মোল্লা বাকের মজলিসী যিনি একজন বিদগ্ধ শীয়া -মতাবলম্বী এবং একজন শীয়া বিশেষজ্ঞ বটে। তিনি তাঁর প্রণীত 'জালাউল উয়ূন' কিতাবে 'আমীরুল মু, মিনীন হযরত আলী (রা)- এর সাথে হযরত ফাতেমা (রাঃ) -এর বিয়ে প্রসংগে লিখেন --
"একদা হযরত আবূ বকর (রাঃ) , হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ) মসজিদে নববীতে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁদের মাঝে হযরত মাঝে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে শাদী নিয়ে কথাবার্তা চলছিল । আবু বকর (রাঃ) বললেন , ফাতেমা (রাঃ) এর পাণি গ্রহণে কুরাইশের অভিজাতবর্গ আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রিয়নবী (সাঃ ) ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের ব্যাপারটি মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন। তিনি যাকে খুশী তার কাছে হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ের ব্যবস্হা করবেন। হযরত আলী (রাঃ ) এ ব্যাপারে নিজে যেমন রাসুলুল্লাহ ( সাঃ )এর কাছে কোনও আগ্রহ প্রকাশ করেননি তেমনি অন্য কেউও তাঁর কাছে এ ব্যাপারে কোন প্রস্তুাবও তুলেননি । তবে আমার যদ্দুর মনে হয়, হযরত আলি (রাঃ ) শুধুমাত্র দারিদ্রে্ার কারণেই হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। মনে হচ্ছে, হযরত ফাতেমা (রাঃ )কে প্রিয়নবী ( সাঃ ) হযরত আলী (রা) এর জন্যই নির্ধারণ করে রেখেছেন। পরে হযরত আবূ বকর (রাঃ) , ওমর ফারুক (রাঃ ) ও হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ )কে বলেন, চলো হযরত আলী (রাঃ )
এর কাছে যাই । ফাতেমা (রাঃ ) কে বিয়ে প্রসংগে
তাঁকে উৎসাহ দিই ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করি ।
দারিদ্রে্ার কারণে তিনি যদি এই বিয়েতে অমত দেন তাহলে আমরা তাঁকে সাহায্য করব । হযরত সায়াদ ইবনে মায়াজ (রাঃ ) বললেন,আবূ বকর (রাঃ) যথার্থ বলেছেন। তারা তিনজন ওঠলেন এবং আমীরুল মু'মিনীনের বাড়ীতে এলেন ।হযরত
আলী (রাঃ ) ওই সময় বাড়ীতে ছিলেন না । ওই সময় তিনি জনৈক আনসারীর বাগানে মজুরির
বিনিময়ে পানি সিঞ্চন করতে গিয়েছিলেন। উক্ত তিনজনই ওই বাগানে গযরত আলী )রাঃ ) এর কাছে আসেন। হযরত আলঅ (রাঃ ) প্রশ্নচ্ছলে বলেন, আপনারা? সিদ্দীকে আকবার (রাঃ ) বলেন, উত্তম চরিত্র ও সদাচরে আপনি যে কাউকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে আপনার আত্মীয়তা খুবই দৃঢ় ও হৃদ্যতাপূর্ণ।
রাসূল (সা. ) এর সাথে আপনার সাহচর্য ও দীর্ঘদিেনের । তারপরও কেন যে আপনি ফাতেমার (রাঃ) কা বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন না ? আমার মন বলছে, রাসূল (সা.) ফাতেমার (রা.) জন্য আপনাকেই পছন্দ করে রেখেছেন। -- -- (৩নংপৃ: )
অন্য কারো প্রস্তাবই তিনি আমলে আনছেন না।
সিদ্দীকে আকবারের কথা শুনে হযরত আলী (রাঃ) এর চোখে পানি এসে গেল । অশ্রুসজল নয়নে তিনি বললেন, আবূ বকর ! আপনি আমার
মর্মপীড়া আরো বাড়িয়ে দিলেন। মনের কোনে ধিধিধিকি করে জ্বলা আগুনকে জ্বেলে দিলেন। বলুন ? প্রিয়নবীর সাথে কেইবা এই সম্পর্ক চায় না ? আমি কেবল দারিদ্রে্ার দরুন আমার সুপ্ত অভিলাষকে প্রকাশ করতে লজ্জানুভব করছি ।
মোটকথা উক্ত তিনজনই হযরত আলী (রাঃ ) কে এই বিয়ের জন্য উৎসাহিত করলেন। বললেন, রাসূলে আকরাম (সা. ) এর কাছে প্রস্তাব তুলতে ।
হযরত আলী (রাঃ ) তাঁর উটটি বেধে বাড়ীতে এলেন । অত:পর তিনি দরবারে নবুওয়াতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
#
হযরত আলী (রাঃ ) বলেন, প্রিয়নবী (সা.) আমাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, কি হে আবূ তালেব পুত্র ? কী উদ্দেশ্যে এসেছ? আমি তাঁর কন্যার পাণি গ্রহণের প্রস্তাব তুললাম। হুযুর (সা.)
বললেন, আলী? আমি অন্দর মহল থেকে আসার আগ পর্যন্ত তুমি একটু অপেক্ষা কর । তিনি অন্দর মহলে গেলেন, রাসূল (সা.) কে দেখে হযরত ফাতেমা (রাঃ ) উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর চাদর ও জুতা যথাস্হানে রেখে উযুর পানির ব্যবস্হা করলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ফাতেমা? তিনি বললেন, বলুন ? আল্লাহর রাসূল ? তিনি বললেন ,
আলী তোমার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছে । আমি তোমার ইযাযত নিতে এসেছি । হযরত ফাতেমা (রাঃ) নিশ্চুপ, তবে তাঁর চেহারায় অপছন্দের কোন চিন্হ দেখা গেল না। রাসূল (সা.)
আল্লাহ আকবার বলে উঠে দাঁড়ালেন । হযরত ফাতেমা (রাঃ )এর নিশ্চুপ নির্বিকার কথাটা বিয়েতে রাজির আলামত। আল্লাহর নবী এতে বেজায় খোশ হলেন।
সার -সংক্ষেপ
উক্ত কথিকা থেকে আমরা নাম্নবর্নিত টয়েন্টগুলো পেতে পারি -- -- --
১. হযরত আলী (রাঃ ) ও ফাতেমা (রা.) এর বিয়েতে সর্বপ্রথম আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ)
ই পরামর্শ দেন । যা তাদের মধ্যকার কল্যাণকামতার চমৎকার দলিল।
২. বিয়ের খর্চাপাতির ব্যাপারে তাঁকে অভয় দেয়াও বন্ধুত্বের প্রকৃষ্ট দলিল।
৩. কল্যাণধর্মী উক্ত পরামর্শ গ্রহণ করে হযরত আলী (রাঃ ) তাঁর বন্ধুদের কথা রাখলেন। কেননা সঠিক হলেও কেউ শত্রুর পরামর্শ গ্রহণ করে না।
No comments:
Post a Comment