ইতোপূর্বে আমরা হযরত ফরূকে আযম (রহ:) এর
রাষ্ট্রীয় নানা বিষয়ে হযরত আলী (রা:) এর সাথে
পরামর্শ বিষয়ে জানলাম। এক্ষণে খলীফা মদীনার বাইরে কোথাও গেলে হযরত আলী (রা:) কে যে কয়েকবার স্হলাভিষিক্ত করে যান সে বিষয়ে জানব।
ইবনে জারীর তাবারীর ভাষ্য --
"১৪ হিজরীর পহেলা মুহাররম হযরত ওমর (রা:) সুরার ঝর্ণার উদ্দেশে মদীনা ছাড়লেন। বিরাট একদল সৈন্য নিয়ে স্বয়ং হযরত ওমর (রা:) ইরাক যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরোলেন। এ সময় মদীনায় হযরত আলী (রা:) কে তার স্হলাভিষিক্ত করে যান। হযরত ওসমান (রা:) সহ অপরাপর সাহাবাদেরকে সঙ্গে নেন। পরে সাহাবায়ে কেরাম
ওখানে জরুরি পরামর্শে বসেন। নামাযের গুরুত্বারোপ করা হয় এখানে। হযরত আলী (রা:) কেও ডেকে পাঠানো হয়। নামাযের পর হযরত আলী (রা:) এলে পরামর্শ হয়। শুধু আবাদুর রহমান ইবনে আওফ (রা:) ছাড়া সকলেই খলীফার ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ কে সঠিক মনে করেন। হযরত আব্দুর রহমান (রা:) এর ভাষ্য হলো, খোদা না করুন আপনি পরাস্ত হলে গোটা
বিশ্ব দূর্বল ও মুরুব্বীহারা হয়ে পড়বেন। কাজেই আপনি স্বস্হানে (মদীনায়) বহাল থেকে অন্য কাউকে সেনাপতি করে প্রেরণ করুন। আপনার স্হলে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা:) কে প্রেরণ করুণ।
"আল্লাহ ইবনে কাছীরের ভাষ্য --
"বায়তুল মোকাদ্দাস অবরোধ করে হযরত আবু ওবায়দা (রা:) তাদের সংকীর্ণ করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তারা হযরত ওমর (রা:) এর আগমনের শর্তে আত্মসমর্পনে রাযী হয়। শর্তটি হযরত ওমর (রা:) কে জানানো হয়। হযরত ওমর (রা:) বিষয়টি নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শে বসেন। হযরত ওসমান (রা:) ,উমর (রা:) এর বায়তুল মোকাদ্দাসে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। যাতে ওরা লজ্জিত হয় ও নাক কাটা যায়। পক্ষান্তরে হযরত আলী (রা:) ওখানে স্ব -শরীরে হাজির হওয়ার পরামর্শ দেন। খলীফা হযরত আলী (রা:) এর মত গ্রহণ করেন। ওসমান গণী (রা:) এর মতামত খণ্ডন করেন। এ সময় তিনি হযরত আলী (রা:) কে মদীনায় তার স্হলবর্তী নিযুক্ত করেন। হযরত আব্বাস (রা:) তার অগ্রগামী বাহিনীর প্রধান হিসেবে অগ্রসর হচ্ছিলেন। ইবনে জারীর ত্ববারীও তার ইতিহাসগ্রন্হে এ বিষয়ে আলোকপাতপূর্বক বলেন, বায়তুল মোকাদ্দস যাওয়র সিদ্ধান্ত হলে হযরত আলীকে মদীনায় তাঁর স্হলবর্তী নিযুক্ত করেন।
কানযুল উম্মাল গ্রন্হে হযরত আলী (রা:) কে হযরত উমর (রা:) নাজরানের গভর্ণর বানিয়ে ওখানে প্রেরণ করা প্রসংগে বলা হয়েছে --
"ইবনে সীরীন বলেন,হযরত উমর (রা:) নাজরানবাসীর কাছে ফরমান জারীপূর্বক বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে তিনি তাদের সাথে সদাচার করবেন। আমি তাকে আরো নির্দেশ করেছি যেন তিনি যমীনের উৎপাদিত ফসলের অর্থ -ভাগা নিয়ম চালু করেন। আমি তোমাদের কে স্ব -দেশ থেকে বহিস্কারের ইচ্ছে করছি না। শুধু তোমাদের লেনদেন ও আচার ব্যবহারটা ঠিক রাখো দেখবে সব ঠিকঠাকমত চলছে।
No comments:
Post a Comment