বিষয় -৯৭ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে এবং তা দিয়ে এর ওপর ধার্যকৃত আয়কর প্রদান করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত দেশি -বিদেশি বিভিন্ন
ইসলামী ব্যাংক ও ব্যক্তিবর্গের মতামতের নিরিখে এবং এ বিষয়ে বিরাজমান পরিস্হিতি বিবেচনায় রেখে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ গৃহীত অর্থ সুদের সংশয় থেকে মুক্ত নয় বলে তা ব্যাংকের হালাল আয়ের অন্তর্ভূক্ত না করে অসাহায় -দুস্হদের কল্যাণে ব্যয়
করতে হবে। ক্ষতিপূরণের অর্থের ওপর ধার্যকৃত আয়কর এ অর্থ থেকে দেয়া যেতে পারে।
(সূত্র: ২৪ অক্টোবর ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ২৫শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৯৮ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য উৎস হতে অর্জিত সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে আয়কর প্রদান করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া প্রাপ্ত সুদ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে আয়কর প্রদান শরী'আহসম্মত নয়, তবে এসব অর্থের ওপর সরবার যে আয়কর ধার্য করে সে আয়কর উক্ত খাত থেকে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র: ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৯৯ : ব্যাংকের কোনো গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগের পাওনা পরিশোধ না করলে তার কাছ থেকে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যয়ের খাতগুলো কী?
সিদ্ধান্ত: মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য সুদি আয় ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত বৈধ আয় নয়। এগুলো ব্যয়ের খাতসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
ক . ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ট্যাক্স প্রদান
ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুদি আয়ের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তা কেবল সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় হতে দেয়া যেতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ ও সুদি আয় দিয়ে ব্যাংকের অন্যান্য আয়কর প্রদান করা যাবে না। কেননা, হালাল আয়ের কর হারাম উপাদান দিয়ে পরিশোধ করা শরী'আহসম্মত নয়।
খ . সুদভিত্তিক বীমা কোম্পানিসমূহক বাধ্যতামূলক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম প্রদান
ইসলামী বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত
অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সুদি আয় হতে বর্তমান সুদি
বীমার প্রিমিয়াম দেয়া যেতে পারে।
গ . বৈদেশিক লেনদেনের বিপরীতে বিদেশি ব্যাংকসমূহকে প্রদেয় সুদ
ইসলামী ব্যাংক বৈদেশিক করেসপনডেন্ট (correspondent) - এর সাথে সুদের লেনদেন করবে না মর্মে বৈদেশিক লেনদেন করার জন্য
পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা
চালাবে। অনন্যোপায় হলে এ ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
ঘ . গরিব মুসলমানদের আত্নাকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করা
গরিব মুসলমানদেরকে সুদি আয় দিয়ে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করার ব্যাপারে শরী'আহর
কোনো আপক্তি নেই।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান
এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে যদি চাঁদা দেয়া বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে এবং ব্যাংককে বাধ্য হয়েই এটা প্রদান করতে হয় সে ক্ষেত্রে এ জাতীয়
আয় থেকে চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংস্হায় চাঁদা প্রদান
শুধু বাধ্যতামূলক ক্ষেত্রেই আপাতত সুদি খাত হতে এ চাঁদা প্রদান করা যেতে পারে। একান্ত বাধ্য না হলে ব্যাংকের পক্ষে এরূপ চাঁদা প্রদান করাও
জায়েয নয়।
(সূত্র : ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৩০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
বিষয় -১০০ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য (realisable) ও আদায়কৃত (realised) ক্ষতিপূরণ এবং শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে প্রভিশন করা যাবে কি?
