সহীহ বুখারীতে বর্ণিত উপরিউক্ত হাদীসখানা দীর্ঘ, তবে এখানে প্রয়োজনীয় অংশটুকু উল্লেখ করা হয়েছে । এতে হযরত আলী ও আব্বাস (রা:) এর
ঝগড়ার কথা আছে। ঝগড়াটি বনী নযীরের সম্পদ থেকে বনী হাশেমের বুযুর্গগণ যে হিস্যা পেতেন তা নিয়ে দুটি দলের সৃষ্ট হয়েছিল। এক
দলের পুরোধা ছিলেন হযরত আলী (রা:) আরেক
দলের প্রধান ছিলেন হযরত আব্বাস (রা:) । মুহাদ্দেসীনে কেরাম বলেন, এমহান বুযুর্গদ্বয়ের পারস্পারিক সংঘর্ষ উক্ত যুদ্ধলব্ধ মালের বরাদ্দ ও
জমা খরচ নিয়ে। এক সময় তাদের এই মামলা হযরত ওমর (রা:) এর দরকারে উত্থাপিত হয়।
হাশেমীদের দাবী ছিল, যুদ্ধে যে সব ভূ -সম্পদ হস্তগত হয়েছে তা যেন আমাদের মাঝে পৃথক পৃথক করে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে বোধকরি
আমাদের মাঝে কোন সংঘর্ষই থাকবে না। হযরত
ওমর (রা:) তাদের মর্জিমত ভূ -সম্পদ ভাগ করে
দিতে অস্বীকৃত হলেন। বললেন, নবী (সা:) ও প্রথম খলীফার মতই এই সম্পদের ভোগ দখল চলবে , বরাদ্দ হবে । নতুন করে আমি কোন পৃথক সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। আমীরুল মুমিনীন ওমর
ইবনুল খাত্তাব (রা:) এই ধরনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দেসীনে কেরাম বলেন, যদি মামলার বিবদমান দু গ্রুপের মর্জিমত জমি জমা ভাগ করে
দেয়া হত তাহলে বনী হাশেমকে অর্ধেক আর নবী
পরিবারকে অর্ধেক দেওয়া লাগত। এতে একটা জিনিষ পরিস্কার হত যে , নবীর সম্পদের মিরাছ
ভাগ হচ্ছে । রাসূলুল্লাহ (সা:) এর অর্ধেক সম্পদ তাঁর মেয়ের সুত্রে হযরত আলী (রা:) পেয়েছেন আর উম্মুল মুমিনীনগণের অংশ আসাবা হিসেবে
চাচা আব্বাস পেয়েছেন । অথচ নবীদের সম্পদের
কোন বিলি -বন্টন হয় না । তাদের পরিত্যাক্ত সম্পদ পাবেন জনসাধারণ। এই সন্দেহ থেকে বাঁচার স্বার্থে হযরত ওমর (রা:) ওই মামলায় বিব্রতবোধ করে তাঁর পূর্বসূরীর নিয়ম বহাল রেখেছেন। তবে হাশেমী ও আলী (রা:) খান্দান তথা নবী পরিবার পর্যাপ্ত পরিমান বরাদ্দ সন্তোষজনক আকারে বায়তুল মাল থেকে যথারীতি পেয়ে গেছেন আমৃত্যুই। এর ওপর আমরা আরো বিশদ আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্।
শীয়াদের ভাষ্যঃ
মালে ফাই (যুদ্ধলব্ধ মাল ) এর আমদানী ও বরাদ্দ নিয়ে শীয়া ওলামাগণ বিশদ কালি কলম খরচ
করেছেন । ইবনে আবিল হাদীদের 'নাহ্জুুল বালাগাহ' কিতাবটি এ বিষয়ে সর্বাধিক সোচ্চার । তার ভাষ্য, ওসমান ইবনে হানীফ হযরত আলী (রা:) এর পক্ষ থেকে বসরার গভর্ণর নিযুক্ত ছিলেন । হযরত আলী (রা:) তাকে লেখা একটি পত্রে বলেন - 'ফাদাকের জমিজমা আমার অধীনে ছিল ' । ইবনে আবিল হাদীদ 'শরহে নাহ্জুুল বালাগাহ ' -এ ফাদাক বিষয়ে তিনটি পরিচ্ছেদ টেনেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে আবূ বকর আল -জওয়াহিরীর প্রমানসিদ্ধ বর্ণনা এনেছেন।
এই পরিচ্ছেদে তিনি একথাটি স্বীকার গেছেন যে,
মালে ফাই -এর আমদানী ও বরাদ্দের দায়িত্বটি
হযরত আলী (রা:) এর ওপরই ছিল । তাঁর পবিত্র
খান্দানও সেগুলো ভোগ দখল করত । দেখুন তার ভাষ্য -
"এই মামলায় হযরত আলী (রা:) হযরত আব্বাস (রা:) এর বিরুদ্ধে জিতে গেলেন । সুতরাং এই মাল সম্পদ হযরত আলী (রা:) এর হস্তগত হল। পরবর্তীতে হযরত হাসান (রা:) এর করতলগত হল । তারপরে একে একে হুসাইন (রা:) . আলী যায়নুল আবিদীন, হাসান ইবনে হাসান ও যায়েদ
ইবনে হাসানের দায়িত্বে অর্পিত হয়।
সার -সংক্ষেপঃ
১। নবী পরিবারের লোকজনের জন্য মালে ফাই তথা বনি নযীরের সম্পদ যথারীতি আদায় করা হত।
২। এই সব মালের রক্ষক ও বন্টনকারী খোদ হযরত আলী (রা:) ই ছিলেন । তাঁর মৃত্যুর পর এ
মহান দায়িত্বটি তাঁর উত্তরাধিকারীগণই একে এক
পালন করেন।
৩। নবী পরিবার ও বনী হাশেমের অধিকারসমূহ
হরণের সকল ঘটনাই উদ্ভট বানোয়াট ও উদ্দেশ্য
প্রণোদিত । সর্বোপরি মিথ্যার বেসাতিতে পূর্ণ ।
তাদের অধিকার কোনদিনও ক্ষুন্ন হয়নি। খয়বারের ভূ -সম্পদের এক ছটাকও কেউ আত্মসাৎ করেনি। সিদ্দীকি,ফারুকী ও ওসমানি
খেলাফতের কোনও ব্যক্তি এ দুস্কর্মটি করেননি। বরং যথাযথ যার যার অধিকার যার যার কাছে তাঁরা পৌঁছিয়েছেন নিতান্তই আমানতদারির সাথে।
No comments:
Post a Comment