Saturday, 22 June 2019

উমর (রা:) সঠিক সিদ্ধান্তদাতা: মন্তব্য আলী (রা:) এর

হযরত আলী (রা:) এর বিবেচনায় হযরত উমর (রা:) একজন সঠিক সিদ্ধান্তদাতা ছিলেন। 'তারীখুল কাবীরে ইমাম বুখারীর ভাষ্য:
 "আব্দে খায়র বলেন, আমি হযরত আলী (রা:) থেকে শুনেছি, হযরত উমর (রা:) উত্তম কাজের অবকাশ দেওয়া হয়েছে। খেলাফতবিষয়ে তিনি সঠিক ও তড়িৎ সিদ্ধান্তদাতা ছিলেন। হযরত উমর (রা:) এর মিমাংসিত সিদ্ধান্ত গুলোয় আমি কোন প্রকার পরিবর্তন আনবনা।
একবার নাজরানের একদল খ্রিস্টান প্রতিনিধি হযরত আলী (রা:) এর খেদমতে হাযির হল। হযরত আলী (রা:) এ সময় কথা প্রসংগে হযরত উমর (রা:) কে সঠিক সিদ্ধান্তদাতা ও প্রত্যুৎপন্নমনা বলেন।
"নাজরানে বসবাসরত খ্রীস্টানদের সংখ্যা ৪০ হাজারের কাছাকাছি ছিল। তাদের মাঝে আত্মকলহ, হিংসা -দ্বেষ ও মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছিল। তারা হযরত উমর (রা:) এর দরবারে এসে আরজ করলেন, আমাদেরকে এই এলাকা থেকে স্হানান্তরিত করে দেওয়া হোক। মুসলমানদের শান্তি নিরাপত্তার স্বার্থে এদেরকে হুমকী মনে করতেন হযরত উমর (রা:)। ( তারা অনেক ঘোড়া ও অস্ত্র -সস্ত্র জমা করেছিল) আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর (রা:) এদের আবদারকে সুবর্ণ সুযোগ করেন করে তৎক্ষণাৎ দেশান্তর করে দিলেন। (অর্থাৎ ইয়ামানী নাজরানীদের ইরাকী নাজরানী বানিয়ে দিলেন। ইয়ামান থেকে ইরাকে স্হানান্তর করলেন) । কিন্তু
পরবর্তীতে এই দেশান্তর তাদের মর্মপীড়ার কারণ হল। তারা এই আত্মঘাতি বোকামিমূলক সিদ্ধান্তে অনুতপ্ত হল। কাজেই তারা হযরত উমর (রা:) এর
কাছে পূর্ব সিদ্ধান্ত বদলাবার জন্য আবদার জানাল, হযরত উমর সরাসরি এই আবদার প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। পরে হযরত আলী (রা:) খলীফা হলে নাজরান প্রতিনিধি এসে সাবেক খলীফার সিদ্ধান্ত বদলাতে আবেদন রাখল। বলল, আমরা কসমপূর্বক বলছি এই চুক্তি আপনার হাতে দিয়েই নবীজী (সা:) লেখিয়েছিলেন। এতে আপনার সুপারিশও ছিল। এক্ষণে সেই চুক্তির আবার পুনঃবাস্তবায়ন হোক। অর্থাৎ আমাদের স্বদেশে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়া হোক। হযরত আলী (রা:) এদের উত্তরে বললেন, উমর ইবনুল খাত্তাব সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। আমি তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারব না। তাঁর দেওয়া সিদ্ধান্তই বলবৎ থাকবে। বর্ণনাকার সালেম ইবনে আবুল জা'দ বলেন, হযরত আলী (রা:) এর চরিত্র যদি হযরত উমর (রা:) এর ভর্ৎসনা ও নিন্দামন্দে আগ্রহী হত তাহলে নাজরানী খ্রীস্টানদের উপরিউক্ত ব্যাপারে অতি অবশ্যই তাঁর জন্য উত্তম সুযোগ ছিল। কিন্তু নবী পরিবারের এই সদস্য এখানে এতটুকু সুযোগ নিলেন না। উল্টো তাঁকে সমর্থনই করে গেলেন।
              হযরত আলী (রা:) এর কুফা আগমন
উপরোক্ত অনুচ্ছেদের আওতায় হযরত আলী (রা:) এর কুফা আগমনের একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়। যা জনৈক শীয়া আলেম 'আখবারুক তিওয়াল' -এ উল্লখ করেছেন। ঘটনাটি এমর --
  "হযরত আলী (রা:) ২৬ হিজরীর ১২ রজব আগমন করেন। লোকেরা আরজ করল, আমীরুল মুমিনীন! আপনি রাজ প্রাসাদে অবস্হান করবেন কী? বললেন, আমার ওখানে অবস্হান করার জরুরত নেই। কেনান হযরত উমর  (রা:) এ ধরনের প্রাসাদে বসবাসে অনীহা ছিলেন। তারচেয়ে আমি একটি সাধারণ ঝুপড়িতে থাকব। পরে তিনি জামে মসজিদে তাশরীফ নেন। ওখানে দু'রাকাত নামায আদায় করেন। অবশেষে তিনি ঝুপড়িতে যান।

No comments:

Post a Comment