হযরত ওমর (রা:) এর সন্তান হযরত ইবনে ওমর (রা:) হাসান -হুসাইন (রা:) এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। ইমাম বুখারী যা তার সহীহ গ্রন্হে বর্ণনা করেন --
"জনৈক ইরাক ইহরাম অবস্হায় ইবনে উমর
(রা:) কে বলেন, কেউ যদি ইহরাম অবস্হায় মশা কিংবা মাছি মারে তাহলে তার জরিমানা কী? জবাবে ইবনে উমর (রা:) বলেন, ইরাকীরা মশা বা মাছি হত্যার মাসয়ালা জিজ্ঞাসাা করে,অথচ আল্লাহর হাবীবের নাতি ও পরিবারকে হত্যা করেছে। হুযুর (সা:) তাঁর দু'নাতি সম্পর্কে বলেন,ওরা আমাদের এই জগতের খোশবু।
ইবনে উমর আর তুমি এক নও
হাফেজ ইবনে আসাকির লেখেন --
"একবার হযরত উমর (রা:) হযরত হুসাইন (রা:)কে বললেন, সময় বুঝে একবার আমার সাথে দেখা করো। হযরত হুসাইন (রা:) তার কাছে গেলেন। পথিমধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) এর সাথে দেখা। তিনি বললেন, রাষ্ট্রীয় কাজে হযরত উমর (রা:) খুবই ব্যস্হ। কারো সাথে দেখা করার অনুমতি নেই। এমনকি আমিও অনুমতি পাইনি। হযরত হুসাইন (রা:) ফিরে গেলেন। পরে হযরত উমর (রা:) এর সাথে দেখা হলে বললেন,তোমার না আমার সাথে দেখা করার কথা? হুসাইন (রা:) বললেন, আমি আপনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে সময় আব্দুল্লাহরই অনুমতি
ছিল না। এ জন্য আমি ফিরে গিয়েছি। হযরত উমর (রা:) বললেন, তুমি নিজেকে ইবনে উমরের সমতুল্য মনে কর? ওর আমার চেয়ে তোমার মর্যাদা অনেক বেশী। আমাদের মর্যাদা সে তো তোমাদের কারণেই।
তোমাদের মর্যাদামাফিক পোষাক এলই তবে --
আবার সেই হাসান -হুসাইন (রা:)। কী মর্যাদা দিতেন তাঁদেরকে হযরত ফারূকে আযম (রা:)! এই না হলে ফারূকী খেলাফতের খলীফা। পুনশ্চ সেই ইবনে আসাকিরের ভাষ্য --
"বিজিত এলাকা থেকে কাপড় এলো। সাহাবায়ে কেরামের সন্তানদের মাঝে যথারীতি তা বন্টনও করে দেওয়া হলো।। কিন্তু হাসান -হুসাইন (রা:) এর মর্যাদামাফিক ছিলনা কোন পোষাকও। এ সময় হযরত উমর (রা:) ইয়ামেনে লোক পাঠিয়ে বললেন, ওদের মর্যাদাসই পোষাক তৈরী করে নিয়ে এসো। এই পোষাক আসার পরে হযরত ওমর (রা:) এবার আমার মন শান্ত হলো।
"ফারূকী খেলাফতে হাসান -হুসাইন (রা:) র
অর্থনৈতিক সুবিধাদি
ফারূকী খেলাফত নবী পরিবারের প্রতি যে অসীম
অবদান রেখেছে তা অনস্বীকার্য। ইতোপূর্বে হযরত
আলী (রা:) এর ভাতা প্রসংগে হাসান -হুসাইন (রা:) এর আলোচনা গেছে। এক্ষণে পৃথকাকারে এঁদের দু'জনার নামোল্লেখ না করলেই নয়।
আর সেই উল্লেখটা হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার
বলে খ্যাত ইমাম ত্বহাবীর একটি বর্ণনা দিয়েই --
এদিকে ইমাম রায়হাকীও কাছাকাছি এমন একটি বর্ণনা দেন। ইবনে আসাকির শীয়া ভাষ্যকার ইবনে আবিল হাদীসও এমতের প্রতি সহমত দেন।
