রাষ্ট্রীয় কায় -কারবারে শ্রেণি বিন্যাস ও শাখা -প্রশাখা বন্টনের একটি ব্যাপার রয়েছে। রয়েছে মন্ত্রনালয় গঠনের। যেমন: শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়। খোলাফায়ে রাশেদার যুগেও এসব মন্ত্রনালয় বিদ্যমান ছিল। সেই সব মন্ত্রনালয় অনেকের স্কন্ধে অর্পিতও ছিল। দায়িত্ব বন্টনের কথাগুলো বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়। যেমন:--
সুনানে সাঈদ ইবনে মনসুর ও সুনানে কোবরায়ে বায়হাকী -এ হযরত উমর (রা:) এর একটি ভাষণের উদ্ধৃতি লক্ষ্য করা যায়। জাবিয়া -এ তিনি ভাষণটি প্রদান করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য -
"আমীরুল মুমিনীন উমর (রা:) ইবনুল খাত্তাব (রা:) সিরিয়ার জাবিয়ায় জনগনের উদ্দেশে ভাষণ -এ বলেন, যিনি কিরাতুল কোরআন বিষয়ে কিছু জানতে চান তিনি উবাই ইবনে কা'ব (রা:) এর কাছে যাবেন। যিনি হালাল -হারামের বিধান সম্পর্কে জানতে চান তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা:) এর কাছে যাবেন। যিনি ফারায়েজ (পরিত্যক্ত সম্পতি বন্টন নীতি) সম্পর্কে জানতে চান তিনি যায়দ ইবনে ছাবিত (রা:) এর স্মরণান্ন হবেন। আর যিনি অর্থবিষয়ে কিছু জানতে চান তিনি আমার থেকে জেনে নেবেন। আল্লাহপাক অর্থবিষয়ে আমাকে অর্থমন্ত্রী করেছেন। প্রথমে
আমি নবীজী (সা:) এর প্রিয়তমা স্ত্রীদের পাওনা
আদায় করব। এরপর মুহাজিরদের অধিকার আদায় করব, যাদেরকে তাদের ঘরদোর থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। সবশেষে আনসারদের অধিকার আদায় করব। উপরিউক্ত বর্ণনায় শিক্ষার বিভিন্ন দিকের একটা নকশা পেশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি খলীফার হাতে অর্থ বিভাগটি রেখে দেওয়ার আলোচনাটিও উঠে এসেছে।
তাবাকাতে ইবনে সায়াদের একটি বর্ণনায় আইন ও বিচার বিভাগ সম্পর্কেও একটি বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণনাটি 'সিদ্দীকী অংশে ' বিস্তারিত আকারে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণনাটির এক অংশ এমন --
"আবু বকর সিদ্দীক (রা:) এর পর হযরত ওমর (রা:) খলীফা হন এবং রাষ্ট্রের অভিভাবকত্ব গ্রহণ
করেন। আইন ও বিচার বিভাগ -এ হযরত ওসমান ইবনে আফফান, আলী ইবনে আবু তালেব, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, মুয়াজ ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কায়াব ও যায়দ ইবনে ছাবেত রাযি আল্লাহু আনহুম কে ডেকে পাঠান।
বর্ণনাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোন কোন মুহাজির যেমন কাজী ও মুফতি ছিলেন তেমনি কোন কোনও আনসারীও এ পদে আসীন ছিলেন। উভয়
গ্রুপের মাঝে কোনও গ্রুপিং ছিল না। ছিলনা কারো ওপর কারে প্রধান্যও। একমত একপথ ও
একসাথে তারা কাজ করতেন।
ফারুকী খেলাফতে ও হযরত আলী (রা:) এর মর্যাদা ছিল সর্বোচ্ছ। ইবনে কাছীরের ভাষ্য --
"১২ হিজরীর জুমাদাল উখরার ৮ দিন বাকী থাকতে মঙ্গলবার হযরত উমর (রা:) খলীফা হন। মদীনাবাসী হিসাবে তিনি হযরত আলী (রা:) কে নিয়োগ দেন। আর সিরিয়ায় তার নায়েব হিসাবে
হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা:) কে নিযুক্ত করেন।
এরদ্বারা জানা গেল হযরত আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ফারুক (রা:) এর সাথে হযরত আলী (রা:) এর সুসম্পর্ক ছিল। তাঁদের দু'জনার মাঝে কোন প্রকার শক্রতা, হিংসা, দ্বেষ কিংবা মনোমালিন্য ছিলনা। থাকলে তা অজানা থাকত না। থাকলে তিনি হযরত আলী (রা:) কে মদীনার কাজী বানাতেন না।
No comments:
Post a Comment