ক. বিনিয়োগ পদ্ধতির নাম যদিও ইজারা, কিন্ত এ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় ব্যাংকের মুনাফা (profit) হিসেবে গণ্য হবে, বের্তমানে এইচপিএসএম পদ্ধতিতে স্হায়ী প্রকৃতির সম্পদ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ভাড়া ( rent) এর অনুরূপ হবে না। কারণ, এক্ষেত্রে ব্যাংক প্রথমে সেবাদাতা থেকে সেবা ইজারা নেবে এবং পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের নিকট তা মুনাফাসহ ইজারা দেবে। এক্ষেত্রে উভয় ইজারার মূল্যের মধ্যে পার্থক্য হবে
ব্যাংকের মুনাফা। অর্থাৎ এটি স্হায়ী সম্পদ থেকে অর্জিত ভাড়া নয়, বরং কমমূল্যে সেবা ইজারা নিয়ে তা বেশি মূল্যে ইজারা দেয়ার মাধ্যমে অর্জিত মূনাফা
খ. মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত চার্জ ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভূক্ত না করে ক্ষতিপূরণ (compensation) এর অন্তর্ভূক্ত হবে এবং তা জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
গ. ইসলামী ব্যাংক প্রথমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (Mou) স্বাক্ষর করবে। পরবর্তীকালে যখনই কোনো গ্রাহক সেবা নিতে আসবেন তখন উক্ত সমঝোতা স্মারকের আলোকে ব্যাংক গ্রাহকের সাথে চুক্তি করবে। উভয় চুক্তি আলাদা হতে হবে। এক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে গ্রাহক সেবা গ্রহণ করবে এবং প্রচলিত রীতি/চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবামূল্য পরিশোধ করবে আর গ্রাহক ব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত সেবামূল্য (উজরা) বাকিতে/কিস্তিতে পরিশোধ করবে।
ঘ. চুক্তিপত্রসমূহে সেবার বিস্তারিত বিবরণ, মূল্য, মান ও সরবরাহের সময় ও সরবরাহের স্হানসহ প্রযোজ্য শর্তাবলি এমনিভাবে সন্নিবেশিত হবে যাতে চুক্তিতে অস্পষ্টতা (জাহালাহ ও গারার) এর কারণে পরবর্তীতে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে উল্লেখিত সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হলে কিংবা অপুর্ণাঙ্/ক্রটিপূর্ণ সেবা প্রদান করলে তার প্রতিবিধান কী হবে তাও চুক্তিপত্রে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
ঙ. ভবিষ্যতে চুক্তিবদ্ধ পক্ষসমূহের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে -চুক্তিপত্রে এমন কোনো শর্ত সন্নিবেশন করা যাবে না।
( সূত্র: ২ আগষ্ট ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটি ১৯২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
No comments:
Post a Comment