবস্হায় ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের সময় গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকে জমাদানে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের নামে ক্বরদে হাসানা হিসাব খুলে দাবি পরিশোধ করা যেতে পারে।
খ . উক্ত ক্বরদে হাসানা হিসাবটি যেহেতু গ্রাহকের লিখিত আবেদনের ভিক্তিতে কাউন্টার গ্যারান্টির বিপরীতে খোলা হয়, তাই তা সমন্বয়ের জন্য তাকে সুযোগ দেয়া হবে এবং তিনি ব্যর্থ হলে সহায়ক জামানত বিক্রয় করে বা আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ
করে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে।
গ . চুক্তি পরিপালনে ব্যর্থতা তথা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের
কারণে ব্যাংক কর্তৃক দাবি পরিশোধের তারিখ থেকে আদায় পর্যন্ত সময়ের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ/জরিসানা আদায় করা যাবে।
ঘ . প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ/ জরিমানা সন্দেহযুক্ত আয়ের
অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, ক্বরদে হাসানার বিপরীতে এরূপ অতিরিক্ত গ্রহণ করা শর'আহ অনুযায়ী বৈধ নয়। সুতরাং এ খাত থেকে প্রাপ্ত সন্দেহযুক্ত আয়ের ট্যাক্স (যদি হয়) প্রদানের পর অবশিষ্ট অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করতে হবে এবং উক্ত অর্থ দিয়ে শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে
প্রভিশন করা যাবে না।
(সূত্র: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক যদি নগদ বা সহায়ক জামানত (কোলেটারাল সিকিউরিটি) রেখে গ্রাহকের অনুকূলে গ্যারান্টিপত্র ইস্যু করে তবে তা শরী'আহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কভারেজ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উকিল হিসেবে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ছাড়াও কমিশন আদায় করতে পারবে। আর যদি গ্রাহক আংশিক জামানত প্রদান করে তবে সে ক্ষেত্রে ব্যাংক উকিল ও কফিল হিসেবে প্রকৃত সার্ভিস চার্জ ও কমিশন দুটোই আদায় করতে পারবে।
অধিকন্তু, ১৯৭৯ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকসমূহের প্রথম সম্মেলনের ফতওয়া, আল -আজহার -বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান (শায়খুল আজহার) মর্হুম ড. আবদুল হালিম মাহমুদের ফতওয়া, ১৯৮৫ সালে মক্কা মুকাররামায় অনুষ্ঠিত ফিকহ অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় অঅধিবেশনে প্রদত্ত ফতওয়াসসসূহ এবং দুবাই ইসলামী ব্যাংকের ফতওয়া ও শরী'আহ সুপারভাইজরি বোর্ডের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা
পূর্বক কাউন্সল অভিমত ব্যক্ত করে যে, কালের ব্যবধানে ও সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান যুগে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্যারান্টির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির সম্পদ ও ব্যবসায়িক সুনাম ( goodwill) -এর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তার গ্যারান্টি বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয় না। ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনামের কারণে সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এর গ্যারান্টি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। অতএব ব্যাংক গ্যারান্টি
ইস্যুর বিপরীতে সাভিস চার্জ ও কমিশন আদায় করা শরী'আহ পরিপন্হী নয়।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৬ : ব্যাংক কখনো কখনো নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক তৃতীয় পক্ষের দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। এমতাবস্হায় ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক গ্যারান্টির দাবি পরিশোধের সময় গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকে জমাদানে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের নামে ক্বরদে হাসানা হিসাব খুলে দাবি পরিশোধ করা যেতে পারে।
খ . উক্ত ক্বরদে হাসানা হিসাবটি যেহেতু গ্রাহকের লিখিত আবেদনের ভিক্তিতে কাউন্টার গ্যারান্টির বিপরীতে খোলা হয়, তাই তা সমন্বয়ের জন্য তাকে সুযোগ দেয়া হবে এবং তিনি ব্যর্থ হলে সহায়ক জামানত বিক্রয় করে বা আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ
করে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে।
গ . চুক্তি পরিপালনে ব্যর্থতা তথা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের
কারণে ব্যাংক কর্তৃক দাবি পরিশোধের তারিখ থেকে আদায় পর্যন্ত সময়ের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ/জরিসানা আদায় করা যাবে।
ঘ . প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ/ জরিমানা সন্দেহযুক্ত আয়ের
অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, ক্বরদে হাসানার বিপরীতে এরূপ অতিরিক্ত গ্রহণ করা শর'আহ অনুযায়ী বৈধ নয়। সুতরাং এ খাত থেকে প্রাপ্ত সন্দেহযুক্ত আয়ের ট্যাক্স (যদি হয়) প্রদানের পর অবশিষ্ট অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করতে হবে এবং উক্ত অর্থ দিয়ে শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে
প্রভিশন করা যাবে না।
(সূত্র: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
Sunday, 29 September 2019
বাই'আস -সরফ ( মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়)
বিষয় -৯৪ : রফতানিমূল্যের বিপরীতে প্রাপ্ত বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী?
সিদ্ধন্ত : রফতানিমূল্যের বিপরীতে প্রাপ্ত বিল অব
এক্সচেঞ্জ ক্রয়ের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে বাই'আস -সরফ বা সুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের সাথে সামন্জ্ঞস্যশীল নয়। এখানে একটি বৈধ (valid)
লেনদেনের বিপরীতে বৈদেশিক সুদ্রায় বিল অব এক্সচেঞ্জ ড্র করা হয়, যা ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় হওয়া নিশ্চিত। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স
(ICC) কর্তৃক প্রণীত ইউনিফর্ম কাস্টম অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিট (UCPDC) ,
ইউনিফর্ম রুলস ফর রি -ইম্বার্সমেন্ট (URR) ও
ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন ( URC) - এর
অনুসরণে লেটার অব ক্রেডিট (L/C) -এর শর্ত পূরণসাপেক্ষে বিল অব এক্সচেঞ্জের মূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত। অতএব, এখানে মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ে
'ইয়াদান বি ইয়াদিনের ' যে শর্ত আছে তা লঙ্ঘিত
হচ্ছে না এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের হার পরিবর্তনের ফলে বা কিছু দিন বিলম্ব হলেও লাভ -লোকসানের ঝুঁকি থাকে, তবে গারারের আশম্কা নেই। তা ছাড়া এখানে এক জাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে অন্য জাতীয় মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত হচ্ছে যা 'ইখতিলাফুল জিনস' হওয়ার
কারণে ইমাম আবু হানিফা র. ও ইমাম আবু ইউসুফ র. -সহ অনেক ফকিহর কাছে বৈধ। সর্বোপরি, রফতানি বিল ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত বিষয় - 'উরফে 'আম' হিসেবে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও এরুপ ক্রয় -বিক্রয় সম্পাদন করে
আসছে। আর 'উরফে 'আম' কুরআন -সুন্নাহর
পরিপন্হী না হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য
বিবেচিত হয়। উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে বলা যায়, যেসব বিলের মূল্য আদায় হওয়া
নিশ্চিত, তা হুকমান 'ইয়াদান বি ইয়াদিন' গণ্য
করে সেসব বিলে উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রার কনস্ট্রাকটিভ ডেলিভারির ভিক্তিতে গ্রাহকের কাছ থেকে দু' পক্ষের সম্মত মূল্যে ব্যাংক ক্রয় করে নিতে পারে। তবে পরবর্তীকালে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কমবেশি যা -ই হোক, ব্যাংক গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত কিছু দাবি করতে পারবে না এবং গ্রাহকও ব্যাংকের কাছে কিছু
দাবি করতে পারবে না। ব্যাংকের যে হিসাব শিরোসাম বিকলন করে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করা হয়, একই হিসাব শিরোনাম বিকলন করে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এ উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রা
ক্রয় করতে হবে। তবে গ্রাহক কোনো ত্রুটিপূর্ণ বিল
বিক্রয় করলে এবং এ কারণে যথাসময়ে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসিত না হলে তার দায়দায়িত্ব গ্রাহকের ওপর বর্তাবে। এ জাতীয়
বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য মুদারাবা ফান্ড হতে প্রদান
করা হলে এ খাত হতে অর্জিত আয় মুদারাবা আমানতকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ মতামত শুধু রফতানিমূল্যের বিপরীতে
বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাই'আস -সরফের অন্য কোনো ক্ষেত্রে এ মতামত প্রযোজ্য হবে না।
(সূত্র: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধন্ত : রফতানিমূল্যের বিপরীতে প্রাপ্ত বিল অব
এক্সচেঞ্জ ক্রয়ের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে বাই'আস -সরফ বা সুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের সাথে সামন্জ্ঞস্যশীল নয়। এখানে একটি বৈধ (valid)
লেনদেনের বিপরীতে বৈদেশিক সুদ্রায় বিল অব এক্সচেঞ্জ ড্র করা হয়, যা ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় হওয়া নিশ্চিত। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স
(ICC) কর্তৃক প্রণীত ইউনিফর্ম কাস্টম অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিট (UCPDC) ,
ইউনিফর্ম রুলস ফর রি -ইম্বার্সমেন্ট (URR) ও
ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন ( URC) - এর
অনুসরণে লেটার অব ক্রেডিট (L/C) -এর শর্ত পূরণসাপেক্ষে বিল অব এক্সচেঞ্জের মূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত। অতএব, এখানে মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ে
'ইয়াদান বি ইয়াদিনের ' যে শর্ত আছে তা লঙ্ঘিত
হচ্ছে না এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের হার পরিবর্তনের ফলে বা কিছু দিন বিলম্ব হলেও লাভ -লোকসানের ঝুঁকি থাকে, তবে গারারের আশম্কা নেই। তা ছাড়া এখানে এক জাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে অন্য জাতীয় মুদ্রার ক্রয় -বিক্রয় সংঘটিত হচ্ছে যা 'ইখতিলাফুল জিনস' হওয়ার
কারণে ইমাম আবু হানিফা র. ও ইমাম আবু ইউসুফ র. -সহ অনেক ফকিহর কাছে বৈধ। সর্বোপরি, রফতানি বিল ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত বিষয় - 'উরফে 'আম' হিসেবে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও এরুপ ক্রয় -বিক্রয় সম্পাদন করে
আসছে। আর 'উরফে 'আম' কুরআন -সুন্নাহর
পরিপন্হী না হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য
বিবেচিত হয়। উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে বলা যায়, যেসব বিলের মূল্য আদায় হওয়া
নিশ্চিত, তা হুকমান 'ইয়াদান বি ইয়াদিন' গণ্য
করে সেসব বিলে উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রার কনস্ট্রাকটিভ ডেলিভারির ভিক্তিতে গ্রাহকের কাছ থেকে দু' পক্ষের সম্মত মূল্যে ব্যাংক ক্রয় করে নিতে পারে। তবে পরবর্তীকালে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কমবেশি যা -ই হোক, ব্যাংক গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত কিছু দাবি করতে পারবে না এবং গ্রাহকও ব্যাংকের কাছে কিছু
দাবি করতে পারবে না। ব্যাংকের যে হিসাব শিরোসাম বিকলন করে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করা হয়, একই হিসাব শিরোনাম বিকলন করে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এ উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রা
ক্রয় করতে হবে। তবে গ্রাহক কোনো ত্রুটিপূর্ণ বিল
বিক্রয় করলে এবং এ কারণে যথাসময়ে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসিত না হলে তার দায়দায়িত্ব গ্রাহকের ওপর বর্তাবে। এ জাতীয়
বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য মুদারাবা ফান্ড হতে প্রদান
করা হলে এ খাত হতে অর্জিত আয় মুদারাবা আমানতকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ মতামত শুধু রফতানিমূল্যের বিপরীতে
বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাই'আস -সরফের অন্য কোনো ক্ষেত্রে এ মতামত প্রযোজ্য হবে না।
(সূত্র: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২৬তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
Saturday, 28 September 2019
বাই'সালাম ( অগ্রিম ক্রয়) ও ইসতিসনা (পণ্য তৈরির ফরমায়েশ)
বিষয় -৮৯ : গ্রাহকের চলতি মূলধন (working capital) এর চাহিদা পূরণের জন্য ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দিতে পারে কি না?
সিদ্ধান্ত : কোনো উৎপাদনকারীর চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে মূলধন সরবরাহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক নগদ অর্থ পরিশোধের মাধমে গ্রাহকের কাছ থেকে তার উৎপাদিত পণ্য অগ্রিম ক্রয় করে নেবে।
( সূত্র: ২ অক্টোবর ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২১শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় - ৯০ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। ব্যাংক উক্ত পণ্য বিক্রয়ের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করে থাকে।
কোনো কোনো সময় বিক্রয় প্রতিনিধি ব্যাংকের পণ্য নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা ও অদক্ষতার জন্য তাকে দায়ি করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : রফতানি এলসির শর্ত মোতাবেক যদি আলোচ্য গ্রাহক ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে উক্ত পণ্য নির্ধারিত দামে রফতানি বা বিক্রয় করতে
ব্যর্থ হয় তাহলে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা, অদক্ষতা ও অনুবিধার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন।
(সূত্র: ৬ আগস্ট ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯১ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাংককে পণ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। অনেক সময় রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের কাছে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে তার ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক যেদিন পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছে সেদিন থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রাহক চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ
হলে যে দিন তিনি পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছেন, সে দিন থেকে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সঠিক হবে না। তবে নির্ধারিত পণ্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত স্হানে
সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত পরিস্হিতির কারণে সৃষ্ট প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ণয়পূর্বক ক্ষতিপূরণ তার কাছে থেকে আদায় করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯২ : ইসতিসনা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাথে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নির্ধারিত পণ্য নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত সময়ে তা সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত বিনিয়োগ গ্রাহকের ওপর
জরিমানা আরোপ করা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসতিসনা চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালন
না করার কারণে চুক্তি অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ যেকোনো পক্ষের ওপর জরিমানা (penalty)
আরোপ করা যাবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা
অপরিহার্য কোনো পরিস্হিতির কারণে বিলম্ব ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৩ : ফসল চাষের মোট খরচের একটি বড় অংশ শ্রমের মজুরি বাবদ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু
মজুরি বাবদ খরচ পরিশোধের জন্য বাই'মুয়াজ্জাল/বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে নগদ অর্থ প্রদার করা যায় না। এ ক্ষেত্রে বাই'সালামই উপযুক্ত পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মজুরি ও পণ্য উৎপাদন বাবদ খরচ নির্বাহের জন্য গ্রাহকের চাহিদা মতো নগদ অর্থ প্রদান করা যায়। তাই কৃষি
বিনিয়োগের আওতায় ফনল উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে বাই'সালাম পদ্ধতির প্রয়োগ কিভাবে সহজতর করা যায়?
সিদ্ধান্ত : ফসল চাষের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালন করে বাই'সালাম পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পাবে :
ক . ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি বাই'সালাম চুক্তি সম্পাদিত হবে, যাতে পণ্যের দাম, পরিমাণ, মান এবং সরবরাহের সময় ও স্হানসহ বাই'সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তাবলি সন্নিবেশিত হবে।
খ . শাখা পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রাহকের হিসাবে প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের
হিসাবেপ প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিনিয়োগ গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ
ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনমাফিক
বিনিয়োগের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্হাপনা -সংক্রান্ত সহযোগিতা (managerial support)
প্রদান করবে।
গ . সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে (পণ্যের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক) বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। উক্ত ন্যূনতম বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে তা ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের (কৃষকের) জন্য উৎসাহমূলক ছাড় হিসেবে ব্যাংক গ্রাহককে প্রদান করতে পারবে।
ঘ . প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল উৎপাদন হ্রাস বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ার আশম্কা রয়েছে বিধায় ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে একটি ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা রাখা যেতে পারে।
ঙ . শাখা উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত জমিতে সম্ভাব্য উৎপাদিত ফসলের সর্বোচ্চ ৬৫% (সময়ে সময়ে পরিবর্তিত) ক্রয়ে বিনিয়োগ করতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)।
সিদ্ধান্ত : কোনো উৎপাদনকারীর চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে ইসলামী ব্যাংক বাই'সালাম পদ্ধতিতে মূলধন সরবরাহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক নগদ অর্থ পরিশোধের মাধমে গ্রাহকের কাছ থেকে তার উৎপাদিত পণ্য অগ্রিম ক্রয় করে নেবে।
( সূত্র: ২ অক্টোবর ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২১শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় - ৯০ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। ব্যাংক উক্ত পণ্য বিক্রয়ের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করে থাকে।
কোনো কোনো সময় বিক্রয় প্রতিনিধি ব্যাংকের পণ্য নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা ও অদক্ষতার জন্য তাকে দায়ি করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : রফতানি এলসির শর্ত মোতাবেক যদি আলোচ্য গ্রাহক ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে উক্ত পণ্য নির্ধারিত দামে রফতানি বা বিক্রয় করতে
ব্যর্থ হয় তাহলে গ্রাহকের ইচ্ছাকৃত অপারগতা, অদক্ষতা ও অনুবিধার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন।
(সূত্র: ৬ আগস্ট ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯১ : বাই'সালাম পদ্ধতিতে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংক অগ্রিম মূল্যে পণ্য ক্রয় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাংককে পণ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। অনেক সময় রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের কাছে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে তার ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক যেদিন পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছে সেদিন থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : বাই'সালাম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ গ্রাহক চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ
হলে যে দিন তিনি পণ্যের অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করেছেন, সে দিন থেকে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সঠিক হবে না। তবে নির্ধারিত পণ্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত স্হানে
সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত পরিস্হিতির কারণে সৃষ্ট প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ণয়পূর্বক ক্ষতিপূরণ তার কাছে থেকে আদায় করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -৯২ : ইসতিসনা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাথে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নির্ধারিত পণ্য নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত সময়ে তা সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত বিনিয়োগ গ্রাহকের ওপর
জরিমানা আরোপ করা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসতিসনা চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালন
না করার কারণে চুক্তি অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ যেকোনো পক্ষের ওপর জরিমানা (penalty)
আরোপ করা যাবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা
অপরিহার্য কোনো পরিস্হিতির কারণে বিলম্ব ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৩ : ফসল চাষের মোট খরচের একটি বড় অংশ শ্রমের মজুরি বাবদ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু
মজুরি বাবদ খরচ পরিশোধের জন্য বাই'মুয়াজ্জাল/বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে নগদ অর্থ প্রদার করা যায় না। এ ক্ষেত্রে বাই'সালামই উপযুক্ত পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মজুরি ও পণ্য উৎপাদন বাবদ খরচ নির্বাহের জন্য গ্রাহকের চাহিদা মতো নগদ অর্থ প্রদান করা যায়। তাই কৃষি
বিনিয়োগের আওতায় ফনল উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে বাই'সালাম পদ্ধতির প্রয়োগ কিভাবে সহজতর করা যায়?
সিদ্ধান্ত : ফসল চাষের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালন করে বাই'সালাম পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পাবে :
ক . ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি বাই'সালাম চুক্তি সম্পাদিত হবে, যাতে পণ্যের দাম, পরিমাণ, মান এবং সরবরাহের সময় ও স্হানসহ বাই'সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তাবলি সন্নিবেশিত হবে।
খ . শাখা পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রাহকের হিসাবে প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের
হিসাবেপ প্রদান করবে। তবে ব্যাংক এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিনিয়োগ গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ
ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনমাফিক
বিনিয়োগের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্হাপনা -সংক্রান্ত সহযোগিতা (managerial support)
প্রদান করবে।
গ . সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে (পণ্যের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক) বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। উক্ত ন্যূনতম বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে তা ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের (কৃষকের) জন্য উৎসাহমূলক ছাড় হিসেবে ব্যাংক গ্রাহককে প্রদান করতে পারবে।
ঘ . প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল উৎপাদন হ্রাস বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ার আশম্কা রয়েছে বিধায় ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে একটি ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা রাখা যেতে পারে।
ঙ . শাখা উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত জমিতে সম্ভাব্য উৎপাদিত ফসলের সর্বোচ্চ ৬৫% (সময়ে সময়ে পরিবর্তিত) ক্রয়ে বিনিয়োগ করতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)।
Friday, 27 September 2019
কমিশন শেয়ারিং মুদারাবা
বিষয় -৮৮ : মোবাইল ব্যাংকিং সেবার (এমক্যাশ,বিকাশ ইত্যাদি) ক্ষেত্রে কর্পোরেট এজেন্টদেরকে বিনিয়োগ প্রদানের জন্য শরী'আহসম্মত কোন বিনিয়োগ পদ্ধতি রয়েছে কি?
