Thursday, 2 May 2019

হযরত ফাতেমা (রাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) এর মধ্যকার মধুর সম্পর্ক

হযরত আলী (রাঃ) ও ফাতেমা (রা:) এর বিয়েসম্পর্কিত তথ্যে উপাত্তের পাশাপাশি নবী পরিবারের অন্যান্য সদস্য বিশেষ করে উম্মৎ জননীদের সাথে এই দম্পতি সৌহার্দপূর্ণ মানসিকতা , নিষ্ঠা ও ভক্তি -শ্রদ্ধা আলোচনা করা
যেতে পারে । বিশেষ করে সিদ্দীকি খান্দানের লোকজনের সাথে নবী পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার তথাকথিত টানাপড়েন,ঝগড়া -বিবাদ ও
মনোমালিন্যের যে বিষয়গুলো নিয়ে অনেকেই সোচ্চার তার কিঞ্চিত খতিয়ান নিচে ফুটিয়ে তোলা
হচ্ছে ।
১।  হযরত আয়েশা (রাঃ ) এর মুখে খাতুনে জান্নাতের গুন -কীর্তন
  সর্বাগ্রে আমরা উম্মৎ জননী ও সিদ্দীক তনয়া হযরত আয়েশা (রাঃ)  এর পবিত্র মুখনিঃসৃত গুণ -কীর্তন শুনব যা তিনি খাতুনে হান্নাত সম্পর্কে করেছেন । হাদীস, ইতিহাস ও চরিত্রবিষয়ক কিতাবসমূহে এ বিষয়ে ভূড়ি ভূড়ি আলোচনা বিদ্যমান। এখানে উদাহরণস্বরূপ আমরা হাকেম নিশাপুরী (রহ:)-এর 'মুস্তাদরাক' ও ইবনে আব্দুল বার (রহ:) এর 'আল -ইস্তিয়াব ' কিতাবের
বর্ণনা টানব --
"উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসূলের অনুরূপ কথাবার্তা ও বাচনভঙ্গিতে ফাতেমা (রা:) -এর মত আমি আর কাউকে দেখিনি। নবী  করীম (স:) তাঁর কাছে এলে তিনি সসম্মানে উঠে দাঁড়াতেন , তাঁকে চুমো দিতেন এবং স্বাগত জানাতেন । এমনিভাবে হযরত ফাতেমা (রা:) ও নবী করীম (সা:) এর কাছে এলে তিনিও অনুরূপ করতেন" ।
হযরত  আয়েশা (রা:) বলেন,  ফাতেমা (রা:) এর
মত সত্যবাক আর কাউকে দেখিনি আমি। তবে
তাঁর বাবা রাসূল (সা:) এ থেকে ভিন্ন ' ।
    বিখ্যাত শীয়া আলেম শায়খ আব্বাস কুমীও তাঁর  'মুনতাহাল মাআল"  শীর্ষক গ্রন্হে আয়েশা
(রা:) এর সূত্রে হুবহু উক্ত রেওয়ায়েত তুলে ধরেছেন ।
আবূ নাঈম ইস্পাহানী (রা:)  বর্ণনা করেনঃ
"হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, তাঁর বাবা বিনে
ফাতেমা (রা:) এর মত সত্যবাক আমি কাউকে দেখিনি '।
আল্লামা হায়ছামী (রহ:) ও ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) নকল করেনঃ
রাসূল (সা:) ছাড়া ফাতেমার
চেয়ে সেরা আর কেউ নেই "।

হযরত আয়েশা (রা:) উপরোক্ত কথিকাসমূহ দ্বারা
স্বতঃই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) এর
পবিত্রা স্ত্রীগণ ও তাঁর কন্যাবৃন্দের মাঝে
সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক অন্য যে কারো তুলনায় অধিকই ছিল।
২।  আয়েশা (রা:) -কে ভালবাসোঃ রাসূলের নির্দেশ ফাতিমার প্রতি
এবার আমরা একটি হাদীস বর্ণনা করব যাতে দেখা যাবে রাসূলুল্লাহ (সা:) হযরত ফাতোমা (রা:)
কে নির্দেশ করেছেন যেন তিনি আয়েশা (রা:) কে মুহাব্বত করেন । বর্ণনাটি সহীহ মুসলিমের।
ইমাম নাসাঈও ঘটনাটি বর্ণনা করেন সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহকারে --
"উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:) বলেন, (একবার )
উম্মৎ জননীগণ হযরত ফাতেমা (রা:) কে রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর কাছে এসে প্রবেশানুমতি চাইলেন । এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা:) বিশ্রাম নিচ্ছলেন।  অনুমতি পেয়ে হযরত ফাতেমা ভেতরে প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ!  উম্মৎ জননীগণ আবূ বকর (রা:) এর মেয়ে ও তাঁদের মাঝে মহব্বত ও হাদীয়া -তোহফার ব্যাপারে সমতা
বিধানের ব্যাপারে কিছু বলতে আমাকে আপনার
কাছে প্রেরণ করেছেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি চুপচাপ তাঁর কথা শুনছিলাম। নবী করীম (সা:) বললেন,প্রিয় বৎস ! আমি যার সাথে
মহব্বত রাখি তুমি তাঁর সাথে মহব্বত রাখবে না?
