Wednesday, 12 June 2019

আলীর মুখে আবূ বকর ও ওমর -বন্দনা

৪র্থ অধ্যায়ে আমরা শায়খাইন হযরত আবূ বকর (রা:) ও হযরত ওমর (রা:) এর ওইসব গুন -কীর্তন আলোকপাত করব যেগুলো হযরত আলী (রা:) এর মুখনিঃসৃত। বরাত টানব সুন্নী কিতাবের পাশাপাশি যথারীতি শীয়া উদ্ধৃতিগুলোরও। যদ্দারা স্বতঃই প্রমাণিত হবে যে, তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক কতই চমৎকার ছিল।
শায়খাইনের মহিমা কীর্তনে কিছু মরফু ও গায়রে মরফু বর্ণনা
১, ইবনে সায়াদ হযরত আলী (রা:) এর সূত্রে বর্ণনা করেন --
"আবূ সারিহা বলেন, হযরত আলী (রা:) কে মিম্বারে বসা অবস্হায় বলতে শুনেছি, হে লোকেরা! আবূ বকর দয়ার্দ্র, নম্রদিল ও আল্লাহর শানে সোপার্জিত ছিলেন। আর শোনো হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) ছিলেন দ্বীনের কল্যাণকামী। কাজেই আল্লাহ ও তাঁর কল্যাণকামী।
২, ইবনে সায়াদের আরেকটি ভাষ্য --
"হযরত আলী(রা:) এর কাছে আবূ বকর ও ওমর ((রা:) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তাঁরা দু'জনই মুসলিম উম্মাহর জন্য হেদায়েতের
ইমাম ও দিশারী ছিলেন। তাঁরা কওমের সংস্কারক ছিলেন। কল্যাণধর্মী কাজ সফল ও কর্মনিষ্ঠ ছিলেন। দুনিয়া থেকে বুভুক্ষ ও মোটা কাপড় পরিহিতাবস্হায় প্রস্হান করেছেন। ( তাঁদের কোন লোভ -লালসা ছিল না)।
৩, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ:) আব্দুল্লাহ ইবনে মালীলের সূত্র ধরে বর্ণনা করেন --
"আব্দুল্লাহ বলেন,আমি হযরত আলী (রা:) কে বলতে শুনেছি, নবী মাত্রই তাঁর উম্মতের মাঝে ৭ জন নজীব অর্থাৎ ভদ্র, মার্জিত ও নিষ্ঠাবান লোক দেওয়ার রেওয়াজ আছে। পক্ষান্তরে নবী কারিম
(সা:) এর উম্মতের মাঝে ১৪ জন ওই শ্রেণীর নজীব দেওয়া হয়েছে। তন্মধ্যে আবূ বকর ও ওমর অন্যতম।
৪, আল্লামা ইবনুল আসীর (রহ:) শায়খাইনের কীর্তন প্রসংগে হযরত আলীর ভাষ্য এভাবে বর্ণনা করেন --
"আব্দে খায়র বলেন, হযরত আলী (রা:) বলেন,  কিয়ামত পর্যন্ত আগত গভর্ণর ও শাসকদের জন্য
হযরত আবূ বকর (রা:) ও ওমর (রা:)কে আল্লাহ
তায়ালা আদর্শ সাব্যস্ত করেছেন। কসম খোদার! এঁরা সত্যিই সকলের ওপর প্রাধান্যশীল হয়েছেন। তাঁদের পরবর্তীতে এ বিষয়ে বহু কষ্ট ক্লেষে পড়ে গেছেন।
৫ , আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়তী (রহ:) মুসনাদে বাযযার ও ইবনে আসাকিরের বায়াতে সিদ্দীকে আকবার (রা:) এর ফযিলত আলী (রা:) এর সূত্রে বর্ণনা করেন। শীয়া মুফাসসিরগণও তাদের স্ব -স্ব তাফসীরে বিষয়টি আলোকপাত করেছেন --
"সাহাবী উসায়দ ইবনে সাফওয়ান (রা:) বলেন, হযরত আলী (রা:) আয়াতের তাফসীর এভাবে করেন যে, সত্য (দ্বীন) আনায়নকারী মুহাম্মাদ (সা:) আর একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানকারী ও সত্যয়নকারী হযরত আবূ বকর (রা:)।
