সংগঠনে বিভিন্ন ধরনের লোকজন একসাথে কাজ করে এবং একে অপরের সাথে যোগােযগ, বোঝাপড়া ইত্যাদি করে চলতে হয়। এগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা মূলক । উৎপাদনশীল ও সন্তোষজনক হওয়া বিধেয়। বাস্তবে সব সবয় এরুপ থাকেনা বরং দ্বন্ধের জন্ম হয়। ব্যক্তি বা পক্ষগুলোর বোধশক্তি, প্রত্যক্ষন বা আগ্রহ ও স্বার্থের ভিন্নতার কারণে অসংগত আচারন হতে দ্বন্ধের জন্ম হয়। দ্বন্ধ ব্যবস্হাপনার জন্য পরিস্হিতি, মধ্যস্ততার ধরন এবং প্রত্যাশিত ফলাফল এসব বিবেচনার প্রয়োজন হয় । মধ্যস্হতা বা হস্হক্ষেপের ডিজাইন এমনভাবে হতে পারে যাতে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধ গুলোকে উৎসাহিত করা হয় । কেউ আবার সাংগঠনিক কার্যকারিতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেন। কেউ কেউ শিখন ও সৃজনশীলতার মত প্রত্যয়গুলোর বিষয়ে সচেতন থাকতে চান। আর সামাজিক ন্যায় বিচার ও সংগঠন গুলোর ফলাফলভোগীদের প্রভাবকে অনেকেই মূল কেন্দে রাখতে আগ্রহী ।
# দ্বন্ধ ভালো ,খারাপ না নিরপেক্ষ ?
দ্বন্ধ ধ্বংসাত্মক না গঠনমূলক তা নির্ভর করবে দৃষ্টিভঙ্গি সম্পৃক্ত ব্যক্তি বর্গের দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতার উপর। বেশির ভাগ সামাজিক বিজ্ঞানের সাহিত্যকে দ্বন্ধের দুই প্রেক্ষিতে ভাগ করা যায়। প্রথমত যেখানে সামাজিক সংহতি, স্হিতিশীলতা ইত্যাদির উপর জোর দেয়া হয় সেখানে দ্বন্ধকে বিপজ্জনক, ধ্বংসাত্মক এবং সামাজিক প্যাথলজির ভিতরের নির্দেশক হিসেবে দেখা হয়। এক্ষেত্রে দ্বন্ধ ব্যবস্হাপনার মূল ফোকাস থাকে দ্বন্ধ নিরসনে। দ্বিতীয়ত যেখানে সামাজিক বৈচিত্রতা এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় সেখানে দ্বন্ধকে সৃজনশীলতা, শক্তিময়তা এবং সামাজিক গতিশীলতা হিসেবে দেখা হয় । এক্ষেত্রে দ্বন্ধ ব্যবস্হাপনার কৌশল হচ্ছে ব্যবকলন বা ভাগ করে ফেলা এবং দ্বন্ধ উদ্দিপনা।
সামাজিক ইন্টারফেসে দ্বন্ধকে ফলাফল সাপেক্ষে বিবেচনা করা হয়। দ্বন্ধের ইতিবাছক ফলাফলের মধ্যে আছে ইস্যু গুলো ব্যাপক ব্যাখ্যা হয়ে বোধগম্যতা বাড়ে , দলের শক্তি ও সম্পদের প্রবাহ এবং সংহিত ঘটে, সৃজনশীল সন্ধানী ও তুলনামূলক সমাধান গুলোর বিশোধন হয় , ভবিষ্যৎতে একসাথে কাজ করার সামথ্য বৃদ্ধি পায়। দ্বন্ধের দুই ধরণের নেতিবিছক ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পরিস্হিতিতে দ্বন্ধিক আচরণ বৃদ্ধি পেতে থাকলে বিরুদ্ধাচরণ ও শত্রুতার প্লাবনে ভালো ফলাফল ধুয়ে মুছে যায়। অতিরিক্ত দ্বন্ধ অনেকগুলো নেতিবাচক প্রত্যয়ের সম্মিলন ঘটায়। বিরুদ্ধাচারন মনোভাব, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ও বিকৃতি, দুর্বল প্রতিজ্ঞা , অব্যাহত চাপ ইত্যাদি পক্ষগুলোর মাঝে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ধ্বংস করে দেয়। অন্যান্য পরিস্হিতিতে পক্ষগুলো তাদের মতপার্থক্য ও ভিন্নতা এড়িয়ে যায়, গোপন করে। ফলে তাদের গঠনমূলক ভিন্নতা সমূহ এবং পরিপূরক উপায় উপকরন ও শক্তিসমূহ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না ।সামান্য মাত্রার দ্বন্ধ, পক্ষগুলোর নগন্য মাত্রার শক্তিকেও প্রবাহিত করে, মতবিরোধকে প্রতিরোধ করে ও পর্যাপ্ত তথ্যের শেয়ার করে, চ্যালেঞ্জবিহীন ঐতিহ্য ,মিথ ,কিংবদন্তিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। ঠুনকো সম্পর্কের জন্ম দেয় যা কষাকষির কঠিন পরিস্হিতির মুখোমুখি হলে টিকে না।
## দ্বন্ধের ইতিবাছক ফলাফল
১, এটি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আগ্রহের জরুরী তথ্য প্রকাশ করে ।
২, এটি একজনের নিজের দোষ শোধনের সুযোগ দেয়।
৩, জনগন নতুন দিগন্ত খোঁজার বিষয়ে উদ্দীপ্ত হয় যা ভালো ফলাফল নিয়ে আসতে পারে।
