Tuesday, 12 February 2019

ইতিবাচক চিন্তার ফলাফল

বাহ্যিকভাবে ইতিবাচক চিন্তার কথা শুনতে ভালোই লাগে। কিন্তু ইতিবাচক চিন্তা অত্যন্ত কোমল ও ঠুনকো বিষয় যা সহজে নষ্ট করে দেয়া যায় । বাস্তব জগতে এটি সেভাবে গুরুত্ব বহন করেনা বা গুরুত্ব পায় না । তবে তা বদলানো দরকার । সুখী হওয়া বা স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটানোর চেয়েও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।  এ বিষয়ে প্রচুর গবেষনা চলছে। ইতিবাচক চিন্তা আপনার জীবনে সত্যিকারের মূল্য তৈরী করে এবং আপনার দক্ষতা উন্নয়নে সাহায্য করে ।
অ্যাপনার জীবনে , স্বাস্হ্যে, কাজ কর্মে ইতিবাচক চিন্তার প্রভাব কেমন তার গবেষনা নিরন্তর চলছে। বিষয়টি উল্টোভাবে চিন্তা করা যেতে পারে। নেতিবাচক চুন্তা ব্রেইনে কী করে?  ধরুন আপনি জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাচ্চেন। হঠাৎ আপনার সামনের দিক থেকে একটি বাঘ আক্রমন করতে ছুটে আসছে । সে মুহুর্তে আপনার ব্রেইনে একটি নেতিবাচক আবেগ সৃষ্টি করে, তা হচ্ছে ভয় । গবেষকগণ বহুপূর্ব হতেই জানেন যে , নেতিবাচক আবেগ নির্দিষ্ট কিছু কাজ করার জন্য ব্রেইনে প্রোগ্রাম সেট করে দেয়। বাঘ যখন আপনার পথ ক্রস করে,  আপনি দৌড়ান। বাকী পৃথিবী এখানে কোন বিষয় নয়। আপনি এখন সম্পূর্ণরুপে বাঘ কেন্দ্রিক, ভয় এটি তৈরী করে , আপনি  কিভাবে এখান থেকে বের হতে পারবে।
অন্যকথায় নেতিবাচক আবেগ আপনার আবেগকে সংকীর্ণ  করে এবং চিন্তাভাবনাকে কেন্দ্রীভূত করে। একই সময়ে আপনার আরেকটি অপশন আছে , আপনি কোন গাছে আরোহন করতে পারেন অথবা একটি লাঠি ভেঙ্গে নিতে পারেন। কিন্তু সব কয়টি ধারনাই আপনার ব্রেইন উড়িয়ে দেয় কারন এসব অপ্রাসঙ্গিক মনে হয় যখন একটি বাঘ দাড়িয়ে আছে আপনার সামনে। যদিও বর্তমান সময়ে আমরা বাঘের প্রসঙ্গ ওভাবে ভাবিনা। সমস্যা হচ্ছে আপনার ব্রেইন এখনো সেভাবে প্রোগ্রাম করা নেতিবাচক আবেগের প্রতিক্রিয়ায় বাইরের জগতের সবকিছু বন্ধ করে দেয় এবং আপনার চারপার্শ্বের সকল বিকল্প গুলো সীমিত করে দেয়। এটি ভয়, রাগ, চাপ ইত্যাদি সব নেতিবাচক আবেগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।
অন্যদিকে যখন আপনি ইতিবাচক আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন যেমন আনন্দ , ভালোবাসা ,পাওয়া ইত্যাদি। আপনি জীবনে প্রচুর সম্ভাবনা দেখতে পাবেন। অর্থ্যাৎ আপনার মন প্রশস্হ হবে এবং অধিক অপশন পাবেন। ইতিবাচক চিন্তার লাভ তাৎক্ষণিক সূখানুভূতির সাথে শেষ হয়ে যায় না। প্রকৃত পক্ষে ইতিবাচক চিন্তার সবচেয়ে বড় লাভ হচ্ছে পরবর্তী জীবনে রিসোর্স সমৃদ্ধ করতে এবং দক্ষতার উন্নয়নে সামর্থ জোরদার করে ।
ইতিবাচক চিন্তার উন্নয়নে অনেকে কয়েকটি কাজের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেমন - মেডিটেশন, খেলাধুলা, লেখালেখি ,অনুপ্রেরনার গল্প অধ্যয়ন ইত্যাদি । ।

No comments:

Post a Comment