৬ , কানযুল উম্মাল প্রণেতা আল্লামা আলী মুত্তাকী নানা মুহাদ্দিস থেকে নকলপূর্বক লেখেন --
"আবূল মুতামির বলেন, আবূ বকর ও ওমর (রা:)
সম্পর্কে হযরত আলী মুর্তাজা (রা:) ওর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনর, এরা দু'জনা
সেই ৭০ জনের প্রতিনিধিত্বকারীদের অন্তর্ভূক্ত যারা রোজ কিয়ামতে নবী করীম (সা:) এর সাথে আল্লাহ তাআলার দরবারে হাজির হবেন এবং এই
দু'বুযুর্গকে (রূহের জগতে) হযরত মুসা (আ:) তাঁর
সাহাবী হওয়ার দরখাস্ত করেছিলেন কিন্তু আল্লাহ
পাক তাঁদের দু'জনাকে বিশ্ব নবীর সাহাবী করেন।
৭ , কতিপয় মুহাদ্দিস হযরত আলী (রা:) এর সূত্রে সিদ্দীকে আকবার (রা:) এর এক অদ্ভুৎ ফজিলত বর্ণনা করেন এভাবে --
"হযরত আলী (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:)
কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবূ বকর (রা:) কে বলছিলেন, হে আবূ বকর! আদম (আ:) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ দুনিয়াতে আমার প্রতি ঈমান আনবে তাদের সকলের ছওয়াব আল্লাহপাক আমাকে দান করেছেন। আর আমার থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ দুনিয়াতে ঈমান
আনবে এদের সকলের ছওয়াব আল্লাহপাক তোমাকে দান করবেন।
৮ , কিতাবুল কুনা ওয়ালা আসমা' প্রণেতা আল্লামা দোলাবী এবং শাহওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দেসে দেহলবী (রহ:) আলী (রা:) এর সূত্রে ইযালাতুল খাফা'য় লেখেন, শায়খাইন ( আবূ বকর ও ওমর (রা:) সমগ্র উম্মতের মাঝে সবার আগে ভাগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
"শেরে খোদা হযরত আলী (রা:) বলেন, এই উম্মতের মাঝে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন হযরত আবূ বকর ও ওমর (রা:)। জনৈক ব্যক্তি বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনারও পূর্বে এরা দু'জনা জান্নাতে প্রবেশ করবে?
     সংক্ষিপ্তসার
হযরত আবূ বকর (রা:) ও ওমর  (রা:) এর গুণকীর্তনে হযরত আলীর ভাষ্য নিম্নে সংক্ষেপে
আলোকপাত করা হলো --
ক ) তাঁরা সহানুভূতিপরায়ণ, দয়ার্দ্র ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কল্যাণকামী।
খ ) জাতির স্বীকৃত দিশারী, পথপ্রদর্শক ও কওমের অগ্রপথিক, সর্বোপরি সংস্কারক।
গ ) উম্মতে মুহাম্মাদীর মাঝে উঁচুস্তরের ভদ্র, মার্জিত ও সুশীল।
ঘ ) আল্লাহর দ্বীনের আদর্শপুরুষ ও মহান।
ঙ ) সম্মান ও মর্যাদাসহকারে আল্লাহর দরবারে উপনীত ব্যক্তিত্ব।
চ ) নেক আমল তাঁদের অনিঃশেষ ও অফুরন্ত।
ছ ) আল্লাহর মর্জিঅর্জন শেষে তাঁরা জান্নাতুল ফেরদৌসের দাবীদার।

No comments:

Post a Comment