হিজরী ১৭ সনে সিরিয়ার নিকটবর্তী 'ফাতহুল জাযিরা' জনপদটি মুসলিম দখলে আসে সে দেশের লোক খ্রীস্টান ছিল। ট্যাক্স ও জিযিয়া শব্দটি ওদের কাছে অপমানজনক মনে হওয়ায় ওরা সেনাপতি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা:) এর কাছে এসে এর বিপরীত কোন একটা নাম কিযবা মূল নামটি (জিযিয়া) লুপ্ত করার কথা বললো। হযরত সা'দ (রা:) প্রতিনিধি দলকে ফারুকে আযম (রা:) এর দরবারে প্রেরণ করলেন। তারা এসে আরজ করল --
"আপনারা আমাদের থেকে যা নিচ্ছেন এর নাম
ট্যাক্স বা জিযিয়া রাখবেন না। হযরত ফারুকে আযম (রা:) বলেন, তোমাদের জন্য ধার্য অর্থের নাম আমরা জিযিয়াই রাখব। তোমরা যা মনে চায় রাখতে পার। ওই সময় হযরত আলী (রা:) কাছে ছিলেন। তিনি বললেন, হযরত সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রা:) কি এদের প্রদেয় অর্থ দ্বিগুন করে
দেননি? আমীরুল মুমিনীন (রা:) বললেন, হ্যাঁ! বোঝা গেল তিনি ওদের মনোতুষ্টির জন্যই এটি
করেছেন। হযরত উমর (রা:) আলী (রা:) এর এই
কথা অর্থাৎ জিযিয়ার বদলে (নাম বদলপূবর্ক)
'দ্বিগুণ প্রদেয়' আদায় করা শুরু করার বিধান বহাল করেন।
বিজিত ভূমি ইরাক নিয়ে পরামর্শ
ইরাক ইসলামী খেলাফতের অধিনে এলে এসব এলাকার ভূ -স্বামীদের সম্পর্কে একটি পরামর্শ হয় যে, এদের নিয়ে পরিকল্পনা কী হতে পারে? এ বিষয়ে মোহাদ্দেসী ও ফোকাহাগণ যথেষ্ট কালি -কলম খরচ করেছেন --
"হারেসা ইবনে মোজরাব বলেন, ইরাক জয় হলে এর জমি -জমা হযরত উমর (রা:) মুসলমানদের মাঝে বন্টন করার পরিকল্পনা করলেন। প্রথমে তিনি একটি গড় হিসাব করলেন। আর তা এভাবে যে, এক এক জন মুসলমানের হিস্যায় তিন তিন
কাফের কৃষকের ভূমি আসবে। এরপর হযরত ফারুক আযম (রা:) সাহাবায়ে কেরামের সাথে
পরামর্শে বসলেন (পরামর্শ সভার সদস্যগণ যার
যার মত পেশ করলেন)। হযরত আলী (রা:) পরামর্শ দিলেন, প্রকৃত জমি কারো মালিকানায় না দিয়ে তা স্ব -অবস্হায় রেখে দেওয়া হোক। এতে
যা আমদানী হবে তা সকল মুসলমানের আমদানীরূপে গণ্য হবে। জমি যেভাবে যার মালিকানায় আছে সেভাবেই থাকবে। কৃষকের থেকে নির্ধারিত হারে ট্যাক্স আদায় হবে। পরিশেষে হযরত উমর (রা:) উসমান ইবনে হুনাইফ (রা:) কে ওই নির্দেশ মোতাবেক নির্ধারিত হারে ট্যাক্স আদায়ের জন্য প্রেরণ করলেন।
No comments:
Post a Comment