Monday, 17 June 2019

হযরত হাসান (রা:) ও তাঁর সন্তান প্রসংগে সিদ্দীক (রা:) এর মন্তব্য

হযরত আবূ বকর (রা:) এর খেলাফত কালে সিদ্দীকে আকবার নবী পরিবারের সদস্য হযরত হাসান (রা:) সম্পর্কে মন্তব্য করেন --
  "উকবা বলেন, আমি দেখেছি হযরত আবূ বকর (রা:) হযরত হাসান (রা:) কে কাঁধে তুলে নিয়ে বললেন, ছেলেটা তো দেখছি অবয়ব -আকৃতিতে নবীসাদৃশ -আলী (রা:) এর মত নয়। আলী মুর্তজা (রা:) এ কথা শুনে কেবল হাঁসলেন।
হযরত হাসান (রা:) কে নবীর অবয়বের সাথে তুলনা করার এই কথা আমরা শীয়াদের কিতাবেও দেখি। ঐতিহাসিক ইয়াকুবী তার 'তারীখে ইয়াকূবী শীর্ষক পুস্তকে লিখেছেন --
 "হযরত আবূ বকর (রা:) তাকে বলেছেন, মদীনার কোনও গলিতে দেখে, এ ছেলে তো দেখছি নবীজীর অবয়ব -আকৃতির, আলী (রা:) এর আকৃতির নয়।
এ ঘটনা নবীজীর ইন্তেকালের পরপরই ঘটেছিল। তাদের মধ্যে যদি শত্রুতা কিংবা কলহ থাকত তাহলে তারা এমন হৃদয়গ্রাগী মর্যাদার কথা বলতেন কী! কী অপূর্ব সুস্পর্ক ছিল এ মহান বুযুর্গদের মাঝে। এরপরও তাদের মধ্য শত্রুতা ও দ্বেষ খুঁজে বেড়ানো উদ্ভট ও বানোয়াট নয় কী?
 ৫০ হিজরীতে হযরত হাসান (রা:) মদীনায় ইন্তেকাল করেন। ইন্তেতালের পূর্বে তিনি নবীজীর রওজার পাশে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। ইচ্ছা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তিনি হযরত হুসাইন (রা:) কে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা:) এর কাছে প্রেরণ করেন। হযরত আয়েশা (রা:) সোৎসাহে দাফন হবার অনুমতি দিলেন। 'সাহাবাদের জীবনী' লেখকদের বইতে ঘটনাটি উল্লেখ আছে। এমনকি শীয়া ঐতিহাসিকবৃন্দও তাদের কিতাবে উক্ত অনুমতির ঘটিনাটি বিবৃত করেছেন --
  "হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) হযরত হাসান (রা:)কে তাঁর গৃহে নবীজীর পাশটিতে সানন্দে দাফন হবার সদয় অনুতমি প্রদান করেছিলেন। এই ইচ্ছা তিনি মুমূর্ষ অবস্হায় ব্যক্ত করেছিলেন।
অপর এক রেওয়ায়েতে আছে যে, হযরত হুসাইন (রা:) তাঁর ভায়ের দাফনের জন্য রওজা শরীফের জায়গা চাইলে তিনি সানন্দে অনুমতি দিয়েছিলেন। হযরত হাসান (রা:) এর ইন্তেতালের পর হযরত আয়েশা (রা:) রওজা শরীফে তাকে দাফন হতে দেননি বলে যে সব উদ্ভট বানোয়াট কুৎসা ও অপবাদ তাঁকে দেওয়া হয় -এর ভিত্তি যে কতটুকু তা উপরিক্ত স্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা প্রতীয়মান  হয়।
হযরত হাসান (রা:) এর আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান নামে একজন সন্তান ছিলেন। হযরত আবূ বকর (রা:) ও ওমর (রা:) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাা করা হলে তিনি বলেন --
 "আল্লাহ এই বুযুর্গদ্বয়ের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করেন। পক্ষান্তরে যারা তাদের ওপর দয়া, মহব্বত ও শ্রদ্ধাস্পদ কথা না বলবে আল্লাহ যেন তাদের প্রতি দয়াপরবশ না হন।
  এমনিভাবে হযরত হাসান (রা:) পৌত্র হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাসানকে শায়খাইন (আবূ বকর ও ওমর (রা:) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন --
 "হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাসানের কাছে কুফার একটি গোত্র এসে হযরত আবূ বকর (রা:) ও ওমর (রা:) মর্যাদা সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার শহরের লোকজনকে দেখো? আমি তো আবূ বকর (রা:) ও ওমর (রা:) কে আলী (রা:) এর চেয়ে সেরা মনে করি অথচ ওই দু'বুযুর্গ সম্পর্কে ওরা আমার কাছে জানতে চাচ্ছে।

No comments:

Post a Comment