সিদ্ধান্ত : বিনিয়োগের বিপরীতে আদায়যোগ্য ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ (compenstion) দিয়ে প্রভিশন করা শরী'আহ অনুমোদন করে না। আল -ওয়াদি'আহ চলতি হিসাব হতে যে বিনিয়োগ করা হয় তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অর্থের সাহায্যে প্রভিশন করা যাবে না। কেননা, ব্যাংক জমাকারীকে চাহিবামাত্র তার চলতি হিসাবের টাকা প্রদান করতে গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। মুদারাবা নীতিতে গৃহীত মূলধনের গ্যারান্টি দেয়া শরী'আহতে জায়েয নেই। সে জন্য সংশয়পূর্ণ আয় দিয়ে এ অবৈধ কাজের প্রভিশন করা যেতে পারে। ক্ষতিপূরণের অর্থ গরিব -মিসকিনদের কোনো নির্ধারিত হক বা অধিকার নয়, বরং দায়িত্ব মুক্তির একটি উপায় মাত্র। পক্ষান্তরে যাকাত, ফিৎরা, কাফফারা, ফিদিয়া ইত্যাদি হচ্ছে শরী'আহ কর্তৃক নির্ধারিত গরিবদের হক।
(সূত্র : ৯ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার গাফিলতি, ত্রুটি বা অব্যবস্হাপনা না থাকা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও যেসব বিনিয়োগ শ্রেণিকৃত
হয় শুধু ক্ষতিপূরণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সেসব
বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা বৈধ।
(সূত্র: ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ও ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা নীতিগতভাবে অনুমোদিত নয়। তাই ব্যাংকের বৈধ
আয় দিয়েই শ্রেণিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করতে হবে।
(সূত্র : ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত
শরী'আহ কাউন্সলের ১২৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে গুরুতর সন্দেহযুক্ত আয় ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ দিয়ে
প্রভিশন করা যাবে না। তবে ব্যাংকের বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িকভাবে এ অর্থ দিয়ে প্রভিশন করা যেতে পারে। প্রয়োজন শেষে যথাশীঘ্র সম্ভব তা জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
(সূত্র : ১১ মে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ১৪৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০১ :মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত
ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে মূলধনের পর্যাপ্তত মেটানো যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে কোনো অবস্হাতেই মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো জায়েয হবে না।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০২ : মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে এসএলআর (SLR) রাখা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : ইসলামী শরী'আহ অনুসারে ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় দিয়ে স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রিজার্ভ (SLR) মেটানো যাবে না ।
(সূত্র : ৯ মে ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬৩তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৩ : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসো যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় কোন কোন খাতে ব্যবহার করা যাবে ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া অন্যান্য সুদি আয় নিম্নবর্ণিত খাতসমূহে ব্যয়/ব্যবহার করতে শরী'আহর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই :
ক . বৈদেশিক লেনদেনের কারণে বিদেশি ব্যাংককে বাধ্যতামূলক সুদ প্রদান।
খ . জনকল্যাণমূলক কাজ।
গ . দাওয়াতী কাজ।
ঘ . দরিদ্র মুসলিমদের আত্মকর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন।
ঙ . স্হানীয় ও বিদেশি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে (ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে) বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
চ . কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারি/ বেসরকারি সংস্হায় বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান।
ছ . ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি প্রচারকল্পে বই পুস্তক/জার্নাল প্রকাশনার জন্য অনুদান প্রদান।
জ . সেমিনার/কনফারেন্স অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা প্রদান।
ঝ . এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ, সুদ বা এ ধরনের সংশয়পূর্ণ অর্থের সাহায্যে ক. মূলধনের পর্যাপ্ততা মেটানো খ. মন্দ বা সন্দেহজনক বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন করা গ. এসএলআর সংরক্ষণ করা শরী'আহসম্মত নয়। তবে ক্ষতিপূরণ বা সংশয়পূর্ণ আয়ের ওপর সরকার যে আয়কর ধার্য করে তা উক্ত খাত হতে প্রদান করা যাবে।
(সূত্র : ২৩ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
কাউন্সলের ৭৭তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী /
১৬ আগস্ট ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ সাবকমিটির ১৬তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৪ : ইসলামী ব্যাংক মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগের ওপর নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ আরোপ করে থাকে। উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এমতাবস্হায় ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে ব্যাংকের প্রকৃত সার্ভিস চার্জ আদায় করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণের ওপর কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ আরোপ করা বৈধ হবে না।
(সূত্র : ৩১ মে ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ১৪২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৫ : ব্যাংকের প্রচারকাজে শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় ব্যবহার করা যাবে কি না ?
