Sunday, 5 May 2019

ছিদ্দীকী খেলাফতকালে নবী পরিবারের সম্পদ সংরক্ষক ও ফাদাক প্রসংগ

বিগত অধ্যায়ে আমরা নবী পরিবারের আচার -অনুষ্ঠানে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) এর খাদ্দানের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি।  এবার আমরা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) এর শাসনকালের কাহিনী বর্ণনা করব । কেননা এই সময়টায় মুসলিম জাহানের প্রথম ও দ্বিতীয় খলীফা নবী পরিবারের
প্রতি যারপরনাই জুলুম করেছেন বলে মানুষেরা যাচ্ছে তাই কাঁদা ছুড়েছে। বলেছে , এরা দু'জনা নবী পরিবারের অধিকার হরণ করেছেন, তাদের
ন্যায়সংগত পাওয়া বুঝিয়ে দেননি । এমনকি তাদের প্রতি শক্রভাবাপন্ন ছিলেন।
আমরা তাই সিদ্দীক আকবারের যুগের সংঘটিত ও আপত্তিকর স্হানসমূহের প্রাণবন্ত আলোচনা
করব। ঘটনার প্রকৃতি তুলে আনতে চেষ্ঠা করব যাতে সন্দেহ, আপত্তি ও অপবাদের উড়ন্ত ডানা সহজেই ঝিমিয়ে পড়ে।  প্রথমেই আমরা নবী পরিবারের "অর্থনৈতিক অধিকার" বিষয়টি তুলে
ধরব।  রাসূলুল্লাহ (সা:) যেভাবে তার রক্তীয় ও নিকটাত্মীয়দের বিশেষ করে আহলে বাইতকে সায় -সাহায্য করতেন ঠিক সেভাবে তাঁর ইন্তেতালের পর সিদ্দীকে আকবার তাঁর খেলাফতকালেও সাহায্য করে গেছেন । তিনি নববী ধারার একচুলও লংঘন করেননি । বন্ধুও নিজের বন্ধু হয় । নিখাদ
অন্তরঙ্গ বন্ধুও বন্ধুর আত্মীয় এমনকি দূরতম আত্মীয়দের সাথেও সুসম্পর্ক বজায় রাখে । সুতরাং সিদ্দীকে আকবার (রা:) রাসূলুল্লাহ (সা:)
পরিবারের সাথে নববী রসম -রেওয়াজ মোতাবেক সুসম্পর্ক বজায় রেখে গেছেন আমৃত্যু ।তাঁদের
প্রতিটি অধিকার গুণে গুণে আদায় করেছেন । এটিই তাঁর পূর্ণ নিষ্ঠা ও সহমর্মিতার অতি উত্তম নমুনা । উপরোক্ত দাবীর সমর্থনে আমরা কিছু রেওয়ায়েত পেশ করব যা মুহাদ্দিসীনে কেরামের
নিকট সহীহ বলে সমাদৃত। নবী পরিবারের প্রতি
সিদ্দীকে আকবরের শ্রদ্ধা, ভক্তি ও আবেগ কতটা নিখাদ তা এর দ্বারা প্রতিভাত । তাদের অর্থনৈতিক অধিকার কী করে আদায় করেছেন এতে তা পরিস্কারভাবে বিবৃত।
পয়লা রেওয়ায়েতঃঃ যুদ্ধলদ্ধ মাল (মালে ফাই )
"হযরত ওরওয়া ইবনে যুবায়ের (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত আয়েশা (রা:) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হযরত ফাতেমা (রা:) হযরত আব্বাস (রা:) কে আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) এর দরবারে প্রেরণ করে
মদীনার সাদাকা ফাদাক ও খয়বারের এক পঞ্চমাংশ মালের ব্যাপারে উত্তরাধিকার দাবী উত্থাপন করেন।  আবূ বকর (রা:) দাবী শুনে বললেন, নবী করীম (সা:) ইরশাদ করেন , আমাদের নবীদের পরিত্যক্ত মালে মীরাছ (উত্তরাধিকার ) হয় না । আমরা যা কিছু রেখে যাই তা ওয়াকফস্বরূপ সাদাকা হয়ে যায় । (উপরিউক্ত
দাবী দাওয়ার পরে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর সহায় সম্পদ, রুটি -রুজি ও খোরাক -পোষাকের  ব্যাপারে ) সিদ্দীকে আকবার (রা:) বলেন, রাসূলের জীবদ্দশায়  তিনি ও তাঁর পরিবার যেখান
