পূর্ববর্তী দু'বর্ণনায় হযরত আবূ বকর (রা:) এর অন্তিমলগ্নে আমরা হযরত আলী (রা:) এর স্বীয় মতামত জেনেছি। এক্ষণে খোদ তাঁর নিজ খেলাফতকালীন এতদ্বিষয়ক মন্তব্য জানব। দুটি
বর্ণনা দু'জন মহান সুন্নী ইমামের অপর একটি ঘটনা জনৈক শীয়া ইমামের। যার প্রতি শীয়া ভাইদের যথেষ্ট অনুরাগ, যার কিতাবের প্রতি তাদের প্রচুর ভরসা।
মুহাদ্দিস ইসহাক ইবনে রাহওয়াই (মৃ: ২৩৮) এর বর্ণনা :
'কানযুল উম্মাল' প্রণেতা 'ফিতান অধ্যায়ে ' উষ্ট্রের যুদ্ধ' শিরোনামের অধীনে বর্ণনাটি এনেছেন। ইতোপূর্বেও রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনাটি জনৈক আব্দুল্লাহ ইবনুল কাতয়াও ইবনেআব্বাদ -এর প্রশ্নের জবাবে হযরত আলীর ভাষ্যসম্বলিত। হযরত আলী (রা:) বলেন --
"হযরত আলী (রা:) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সা:) ইন্তেকাল করলে মুসলমানেরা খেলাফত প্রসংগে ভাবনায় পড়লেন। মুসলমানেরা চিন্তা করে দেখলেন রাসূলুল্লাহ (সা:) যেখানে দ্বীনি বিষয়ে (নামাযে) হযরত আবূ বকর (রা:) কে ইমাম বানিয়েছেন সেখানে দুনিয়াবী (রাষ্ট্রীয়) বিষয়েও তাঁকে ইমাম (খলীফা) বানানো উচিত সুতরাং মুসলমানেরা তাঁর হাতে বায়াত নিলে আমিও তাঁর হাতে বায়াত নিলাম। তিনি আমাকে যে যে জিহাদে প্রেরণ করেছেন আমি তার আদেশকে শিরোধার্য করে সে সে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি আমাকে যে দান -দক্ষিণা দিয়েছেন সানন্দে তা গ্রহণ করেছি। এই আবূ বকর (রা:) তাঁর অন্তিম লগ্নে হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা:) এর ব্যাপারে খেলাফত বিষয়ে ইশারা করেন এবং এ বিষয়ে তিনি বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করেননি।
মুসলমানেরা তাঁকে খলীফা নিযুক্ত করলে আমিও
তাঁদের সাথে তাঁর খলীফা নিযুক্তিমূলক বায়াত নিই। (পরে হযরত উমার (রা:) এর নিযুক্ত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি যাতে আমিও ছিলাম সেক্ষেত্রে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা:) ওসমান ইবন আফফান (রা:) এর হাতে বায়াত নেন। এ সময় আমি ভাবনায় পড়ে যাই, আমার অঙ্গীকার আমার বায়াত থেকে অগ্রগামী। সুতরাং আমি হযরত ওসমান (রা:) এর হাতে বায়াত নিই এবং খেলাফত প্রসঙ্গটিকে সানন্দে তাঁর কাঁধে তুলে দিই। সুতরাং যে কোনও জিহাদী
জরুরতে তিনি আমাকে ডেকে পাঠালে আমি তাতে সাড়া দিয়ে এসেছি। পক্ষান্তরে যুদ্ধলব্ধ মালের তিনি আমাকে যতটুকু যা দিয়েছেন (সন্তুষ্টচিত্তে) তাই গ্রহণ করেছি।
হাদীস বিশারদ আবূ আওয়ানার ভাষ্য
আবূ তালিব আল -আশারী "ফাযাইলু আবি বাকরিনিস সিদ্দীক" অধ্যায়ে নিজস্ব সনদে বিখ্যাত মুহাদ্দিস আবূ আওয়ানার সূত্রে এই রেওয়ায়েত করেন --
"আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরাহ বলেন, আমার সেবা করতে একবার হযরত আলী (রা:) এলেন, (ওই সময় খেলাফত প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা চলছিল) তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ (সা:) ইন্তিকাল করলে লোকেরা হযরত আবূ বকর (রা:) এর হাতে বায়াত নিল। আমিও সন্তুষ্টচিত্তে বায়াত হই। পরে আবূ বকর (রা:) তাঁর জীবদ্দশায় হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রা:) কে খলীফা নিযুক্ত করলে আমিও সন্তুষ্ট চিত্তে তাঁর হাতে বায়াত হই। এদিকে হযরত উমার (রা:) ইন্তেতালের পূর্বে একটি 'মজলিশে শুা' বানিয়ে দেন। ওই শুরা হযরত উসমান (রা:) কে খলীফা সাব্যস্ত করলে আমিও সন্তুষ্ট চিত্তে তাঁকে খলীফা মেনে নিই।
পাঠকবৃন্দের আত্মিক প্রশান্তির জন্য এটুকু বলা যায় যে, হযরত ফারূকে আযম (রা:) ইন্তিকালের পূর্বে যে, মজলিসে শুরা গঠন করেছিলেন তাতে
প্রথম নম্বরে হযরত আলীর নামোল্লেখ করেছিলেন। সিংহভাগ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক ঘটনাটি এভাবেই উদ্ধৃত করেছেন। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক খ: ৫ পৃ: ৪৭৭ -৮০ এও ঘটনাটি উল্লেখ আছে যা এই বইয়ের 'ওসমান অধ্যায়ে' উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
উপরোল্লিখিত বর্ণনাসমূহের পর এবার আমরা শীয়া বন্ধুদের প্রিয় লেখনী যা আমাদের এই প্রসংগের সত্যায়ন কারী উল্লেখ করব। আশাকরি
এ বর্ণনার পর আর কোনও বর্ণনার প্রয়োজন পড়বে না।
"'আমালীয়ে শায়খ" তুসীর বর্ণনা
বর্ণনাটির সময় ও স্হান হল 'জংগে জামাল'। এই যুদ্ধে পরাজিত অংশটি হযরত আলী (রা:) সম্মুখে নীত হয়ে ওযর পেশ করলে তিনি তাদের থামিয়ে নিজ ভাষণ শুরু করেন, তাতে তিনি বলেন --
"আমার থেকে বিমুখ হয়ে তোমরা আবূ বকর (রা:) এর হাতে বায়াত নিলে। আমিও সেমতাবস্হায় বায়াত নিলাম। পরে তোমরা যেভাবে উমার ইবন খাত্তাব (রা:) এর হাতে বায়াত নিয়ে আমিও সেভাবে নিলাম এবং সে বায়াতের অধিকারও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছিলাম। পরে হযরত উমার (রা:) এর প্রতি নৃশংস হামলা হলে তিনি ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাব -কমিটি করে দিয়েছিলেন এবং তাকে আমাকেও অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। পরে তোমরা উসমান ইবনে আফফান (রা:) এর হাতে বায়াত নিলে আমিও নিয়েছিলাম।
No comments:
Post a Comment