Monday, 13 May 2019

নামাযে ইমামতির ইসলামী বিধি -বিধান

হযরত ফাতেমা (রা:) জানাযার বিশ্লেষণের পূর্বে
'ইমামতিতে ইসলামের বিধ' জানা গেলে সমস্যাটির সহজ সমাধান হবে।
ইসলামী শরীয়তোশরীয়তে (পাঞ্জেগানা নামায হোক কিংবা জানাযা) , মুসলিম আমীর এবং খলীফা ওয়াক্তিয়া নামাযে ইমামতির অধিকার রাখেন। তিনি যদি উপস্হিত না থাকেন কিংবা তার কোন ওযর থাকে তাহলে আমীরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে যিনি নির্ধারিত থাকবেন তিনিই এর অধিকারী হবেন। প্রতি শতাব্দীর মানুষ উপরিউক্ত মাসয়ালায় এই বিধানটি এভাবেই মেনে আসছেন। ইসলামী ফিকহের কিতাবগুলোতেও এভাবেই লেখা আছে। এখানে আমরা সুন্নী কিতাবের দিকে না গিয়ে শীয়া বন্ধুদের কিতাবকেই প্রামাণ্য হিসেবে পেশ করব।
১। জনগণ ইমাম জাফর সাদেক (রহ:) কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন --
(১) রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেন , যে লোক অন্যদের তুলনায় কিরাত শাস্ত্রে অধিক পারদর্শী সে ইমামতি করবে । কিরাত শাস্ত্রে পারদর্শীগণ যদি সমান্তরাল হয়ে যান তখন হিজরতে অগ্রজ ব্যক্তি ইমামতি করবেন। যদি হিজরতেও সমান্তরাল কয়েকজন হয়ে যান তাহলে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিই ইমামতি করবেন।
(২) শায়খ তুসী বলেন, ইমামতির যোগ্য সর্বাধিক সেই লোক যিনি কুরআন -চর্চায় অধীক পারদর্শী ।
এতে সকলে সমান্তরাল হলে হিজরতে অগ্রজ ব্যক্তিই ইমামতের যোগ্য নির্ধারিত হবেন। হিজরতেও সকলে সমান হলে বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তিই
ইমামতের যোগ্য নির্ধারিত হবেন।
শীয়া মুজতাহিদবৃন্দ তাদের ফতোয়াসিদ্ধ মত ব্যক্ত  করেন এভাবে -
"যদি জানাযা পড়ুয়াদের মাঝে সকলে ইলমে ফিকহ ও ইলমে কিরাআতে সমান্তরাল হয় তবে দারুল ইসলামের দিকে হিজরতে যে অগ্রজ সেই
ইমামতের যোগ্য । উপস্হিতজনেরা যদি হিজরতেও বরাবর হয় তাহলে তাদের মধ্যকার বয়োজেষ্ঠ লোকটিই ইমামতের সর্বাধিক হকদার।
এদিকে মসজিদের বেতনভুক ইমাম সর্বাধিক জানাযা পড়ানোর অধিকারী । এমনিভাবে বাড়ীওয়ালা তার বাড়ীতে ইমামতের সর্বাধিক অধিকারী। অবশিষ্ট লোকদের মাঝে আমীরুল মুমিনীন ও সমকালীন খলিফাই ইমামতের সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি।
৪. ইমাম জাফর সাদেক (রহ:) এর ভাষ্য দেখুন -
"ইমাম জাফর সাদেক (রহ:) বলেন, সমকালীন আমীর উপস্হিত থাকলে জানাযার ব্যাপারে তিনিই সর্বাধিক যোগ্য।
৫. এবার খোদ হযরত আলী (রা:) এর ভাষ্যের প্রতি নজর বুলানো যাক -
"হযরত আলী (রা:) বলেন, মৃতের নিকটাত্মীয়ের
চেয়ে সমকালীন শাসকই নামযে জানাযার অধিক অধিকারী।
উপরিউক্ত শীয়া রেফারেন্সসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান
হচ্ছে,  ইমামুল মুসলিম ও খলীফাতুল মুমিনীনের
উপস্হিতিতে অপর কোন মুমিন -মুসলমানের জানাযা পড়ানোর অধিকার নেই। ইমামতের অধিকার এক্ষেত্রে কেবল তাঁরই । চাই নামাযটি পাঞ্জেগানা হোক কিংবা জানাযা ।
ইমামদের আলোচনা অবগত হবার পর সুধী পাঠকই বিচার করুন, ইমামতের শর্ত কার মধ্যে পাওয়া যায়? একটু ভাবলেই দেখবেন হযরত ফাতেমা (রা:) এর জানাযা সম্পর্কে যে কথা বাজারে চাউর হয়ে আছে তাতে হযরত আবূ বকর (রা:) এর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা কতটুকু। আর নবী -নন্দিনীর জানাযাটি পড়িয়ে তিনি অনধিকার চর্চাইবা কতখানি করেছেন তাও বলা বাহুল্য।
মজার বিষয় এই যে, ওইসময় জানাযায় যারা উপস্হিত ছিলেন তন্মধ্যে ইসলাম গ্রহণের দিক দিয়ে সর্বপ্রাচীন  ছিলেন  হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা:)। হিজরতের বেলায় তিনি ছিলেন সর্বঅগ্রজ, অন্যান্য লোকদের তুলনায় সিদ্দীকে আকবার (রা:) ছিলেন বয়োজেষ্ঠ্য। সর্বোপরি হযরত আলী (রা:) ও ফাতেমা (রা:) যে মহল্লায়
বসবাস করতেন সেই মহল্লা অর্থাৎ মসজিদে নববীর ইমামও ছিলেন হযরত আবূ বকর (রা:)।
সবার চেয়ে বড় কথা হল, ওইসময় তিনি গোটা মুসলিম উম্মাহর আমীর ও খলীফা ছিলেন।
একথাও মনে রাখতে হবে , হযরত ফাতেমা (রা:)
এর ইন্তেতালের সময় সিদ্দীকে আকবার (রা:) মদীনায় উপস্হিত ছিলেন। তিনি কোনও সফরে
ছিলেন না । মদীনায় থাকতেই তিনি নবী -নন্দিনীর ওফাতের খবর পান এবং জানাযায় শরীক হন।
ইনসাফী দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠকই এখন বিচার করুন উক্ত জানাযা পড়ানোর প্রকৃত অধিকারী কে? এবং কে এই জানাযা পড়িয়েছিলেন?  সঠিক
ও প্রকৃত উত্তর এই যে,  ওই জানাযা রাসূলের খলীফা সিদ্দীকে আকবার (রা:) ই পড়িয়েছিলেন
এবং তিনি নবী পরিবারের আত্মীয়তার হকও পুরোপুরি আদায় করেছিলেন।

No comments:

Post a Comment