Wednesday, 8 May 2019

সিদ্দীকে আকবার (রা:) -এর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস (রা:) ও হযরত ফাতেমা (রা:)

এক্ষণে আমরা সিদ্দীকে আকবর (রা:) এর পরিবার -পরিজনের সাথে খাতুনে  জান্নাতের ওঠাবসা, সাহায্য -সহানুভূতি ও খায় -খেদমতের আলোচনায় আসব । দেখব সিদ্দীকে আকবর (রা:) এর এই মহীয়সী স্ত্রী খাতুনে জান্নাতের জীবনের শেষ ক,টা দিন কী করে সেবা করেছেন। শুধু কী তাই! খাতুনে জান্নাতের ইন্তেতালের পর গোসল ও কাফনেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন । তাঁর স্বামী ও খাতুনে জান্নাতের মধ্যে যদি শত্রুতাই থাকত তাহলে তাঁর জীবদ্দশায় কেন আলী (রা:) এর খান্দান তাঁকে সেবার সুযোগ দিলেন?  কেনইবা মৃত্যুপরবর্তী সৎকারে তাঁর সেবা
নিলেন ? এ বিষয়টি আমরা দেখব। প্রথমেই হযরত আসমা (রা:) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোকপাত হবে। এরপর দেখা যাবে তিনি কীভাবে তাঁর সেবা করেছেন ।
  আসমা বিনতে উমাইস (রা:) এর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত
তাঁর নাম আসমা বিনতে উমাইস (রা:) । বংশের নাম খাছ 'আম । অভিজাত, দ্বীনদার , অতিশয় খেদমতকারিনী ছিলেন । গোড়ার দিকেই ইসলাম
গ্রহণ করেছিলেন। বংশ বিশেষজ্ঞদের মতে ইনি রাসূলুল্লাহ (সা:) ও তাঁর চাচা আব্বাস (রা:) এর স্ত্রীর বোন ছিলেন । অর্থাৎ তিনি উম্মৎজননী মায়মুনা বিনতে হারিসের বৈমাত্রেয় বোন । অন্য ভাষায় বলতে গেলে, তিনি নবী কারীম (সা:) ও হযরত আব্বাস (রা:) এর শ্যালিকা ছিলেন । এই হিসাবে নবী করীম (সা:) ও হযরত আবূ বকর (রা:) পরসবপরে ভায়রা ছিলেন। এদের বাবা ভিন্ন হলেও মা কিন্ত একজনই ছিলেন । তাঁদের মায়ের নাম হিন্দ বিনতে আওযা । আসমা বিনতে উমাইস (রা:) এর বোন সালমা বিনতে উমাইস (রা:) হযরত হামযা (রা:) এর স্ত্রী ছিলেন।
প্রথমে তাঁঁর বিয়ে হয়েছিল হযরত আলী (রা:) এর
আপন ভাই হযরত জাফর বিন আবূ তালেবের সাথে । তাঁরা স্বামী -স্ত্রী উভয়েই হাবাশায় হিজরত করেছিলেন। হাবাশার হিজরত ইসলামে একটি বড় সৌভাগ্যের বিষয় । পরে তাঁরা হাবাশা থেকে
মদীনায় উপনীত হন । এতে মুসলমানেরা বেজায় খোশ হন ।
হযরত জাফর তৈয়্যাব (রা:) এর থেকে হযরত আসমা (রা:) এর সন্তান হয়েছিল। এরা ছিলেন জগদ্বিখ্যাত। আবদুল্লাহ (রা:) ও মোহাম্মাদ (রা:)।
৮ম হিজরীতে ঐতিহাসিক মূতা  প্রান্তরে হযরত জাফর (রা:) শহীদ হলে হযরত সিদ্দীকে আকবার
(রা:) এর সাথে তাঁর বিয়ে হয়।  জাফর (রা:) থেকে বিধবা হওয়া নারীকে বিয়ে করায় সিদ্দীকে আকবার ও বনী হাশেমের সাথে এক ধরনের সখ্য কায়েম হয়। আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) থেকেও হযরত আসমা (রা:) এর সন্তান হয় । সেই সন্তানের নাম মুহাম্মাদ ইবনে আবূ বকর (রা:)।
এ পর্যায়ে এই আসমা (রা:) কীরূপে অন্তিম লগ্নে হযরত ফাতেমা (রা:) এর সেবা করেন সেই আলোচনাই করা হবে।
হযরত আসমার সেবা আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) এর স্ত্রী হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রা:) সর্বদা হযরত ফাতেমা (রা:) কল্যাণকামী ও মনোভাব বুঝে কাজ করতে পারতেন। এ জন্য তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি যারপরনাই সেবা করতে পেরেছিলেন। হযরত ফাতেমা (রা:) অসুস্হ হলে সেই সময়কার ঘটনা খোদ ইমাম যাইনুল আবিদীন (রহ:) ইবনে আব্বাস (রা:) এর সূত্রে বর্ণনা করেন -
