Monday, 6 May 2019

সিদ্দীকী খেলা্ফতঃ নিকটাত্মীয়ের হিস্যা কিংবা এক পঞ্চমাংশ অর্জনের বর্ণনা

উপরোক্ত আলোচনায় খুমুস ( এক পঞ্চমাংশ ) এর আলোচনা এলেও তা ছিল মালে ফাই ( যুদ্ধ না করে রণাঙ্গন থেকে সম্পদ হাসিল করা)  এর প্রাসঙ্গিক আকারে। এক্ষণে আমরা বিষয়টি পৃথকাকারে উল্লেখ করতে চাই । বলতে চাই এক পঞ্চমাংশ বা মালে খুমুসে বনী হাশেমের যে পাওনা ছিল হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) খেলাফত কালে তা পুঙ্খানুুপুঙ্খ আদায় করা হয়েছে । এক কানাকড়ি থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়নি।
মজার বিষয় হলো, এগুলো বন্টনের দায়িত্ব ছিল
স্বয়ং হযরত আলী ( রা:) এর হাতে । সুতরাং পঞ্চমাংশ আত্মসাতের কাহিনী শুদ্ধ নয় । এই বিষয়টিতে স্বয়ং হযরত আলী (রা:) এর ভাষ্য দেখা যেতে পারে । হযরত আলী (রা:) বর্ণনা করেন --
"হযরত আলী (রা:) বলেন, হযরত ফাতেমা , আব্বাস ও যায়দ ইবনে হারিসা (রা:) এর উপস্হিতিতেই আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) এর খেদমতে আরয করলাম, নিকটাত্মীয়দের মালে
খুমুসের (যুদ্ধলব্ধ মালের এক পঞ্চমাংশ) ভাগ বাটোয়ারার দায়িত্ব যদি আপনার জীবদ্দশায় আমাকে দেয়া হত তাহলে ভাল হত। আপনার পরবর্তীতে এতদ্বিষয়ে কেউ আমার সাথে মতানৈক্য লিপ্ত হতে পারত না । হযরত আলী (রা:)
বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাকে ওই মাল বন্টনের দায়িত্ব অর্পন করেন । রাসূলুল্লাহ (সা:) এর জীবদ্দশায় আমি ওই মালের ( বনী হাশেমের মাঝে) বিলি -বন্টন করেছি । পরে আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) তাঁর শাসনকালে আমাকে ওই দায়িত্বে বহাল রাখেন । তাঁর যুগেও আমি উহা বনী
হাশেমের মাঝে বিলি করি । তাঁর পরবর্তিতে হযরত ওমর ফারুক (রা:) এর যুগেও  আমাকে স্বপদে বহাল রাখা হলে ফারুকী যুগে উহা বনী হাশেমের মাঝে বিলি করি। ফারুকী খেলাফতের শেষের দিকে অঢেল মালেে খুমুস আসে । তিনি এ
সময় আমাদের হিস্যার মাল আলাদা করে আমার কাছে প্রেরণ করে বলেন, আপনাদের অংশ নিয়ে পূর্বাপর নিয়মে বন্টন করুন। ওই সময় আমি বলি, আমীরুল মুমিনীন! আমরা (বনী হাশেম ) এক্ষণে আর এই মাল নিতে চাচ্ছি না। (আলহামদুলিল্লাহ এক্ষণে আমাদের অবস্হা ভাল ) অন্যান্য মুসলমানদের দরকার আছে । তারা ঠোকাগ্রস্হও ।  তখন হযরত ওমর (রা:) ওই মালগুলো ঠোকাগ্রস্হ মুসলমানদের জন্য বায়তুলমালে ফেরৎ নিয়ে নেন ।
    সার সংক্ষেপঃ
১। উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রতীয়মান হলো , সিদ্দীকী ও ফারুকী খেলাফতকালে বনী হাশেম ও
নবী পরিবার যুদ্ধলব্ধ মালের হিস্যা যথারীতি পেতেন। তাঁদের অধিকারসমূহ কেউ কখনো ছিনতাই করেনি ।
২। মজার বিষয় হলো, বনী হাশেম ও নবী পরিবারের খুমুস (যুদ্ধলব্ধ মাল ) বন্টনের দায়িত্বে হযরত আলী (রা:) ই নিয়োজিত ছিলেন । এগুলো সব হযরত আলী (রা:) এর মাধ্যমেই বন্টন হবার
কারণে নবী বংশের কারো প্রতি কোনরূপ অনিয়ম হবার শংকা নেই ।
৩। মালে খুমুস প্রাপ্তিতে বনী হাশেম ও আহলে বায়তের ক্ষেত্রে ঠেকা ও দারিদ্রে্ার বিষয়টি লক্ষ্য
করা হত। অর্থাৎ তারা প্রয়োজনে নিতেন, নিষ্প্রয়োজনে নিতেন না ।
৪। তাঁদের মধ্যকার এই ধরনের পারস্পারিক লেন -দেন,  আদান -প্রদান এ কথার স্বাক্ষী দেয় যে,
চমৎকার বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া ছিল তাদের মধ্যে।
'শত্রুর মাঝে এমন লেনদেন তল্পনা করা যায় কী!

No comments:

Post a Comment