অর্থা: "হযরত ফারূকে আযম (রা:) হাসান -হুসাইন (রা:) দু'ভাইয়ের প্রত্যেকের জন্য ৫০০০ দিরহাম নির্ধারণ করেন। নবীজীর আত্মীয় হিসেবেই তাঁদের এই প্রাপ্তি।
যমীনও যার সাথে কথা বলে
বিশিষ্ট শীয়া লেখক আব্বাস কুমী ইমাম হাসান (রা:) এর একটি কারামত বর্ণনা করেন। কারামতটি তার সাথে যমীনের কথা বলার। এই ঘটনাটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হযরত হাসান (রা:) ফারূকী খেলাফতে জেহাদ করতেন। আব্বাস কুমীর ভাষ্য --
'ইস্পাহান শহরে একটি মসজিদ রয়েছে। একে
'লিসানুল আরদ' বলে। ফাযেল হিন্দির মাজারের পূর্ব পার্শ্বে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত। ওখানকার লোকদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনযুগে তার এক বাহিনীর সাথে ইমাম হাসান (রা:) এখানে জেহাদ
করতে এসেছিলেন। বিজিত এই এলাকাটিতে হযরত হাসান (রা:) এলে যমীন ইমামের সাথে কথা বলে। একারণে এই যমীনকে 'লিসানুল আরদ' বা 'কথা বলা যমিন' বলে।
পারস্যের শাহজাদী শাহারবানু
শীয়া ভাষ্যকারদের বিবরণ দ্বারা জানা যায়, ইমাম মুহাম্মাদ বাকের বলেন, পারস্য সম্রাট য়াজগরদের কন্যা মদীনায় পৌঁছুলে মদীনার বধু -মাতারা ছাদে চড়ে তাদেরকে দেখতে ভীড় জমান। তার অপার সৌন্দর্য্যে চারদিক আলো ঝলমল হয়ে উঠে। এমনকি মসজিদে নববীও আলোকিত হয়ে যায়।
হযরত উমর (রা:) রাজকুমারীর দিকে তাকালে সে চেহারা ঢেকে ফেলে। বলে, দেবতা হরমুজ ( পারস্য সেনাপতি) এর অনিষ্ট করেন, তার দরুনই
আজকে আমাকে এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।
হযরত ওমর (রা:) (রাজকন্যার ভাষা বুঝতে না পেরে ) বললেন, সে আমাকে গাল দিচ্ছে কী? হযরত আলী (রা:) বললেন, আমীরুল মুমিনীন। না না। সে আপনাকে গাল দিচ্ছে না। হয়ত অন্য
কাউকে কিছু বলছে। পরে হযরত আলী (রা:) উমর (রা:) কে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, রাজকুমারীকে অধিকার দিন সে যে কাউকে
নির্বাচন করে নিবে। যাকেই সে পছন্দ করবে সেই
তার গনীমতের অংশ হয়ে যাবে। রাজকুমারী হযরত হুসাইন (রা:) এর মাথায় হাত রাখল। এভাবে সে হযরত হুসাইন (রা:) এর হয়ে গেল। হযরত আলী (রা:) রাজকুমারীকে তার নাম জিজ্ঞাসাা করলে সে বলল, তার নাম শাহজাহান। হযরত আলী (রা:) তাকে বললেন, উঁহু তুমি শাহারবানু। হযরত আলী (রা:) ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে বলেন, তোমার গর্ভে এমন এক সন্তান হবে
যে গোটা যমীনের মাঝে সেরা হবে। পরবর্তীতে এই শাহারবানুর গর্ভে ইমাম যাইনুল আবেদীন জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে আম্বাহ বলেন, রাজকুমারী শাহারবানু মাদায়েন যুদ্ধে বন্দী হন। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) ই তাঁকে হুসাইন
(রা:) এর ভাগে ফেলেছিলেন।।
No comments:
Post a Comment