সিদ্ধান্ত : মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কমিশন নির্ধারিত ও সুস্পষ্ট এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ তাই উক্ত সেবার (এমক্যাশ, বিকাশ ইত্যাদি) ক্ষেত্রে কর্পোরেট এজেন্টদেরকে ব্যাংক 'কমিশন শেয়ারিং মুদারাবা ' ( Commission Sharing Mudarabah) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করতে
পারে। এ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর কমিশন হিসাব করে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্মতির ভিত্তিতে/পূর্ব নির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে তা ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। এখানে ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে ২৫ঃ ৭৫ অনুপাতে অথবা উভয়ের সম্মতিক্রমে অন্য যে
কোনো হারে কমিশন বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতি সাহিবুল মাল (ব্যাংক) কে বহন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা ডিপোজিটে মুনাফা বন্টনের জন্য ব্যাংক কর্তৃক অনুশীলিত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
# কমিশন শেয়ারিং মুদারাবার নীতিমালা ও শর্তাবলি
ক. বিনিয়োগের অর্থ কেবল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স লোড করার জন ব্যবহৃত হবে।
খ . ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত মোট কমিশনকে মুদারাবা কারবারের বন্টনযোগ্য মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হবে।
গ . কারবার পরিচালনা ব্যয় যেমন - দোকান/শো -রুম ভাড়া, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিনিয়োগ গ্রাহক নির্বাহ করবেন।
ঘ . দিন শেষে বিনিয়োগের সমপরিমাণ অর্থ হয় ব্যালেন্স আকারে থাকবে কিংবা গ্রাহকের ব্যাংক
হিসাবে সংরক্ষিত হবে। কোনোভাবে এ অর্থ অন্য বিনিয়োগে সরানো (divert করা) যাবে না।
ঙ . প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ঝুঁকি থেকে
পুঁজি সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা করা যেতে পারে।
চ . নগদ অর্থ সংরক্ষণ ও স্হানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায়
এ সংক্রান্ত ঝুঁকি গ্রাহককেই বহন করতে হবে।
ছ . দৈনিক অর্জিত মোট আয় (Gross Income) মুদারাবা কারবারের আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং
কারবারে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুদারাবা তহবিল প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ মুদারাবা তহবিল অলস রেখে গ্রাহক (মুদারিব) তার নিজের অর্থ
ব্যবহার করতে পারবেন না। দৈনিক মোট লেনদেন যদি ব্যাংকের মুদারাবা তহবিলের চেয়ে কম হয় তাহলে যতটুকু তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে তার পুরোটাই মুদারাবা তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে বলে গণ্য হবে ।
জ . ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সুনাফা বন্টনের অনুপাত মুদারাবা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে।
ঝ . মুদারাবা কারবারের অন্যান্য শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ট . কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক একাধিক কোম্পানির
এজেন্ট হলে সকল কোম্পানিকে বিনিয়োগের
আওতায় আনতে হবে।
ঠ . বিনিয়োগ গ্রাহকগণ তাদের চ্যানেল ব্যবহার করে যেন দেশীয় আইন বিরোধী (মানি লন্ডারিং,সন্ত্রাসীকাজে অর্থায়ন) ও শরী'আহর
দৃষ্টিতে অবৈধ কোনো লেনদেন না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ জাতীয় কোনো
ঘটনা ঘটলে তার দায় -দায়িত্ব ব্যাংক কোনোভাবেই বহন করবে না।
ড . ব্যাংক তার বিনিয়োগকে নিরাপদ করার জন্য
প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি/মর্টগেজ নিতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৬ সালে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কমিশন নির্ধারিত ও সুস্পষ্ট এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ তাই উক্ত সেবার (এমক্যাশ, বিকাশ ইত্যাদি) ক্ষেত্রে কর্পোরেট এজেন্টদেরকে ব্যাংক 'কমিশন শেয়ারিং মুদারাবা ' ( Commission Sharing Mudarabah) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করতে
পারে। এ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর কমিশন হিসাব করে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্মতির ভিত্তিতে/পূর্ব নির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে তা ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। এখানে ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে ২৫ঃ ৭৫ অনুপাতে অথবা উভয়ের সম্মতিক্রমে অন্য যে
কোনো হারে কমিশন বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতি সাহিবুল মাল (ব্যাংক) কে বহন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা ডিপোজিটে মুনাফা বন্টনের জন্য ব্যাংক কর্তৃক অনুশীলিত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
# কমিশন শেয়ারিং মুদারাবার নীতিমালা ও শর্তাবলি
ক. বিনিয়োগের অর্থ কেবল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স লোড করার জন ব্যবহৃত হবে।
খ . ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত মোট কমিশনকে মুদারাবা কারবারের বন্টনযোগ্য মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হবে।
গ . কারবার পরিচালনা ব্যয় যেমন - দোকান/শো -রুম ভাড়া, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিনিয়োগ গ্রাহক নির্বাহ করবেন।
ঘ . দিন শেষে বিনিয়োগের সমপরিমাণ অর্থ হয় ব্যালেন্স আকারে থাকবে কিংবা গ্রাহকের ব্যাংক
হিসাবে সংরক্ষিত হবে। কোনোভাবে এ অর্থ অন্য বিনিয়োগে সরানো (divert করা) যাবে না।
ঙ . প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ঝুঁকি থেকে
পুঁজি সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকি তহবিল অথবা বিকল্প তহবিলের ব্যবস্হা করা যেতে পারে।
চ . নগদ অর্থ সংরক্ষণ ও স্হানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায়
এ সংক্রান্ত ঝুঁকি গ্রাহককেই বহন করতে হবে।
ছ . দৈনিক অর্জিত মোট আয় (Gross Income) মুদারাবা কারবারের আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং
কারবারে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুদারাবা তহবিল প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ মুদারাবা তহবিল অলস রেখে গ্রাহক (মুদারিব) তার নিজের অর্থ
ব্যবহার করতে পারবেন না। দৈনিক মোট লেনদেন যদি ব্যাংকের মুদারাবা তহবিলের চেয়ে কম হয় তাহলে যতটুকু তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে তার পুরোটাই মুদারাবা তহবিল ব্যবহৃত হয়েছে বলে গণ্য হবে ।
জ . ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সুনাফা বন্টনের অনুপাত মুদারাবা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে।
ঝ . মুদারাবা কারবারের অন্যান্য শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ট . কোনো বিনিয়োগ গ্রাহক একাধিক কোম্পানির
এজেন্ট হলে সকল কোম্পানিকে বিনিয়োগের
আওতায় আনতে হবে।
ঠ . বিনিয়োগ গ্রাহকগণ তাদের চ্যানেল ব্যবহার করে যেন দেশীয় আইন বিরোধী (মানি লন্ডারিং,সন্ত্রাসীকাজে অর্থায়ন) ও শরী'আহর
দৃষ্টিতে অবৈধ কোনো লেনদেন না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ জাতীয় কোনো
ঘটনা ঘটলে তার দায় -দায়িত্ব ব্যাংক কোনোভাবেই বহন করবে না।
ড . ব্যাংক তার বিনিয়োগকে নিরাপদ করার জন্য
প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি/মর্টগেজ নিতে পারবে।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০১৬ সালে শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
Wednesday, 25 September 2019
ইসলামী ইন্টার ব্যাংক ফান্ড মার্কেটে লেনদেনের শর'ঈ নীতিমালা
বিষয় -৮৭ : বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ইসলামী আন্তঃব্যাংক ফান্ড মার্কেটে (Islamic Inter -Bank Fund Market -IIFM) লেনদেনের শর'ঈ নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহভিক্তিক তফসিলি ব্যাংক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার তফসিলি ব্যাংক কোম্পানির ইসলামী ব্যাংকিং শাখাসমূহের তারল্য ব্যবস্হাপনাকে অধিকতর সুসংহত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ইসলামী আন্তঃব্যাক ফান্ড মার্কেটে লেনদেনের নীতিমালা
নিম্নরূপ :
ক . ইসলামী শরী'আহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলো তাদের উদ্বৃত্ত তহবিল ইসলামী
বন্ড ফান্ডের (IBF) কাছে দৈনিক ভিত্তিতে হস্তান্তর
করতে পারে।
খ . জিম্মাদার হিসেবে 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' এই তহবিল গ্রহণ করবে। দৈনিক প্রোডাক্টের ভিক্তিতে মোট প্রাপ্ত তহবিলের বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর অর্জিত মুনাফা তহবিল সরবরাহকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে সাময়িকভাবে বন্টিত হবে।
সাময়িকভাবে বন্টিত মুনাফা বছর শেষে (জানুয়ারী - ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক
ঘোষিত চূড়ান্ত মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে। 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করায় প্রদত্ত তহবিল বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে তহবিলদাতাগণ কোনো মুনাফা প্রাপ্য হবে না।
গ . সব লেনদেন মুদারাবা ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। ঘ . 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কর্তৃক নির্ধারিত প্রফিট লস শেয়ারিং রেশিও (PLSR) অনুসারে আবেদনকারীকে (ইসলামী শরী'আহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার
ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা) ফান্ডের পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে আবেদনকৃত তহবিল সরবরাহ
করা হবে।
ঙ . তহবিলগ্রহীতা কর্তৃত ঘোষিত বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের সাময়িক মুনাফার হার অনুসারে মুনাফার হার নির্ধারিত হবে। ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদি আমানত কোনো তহবিল গ্রহীতার না থাকলে পরবর্তী মেয়াদের সাময়িক
মুনাফার হার ব্যবহৃত হবে।
চ . মেয়াদান্তে তহবিলগ্রহীতাকে নির্ধারিত পিএলএসআর অনুসারে মুনাফাসহ (যদি হয়) মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে। সাময়িকভাবে পরিশোধিত মুনাফা বছর শেষে ( জানুয়ারী -ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক ঘোষিত চূড়ান্ত
মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে।
ছ . গৃহীত তহবিলের মেয়াদ ১ দিন (ওভারনাইট)
হবে, তবে ছুটি থাকলে তা পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত বর্ধিত হবে।
জ . তহবিল লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নীতিমালা পরিপালন করতে হবে । এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকসমূহ তার
অতিরিক্ত তারল্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী বন্ড ফান্ড হিসাবে স্হানান্তর করতে পারবে। তবে
মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত ফান্ড বিনিয়োগ করার পর কোনো লোক সানের সম্মুখীন হলে সাহিবুল মাল হিসেবে ইসলামী ব্যাংকসমূহকে বহন করতে হবে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহভিক্তিক তফসিলি ব্যাংক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার তফসিলি ব্যাংক কোম্পানির ইসলামী ব্যাংকিং শাখাসমূহের তারল্য ব্যবস্হাপনাকে অধিকতর সুসংহত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ইসলামী আন্তঃব্যাক ফান্ড মার্কেটে লেনদেনের নীতিমালা
নিম্নরূপ :
ক . ইসলামী শরী'আহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলো তাদের উদ্বৃত্ত তহবিল ইসলামী
বন্ড ফান্ডের (IBF) কাছে দৈনিক ভিত্তিতে হস্তান্তর
করতে পারে।
খ . জিম্মাদার হিসেবে 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' এই তহবিল গ্রহণ করবে। দৈনিক প্রোডাক্টের ভিক্তিতে মোট প্রাপ্ত তহবিলের বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর অর্জিত মুনাফা তহবিল সরবরাহকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে সাময়িকভাবে বন্টিত হবে।
সাময়িকভাবে বন্টিত মুনাফা বছর শেষে (জানুয়ারী - ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক
ঘোষিত চূড়ান্ত মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে। 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করায় প্রদত্ত তহবিল বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে তহবিলদাতাগণ কোনো মুনাফা প্রাপ্য হবে না।
গ . সব লেনদেন মুদারাবা ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। ঘ . 'ইসলামী বন্ড ফান্ড' কর্তৃক নির্ধারিত প্রফিট লস শেয়ারিং রেশিও (PLSR) অনুসারে আবেদনকারীকে (ইসলামী শরী'আহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত ধারার
ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা) ফান্ডের পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে আবেদনকৃত তহবিল সরবরাহ
করা হবে।
ঙ . তহবিলগ্রহীতা কর্তৃত ঘোষিত বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের সাময়িক মুনাফার হার অনুসারে মুনাফার হার নির্ধারিত হবে। ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদি আমানত কোনো তহবিল গ্রহীতার না থাকলে পরবর্তী মেয়াদের সাময়িক
মুনাফার হার ব্যবহৃত হবে।
চ . মেয়াদান্তে তহবিলগ্রহীতাকে নির্ধারিত পিএলএসআর অনুসারে মুনাফাসহ (যদি হয়) মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে। সাময়িকভাবে পরিশোধিত মুনাফা বছর শেষে ( জানুয়ারী -ডিসেম্বর) তহবিল গ্রহীতা কর্তৃক ঘোষিত চূড়ান্ত
মুনাফার হার অনুসারে সমন্বিত হবে।
ছ . গৃহীত তহবিলের মেয়াদ ১ দিন (ওভারনাইট)
হবে, তবে ছুটি থাকলে তা পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত বর্ধিত হবে।
জ . তহবিল লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী বন্ড ফান্ড
কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নীতিমালা পরিপালন করতে হবে । এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকসমূহ তার
অতিরিক্ত তারল্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী বন্ড ফান্ড হিসাবে স্হানান্তর করতে পারবে। তবে
মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত ফান্ড বিনিয়োগ করার পর কোনো লোক সানের সম্মুখীন হলে সাহিবুল মাল হিসেবে ইসলামী ব্যাংকসমূহকে বহন করতে হবে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
মুদারাবার ভিক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহব
বিষয় -৮৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক, আইডিবি ও এডিবিসহ অন্যান্য বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক সংস্হা বিভিন্ন ব্যাংককে তহবিল প্রদান করে যা
তাদের নির্দেশিত -এসএমই পুনর্বিনিয়োগ, হোম লোন, নারী উদ্যোক্তা পুনর্বিনিয়োগ, কৃষিভিত্তিক পুনর্বিনিয়োগ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করতে হয়।
সাধারণত এ ধরনের তহবিলের বিপরীতে তহবিল
বা ফান্ডগ্রহীতার কাছ থেকে খুব কম মুনাফা গ্রহণ
করা হয়। সুদি নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত উক্ত ফান্ড ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ফান্ডদাতা প্রতিষ্ঠান যদি 'মুনাফায় অংশীদারিত্ব, সাহিবুল মাল কর্তৃক 'লোকসান বহন ' ইত্যাদি শর্তসহ মুদারাবার সকল নীতি মেনে নিয়ে ফান্ড প্রদানে সম্মত হয়, তাহলে ইসলামী ব্যাংক তা গ্রহণ করতে পারে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম
অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
তাদের নির্দেশিত -এসএমই পুনর্বিনিয়োগ, হোম লোন, নারী উদ্যোক্তা পুনর্বিনিয়োগ, কৃষিভিত্তিক পুনর্বিনিয়োগ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করতে হয়।
সাধারণত এ ধরনের তহবিলের বিপরীতে তহবিল
বা ফান্ডগ্রহীতার কাছ থেকে খুব কম মুনাফা গ্রহণ
করা হয়। সুদি নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত উক্ত ফান্ড ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ফান্ডদাতা প্রতিষ্ঠান যদি 'মুনাফায় অংশীদারিত্ব, সাহিবুল মাল কর্তৃক 'লোকসান বহন ' ইত্যাদি শর্তসহ মুদারাবার সকল নীতি মেনে নিয়ে ফান্ড প্রদানে সম্মত হয়, তাহলে ইসলামী ব্যাংক তা গ্রহণ করতে পারে।
(সূত্র: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৯তম
অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Tuesday, 24 September 2019
মুদারাবা কারবারে মুদারিবের নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ
বিষয় -৭৯ : ইসলামী ব্যাংক কোনো কোনো বিনিয়োগ গ্রাহকের সাথে মুদারাবি কারবারে অংশগ্রহণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সাহিবুল মাল হিসেবে পুঁজি সরবরাহ করে এবং গ্রাহক মুদারিব হিসেবে কারবার পরিচালনা করে। এখন ব্যবসার কোনো পর্যায়ে মুদারিব নিজের কিছু পুঁজি খাটালে উক্ত মুদারাবা কারবারটি মুশারাকা হয়ে যাবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা কারবার আরম্ভ করার পর
সাহিবুল মাল প্রদত্ত মূলধনের অতিরিক্ত কোনো
অর্থ যদি মুদারিব কারবারে বিনিয়োগ করে, তা হলে উক্ত কারবার কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং তা মুশারাকাও হয়ে যাবে না। বরং পূর্ববৎ মুদারাবাই থেকে যাবে। তবে মুদারিব কর্তৃক বিনিয়োগকৃত টাকার লাভ -লোকসানের দায়িত্ব মুদারিবের। অবশ্য সাহিবুল মাল -এর মুদারাবা তহবিল বিনিয়োগ করার পরই কেবল মুদারিব তার নিজের টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে, মুদারাবা কারবারে ব্যবহৃত মুদারিবের নিজ অর্থের যাবতীয় হিসাব -নিকাশ সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮০ : কোনো মুদারাবা মেয়াদি জমা হিসাব নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বন্ধ করা হলে তা থেকে আংশিক মুনাফা কর্তন করা বৈধ হবে কি?
সিদ্ধান্ত : টিডিআর ও অন্যান্য মেয়াদি জমা হিসাবের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নকালে
মুনাফা কর্তন না করে ন্যূনতম মুনাফা প্রদান করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৮১ : মুদারাবা পদ্ধতিতে প্রকল্পে লাভ হলে
চুক্তি অনুযায়ী মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে তা বন্টন হয় আর ক্ষতি হলে সাহিবুল মাল হিসেবে
ব্যাংককেই তা বহন করতে হয়। এ অবস্হায় কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : একই চুক্তির অধীনে চলমান মুদারাবার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী
লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ। তবে মুদারাবা বিনিয়োগটি চলমান মুদারাবা না হলে এবং উক্ত মুদারাবার লোকসান হলে উক্ত লোকসান একই গ্রাহকের অনুকূলে আলাদা বা পরবর্তী মুদারাবায় ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ নয়।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮২ : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে ব্যাংকের পাওনা
আদায় করা হয়। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হলেও গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে
ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে কনসাইনমেন্ট
(consignment) ভিত্তিতে মুদারাবা বিনিয়োগ করা হলে এবং সংশ্লিষ্ট মুদারাবা বিনিয়োগে লাভ হলে উক্ত লাভের অংশ দিয়ে বিনিয়োগের কিস্তি
পরিশোধে শরী'আহর কোনো বাধা নেই। কিন্তু মুদারাবা বিনিয়োগের মূলধন অপরিবর্তিত (intact) থাকলে এবং তা হতে কোনো লাভ/উৎপাদন না হলে উক্ত মুদারাবা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রিম কিস্তি আদায় বৈধ হবে না।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৩ : ইসলাসী ব্যাংকে অনুশীলিত মুদারাবা
পদ্ধতিতে বিনিয়োগলব্ধ মুনাফা মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বন্টিত হয়।
কিন্তু ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ অংশ কেবল সাহিবুল মালকে বহন করতে হয়। এমতাবস্হায় মুদারিব
কর্তৃক সাহিবুল মালের মূলধন অক্ষত থাকার গ্যারান্টি দেয়া বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ব্যবসায়ে লাভ -লোকসান যা -ই হোক না কেন সর্বাবস্হায় মুদারিব সাহিবুল মালের মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে -মুদারাবা বিনিয়োগে এরূপ শর্তরোপ করা বৈধ নয়। তবে মূলধনের নিরাপত্তার জন্য মুদারিবের কাছ থেকে
জামানত (mortgage/personal guarantee)
নেয়া যাবে এবং মুদারাবা ব্যবসায়ে সাহিবুল মালের তদারকি করার অধিকার থাকবে। তদুপরি
মুদারিবের অবহেলা বা অসততার কারণে মূলধনের লোকসান হলে উক্ত জামানতের মাধ্যমে
সাহিবুল মালের পাওনা আদায় করার ব্যাপারে
শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫২কম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ৮৪ : ইসলামী ব্যাংকের কোনো মুদারাবা জমাকারী মৃত্যুবরণ করলে তার মুদারাবা হিসাবে জমাকৃত অর্থ ব্যবহারের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কি?