৪, এটি মানুষকে অতিরিক্ত সৃজনশীলতায় শক্তি যোগায়।
৫, এর ফলে গোপন সমস্যা উপরে উঠে আসে এবং মমাধান সহজ হয়।
## দ্বন্ধের নেতিবাছক প্রভাব
১, দীর্ঘ মেয়াদী দ্বন্ধ উত্তেজনা ও চাপ বৃদ্ধি করে যা শক্ত পিছুটানের ভুমিকায় অবর্তীন হয়।
২, অনেক সময় দ্বন্ধ কেন্দ্র পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত ইস্যুতে জড়িয়ে পড়ে।
৩, আন্তঃ ব্যক্তি ও দলবদ্ধ কাজের মারাত্নক অবনতি ঘটে।
৪, সমন্বয়কারীদের মধ্যে আস্হাহীনতা দেখা দেয়। ৫, অন্যদের জয়ে কেউ পরাজয় অনুভব করতে পারে এবং এতে প্রেষনা প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্হ হয়।
#ফলাফলঃ
দ্বন্ধের প্রভাবের উপর ভিত্তি করে চার ধরনের ফলাফল আসতে পারে। এগুলো হচ্ছে ।
১, পরাজয় - পরাজয় উভয় পক্ষের কেউ জয়ী হয় না, পরাজিত হয়। একজন দায়িত্বশীল তার সবচেয়ে কাজের বা উপকারী জনশক্তিকে বহিস্কার করতে পারেন যিনি অনেক গোপনীয়তা অথবা বিশেষ ফরফুলা জানতেন।
২, পরাজয় - জয়ঃ কেউ একজন আত্নসমর্পন করেন বা ছেড়ে দেন এবং অন্যপক্ষ জিতে যান।
৩, জয় -জয়ঃ উভয় পক্ষই জয়লাভ করে। কমপক্ষে দ্বন্ধে পূর্বের ছেয়ে উভয় পক্ষই ভালো অবস্হায় পৌঁছে। সাপ্লাইয়ার ,গ্রহক বা জনশক্তি ইত্যাদির ক্ষেত্রে দ্বন্ধ সমাধান হলে উভয় পক্ষই জয়লাভ করে।
৪, জয় -পরাজয়ঃ শক্তিশালী পক্ষ দুর্বল পক্ষকে পরাজিত করে জয়লাভ করে থাকে।
## দ্বন্ধের ধরন ও পরিনতিঃঃ
দ্বন্ধ ভালোভাবে বুঝার জন্য সময় মত কিছু আচরনের ফলশ্রুতি বিশ্লেষন প্রয়োজন। এই আচরনগুলো দ্বন্ধের ধরন অনুযায়ী সাধারনত শ্রেনিবিভাগ করা হয়। প্রতিধি ধরনই বিবাদের সময় একজনের প্রয়োজন পূরণের উপায় কিন্তু এর অভিঘাত পড়ে অন্যদের উপর ভিন্নভাবে।
// প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ( competing ) একটি ধরন যা একজনের ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে অন্যদের প্রয়োজনের উপর অধিভক্তি দেয়। এটি যোগাযোগের একটি আগ্রাসী ধরণের উপর আস্হা রাখে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়টি পাত্তা দেয় না এবং বাধ্য করন শক্তির চর্চা করে। প্রতিযোগী এই ধরন ব্যবহার কারীগন সর্বক্ষেত্রে আলোচনার উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজে। তাদের ভয় হয় এই নিয়ন্ত্রন না থাকলে সমাধান যা হবে তাতে প্রয়োজন পূরণ হবে না। প্রতিদ্বন্ধী এই প্রবনতা সাড়া দেয়া বা জবাব দেয়ার উপর প্রভাব ফেলে যা হুমকীর মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ।
// সঙ্গতিপূর্ন করা বা সাবলীল করা ( Accommodating) হচ্ছে প্রতিদ্বন্ধীতার বিপরীত। মানিয়ে নেয়ার এই ধরনটি মানুষ ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজনের বিষয়টি অন্যদের ভিতরে জাগিয়ে তোলে। এটি এক ধরনের কুটনৈতিক প্রচেষ্টা যা ব্যক্তির চাহিদার উপর গোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়। এটা উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না বরং সম্পর্ক রক্ষা করাটা গুরুত্বপূর্ন।
// দ্বন্ধের নেতিবাচক প্রত্যক্ষন এড়িয়ে যাওয়াটা একটি সাধারন প্রতিক্রিয়া। আমরা নিজেদের মধ্যেই বলি -যদি আমরা এটি বাড়তে না দিই তবে উড়ে চলে যাবে। কিন্তু অনুভূতিগুলো চাপা দিয়ে রাখা, দৃষ্টিভঙ্গি অপ্রকাশিত থাকা, দ্বন্ধ পেকে পুঁজ জমে যাওয়া ইত্যাদি বহুবিধ অবস্হা ঘটতে থাকে। অনেকটা ক্যান্সার এর মত, প্রাথমিক অবস্হায় উপযুক্ত চিকিৎসা হলে আরোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু দ্বন্ধ চলতে থাকলে সম্পর্ক হত্যা করা পযর্ন্ত তা থামে না। কারন প্রয়োজন ও মূল বিষয়টি না দেখে দোষ খুঁজে বেড়ানো সমাধান নয়।
No comments:
Post a Comment