হযরত ফাতেমা (রা:) বললেন, জ্বী হ্যাঁ! (মুহবাবত রাখব) । রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, তাহলে আয়েশার সাথে মহব্বত রাখবে।  হযরত ফাতেমা
(রা:) এ কথা শুনে বেরিয়ে গেলেন । উম্মৎ জননীদের কাছে গিয়ে সব কথা তুলে ধরলেন। জননীগণ বললেন,তুমি আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলোনি। যাও রাসূলুল্লাহ (সা:) এর কাছে আবার যাও । ফাতেমা (রা:) জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এ কথার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা:) এর কাছে আর কখনো যাব না,
কিছু বলব না। বর্ণনায় মুসলিম ও নাসাঈ।
উক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রতিভাত হচ্ছে যে, পূর্বের কিছু বর্ণনায় যেভাবে আয়েশা (রা:) এর ভাষ্যে ফাতেমা (রা:) এর গুণকীর্তণ ও স্তুতি বন্দনা ফুটে উঠেছে সেভাবে এখানে খোদ ফাতেমা (রা:) এর ভাষ্যে উম্মৎ জননী আয়েশার প্রশংসা ও মাহাত্ম্য উঠে এসেছে । এটি সত্যিই তাদের চমৎকার আন্তরিকতা ও বোঝাপড়ার দলিল । হৃদ্যতা ও সৌহার্দের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন। তাছাড়া উম্মুল
মুমিনীনদের প্রতি হযরত ফাতেমা (রা:) এর ভক্তি
শ্রদ্ধা তো ছিলই এরপর তাঁর প্রতি রাসূলের নির্দেশে হযরত আয়েশার (রা:) প্রতি তাঁর অগাধ
শ্রদ্ধা আরো বেড়ে যায় এবং মহব্বত ওয়াজিব হয়ে
দাঁড়ায় -নয় কি! আল্লাহর প্রিয় হাবীবের প্রিয়তমার প্রতি হযরত ফাতেমা (রা:) অতি অবশ্যই মহব্বত,
আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে এটাই
স্বাভাবিক। এতে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। 
৩। হযরত আয়েশা (রা:) ও ফাতেমা (রা:) এর পারস্পারিক আস্হা ও গ্রহণযোগ্যতা
  হযরত আয়েশা (রা:) ও আলী -ফাতেমা (রা:) দম্পতির মধ্যকার পারস্পরিক আস্হা ও নির্ভরতা ছিল খুবই প্রগাঢ়। শরয়ী মাসয়ালা মাসায়েল বিষয়ে তাদের একে অপরের ব্যাখ্যার প্রতি শ্রদ্ধা কত অমায়িক। মুসনাদে আহমাদ - এ 'হাদীসে ফাতেসা ' -উল্লেখ আছে --
"উম্মে সুলায়মান বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা:) এর কাছে গেলাম । তাঁর কাছে কুরবাণীর গোশতের মাসয়ালা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) প্রথমে গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন, পরে অবশ্য ভক্ষণেন অনুমতি দায়েছেন।  (কারন এই যে ) হযরত আলী (রা:) একবার সফর থেকে বাড়ী এলে ফাতেমা (রা:) তাঁকে কুরবাণীর গোশত খেতে দিলেন। হযরত আলী (না:) বললেন, নবী কারীম (সা:) কুরবাণীর
গোশত খেতে নিষেধ করেননি? হযরত ফাতেমা (রা:) বললেন, নবী করীম (সা:) এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন । হযরত আলী (রা:) রাসূলুল্লাহ (সা:) এর কাছে ব্যাপারটি আরজ করলে তিনি বললেন, এখন থেকে সর্বদার জন্য তোমরা কোরবানির গোশত ভক্ষণ করে যেতে পার। উক্ত ঘটনা নমুনাস্বরূপ পেশ করা হল দেখা গেল শরয়ী ব্যাখ্যায় তাঁর সহমতের অধিকারী । এতে তাদের মাঝে কোন মতানৈক্য পরিলক্ষিত হয়নি ।এছাড়া আরেকটি ঘটনা যা হযরত আয়েশা (রা:) ও ফাতেমা (রা:) এর মধ্যকার সহমর্মিতার দিকটিকে ফুটিয়ে তোলে।
ঘটনাটিতে প্রতীয়মান হযরত সাহাবায়ে কেরামের
মাঝে কোন প্রকার হীনমন্যতা ছিল না। তাঁর পরস্পরের প্রতি নেহায়েত বন্ধু মনোভাবাপন্ন ছিলেন । সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে --
  অর্থাৎঃঃ  ইবনে আবী লায়লা বলেন, আলী মুরতাজা (রা:) আমাকে বলেন, যাঁরা পেষতে পেষতে হযরত ফাতেমা (রা:) এর হাতে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল । তিনি নবী কারীম (সা:) এর খেদমতে এসে দেখলেন তিনি বাড়ীতে নেই । হযরত ফাতেমা (রা:) উম্মৎ জননী হযরত আয়েশা (রা:) এর কাছে তার আগমন হেতুটি বর্ণনা করলেন। নবী কারীম (সা:) এর তাশরীফ আনলে