সিদ্ধান্ত : মৃত ব্যক্তির মুদারাবা হিসাব তার ওয়ারিশ বা নমিনি কর্তৃক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে
এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত হিসাবে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৫ : ইসলামী ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (AD) শাখা কর্তৃক খোলা ইউজেন্স/ ডিফার্ড এলসির বিপরীতে গৃহীত (accepted) আমদানি
বিল সাইট ভিক্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং
ইউনিটের (OBU) মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS) সুবিধা ভোগ করার জন্য গ্রাহকগণ আবেদন করে থাকেন। উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অফশোর
ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে সাইট ভিত্তিতে বৈদেশিক দেনা পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের মার্জিন সাশ্রয় হয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে স্হানীয় মুদ্রায় আমদানি বিল পরিশোধ করা হলে তাকে আমদানি মূল্য বেশি পরিশোধ
করতে হয়। এমতাবস্হায় এ ধরনের বড় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ, আমদানি বাণিজ্যে ব্যাংকের অবস্হান আরো সুসংহতকরণ, সর্বোপরি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)
এর সাথে এবং রফতানি উন্নয়ন তহবিল (EDF)
এর ক্ষেত্রে অনুশীলিত নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা (মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ) পদ্ধতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমদানিকারকদের ইউজেন্স /ডিফার্ড এলসির বিপরীতে অথরাইজড ডিলার শাখা কর্তৃক গৃহীত (accepted) আমদানি বিল সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের
মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা পদ্ধতিতে তহবিল/বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইউজেন্স/ডিফার্ড এলসির বিপরীতে
গৃহীত (accepted) আমদানি বিল অ্যাট সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS)
সুবিধা প্রদানে মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
ক. আমদানিকারক মুরাবাহা চুক্তির ভিত্তিতে ওই শাখার মাধ্যমে দ্রব্য আমদানি করবেন।
খ. অথরাইড ডিলার শাখা ক) আমদানিকৃত দ্রব্য
গ্রাহকের কাছে মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয়
করবে। এ ধরনের আমদানির ক্ষেত্রে ইমপোর্ট এলসি হবে ইউজেন্স/ডিফার্ড পেমেন্টের ভিত্তিতে।
তবে সংশ্লিষ্ট এলসি -এর বিপরীতে আমদানি বিলের সূল্য অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে
অ্যাট সাইট ভিত্তিতে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ
থাকবে, খ) উক্ত সাইট পেমেন্ট রিফান্ডের জন্য ওমএডি শাখা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের সাথে
মুদারিব হিসেবে মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।
গ. অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সাহিবুল মাল হিসেবে অথরাইজড ডিলার (AD) এর সাথে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে এবং উক্ত
নির্দেশনা অনুযায়ী ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইটের ব্যবস্হা করবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা কারবার আরম্ভ করার পর
সাহিবুল মাল প্রদত্ত মূলধনের অতিরিক্ত কোনো
অর্থ যদি মুদারিব কারবারে বিনিয়োগ করে, তা হলে উক্ত কারবার কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং তা মুশারাকাও হয়ে যাবে না। বরং পূর্ববৎ মুদারাবাই থেকে যাবে। তবে মুদারিব কর্তৃক বিনিয়োগকৃত টাকার লাভ -লোকসানের দায়িত্ব মুদারিবের। অবশ্য সাহিবুল মাল -এর মুদারাবা তহবিল বিনিয়োগ করার পরই কেবল মুদারিব তার নিজের টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে, মুদারাবা কারবারে ব্যবহৃত মুদারিবের নিজ অর্থের যাবতীয় হিসাব -নিকাশ সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮০ : কোনো মুদারাবা মেয়াদি জমা হিসাব নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বন্ধ করা হলে তা থেকে আংশিক মুনাফা কর্তন করা বৈধ হবে কি?
সিদ্ধান্ত : টিডিআর ও অন্যান্য মেয়াদি জমা হিসাবের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নকালে
মুনাফা কর্তন না করে ন্যূনতম মুনাফা প্রদান করা যেতে পারে।
(সূত্র: ১৫ মে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৮১ : মুদারাবা পদ্ধতিতে প্রকল্পে লাভ হলে
চুক্তি অনুযায়ী মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে তা বন্টন হয় আর ক্ষতি হলে সাহিবুল মাল হিসেবে
ব্যাংককেই তা বহন করতে হয়। এ অবস্হায় কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : একই চুক্তির অধীনে চলমান মুদারাবার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ডিলে ক্ষতি হলে তা পরবর্তী
লাভজনক ডিলের সাথে সমন্বয় বা লস ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ। তবে মুদারাবা বিনিয়োগটি চলমান মুদারাবা না হলে এবং উক্ত মুদারাবার লোকসান হলে উক্ত লোকসান একই গ্রাহকের অনুকূলে আলাদা বা পরবর্তী মুদারাবায় ক্যারি
ফরোয়ার্ড করা বৈধ নয়।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮২ : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে ব্যাংকের পাওনা
আদায় করা হয়। এ ক্ষেত্রে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হলেও গ্রাহকদের থেকে কিস্তিতে
ব্যাংকের পাওনা আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে কনসাইনমেন্ট
(consignment) ভিত্তিতে মুদারাবা বিনিয়োগ করা হলে এবং সংশ্লিষ্ট মুদারাবা বিনিয়োগে লাভ হলে উক্ত লাভের অংশ দিয়ে বিনিয়োগের কিস্তি
পরিশোধে শরী'আহর কোনো বাধা নেই। কিন্তু মুদারাবা বিনিয়োগের মূলধন অপরিবর্তিত (intact) থাকলে এবং তা হতে কোনো লাভ/উৎপাদন না হলে উক্ত মুদারাবা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রিম কিস্তি আদায় বৈধ হবে না।
(সূত্র: ২৮ জুলাই ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১১১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৩ : ইসলাসী ব্যাংকে অনুশীলিত মুদারাবা
পদ্ধতিতে বিনিয়োগলব্ধ মুনাফা মুদারিব ও সাহিবুল মালের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বন্টিত হয়।
কিন্তু ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ অংশ কেবল সাহিবুল মালকে বহন করতে হয়। এমতাবস্হায় মুদারিব
কর্তৃক সাহিবুল মালের মূলধন অক্ষত থাকার গ্যারান্টি দেয়া বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ব্যবসায়ে লাভ -লোকসান যা -ই হোক না কেন সর্বাবস্হায় মুদারিব সাহিবুল মালের মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে -মুদারাবা বিনিয়োগে এরূপ শর্তরোপ করা বৈধ নয়। তবে মূলধনের নিরাপত্তার জন্য মুদারিবের কাছ থেকে
জামানত (mortgage/personal guarantee)
নেয়া যাবে এবং মুদারাবা ব্যবসায়ে সাহিবুল মালের তদারকি করার অধিকার থাকবে। তদুপরি
মুদারিবের অবহেলা বা অসততার কারণে মূলধনের লোকসান হলে উক্ত জামানতের মাধ্যমে
সাহিবুল মালের পাওনা আদায় করার ব্যাপারে
শরী'আহ বিশেষজ্ঞদের আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৪ মার্চ ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৫২কম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় - ৮৪ : ইসলামী ব্যাংকের কোনো মুদারাবা জমাকারী মৃত্যুবরণ করলে তার মুদারাবা হিসাবে জমাকৃত অর্থ ব্যবহারের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কি?
সিদ্ধান্ত : মৃত ব্যক্তির মুদারাবা হিসাব তার ওয়ারিশ বা নমিনি কর্তৃক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে
এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা মুদারাবা নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত হিসাবে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮৫ : ইসলামী ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (AD) শাখা কর্তৃক খোলা ইউজেন্স/ ডিফার্ড এলসির বিপরীতে গৃহীত (accepted) আমদানি
বিল সাইট ভিক্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং
ইউনিটের (OBU) মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS) সুবিধা ভোগ করার জন্য গ্রাহকগণ আবেদন করে থাকেন। উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অফশোর
ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে সাইট ভিত্তিতে বৈদেশিক দেনা পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের মার্জিন সাশ্রয় হয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে স্হানীয় মুদ্রায় আমদানি বিল পরিশোধ করা হলে তাকে আমদানি মূল্য বেশি পরিশোধ
করতে হয়। এমতাবস্হায় এ ধরনের বড় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ, আমদানি বাণিজ্যে ব্যাংকের অবস্হান আরো সুসংহতকরণ, সর্বোপরি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)
এর সাথে এবং রফতানি উন্নয়ন তহবিল (EDF)
এর ক্ষেত্রে অনুশীলিত নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা (মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ) পদ্ধতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমদানিকারকদের ইউজেন্স /ডিফার্ড এলসির বিপরীতে অথরাইজড ডিলার শাখা কর্তৃক গৃহীত (accepted) আমদানি বিল সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের
মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা পদ্ধতিতে তহবিল/বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইউজেন্স/ডিফার্ড এলসির বিপরীতে
গৃহীত (accepted) আমদানি বিল অ্যাট সাইট
ভিত্তিতে পরিশোধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইট (UPAS)
সুবিধা প্রদানে মুদারাবা -মুক্বাইয়্যাদাহ অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
ক. আমদানিকারক মুরাবাহা চুক্তির ভিত্তিতে ওই শাখার মাধ্যমে দ্রব্য আমদানি করবেন।
খ. অথরাইড ডিলার শাখা ক) আমদানিকৃত দ্রব্য
গ্রাহকের কাছে মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয়
করবে। এ ধরনের আমদানির ক্ষেত্রে ইমপোর্ট এলসি হবে ইউজেন্স/ডিফার্ড পেমেন্টের ভিত্তিতে।
তবে সংশ্লিষ্ট এলসি -এর বিপরীতে আমদানি বিলের সূল্য অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে
অ্যাট সাইট ভিত্তিতে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ
থাকবে, খ) উক্ত সাইট পেমেন্ট রিফান্ডের জন্য ওমএডি শাখা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের সাথে
মুদারিব হিসেবে মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।
গ. অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সাহিবুল মাল হিসেবে অথরাইজড ডিলার (AD) এর সাথে নিয়ন্ত্রিত মুদারাবা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে এবং উক্ত
নির্দেশনা অনুযায়ী ইউজেন্স পেমেন্ট অ্যাট সাইটের ব্যবস্হা করবে।
( সূত্র: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
ডিপোজিট ও রিজার্ভ ফান্ড দিয়ে ব্যাংকের সম্পদ ক্রয়
বিষয় - ৭৭ : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ ডিপোজিট এবং পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ ইত্যাদি তহবিল দিয়ে নিজের ব্যবহারের জন্য ইসলামী ব্যাংক কোনো সম্পদ ক্রয় করতে পারবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ জমার
অর্থ দিয়ে ব্যাংকের সম্পত্তি ক্রয় করা যাবে না। তবে পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ -এর অর্থ ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ/সম্পত্তি ক্রয় করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# রফতানি বিলের বিপরীতে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ
বিষয় -৭৮ :পণ্য জাহাজিকরণের পরে সংশ্লিষ্ট ডিলের সাথে সম্পৃক্ত পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া,
শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ নগদ অর্থের
চাহিদা পূরণে শরী'আহ কাউন্সল বাই' -আস -সরফ পদ্ধতিতে রফতানিমূল্যের বিপরীতে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের
অনুমোদন দান করে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে হার প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। মাঝে মধ্যে মুদ্রার দাম এত কমে যায় যে, বিলের বিপরীতে ক্রয় করা মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দিনে বিক্রয় করতে গিয়ে ব্যাংক ব্যাপক লোকসানের
সম্মুখীন হয়। ফলে ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ আয় অনেক কমে যায়। এমতাবস্হায় রফতানির পরে
গ্রাহকের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে 'বাই আস -সরফ' -এর বিকল্প হিসেবে নিয়ন্ত্রিত ( resticted) মুদারাবা বা মুদারাবাহ আল -মুক্বাইয়্যাদাহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণভাবে পোস্ট শিপমেন্ট -পর্যায়ে
মুদারাবা পদ্ধতির বিনিয়োগ মুদারাবার মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং এ ক্ষেত্রে মুশারাকা পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পারে। কেননা, রফতানিকারী গ্রাহক পণ্য তৈরি করে জাহাজিকরণ সম্পন্ন করার পর রফতানি বিলের অর্থ পাওয়ার জন্য বিল ব্যাংকে জমা দেন এবং এ অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলের পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া, ফ্যাক্টরি ভাড়া ও শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক দেনা মিটিয়ে থাকেন,
তাই তিনি তার ব্যবসার শেষ প্রান্তে এসে ব্যাংককে তাতে শরিক হওয়ার প্র'স্তাব করলে ব্যাংক তাতে শরিক হতে পারে। এটি কারো চলমান ব্যবসায়ে
কাউকে শরিক/অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার
সাথে তুলনীয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পালন করতে হবে।।
ক . বিল আদায়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার যে ঝুঁকি
রয়েছে অংশীদার হিসেবে ব্যাংক উক্ত ঝুঁকি বহন করতে সম্মত হবে।
খ . ব্যাংকের ইকুইটি রফতানিকৃত পণ্য তৈরি ও
রফতানি করতে যেসব খরচ হয়েছে সংশ্লিষ্ট
ব্যবসা সেসব খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
গ . মুশারাকার অন্যান সাধারণ নীতিমালা মেনে
চলতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে মুশারাকা
চুক্তি করে নেয়া সর্বোত্তম পন্হা এবং মুশারাকার শর'ঈ নীতির সাথে অধিকতর সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ। অতএব ব্যাংক প্রথম থেকেই গ্রাহকের সাথে
মুশারাকা চুক্তি করে রাখবে এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন তা কার্যকর করবে। যদি সম্ভব না হয়
তাহলে ব্যবসায়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে ব্যাংক যখন
তহবিল ( ইকুইটি) দেবে তখন চুক্তি করলেও চলবে। তবে ব্যাংক প্রথম থেকে চুক্তি করার বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োগ করার
চেষ্টা করবে।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : মুদারাবা ও আল -ওয়াদি'আহ জমার
অর্থ দিয়ে ব্যাংকের সম্পত্তি ক্রয় করা যাবে না। তবে পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও ইনভেস্টমেন্ট লস অফসেটিং রিজার্ভ -এর অর্থ ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ/সম্পত্তি ক্রয় করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
( সূত্র: ১৬ আগস্ট ২০০১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৯৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
# রফতানি বিলের বিপরীতে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ
বিষয় -৭৮ :পণ্য জাহাজিকরণের পরে সংশ্লিষ্ট ডিলের সাথে সম্পৃক্ত পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া,
শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ নগদ অর্থের
চাহিদা পূরণে শরী'আহ কাউন্সল বাই' -আস -সরফ পদ্ধতিতে রফতানিমূল্যের বিপরীতে বিল অব এক্সচেঞ্জ -এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় -বিক্রয়ের
অনুমোদন দান করে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে হার প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। মাঝে মধ্যে মুদ্রার দাম এত কমে যায় যে, বিলের বিপরীতে ক্রয় করা মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দিনে বিক্রয় করতে গিয়ে ব্যাংক ব্যাপক লোকসানের
সম্মুখীন হয়। ফলে ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ আয় অনেক কমে যায়। এমতাবস্হায় রফতানির পরে
গ্রাহকের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে 'বাই আস -সরফ' -এর বিকল্প হিসেবে নিয়ন্ত্রিত ( resticted) মুদারাবা বা মুদারাবাহ আল -মুক্বাইয়্যাদাহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণভাবে পোস্ট শিপমেন্ট -পর্যায়ে
মুদারাবা পদ্ধতির বিনিয়োগ মুদারাবার মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং এ ক্ষেত্রে মুশারাকা পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পারে। কেননা, রফতানিকারী গ্রাহক পণ্য তৈরি করে জাহাজিকরণ সম্পন্ন করার পর রফতানি বিলের অর্থ পাওয়ার জন্য বিল ব্যাংকে জমা দেন এবং এ অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলের পরিবহণ ব্যয়, জাহাজভাড়া, ফ্যাক্টরি ভাড়া ও শ্রমিকের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক দেনা মিটিয়ে থাকেন,
তাই তিনি তার ব্যবসার শেষ প্রান্তে এসে ব্যাংককে তাতে শরিক হওয়ার প্র'স্তাব করলে ব্যাংক তাতে শরিক হতে পারে। এটি কারো চলমান ব্যবসায়ে
কাউকে শরিক/অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার
সাথে তুলনীয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পালন করতে হবে।।
ক . বিল আদায়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার যে ঝুঁকি
রয়েছে অংশীদার হিসেবে ব্যাংক উক্ত ঝুঁকি বহন করতে সম্মত হবে।
খ . ব্যাংকের ইকুইটি রফতানিকৃত পণ্য তৈরি ও
রফতানি করতে যেসব খরচ হয়েছে সংশ্লিষ্ট
ব্যবসা সেসব খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
গ . মুশারাকার অন্যান সাধারণ নীতিমালা মেনে
চলতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে মুশারাকা
চুক্তি করে নেয়া সর্বোত্তম পন্হা এবং মুশারাকার শর'ঈ নীতির সাথে অধিকতর সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ। অতএব ব্যাংক প্রথম থেকেই গ্রাহকের সাথে
মুশারাকা চুক্তি করে রাখবে এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন তা কার্যকর করবে। যদি সম্ভব না হয়
তাহলে ব্যবসায়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে ব্যাংক যখন
তহবিল ( ইকুইটি) দেবে তখন চুক্তি করলেও চলবে। তবে ব্যাংক প্রথম থেকে চুক্তি করার বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োগ করার
চেষ্টা করবে।
(সূত্র: ২২ এপ্রিল ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Tuesday, 17 September 2019
মুদারাবা হিসাবে মুনাফার ওয়েটেজ পরিবর্তন
বিষয় -৭৪ : ব্যাংকের বিভিন্ন মুদারাবা জমা হিসাবে মুনাফা বন্টনের ওয়েটেজ পরিবর্তন করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালনসাপেক্ষে ব্যাংক যেকোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে পারবে :
ক. কোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে হলে শাখার নোটিশ বোর্ড বা ডিসপ্লের মাধ্যমে গ্রাহকদের অবহিত করার ব্যবস্হা করতে হবে।
খ. সাহিব আল -সিল -এর ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে।
গ. সাহিব আল -মাল যেন মুদারাবা চুক্তি মোতাবেক তার প্রাপ্য লভ্যাংশ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট হিসাব
বিষয় -৭৫ : নগদ অর্থ ওয়াকফ করা ও ইসলামী ব্যাংকের 'মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট' হিসাব পরিচালনার শর'ঈ নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : সব স্হাবর, অস্হাবর সম্পত্তি ও নগদ অর্থ ওয়াকফ করা যেতে পারে। তবে প্রস্তাবিত ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিম্নোরূপ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে :
ক. মুদারাবা 'ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট' খোলাসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাশ ওয়াকফ' তহবিল যেহেতু মুদারাবা নীতির ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয় সেহেতু লাভ -লোকসানের হিসাবও এ নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়াকফ তহবিল বা মূলধন অক্ষত (intact) না -ও থাকতে পারে। কারণ লোকসান হলে তা মূলধন থেকেই কর্তন করা হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে মূলধন অক্ষত থাকা শরী'আহসম্মত নয়।