থেকে যে হারে খাবার -দাবার গ্রহণ করতেন ঠিক সে সব জায়গা থেকেই ওভাবেই তাঁর পরিবার
খোর -পোশ পাবেন । এতে কোন প্রকার পরিবর্তন -পরিবর্ধন করা হবে না । অর্থাৎ জীবন ধারণের উপায় -উপকরণ ছাড়া মীরাছ নামে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর পরিবার কিছুই পাবেন না । এ সময় হযরত আলী আগমন করলেন। তিনি হামদ ও ছানার পর বললেন, 'আবূ বকর ! আমরা আপনার মাহাত্ম্য ও আভিজাত্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। এগুলোর অকুন্ঠ স্বীকৃতি দিই আমরা। আপনার সাথে রাসূলুল্লাহ (সা:) আত্মীয়তাও আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এবং তাদের অধিকারসমূহ মনে রাখি । এরপর হযরত আবূ বকর (রা:) বলেন, কসম সেই সত্ত্বার যার কুদরতি
কব্জায় আমার প্রাণ ! রাসূলুল্লাহ (সা:) এর আত্মীয় -স্বজনের দেখভাল আমার কাছে আমার পরিবার অপেক্ষা অধীক ।
দ্বিতীয় রেওয়ায়েতঃ মালে ফাই (যুদ্ধ লদ্ধ মাল) 
  "ফাতেমা (রা:) ও আব্বাস (রা:) হযরত আবূ বকর (রা:) এর কাছে এসে মীরাছস্বরূপ  ফাদাকের জমি ও খয়বারের হিস্যা উত্থাপন করেন। আবূ বকর (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি , আমাদের নবীদের পরিত্যাক্ত সম্পত্তিতে কোন মীরাছ দেওয়া হয় না ।
আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে। ( সংক্ষেপিত)
এছাড়া হানাফী মাযহাবের ব্যারিস্টার বলে খ্যাত
ইমাম ত্বহাবী ( রহ:) ও এ মর্মে একটি বর্ণনা করেন তার 'শরহে মাআনিউল আছারে' । বর্ণনাটির শব্দ ও মর্ম হুবহু বুখারীর মত বলে আমরা দ্বিরুক্তি করা থেকে বিরত রইলাম ।
          সার -নির্যাসঃ
১। উপরিউক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রতীয়মান হলো , মিদ্দীকি খেলাফত যুগে আহলে বাইত ও নবী পরিবারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, মদীনা,ফাদাক ও খয়বারের পঞ্চমাংশ থেকে স্ব -স্ব অধিকার পেতেন। অবশ্য মীরাছর অংশ তারা পেতেন না একান্তই নবী ( আ:) এর প্রতি নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে ।
২। দ্বিতীয় যে ব্যাপারটি এখানে প্রতিভাত তা হচ্ছে
এই যে, নবী পরিবারের অর্থনৈতিক অধিকারসমূহ
হযরত আবূ বকর (রা:) নিজ ইচ্ছামত বন্টন করতেন না বরং নবী (সা:) এর পবিত্র জীবদ্দশার সিস্টেম মোতাবেকই পরিচালনা করতেন। তিনি আদৌ নাউযুবিল্লাহ এখান থেকে আত্মসাৎ করতেন না বরং রাসূল -যুগের নিয়মেই বিলি -বন্টন করতেন ।
৩। সিদ্দীকে আকবার (রা:) এর কাছে নবী পরিবারের সম্মান নিজ পরিবারের চেয়ে বেশীই
ছিল।  হযরত আবূ বকর (রা:) এ বিষয়টি কসম করেই বলতেন । এ বিষয়ে তিনি শতভাগ সাচ্চা ও
সঠিক ছিলেন । তিনি নিজের চেয়ে আহলে বাইতকে অধীক ভালবাসতেন । তাদের অর্থনৈতিক অধিকারের প্রতি পূর্ন সজাগ থাকতেন। এটি তার বন্ধুত্বপূর্ণ সহমর্মিতা,  পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও কল্যাণকামিতার অতি উত্তম নমুনা । ইন্সাফী দুনিয়া যা অস্বীকার করতে পারে না ।

No comments:

Post a Comment