হযরত আলী (রা:) এর খেলাফতকালে জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে জানতে চাইল, যদি কেউ আমাকে আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যে, 'আমীরুল মু'মিনীন হযরত উসমান (রা:) এর ব্যাপারে আপনার ধারণা কী? তখন আমি উত্তরে কী বলক? হযরত আলী (রা:) বললেন,
"তুমি তাদের বলে দিও যে, হযরত উসমান (রা:)
সম্বন্ধে আমি অত্যন্ত উঁচু ধারণা পোষণ করি। নিঃসন্দেহে হযরত উসমান (রা:) সে সব মণীষীদের অন্যতম,যাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক
(কুরআন শরীফে) ইরশাদ করেছেন, "যারা ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে, তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং সৎকর্মে ব্রতী হয়েছে। আল্লাহপাক সৎকর্মশীলদের পছন্দ করেন।
হযরত আলী (রা:) এর এই অমূল্য উক্তি বিভিন্ন কিতাবে কিছুটা শব্দের তারতম্যসহ উদ্ধৃত হয়েছে। অবশ্য মূল বিষয়বস্তু একই। যেমন --
আল্লামা ইবন কাসীর (রা:) হযরত উসমান (রা:) এর আরও কতিপয় প্রশংসনীয় গুণসম্বলিত হযরত আলী (রা:) এর একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। সেটি হল --
"হযরত আলী (রা:) বলেন: হযরত উসমান (রা:) আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ভাল লোক ছিলেন। তিনি
আত্মীয় বৎসল, লজ্জাশীল, পবিত্রতা প্রিয় এবং অত্যাধিক আল্লাহভীরু ছিলেন।
এরই সমথর্ক একটি বর্ণনা আবুল কাসিম সাহমী
(মৃ:৪২৮হি:) তার তারীখে জুরজান -এ উল্লেখ করেছেন:।
"তখন হযরত আলী (রা:) হুযূর ( সা:) কে লক্ষ্য করে বললেন, হুযূর, আমার পিতা -মাতা আপনার
জন্য কুরবান হোক -আমার এখানে আপনার কাছে এতগুলো লোক ছিলাম, তখন আপনি আপনার পা ঢাকেননি, অথচ উসমান আসামাত্রই আপনি পা ঢেকে নিলেন (এর কারণ কী) ? হুযূর
(সা:) উত্তরে বললেন, ফেরেশতারা যাকে দেখে লজ্জাবনত হয়, তাকে দেখে আমারও তো লজ্জা পেতে হয়।
হযরত আলী (রা:) এর বিভিন্ন উক্তিতে হযরত উসমান (রা:) এর 'যুন্নুরাইন' উপাধির স্বীকৃতি :
এ বিষয় দু'টি রেওয়ায়াত পেশ করা হবে। একটি নামায ইবন সাবুরাহ থেকে এবং অপরটি কাসীর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত।
প্রথম রেওয়ায়াত --
"নাযাল ইবন সাবুরাহ বলেন, একবার আমরা
হযরত আলী (রা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি আমাদেরকে হযরত উসমান (রা:) সম্পর্কে কিছু বলুন। হযরত আলী (রা:) বললেন: তিনি তো সেই
লোক, যাকে মালাউল আ'লা অর্থাৎ, ফেরেশতাদের জগতে 'যুন্নুরাইন' (দুই নূরের অধিকারী) বলে স্মরণ করা হয়। তিনি রাসূল (সা:) এর দূ'কন্যাকে পর্যায়ক্রমে বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জনকারী জামাতা ছিলেন।
দ্বিতীয় রেওয়ায়াত --
এই রেওয়ায়াতটি আলী মুত্তাকী হিন্দী 'ইবনে আসাকির'এর বরাত দিয়ে 'কানযুল উম্মাল' এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন: বর্ণনা করে ইমাম নাসাঈও -
"কাসীর ইবন মুররাহ থেকে বর্ণিত, একবার হযরত আলী (রা:) এর কাছে হযরত উসমান (রা:) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি উত্তরে
(হযরত উসমান (রা:) এর কয়েকটি ফযীলত ও দানশীলতার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে) বললেন, তিনি খুব ভাল লোক ছিলেন ( কিশেষ করে) --
(ক) চতুর্থ আকাশে তাঁকে 'যুন্নুরাইন' নামে অভিহিত করা হয়। ( কারণ) নবীজী (সা:) দু'কন্যাকে পর্যায়ক্রমে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন।
(খ) তাছাড়া একবার নবী করীম (সা:) ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি একটি জমি কিনে মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য দান করবে , আল্লাহ পাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) ঐ জমি কিনে মসজিদের জন্য দান করে দিলেন।
(গ) আরেকবার নবী কারীম (সা:) ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি অমুক গোত্রের খোঁয়াড়টি কিনে মুসলমানদের ব্যাপক ব্যবহারের জন্য ওয়াকফ করে দিবে, আল্লাহপাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) সেটি কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন।
(ঘ) আরেক দিন নবীজী (সা:) ঘোষাণা করলেন,যে ব্যক্তি তাবুক যুদ্ধের সেনাবাহিনীর
অস্ত্রশস্ত্র, রসদও বাহনের ব্যবস্হা করবে আল্লাহপাক তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। একথা শুনে হযরত উসমান (রা:) ঐ যুদ্ধের সেনাবাহিনীর সকল প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের ব্যবস্হা করে দিলেন। এমনকি উটনীর ওলান বাঁধার রশিও দিতে ভোলেননি।।
No comments:
Post a Comment