হযরত আয়েশা (রা:) তাঁর পক্ষে জরুরতটি রাসূলুল্লাহ (সা:) এর কাছে তুললেন। রাসূলুল্লাহ (সা:) তৎক্ষণাৎ হযরত ফাতেমা (রা:) এর বাড়ীতে তাশরীফ নিয়ে গেলেন। ওই সময় আমরা শোয়া
ছিলাম। হুযুর (সা:) এর আগমনি জেনে আমরা উঠতে লাগলে 'তোমরা স্বস্হানে শুয়ে থাকো ' বলে তিনি আমাদের মাঝে বসে গেলেন। তাঁর পা
মোবারক আমার বক্ষ ছুঁয়েছিল। তিনি বললেন,
তোমরা আমার কাছে যা চেয়েছ তার চেয়ে উত্তম
জিনিস আমি তোমাদেরকে বাতলে দিচ্ছি (যা খাদেমের চেয়ে ভাল )। তোমরা যখন ঘরে প্রবেশ
তরবে তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবার ,৩৩ বার সোবহানাল্লাহ ও ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে।    উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে তাদের
প্রকৃতি ও চরিত্রে কোন হীনমন্যতা ও নোংরামি ছিলনা । পরস্পরে তাঁরা ছিলেন মিত্রসূলভ,সহমর্মী
ও হিতাকাংখী ।হিংসা, দ্বেষ ও মনোমালিন্য থেকে
তাঁদের হৃদয় ছিল স্বচ্ছ । ঘৃণা ও শীতলযুদ্ধ ছিল
না তাঁদের মাঝে ।
এখানে আরো একটি বিষয় জেনে রাখা ভাল যে ,
উক্ত তাসবীহকে 'তাসবীহে ফাতেমী' বলে। সৌভাগ্যবান মুসলমানেরা এই তাসবীহ সর্বদা তাদের মুখে জারী রাখে । নবীগৃহ থেকেে এই তাসবীহ সর্বকালের সকল মুসলমানের গৃহে জারী
থাকা দরকার যাতে ঐশী বরকতে সকলে বিমোহিত হতে পারে। তাছাড়া ওলামায়ে কেরাম বলেন , যে লোক রাতে শুতে গিয়ে উক্ত তাসবীহ
সূরা ইখলাসহকারে পড়ে ঘুমাবে তাদের ওই দানকার সকল দৈহিক গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে ।
৪।  হযরত ফাতেমা (রা:) এর হযরত আয়েশা (রা:) এর কাছে গুরুত্বপূর্ন রহস্য প্রকাশ ।
  এখানে আমরা এমন একটি রেওয়ায়েত পেশ করব যাতে দেখা যাবে হযরত ফাতেমা (রা:) ইসলামের গুরুত্বপূর্ন একটি রহস্য হযরত আয়েশা
(রা:) এর কাছে ফাঁস করেছেন। যেটি হযরত আয়েশা (রা:) এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ অবগত
হতে পেরেছে। হাদীসটির ভাষ্য মুসলিম শরীফে বিদ্যমান ।
"হযরত মাসরূক উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:)
থেকে বর্ণনা করেন, একদা নবী করীম (সা:) এর কাছে সকল উম্মৎ জননী উপস্হিত ছিলেন । এ
সময় হযরত ফাতেমা (রা:) তাশরীফ আনলেন।
তার ওঠাবসা ও চাল -চলন তার (মহান) বাবার মতই ছিল । তিনি হযরত ফাতেমা (রা:) কে দেখে
স্বাগত জানিয়ে পাশটিতে বসালেন। তাঁর কানে
রাসূলুল্লাহ (সা:) অনুচ্চস্বরে একটি কথা বলতেই তিনি অবলীলায় কেঁদে দিলেন। তাঁর উদ্বিগ্নতা দেখে প্রিয়নবী (সা:) আবার তাঁর কানে অনুচ্চস্বরে আরেকটি কথা বললেন। এবার হযরত ফাতেমা হেসে ওঠলেন । হযরত আয়েশা  (রা:) বলেন, আমি ফাতেমা (রা:) কে বললাম, গোপন কথা
জানানোর জন্য উম্মৎ জননীদের বাদ দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা:) আপনাকেই নির্বাচন করলেন আর আপনি কেঁদে দিলেন ? রাসূলুল্লাহ (সা:) মজলিস ছেড়ে উঠে গেলে আমি ফাতেমা (রা:) কে
জিজ্ঞাসা করলাম, কি সেই গোপন কথা যা রাসূলুল্লাহ (সা:) আপনাকে বলেছেন?  হযরত ফাতেমা (রা:) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) এর গোপন রহস্য আমি ফাঁস করতে চাচ্ছি না।  নবী
করীম (সা:) ইন্তেকাল করলে (হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, আমি ফাতেমাকে জিজ্ঞাসা করলাম,
ওই অধিকার যা আপনার প্রতি আমার আছে ( অর্থাৎ আমি আপনার মা আর আপনি আমার মেয়ে হিসেবে )কসম দিয়ে বলছি, কি সেই গোপন রহস্য যা প্রিয়নবী (সা:) আপনার কানে কানে
বলেছিলেন?  হযরত ফাতেমা (রা:) বললেন, হ্যা ?