১। হযরত ফাতেমা (রা:) অসুস্হ হলেন, আসমা (রা:) তাঁর সেবাই লেগে থাকলেন। তিনি তাঁকে বললেন, 'তুমি জানো, আমার শেষ সময় উপস্হিত। আমি মারা গেলে আমার আমার লাশ কি এমন বেপর্দার সাথে উঠানো হবে? আসমা (রা:) বললেন, অসম্ভব । আমি আপনার জন্য এমন এক খাটিয়া বানাব যা হাবাশায় দেখেছিি । ওই খাটিয়া ছাদযুক্ত থাকবে । তাতে কাপড় দিয়ে পর্দা করা হবে । বেপর্দা হবার কোন সুযোগ থাকবে না । হযরত আসমা (রা:) খাতুনে জান্নাতের জীবদ্দশায়ই এই খাটিয়া বানিয়ে দেখালেন । তিনি তা দেখে সন্তোষও প্রকাশ করলেন , রাসূলুল্লাহ (সা:) এর ইন্তেতালের পর এই প্রথম তাঁকে হাসতে
দেখা গেল । এরপূর্বে তিনি একটিবারও হাঁসেননি তাঁর ইন্তেতালের পর ওই খাটিয়ায় করেই তাঁকে দাফন করা হয়েছিল।
২। শীয়া লেখকদের লেখনীতেও আমরা ইবনে আব্বাস (রা:) এর উক্ত বর্ণনার সমর্থন পাই। শায়খ আবূ জাফর তুসী বর্ণনা করেন -
"হযরত আলী (রা:) ফাতেমার সেবায় নিজের পাশাপাশি হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রা:) তেও নিযুক্ত করেছিলেন এ কাজে ।
৩। হযরত ফাতেমা (রা:) ইন্তেকাল করলে তার গোসলের প্রসংগটি এসে দাঁড়ায়। ইসলামী শরীয়া
মোতাবেক প্রথমে মৃতকে গোসল মাঝে জানাযা
সবশেষে দাফন করার নিয়ম । উপরিউক্ত শেষকৃত্যসমূহে আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) এর স্ত্রী হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রা:) এরও সবিশেষ অবদান রয়েছে। সাধারণত: এ সব ক্ষেত্রে বংশের একান্ত  নিকটাত্মীয়গণই ভূমিকা নিয়ে থাকেন ।
কথিত আছে,  খাতুনে জান্নাতের গোসলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৩ জন। তন্মধ্যে একজন স্বয়ং হযরত আলী (রা:) এবং দু'জন নারী । হযরত আলী (রা:) কে উক্ত দু'নারী গোসলকার্যে সহায়তা করেছিলেন। তন্মধ্যে একজন হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রা:) অপরজন হযরত সালমা যিনি রাসূলের (সা:) গোলাম হযরত আবূ রাফে (রা:) এর স্ত্রী।
হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রা:) এর গোসলদানের বিষয়টি শীয়াদের কিতাবেও উল্লেখ আছে।
মোটকথা খাতুনে জান্নাতের খিদমতে হযরত আসমা (রা:) এর অংশগ্রহণ উভয় -পরিবারের অনুমতিতেই হয়েছিল । এতে কোন সন্দেহ নেই।
    সার -সংক্ষেপঃ
১। খাতুনে জান্নাত ফাতেমা (রা:) চাহিদার প্রেক্ষিতেই পর্দাবিশিষ্ট খাটিয়া প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর তা করেছিলেন হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রা:) ই।
২। খাতুনে জান্নাতের শেষ -দিনগুলোতে সেবা করেছিলেন সিদ্দীকে আকবার (রা:) এর স্ত্রী।
৩। হযরত ফাতেমা (রা:) তাঁর  ওসিয়তগুলো আসমা (রা:) এর কাছেই করেছিলেন।
৪। হযরত ফাতেমা (রা:) এর গোসলেও তিনি সমান ভূমিকা রেখেছিলেন।
এসব ঘটনা দ্বারা বোঝা যাচ্ছে সিদ্দীকে আকবার
(রা:) এর খান্দানের সাথে নবী পরিবারের চমৎকার সম্পর্ক বজায় ছিল ।


No comments:

Post a Comment