খ. প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী ওয়াকফ -এর পক্ষ থেকে ব্যাংক ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার অভিযোগ উত্থাপিত হলে কিংবা অন্য যেকোনো যৌক্তিক কারণে ওয়াকফ তহবিল অন্যত্র স্হানান্তর করতে হলে ওয়াকিফ অথবা তার উত্তারাধিকারের জন্য সে সুযোগ থাকবে। তবে ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার দাবি যৌক্তিক কি না তা নির্ধারণের জন্য শরী'আহ কাউন্সলে প্রেরণ করা যেতে পারে।
গ. ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন
কমিটি ( independent committee) গঠন করা যেতে পারে, যে কমিটি ব্যাংকের ওয়াকফ ক্যাশ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামী শরী'আহ এবং দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী সর্বজন শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তি হবেন এ কমিটির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ইসলামী শরী'আহ
ও দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী আরো দুজন,
ওয়াকিফদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন ও ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সলের প্রতিনিধি হিসেবে একজনসহ কমপক্ষে চারজন সদস্য এ কমিটির অন্তর্ভূক্ত হবেন।
# কমিটির দায়িত্ব
@ ওয়াকফ হিসাব খোলা, পরিচালনা,
হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয়, ব্যয়, হিসাব বন্ধ,স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত প্রদান।
@ ওয়াকিফের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অনুপস্হিতিতে ওয়াকফ হিসাবের যেকোনো
সমস্যা বা প্রশ্নের সমাধান প্রদান।
@ ওয়াকিফ ও ব্যাংকের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান। :
@ ওয়াকফ ক্যাশ হিসাবের বিষয়ে এ
কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ঘ . সাধারণভাবে ক্যাশ ওয়াকফের মূল জমা একটি শাশ্বত ও চিরন্তন দানরূপে গ্রহণ করা হবে। তবে ঐ হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয় বা লাভ ব্যবহার বা ব্যয়ের ক্ষেত্র পরিবর্তন/স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে উল্লিখিত কমিটি ঐ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ঙ. যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে ব্যাংক যেকোনো ওয়াকফ ক্যাশ হিসাব খুলতে অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারে। এরূপ শর্ত আইনের দৃষ্টিতে বৈধ,কারণ, কাউকে কোনো চুক্তিতে তার অসম্মতিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা যায় না। তবে
আগেই খোলা হিসাব কোনো কারণে বন্ধ করা জরুরি হলে সংশ্লিষ্ট হিসাব বন্ধ করার পর ওয়াকফ তহবিলের ব্যবহার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা হিসাব খোলার আবেদনপত্রে থাকতে হবে। এর পরও কোনো প্রশ্ন দেখা দিলে উক্ত বিষয়ে প্রস্তাবিত কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে ।।
চ. যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা হবে তা সম্পন্ন বা
বাস্তবায়নের পর ওয়াকফের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে সে সম্বন্ধে 'ওয়াকফ হিসাব' খোলার সময় বিশেষ নির্দেশনা হিসাব খোলার পত্রে উল্লেখ থাকবে। এতদসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা হিসাব
খোলার আবেদনপত্রে উল্লেখ না থাকলে বা বিতর্ক দেখা দিলে কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। (সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৭৬ : ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট (MWCDA) বন্ধ বা স্হানান্তর করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রবর্তিত মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ( MWCDA) বন্ধ অথবা স্হানান্তরের
ক্ষেত্রে ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই। খুলাফায়ে রাশেদার যুগে ওয়াকফ সম্পদ
স্হানান্তরের নজির রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া তার
'মাজমু আতুল ফাতাওয়া' গ্রন্হের কিতাবুল ওয়াকফ -এ উল্লেখ করেছেন :
হযরত উমর রা. ইবনে মাসউদ রা. -কে কুফার জামে মসজিদকে খেজুর ব্যবসায়ীদের বাজারের স্হানে এবং বাজারকে উক্ত জামে মসজিদের স্হানে স্হানান্তরের জন্য নির্দেশ দেন এবং ইবনে মাসউদ রা. তা কার্যকর করেন।
(মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া, কিতাবুল ওয়াকফ, খ. ৩১,পৃ. ১২৭)
এ ছাড়া ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় তা মু'আমালাহর অন্তর্ভূক্ত। আর মু'আমালাহ বিষয়ে ইসলামী শরী'আহর মূলনীতি হচ্ছে, 'লেনদেনটি অবৈধ হওয়ার পক্ষে কোনো শর'ঈ
দলিল বা নস না পাওয়া গেলে তা বৈধ'। সুতরাং ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর করা যাবে না - মর্মে যেহেতু বিশুদ্ধ ও দ্ব্যর্থহীন কোনো দলিল নেই তাই ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর বৈধ। এ ব্যাপারে ব্যাংকের
মুদারাবা মোহর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে তার টাকা নিয়ে তার স্ত্রীর মোহর আদায় করল কি না কিংবা
হজ্বের টাকা নিয়ে হজ্ব করল কি না তা দেখা যেমন ব্যাংকের দায়িত্ব নয়, তেমনি ওয়াকফ (সাহিব আল -মাল) লাভজনক মনে করে তার ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা স্হানান্তর করে অন্য
কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে ওয়াকফ সম্পদের
পরবর্তী পরিণতি চিন্তা করে উক্ত ফান্ড আটকে রাখা মুদারিব হিসেবে ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে না।
(সূত্র: ১৩ জুন ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : নিম্নোক্ত শর্ত পরিপালনসাপেক্ষে ব্যাংক যেকোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে পারবে :
ক. কোনো প্রোডাক্টের ওয়েটেজ পরিবর্তন করতে হলে শাখার নোটিশ বোর্ড বা ডিসপ্লের মাধ্যমে গ্রাহকদের অবহিত করার ব্যবস্হা করতে হবে।
খ. সাহিব আল -সিল -এর ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে।
গ. সাহিব আল -মাল যেন মুদারাবা চুক্তি মোতাবেক তার প্রাপ্য লভ্যাংশ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট হিসাব
বিষয় -৭৫ : নগদ অর্থ ওয়াকফ করা ও ইসলামী ব্যাংকের 'মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট' হিসাব পরিচালনার শর'ঈ নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : সব স্হাবর, অস্হাবর সম্পত্তি ও নগদ অর্থ ওয়াকফ করা যেতে পারে। তবে প্রস্তাবিত ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিম্নোরূপ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে :
ক. মুদারাবা 'ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট' খোলাসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাশ ওয়াকফ' তহবিল যেহেতু মুদারাবা নীতির ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয় সেহেতু লাভ -লোকসানের হিসাবও এ নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়াকফ তহবিল বা মূলধন অক্ষত (intact) না -ও থাকতে পারে। কারণ লোকসান হলে তা মূলধন থেকেই কর্তন করা হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে মূলধন অক্ষত থাকা শরী'আহসম্মত নয়।
খ. প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী ওয়াকফ -এর পক্ষ থেকে ব্যাংক ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার অভিযোগ উত্থাপিত হলে কিংবা অন্য যেকোনো যৌক্তিক কারণে ওয়াকফ তহবিল অন্যত্র স্হানান্তর করতে হলে ওয়াকিফ অথবা তার উত্তারাধিকারের জন্য সে সুযোগ থাকবে। তবে ওয়াকিফ কর্তৃক ব্যাংকের অব্যবস্হাপনার দাবি যৌক্তিক কি না তা নির্ধারণের জন্য শরী'আহ কাউন্সলে প্রেরণ করা যেতে পারে।
গ. ওয়াকফ ব্যবস্হাপনার ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন
কমিটি ( independent committee) গঠন করা যেতে পারে, যে কমিটি ব্যাংকের ওয়াকফ ক্যাশ ব্যবস্হাপনার দায়িত্ব পালন করবে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামী শরী'আহ এবং দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী সর্বজন শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তি হবেন এ কমিটির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ইসলামী শরী'আহ
ও দেশের প্রচলিত আইনে পারদর্শী আরো দুজন,
ওয়াকিফদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন ও ব্যাংকের শরী'আহ কাউন্সলের প্রতিনিধি হিসেবে একজনসহ কমপক্ষে চারজন সদস্য এ কমিটির অন্তর্ভূক্ত হবেন।
# কমিটির দায়িত্ব
@ ওয়াকফ হিসাব খোলা, পরিচালনা,
হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয়, ব্যয়, হিসাব বন্ধ,স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত প্রদান।
@ ওয়াকিফের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অনুপস্হিতিতে ওয়াকফ হিসাবের যেকোনো
সমস্যা বা প্রশ্নের সমাধান প্রদান।
@ ওয়াকিফ ও ব্যাংকের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান। :
@ ওয়াকফ ক্যাশ হিসাবের বিষয়ে এ
কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ঘ . সাধারণভাবে ক্যাশ ওয়াকফের মূল জমা একটি শাশ্বত ও চিরন্তন দানরূপে গ্রহণ করা হবে। তবে ঐ হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয় বা লাভ ব্যবহার বা ব্যয়ের ক্ষেত্র পরিবর্তন/স্হানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে উল্লিখিত কমিটি ঐ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ঙ. যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে ব্যাংক যেকোনো ওয়াকফ ক্যাশ হিসাব খুলতে অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারে। এরূপ শর্ত আইনের দৃষ্টিতে বৈধ,কারণ, কাউকে কোনো চুক্তিতে তার অসম্মতিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা যায় না। তবে
আগেই খোলা হিসাব কোনো কারণে বন্ধ করা জরুরি হলে সংশ্লিষ্ট হিসাব বন্ধ করার পর ওয়াকফ তহবিলের ব্যবহার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা হিসাব খোলার আবেদনপত্রে থাকতে হবে। এর পরও কোনো প্রশ্ন দেখা দিলে উক্ত বিষয়ে প্রস্তাবিত কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে ।।
চ. যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা হবে তা সম্পন্ন বা
বাস্তবায়নের পর ওয়াকফের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে সে সম্বন্ধে 'ওয়াকফ হিসাব' খোলার সময় বিশেষ নির্দেশনা হিসাব খোলার পত্রে উল্লেখ থাকবে। এতদসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা হিসাব
খোলার আবেদনপত্রে উল্লেখ না থাকলে বা বিতর্ক দেখা দিলে কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। (সূত্র: ১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১১৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৭৬ : ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট (MWCDA) বন্ধ বা স্হানান্তর করা শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রবর্তিত মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ( MWCDA) বন্ধ অথবা স্হানান্তরের
ক্ষেত্রে ইসলামী শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই। খুলাফায়ে রাশেদার যুগে ওয়াকফ সম্পদ
স্হানান্তরের নজির রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া তার
'মাজমু আতুল ফাতাওয়া' গ্রন্হের কিতাবুল ওয়াকফ -এ উল্লেখ করেছেন :
হযরত উমর রা. ইবনে মাসউদ রা. -কে কুফার জামে মসজিদকে খেজুর ব্যবসায়ীদের বাজারের স্হানে এবং বাজারকে উক্ত জামে মসজিদের স্হানে স্হানান্তরের জন্য নির্দেশ দেন এবং ইবনে মাসউদ রা. তা কার্যকর করেন।
(মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়া, কিতাবুল ওয়াকফ, খ. ৩১,পৃ. ১২৭)
এ ছাড়া ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট মুদারাবা নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় তা মু'আমালাহর অন্তর্ভূক্ত। আর মু'আমালাহ বিষয়ে ইসলামী শরী'আহর মূলনীতি হচ্ছে, 'লেনদেনটি অবৈধ হওয়ার পক্ষে কোনো শর'ঈ
দলিল বা নস না পাওয়া গেলে তা বৈধ'। সুতরাং ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর করা যাবে না - মর্মে যেহেতু বিশুদ্ধ ও দ্ব্যর্থহীন কোনো দলিল নেই তাই ক্যাশ ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং স্হানান্তর বৈধ। এ ব্যাপারে ব্যাংকের
মুদারাবা মোহর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে তার টাকা নিয়ে তার স্ত্রীর মোহর আদায় করল কি না কিংবা
হজ্বের টাকা নিয়ে হজ্ব করল কি না তা দেখা যেমন ব্যাংকের দায়িত্ব নয়, তেমনি ওয়াকফ (সাহিব আল -মাল) লাভজনক মনে করে তার ওয়াকফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা স্হানান্তর করে অন্য
কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে ওয়াকফ সম্পদের
পরবর্তী পরিণতি চিন্তা করে উক্ত ফান্ড আটকে রাখা মুদারিব হিসেবে ব্যাংকের জন্য বৈধ হবে না।
(সূত্র: ১৩ জুন ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
মুদারাবা Bond মুদারাবা জমা হিসাবের সাময়িক মুনাফা ও চুড়ান্ত মুনাফার সমন্বয়
বর্তমানে ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের আগ পর্যন্ত মুদারাবা জমা হিসাবে সাময়িক হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। অতঃপর বছর শেষে লাভ -লোকসান হিসাব চুড়ান্তকরণের পর চূড়ান্ত মুনাফা ও সাময়িক হারেরপ্রদত্ত মুনাফার সমন্বয় করা হয়। অর্থাৎ মুনাফার সাময়িক হারের চেয়ে চূড়ান্ত হার বেশি হলে উক্ত অতিরিক্ত মুনাফা গ্রাহকের জমা হিসাবে স্হানান্তর এবং কম হলে তা উক্ত হিসাব থেকে কর্তন করা হয়। কিন্তু যেসব মুদারাবা জমা হিসাব
ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের আগেই বন্ধ হয়ে যায় সেসব হিসাব মুনাফা প্রদানের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের পর সাময়িক হারে প্রদত্ত মুনাফা থেকে চূড়ান্ত মুনাফা কম বা বেশি হলে তা চালু হিসিবসমূহে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কেউ
হিসাব বন্ধ করে চলে গেলে বেশি মুনাফার ক্ষেত্রে তার পাওনা টাকা তাকে প্রদান করা কিংবা কম মুনাফার ক্ষেত্রে তার কাছ থেকে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা কঠিন। এমতাবস্হায় মুদারাবা গ্রাহকদের বন্ধ হিসাবসমূহে প্রদেয় মুনাফা বন্টনে
যেন সমস্যা না হয় সেজন্য গ্রাহক যখনই কোনো মুদারাবা হিসাব বন্ধ করতে আসবেন তখনই তার সাথে অথবা তার পরিচিত অন্য কারো সাথে ভবিষ্যতে যোগাযোগের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই -মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি লিখে রাখতে হবে এবং
ব্যাংকের eIBS এ পোস্টিং দিতে হবে।
(সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের আগেই বন্ধ হয়ে যায় সেসব হিসাব মুনাফা প্রদানের শরী'আহসম্মত নীতিমালা কী ?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংকের লাভ -লোকসান হিসাব চূড়ান্তকরণের পর সাময়িক হারে প্রদত্ত মুনাফা থেকে চূড়ান্ত মুনাফা কম বা বেশি হলে তা চালু হিসিবসমূহে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কেউ
হিসাব বন্ধ করে চলে গেলে বেশি মুনাফার ক্ষেত্রে তার পাওনা টাকা তাকে প্রদান করা কিংবা কম মুনাফার ক্ষেত্রে তার কাছ থেকে ব্যাংকের পাওনা আদায় করা কঠিন। এমতাবস্হায় মুদারাবা গ্রাহকদের বন্ধ হিসাবসমূহে প্রদেয় মুনাফা বন্টনে
যেন সমস্যা না হয় সেজন্য গ্রাহক যখনই কোনো মুদারাবা হিসাব বন্ধ করতে আসবেন তখনই তার সাথে অথবা তার পরিচিত অন্য কারো সাথে ভবিষ্যতে যোগাযোগের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই -মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি লিখে রাখতে হবে এবং
ব্যাংকের eIBS এ পোস্টিং দিতে হবে।
(সূত্র: ২৫ জুন ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৭৮তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ে বিনিয়োগ
বিষয় -৬৭ : এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ের ক্ষেত্রে
শরী'আহসম্মত কোন পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়?
সিদ্ধান্ত : এয়ার টিকেটের মাধ্যমে সেবার ক্রয় -বিক্রয় হয়ে থাকে। যেহেতু এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতির পরিবর্তে মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দেয়াই সমীচীন।
(১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
মুশারাকা বিনিয়োগের মোট মুনাফা/নিট মুনাফা বন্টন
বিষয় -৬৮ : মুশারাকা প্রকল্পের বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করা বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সম্পাদিত মুশারাকা চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করায় শরী'আহতে কোনো বাধা নেই। যেমন - ১ . বীমা খরচ ২. পরিবহণ খরচ ৩. পণ্যের সরবরাহকারীকে মূল্য
পরিশোধের জন্য অর্থ প্রেরণ বাবদ ব্যাংকের খরচ ৪ . পণ্য ক্রয়ের জন্য ব্যাংক ও গ্রাহকের প্রতিনিধির যাতায়াত ও থাকা -খাওয়া বাবদ খরচ৫. গুদামজাতকরণ খরচ, ৬. বাজারজাতকরণ খরচ ইত্যাদি।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
মুশারাকা বিনিয়োগকে এইচপিএসএম -এ রূপান্তর
বিষয় -৬৯ : মুশারাকা পদ্ধতিতে গৃহীত বিনিয়োগ প্রকল্প লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃক মূলধন অনুপাতে লোকসান বহনের পরও গ্রাহক একসাথে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এ অবস্হায় উক্ত মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম পদ্ধতিতে রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত ক্ষেত্রে মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম বিনিয়োগে রূপান্তর করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কারণ, ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা ( retrospective effect) দিয়ে এইচপিএসএম চুক্তি করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ২৮ মার্চ ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সানড্রি হিসাবে সংরক্ষিত গ্রাহকের ইকুইটির ওপর মুনাফা প্রদান
বিষয় -৭০ : মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রদত্ত ইকুইটি মুশারাকা হিসাবে জমা না করে ব্যাংকের সানড্রি হিসাব
( sundry A/C -এ জমা করা শরী'আহসম্মত হবে কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা পদ্ধতিতে গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত ইকুইটি/মূলধনের অংশ ব্যাংকের বিবিধ হিসাবে জমা রাখার অনুশীলন একেবারেই অযৌক্তিক ও
অপ্রাসঙ্গিক। গ্রাহকের ও ব্যাংকের ইকুইটি সংশ্লিষ্ট
মুশারাকা বিনিয়োগ হিসাবে জমা হতে হবে এবং মুশারাকা কারবারের যাবতীয় লেনদেন হবে এই
হিসাবেই। এটি মুশারাকার অন্যতম শর্ত।
(সূত্র : ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
অংশীদার যথাসময়ে পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জরিমানা আদায়
বিষয় ৭১ : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা,
অব্যবস্হাপনা ও ক্রটির কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করা না গেলে অথবা হিসাব চূড়ান্ত করার পরও গ্রাহক ব্যাংকের পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা, অব্যবস্হাপনা ইত্যাদি কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হলে অথবা চূড়ান্ত হিসাবান্তে ব্যাংকের পাওনা প্রতিশ্রুত সময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের ওপর ক্ষতিপূরণ (compensation) আরোপ করা যাবে। তবে উক্ত ক্ষতিপূরণ বৈধ আয় হিসেবে গণ্য হবে না। উল্লেখ্য যে, উক্ত ক্ষতিপূরণ সুদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র: ৯ জুন ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় হিসেবে অন্তর্ভূূ্ক্ততীকরন
বিষয় -৭২ : মুশারাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত
করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়গের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
(সূত্র: ১০ জুন ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
শরী'আহসম্মত কোন পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়?
সিদ্ধান্ত : এয়ার টিকেটের মাধ্যমে সেবার ক্রয় -বিক্রয় হয়ে থাকে। যেহেতু এয়ার টিকেট ক্রয় -বিক্রয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে মুরাবাহা পদ্ধতির পরিবর্তে মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ দেয়াই সমীচীন।
(১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ১৬১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
মুশারাকা বিনিয়োগের মোট মুনাফা/নিট মুনাফা বন্টন
বিষয় -৬৮ : মুশারাকা প্রকল্পের বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করা বৈধ কি না?