এখন আমি বলব । বোধকরি এবলায় তেমন কোনও বাধা নেই। হযরত ফাতেমা (রা:) বললেন,
প্রথম বারের কানাকানিতে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছিলেন, জিবরাঈল আমাকে বললোন, আমার মৃত্যুর সময় আসন্ন।  কাজেই ফাতেমা ! তোমাকে
ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আল্লাহকে ভয় করতে হবে। আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্র -অভিভাবক হব। এ কথা শুনে আমি কাঁদলাম - যেমনটা আপনি (তখন) দেখেছিলেন। পরে আমার উদ্বিগ্নতা ও অস্হিরতা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা:) দ্বিতীয় বার বললেন, ফাতেমা ! তুমি কী এতে খোশ হবে না যে, তুমি মোমেন নারীদের সর্দার হবে?  কিংবা এই উম্মতের নারীকুলের সর্দার হবে? এ কথা শুনে আমি হাসলাম যেমনটা আপনি (তখন ) দেখেছিলেন। পাঠক? লক্ষ্য করুন হযরত
ফাতেমা (রা:) এর এই সুবিশাল মর্যাদা যা হযরত আয়েশা (রা:) এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে ; তা শীয়াদের পন্ডিতমনা লেখক,  ওলামা ও মুজতাহিদবৃন্দের নির্ভরযোগ্য লেখনীতেও ঠাঁই পেয়েছে । অবশ্য তাদের লেখার মাঝে কিছু শাব্দিক পার্থক্য থাকলেও মূল মর্ম একই। কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় আমরা সেসব বর্ণনা থেকে বিরত রইলাম । বর্ণনাগুলোয় শীয় মুজতাহিদবৃন্দ যেহেতু কোন সমালোচনা করেননি সেহেতু একে সুদৃঢ় দলীল বলা যায়।
     সার -সংক্ষেপঃ
উপরিউক্ত সর্বজনস্বীকৃত বর্ণনাসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে --
১। নবী করীম (সা:) এর সাহেবযাদী ও তাঁর স্ত্রীগণের মাঝে তাঁর জীবদ্দশায় যেভাবে যাতায়াত ছাল সেভাবে তাঁর মৃত্যুর পরেও পরস্পরের মাঝে ওঠাবসা ছিল।
২। এই পুতঃপবিত্রা ইতিহাসখ্যাত মহিয়সী নারীদের মাঝে পারস্পারিক সৌহার্দ,সম্প্রীতি, রাসূলুল্লাহ (সা:) এর যুগে ও তাঁর পরবর্তিতেও বহাল ছিল ।
৩। ফাতেমা (রা:) ও রাসূলুল্লাহ (সা:) এর মধ্যকার
গুপ্ত রহস্য হযরত আয়েশা (রা:) এর কাছে এতই মর্যাদাকর ও গুরুত্ববহ ছিল যে, প্রিয়নবী (সা:) এর
ইন্তেতালের পরে কসম খেয়ে তাঁকে ফাতেমা (রা:) থেকে এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে হয়েছিল । হযরত
ফাতেমা (রা:) এর মহান ফযিলতটি কিয়ামত পর্যন্ত আগত উম্মতের জন্য প্রচারের দায়িত্বটি নেন কিন্তু আবূ বকর (রা:) তনয়া হযরত আয়েশা সিদ্দীকাই (রা:) ।

No comments:

Post a Comment