Tuesday, 23 July 2019

ব্যাংক কর্তৃক পণ্য ক্রয় -বিক্রয়

বিষয় -৪ :  বাই' মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য ক্রয় ও তার ওপর দখল লাভের পর বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছে তা বিক্রয় করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় গ্রাহক ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের
পরিবর্তে নিজে ক্রয় করার উদ্দেশ্যে বাই'মুরাবাহা/
বাই'/মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে নগদ টাকা চান। এমতাবস্হায় পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহককে বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে নগদ অর্থ
প্রদান করা শরী'আহসম্মত কি?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা/বাই'মুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক কর্তৃক পন্য ক্রয় -বিক্রয় করা আবশ্যক। ব্যাংক পণ্য ক্রয় -বিক্রয় না করে কেবল গ্রাহককে নগদ টাকা দিয়ে তার ওপরে অতিরিক্ত কিছু নেয়া সুদেরই নামান্তর।
(সূত্র: ২৭ জানুয়ারী, ১৯৮৬ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় - : বাই'মুরাবাহা (প্লেজ) পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চুক্তির মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হলেও পণ্যের মূল্য পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তা গুদামে
ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষন করতে হয়। এ সময় পণ্যের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণজনিত আনুষঙ্গিক খরচ কে বহন করবে,  ব্যাংক না গ্রাহক?
সিদ্ধান্ত :  বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তা যখন যার মালিকানায় থাকবে,  নিরাপত্তা ও সংরক্ষণজনিত আনুষঙ্গিক খরচের দায়িত্বও তাকে বহন করতে হবে।
(সূত্র: ২৭ জানুয়ারী, ১৯৮৬ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১২শ  অধিবেশনের কার্যবিবরণী)
বিষয় -৬ : আগ্রহী গ্রাহকের অনুরোধে বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে তার জন্য পণ্য ক্রয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক উক্ত পণ্য ব্যাংক থেকে কিনে নিতে অপারগ হলে উক্ত মুরাবাহা বিনিয়োগের বিপরীতে অতিরিক্ত কিছু চার্জ/আদায় করা যাবে কি না?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে গ্রাহকের অনুরোধক্রমে পণ্য ক্রয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সে পণ্য ব্যাংকের কাছ থেকে কিনে নিতে অপারগ হলে চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী ব্যাংক বিলম্বজনিত সময়ের অতিরিক্ত প্রকৃত আনুষঙ্গিক খরচ আদায় করতে পারে। তবে পণ্যের পরিমাণ অনুসারে পূর্বনির্ধারিত হারে এ চার্জ নিতে হবে।
( সূত্র: ১৩ আগস্ট,১৯৯০ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ
কাউন্সলের ২৮শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও মুনাফা নির্ধারণে শর'ঈ নীতিমালা
বিষয় - ৭ : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের
ক্ষেত্রে পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও মুনাফা নির্ধারণের শর'ঈ নীতিমালা কী?
সিদ্ধান্ত : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে পণ্যের ক্রয়মূল্য ও মুনাফার পরিমাণ প্রকাশ করতে হবে। পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত ব্যয়ই ক্রয়মূল্য হিসেবে পরিগণিত হবে এবং এই ক্রয়মূল্যের ভিক্তিতেই (ব্যাংক ও বিনিয়োগ গ্রাহকের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত মুনাফা যুক্ত করে)
বিক্রয়মূল্য নির্ধারণপূর্বক চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।
( সূত্র: ৭ জুলাই ও ৩০ নভেম্বর, ১৯৮৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ১০ম ও ১১শ অধিবেশনের কার্যবিবরণী )
বিষয় -৮ : বাই'মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের সময় পণ্যের ক্রয়মূল্যের, আমদানি খরচ ও মুনাফার পরিমাণ গ্রাহককে জানাতে হবে কি না এবং এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কয়টি পক্ষ থাকা অপরিহার্য?
সিদ্ধান্ত : মুরাবাহা চুক্তির সময় গ্রাহককে পণ্যের ক্রয়মূল্য, আমদানি খরচ ও মুনাফার পরিমাণ
সুস্পষ্টভাবে বলে দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে অনু্ষ্টিত প্রত্যেক কারবারে ব্যাংক,পণ্যের সরবরাহকারী ও ক্রেতা এই তিন পক্ষের অস্তিত্ব থাকা জরুরি  এবং
প্রত্যেক পক্ষই পণ্যের মালিকানা ও দখল লাভের পর তা বিক্রয় করলে শরী'আহর দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি থাকবে না।
(সূত্র: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৫ সালে অনু্ষ্টিত শরী'আহ কাউন্সলের ৮ম অধিবেশনের কার্যবিবরণী) ।

No comments:

Post a Comment