সিদ্ধান্ত : ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের মধ্যে সম্পাদিত মুশারাকা চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ধারণ করায় শরী'আহতে কোনো বাধা নেই। যেমন - ১ . বীমা খরচ ২. পরিবহণ খরচ ৩. পণ্যের সরবরাহকারীকে মূল্য
পরিশোধের জন্য অর্থ প্রেরণ বাবদ ব্যাংকের খরচ ৪ . পণ্য ক্রয়ের জন্য ব্যাংক ও গ্রাহকের প্রতিনিধির যাতায়াত ও থাকা -খাওয়া বাবদ খরচ৫. গুদামজাতকরণ খরচ, ৬. বাজারজাতকরণ খরচ ইত্যাদি।
(সূত্র: ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৪৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
মুশারাকা বিনিয়োগকে এইচপিএসএম -এ রূপান্তর
বিষয় -৬৯ : মুশারাকা পদ্ধতিতে গৃহীত বিনিয়োগ প্রকল্প লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃক মূলধন অনুপাতে লোকসান বহনের পরও গ্রাহক একসাথে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এ অবস্হায় উক্ত মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম পদ্ধতিতে রূপান্তর করা শরী'আহসম্মত হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : উল্লিখিত ক্ষেত্রে মুশারাকা প্রকল্পটি এইচপিএসএম বিনিয়োগে রূপান্তর করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কারণ, ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা ( retrospective effect) দিয়ে এইচপিএসএম চুক্তি করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ২৮ মার্চ ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সানড্রি হিসাবে সংরক্ষিত গ্রাহকের ইকুইটির ওপর মুনাফা প্রদান
বিষয় -৭০ : মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রদত্ত ইকুইটি মুশারাকা হিসাবে জমা না করে ব্যাংকের সানড্রি হিসাব
( sundry A/C -এ জমা করা শরী'আহসম্মত হবে কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা পদ্ধতিতে গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত ইকুইটি/মূলধনের অংশ ব্যাংকের বিবিধ হিসাবে জমা রাখার অনুশীলন একেবারেই অযৌক্তিক ও
অপ্রাসঙ্গিক। গ্রাহকের ও ব্যাংকের ইকুইটি সংশ্লিষ্ট
মুশারাকা বিনিয়োগ হিসাবে জমা হতে হবে এবং মুশারাকা কারবারের যাবতীয় লেনদেন হবে এই
হিসাবেই। এটি মুশারাকার অন্যতম শর্ত।
(সূত্র : ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
অংশীদার যথাসময়ে পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জরিমানা আদায়
বিষয় ৭১ : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা,
অব্যবস্হাপনা ও ক্রটির কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করা না গেলে অথবা হিসাব চূড়ান্ত করার পরও গ্রাহক ব্যাংকের পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা কারবার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বিনিয়োগ গ্রাহকের অবহেলা, অব্যবস্হাপনা ইত্যাদি কারণে মুশারাকা হিসাবটি নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হলে অথবা চূড়ান্ত হিসাবান্তে ব্যাংকের পাওনা প্রতিশ্রুত সময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের ওপর ক্ষতিপূরণ (compensation) আরোপ করা যাবে। তবে উক্ত ক্ষতিপূরণ বৈধ আয় হিসেবে গণ্য হবে না। উল্লেখ্য যে, উক্ত ক্ষতিপূরণ সুদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র: ৯ জুন ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় হিসেবে অন্তর্ভূূ্ক্ততীকরন
বিষয় -৭২ : মুশারাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত
করা শরী'আহসম্মত কি না?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়গের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আয়কে প্রকৃত আয় বিবেচনা করে হিসাব চূড়ান্ত করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
(সূত্র: ১০ জুন ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Monday, 16 September 2019
কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষনে মুশারাকা পদ্ধতি
বিষয় -৬৬: কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষনের ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত কোন বিনিয়োগপদ্ধতি অনুশীলন করা যায়?
সিদ্ধান্ত : কোল্ড স্টোরেজে আলুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পরিপালনসাপেক্ষে গ্রাহকের সাথে ( কোল্ড স্টোরেজের সালিকের সাথে) মুনাফায় অংশগ্রহণ (income sharing) এর ভিত্তিতে 'মুশারাকা মুকাইয়্যাদাহ' অনুশীলন করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পালন করতে হবে :
ক. কোল্ড স্টোরেজের উল্লেখযোগ্য প্রধান প্রধান খরচকে হিসাবের অন্তর্ভূক্ত করা হবে (অন্যান্য খুচরা খরচ গ্রাহক বহন করবে)।
খ. আলু উৎপাদনকারী /সরবরাহকারী/এজেন্ট/পার্টিদেরকে অগ্রিম প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের /শাখার কর্মকর্তা/কর্মচারী সেখানে উপস্হিত থাকবেন এবং ব্যাংক -প্রদত্ত তহবিল গ্রাগক সুদমুক্তভাবে আলু ক্রয় -বিক্রয়ে ব্যবহার করবেন মর্মে চুক্তিপত্রে একটি ধারা সংযোজন করতে হবে। গ. আলু জমা রেখে কোল্ড স্টোরেজ থেকে উৎপাদনকারীকে যে রিসিট প্রদান করা হয় তার বিপরীতে কোনো ঋণ দেয়া যাবে না।
ঘ. সাধারণ মুশারাকার অন্যান্য শর্তাবলিও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
(সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৬ তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
সিদ্ধান্ত : কোল্ড স্টোরেজে আলুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পরিপালনসাপেক্ষে গ্রাহকের সাথে ( কোল্ড স্টোরেজের সালিকের সাথে) মুনাফায় অংশগ্রহণ (income sharing) এর ভিত্তিতে 'মুশারাকা মুকাইয়্যাদাহ' অনুশীলন করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পালন করতে হবে :
ক. কোল্ড স্টোরেজের উল্লেখযোগ্য প্রধান প্রধান খরচকে হিসাবের অন্তর্ভূক্ত করা হবে (অন্যান্য খুচরা খরচ গ্রাহক বহন করবে)।
খ. আলু উৎপাদনকারী /সরবরাহকারী/এজেন্ট/পার্টিদেরকে অগ্রিম প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের /শাখার কর্মকর্তা/কর্মচারী সেখানে উপস্হিত থাকবেন এবং ব্যাংক -প্রদত্ত তহবিল গ্রাগক সুদমুক্তভাবে আলু ক্রয় -বিক্রয়ে ব্যবহার করবেন মর্মে চুক্তিপত্রে একটি ধারা সংযোজন করতে হবে। গ. আলু জমা রেখে কোল্ড স্টোরেজ থেকে উৎপাদনকারীকে যে রিসিট প্রদান করা হয় তার বিপরীতে কোনো ঋণ দেয়া যাবে না।
ঘ. সাধারণ মুশারাকার অন্যান্য শর্তাবলিও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
(সূত্র: ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৬৬ তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
কনসাইনমেন্ট -ভিত্তিক মুশারাকার বৈধতা
বিষয় -৬৫ : মুশারাকা পদ্ধতিতে পুরো প্রকল্পে অংশগ্রহণের পরিবর্তে গ্রাহকের কোনো ডিলে কনসাইনমেন্ট বিনিয়োগ প্রদান করলে তা শরী'আহসম্মত হবে কি না?
সিদ্ধান্ত : শরী'আহর নীতিমালা পরিপালন সাপেক্ষে কনসাইনমেন্টভিত্তিক মুশারাকা করায় শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
সিদ্ধান্ত : শরী'আহর নীতিমালা পরিপালন সাপেক্ষে কনসাইনমেন্টভিত্তিক মুশারাকা করায় শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
Sunday, 15 September 2019
মুশারাকা মুতানাকিসা বা ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা
বিষয় -৬৪: মুশারাকা মুতানাকিসা বা ক্রমহ্রাসমান মুশারাকা পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে সাধারণ মুশারাকার অতিরিক্ত আর কী শর্ত পালন করতে হবে?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা মুতানাকিসা বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে মুশারাকার সাধারণ নিয়মাবলির পাশাপাশি নিম্নোক্ত শর্তাবলিও পরিপালন করতে হবে :
ক. প্রকল্প শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের অংশ অনুুুুরূপ মূল্যে ক্রয় করার অঙ্গীকার করবে না। কারণ, এতে এক অংশীদার কর্তৃক অপর অংশীদারের অংশের জামানত হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে ক্রয় -বিক্রয়ের দিনে বাজারমূল্যে কিংবা ক্রয় -বিক্রয়ককালে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিক্রিতব্য
অংশের মূল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত।
খ. মুশারাকার পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফার হার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। লাভের কোনো নির্দিষ্ট অম্ক নির্ধারণ করা যাবে না, তবে মূলধনের (শেয়ারের) হারে আনুপাতিক লাভ বন্টনের শর্ত করা বৈধ ।
গ. চুক্তিপত্রে মুশারাকার অন্যান্য দায়িত্ব -কর্তব্য
সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
(১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৫৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা মুতানাকিসা বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুশীলনের ক্ষেত্রে মুশারাকার সাধারণ নিয়মাবলির পাশাপাশি নিম্নোক্ত শর্তাবলিও পরিপালন করতে হবে :
ক. প্রকল্প শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের শুরুর সময়ে মুশারাকার কোনো একপক্ষ অপর পক্ষের অংশ অনুুুুরূপ মূল্যে ক্রয় করার অঙ্গীকার করবে না। কারণ, এতে এক অংশীদার কর্তৃক অপর অংশীদারের অংশের জামানত হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে ক্রয় -বিক্রয়ের দিনে বাজারমূল্যে কিংবা ক্রয় -বিক্রয়ককালে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিক্রিতব্য
অংশের মূল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত।
খ. মুশারাকার পক্ষসমূহের মধ্যে মুনাফার হার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। লাভের কোনো নির্দিষ্ট অম্ক নির্ধারণ করা যাবে না, তবে মূলধনের (শেয়ারের) হারে আনুপাতিক লাভ বন্টনের শর্ত করা বৈধ ।
গ. চুক্তিপত্রে মুশারাকার অন্যান্য দায়িত্ব -কর্তব্য
সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
(১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৫৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী।)
এক অংশীদারের অনুমতি ছাড়াই অপর অংশীদার কর্তৃক কারবার পরিদর্শন
বিষয় -৬৩ : মুশারাকা কারবারে এক অংশীদারের অনুমতি ছাড়াই অপর অংশীদার কর্তৃক কারবার পরিদর্শন করা বৈধ কি?
সিদ্ধান্ত : কারবারস্হলে যাওয়ার জন্য মুশারাকা
কারবারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পূর্ব অনুমতি ছাড়াই আকস্নিক পরিদর্শনে (surprise
visit) যাওয়া শুধু জায়েযই নয়, বরং প্রয়োজনে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ করা অবশ্যকর্তব্য। এতে ব্যাংক ও জনগণের আমানতের সুষ্ঠু সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
(সূত্র: ৩০ নভেম্বর ১৯৮৫সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : কারবারস্হলে যাওয়ার জন্য মুশারাকা
কারবারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পূর্ব অনুমতি ছাড়াই আকস্নিক পরিদর্শনে (surprise
visit) যাওয়া শুধু জায়েযই নয়, বরং প্রয়োজনে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ করা অবশ্যকর্তব্য। এতে ব্যাংক ও জনগণের আমানতের সুষ্ঠু সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
(সূত্র: ৩০ নভেম্বর ১৯৮৫সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
মুশারাকা কারবারে সম্পদকে মূলধন হিসেবে গণ্য করা
বিষয় -৬২ : মুশারাকা পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য কারবারে অংশগ্রহণকালে অংশীদারগণকে তাদের মাঝে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মূলধন জোগান দিতে হয়। সাধারণত উক্ত মূলধন নগদ আকারে হয়ে থাকে। কিন্তু যদি কোনো অংশীদার নগদ অর্থের পরিবর্তে কোনো ব্যবসায়িক পণ্যসামগ্রী, স্হাবর সম্পত্তি কিংবা অন্য কোনো অস্হাবর মেশিনারিজের মাধ্যমে মুশারাকা কারবারে অংশগ্রহণ করতে চায় সে ক্ষেত্রে শরী'আহর বিধান কি ?
সিদ্ধান্ত : সাধারণত কোনো মুশারাকা কারবারের অংশীদারগণ চুক্তি অনুযায়ী নগদ অর্থে মূলধনের
জোগান দিয়ে থাকেন। তবে কেউ যদি নগদ অর্থের পরিবর্তে ব্যবসায়িক পণ্য, স্হাবর সম্পত্তি,সেশিনারিজ -ইকুইপমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে তাতেও কতিপয় শর্তসাপেক্ষে শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই। শর্তগুলো নিম্নোরূপ :
ক. পণ্যের মাধ্যমে প্রদত্ত ইকুইটির যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করে নিতে হবে।
খ. উক্ত পণ্য সব ধরনের দায়মুক্ত হতে হবে।
গ. সংশ্লিষ্ট পণ্য আলোচ্য মুশারাকা কারবারে সরাসরি ব্যবহ্নত হতে হবে।
ঘ. পূর্ববর্তী অনাদায়ী /খেলাপি গ্রাহকের দেনা বর্তমান মুশারাকার ইকুইটি হতে পারবে না।
ঙ. সিকিউরিটি/মর্টগেজ করা সম্পত্তি ইকুইটি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : সাধারণত কোনো মুশারাকা কারবারের অংশীদারগণ চুক্তি অনুযায়ী নগদ অর্থে মূলধনের
জোগান দিয়ে থাকেন। তবে কেউ যদি নগদ অর্থের পরিবর্তে ব্যবসায়িক পণ্য, স্হাবর সম্পত্তি,সেশিনারিজ -ইকুইপমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে তাতেও কতিপয় শর্তসাপেক্ষে শরী'আহর কোনো আপত্তি নেই। শর্তগুলো নিম্নোরূপ :
ক. পণ্যের মাধ্যমে প্রদত্ত ইকুইটির যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করে নিতে হবে।
খ. উক্ত পণ্য সব ধরনের দায়মুক্ত হতে হবে।
গ. সংশ্লিষ্ট পণ্য আলোচ্য মুশারাকা কারবারে সরাসরি ব্যবহ্নত হতে হবে।
ঘ. পূর্ববর্তী অনাদায়ী /খেলাপি গ্রাহকের দেনা বর্তমান মুশারাকার ইকুইটি হতে পারবে না।
ঙ. সিকিউরিটি/মর্টগেজ করা সম্পত্তি ইকুইটি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
মুশারাকা মুশারাকা প্রকল্পে লোকসান হলে প্রাক্কলিত মুনাফা/ক্ষতিপূরণ আরোপ
বিষয় -৬০: মুশারাকা প্রকল্পে লোকসান হলে প্রদত্ত বিনিয়োগের ওপর প্রাক্কলিত মুনাফা আদায় এবং
ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষকে মুদূলধন অনুপাতে লোকসান বহন করতে হবে। সুতরাং মুশারাকা পদ্ধতির প্রকল্পে লোকসান হলে এ বিনিয়োগের ওপর প্রাক্কালিত মুনাফা আদায় ও ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র: ৩০ ডিসেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
মুশারাকা চুক্তি সম্পাদনের পর মূলধনের অংশ হ্রাস -বৃদ্ধি
বিষয় - ৬১ : মুশারাকা বিনিয়োগে অংশীদারগণের মূলধন ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণপূর্বক চুক্তিপত্র সম্পাদনের পর সব অংশীদারের সম্মতিক্রমে চলমান কারবারে মূলধনের পরিমাণ হ্রাস -বৃদ্ধি করা শশরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়োগ পদ্ধতিতে অংশীদারগণের মূলধনের অনুপাত ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ শেষে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কারবার শুরু করার পর অংশীদারগণের সম্মতিক্রমে যদি কোনো অংশীদারের মূলধনের পরিমান বৃদ্ধি করতে হয় তাহলে চুক্তিপত্রেও এ মর্মে একটা শর্ত যোগ করে নিতে হবে যে, 'প্রয়োজনবোধে কোনো অংশীদারের মূলধন বৃদ্ধি করা হলে তার মুনাফার হারও বৃদ্ধি করা যেতে পারে, এরূপ করা হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষকে মুদূলধন অনুপাতে লোকসান বহন করতে হবে। সুতরাং মুশারাকা পদ্ধতির প্রকল্পে লোকসান হলে এ বিনিয়োগের ওপর প্রাক্কালিত মুনাফা আদায় ও ক্ষতিপূরণ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র: ৩০ ডিসেম্বর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০১তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
মুশারাকা চুক্তি সম্পাদনের পর মূলধনের অংশ হ্রাস -বৃদ্ধি
বিষয় - ৬১ : মুশারাকা বিনিয়োগে অংশীদারগণের মূলধন ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণপূর্বক চুক্তিপত্র সম্পাদনের পর সব অংশীদারের সম্মতিক্রমে চলমান কারবারে মূলধনের পরিমাণ হ্রাস -বৃদ্ধি করা শশরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : মুশারাকা বিনিয়োগ পদ্ধতিতে অংশীদারগণের মূলধনের অনুপাত ও মুনাফা বন্টনের অনুপাত নির্ধারণ শেষে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কারবার শুরু করার পর অংশীদারগণের সম্মতিক্রমে যদি কোনো অংশীদারের মূলধনের পরিমান বৃদ্ধি করতে হয় তাহলে চুক্তিপত্রেও এ মর্মে একটা শর্ত যোগ করে নিতে হবে যে, 'প্রয়োজনবোধে কোনো অংশীদারের মূলধন বৃদ্ধি করা হলে তার মুনাফার হারও বৃদ্ধি করা যেতে পারে, এরূপ করা হলে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই।
(সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Monday, 9 September 2019
ফলের বাগান লিজ
বিষয় -৫৯ : ফলের বাগান লিজ দেয়া -নেয়ার ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি কি ??