সিদ্ধান্ত :ইসলামী ব্যাংকের প্রচারকাজে হালাল ও পবিত্র অর্থই ব্যয় করা বাঞ্ছনীয়। শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত অর্থ দিয়ে বিজ্ঞাপন দান ও একটি ইসলামী আদর্শভিত্তিক
প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালানো শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৫৪তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৬: ইসলামী ব্যাংকের জন্য ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্ঘনজনিত সন্দেহযুক্ত আয় দিয়েে ব্যাংকে সংঘটিত কোনো ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : ক্ষতিপূরণ ও শরী'আহ লঙ্গঘনজনিত কারণে সন্দেহযুক্ত আয় দিয়ে ব্যাংকের ব্যবসায়িক জালিয়াতির ক্ষতিপূরণ করা শরী'আহসম্মত নয়।
(সূত্র: ১৫ মার্চ ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ কাউন্সলের ৬০তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -১০৭: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ (Compensation Realizable) - এর ওপর সঞ্চিতি ( provision) রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষতিপূরণের অর্থ
এখনও আদায় হয়নি এবং আদায় হবে কিনা তা -ও অনিশ্চত :
এমনকি আদায় হলেও তা ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এখন যদি আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত বিপুল পরিমান সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে রাখা হয়
তাহলে মুদারাবা জমাকারীদের মুনাফার হার ও শেয়ারহোল্ডারগণের ডিভিডেন্ড -এর পরিসাণ কমে যাবে। এমতাবস্হায় আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে না রেখে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে রাখা বৈধ হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের ওপর ধার্যকৃত সঞ্চিতি ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের পরিবর্তে আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণ থেকে সাময়িকভাবে রাখা যেথে পারে।
(সূত্র : ২৮ মার্চ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০৮তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -১০৮ : ব্যাংকের সংশয়পূর্ণ আয়, আদায়কৃত ও আদায়যোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ক্বরদ প্রোগ্রাম চালুকরণের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা শরী'আহসম্মত হবে কি না ?
সিদ্ধান্ত : সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের ব্যাপারে ফকীহদের অভিমত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ইমাম জুহুরী, ইমাম কুরতুবি, সাইয়্যেদ ইবনে আব্দুল্লাহ আলফানিসান, হুসাইন ইবন মুহাম্মদ শাওয়াতসহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের মতে,সংশয়পূর্ণ /হারাম যে কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় যত
দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করে দিতে হবে। এ
ধরনের তহবিল থেকে কোনো ক্বরদ প্রদান করা
যাবে না। এমনকি ইমাম জুহুরীর মতে এ ধরনের তহবিল নিজের কাছে ধরে রাখা বা সংরক্ষণও
করা যাবে না। অপরদিকে ইমাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমত হলো, এ ধরনের নিষিদ্ধ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যভিচারী ও মদ্যব্যবসায়ীরা
তাদের পেশা ছেড়ে দিয়ে তওবা করলে ও হতদরিদ্র হলে এরূপ উপার্জিত হারাম অর্থ থেকে
তাদের পুনর্বাসনে মূলধন হিসেবে ক্বরদ প্রদান করা যাবে। সাধারণ ক্ষেত্রে ক্বরদ হিসেবে প্রদান করা যাবে না। উক্ত বর্ণনার আলোকে সিদ্ধান্ত হলো, সুদসহ ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সংশয়পূণ আয় যত দ্রুত সম্ভব জনকল্যাণে ব্যয় করাই হলো শরী'আহর মূলনীতি। এ ধরনের সন্দেহজনক আয় দীর্ঘদিন ধরে রাখা শরী'আহর মূলনীতির খেলাপ।
তবে দেশের হতদরিদ্রদের জন্য ক্বরদ প্রোগ্রামের ব্যাপক কল্যাণের দিক বিবেচনায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে :
ক . নিয়ন্ত্রক সংস্হার অনুমোদনসাপেক্ষে ব্যাংকের নিয়মিত আয় থেকে এ ধরনের তহবিল
গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
খ . প্রস্তাবিত ক্বরদ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য ব্যাংকের ক্যাশ ওয়াক্বফ একাউন্টের আদলে নতুন ডিপোজিট প্রোডাক্ট প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
গ . ক্বরদ প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য ব্যাংকের
সামর্থ্যবান ও আগ্রহী চলতি হিসাবধারীদের চলতি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রাখার জন্য উৎসাহিত করা।
ঘ . ব্যাংকের চলতি হিসাবসহ অন্যান্য কস্ট ফ্রি ডিপোজিট ( cost free deposit) বিনিয়োগের আয় থেকে এ ধরনের ক্বরদ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
(সূত্র: ২২ জুন ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত শরী'আহ
সুপারভাইজরি কমিটির ২০২তম অধিবেশনের কার্যবিবরণী )।
No comments:
Post a Comment