হযরত উমর (রা:) সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসের কিতাবের মানাকেব (গুনাবলী) অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, সত্য ও সাধকত্বের স্পিরিটি আল্লাহপাক হযরত উমর (রা:) অতি উত্তমরূপে দান করেছেন। সত্য কথা বলা, সত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হযরত উমর (রা:) এর প্রকৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ প্রসংগে নবী করিম (সা:) এর ভাষ্য:
"আল্লাহ তাআলা উমর (রা:) মুখ ও অন্তরে সত্য ও সঠিকত্ব সেঁটে দিয়েছেন।
প্রিয়নবী (সা:) এর এই বাণী -বন্ধনী বর্ণনার পর আমরা তাঁরই জামাতা ও চাচাত ভাই নবী পরিবারের প্রধানতম সদস্য হযরত আলী (রা:) এর বক্তব্য শুনব যাতে তিনি ফারুকে আযম (রা:) এর অকৃত্রিম র্কীতন গেয়েছেন ও আন্তরিক বন্দনা করেছেন। আলী (রা:) বলেন, আমরা এতে কোন সন্দেহ পোষণ করতাম না যে, (কুদরতের পক্ষ থেকে) হযরত উমর (রা:) এর যবানে প্রশান্তি নাযিল হয়। এবং তাঁর অন্তরে (গায়বের পক্ষ থেকে) সান্ত্বনা বদ্ধমূল হয়। এজন্য তাঁর প্রতিটি বিষয়ে কেমন যেন কুদরতের পক্ষ থেকে সঠিকত্বের ফায়সালা আসে। নিম্নবর্ণিত স্হানে হযরত আলী (রা:) থেকে বিদগ্ধ ওলামায়ে কেরাম উমর (রা:) কীর্তন ও বন্দনা নকল করেন --
উপরিউক্ত রেওয়ায়েতসমূহের সার -সংক্ষেপঃ
হযরত আলী (রা:) বলেন, সৎকর্মশীল লোকদের নামোল্লেখ করা হলে সেখানে হযরত উমর (রা:) এর নামোল্লেখ করতেই হয়। নবীজীর সাহাবার মনে করতেন হযরত উমর (রা:) এর জিভে প্রশান্তি নাযিল হয় (অর্থাৎ এমন জিনিষ নাযিল হয় যাতে মন-মুকুড়ে প্রশান্তি ও হৃদয়ে স্বস্তি আসে।) আর
কুদরতের পক্ষ থেকে তার জিভ সত্য কথার জন্যই সৃজিত।
এছাড়া নবী করিম (সা:) থেকে হযরত আলী (রা:) বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীস খানাও প্রনিধানযোগ্য --
"উমর (রা:) এর প্রতি আল্লাহ দয়া পরবশ হোন মানুষে তিক্ত হলেও তিনি সত্য কথাটিই বলে যান। সত্য কথনের এই খাসলতের দরুন দুনিয়াতে তার কোন বন্ধু ছিল না।
উপরোক্ত বর্ণনাসমূহের সার -নির্যাষ
১. হযরত উমর (রা:) এর সততা ও সঠিকতার স্বাক্ষ্য নবুওয়াতি জিভ ও তাঁর নেতৃত্বের অপার গুনাবলীই দিয়েছে।
২ . হযরত আলীসহ সকল সাহাবা (রা:) ই হযরত উমর (রা:) এর এই সত্য ও ন্যায় নিষ্ঠার অনুন্ঠ স্বাক্ষ্য দিয়েছে।
অষ্টম অনুচ্ছেদ
শীয়াদের কিতাবে আলী (রা:) এর মুখে উমর (রা:) এর গুণ -কীর্তন ইতোপূর্বে আমরা হযরত আলী (রা:) এর মুখে হযরত উমর (রা:) এর গুণাবলী সুন্নী কিতাবের আলোকে বর্ণনা করেছি। এক্ষণে আমরা শীয়াদের রচিত এই বিষয়ের পাতাগুলোর প্রতি নজর বুলাব। উমর (রা:) এর কীর্তন গাঁথা তাদের কিতাবে থাকলে সেটা বোধকরি বিপক্ষ বন্ধুদের মনে স্বস্তিই দেবে। আসুন দেখা যাক একে একে।
"নাহজুল বালাগাহ' - এ আলী (রা:) এর ফরমান এভাবে লেখা হয়েছে --
"হযরত উমর (রা:) মুসলমানদের খলীফা হলেন। সুতরাং তিনি দ্বীন কায়েম করলেন এবং নিজেই সেই দ্বীনের ওপর সুপ্রতিষ্ঠ রইলেন। উট যেভাবে (আরামের জন্য) জমিনে গর্দান রেখে বসে পড়ে দ্বীন ঠিক সেভাবেই সুপ্রতিষ্ঠ হল।
No comments:
Post a Comment