সিদ্ধান্ত : ফলের বাগান লিজ দেয়া/নেয়ার বিষয়টি উমর রাঃ কর্তৃক অনুসৃত এবং সালাফে সালেহীনের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ, হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিলের মতে বৈধ। তা ছাড়া ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কাইয়্যিম ও সৌদি আরবের শীর্ষ উলামা বোর্ডের সাবেক সদস্য শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল -উছাইমিন র. এর মতেও ফলের গাছ লিজ নেয়া বা দেয়া জায়েয। কোনো কোনো বর্ণনা মতে এটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল র. এরও একটি মত (আহকাম আহলিযযিম্মাহ, খ. ১, পৃ. ১০৯) । যদিও হানাফি, শাফেঈ,মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহর মতে ফলের গাছ লিজ দেয়া জায়েয নেই।
জায়েয হওয়ার পক্ষে দলিল ও যুক্তি
ক. সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, উসাইদ বিন হুদাইর রা. যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তার ছয় হাজার দিনার ঋণ অনাদায়ী ছিল। এমতাবস্হায় উমর রা. পাওনাদারদের ডাকেন এবং তিনি তাদেরকে উসাইদ রা. -এর একটি জমি কয়েক বছরের জন্য
দিয়ে দেন যে জমিতে খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছপালা বিদ্যমান ছিল। এখানে উমর রা. কার্যত দিরহামের বিনিময়ে জমি ও বাগান কয়েক বছরের জন্য পাওনাদারদের কাছে লিজ দিয়ে উক্ত সাহাবিকে মৃত্যুর পর ঋণমুক্ত করার ব্যবস্হা করেছিলেন। এ ব্যাপারে কোনো সাহাবি উমর রা. এর এ সিদ্ধান্তেন বিরোধিতা করেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায় না (যাদুল মা'আদ, খ. ৫, পৃ.৮২৫) ।
খ. বাগান ইজারা দেয়ার বিষয়টি জমি ইজারা দেয়ার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, জমি তাকেই
ইজারা দেয়া হয়, যিনি তা চাষাবাদ করবেন, একইভাবে বাগানও ইজারা দেয়া যেতে পারে। জমি লিজগ্রহীতা চাষাবাদ করেন শস্য/ফসল লাভের উদ্দেশ্যে আর বাগান লিজগ্রহীতা পরিচর্যা
করেন ফল/ ফসল লাভ করার উদ্দেশ্যে।
গ. জমি ইজারা নেয়া এবং ফল বাগান ইজারা নেয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ প্রসঙ্গে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন বলেন, বাগানে উৎপন্ন ফলের একাংশ প্রদানের বিনিময়ে পরিচর্যাকারীর সাথে মুসাক্বাত চুক্তি জায়েয হলেও এক্ষেত্রে উৎপন্ন ফল ভাগ করার সময় উভয়ের মধ্যে কখনো কখনো বিবাদদেখা দিতে পারে। পক্ষান্তরে, ইজারার ক্ষেত্রে ভাড়া পূর্বনির্ধারিত। বাগানের মালিক তার
নির্ধারিত ভাড়া পেয়ে যাবেন এবং লিজগ্রহীতা জেনে যাবেন, উৎপন্ন সব ফল/ফসলই হবে তার, এর মধ্যে কেউ তার সাথে বিবাদ করতে আসবে না, সব ফল সেই ভোগ -ব্যবহার করবে। (আশ শরহুমুমতি আলা যাদিল মুসতানকি,মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৪)
এ ছাড়া শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতির অভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের বাগান লিজ গ্রহীতাগণ
বিভিন্ন মহাজন ও সুদী প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে
দাদন বা ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এমতাবস্হায় শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি চালু করা গেলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা সুদের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন অন্যদিকে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রও হবে সম্প্রসারিত।
জায়েয না হওয়ার পক্ষে দলিল
ক. রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছের ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন।। ( সহিহ মুসলিম) ।
খ. রাসূলুল্লাহ (সা: ) কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংঘটিত ক্ষয় -ক্ষতিকে ছাড় দিয়েছেস। (আবু দাউদ )।
গ. রাসূলুল্লাহ (সা:) বাই'মু'আওয়ামাহ বা কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)।
উল্লেখ্য, বাই' আস -সিনীন ও বাই' আল -মু' আওয়ামাহ বলতে লাগাতার দুই,তিন বা ততোধিক বছরের ফল বা ফসল অগ্রিম বিক্রি করাকে বুঝায়।
ঘ.'গারার আছে এমন কেনাবেচা করতে রাসূলুল্লাহ ( সা:) নিষেধ করেছেন '। (তিরমিযী) ।
যারা বাগান ইজারাকে নাজায়েজ মনে করেন
তাদের বক্তব্য হলো, উক্ত হাদীসগুলোতে গাছের
ফল/ফসল পরিপক্ক হওয়ার আগে ও ভবিষ্যতে কয়েক বছরের সম্ভাব্য উৎপন্ন ফল/ফসল অগ্রিম বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর বাগান ইজারা দেয়ার অর্থ হচ্ছে উপকারিতা বিক্রি করা যা উল্লিখিত হাদীসসমূহের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। তাছাড়া হাদীসে গারার (অস্পষ্টতা/অনিশ্চয়তা) আছে এমন কেনাবেচা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, গাছ/বাগান ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে গারারও রয়েছে। কেননা বাগানের
গাছ অনেক বেশি ফল/ফসল দিতে পারে আবার সামান্য ফল/ফসলও দিতে পারে। এমনকি কখনো বিপর্যয় / দুর্যোগের কারণে উৎপন্ন ফল/ফসল নষ্টও হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ যদি কোনো কারণে ফল/ফসল না হয় বা নষ্ট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং লিজদাতা একতরফাভাবে লাভবান হবেন, এটা ঠিক নয়।
নিষেধাজ্ঞা -সংক্রান্ত উক্ত হাদীসসমূহে বাগান লিজ দেয়াকে নিষেধ করা হয়নি। কারণ -
ক. হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে গাছে ফল আসার পর অপরিপক্ব সেে ফল ক্রয় -বিক্রয় করার বিষয়ে, আর প্রস্তাবিত ইজারা হচ্ছে গাছে ফল /ফসল আসার পূর্বের বিষয়। অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞার
হাদীসটি কেনাবেচার সাথে সংশ্লিষ্ট, ইজারা দেয়ার
সাথে নয়। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছে ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন , কিন্তু শুরু থেকে গাছ ইজারা দেয়াকে নিষেধ করেননি। আর দ্বিতীয়
সংশয়ের ব্যাপারে শাইখ উসাইমিন র. বলেছেন,
বাগানের গাছ ইজারা নেয়ার বিষয়টি বাগানের জমি ইজারা নেয়ার অনুরূপ। যেমন আপনি যদি এই জমিটি তার মালিক থেকে ইজারা নেন এবং
তাতে ফসল বপন করেন,এক্ষেত্রে আপনার উৎপন্ন ফসল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি হতে পারে আবার তা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কমও হতে পারে। খেজুর গাছের বিষয়টিও একই রকম। এক্ষেত্রে খেজুর গাছ 'আসল' (ইজারায় প্রদত্ত মূল সস্পদ) হিসাবে গণ্য হবে। যেমন ফসল বপনের ক্ষেত্রে জমি আসল (ইজারায় প্রদত্ত মূল) সম্পদ বলে গণ্য হবে। (আশ -শরহুল মুমতি ' আলা যাদিল মুসতানকি, মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৩) ।
আর প্রস্তাবিত বাগান লিজ গ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশম্কা কম। কেননা, চাষীরা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হয় সেজন্য বাগান সাধারণত এক বছরের জন্য লিজ
নেয় না। বরং ৩/৪ বা তার চেয়ে অধিক বছরের জন্য লিজ নেয়। ফলে গাছ/বাগান লিজগ্রহীতা চাষীরা কোনো এক বছরে কিছু কম লাভ করলে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হলেও গড়ে তারা লাভবান হবেন ।
খ. বিক্রি ও ইজারা/ভাড়া স্বতন্ত্র বিষয়। ফল অপরিপক্ব অবস্হায় বিক্রির ক্ষেত্রে বাগানের পরিচর্যার দায়িত্ব থেকে বাগান মালিকের ওপর। পক্ষান্তরে ইজারার ক্ষেত্রে বাগান পরিচর্যার দায়িত্ব থাকে ইজারাগ্রাহীতার ওপর।
গ. ফসল চাষের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে জমি কেরায়া (লিজ) গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফসল ভাগাভাগির শর্তে মুযারা'আ চুক্তি করা যেমন বৈধ তেমনি বাগানের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে বাগান লিজ গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফল/ফসল ভাগাভাগি করার শর্তে মুসাক্বাত চুক্তি করাও বৈধ।
ঘ. উপরন্তু লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জমি লিজ নেয়ার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। অর্থাৎ জমি লিজ নেয়ার পর ফসল চাষ করার পরে কোনো কারণে ফসল উৎপন্ন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তখন লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও লিজ -দাতা একতরফাভাবে লাভবান হবে। আমরা জানি যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) নগদ অর্থের বিনিময়ে জমি লিজ দেয়া বৈধ করেছেন। নিম্নোক্ত হাদীসটি এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য :
রাফে' ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা আনসাররা অধিকাংশই কৃষিকাজ করতাম। আমরা জমি লিজ দিতাম এ শর্তে যে, লিজ -দাতা জমির একটি নির্দিষ্ট অংশের ফসল নেবে ও লিজগ্রহীতা অপর অংশের ফসল নেবে।
এরূপ চুক্তির পর বাস্তবে কখনো এক অংশে ফসল উৎপাদিত হতো ও অপর অংশে কিছুই উৎপাদিত হতো না (এরূপ হলে একজন লাভবান হতো ও অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত হতো) । এরূপ করতে রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। অথচ নগদ অর্থের বিনিময়ে লিজ দিতে তিনি আমাদের নিষেধ করেননি (সহীহ মুসলিম)। অর্থাৎ, ফসল উৎপাদনের জন্য জমি ইজারা নেয়ার ক্ষেত্রেও ফসল কম -বেশি হাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতদসত্বেও নগদ অর্থের
বিনিময়ে ইজারা নেয়া বা দেয়াকে রাসূলুল্লাহ (সা:)
অনুমতি দিয়েছেন। পরিশেষে সভায় উপস্হিত
দলিলসমূহের সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে উমর রা. - এর আমল (কাজ) ও তার প্রতি সাহাবীদের মৌন সমর্থন, সালাফে সালেহীনদের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ,হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিল -এর অভিমত, ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ,
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম র. -এর অভিমত এবং মুতাআখখিরীন ফকিহগণের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন র. -এর মতো ফকিহগণের অভিমতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে আম বাগানসহ বিভিন্ন বাগানে অর্থায়নের ক্ষেত্রে লিজ অ্যান্ড সাব - লিজ (Lease and Sub Lease) বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। তবে,
ক. গ্রাহকের অবহেলা, চুক্তিভঙ্গ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও বাগান পরিচর্যায় শিথিলতা বা ত্রুটিজনিত কারণ ছাড়া অর্থাৎ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংশ্লিষ্ট বাগানের অধিকাংশ / উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস/ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংক পরবর্তী সময়ের জন্য আনুপাতিক হারে কম ভাড়া গ্রহণ করবে।
খ. সাধারণ ইজারার ক্ষেত্রে পালনীয় শর'ঈ শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
উল্লিখিত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক প্রথমে বাগানের মালিকের কাছ থেকে সমুদয় বাগান বা আংশিক (গ্রাহকের ইক্যুইটি/নিজস্ব তহবিল থেকে লিজ নেয়া অংশটুকু বাদ দিয়ে যতটুকু অবশিষ্ট থাকে সেটুকু) লিজ নেবে এবং গ্রাহকের কাছে অপেক্ষাকৃত বেশি ভাড়ায় লিজ দেবে। মূল মালিককে ভাড়া প্রদানের পরিমাণ ও গ্রাহক থেকে কিস্তিতে ভাড়া আদায়ের পরিমাণের মধ্যে ব্যবধানটুকু ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আয় বলে বিবেচিত হবে।
(সূত্র: ২৬ জানুয়ারী ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
সিদ্ধান্ত : ফলের বাগান লিজ দেয়া/নেয়ার বিষয়টি উমর রাঃ কর্তৃক অনুসৃত এবং সালাফে সালেহীনের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ, হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিলের মতে বৈধ। তা ছাড়া ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কাইয়্যিম ও সৌদি আরবের শীর্ষ উলামা বোর্ডের সাবেক সদস্য শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল -উছাইমিন র. এর মতেও ফলের গাছ লিজ নেয়া বা দেয়া জায়েয। কোনো কোনো বর্ণনা মতে এটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল র. এরও একটি মত (আহকাম আহলিযযিম্মাহ, খ. ১, পৃ. ১০৯) । যদিও হানাফি, শাফেঈ,মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহর মতে ফলের গাছ লিজ দেয়া জায়েয নেই।
জায়েয হওয়ার পক্ষে দলিল ও যুক্তি
ক. সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, উসাইদ বিন হুদাইর রা. যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তার ছয় হাজার দিনার ঋণ অনাদায়ী ছিল। এমতাবস্হায় উমর রা. পাওনাদারদের ডাকেন এবং তিনি তাদেরকে উসাইদ রা. -এর একটি জমি কয়েক বছরের জন্য
দিয়ে দেন যে জমিতে খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছপালা বিদ্যমান ছিল। এখানে উমর রা. কার্যত দিরহামের বিনিময়ে জমি ও বাগান কয়েক বছরের জন্য পাওনাদারদের কাছে লিজ দিয়ে উক্ত সাহাবিকে মৃত্যুর পর ঋণমুক্ত করার ব্যবস্হা করেছিলেন। এ ব্যাপারে কোনো সাহাবি উমর রা. এর এ সিদ্ধান্তেন বিরোধিতা করেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায় না (যাদুল মা'আদ, খ. ৫, পৃ.৮২৫) ।
খ. বাগান ইজারা দেয়ার বিষয়টি জমি ইজারা দেয়ার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, জমি তাকেই
ইজারা দেয়া হয়, যিনি তা চাষাবাদ করবেন, একইভাবে বাগানও ইজারা দেয়া যেতে পারে। জমি লিজগ্রহীতা চাষাবাদ করেন শস্য/ফসল লাভের উদ্দেশ্যে আর বাগান লিজগ্রহীতা পরিচর্যা
করেন ফল/ ফসল লাভ করার উদ্দেশ্যে।
গ. জমি ইজারা নেয়া এবং ফল বাগান ইজারা নেয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ প্রসঙ্গে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন বলেন, বাগানে উৎপন্ন ফলের একাংশ প্রদানের বিনিময়ে পরিচর্যাকারীর সাথে মুসাক্বাত চুক্তি জায়েয হলেও এক্ষেত্রে উৎপন্ন ফল ভাগ করার সময় উভয়ের মধ্যে কখনো কখনো বিবাদদেখা দিতে পারে। পক্ষান্তরে, ইজারার ক্ষেত্রে ভাড়া পূর্বনির্ধারিত। বাগানের মালিক তার
নির্ধারিত ভাড়া পেয়ে যাবেন এবং লিজগ্রহীতা জেনে যাবেন, উৎপন্ন সব ফল/ফসলই হবে তার, এর মধ্যে কেউ তার সাথে বিবাদ করতে আসবে না, সব ফল সেই ভোগ -ব্যবহার করবে। (আশ শরহুমুমতি আলা যাদিল মুসতানকি,মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৪)
এ ছাড়া শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতির অভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের বাগান লিজ গ্রহীতাগণ
বিভিন্ন মহাজন ও সুদী প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে
দাদন বা ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এমতাবস্হায় শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি চালু করা গেলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা সুদের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন অন্যদিকে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রও হবে সম্প্রসারিত।
জায়েয না হওয়ার পক্ষে দলিল
ক. রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছের ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন।। ( সহিহ মুসলিম) ।
খ. রাসূলুল্লাহ (সা: ) কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংঘটিত ক্ষয় -ক্ষতিকে ছাড় দিয়েছেস। (আবু দাউদ )।
গ. রাসূলুল্লাহ (সা:) বাই'মু'আওয়ামাহ বা কয়েক বছরের জন্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)।
উল্লেখ্য, বাই' আস -সিনীন ও বাই' আল -মু' আওয়ামাহ বলতে লাগাতার দুই,তিন বা ততোধিক বছরের ফল বা ফসল অগ্রিম বিক্রি করাকে বুঝায়।
ঘ.'গারার আছে এমন কেনাবেচা করতে রাসূলুল্লাহ ( সা:) নিষেধ করেছেন '। (তিরমিযী) ।
যারা বাগান ইজারাকে নাজায়েজ মনে করেন
তাদের বক্তব্য হলো, উক্ত হাদীসগুলোতে গাছের
ফল/ফসল পরিপক্ক হওয়ার আগে ও ভবিষ্যতে কয়েক বছরের সম্ভাব্য উৎপন্ন ফল/ফসল অগ্রিম বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর বাগান ইজারা দেয়ার অর্থ হচ্ছে উপকারিতা বিক্রি করা যা উল্লিখিত হাদীসসমূহের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। তাছাড়া হাদীসে গারার (অস্পষ্টতা/অনিশ্চয়তা) আছে এমন কেনাবেচা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, গাছ/বাগান ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে গারারও রয়েছে। কেননা বাগানের
গাছ অনেক বেশি ফল/ফসল দিতে পারে আবার সামান্য ফল/ফসলও দিতে পারে। এমনকি কখনো বিপর্যয় / দুর্যোগের কারণে উৎপন্ন ফল/ফসল নষ্টও হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ যদি কোনো কারণে ফল/ফসল না হয় বা নষ্ট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং লিজদাতা একতরফাভাবে লাভবান হবেন, এটা ঠিক নয়।
নিষেধাজ্ঞা -সংক্রান্ত উক্ত হাদীসসমূহে বাগান লিজ দেয়াকে নিষেধ করা হয়নি। কারণ -
ক. হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে গাছে ফল আসার পর অপরিপক্ব সেে ফল ক্রয় -বিক্রয় করার বিষয়ে, আর প্রস্তাবিত ইজারা হচ্ছে গাছে ফল /ফসল আসার পূর্বের বিষয়। অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞার
হাদীসটি কেনাবেচার সাথে সংশ্লিষ্ট, ইজারা দেয়ার
সাথে নয়। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা:) গাছে ফল ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে তা কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন , কিন্তু শুরু থেকে গাছ ইজারা দেয়াকে নিষেধ করেননি। আর দ্বিতীয়
সংশয়ের ব্যাপারে শাইখ উসাইমিন র. বলেছেন,
বাগানের গাছ ইজারা নেয়ার বিষয়টি বাগানের জমি ইজারা নেয়ার অনুরূপ। যেমন আপনি যদি এই জমিটি তার মালিক থেকে ইজারা নেন এবং
তাতে ফসল বপন করেন,এক্ষেত্রে আপনার উৎপন্ন ফসল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি হতে পারে আবার তা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কমও হতে পারে। খেজুর গাছের বিষয়টিও একই রকম। এক্ষেত্রে খেজুর গাছ 'আসল' (ইজারায় প্রদত্ত মূল সস্পদ) হিসাবে গণ্য হবে। যেমন ফসল বপনের ক্ষেত্রে জমি আসল (ইজারায় প্রদত্ত মূল) সম্পদ বলে গণ্য হবে। (আশ -শরহুল মুমতি ' আলা যাদিল মুসতানকি, মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন, প্রকাশক : দারু ইবনিল জাওযি, ১৪২২ হি, খ.৬,পৃ.৮৩) ।
আর প্রস্তাবিত বাগান লিজ গ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশম্কা কম। কেননা, চাষীরা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হয় সেজন্য বাগান সাধারণত এক বছরের জন্য লিজ
নেয় না। বরং ৩/৪ বা তার চেয়ে অধিক বছরের জন্য লিজ নেয়। ফলে গাছ/বাগান লিজগ্রহীতা চাষীরা কোনো এক বছরে কিছু কম লাভ করলে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হলেও গড়ে তারা লাভবান হবেন ।
খ. বিক্রি ও ইজারা/ভাড়া স্বতন্ত্র বিষয়। ফল অপরিপক্ব অবস্হায় বিক্রির ক্ষেত্রে বাগানের পরিচর্যার দায়িত্ব থেকে বাগান মালিকের ওপর। পক্ষান্তরে ইজারার ক্ষেত্রে বাগান পরিচর্যার দায়িত্ব থাকে ইজারাগ্রাহীতার ওপর।
গ. ফসল চাষের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে জমি কেরায়া (লিজ) গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফসল ভাগাভাগির শর্তে মুযারা'আ চুক্তি করা যেমন বৈধ তেমনি বাগানের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে বাগান লিজ গ্রহণ/প্রদান কিংবা উৎপাদিত ফল/ফসল ভাগাভাগি করার শর্তে মুসাক্বাত চুক্তি করাও বৈধ।
ঘ. উপরন্তু লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জমি লিজ নেয়ার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। অর্থাৎ জমি লিজ নেয়ার পর ফসল চাষ করার পরে কোনো কারণে ফসল উৎপন্ন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তখন লিজগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও লিজ -দাতা একতরফাভাবে লাভবান হবে। আমরা জানি যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) নগদ অর্থের বিনিময়ে জমি লিজ দেয়া বৈধ করেছেন। নিম্নোক্ত হাদীসটি এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য :
রাফে' ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা আনসাররা অধিকাংশই কৃষিকাজ করতাম। আমরা জমি লিজ দিতাম এ শর্তে যে, লিজ -দাতা জমির একটি নির্দিষ্ট অংশের ফসল নেবে ও লিজগ্রহীতা অপর অংশের ফসল নেবে।
এরূপ চুক্তির পর বাস্তবে কখনো এক অংশে ফসল উৎপাদিত হতো ও অপর অংশে কিছুই উৎপাদিত হতো না (এরূপ হলে একজন লাভবান হতো ও অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত হতো) । এরূপ করতে রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। অথচ নগদ অর্থের বিনিময়ে লিজ দিতে তিনি আমাদের নিষেধ করেননি (সহীহ মুসলিম)। অর্থাৎ, ফসল উৎপাদনের জন্য জমি ইজারা নেয়ার ক্ষেত্রেও ফসল কম -বেশি হাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতদসত্বেও নগদ অর্থের
বিনিময়ে ইজারা নেয়া বা দেয়াকে রাসূলুল্লাহ (সা:)
অনুমতি দিয়েছেন। পরিশেষে সভায় উপস্হিত
দলিলসমূহের সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে উমর রা. - এর আমল (কাজ) ও তার প্রতি সাহাবীদের মৌন সমর্থন, সালাফে সালেহীনদের মধ্যে লাইস ইবনে সা'দ,হারব কিরমানী ও আবুল ওয়াফা বিন আকিল -এর অভিমত, ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ,
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম র. -এর অভিমত এবং মুতাআখখিরীন ফকিহগণের মধ্যে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল উছাইমিন র. -এর মতো ফকিহগণের অভিমতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে আম বাগানসহ বিভিন্ন বাগানে অর্থায়নের ক্ষেত্রে লিজ অ্যান্ড সাব - লিজ (Lease and Sub Lease) বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। তবে,
ক. গ্রাহকের অবহেলা, চুক্তিভঙ্গ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও বাগান পরিচর্যায় শিথিলতা বা ত্রুটিজনিত কারণ ছাড়া অর্থাৎ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংশ্লিষ্ট বাগানের অধিকাংশ / উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস/ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংক পরবর্তী সময়ের জন্য আনুপাতিক হারে কম ভাড়া গ্রহণ করবে।
খ. সাধারণ ইজারার ক্ষেত্রে পালনীয় শর'ঈ শর্তাবলিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
উল্লিখিত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক প্রথমে বাগানের মালিকের কাছ থেকে সমুদয় বাগান বা আংশিক (গ্রাহকের ইক্যুইটি/নিজস্ব তহবিল থেকে লিজ নেয়া অংশটুকু বাদ দিয়ে যতটুকু অবশিষ্ট থাকে সেটুকু) লিজ নেবে এবং গ্রাহকের কাছে অপেক্ষাকৃত বেশি ভাড়ায় লিজ দেবে। মূল মালিককে ভাড়া প্রদানের পরিমাণ ও গ্রাহক থেকে কিস্তিতে ভাড়া আদায়ের পরিমাণের মধ্যে ব্যবধানটুকু ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আয় বলে বিবেচিত হবে।
(সূত্র: ২৬ জানুয়ারী ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৯৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
Sunday, 8 September 2019
'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' বা 'ফরওয়ার্ড ইজারা 'র শর্তাবলি
ক. বিনিয়োগ পদ্ধতির নাম যদিও ইজারা, কিন্ত এ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় ব্যাংকের মুনাফা (profit) হিসেবে গণ্য হবে, বের্তমানে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে স্হায়ী প্রকৃতির সম্পদ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ভাড়া ( rent) এর অনুরূপ হবে না। কারণ, এক্ষেত্রে ব্যাংক প্রথমে সেবাদাতা থেকে সেবা ইজারা নেবে এবং পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের নিকট তা মুনাফাসহ ইজারা দেবে। এক্ষেত্রে উভয় ইজারার মূল্যের মধ্যে পার্থক্য হবে
ব্যাংকের মুনাফা। অর্থাৎ এটি স্হায়ী সম্পদ থেকে অর্জিত ভাড়া নয়, বরং কমমূল্যে সেবা ইজারা নিয়ে তা বেশি মূল্যে ইজারা দেয়ার মাধ্যমে অর্জিত মূনাফা
খ. মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত চার্জ ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভূক্ত না করে ক্ষতিপূরণ (compensation) এর অন্তর্ভূক্ত হবে এবং তা জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
গ. ইসলামী ব্যাংক প্রথমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (Mou) স্বাক্ষর করবে। পরবর্তীকালে যখনই কোনো গ্রাহক সেবা নিতে আসবেন তখন উক্ত সমঝোতা স্মারকের আলোকে ব্যাংক গ্রাহকের সাথে চুক্তি করবে। উভয় চুক্তি আলাদা হতে হবে। এক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে গ্রাহক সেবা গ্রহণ করবে এবং প্রচলিত রীতি/চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবামূল্য পরিশোধ করবে আর গ্রাহক ব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত সেবামূল্য (উজরা) বাকিতে/কিস্তিতে পরিশোধ করবে।
ঘ. চুক্তিপত্রসমূহে সেবার বিস্তারিত বিবরণ, মূল্য, মান ও সরবরাহের সময় ও সরবরাহের স্হানসহ প্রযোজ্য শর্তাবলি এমনিভাবে সন্নিবেশিত হবে যাতে চুক্তিতে অস্পষ্টতা (জাহালাহ ও গারার) এর কারণে পরবর্তীতে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে উল্লেখিত সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হলে কিংবা অপুর্ণাঙ্/ক্রটিপূর্ণ সেবা প্রদান করলে তার প্রতিবিধান কী হবে তাও চুক্তিপত্রে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
ঙ. ভবিষ্যতে চুক্তিবদ্ধ পক্ষসমূহের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে -চুক্তিপত্রে এমন কোনো শর্ত সন্নিবেশন করা যাবে না।
( সূত্র: ২ আগষ্ট ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটি ১৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
ব্যাংকের মুনাফা। অর্থাৎ এটি স্হায়ী সম্পদ থেকে অর্জিত ভাড়া নয়, বরং কমমূল্যে সেবা ইজারা নিয়ে তা বেশি মূল্যে ইজারা দেয়ার মাধ্যমে অর্জিত মূনাফা
খ. মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত চার্জ ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভূক্ত না করে ক্ষতিপূরণ (compensation) এর অন্তর্ভূক্ত হবে এবং তা জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
গ. ইসলামী ব্যাংক প্রথমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (Mou) স্বাক্ষর করবে। পরবর্তীকালে যখনই কোনো গ্রাহক সেবা নিতে আসবেন তখন উক্ত সমঝোতা স্মারকের আলোকে ব্যাংক গ্রাহকের সাথে চুক্তি করবে। উভয় চুক্তি আলাদা হতে হবে। এক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে গ্রাহক সেবা গ্রহণ করবে এবং প্রচলিত রীতি/চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবামূল্য পরিশোধ করবে আর গ্রাহক ব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত সেবামূল্য (উজরা) বাকিতে/কিস্তিতে পরিশোধ করবে।
ঘ. চুক্তিপত্রসমূহে সেবার বিস্তারিত বিবরণ, মূল্য, মান ও সরবরাহের সময় ও সরবরাহের স্হানসহ প্রযোজ্য শর্তাবলি এমনিভাবে সন্নিবেশিত হবে যাতে চুক্তিতে অস্পষ্টতা (জাহালাহ ও গারার) এর কারণে পরবর্তীতে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে উল্লেখিত সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হলে কিংবা অপুর্ণাঙ্/ক্রটিপূর্ণ সেবা প্রদান করলে তার প্রতিবিধান কী হবে তাও চুক্তিপত্রে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
ঙ. ভবিষ্যতে চুক্তিবদ্ধ পক্ষসমূহের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে -চুক্তিপত্রে এমন কোনো শর্ত সন্নিবেশন করা যাবে না।
( সূত্র: ২ আগষ্ট ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটি ১৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ ' বা 'ফরওয়ার্ড ইজারা 'র অনুশীলন
যেসব গ্রাহক চিকিৎসা , শিক্ষা,ভ্রমণের টিকেট, হজ্ব ও উমরাহ, অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা ইত্যাদি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে আগ্রহী কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না , তাদের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (MoU) সম্পাদনের মাধ্যমে গ্রাহককে যুক্তিসঙ্গত সেবামূল্য (উজরা) এর বিনিময়ে সেবা প্রদানের ব্যবস্হা করততে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রথম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে নির্দিষ্ট সেবামূল্য (উজরা) এর বিনিময়ে সেবা গ্রহণের চুক্তি করবে এবং এরপর ব্যাংক উক্ত সেবাটি বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে বাকিতে / কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে অপেক্ষাকৃত বেশি মূল্য / পারিশ্রমিক (উজরা) এর বিনিময় প্রদান করবে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের পরিশোধিত সেবামূল্য (উজরা) ও গ্রাহক থেকে কিস্তিতে গৃহীত সেবামূল্য (উজারা) এর মধ্যকার ব্যবধানটুকু হবে ইসলামী ব্যাংকের আয়।
ইসলামী ব্যাংক প্রথমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করবে। পরবর্তীকালে যখনই কোনো গ্রাহক সেবা নিতে আসবেন তখন উক্ত সমঝোতা স্মারকের আলোকে ব্যাংক গ্রাহকের সাথে চুক্তি করবে এবং তার কাঙ্খিত সেবা প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ব্যাংক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবামূল্য (উজরা) পরিশোধ করবে। গ্রাহক ব্যাংকের নির্ধারিত সেবামূল্য ( উজরা) বাকিতে/কিস্তিতে পরিশোধ করবেন ।।
ইসলামী ব্যাংক প্রথমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করবে। পরবর্তীকালে যখনই কোনো গ্রাহক সেবা নিতে আসবেন তখন উক্ত সমঝোতা স্মারকের আলোকে ব্যাংক গ্রাহকের সাথে চুক্তি করবে এবং তার কাঙ্খিত সেবা প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ব্যাংক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবামূল্য (উজরা) পরিশোধ করবে। গ্রাহক ব্যাংকের নির্ধারিত সেবামূল্য ( উজরা) বাকিতে/কিস্তিতে পরিশোধ করবেন ।।
'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ ' বা 'ফরওয়ার্ড ইজারা 'র বৈশিষ্ট্য
ক . সুনির্দিষ্ট সেবা অর্থাৎ, যেসব ক্ষেত্রে কোন ধরনের সেবা প্রদান করা হবে তা নির্ধারিত থাকে -
এরূপ সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুশীলন করা হয়।
খ . 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ ' বাই সালাম
থেকে আলাদা। কেননা, বাই সালামের ক্ষেত্রে যেভাবে পণ্যের মূল্য অগ্রিম প্রদান করতে হয়, 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ 'তে সেভাবে অগ্রিম ভাড়া বা সেবামূল্য (উজরা) প্রদান করা জরুরি নয়। কারণ,ইজারাগ্রাহীতা সেবাটি গ্রহণ না
করা পর্যন্ত ইজারাদাতা ফি পাওয়ার হকদার হন না।
গ . অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা, বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণের টিকেট, হজ্ব ও উমরাহ, অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা ইত্যাদি সেবা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়।
ঘ . ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহর ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রে সালাম বা সালাফ পরিভাষা পরিহার করে 'ইজারা' বা সেবা প্রদান ও গ্রহণ পরিভাষা ব্যবহার করা হয়।
এরূপ সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুশীলন করা হয়।
খ . 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ ' বাই সালাম
থেকে আলাদা। কেননা, বাই সালামের ক্ষেত্রে যেভাবে পণ্যের মূল্য অগ্রিম প্রদান করতে হয়, 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ 'তে সেভাবে অগ্রিম ভাড়া বা সেবামূল্য (উজরা) প্রদান করা জরুরি নয়। কারণ,ইজারাগ্রাহীতা সেবাটি গ্রহণ না
করা পর্যন্ত ইজারাদাতা ফি পাওয়ার হকদার হন না।
গ . অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা, বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণের টিকেট, হজ্ব ও উমরাহ, অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা ইত্যাদি সেবা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়।
ঘ . ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহর ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রে সালাম বা সালাফ পরিভাষা পরিহার করে 'ইজারা' বা সেবা প্রদান ও গ্রহণ পরিভাষা ব্যবহার করা হয়।
Tuesday, 3 September 2019
এইচপিএসএম বিনিয়োগে অবকাশকালীন ভাড়া আদায়
বিষয় -৫৩ : বর্তমানে এইচপিএসএম বিনিয়োগে অবকাশকাল বা জেস্টেশন পিরিয়ড (gestation period) এর জন্য ভাড়া আদায় করা হয় না। তবে অবকাশকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর উক্ত
সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সম্পদের ওপর মূল্যসংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডিশন (value addition) করা হয়। এ ক্ষেত্রে এইচপিএসএম বিনিয়োগ হিসাব বিকলন করে উল্লিখিত বর্ধিত
মূল্যকে 'অনার্জিত আয় বা আন -আরনড় (unearned income) হিসাব' শিরোনামে স্হানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন কিস্তিতে তা আদায় করে ব্যাংকের বিনিয়োগ আয় (investment income) হিসাবে স্হানান্তর করা
হয়। এর ফলে এক বছরের আয় পরবর্তী কয়েক বছর ধরে আদায় করা হয়ে থাকে। এ কারণে নিম্নেরূপ জটিলতার সৃষ্টি হয়।
ক. এইচপিএসএম সম্পদের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা 'অনার্জিত আয়কে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের আয় হিসেবে গণ্য না করায় তা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (Intenational standard Accounting system) ও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (Bangladesh Accounting Standard) এর পরিপন্হী হয়।
খ . 'অনার্জিত আয় আদায়ের বর্তমান পদ্ধতিতে জমাকারী ও শেয়ারহোল্ডারগণ সংশ্লিষ্ট বছরের
তুলনামূলক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে যে সমস্ত জমাকারী হিসাব বন্ধ করেন এবং শেয়ারহোল্ডার শেয়ার বিক্রয় করেন তারা এ রকম হিসাব পদ্ধতির কারণে সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফা থেকে বঞ্চিত হন।
পক্ষান্তরে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের মুনাফা গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে আদায় না হলেও তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অ্যাক্রুয়াল সিস্টেম (accrual system) অনুসারে আদায় করা হয়। এমতাবস্হায় এইচপিএসএম সম্পদের
বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা 'অনার্জিত আয়কে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের মুনাফার অনুরূপ সরাসরি বিনিয়োগ আয় হিসেবে গণ্য করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : এইচপিএসএম বিনিয়োগের অনার্জিত আয় (unearned income) ভাড়া (rent) নয়, বরং সম্পদ ( asset) এর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য। আর সম্দদের মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের পরই কেবল ব্যাংক সম্পদের উক্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা অনার্জিত আয়ের হকদার হবে। এ জন্য বর্তমান পদ্ধতিতে কিস্তি পরিশোধের সাথে সাথে যখন সম্পদের আংশিক মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হয় তখন ব্যাংক তা আদায় করতে পারে। উল্লেখ্য, অবকাশকালে সম্পদ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা তো দূরের কথা, তখন সম্পদ
তৈরিই হয় না। তাই সে সময় সম্পদের ওপর ভাড়া
আরোপ করে তা আয় হিসেবে গণ্য করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। অন্য দিকে সম্পদটির মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে ধরা
হলে অন্যের অর্থাৎ গ্রাহকের মালিকানাধীন
সম্পদের ভাড়া ব্যাংক নিতে পারে না। অতএব,
অবকাশকালে সংশ্লিষ্ট সম্পদের বর্ধিত মূল্য বা
অনার্জিত আয়কে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের মুনাফার মতো সরাসরি বিনিয়োগ আয় হিসেবে গণ্য করা শরী'আহসম্মত
হবে না।
ক. বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে অ্যাক্রুয়াল ভিত্তিতে মুনাফা ধার্য/আদায় করার সাথে অবকাশকালের ভাড়াকে কিয়াস করা ফিক্বহের দৃষ্টিতে কিয়াস মা'আল ফারিক অর্থাৎ
,ভিন্ন প্রকৃতির বিষয়ের সাথে তুলনা। কেননা, বাই'মুরাবাহা / বাই'মুয়াজ্জালের ক্ষেত্রে সম্পদটি গ্রাহকের কাছে সম্পপূর্ণ বিক্রয় করে তার মালিকানা হস্তান্তর করা হয় এবং গ্রাহক উক্ত সম্পদ ব্যয়/ব্যবহার করতে পারে। এজন্য ব্যাংক উক্ত বিক্রয়লব্ধ মুনাফার হকদার হয়ে যায়। তাই
সে ক্ষেত্রে মুনাফাকে অ্যাক্রুয়াল ভিত্তিতে আয় হিসেবে গণ্য করতে শরী'আহ বিশেষজ্ঞগণ অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু এইচপিএসএম -এর
সম্পদের বর্ধিত আংশকি মূল্যের ওপর ব্যাংকের
হক প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ জন্য এটি অ্যাক্রুয়াল ভিত্তিতে আদায় করা বৈধ হবে না।
খ. এইচপিএসএম সম্পদের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা
অনার্জিত আয়কে একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরের আয় হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি ইন্টারন্যাশনাল
স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম ও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়াটা
জরুরি নয়। কারণ,তারা সুদভিত্তিক হিসাবপদ্ধতি
অনুসরণ করে থাকে। তাই শরী'আহর নীতি লঙ্গঘন করে তাদের হুবহু অনুসরণ করা ইসলামী ব্যাংকের জন্য সমীচীন হবে না।
গ. ডিপোজিটর ও শেয়ারহোল্ডারগণ বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখানে প্রযোজ্য নয়। কারণ, ডিপোজিটর ও শেয়ারহোল্ডারগণ শরী'আহসম্মত
হালাল আয়ের উদ্দেশ্যেই ইসলামী ব্যাংকে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করেছেন ও অর্থ জমা রেখেছেন। এ জন্যই সন্দেহজনক আয় তাদেরকে না দিয়ে জনকল্যাণে ব্যয় করা হয়। এখানে তাদের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি যেমন প্রযোজ্য নয় তেমনি অনার্জিত আয়ের বেলায়ও প্রযোজ্য নয়। কারণ, শরী'আহর দৃষ্টিতে অনার্জিত আয়ের ওপর কারো অধীকার বা হক প্রতিষ্ঠিত হয় না। অতএব, মুদারাবা জমাকারীদের অর্থ এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পদ তৈরি হওয়ার আগে তার কোনো ভাড়া বা বর্ধিত মূল্যের হকদার তারা হতে পারেন না। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের মুনাফা তারা যথারীতি পাবেন। কিন্তু কেউ
হিসাব বন্ধ করলে বা শেয়ার বিক্রয় করে ফেললে
তিতি স্বাভাবিক নিয়মেই সে লাভের অধিকারী হবেন না। তা ছাড়া ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে হিসাবধারীদের মুনাফাকে সামগ্রিকভাবে হিসাব করা হয়। শরী'আহসম্মতভাবে সংশ্লিষ্ট বছরের আয় যতটুকু হয়েছে তারা সেটুকুরই হকদার হবেন। উল্লেখ্য, এ কারণেই বছরের শেষে কেউ হিসাব খুললেও তাকে শুধু সংশ্লিষ্ট মাসের লাভের হার দেয়া হয় না, বরং সে যখন ছিল না সে সময়ের অর্থাৎ পুরো বছরের ব্যবসার লাভের হারেই তাকে লাভ দেয়া হয়। ব্যাংকের মতো একটি
বিশাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এভাবে হিসাব করাটাই স্বাভাবিক। বস্তুত এ ক্ষেত্রে এক বছরের আয়কে পরবর্তী বছরের আয় স্হানান্তর করার বিষয়টি শরী'আহ পরিপন্হী নয়। কেননা, ক্ষেত্রবিশেষে একজনের সম্পদ আরেকজনের সম্পদের সাথে মিশ্রিত হলে একজনের কিছু
সম্পদ আরেকজনের মধ্যে চলে যাওয়াটা প্রচলিত নিয়মেও গ্রহণযোগ্য।
(সূত্র: ১৪ মার্চ ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৫৪ :এইচপিএসএম বিনিয়োগের নিশ্চয়তাস্বরূপ বিনিয়োগ গ্রাহকের কোনো সম্পদ জামানত হিসেবে গ্রহণ করা ইসলামী বাংকের জন্য বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : এইচপিএসএম বিনিয়োগ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ ব্যাংক গ্রাহকের যেকোনো সম্পদ জামানত হিসেবে নিতে পারে এবং চুু্ক্তিতে উল্লেখ
থাকলে ব্যাংক উক্ত জামানত বিক্রয় করে বিনিয়োগের অর্থ সমন্বয় করে নিতে পারে ।
(সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
অস্তিত্বহীন ও হস্তান্তর অযোগ্য পণ্য বা সম্পদে বিনিয়োগ
বিষয় -৫৫ : অস্তিত্বহীন ও হস্তান্তর অযোগ্য পণ্য বা সম্পদের ওপর বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল ও এইচপিএসএম বিনিয়োগ করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : অস্তিত্বহীন, কল্পিত, হস্তান্তর অযোগ্য ও নামসর্বস্ব কোনো পণ্য বা সম্পদের ওপর বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল, হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক ইত্যাদি কোনো বিনিয়োগ পদ্ধতির অনুশীলনই শরী'আহসম্মত নয় এবং এ বিনিয়োগের ওপর ধার্যকৃত মুনাফা সুদ বলে পরিগণিত হবে।
( সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালো অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৫৬ : এইচপিএসএম বিনিয়োগের মাধ্যমে
নির্মিত আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য ইসলামী ব্যাংক পুনরায় বিনিয়োগ দিতে পারবে কি না?
সিদ্ধান্ত : আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তর করতে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত হবে। কেননা,আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের মাধ্যমে উক্ত সম্পদের মূল্য বাড়বে।
ব্যাংক কর্তৃক উক্ত সম্পদে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করলে ভবনে ব্যাংকের মালিকানার অনুপাত বাড়বে এবং মালিকানায় অনুপাত বাড়ায় ব্যাংকের ভাড়ার পরিমাণও বাড়বে।
(সূত্র: ২২ নভেম্বর ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
লিজ ও সাব -লিজ
বিষয় -৫৭ : ইসলামী ব্যাংকের কোনো কোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকগণ অগ্রিম টাকা প্রদান করে জমির মালিকের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত ও সহজে অনুশীলনযোগ্য কোনো বিনিয়োগপদ্ধতি আছে কি?
সিদ্ধান্ত : এ ক্ষেত্রে ইসলামী বাংক লিজ (lease) ও সাব -লিজ (sub lease) পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে। জমি ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রথমে বিনিয়োগ গ্রাহক কর্তৃক নির্ধারিত জমির মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদান করে সংশ্লিষ্ট জমি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রিজ নেবে। এরপর ব্যাংক উক্ত জমি অতিরিক্ত ভাড়ায় গ্রাহকের কাছে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সাব লিজে প্রদান করবে। বিনিয়োগ গ্রাহক শর্ত মোতাবেক ব্যাংকের ভাড়া কিস্তিতে বা এককালীন পরিশোধ করবে।
( ১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৫৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ
বিষয় -৫৮ :অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা (Event Management) ,চিকিৎসা ,বিদেশ ভ্রমণ, ভ্রমণের টিকিট ক্রয়, হজ্ব ও উমরাহ,উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগ পদ্ধতি হিসেবে 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' বা 'ফরওয়ার্ড ইজারা'র অনুশীলন শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা (Event Management) , বিদেশ ভ্রমণ, ভ্রমণের টিকেট ক্রয়,হজ্ব ও উমরাহ, চিকিৎসা , উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি
খাতে বিনিয়োগের জন্য শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ
পদ্ধতি হিসেবে 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' বা 'ফরওয়ার্ড ইজারা' প্রবর্তন করা যেতে পারে।
'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' বা forward Ijarah
' ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' এমন একটি
ক্রয় -বিক্রয় যাতে ভবিষ্যতে সেবা লাভের জন্য বর্তমানে মূল্য পরিশোধ করা হয়। কুয়েতের বিখ্যাত ফিকহ বিশ্বকোষ 'আল -মাওসুআহ আল -ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যাহ' এর ইজারাতুয
যিম্মাহ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ভাড়া প্রদানকারীর সাথে চুক্তিকৃত সেবা গ্রহণের অধিকার লাভের জন্য যে ধরনের ইজারা সংঘটিত হয় তাকে ইজারা ওয়ারিদ আলায যিম্মাহ বা ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ বলা হয়। যেমন কেউ আরোহণের জন্য
অথবা কোনো বস্তু বহন করার জন্য কোনো বাহন
ভাড়া করে বলল যে, 'আপনার কাছ থেকে অমুক
বাহনটি অমুক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমি
ভাড়া করলাম' অথবা 'আমি এ জামাটি সেলাই করার জন্য অথবা এ দেয়ালটি এভাবে নির্মাণ করার জন্য আপনাকে দায়িত্ব প্রদান করলাম।
সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সম্পদের ওপর মূল্যসংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডিশন (value addition) করা হয়। এ ক্ষেত্রে এইচপিএসএম বিনিয়োগ হিসাব বিকলন করে উল্লিখিত বর্ধিত
মূল্যকে 'অনার্জিত আয় বা আন -আরনড় (unearned income) হিসাব' শিরোনামে স্হানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন কিস্তিতে তা আদায় করে ব্যাংকের বিনিয়োগ আয় (investment income) হিসাবে স্হানান্তর করা
হয়। এর ফলে এক বছরের আয় পরবর্তী কয়েক বছর ধরে আদায় করা হয়ে থাকে। এ কারণে নিম্নেরূপ জটিলতার সৃষ্টি হয়।
ক. এইচপিএসএম সম্পদের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা 'অনার্জিত আয়কে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের আয় হিসেবে গণ্য না করায় তা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (Intenational standard Accounting system) ও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (Bangladesh Accounting Standard) এর পরিপন্হী হয়।
খ . 'অনার্জিত আয় আদায়ের বর্তমান পদ্ধতিতে জমাকারী ও শেয়ারহোল্ডারগণ সংশ্লিষ্ট বছরের
তুলনামূলক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে যে সমস্ত জমাকারী হিসাব বন্ধ করেন এবং শেয়ারহোল্ডার শেয়ার বিক্রয় করেন তারা এ রকম হিসাব পদ্ধতির কারণে সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফা থেকে বঞ্চিত হন।
পক্ষান্তরে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের মুনাফা গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে আদায় না হলেও তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অ্যাক্রুয়াল সিস্টেম (accrual system) অনুসারে আদায় করা হয়। এমতাবস্হায় এইচপিএসএম সম্পদের
বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা 'অনার্জিত আয়কে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের মুনাফার অনুরূপ সরাসরি বিনিয়োগ আয় হিসেবে গণ্য করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : এইচপিএসএম বিনিয়োগের অনার্জিত আয় (unearned income) ভাড়া (rent) নয়, বরং সম্পদ ( asset) এর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য। আর সম্দদের মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের পরই কেবল ব্যাংক সম্পদের উক্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা অনার্জিত আয়ের হকদার হবে। এ জন্য বর্তমান পদ্ধতিতে কিস্তি পরিশোধের সাথে সাথে যখন সম্পদের আংশিক মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হয় তখন ব্যাংক তা আদায় করতে পারে। উল্লেখ্য, অবকাশকালে সম্পদ গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা তো দূরের কথা, তখন সম্পদ
তৈরিই হয় না। তাই সে সময় সম্পদের ওপর ভাড়া
আরোপ করে তা আয় হিসেবে গণ্য করা শরী'আহর দৃষ্টিতে বৈধ নয়। অন্য দিকে সম্পদটির মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে ধরা
হলে অন্যের অর্থাৎ গ্রাহকের মালিকানাধীন
সম্পদের ভাড়া ব্যাংক নিতে পারে না। অতএব,
অবকাশকালে সংশ্লিষ্ট সম্পদের বর্ধিত মূল্য বা
অনার্জিত আয়কে বাই'মুরাবাহা বা বাই'মুয়াজ্জালের মুনাফার মতো সরাসরি বিনিয়োগ আয় হিসেবে গণ্য করা শরী'আহসম্মত
হবে না।
ক. বাই'মুরাবাহা ও বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে অ্যাক্রুয়াল ভিত্তিতে মুনাফা ধার্য/আদায় করার সাথে অবকাশকালের ভাড়াকে কিয়াস করা ফিক্বহের দৃষ্টিতে কিয়াস মা'আল ফারিক অর্থাৎ
,ভিন্ন প্রকৃতির বিষয়ের সাথে তুলনা। কেননা, বাই'মুরাবাহা / বাই'মুয়াজ্জালের ক্ষেত্রে সম্পদটি গ্রাহকের কাছে সম্পপূর্ণ বিক্রয় করে তার মালিকানা হস্তান্তর করা হয় এবং গ্রাহক উক্ত সম্পদ ব্যয়/ব্যবহার করতে পারে। এজন্য ব্যাংক উক্ত বিক্রয়লব্ধ মুনাফার হকদার হয়ে যায়। তাই
সে ক্ষেত্রে মুনাফাকে অ্যাক্রুয়াল ভিত্তিতে আয় হিসেবে গণ্য করতে শরী'আহ বিশেষজ্ঞগণ অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু এইচপিএসএম -এর
সম্পদের বর্ধিত আংশকি মূল্যের ওপর ব্যাংকের
হক প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ জন্য এটি অ্যাক্রুয়াল ভিত্তিতে আদায় করা বৈধ হবে না।
খ. এইচপিএসএম সম্পদের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বা
অনার্জিত আয়কে একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরের আয় হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি ইন্টারন্যাশনাল
স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম ও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়াটা
জরুরি নয়। কারণ,তারা সুদভিত্তিক হিসাবপদ্ধতি
অনুসরণ করে থাকে। তাই শরী'আহর নীতি লঙ্গঘন করে তাদের হুবহু অনুসরণ করা ইসলামী ব্যাংকের জন্য সমীচীন হবে না।
গ. ডিপোজিটর ও শেয়ারহোল্ডারগণ বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখানে প্রযোজ্য নয়। কারণ, ডিপোজিটর ও শেয়ারহোল্ডারগণ শরী'আহসম্মত
হালাল আয়ের উদ্দেশ্যেই ইসলামী ব্যাংকে মুদারাবা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করেছেন ও অর্থ জমা রেখেছেন। এ জন্যই সন্দেহজনক আয় তাদেরকে না দিয়ে জনকল্যাণে ব্যয় করা হয়। এখানে তাদের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি যেমন প্রযোজ্য নয় তেমনি অনার্জিত আয়ের বেলায়ও প্রযোজ্য নয়। কারণ, শরী'আহর দৃষ্টিতে অনার্জিত আয়ের ওপর কারো অধীকার বা হক প্রতিষ্ঠিত হয় না। অতএব, মুদারাবা জমাকারীদের অর্থ এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পদ তৈরি হওয়ার আগে তার কোনো ভাড়া বা বর্ধিত মূল্যের হকদার তারা হতে পারেন না। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের মুনাফা তারা যথারীতি পাবেন। কিন্তু কেউ
হিসাব বন্ধ করলে বা শেয়ার বিক্রয় করে ফেললে
তিতি স্বাভাবিক নিয়মেই সে লাভের অধিকারী হবেন না। তা ছাড়া ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে হিসাবধারীদের মুনাফাকে সামগ্রিকভাবে হিসাব করা হয়। শরী'আহসম্মতভাবে সংশ্লিষ্ট বছরের আয় যতটুকু হয়েছে তারা সেটুকুরই হকদার হবেন। উল্লেখ্য, এ কারণেই বছরের শেষে কেউ হিসাব খুললেও তাকে শুধু সংশ্লিষ্ট মাসের লাভের হার দেয়া হয় না, বরং সে যখন ছিল না সে সময়ের অর্থাৎ পুরো বছরের ব্যবসার লাভের হারেই তাকে লাভ দেয়া হয়। ব্যাংকের মতো একটি
বিশাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এভাবে হিসাব করাটাই স্বাভাবিক। বস্তুত এ ক্ষেত্রে এক বছরের আয়কে পরবর্তী বছরের আয় স্হানান্তর করার বিষয়টি শরী'আহ পরিপন্হী নয়। কেননা, ক্ষেত্রবিশেষে একজনের সম্পদ আরেকজনের সম্পদের সাথে মিশ্রিত হলে একজনের কিছু
সম্পদ আরেকজনের মধ্যে চলে যাওয়াটা প্রচলিত নিয়মেও গ্রহণযোগ্য।
(সূত্র: ১৪ মার্চ ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৫৪ :এইচপিএসএম বিনিয়োগের নিশ্চয়তাস্বরূপ বিনিয়োগ গ্রাহকের কোনো সম্পদ জামানত হিসেবে গ্রহণ করা ইসলামী বাংকের জন্য বৈধ হবে কি ?
সিদ্ধান্ত : এইচপিএসএম বিনিয়োগ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ ব্যাংক গ্রাহকের যেকোনো সম্পদ জামানত হিসেবে নিতে পারে এবং চুু্ক্তিতে উল্লেখ
থাকলে ব্যাংক উক্ত জামানত বিক্রয় করে বিনিয়োগের অর্থ সমন্বয় করে নিতে পারে ।
(সূত্র: ১২ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৪র্থ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
অস্তিত্বহীন ও হস্তান্তর অযোগ্য পণ্য বা সম্পদে বিনিয়োগ
বিষয় -৫৫ : অস্তিত্বহীন ও হস্তান্তর অযোগ্য পণ্য বা সম্পদের ওপর বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল ও এইচপিএসএম বিনিয়োগ করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : অস্তিত্বহীন, কল্পিত, হস্তান্তর অযোগ্য ও নামসর্বস্ব কোনো পণ্য বা সম্পদের ওপর বাই'মুরাবাহা, বাই'মুয়াজ্জাল, হায়ার পার্চেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক ইত্যাদি কোনো বিনিয়োগ পদ্ধতির অনুশীলনই শরী'আহসম্মত নয় এবং এ বিনিয়োগের ওপর ধার্যকৃত মুনাফা সুদ বলে পরিগণিত হবে।
( সূত্র: ৪ নভেম্বর ১৯৯১ সালো অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৩২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৫৬ : এইচপিএসএম বিনিয়োগের মাধ্যমে
নির্মিত আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য ইসলামী ব্যাংক পুনরায় বিনিয়োগ দিতে পারবে কি না?
সিদ্ধান্ত : আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তর করতে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদান করা শরী'আহসম্মত হবে। কেননা,আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের মাধ্যমে উক্ত সম্পদের মূল্য বাড়বে।
ব্যাংক কর্তৃক উক্ত সম্পদে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করলে ভবনে ব্যাংকের মালিকানার অনুপাত বাড়বে এবং মালিকানায় অনুপাত বাড়ায় ব্যাংকের ভাড়ার পরিমাণও বাড়বে।
(সূত্র: ২২ নভেম্বর ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।
লিজ ও সাব -লিজ
বিষয় -৫৭ : ইসলামী ব্যাংকের কোনো কোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকগণ অগ্রিম টাকা প্রদান করে জমির মালিকের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে শরী'আহসম্মত ও সহজে অনুশীলনযোগ্য কোনো বিনিয়োগপদ্ধতি আছে কি?
সিদ্ধান্ত : এ ক্ষেত্রে ইসলামী বাংক লিজ (lease) ও সাব -লিজ (sub lease) পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে। জমি ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রথমে বিনিয়োগ গ্রাহক কর্তৃক নির্ধারিত জমির মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদান করে সংশ্লিষ্ট জমি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রিজ নেবে। এরপর ব্যাংক উক্ত জমি অতিরিক্ত ভাড়ায় গ্রাহকের কাছে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সাব লিজে প্রদান করবে। বিনিয়োগ গ্রাহক শর্ত মোতাবেক ব্যাংকের ভাড়া কিস্তিতে বা এককালীন পরিশোধ করবে।
( ১৮ মার্চ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সুপারভাইজরি কমিটির ১৫৭তম অধিবেশনের
কার্যবিবরণী )।
ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ
বিষয় -৫৮ :অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা (Event Management) ,চিকিৎসা ,বিদেশ ভ্রমণ, ভ্রমণের টিকিট ক্রয়, হজ্ব ও উমরাহ,উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগ পদ্ধতি হিসেবে 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' বা 'ফরওয়ার্ড ইজারা'র অনুশীলন শরী'আহসম্মত কি না ?
সিদ্ধান্ত : অনুষ্ঠান ব্যবস্হাপনা (Event Management) , বিদেশ ভ্রমণ, ভ্রমণের টিকেট ক্রয়,হজ্ব ও উমরাহ, চিকিৎসা , উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি
খাতে বিনিয়োগের জন্য শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ
পদ্ধতি হিসেবে 'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' বা 'ফরওয়ার্ড ইজারা' প্রবর্তন করা যেতে পারে।
'ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' বা forward Ijarah
' ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ' এমন একটি
ক্রয় -বিক্রয় যাতে ভবিষ্যতে সেবা লাভের জন্য বর্তমানে মূল্য পরিশোধ করা হয়। কুয়েতের বিখ্যাত ফিকহ বিশ্বকোষ 'আল -মাওসুআহ আল -ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যাহ' এর ইজারাতুয
যিম্মাহ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ভাড়া প্রদানকারীর সাথে চুক্তিকৃত সেবা গ্রহণের অধিকার লাভের জন্য যে ধরনের ইজারা সংঘটিত হয় তাকে ইজারা ওয়ারিদ আলায যিম্মাহ বা ইজারা মাওছুফা ফিয -যিম্মাহ বলা হয়। যেমন কেউ আরোহণের জন্য
অথবা কোনো বস্তু বহন করার জন্য কোনো বাহন
ভাড়া করে বলল যে, 'আপনার কাছ থেকে অমুক
বাহনটি অমুক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমি
ভাড়া করলাম' অথবা 'আমি এ জামাটি সেলাই করার জন্য অথবা এ দেয়ালটি এভাবে নির্মাণ করার জন্য আপনাকে দায়িত্ব প্রদান করলাম।
এইচপিএসএম -এ সম্পদ ক্রয়ের আবশ্যকতা
বিষয় -৫২ : এইচপিএসএম বিনিয়োগ পদ্ধতিতে প্রচলিত নিয়মানুসারে গ্রাহকের যে ইকুইটি নেয়া হয় তা দিয়ে সম্পদ ক্রয় না করে ব্যাংকের সানড্রি হিসাবে জমা রাখা শরী'আহসম্মত হবে কি না এবং চার্জ ডকুমেন্টে গ্রাহকের আনুপাতিক মালিকিনার স্বীকৃতি
সিদ্ধান্ত : এইচপিএসএম বা ইজারা বিল বাই' তাহতা শিরকাতিল মিলক পদ্ধতিতে গ্রাহকের অংশের টাকা বা ইকুইটি সংশ্লিষ্ট শিরকাতুল মিলক বিনিয়োগ হিসাব বা গ্রাহকের চলতি হিসাবে জমা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইকুইটি ব্যাংকের অংশের সাথে যুক্ত করে তা দিয়ে প্রত্যাশিত সম্পদ ক্রয় তরতে হবে। এরূপে ক্রীত
সম্পদের ওপর আনুপাতিক হারে উভয়ের যৌথ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে। সম্পাদিত চুক্তিপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রের সর্বত্রই উভয়পক্ষের আনুপাতিক মালিকানার স্বীকৃতি থাকতে হবে। চুক্তি মোতাবেক গ্রাহক ব্যাংকের অংশ পর্যায়ক্রমে কিনে নিতে থাকবে।
(সূত্র: ১৮ মার্চ ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : এইচপিএসএম বা ইজারা বিল বাই' তাহতা শিরকাতিল মিলক পদ্ধতিতে গ্রাহকের অংশের টাকা বা ইকুইটি সংশ্লিষ্ট শিরকাতুল মিলক বিনিয়োগ হিসাব বা গ্রাহকের চলতি হিসাবে জমা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইকুইটি ব্যাংকের অংশের সাথে যুক্ত করে তা দিয়ে প্রত্যাশিত সম্পদ ক্রয় তরতে হবে। এরূপে ক্রীত
সম্পদের ওপর আনুপাতিক হারে উভয়ের যৌথ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে। সম্পাদিত চুক্তিপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রের সর্বত্রই উভয়পক্ষের আনুপাতিক মালিকানার স্বীকৃতি থাকতে হবে। চুক্তি মোতাবেক গ্রাহক ব্যাংকের অংশ পর্যায়ক্রমে কিনে নিতে থাকবে।
(সূত্র: ১৮ মার্চ ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩৬শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Monday, 2 September 2019
গৃহনির্মাণ খাতে শরী'আহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি
বিষয় -৫১ : গৃহনির্মাণ খাতে বিনিয়োগের শরী'আহসম্মত পদ্ধতি কী? এ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোন কোন নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়?
সিদ্ধান্ত : গৃহনির্মাণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শরী'আহসম্মত পদ্ধতি ও নীতিমালা অনুশীলন করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক গ্রাহকের অনুরোধক্রমে তারই প্রদত্ত জমিতে অনুমোদিত প্ল্যান অনুসারে ভবন নির্মাণের চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে এবং নির্মিত ভবন কিস্তিতে/এককালীন মূল্য পরিশোধের শর্তে বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে তার কাছে বিক্রয় করতে পারে।
খ. জমির মালিকের কাছ থেকে ব্যাংক জমির কিয়দংশ কিনে নিয়ে মুশারাকা পদ্ধতিতে নির্মাণের কাজ অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ী করতে পারে এবং মুশারাকা মুতানাকিসার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের প্রাপ্য আদায়ের পর গ্রাহকের কাছে তা হস্তাস্তর করতে পারে।
গ. ব্যাংক সরাসরি জমি ক্রয় করে তার ওপর পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করে তা বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে কিস্তিতে বিক্রয় করতে পারে।
ঘ. ব্যাক অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ী সরবরাহকারী
থেকে নির্মাণসামগ্রী কিনে তা গ্রাহকের কাছে বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় করতে পারে।
ঙ. ব্যাক কনস্ট্রাকশনের চুক্তিতে গ্রাহকের অনুরোধক্রমে তারই জমিতে অনুমোদিত প্ল্যান অনুসারে ভবন নির্মাণ করতে পারে এবং নির্মাণ কাজ শেষে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তিতে ব্যাংকের পাওনা তার কাছ থেকে আদায় করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কনট্রাক্টর হিসেবে ভবন তৈরী করবে।
( সূত্র: ১৫ অক্টোবর ১৯৮৭ ও ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৮শ ও ১৯শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
সিদ্ধান্ত : গৃহনির্মাণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শরী'আহসম্মত পদ্ধতি ও নীতিমালা অনুশীলন করা যেতে পারে :
ক. ব্যাংক গ্রাহকের অনুরোধক্রমে তারই প্রদত্ত জমিতে অনুমোদিত প্ল্যান অনুসারে ভবন নির্মাণের চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে এবং নির্মিত ভবন কিস্তিতে/এককালীন মূল্য পরিশোধের শর্তে বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে তার কাছে বিক্রয় করতে পারে।
খ. জমির মালিকের কাছ থেকে ব্যাংক জমির কিয়দংশ কিনে নিয়ে মুশারাকা পদ্ধতিতে নির্মাণের কাজ অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ী করতে পারে এবং মুশারাকা মুতানাকিসার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের প্রাপ্য আদায়ের পর গ্রাহকের কাছে তা হস্তাস্তর করতে পারে।
গ. ব্যাংক সরাসরি জমি ক্রয় করে তার ওপর পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করে তা বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে কিস্তিতে বিক্রয় করতে পারে।
ঘ. ব্যাক অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ী সরবরাহকারী
থেকে নির্মাণসামগ্রী কিনে তা গ্রাহকের কাছে বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে বিক্রয় করতে পারে।
ঙ. ব্যাক কনস্ট্রাকশনের চুক্তিতে গ্রাহকের অনুরোধক্রমে তারই জমিতে অনুমোদিত প্ল্যান অনুসারে ভবন নির্মাণ করতে পারে এবং নির্মাণ কাজ শেষে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তিতে ব্যাংকের পাওনা তার কাছ থেকে আদায় করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কনট্রাক্টর হিসেবে ভবন তৈরী করবে।
( সূত্র: ১৫ অক্টোবর ১৯৮৭ ও ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৮শ ও ১৯শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
Subscribe to:
Posts (Atom)